'জবরদস্তিমূলক শ্রম' রোধে যথেষ্ট পদক্ষেপ না নেওয়ার অভিযোগে অস্ট্রেলীয় পণ্যের ওপর ১২.৫ শতাংশ নতুন বাণিজ্য শুল্ক আরোপ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তবে মার্কিন প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে অযৌক্তিক এবং মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির পরিপন্থী বলে আখ্যা দিয়ে তা অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে আলবানিজ সরকার।
প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবার সকালে যুক্তরাষ্ট্র ঘোষণা করে যে, জবরদস্তিমূলক শ্রমবিরোধী নীতি বাস্তবায়নে ব্যর্থতার তালিকায় থাকা ৫৪টি দেশের মধ্যে অস্ট্রেলিয়াও রয়েছে। এর অংশ হিসেবে অস্ট্রেলিয়া থেকে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর নতুন করে ১২.৫ শতাংশ শুল্ক কার্যকর করা হয়েছে। চীন, ব্রাজিল, ইসরায়েল, জাপান, নিউজিল্যান্ড ও রাশিয়ার মতো দেশগুলোও এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বড় তিনটি রপ্তানি পণ্য—যেমন গরুর মাংস ও স্বর্ণ এই শুল্কের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।
মার্কিন বাণিজ্য বিভাগ দাবি করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্রই বিশ্বের একমাত্র দেশ যারা জবরদস্তিমূলক শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি নিষিদ্ধ করে তা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অস্ট্রেলিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী ডন ফ্যারেল। তিনি বলেন, আধুনিক দাসপ্রথা ও জবরদস্তিমূলক শ্রম প্রতিরোধে অস্ট্রেলিয়ার আইন বিশ্বের অন্যতম সেরা এবং এই শুল্ক সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। উপ-প্রধানমন্ত্রী রিচার্ড মারলেসও মার্কিন প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে 'বোকামি' বলে মন্তব্য করেছেন।
এদিকে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বর্তমান সরকারের সমালোচনা করে বলা হয়েছে যে, অস্ট্রেলিয়াকে কানাডা বা যুক্তরাজ্যের মতো কম শুল্কের (১০%) তালিকায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে সরকার। দেশটির ব্যবসায়ী ও কৃষিখাতের শীর্ষ সংগঠনের প্রতিনিধিরাও যুক্তরাষ্ট্রের এই একতরফা ও ভিত্তিহীন সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। বর্তমানে এই নতুন শুল্ক আরোপের ফলে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে তীব্র গরমে একটি সিল করা রেল মালবাহী কনটেইনারে আটকে সাত অভিবাসীর মৃত্যুর ঘটনায় ১১ জনের বিরুদ্ধে ফেডারেল অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মানবপাচারের ষড়যন্ত্র এবং সেই পাচার কার্যক্রমের ফলে মৃত্যুর ঘটনা ঘটানোর অভিযোগ আনা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে তাদের প্রত্যেকেরই যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে। মার্কিন বিচার বিভাগ এবং পশ্চিম টেক্সাসের ইউএস অ্যাটর্নি জাস্টিন আর. সিমন্স শুক্রবার অভিযোগপত্র প্রকাশের পর এ তথ্য জানান। তদন্তে জানা গেছে, গত মে মাসে মেক্সিকো সীমান্তবর্তী ডেল রিও এলাকা থেকে একদল অভিবাসীকে মালবাহী ট্রেনের একটি বদ্ধ কনটেইনারে তোলা হয়। তাদের গন্তব্য ছিল সান আন্তোনিও। তবে পথে কনটেইনার খুলতেই একজন নিচে পড়ে গেলে পাচারকারীরা আতঙ্কিত হয়ে দরজা আবার বন্ধ করে সেখান থেকে পালিয়ে যায়। পরদিন ট্রেনটি লারেডোর ইউনিয়ন প্যাসিফিক রেলইয়ার্ডে পৌঁছালে এক কর্মী কনটেইনারের বাইরে একটি মানুষের পা দেখতে পান। পরে দরজা খুলে ভেতরে ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। একই ঘটনার আরেক ভুক্তভোগীকে সান আন্তোনিওর কাছে রেললাইনের পাশে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। নিহতদের মধ্যে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরও ছিল। তারা সবাই হন্ডুরাস ও মেক্সিকোর নাগরিক বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। ওয়েব কাউন্টির মেডিক্যাল পরীক্ষকের প্রাথমিক ধারণা, অতিরিক্ত গরমে হিটস্ট্রোক বা হাইপারথার্মিয়ায় তাদের মৃত্যু হয়েছে। কনটেইনারটিতে কোনো ধরনের বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা বা শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ছিল না এবং ভেতর থেকে দরজা খোলাও সম্ভব ছিল না। ঘটনার দিন বাইরের তাপমাত্রা ছিল প্রায় ৩১ থেকে ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ফেডারেল তদন্তে আরও বলা হয়েছে, অভিযুক্তরা অন্তত ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত একটি সংঘবদ্ধ মানবপাচার চক্র পরিচালনা করছিল। তারা মেক্সিকো থেকে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা অভিবাসীদের আরও ভেতরের অঙ্গরাজ্যে পৌঁছে দিতে মালবাহী ট্রেন ব্যবহার করত। প্রতিজনের কাছ থেকে বা তাদের পরিবারের কাছ থেকে ১ হাজার ৫০০ থেকে ১০ হাজার ডলার পর্যন্ত নেওয়া হতো। বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত ১১ জনের মধ্যে কয়েকজন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক, কয়েকজন বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা এবং বাকিরা বিদেশি নাগরিক। তাদের বিরুদ্ধে দুটি প্রধান অভিযোগ আনা হয়েছে—মৃত্যুর কারণ হওয়া মানবপাচারের ষড়যন্ত্র এবং মৃত্যু ঘটিয়ে অভিবাসী পরিবহনে সহায়তা করা। তদন্ত এখনো চলমান এবং অন্তত দুই অভিযুক্ত পলাতক রয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সীমান্তে নজরদারি জোরদার হওয়ায় মানবপাচারকারীরা ক্রমেই আরও ঝুঁকিপূর্ণ পদ্ধতি ব্যবহার করছে। মালবাহী ট্রেনের কনটেইনারে অভিবাসীদের লুকিয়ে পরিবহনও সেই কৌশলের একটি অংশ। তবে এ ধরনের পদ্ধতি বহুবার প্রাণঘাতী প্রমাণিত হয়েছে। ২০২২ সালে টেক্সাসের সান আন্তোনিওতে একটি ট্রাকের ভেতরে আটকে অন্তত ৫৩ জন অভিবাসীর মৃত্যুর ঘটনাও বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। সর্বশেষ এই ঘটনায় আবারও যুক্তরাষ্ট্র–মেক্সিকো সীমান্তে মানবপাচারের ভয়াবহতা এবং অভিবাসীদের জীবনঝুঁকি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিশ্বজুড়ে জীবনযাত্রার ব্যয়, মুদ্রাস্ফীতি এবং বাড়িভাড়া লাগামহীনভাবে বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের জীবনে নাভিশ্বাস উঠেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বড় বড় শহরগুলোতে অ্যাপার্টমেন্টের ভাড়া কিংবা মর্টগেজের কিস্তি শোধ করতে গিয়ে আয়ের একটা বড় অংশ চলে যায়। এই আর্থিক সংকট ও চড়া মূল্যের হাত থেকে বাঁচতে অনেকে এখন ক্রুজ শিপ বা প্রমোদতরীতে স্থায়ীভাবে বসবাস করার বিকল্প ট্রেন্ড বেছে নিচ্ছেন। সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের ধারণা রয়েছে যে, প্রমোদতরীতে বসবাস করা মানেই কেবল অতিবিত্তশালীদের বিলাসিতা। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় অনেক তরুণ ও পেশাজীবী হিসাব কষে দেখছেন যে, ডাঙায় স্থায়ী আবাসন বজায় রাখার চেয়ে ক্রুজ শিপের ভাসমান দুনিয়ায় জীবন কাটানো অনেক ক্ষেত্রে বেশি সাশ্রয়ী। সাম্প্রতিক বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর ও রোমাঞ্চকর সব তথ্য। অনেকেই তাদের প্রচলিত ৯টা-৫টার অফিসের ধরাবাঁধা জীবন ছেড়ে কিংবা রিমোট ওয়ার্কের পূর্ণ স্বাধীনতাকে কাজে লাগিয়ে পাকাপাকিভাবে প্রমোদতরীতে থিতু হয়েছেন। ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগোর বাসিন্দা ২৮ বছর বয়সী তরুণ অস্টিন ওয়েলস ‘এমভি ন্যারেটিভ’ নামের একটি বিশাল মেগা প্রমোদতরীতে দীর্ঘ ১২ বছরের জন্য একটি অ্যাপার্টমেন্ট লিজ নিয়েছেন। মেটা কোম্পানির অগমেন্টেড ও ভার্চুয়াল রিয়েলিটি বিভাগে কর্মরত এই তরুণ তিন লাখ মার্কিন ডলার খরচ করে ২৩৭ বর্গফুটের একটি কেবিন কিনেছেন। সান ডিয়েগোতে যেখানে একটি সাধারণ অ্যাপার্টমেন্টের মাসিক ভাড়াই আকাশচুম্বী, সেখানে ওয়েলস হিসাব করে দেখেছেন যে এই ভাসমান ঠিকানায় তার মাসিক খরচ মাত্র দুই হাজার ডলারের কাছাকাছি দাঁড়ায়। তিনি রিমোট জবের মাধ্যমে নিজের কাজ চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি জাহাজে বসেই বিশ্ব ভ্রমণ করছেন। শুধু অস্টিন একা নন, শারন লেন নামের ৭৪ বছর বয়সী এক মার্কিন নারী ‘ভিলা ভি ওডিসি’ নামের একটি আবাসিক ক্রুজ শিপে ১৫ বছরের জন্য কেবিন নিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেছেন। তার মতে, ডাঙার জীবনে নিত্যদিনের বাজার করা বা ঘর পরিষ্কার করার কোনো ঝামেলা জাহাজে পোহাতে হয় না। আইটি পেশাজীবী রায়ান গুট্রিজ বছরের প্রায় ৩০০ দিনই ক্রুজ শিপে কাটিয়ে দেন এবং সেখান থেকেই তার ক্লাউড সলিউশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কাজ পরিচালনা করেন। মার্কিন দম্পতি অ্যাঞ্জেলিন ও রিচার্ড বার্কও নিজেদের বাড়ি বিক্রি করে স্থায়ীভাবে ক্রুজ লাইফে পাড়ি জমিয়েছেন। তাদের হিসাব অনুযায়ী, প্রতিদিন গড়ে মাত্র ৮৯ ডলার খরচে তারা থাকা-খাওয়া, যাতায়াত, বিনোদন ও বন্দরের বিভিন্ন ফি মিটিয়ে ফেলছেন। তবে প্রমোদতরীর এই ভাসমান জীবন দেখতে জমকালো মনে হলেও এর কিছু বাস্তব চ্যালেঞ্জ বা অন্ধকার দিকও রয়েছে। জাহাজে কেবিনগুলোর আকার তুলনামূলক বেশ ছোট হয় এবং দেওয়াল পাতলা হওয়ায় পাশের রুমের আওয়াজ প্রায়ই বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সমুদ্র যখন উত্তাল থাকে, তখন মোশন সিকনেস বা লাগাতার বমি ভাব হওয়ার আশঙ্কা থাকে। পাশাপাশি জাহাজে হঠাৎ কোনো জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন হলে তার খরচ ডাঙার তুলনায় অনেক বেশি চড়া হতে পারে। সব মিলিয়ে, যাদের রিমোট জব করার স্বাধীনতা রয়েছে এবং যারা চার দেওয়ালের বন্দিদশা থেকে মুক্ত হয়ে বিশ্ব ঘুরে বেড়াতে ভালোবাসেন, তাদের কাছে ডাঙার উচ্চমূল্যের জীবন ছেড়ে ক্রুজ শিপের ভাসমান জীবন এক দারুণ আকর্ষণীয় বিকল্প হয়ে উঠছে।
যৌন নিপীড়নের গুরুতর অভিযোগের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রধান প্রসিকিউটর করিম খানকে পদ থেকে বরখাস্ত করেছে আদালতের সদস্য রাষ্ট্রগুলো। এটি আইসিসির ইতিহাসে প্রথমবার, যখন দায়িত্বে থাকা কোনো প্রধান প্রসিকিউটরকে আনুষ্ঠানিক ভোটের মাধ্যমে অপসারণ করা হলো। কূটনৈতিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত বিশেষ অধিবেশনে আইসিসির ১২৫ সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে ৮২টি দেশ করিম খানকে অপসারণের পক্ষে ভোট দেয়। ১৩টি দেশ এর বিরোধিতা করে এবং কয়েকটি দেশ ভোটদানে বিরত থাকে। করিম খানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে একজন নারী সহকর্মীকে যৌনভাবে নিপীড়নের অভিযোগ ছিল। তদন্ত শেষে আইসিসির তদারকি কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে গুরুতর অসদাচরণ ও দায়িত্ব লঙ্ঘনের অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা জানায়। তবে করিম খান শুরু থেকেই সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন এবং দাবি করেছেন, তার বিরুদ্ধে নেওয়া প্রক্রিয়া ন্যায্য ছিল না। তিনি আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। ২০২১ সালে প্রধান প্রসিকিউটরের দায়িত্ব নেওয়া করিম খান ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং গাজা যুদ্ধের ঘটনায় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুসহ কয়েকজন শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা চাওয়ার কারণে আন্তর্জাতিকভাবে আলোচিত হন। তার অপসারণ হলেও এসব তদন্ত ও জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ওপর তাৎক্ষণিক কোনো প্রভাব পড়বে না বলে জানিয়েছে আইসিসি। আইসিসি এখন নতুন প্রধান প্রসিকিউটর নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করবে। এই ঘটনা আদালটির জবাবদিহি নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলেও একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষার ক্ষেত্রেও বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।