আমেরিকা

হরমুজ প্রণালিতে ইরানি প্রতিরক্ষা ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘোষণা মার্কিন অর্থমন্ত্রীর

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: মার্চ ২২, ২০২৬ ২৩:৪২
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট । ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট । ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালিতে অবস্থিত ইরানের প্রতিরক্ষা ঘাঁটিগুলো পুরোপুরি ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। এনবিসি নিউজের ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন। বেসেন্ট পরিষ্কারভাবে জানান, ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করার লক্ষ্যেই এই বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে এবং এসব স্থাপনা সম্পূর্ণভাবে গুঁড়িয়ে না দেওয়া পর্যন্ত মার্কিন বাহিনী পিছু হটবে না।

 

সাক্ষাৎকারে বেসেন্ট বর্তমান যুদ্ধের বিষয়ে সংবাদমাধ্যমের সংবাদ প্রকাশের ধরনের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি দাবি করেন, মার্কিন প্রশাসন ও সামরিক কর্মকর্তারা প্রকৃতপক্ষে কী পদক্ষেপ নিচ্ছেন, সে বিষয়ে দেশটির সাধারণ মানুষের কাছে সঠিক চিত্র তুলে ধরা হচ্ছে না। তার মতে, গণমাধ্যমগুলোতে প্রকৃত ঘটনার পরিবর্তে ভিন্ন পরিস্থিতি চিত্রায়িত হচ্ছে।

 

অন্যদিকে, একই অনুষ্ঠানে ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর ক্রিস মারফি ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর সমালোচনা করে দাবি করেন যে, সরকার বর্তমানে যুদ্ধের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে এবং বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। মারফির এই অভিযোগের জবাবে পাল্টা আক্রমণ করে বেসেন্ট বলেন, সিনেটরের দাবি সম্পূর্ণ ভুল এবং ভিত্তিহীন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, মার্কিন বাহিনী ইতিমধ্যেই ইরানের উল্লেখযোগ্য সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে এবং এই ধারা অব্যাহত থাকবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যুর পর বাবারও মরদেহ উদ্ধার , একসঙ্গে দাফন করা হবে বাবা-মেয়েকে

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।   স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা   পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন।   ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন।   এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।   ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের   তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।   ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

Advertisement

আমেরিকা

View more
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে কমছে পেট্রোলের দাম, তবে পিটসবার্গে কমানো হচ্ছে না

যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভেনিয়া অঙ্গরাজ্যের পিটসবার্গ এলাকায় মোটরচালকদের জন্য জ্বালানি তেলের দাম কিছুটা কমতে শুরু করেছে। তবে এই মূল্য হ্রাসের গতি পেনসিলভেনিয়ার অন্যান্য অঞ্চল এবং দেশের অন্যান্য অংশের তুলনায় অনেকটাই ধীরগতির। সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া একটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তির ইতিবাচক প্রভাব আন্তর্জাতিক বাজারে পড়েছে, যার ফলে দেশজুড়ে তেলের দাম কমেছে। কিন্তু পিটসবার্গের স্থানীয় বাজারে দাম কমার এই সুফল সাধারণ মানুষ অন্যান্য অঞ্চলের মতো সমহারে উপভোগ করতে পারছেন না।   জ্বালানি তেলের দাম কমতে শুরু করায় সাধারণ গাড়ির মালিকদের পাম্পে গিয়ে তেল কেনার ক্ষেত্রে কিছুটা স্বস্তি মিলছে। বর্তমানে একটি ১৬ গ্যালনের তেলের ট্যাংক পূর্ণ করতে গ্রাহকদের এক মাস আগের তুলনায় প্রায় ৭ ডলার কম খরচ করতে হচ্ছে। তবে সামগ্রিক বাজারের চিত্র বিবেচনা করলে পিটসবার্গের এই স্বস্তি খুব একটা বড় নয়, কারণ গত এক মাসে এখানে প্রতি গ্যালন তেলের দাম কমেছে মাত্র ৩৪ সেন্ট। এর বিপরীতে দেশের অন্যান্য স্থানে সাধারণ মানুষ অনেক কম দামে তেল কেনার সুবিধা পাচ্ছেন।   জ্বালানি গবেষণা সংস্থা গ্যাসবাডির প্রধান তেল বিশ্লেষক প্যাট্রিক ডি হান পিটসবার্গের এই ধীরগতির দাম কমায় বেশ বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তিনি তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরে জানান যে গত এক মাসে পুরো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের জাতীয় গড় মূল্য কমেছে প্রায় ৬৭ সেন্ট। অন্যদিকে খোদ পেনসিলভেনিয়া অঙ্গরাজ্যের গড় তেলের দাম কমেছে প্রায় ৫৫ সেন্ট। পিটসবার্গ শহরটি মূলত দুটি প্রধান তেল পাইপলাইনের শেষ প্রান্তে অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও এখানকার খুচরা বিক্রেতারা তেলের দাম দ্রুত কমাচ্ছেন না, যা বেশ বিভ্রান্তিকর।   বর্তমানে সমগ্র যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের জাতীয় গড় মূল্য প্রতি গ্যালন ৪ ডলারের নিচে নেমে এসেছে এবং পেনসিলভেনিয়ার গড় মূল্যও ৪ ডলারের সামান্য ওপরে রয়েছে। তেল বিশ্লেষক ডি হান মনে করেন যে পিটসবার্গের স্থানীয় বাজারেও দাম আরও অনেক কমানোর সুযোগ রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন যে এখানকার বড় ব্যবসায়ীরা মূলত অতিরিক্ত মুনাফা লাভের আশায় তেলের দাম কমাতে কোনো ধরনের তাড়াহুড়ো করছেন না। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ ক্রেতাদের জন্য গ্যাসবাডি অ্যাপ ব্যবহার করে কম দামি পাম্প খুঁজে তেল নেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।   পাইকারি বাজারের হিসাব অনুযায়ী, ফিলাডেলফিয়ার তুলনায় পিটসবার্গ এলাকায় তেলের দাম গ্যালন প্রতি মাত্র ৮ সেন্ট বেশি হওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে যে খুচরা পাম্পগুলোতে পূর্ব পেনসিলভেনিয়ার চেয়ে পিটসবার্গে অন্তত ৪০ সেন্টের বেশি চড়া মূল্যে তেল বিক্রি করা হচ্ছে। তবে আশার কথা হলো যে আমেরিকার আসন্ন ৪ঠা জুলাইয়ের জাতীয় ছুটির দিনকে সামনে রেখে দাম ধীরে হলেও কমছে। যদিও হরমুজ প্রণালীর রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ভঙ্গুর মার্কিন-ইরান যুদ্ধবিরতির ওপর তেলের এই বাজার এখনো সম্পূর্ণ নির্ভরশীল।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৩, ২০২৬ ১১:১০
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে কর বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত, ক্ষোভে ফুঁসছেন সাধারণ বাসিন্দারা

ছবি: সংগৃহীত

নিউ ইয়র্কের রাস্তায় ২১ বছর বয়সী তরুণকে মাথায় গুলি করে হত্যা

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণ বাড়ির দামও এখন ১০ লাখ ডলার, ২৪২টি শহরে রেকর্ড

প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এবং শিকাগোর বর্তমান মেয়র ব্র্যান্ডন জনসন | ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্প টাওয়ারের সামনের রাস্তার নাম ওবামার নামে করার জোর প্রস্তুতি

শিকাগোর ট্রাম্প টাওয়ারের সামনের রাস্তার নাম পরিবর্তন করে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার নামে নামকরণের একটি প্রস্তাবের প্রতি জোরালো সমর্থন জানিয়েছেন শহরটির মেয়র ব্র্যান্ডন জনসন। এই পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইনি বাধা বা নিয়ম পরিবর্তনের জন্য তিনি সক্রিয়ভাবে কাজ শুরু করেছেন। চলতি সপ্তাহে এক বিবৃতিতে শিকাগোর মেয়র ব্র্যান্ডন জনসন বলেন, প্রেসিডেন্ট ওবামার ব্যতিক্রমী ও অনন্য নেতৃত্বের বিষয়ে কোনো ধরনের বিতর্কের অবকাশ নেই। এই বিশেষ সম্মাননা প্রদানের লক্ষ্যে জীবিত কোনো ব্যক্তির নামে রাস্তার নামকরণ না করার যে দীর্ঘদিনের নিয়ম রয়েছে, সেটি সংস্কার করার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি। এর ফলে ভবিষ্যতে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ও বিশিষ্ট শিকাগোবাসীদেরও একই ধরনের সম্মাননা দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছেন তিনি।   মূলত শিকাগোর অ্যালডারম্যান ব্রেন্ডন রেইলি এই নতুন অধ্যাদেশটি সিটি কাউন্সিলে উত্থাপন করেছেন। এই প্রস্তাবের মূল উদ্দেশ্য হলো ওবাশ অ্যাভিনিউ নামক রাস্তাটির একটি অংশকে সম্মানসূচক 'বারাক হুসেইন ওবামা ওয়ে' হিসেবে পুনর্নামকরণ করা। এই নির্দিষ্ট রাস্তাটি সরাসরি ট্রাম্প টাওয়ারের সামনে দিয়ে চলে গেছে এবং বর্তমানে এই পুরো প্রস্তাবটি পর্যালোচনার জন্য সংশ্লিষ্ট কমিটির কাছে রয়েছে। এই পুরো পরিকল্পনাটির পেছনে কেবল শিকাগোর মেয়রের একক সমর্থন নয়, বরং এর সপক্ষে ২৫ হাজারেরও বেশি মানুষের স্বাক্ষর সংবলিত একটি বিশাল আবেদনপত্র বা পিটিশন জমা পড়েছে, যা এই উদ্যোগের প্রতি সাধারণ মানুষের ব্যাপক জনপ্রিয়তার প্রমাণ দেয়।   এই ঐতিহাসিক নামকরণের ক্ষেত্রে বর্তমানে একমাত্র মূল অন্তরায় হিসেবে দেখা দিয়েছে শিকাগো শহরের একটি প্রাচীন আইনি নিয়ম বা বিধান। এই নিয়ম অনুযায়ী, কোনো সম্মানসূচক রাস্তার নামকরণ কেবল সেই সমস্ত ব্যক্তিদের স্মরণে করা সংরক্ষিত থাকে, যারা ইতিমধ্যে মৃত্যুবরণ করেছেন বা আমাদের মাঝে আর বেঁচে নেই। যেহেতু বারাক ওবামা এখনো জীবিত, তাই এই আইনি জটিলতা কাটাতে মেয়র ব্র্যান্ডন জনসন ইতিমধ্যে আইনটি পুরোপুরি পরিবর্তন বা সংস্কার করার বিষয়ে আলোচনা এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া শুরু করেছেন।   মজার বিষয় হলো, ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন এই একই ভবনের গায়ে বিশাল আকৃতির সোনালী অক্ষরে নিজের নাম স্থায়ীভাবে খোদাই করেছিলেন, তখন এই ধরনের কোনো নিয়মের প্রসঙ্গ ওঠেনি। ট্রাম্প নিজেই অবশ্য অতীতে একই ধরনের আইনি নিয়মের মুখোমুখি হয়েছিলেন, যখন তিনি আমেরিকার কাগজের মুদ্রায় নিজের ছবি যুক্ত করার একটি ব্যর্থ চেষ্টা চালিয়েছিলেন। কারণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় আইন অনুযায়ীও মুদ্রায় ছবি স্থান পেতে হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে অবশ্যই প্রয়াত বা মৃত হতে হয়।   শিকাগো শহর কর্তৃপক্ষ অবশ্য বেশ কয়েক বছর আগেই ট্রাম্পের নামে থাকা সম্মানসূচক রাস্তার নামফলকটি সম্পূর্ণভাবে অপসারণ করেছে। ট্রাম্পের সেই পুরনো সম্মাননা কেড়ে নেওয়ার পর এখন শহর প্রশাসন সেই একই স্থানে ওবামার নাম যুক্ত করার জন্য ব্যাপকভাবে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প অতীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ওবামার মধ্যনাম 'হুসেইন' শব্দটিকে নেতিবাচক বা ব্যঙ্গাত্মক অর্থে ব্যবহার করার চেষ্টা করেছিলেন। শিকাগো শহর কর্তৃপক্ষ এখন ট্রাম্পের সেই ব্যঙ্গকে এক প্রকার জবাব দিতেই তার মালিকানাধীন ভবনের ঠিক সামনের সাইনবোর্ডে বড় অক্ষরে 'হুসেইন' নামটি স্থায়ীভাবে ঝুলিয়ে দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৩, ২০২৬ ৯:৪৮
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব আবেদন ফি প্রায় দ্বিগুণ করার প্রস্তাব

হরমুজ প্রণালি ‘পুরোপুরি উন্মুক্ত’, ইরানের সঙ্গে চুক্তি আলোচনায় অগ্রগতি

হরমুজ প্রণালি ‘পুরোপুরি উন্মুক্ত’, ইরানের সঙ্গে চুক্তি আলোচনায় অগ্রগতি: ট্রাম্প

ফুড স্ট্যাম্পে সোডা-ক্যান্ডি কেনার নিষেধাজ্ঞা স্থগিত

ফুড স্ট্যাম্পে সোডা-ক্যান্ডি কেনার নিষেধাজ্ঞা স্থগিত, ট্রাম্প প্রশাসনের উদ্যোগে আদালতের বাধা

ছবি: সংগ্রহীত
টেক্সাসে মুসলিম নারীদের উদ্দেশে বিদ্বেষমূলক মন্তব্য, ক্ষোভের মুখে চাকরি হারালেন এক নারী

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে দুই মুসলিম নারীকে লক্ষ্য করে ইসলামবিদ্বেষী মন্তব্য করার অভিযোগে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন এক নারী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে তাকে মুসলিম নারীদের উদ্দেশে বলতে শোনা যায়, “এটি কোনো মুসলিম দেশ নয়, এটি একটি খ্রিস্টান দেশ,” এবং “তোমাদের ইসলামিক দেশে ফিরে যাওয়া উচিত।”   ভিডিওটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন মহলে নিন্দার ঝড় ওঠে। অনেকেই ঘটনাটিকে ধর্মীয় বিদ্বেষ ও বৈষম্যের উদাহরণ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। সমালোচকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ধর্মীয় স্বাধীনতা ও বৈচিত্র্যের দেশ, যেখানে কোনো ধর্ম বা জাতিগত পরিচয়ের কারণে কাউকে হেয় করা গ্রহণযোগ্য নয়।   ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট নারী তার চাকরি হারিয়েছেন বলে জানা গেছে। তার কর্মস্থল এক বিবৃতিতে জানায়, কর্মীর আচরণ প্রতিষ্ঠানটির মূল্যবোধ ও ব্যবসায়িক স্বার্থের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ায় তারা তার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।   প্রতিষ্ঠানটির বিবৃতিতে বলা হয়, “দুঃখজনকভাবে এই কর্মীকে ঘিরে এটিই প্রথম ঘটনা ছিল না, তবে এটিই ছিল শেষ ঘটনা। আমরা প্রত্যেকের মত প্রকাশের অধিকারকে সম্মান করি। কিন্তু যখন কোনো কর্মীর কর্মকাণ্ড আমাদের ব্যবসার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, তখন আমাদের পদক্ষেপ নিতে হয়।”   বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “এই সিদ্ধান্তে সবাই সন্তুষ্ট হবেন না। তবে অতীতের ঘটনাগুলো বিবেচনায় নিয়ে আমরা সাবেক ওই কর্মীর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছি এবং তার ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা জানাই।”   এদিকে ঘটনাটি মুসলিম সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে। অনেক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী বলেছেন, মুসলিম আমেরিকানরা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের বৈষম্য ও বিদ্বেষমূলক আচরণের মুখোমুখি হচ্ছেন এবং এ ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে কঠোর সামাজিক অবস্থান প্রয়োজন।   অন্যদিকে, বরখাস্ত হওয়া নারীর সমর্থনে একটি অনলাইন তহবিল সংগ্রহ কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে সেখানে কয়েক হাজার ডলারের বেশি অর্থ সংগ্রহ হয়েছে। তবে সমালোচকদের একটি অংশের দাবি, বিদ্বেষমূলক বক্তব্যকে সমর্থন বা পুরস্কৃত করার পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্রে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা এবং ধর্মীয় সম্প্রীতির সংস্কৃতি জোরদার করা জরুরি।   বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা শুধু একটি ব্যক্তিগত আচরণের বিষয় নয়; বরং এটি যুক্তরাষ্ট্রে ধর্মীয় বৈচিত্র্য, অভিবাসন এবং সামাজিক সহাবস্থানের প্রশ্নকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।

যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি প্রকাশ: জুন ২২, ২০২৬ ২২:৫২
যুক্তরাষ্ট্রে ইসলামিক হোম ফাইন্যান্সিংয়ের তিন জনপ্রিয় মডেল

সুদ ছাড়াই বাড়ি কেনা: যুক্তরাষ্ট্রে ইসলামিক হোম ফাইন্যান্সিংয়ের তিন জনপ্রিয় মডেল

কোলাজ: আমেরিকা বাংলা

নিউ ইয়র্কের কুখ্যাত সিরিয়াল কিলারের বাড়ি বিক্রিতে বড় ধাক্কা, দুই মাসে দুই দফা কমল দাম

কোলাজ: আমেরিকা বাংলা

৩.৭ বিলিয়ন ডলারের মেডিকেয়ার জালিয়াতি মামলার অভিযুক্তকে তুরস্ক থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে আনল এফবিআই

0 Comments