- প্রচ্ছদ
- Topic
সোশ্যাল সিকিউরিটি
যুক্তরাষ্ট্রে সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধাভোগীদের জন্য ২০২৭ সালে মাসিক ভাতা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অবসরপ্রাপ্তদের সংগঠন এএআরপির সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী, আগামী বছর জীবনযাত্রার ব্যয় সমন্বয় বা কোলা ৩ দশমিক ৫ শতাংশ হতে পারে। এই হারে বৃদ্ধি হলে গড়ে অবসরপ্রাপ্ত একজন কর্মী মাসে প্রায় ৭৩ ডলার বেশি পেতে পারেন। তবে এই হিসাব এখনো চূড়ান্ত নয়। ২০২৭ সালের কোলা নির্ধারণে চলতি বছরের জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের মূল্যস্ফীতির তথ্য বিবেচনা করা হবে। বিশেষ করে শহুরে মজুরি ও দাপ্তরিক কর্মীদের ভোক্তা মূল্যসূচক বা সিপিআই-ডব্লিউ এই হিসাবের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। সেপ্টেম্বরের মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশের পর অক্টোবর মাসে সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসন চূড়ান্ত কোলা ঘোষণা করবে। এএআরপির হিসাব অনুযায়ী, জুলাইয়ে সিপিআই-ডব্লিউ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। পরবর্তী মাসগুলোর সম্ভাব্য মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় নিয়ে এএআরপি ৩ দশমিক ৫ শতাংশ কোলা হওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে। তবে খাদ্য ও জ্বালানির দামে বড় ধরনের পরিবর্তন হলে চূড়ান্ত হার এই পূর্বাভাসের চেয়ে কম বা বেশি হতে পারে। ২০২৬ সালে সোশ্যাল সিকিউরিটির কোলা ছিল ২ দশমিক ৮ শতাংশ। সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এই বৃদ্ধি কার্যকর হয়েছে। এতে গড়ে অবসরপ্রাপ্ত একজন কর্মীর মাসিক সুবিধা প্রায় ৫৬ ডলার বেড়েছে। সোশ্যাল সিকিউরিটির কোলা মূলত মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সুবিধাভোগীদের মাসিক ভাতা সমন্বয়ের জন্য দেওয়া হয়। ১৯৭৫ সাল থেকে নিয়মিতভাবে এই সমন্বয় করা হচ্ছে। তবে মূল্যস্ফীতি কম থাকলে কোনো কোনো বছর এই বৃদ্ধির হার শূন্যও হতে পারে। ২০২৭ সালের কোলা নিয়ে সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসনের দীর্ঘমেয়াদি হিসাব অবশ্য এএআরপির পূর্বাভাসের চেয়ে কম। সংস্থাটির ২০২৬ সালের ট্রাস্টি প্রতিবেদন তৈরির সময় ২০২৭ সালের জন্য ২ দশমিক ৪ শতাংশ কোলা ধরে হিসাব করা হয়েছিল। তবে সেটি দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক পূর্বাভাসের ওপর ভিত্তি করে করা হিসাব, চূড়ান্ত ঘোষণা নয়। তাই এখনই ৩ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধি নিশ্চিত ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। সেপ্টেম্বরের মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশের পরই ২০২৭ সালের প্রকৃত কোলা নির্ধারণ করা হবে। তবে এএআরপির বর্তমান পূর্বাভাস সঠিক হলে যুক্তরাষ্ট্রের সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধাভোগীরা আগামী বছর মাসে আরও কিছুটা বেশি অর্থ পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
২০২৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা বাড়তে পারে। মূল্যস্ফীতির সাম্প্রতিক তথ্য বিশ্লেষণ করে অবসরপ্রাপ্তদের সংগঠন এএআরপি (AARP) ধারণা করছে, আগামী বছর সামাজিক নিরাপত্তা ভাতার জীবনযাত্রার ব্যয় সমন্বয় বা কস্ট-অফ-লিভিং অ্যাডজাস্টমেন্ট (COLA) প্রায় ৩.৬ শতাংশ হতে পারে। তবে এটি এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। সেপ্টেম্বরের মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশের পর অক্টোবর মাসে ২০২৭ সালের প্রকৃত COLA নির্ধারণ করা হবে। নতুন হার কার্যকর হবে ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে। আগস্টের মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশের পর এএআরপির পূর্বাভাস আগের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর (BLS) তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে শহরাঞ্চলের মজুরি ও কেরানি কর্মীদের জন্য ভোক্তা মূল্যসূচক বা CPI-W গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩.৫ শতাংশ বেড়েছে। সামাজিক নিরাপত্তা ভাতার বার্ষিক COLA নির্ধারণে এই সূচকই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসনের নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি বছরের জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের CPI-W-এর গড়ের সঙ্গে আগের বছরের তৃতীয় প্রান্তিকের গড় তুলনা করে COLA নির্ধারণ করা হয়। ফলে আগস্টের তথ্য হাতে এলেও সেপ্টেম্বরের হিসাব ছাড়া ২০২৭ সালের চূড়ান্ত হার বলা সম্ভব নয়। সেপ্টেম্বরের মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশের পরই চূড়ান্ত হিসাব পাওয়া যাবে। ভাতা কত বাড়তে পারে ৩.৬ শতাংশ COLA কার্যকর হলে সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় থাকা অনেক সুবিধাভোগীর মাসিক ভাতা বাড়বে। সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসনের জুলাই ২০২৬-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের গড় মাসিক সুবিধা ছিল ২,০৮৫.৯৮ ডলার। ৩.৬ শতাংশ বৃদ্ধি হলে এই পরিমাণে মাসে প্রায় ৭৫ ডলার যোগ হতে পারে। অর্থাৎ গড় ভাতা প্রায় ২,১৬১ ডলারের কাছাকাছি যেতে পারে। এএআরপির বিশ্লেষণে অন্যান্য সুবিধাভোগীদের ক্ষেত্রেও বাড়তি অর্থ পাওয়ার সম্ভাবনা দেখানো হয়েছে। জুলাইয়ের গড় হিসাবে, স্বামী বা স্ত্রী হারানো সুবিধাভোগীদের মাসিক ভাতা প্রায় ১,৯৩৩ ডলার হলে ৩.৬ শতাংশ বৃদ্ধিতে তা প্রায় ৭০ ডলার বাড়তে পারে। প্রতিবন্ধী কর্মীদের গড় সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা ১,৬৩৫ ডলারের কাছাকাছি হওয়ায় সেখানে মাসে প্রায় ৫৯ ডলার বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ব্যক্তিভেদে প্রকৃত বৃদ্ধির পরিমাণ আলাদা হবে। কারও বর্তমান ভাতার পরিমাণ, কর, মেডিকেয়ার প্রিমিয়ামসহ অন্যান্য কর্তন থাকলে ব্যাংক হিসাবে পৌঁছানো অর্থের পরিমাণ অনুমানের চেয়ে কম হতে পারে। কেন বাড়ছে COLA সামাজিক নিরাপত্তা ভাতার COLA মূলত মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সুবিধাভোগীদের ক্রয়ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য দেওয়া হয়। খাদ্য, জ্বালানি, আবাসন ও স্বাস্থ্যসেবার মতো প্রয়োজনীয় খাতে দাম বাড়লে নির্দিষ্ট আয়ের ওপর নির্ভরশীল অবসরপ্রাপ্তদের ওপর তার প্রভাব তুলনামূলক বেশি পড়ে। এএআরপির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, চলতি বছরে পণ্যের ওপর শুল্ক এবং জ্বালানি দামের বাড়তি চাপ মূল্যস্ফীতিকে উঁচু রাখতে ভূমিকা রাখছে। ন্যাশনাল একাডেমি অব সোশ্যাল ইন্স্যুরেন্সের বিশিষ্ট ভিজিটিং ফেলো ইন্দিভার দত্ত-গুপ্তা এএআরপিকে বলেন, বয়স্ক আমেরিকানরা বিশেষ করে খাদ্য, জ্বালানি, আবাসন ও স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় বৃদ্ধির চাপ বেশি অনুভব করছেন, কারণ নির্দিষ্ট আয়ের মানুষের এসব খরচ সামঞ্জস্য করার সুযোগ তুলনামূলক কম। সাম্প্রতিক বছরের তুলনায় কত বেশি ২০২৬ সালে সামাজিক নিরাপত্তা ভাতার COLA ছিল ২.৮ শতাংশ। ২০২৭ সালে যদি ৩.৬ শতাংশ বৃদ্ধি চূড়ান্ত হয়, তাহলে সেটি ২০২৬ সালের তুলনায় ০.৮ শতাংশীয় পয়েন্ট বেশি হবে। একই সঙ্গে এটি ২০২৩ সালের পর সবচেয়ে বড় বার্ষিক বৃদ্ধি হতে পারে। ২০২৩ সালে উচ্চ মূল্যস্ফীতির প্রভাবে সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা ৮.৭ শতাংশ বেড়েছিল। এর পরের বছরগুলোতে বৃদ্ধি তুলনামূলক কম ছিল। ২০২৪ সালে COLA ছিল ৩.২ শতাংশ, ২০২৫ সালে ২.৫ শতাংশ এবং ২০২৬ সালে ২.৮ শতাংশ। ফলে ৩.৬ শতাংশের পূর্বাভাস বাস্তবায়িত হলে সাম্প্রতিক কয়েক বছরের তুলনায় সুবিধাভোগীরা তুলনামূলক বড় সমন্বয় পাবেন। তবে বেশি COLA মানেই যে জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপ পুরোপুরি কমে যাবে, তা নয়। মূল্যস্ফীতি যদি সামাজিক নিরাপত্তা ভাতার বৃদ্ধির কাছাকাছি বা তার চেয়ে বেশি থাকে, তাহলে প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা খুব বেশি বাড়বে না। অতীতেও এমন পরিস্থিতি দেখা গেছে, যখন COLA বৃদ্ধির পরও খাদ্য, জ্বালানি ও স্বাস্থ্যসেবার দ্রুত বাড়তে থাকা খরচ সুবিধাভোগীদের ওপর চাপ তৈরি করেছে। কবে চূড়ান্ত হবে ২০২৭ সালের COLA এখনো পূর্বাভাসের পর্যায়ে রয়েছে। সেপ্টেম্বরের CPI-W তথ্য প্রকাশের পর সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসন চূড়ান্ত হিসাব করবে। বর্তমানে সরকারি সময়সূচি অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের মূল্যস্ফীতির তথ্য ১৪ অক্টোবর প্রকাশ হওয়ার কথা এবং এর পরই ২০২৭ সালের COLA আনুষ্ঠানিকভাবে নির্ধারিত হবে। নতুন সমন্বয় কার্যকর হবে ২০২৭ সালের জানুয়ারির সুবিধা প্রদানের সঙ্গে। অর্থাৎ বর্তমানে ৩.৬ শতাংশকে সম্ভাব্য হার হিসেবে দেখা হলেও সেটিকে চূড়ান্ত ধরে বাজেট বা ব্যক্তিগত আর্থিক পরিকল্পনা করা ঠিক হবে না। সেপ্টেম্বরের মূল্যস্ফীতির তথ্যের ওপর নির্ভর করবে শেষ পর্যন্ত সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধাভোগীরা কতটা বাড়তি অর্থ পাবেন। সূত্র: এএআরপি, যুক্তরাষ্ট্রের সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসন এবং যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরো।
যুক্তরাষ্ট্রে সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধার পূর্ণ অবসরের বয়স ২০২৬ সালে নতুন ধাপে পৌঁছেছে। সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে ৬২ বছর বয়সে পৌঁছানো ব্যক্তিদের পূর্ণ অবসরের বয়স ৬৭ বছর। তবে এর অর্থ এই নয় যে ৬৭ বছরের আগে অবসর নেওয়া যাবে না। ৬২ বছর বয়স থেকেই সোশ্যাল সিকিউটি সুবিধা নেওয়া যায়, কিন্তু পূর্ণ অবসরের বয়সের আগে সুবিধা নিলে মাসিক অর্থ স্থায়ীভাবে কমে যায়। পূর্ণ অবসরের বয়স নির্ধারণ করা হয় একজন ব্যক্তির জন্মসাল অনুযায়ী। ১৯৪৩ থেকে ১৯৫৪ সালের মধ্যে জন্ম নেওয়া ব্যক্তিদের পূর্ণ অবসরের বয়স ৬৬ বছর। এরপর জন্মসাল অনুযায়ী বয়স ধাপে ধাপে বাড়তে থাকে। ১৯৫৫ সালে জন্ম নেওয়া ব্যক্তিদের পূর্ণ অবসরের বয়স ৬৬ বছর ২ মাস, ১৯৫৬ সালে জন্ম নেওয়াদের ৬৬ বছর ৪ মাস এবং ১৯৫৭ সালে জন্ম নেওয়াদের ৬৬ বছর ৬ মাস। এই ধারাবাহিকতায় ১৯৫৮ সালে জন্ম নেওয়া ব্যক্তিদের পূর্ণ অবসরের বয়স ৬৬ বছর ৮ মাস এবং ১৯৫৯ সালে জন্ম নেওয়া ব্যক্তিদের ৬৬ বছর ১০ মাস। ১৯৬০ সালে বা তার পরে জন্ম নেওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে পূর্ণ অবসরের বয়স ৬৭ বছর। অর্থাৎ ২০২৬ সালে এই দীর্ঘদিনের ধাপে ধাপে বাড়ার প্রক্রিয়া ৬৭ বছর বয়সে এসে পৌঁছেছে। তবে ৬২ বছর বয়সে সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধা নেওয়ার সুযোগ এখনও রয়েছে। সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসনের হিসাবে, ১৯৬০ সালে বা তার পরে জন্ম নেওয়া কেউ ৬২ বছর বয়সে অবসর সুবিধা নেওয়া শুরু করলে পূর্ণ সুবিধার তুলনায় তার মাসিক অর্থ প্রায় ৩০ শতাংশ কমে যেতে পারে। উদাহরণ হিসেবে, পূর্ণ অবসরের বয়সে ১ হাজার ডলার পাওয়ার যোগ্য কেউ ৬২ বছর বয়সে সুবিধা নেওয়া শুরু করলে প্রায় ৭০০ ডলার পেতে পারেন। অন্যদিকে, পূর্ণ অবসরের বয়স পার হওয়ার পরও কেউ চাইলে সোশ্যাল সিকিউটি সুবিধা নেওয়া শুরু করতে পারেন। ৭০ বছর বয়স পর্যন্ত অপেক্ষা করলে বিলম্বিত অবসর সুবিধার কারণে মাসিক অর্থ বাড়ে। সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসন জানিয়েছে, পূর্ণ অবসরের বয়সের পর ৭০ বছর পর্যন্ত সুবিধা নেওয়া বিলম্বিত করলে মাসিক সুবিধার পরিমাণ বাড়তে থাকে। অবসরের বয়স নিয়ে এই পরিবর্তন আসলে ১৯৮৩ সালের সামাজিক নিরাপত্তা সংশোধনের মাধ্যমে শুরু হওয়া দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়ার অংশ। নির্দিষ্ট জন্মসালের মানুষের পূর্ণ অবসরের বয়স কয়েক ধাপে বাড়িয়ে ৬৭ বছরে নেওয়া হয়েছে। ফলে ২০২৬ সালের পরিবর্তনকে হঠাৎ করে সবার অবসরের বয়স বাড়িয়ে দেওয়ার নতুন সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা ঠিক নয়। ২০২৬ সালে সোশ্যাল সিকিউরিটি ব্যবস্থায় আরও কিছু অর্থনৈতিক পরিবর্তন কার্যকর হয়েছে। সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জন্য জীবনযাত্রার ব্যয় সমন্বয় বা কোলা ২ দশমিক ৮ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে সোশ্যাল সিকিউরিটি করের আওতাভুক্ত সর্বোচ্চ আয় ১ লাখ ৮৪ হাজার ৫০০ ডলারে উন্নীত হয়েছে। পূর্ণ অবসরের বয়সে পৌঁছানোর আগে যারা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন এবং একই সঙ্গে সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধা নিচ্ছেন, তাদের ক্ষেত্রেও আয়ের সীমা রয়েছে। ২০২৬ সালে পূর্ণ অবসরের বয়সের নিচে থাকা ব্যক্তিদের জন্য নির্দিষ্ট সীমার বেশি আয় হলে সুবিধার একটি অংশ কেটে রাখা হতে পারে। তবে পূর্ণ অবসরের বয়সে পৌঁছানোর পর পুরো বছর কাজ করলেও আয়ের ওপর এই সীমা থাকে না। সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা কখন নেওয়া শুরু করা হবে, তা তাই অবসর পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ৬২ বছর বয়সে সুবিধা নেওয়া শুরু করলে দ্রুত অর্থ পাওয়া যায়, কিন্তু মাসিক অর্থ কমে যায়। পূর্ণ অবসরের বয়স পর্যন্ত অপেক্ষা করলে পুরো সুবিধা পাওয়ার সুযোগ থাকে। আবার ৭০ বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করলে মাসিক সুবিধা আরও বাড়তে পারে। ফলে প্রত্যেক ব্যক্তির জন্মসাল ও আর্থিক পরিস্থিতি অনুযায়ী সুবিধা নেওয়ার সময় নির্ধারণ করা গুরুত্বপূর্ণ। সূত্র: কেটিএলএ
যুক্তরাষ্ট্রের সোশ্যাল সিকিউরিটি তহবিল ২০৩২ সালের মধ্যে শেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কার মধ্যে কয়েকজন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা ট্যাক্স বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার কথা বলছেন। দীর্ঘদিন ধরে ট্যাক্স বাড়ানোর বিরোধিতা করে আসা রিপাবলিকানদের মধ্যে এই অবস্থান পরিবর্তন এসেছে এমন এক সময়ে, যখন সোশ্যাল সিকিউরিটির ঘাটতি এত বড় ও জরুরি হয়ে উঠেছে যে শুধু ভবিষ্যৎ সুবিধা কমিয়ে সংকট মোকাবিলা করা কঠিন বলে মনে করছেন কয়েকজন আইনপ্রণেতা। কংগ্রেস ব্যবস্থা না নিলে ছয় বছরের মধ্যে লাখো সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধাভোগীর অর্থপ্রদান ২২ শতাংশ কমে যেতে পারে। ওহাইওর রিপাবলিকান সিনেটর বার্নি মোরেনো ডেমোক্র্যাট সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেনের সঙ্গে যৌথভাবে বেতনভিত্তিক ট্যাক্সের সর্বোচ্চ সীমা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছেন। এর ফলে উচ্চ আয়ের মানুষদের কর্মসূচিতে আরও বেশি অর্থ দিতে হবে। একই সময়ে প্রতিনিধি পরিষদের অ্যাপ্রোপ্রিয়েশনস কমিটির চেয়ারম্যান টম কোলও ট্যাক্সের হার এবং ট্যাক্সের আওতায় থাকা আয়ের পরিমাণ বাড়ানোর বিষয়টি আলোচনায় রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন। কোল বলেছেন, সোশ্যাল সিকিউরিটির সংকট সমাধানে বর্তমান আয়ের সীমা বা ট্যাক্সের হারের মধ্যেই আটকে থাকার প্রয়োজন নেই। তিনি ট্যাক্সের হার পরিবর্তন এবং ট্যাক্সের আওতায় থাকা আয়ের পরিমাণ বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনার পক্ষে। তার মতে, সোশ্যাল সিকিউরিটির সুবিধা কমানোর রাজনৈতিক ক্ষতি ট্যাক্স বাড়ানোর তুলনায় আরও বড় হতে পারে। তহবিল ব্যবস্থা ভেঙে পড়লে মানুষ নিজেদের প্রতারিত মনে করতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেছেন। সোশ্যাল সিকিউরিটি যুক্তরাষ্ট্রের ৭ কোটির বেশি মানুষকে মাসিক নগদ সুবিধা দেয়। এটি দেশটির ৭ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলারের ফেডারেল বাজেটের সবচেয়ে বড় কর্মসূচি। চলতি বছর এই কর্মসূচিতে ১ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় হওয়ার কথা। কর্মীরা ৬২ বছর বয়স থেকে সুবিধা নেওয়া শুরু করতে পারেন, আর পূর্ণ অবসর গ্রহণের বয়স ৬৭ বছর। কর্মসূচিটি বেতনভিত্তিক ট্যাক্সের মাধ্যমে অর্থায়ন করা হয়। কর্মী ও নিয়োগকর্তা উভয়েই ৬ দশমিক ২ শতাংশ করে ট্যাক্স দেন। বছরের পর বছর বার্ষিক ট্যাক্স সংগ্রহ সুবিধা প্রদানের ব্যয়ের চেয়ে বেশি থাকায় সোশ্যাল সিকিউরিটি তহবিলে উদ্বৃত্ত জমেছিল। কিন্তু বেবি বুম প্রজন্ম অবসরে যাওয়ার পর হিসাব বদলে গেছে। এখন সোশ্যাল সিকিউরিটি যে পরিমাণ ট্যাক্স সংগ্রহ করছে, তার চেয়ে বেশি অর্থ সুবিধা হিসেবে দিচ্ছে। ফলে ঘাটতি পূরণে তহবিলের সঞ্চিত অর্থ ব্যবহার করতে হচ্ছে। বর্তমান হিসাব অনুযায়ী, সোশ্যাল সিকিউরিটি তহবিল ২০৩২ সালে শেষ হয়ে যেতে পারে। এরপর কর্মসূচিটিকে শুধু তখনকার সময়ে সংগৃহীত ট্যাক্সের ওপর নির্ভর করতে হবে। কংগ্রেস কোনো ব্যবস্থা না নিলে গড়ে মাসিক সুবিধা প্রায় ৪৪০ ডলার কমে যেতে পারে বলে বাইপার্টিজান পলিসি সেন্টারের হিসাব। সংস্থাটির হিসাবে, ২০৩৩ সালেই ঘাটতি পূরণ করতে ৪৫৯ বিলিয়ন ডলার সমপরিমাণ ব্যয় কমানো অথবা নতুন রাজস্বের প্রয়োজন হবে। পরবর্তী বছরগুলোতে এই প্রয়োজন আরও বাড়বে। মোরেনো ও ওয়ারেনের প্রস্তাবে উচ্চ আয়ের কর্মীদের পুরো আয়ের ওপর বেতনভিত্তিক সোশ্যাল সিকিউরিটি ট্যাক্স আরোপের কথা বলা হয়েছে। তাদের যুক্তি, মধ্যবিত্ত একজন নার্সের তুলনায় একজন ধনী করপোরেট আইনজীবী কেন নিজের আয়ের ছোট অংশে ট্যাক্স দেবেন, সেই প্রশ্নের সমাধান প্রয়োজন। তাদের উদ্ধৃত একটি সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, ৬২ শতাংশ রিপাবলিকান বেতনভিত্তিক ট্যাক্সের সর্বোচ্চ সীমা তুলে দেওয়ার পক্ষে। দায়িত্বশীল ফেডারেল বাজেট কমিটির হিসাবে, উচ্চ আয়ের মানুষের জন্য ট্যাক্সের সীমা তুলে দিয়ে তাদের সুবিধা না বাড়ালে সোশ্যাল সিকিউরিটির ঘাটতির অর্ধেকেরও বেশি পূরণ করা সম্ভব হতে পারে। তবে জর্জ মেসন বিশ্ববিদ্যালয়ের মারকাটাস সেন্টারের গবেষক চার্লস ব্লাহাসসহ কয়েকজন এই পদ্ধতির বিষয়ে সতর্ক করেছেন। তাদের মতে, এতে কর্মীদের দেওয়া ট্যাক্স এবং ভবিষ্যতে পাওয়া সুবিধার মধ্যকার ঐতিহাসিক সম্পর্ক দুর্বল হয়ে যেতে পারে। ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে কেউ কেউ আরও বেশি ট্যাক্স আরোপের পক্ষে। রোড আইল্যান্ডের ডেমোক্র্যাট সিনেটর শেলডন হোয়াইটহাউস বেতনভিত্তিক ট্যাক্সের সীমা তুলে দেওয়ার পাশাপাশি ধনী পরিবারের বিনিয়োগ আয়ের ওপর ট্যাক্স আরোপ এবং ব্যবসার মালিকদের ব্যক্তিগত ট্যাক্স কমানোর সুযোগ থাকা একটি ফাঁক বন্ধ করার প্রস্তাব দিয়েছেন। ২০২৩ সালের এক হিসাব অনুযায়ী, তার প্রস্তাব অন্তত ৭৫ বছর সোশ্যাল সিকিউরিটির পুরো অর্থায়ন নিশ্চিত করার মতো রাজস্ব আনতে পারে। পেনসিলভানিয়ার রিপাবলিকান প্রতিনিধি লয়েড কে. স্মাকারও সোশ্যাল সিকিউরিটির সমাধানে অতিরিক্ত ট্যাক্স রাজস্বের প্রয়োজন হতে পারে বলে জানিয়েছেন। তিনি বেতনভিত্তিক ট্যাক্সের মাধ্যমে কর্মসূচিতে আসা অর্থের বিষয়টি পুনর্বিবেচনার পাশাপাশি ধনীদের জন্য সুবিধা কমিয়ে এবং নিম্ন আয়ের অবসরপ্রাপ্তদের সুরক্ষিত রাখার জন্য আয়ভিত্তিক সুবিধা নির্ধারণের বিষয়টি বিবেচনার কথা বলেছেন। তবে রিপাবলিকানদের মধ্যে ট্যাক্স বাড়ানোর বিরোধিতা এখনো রয়েছে। আমেরিকানস ফর ট্যাক্স রিফর্মের প্রতিষ্ঠাতা গ্রোভার নরকুইস্ট মনে করেন, রিপাবলিকানদের ব্যয় কমানোর দাবিতেই থাকা উচিত। তার মতে, ট্যাক্স বাড়ানোর পক্ষে গেলে জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে ক্ষুব্ধ ভোটারদের বিরূপ প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়তে পারেন রিপাবলিকানরা। সোশ্যাল সিকিউরিটি সংকট মোকাবিলায় ট্যাক্স বাড়ানোর ধারণা নতুন নয়। ১৯৮৩ সালে রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যান এবং ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার টিপ ও'নিল কর্মসূচিটিকে তৎকালীন দেউলিয়াত্বের ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে বেতনভিত্তিক ট্যাক্স বাড়ানো এবং ধীরে ধীরে অবসর গ্রহণের বয়স বাড়ানোর মতো পদক্ষেপে একমত হয়েছিলেন। পরবর্তী সময়েও ট্যাক্সের সীমা বাড়ানো ও সুবিধা কমানোর বিভিন্ন প্রস্তাব সামনে এসেছে। সোশ্যাল সিকিউরিটি সংস্কারের আলোচনায় হোয়াইট হাউসের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। কোল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কর্মসূচিটির দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে ট্রাম্প কীভাবে প্রয়োজনীয় বিপুল অর্থ সংগ্রহ করা হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট পরিকল্পনা জানাননি। তিনি বলেছেন, তার নেতৃত্বে সোশ্যাল সিকিউরিটির অর্থপ্রদানে কোনো কমতি হবে না। সূত্র: দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট
যুক্তরাষ্ট্রে সোশ্যাল সিকিউরিটির সেপ্টেম্বরের পেমেন্ট দেওয়া শুরু হচ্ছে এই সপ্তাহে। বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর অবসর, স্বামী বা স্ত্রীর বেনিফিট এবং স্বজনের মৃত্যুর পর প্রাপ্য বেনিফিটের সেই গ্রহীতারা পেমেন্ট পাবেন, যাদের জন্মদিন মাসের ১ থেকে ১০ তারিখের মধ্যে। সর্বোচ্চ সুবিধার ক্ষেত্রে মাসে ৫,১৮১ ডলার পর্যন্ত পাওয়া সম্ভব। তবে ৫,১৮১ ডলার সবার জন্য প্রযোজ্য নয়। সোশ্যাল সিকিউরিটি প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে সর্বোচ্চ অবসর সুবিধা পেতে হলে কর্মজীবনে সর্বোচ্চ করযোগ্য আয়ের ভিত্তিতে সোশ্যাল সিকিউরিটি ট্যাক্স দিতে হয়েছে এবং ৭০ বছর বয়স পর্যন্ত বেনিফিট নেওয়া পিছিয়ে দিতে হয়েছে। ৭০ বছর বয়সে অবসর বেনিফিট শুরু করলে সর্বোচ্চ মাসিক পরিমাণ ৫,১৮১ ডলার হতে পারে। যারা ২০২৬ সালে পূর্ণ অবসরের বয়সে বেনিফিট শুরু করেন, তাদের সর্বোচ্চ মাসিক সুবিধা ৪,১৫২ ডলার। আর ৬২ বছর বয়সে বেনিফিট নেওয়া শুরু করলে সর্বোচ্চ পরিমাণ ২,৯৬৯ ডলার। বাস্তবে অধিকাংশ অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি এই সর্বোচ্চ অঙ্কের চেয়ে কম সোশ্যাল সিকিউরিটি পান। সেপ্টেম্বরের পেমেন্ট একসঙ্গে সবাই পাবেন না। সোশ্যাল সিকিউরিটি প্রশাসনের নিয়ম অনুযায়ী, মাসের ১ থেকে ১০ তারিখের মধ্যে জন্মগ্রহণকারীরা দ্বিতীয় বুধবার, ১১ থেকে ২০ তারিখের মধ্যে জন্মগ্রহণকারীরা তৃতীয় বুধবার এবং ২১ থেকে ৩১ তারিখের মধ্যে জন্মগ্রহণকারীরা চতুর্থ বুধবার পেমেন্ট পান। সে হিসাবে ৯ সেপ্টেম্বরের পর চলতি মাসের পরবর্তী পেমেন্টের তারিখ ১৬ ও ২৩ সেপ্টেম্বর। তবে ১৯৯৭ সালের মে মাসের আগে থেকে সোশ্যাল সিকিউরিটি নেওয়া ব্যক্তি এবং কিছু সাপ্লিমেন্টাল সিকিউরিটি ইনকাম বা এসএসআই গ্রহীতার ক্ষেত্রে আলাদা পেমেন্ট সূচি প্রযোজ্য হতে পারে। এদিকে, ২০২৭ সালের সোশ্যাল সিকিউরিটির জীবনযাত্রার ব্যয় সমন্বয় বা কোলা নিয়েও নজর রয়েছে। আগস্টের মূল্যস্ফীতির তথ্য ১১ সেপ্টেম্বর প্রকাশ হওয়ার কথা। আগামী বছরের কোলা নির্ধারণে ব্যবহৃত তিন মাসের তথ্যের মধ্যে এটি হবে দ্বিতীয় মাসের তথ্য। বর্তমান বিভিন্ন পূর্বাভাসে ২০২৭ সালের কোলা প্রায় ৩ দশমিক ৫ থেকে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে চূড়ান্ত হার এখনো নির্ধারিত হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি অব্যাহত থাকায় ২০২৭ সালে সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধাভোগীদের মাসিক ভাতা বাড়তে পারে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও জ্বালানির দাম বাড়ায় আগামী বছর ভাতা কতটা বাড়বে, তা নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এসএসএ) নিয়ম অনুযায়ী, জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়লে সুবিধাভোগীদের ভাতাতেও সমন্বয় করা হয়। এই বার্ষিক সমন্বয়কে বলা হয় কস্ট-অব-লিভিং অ্যাডজাস্টমেন্ট বা সিওএলএ। প্রতি বছর মূল্যস্ফীতির তথ্য বিশ্লেষণ করে এসএসএ পরবর্তী বছরে ভাতা কতটা বাড়বে, তা নির্ধারণ করে। ২০২৬ সালে সোশ্যাল সিকিউরিটি ভাতা ২ দশমিক ৮ শতাংশ বাড়ানো হয়েছিল। এতে গড় অবসরপ্রাপ্ত কর্মীর মাসিক ভাতা প্রায় ২ হাজার ১৫ ডলার থেকে বেড়ে ২ হাজার ৭২ ডলারে দাঁড়ায়। ২০২৭ সালে কত বাড়তে পারে? ২০২৭ সালের সিওএলএ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এসএসএ আগামী অক্টোবর মাসে এ বিষয়ে ঘোষণা দেবে। তবে বর্তমান মূল্যস্ফীতির পরিস্থিতির ভিত্তিতে বিভিন্ন পূর্বাভাসে আগামী বছর ভাতা ৩ দশমিক ৫ থেকে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ বাড়ার সম্ভাবনা দেখানো হয়েছে। সিওএলএ নির্ধারণ করা হয় কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স ফর আরবান ওয়েজ আর্নার্স অ্যান্ড ক্লেরিক্যাল ওয়ার্কার্স (সিপিআই-ডব্লিউ)-এর তথ্যের ভিত্তিতে। আগের বছরের তৃতীয় প্রান্তিকের সঙ্গে চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকের মূল্যসূচকের পরিবর্তন হিসাব করে এই সমন্বয় নির্ধারণ করা হয়। তবে চূড়ান্ত হিসাবের জন্য সেপ্টেম্বরের মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। ভাতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হলে সাধারণত নতুন হারে অর্থ পাওয়া শুরু হয় পরবর্তী বছরের জানুয়ারি থেকে। মূল্যস্ফীতি কেন গুরুত্বপূর্ণ? মার্কিন নাগরিকদের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়লে একই পরিমাণ সোশ্যাল সিকিউরিটি ভাতা দিয়ে আগের মতো পণ্য ও সেবা কেনা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে প্রতি বছর সিওএলএ নির্ধারণ করা হয়। বর্তমান পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৭ সালে ভাতা বাড়লে সুবিধাভোগীদের মাসিক আয় কিছুটা বাড়বে। তবে খাদ্য, জ্বালানি ও বাসস্থানের মতো খাতে ব্যয়ও বাড়তে থাকায় তাদের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা কতটা বাড়বে, সেটিই বড় প্রশ্ন। এসএসআই সুবিধাভোগীদের ক্ষেত্রেও কি বাড়বে? সাধারণত সাপ্লিমেন্টাল সিকিউরিটি ইনকাম (এসএসআই) সুবিধাভোগীরাও একই সিওএলএ সমন্বয়ের আওতায় থাকেন। তবে সোশ্যাল সিকিউরিটি ও এসএসআই আলাদা কর্মসূচি এবং এগুলোর অর্থায়ন ও যোগ্যতার নিয়মও ভিন্ন। ২০২৬ সালের হিসাবে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ৭ কোটি ৫০ লাখের বেশি মানুষ সোশ্যাল সিকিউরিটি বা এসএসআই সুবিধা, অথবা দুটিই পান। ফলে ২০২৭ সালের সিওএলএ নির্ধারণের সিদ্ধান্ত বিপুলসংখ্যক মানুষের মাসিক আয়ে প্রভাব ফেলতে পারে। নোট: ২০২৭ সালের চূড়ান্ত বৃদ্ধির হার এখনো ঘোষণা করা হয়নি। এসএসএ অক্টোবর মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন হার জানাবে।
আগস্ট মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধাভোগীদের জন্য পেমেন্টের সময়সূচি মূলত স্বাভাবিক নিয়মেই চলবে। তবে যারা 'সাপ্লিমেন্টাল সিকিউরিটি ইনকাম' (এসএসআই) গ্রহণ করেন, তারা ইতিমধ্যেই গত ৩১ জুলাই তাদের আগস্ট মাসের অর্থ পেয়ে গেছেন, কারণ ১ আগস্ট সাপ্তাহিক ছুটির দিন পড়েছিল। আগাম অর্থ প্রদান করার কারণে চলতি মাসে আর কোনো আলাদা এসএসআই পেমেন্ট পাঠানো হবে না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরবর্তী এসএসআই পেমেন্ট দেওয়া হবে আগামী ১ সেপ্টেম্বর। অন্যান্য সুবিধাভোগীদের ক্ষেত্রে অর্থ প্রদানের নির্দিষ্ট দিনগুলো নির্ভর করবে তাদের জন্মতারিখ এবং সুবিধা গ্রহণের সময়কালের ওপর। যারা ১৯৯৭ সালের মে মাসের আগে থেকে সোশ্যাল সিকিউরিটি গ্রহণ করছেন অথবা যারা একই সঙ্গে এসএসআই সুবিধাও পেয়ে থাকেন, তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৩ আগস্ট অর্থ জমা হবে। এরপর মাসের ১ থেকে ১০ তারিখের মধ্যে জন্মগ্রহণকারী সুবিধাভোগীরা ১২ আগস্ট তাদের পেমেন্ট পাবেন। যাদের জন্মতারিখ ১১ থেকে ২০ তারিখের মধ্যে, তাদের অর্থ দেওয়া হবে ১৯ আগস্ট। সর্বশেষ, মাসের ২১ থেকে ৩১ তারিখের মধ্যে যাদের জন্ম, তারা আগামী ২৬ আগস্ট তাদের প্রাপ্য অর্থ হাতে পাবেন। সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এসএসএ) বর্তমানে কাগজের চেকের ব্যবহার পর্যায়ক্রমে পুরোপুরি বন্ধ করার লক্ষ্যে কাজ করছে এবং সুবিধাভোগীদের ডাইরেক্ট ডিপোজিট বা অন্যান্য ইলেকট্রনিক পেমেন্ট পদ্ধতি ব্যবহারে উৎসাহিত করছে। সংস্থাটির দেওয়া তথ্যমতে, বর্তমানে এক শতাংশেরও কম মানুষ কাগজের চেকের মাধ্যমে অর্থ গ্রহণ করে থাকেন। কোনো সুবিধাভোগী যদি নির্ধারিত সময়ে তাদের প্রত্যাশিত অর্থ না পান, তবে তাদের প্রথমেই নিজ নিজ ব্যাংকের সাথে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এরপরও পেমেন্ট সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান না হলে সরাসরি সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা স্থানীয় এসএসএ কার্যালয়ে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৭ সালে অবসরপ্রাপ্তদের সামাজিক নিরাপত্তা (সোশ্যাল সিকিউরিটি) ভাতা মাসে প্রায় ৭৭ ডলার পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সম্প্রতি প্রকাশিত একাধিক পূর্বাভাসে এই তথ্য উঠে এসেছে। দ্য সিনিয়র সিটিজেন্স লিগ-এর প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, আগামী বছর অবসরপ্রাপ্তদের ভাতা ৩.৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে গড়ে ২,১০৩ ডলারে দাঁড়াতে পারে। এএআরপি (AARP) এবং স্বাধীন বিশ্লেষক মেরি জনসনের মতে এই বৃদ্ধির হার যথাক্রমে ৩.৬ ও ৩.৭ শতাংশ হতে পারে। তবে এই বৃদ্ধি সত্ত্বেও তা বয়স্কদের গড় মাসিক জীবনযাত্রার ব্যয় (প্রায় ২,৭০০ ডলার) থেকে অন্তত ৫৯৭ ডলার পিছিয়ে থাকবে। ফলে ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের সাথে তাল মেলাতে এই বৃদ্ধি যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন অধিকারকর্মীরা। বর্তমানে সোশ্যাল সিকিউরিটি ভাতা বৃদ্ধির হার বা 'কস্ট-অফ-লিভিং অ্যাডজাস্টমেন্ট' (COLA) নির্ধারণ করা হয় 'কনজ্যুমার প্রাইস ইনডেক্স ফর আরবান ওয়েজ আর্নার্স' (CPI-W) ব্যবহার করে। প্রতি বছরের শরৎকালে জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসের মূল্যস্ফীতির গড় হিসেব করে পরের বছরের জানুয়ারি থেকে নতুন ভাতার পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়। তবে সমালোচকদের মতে, এই পদ্ধতিতে বয়স্কদের প্রকৃত ব্যয়ের চিত্র ফুটে ওঠে না। কারণ, সাধারণ চাকরিজীবীদের তুলনায় বয়স্ক মানুষেরা আবাসন ও চিকিৎসায় বেশি খরচ করেন এবং যাতায়াত বা পোশাকে কম ব্যয় করেন। তাই বর্তমান পদ্ধতিটি পরিবর্তন করে নতুন একটি সূচক ব্যবহারের জোর দাবি জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। বিকল্প হিসেবে দ্য সিনিয়র সিটিজেন্স লিগ 'কনজ্যুমার প্রাইস ইনডেক্স ফর দ্য এল্ডারলি' (CPI-E) নামের একটি নতুন সূচক ব্যবহারের প্রস্তাব করেছে। ১৯৮৭ সালে মার্কিন শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরো পরীক্ষামূলকভাবে এই সূচকটি চালু করে, যা মূলত বয়স্কদের প্রকৃত খরচের অভ্যাসের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। এএআরপি-এর ফিনান্সিয়াল সিকিউরিটি বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট রিচ জনসন জানান, সিপিআই-ই ব্যবহার করা হলে ১৯৮৬ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বেশিরভাগ বছরেই ভাতার পরিমাণ বর্তমানের চেয়ে বেশি হতো। দীর্ঘমেয়াদে এই ছোট পার্থক্যগুলো জমা হয়ে বড় আকার ধারণ করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, ১৯৮৬ সাল থেকে সিপিআই-ই চালু থাকলে ২০২৫ সালে একজন গ্রহীতার ভাতা বর্তমানের তুলনায় ৮.১ শতাংশ বেশি হতো। প্রায় চার দশক আগে তৈরি হলেও সিপিআই-ই সূচকটি এখনো পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে, যা এর পরিসংখ্যানগত নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। এছাড়া এটি বর্তমান সিপিআই-ডব্লিউ এর তুলনায় অনেক কম সংখ্যক মানুষের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি, ফলে এতে ভুলের সম্ভাবনা বেশি থাকতে পারে। কংগ্রেসনাল বাজেট অফিসের মতে, বয়স্কদের অনেকেই ইতিমধ্যে তাদের বাড়ির ঋণ বা মর্টগেজ পরিশোধ করে ফেলেছেন, অথচ এই সূচকে আবাসনের পেছনে ৪৯.১ শতাংশ ব্যয় ধরা হয়েছে, যা বাস্তবসম্মত নাও হতে পারে। তবে হিসাবের পদ্ধতি যাই হোক না কেন, বয়স্কদের বর্তমান আর্থিক সংকট নিরসনে ভাতার পরিমাণ বাড়ানো জরুরি বলে মনে করেন দ্য সিনিয়র সিটিজেন্স লিগ-এর নির্বাহী পরিচালক শ্যানন বেন্টন। তিনি সতর্ক করে বলেন, অর্ধেকের বেশি বয়স্ক মানুষ অর্থের অভাবে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া বন্ধ করে দিচ্ছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে পুরো স্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্যই মারাত্মক ক্ষতিকর।
যুক্তরাষ্ট্রে সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বরসহ ব্যক্তিগত তথ্য প্রতারকের হাতে চলে গেলে সেই তথ্য ব্যবহার করে আপনার অজান্তেই নতুন ক্রেডিট কার্ড বা ঋণের অ্যাকাউন্ট খোলার চেষ্টা হতে পারে। প্রতারণাটি দ্রুত ধরা না পড়লে অপরিচিত অ্যাকাউন্ট, বকেয়া ঋণ বা কালেকশনের তথ্য ক্রেডিট রিপোর্টে যুক্ত হয়ে বড় ধরনের আর্থিক জটিলতা তৈরি করতে পারে। অথচ বিনা খরচে নেওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ এ ধরনের প্রতারণার ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে দিতে পারে। সেটি হলো তিনটি প্রধান ক্রেডিট ব্যুরোতে নিজের ক্রেডিট ফ্রিজ করে রাখা। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ট্রেড কমিশন বা এফটিসি বলছে, ক্রেডিট ফ্রিজ বা সিকিউরিটি ফ্রিজ চালু থাকলে সম্ভাব্য ঋণদাতারা সাধারণত আপনার ক্রেডিট রিপোর্টে প্রবেশ করতে পারে না। ব্যাংক ও অন্যান্য ঋণদাতা নতুন ক্রেডিট দেওয়ার আগে সাধারণত আবেদনকারীর ক্রেডিট রিপোর্ট পরীক্ষা করে। ফলে রিপোর্টে প্রবেশাধিকার বন্ধ থাকলে পরিচয় চুরি করা ব্যক্তির পক্ষে আপনার নামে নতুন ক্রেডিট অ্যাকাউন্ট খোলা অনেক কঠিন হয়ে যায়। এফটিসির তথ্য অনুযায়ী, ক্রেডিট ফ্রিজ করতে কোনো টাকা লাগে না। ফ্রিজ তুলে নেওয়া বা প্রয়োজনে সাময়িকভাবে আনফ্রিজ করাও বিনামূল্যে। ক্রেডিট ফ্রিজ করার কারণে আপনার ক্রেডিট স্কোর কমে না এবং আপনি নিজে তুলে না নেওয়া পর্যন্ত ফ্রিজ কার্যকর থাকে। তবে শুধু একটি ক্রেডিট ব্যুরোতে ফ্রিজ করলে পূর্ণ সুরক্ষা পাওয়া যাবে না। যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি প্রধান ক্রেডিট ব্যুরো হলো ইকুইফ্যাক্স, এক্সপেরিয়ান ও ট্রান্সইউনিয়ন। ক্রেডিট ফ্রিজ করতে তিনটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেই আলাদাভাবে যোগাযোগ করতে হবে। কীভাবে করবেন ক্রেডিট ফ্রিজ: ইকুইফ্যাক্স, এক্সপেরিয়ান ও ট্রান্সইউনিয়নের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের মাধ্যমে বিনামূল্যে ক্রেডিট ফ্রিজের আবেদন করা যায়। ফোন বা ডাকযোগেও এই সুবিধা নেওয়া যায়। আবেদনের সময় পরিচয় যাচাইয়ের জন্য নাম, জন্মতারিখ, বর্তমান বা আগের ঠিকানা এবং সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বরের মতো ব্যক্তিগত তথ্য দিতে হতে পারে। এ কারণে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট ক্রেডিট ব্যুরোর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ব্যবহার করা উচিত। ইমেইল, টেক্সট মেসেজ বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসা অপরিচিত লিংকের মাধ্যমে সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর বা অন্য সংবেদনশীল তথ্য দেওয়া নিরাপদ নয়। ফেডারেল নিয়ম অনুযায়ী, অনলাইন বা ফোনে ক্রেডিট ফ্রিজের অনুরোধ পাওয়ার পর ক্রেডিট ব্যুরোকে এক কর্মদিবসের মধ্যে সেটি কার্যকর করতে হয়। আবার অনলাইন বা ফোনে ফ্রিজ তুলে দেওয়ার অনুরোধ করলে এক ঘণ্টার মধ্যে তা কার্যকর করতে হয়। নতুন ক্রেডিট কার্ড বা মর্টগেজ নিতে চাইলে কী করবেন: নিজের প্রয়োজনে নতুন ক্রেডিট কার্ড, গাড়ির ঋণ, মর্টগেজ বা অন্য কোনো নতুন ক্রেডিটের জন্য আবেদন করতে চাইলে ফ্রিজ স্থায়ীভাবে তুলে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। ঋণদাতা যে ক্রেডিট ব্যুরোর রিপোর্ট পরীক্ষা করবে, প্রয়োজনে শুধু সেই ব্যুরোর ফ্রিজ সাময়িকভাবে তুলে দেওয়া যায়। ক্রেডিট যাচাই শেষ হলে আবার ফ্রিজ করে রাখা সম্ভব এবং এজন্যও কোনো ফি দিতে হয় না। ফ্রিজ করলেও পুরোনো ক্রেডিট কার্ড চলবে: ক্রেডিট ফ্রিজ নিয়ে অনেকের মধ্যে একটি ভুল ধারণা রয়েছে। ক্রেডিট ফ্রিজ করলে বর্তমানে ব্যবহার করা ক্রেডিট কার্ড বা অন্য বিদ্যমান ক্রেডিট অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যায় না। আগের ক্রেডিট কার্ড স্বাভাবিকভাবেই ব্যবহার করা যায়। তবে ক্রেডিট ফ্রিজ সব ধরনের প্রতারণা বন্ধ করতে পারে না। কোনো প্রতারক যদি আগে থেকেই আপনার বিদ্যমান ক্রেডিট কার্ড বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য পেয়ে থাকে, ক্রেডিট ফ্রিজ সেই অ্যাকাউন্টে অননুমোদিত লেনদেন ঠেকাবে না। তাই ব্যাংক ও ক্রেডিট কার্ডের স্টেটমেন্ট নিয়মিত পরীক্ষা করাও জরুরি। নিয়মিত দেখুন নিজের ক্রেডিট রিপোর্ট: আইডেন্টিটি চুরি দ্রুত শনাক্ত করার অন্যতম কার্যকর উপায় হলো নিজের ক্রেডিট রিপোর্ট নিয়মিত পরীক্ষা করা। সেখানে এমন কোনো ক্রেডিট কার্ড, ঋণ, অ্যাকাউন্ট বা ক্রেডিট ইনকোয়ারি দেখা গেলে যা আপনি করেননি, সেটি পরিচয় চুরির সতর্কসংকেত হতে পারে। ফেডারেল আইন অনুমোদিত ব্যবস্থার মাধ্যমে বর্তমানে ইকুইফ্যাক্স, এক্সপেরিয়ান ও ট্রান্সইউনিয়নের ক্রেডিট রিপোর্ট প্রতি সপ্তাহে বিনামূল্যে পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। নিয়মিত এসব রিপোর্ট পরীক্ষা করলে নিজের অজান্তে খোলা অ্যাকাউন্ট দ্রুত শনাক্ত করার সুযোগ বাড়ে। আইডেন্টিটি চুরি হয়ে গেলে দ্রুত ব্যবস্থা নিন: আপনার নামে ইতিমধ্যে অপরিচিত ক্রেডিট কার্ড বা ঋণের অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে বলে জানতে পারলে প্রথমেই সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা প্রতিষ্ঠানের ফ্রড বিভাগে যোগাযোগ করতে হবে। অ্যাকাউন্টটি পরিচয় চুরির মাধ্যমে খোলা হয়েছে জানিয়ে সেটি বন্ধ বা ফ্রিজ করার ব্যবস্থা নিতে হবে। এরপর তিনটি ক্রেডিট ব্যুরোতেই ক্রেডিট ফ্রিজ দেওয়া এবং ক্রেডিট রিপোর্টে ভুল বা প্রতারণামূলক তথ্য থাকলে তা নিয়ে আপত্তি জানানোর প্রক্রিয়া শুরু করা গুরুত্বপূর্ণ। এফটিসির সরকারি আইডেন্টিটি থেফট ব্যবস্থায় ঘটনাটি রিপোর্ট করলে ভুক্তভোগী নিজের পরিস্থিতি অনুযায়ী একটি রিকভারি পরিকল্পনা পেতে পারেন। এর মাধ্যমে প্রতারণামূলক অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা, অননুমোদিত চার্জ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া এবং ক্রেডিট রিপোর্ট সংশোধনের প্রয়োজনীয় ধাপ সম্পর্কে নির্দেশনা পাওয়া যায়। ক্রেডিট ফ্রিজের সঙ্গে ফ্রড অ্যালার্টও দেওয়া যায়: ক্রেডিট ফ্রিজ ও ফ্রড অ্যালার্ট এক বিষয় নয়। ক্রেডিট ফ্রিজ আপনার ক্রেডিট রিপোর্টে সম্ভাব্য ঋণদাতার প্রবেশ সীমিত করে। অন্যদিকে ফ্রড অ্যালার্ট নতুন ক্রেডিট দেওয়ার আগে আবেদনকারীর পরিচয় অতিরিক্তভাবে যাচাই করার জন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে সতর্ক করে। প্রাথমিক ফ্রড অ্যালার্ট বিনামূল্যে দেওয়া যায় এবং এটি এক বছর কার্যকর থাকে। এ ক্ষেত্রে তিনটি ক্রেডিট ব্যুরোতে আলাদাভাবে যোগাযোগ করারও প্রয়োজন নেই। ইকুইফ্যাক্স, এক্সপেরিয়ান বা ট্রান্সইউনিয়নের যেকোনো একটিতে ফ্রড অ্যালার্ট দিলে সেই প্রতিষ্ঠান অন্য দুই ব্যুরোকে জানাবে। প্রয়োজনে ক্রেডিট ফ্রিজের পাশাপাশি ফ্রড অ্যালার্টও রাখা যায়। সন্তানের পরিচয়ও সুরক্ষিত রাখা যায়: আইডেন্টিটি চুরির ঝুঁকি শুধু প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। শিশুদের সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বরও প্রতারণার কাজে ব্যবহার হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে সন্তান বড় হয়ে প্রথমবার ক্রেডিটের জন্য আবেদন করার আগ পর্যন্ত পরিবার বিষয়টি জানতে নাও পারে। এফটিসির তথ্য অনুযায়ী, ১৬ বছরের কম বয়সী সন্তানের জন্য অভিভাবক বিনামূল্যে ক্রেডিট ফ্রিজের আবেদন করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে তিনটি ক্রেডিট ব্যুরোর নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পরিচয় ও অভিভাবকত্বের প্রয়োজনীয় নথি দিতে হয়। আগে থেকেই ফ্রিজ করতে পারেন ক্রেডিট: ক্রেডিট ফ্রিজ করার জন্য আইডেন্টিটি চুরির শিকার হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই। এফটিসি বলছে, যে কেউ যেকোনো সময় বিনামূল্যে নিজের ক্রেডিট ফ্রিজ করতে পারেন। বিশেষ করে যারা শিগগিরই নতুন ক্রেডিট নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন না, তাদের জন্য এটি পরিচয় চুরির বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হতে পারে। তবে ক্রেডিট ফ্রিজকে সম্পূর্ণ নিরাপত্তার নিশ্চয়তা হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। নিয়মিত ক্রেডিট রিপোর্ট ও ব্যাংক স্টেটমেন্ট দেখা, অপরিচিত লেনদেনের নোটিফিকেশন চালু রাখা, প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টে আলাদা ও শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা এবং সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বরসহ ব্যক্তিগত তথ্য অপ্রয়োজনীয়ভাবে শেয়ার না করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। আইডেন্টিটি চুরির মাধ্যমে একবার প্রতারণামূলক অ্যাকাউন্ট তৈরি হলে ব্যাংক, ঋণদাতা ও ক্রেডিট ব্যুরোর সঙ্গে যোগাযোগ করে সেগুলো সংশোধনের প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ হতে পারে। তাই যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশিদের জন্যও তিনটি ক্রেডিট ব্যুরোতে বিনামূল্যে ক্রেডিট ফ্রিজ করে রাখা এবং নিয়মিত নিজের ক্রেডিট রিপোর্ট পরীক্ষা করা ব্যক্তিগত আর্থিক নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন প্রতিবন্ধী ভাতাভোগী ও আবেদনকারীদের জন্য একগুচ্ছ নতুন অনলাইন সুবিধা চালু করেছে। এর মাধ্যমে আবেদনকারীরা এখন সহজেই নিজের আবেদনের অগ্রগতি জানতে, প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে এবং গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নোটিশ অনলাইনে গ্রহণ করতে পারবেন। এসএসএ কমিশনার ফ্র্যাঙ্ক জে. বিসিগনানো বলেছেন, ডিজিটাল সেবার সম্প্রসারণের মাধ্যমে আবেদনকারীরা আরও সহজে নিজেদের সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধা পরিচালনা করতে পারবেন এবং পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বাড়বে। নতুন সুবিধার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ডিসঅ্যাবিলিটি ক্লেইম স্ট্যাটাস ট্র্যাকার। এর মাধ্যমে যাদের প্রতিবন্ধী ভাতার আবেদন, আপিল বা শুনানির প্রক্রিয়া চলমান, তারা my Social Security অ্যাকাউন্টে লগইন করে মামলার সর্বশেষ অবস্থা, বিভিন্ন ধাপের অগ্রগতি এবং সম্ভাব্য সময়সীমা জানতে পারবেন। এ ছাড়া আবেদনকারীরা এখন অনলাইনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ফরম জমা দিতে পারবেন। এর মধ্যে রয়েছে সাম্প্রতিক চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্য, ব্যবহৃত ওষুধের বিবরণ এবং কর্মজীবনের তথ্যসংবলিত ফরম। এসএসএ আরও জানিয়েছে, প্রতিবন্ধী ভাতা–সংক্রান্ত বিভিন্ন নোটিশও এখন my Social Security Message Center-এ ডিজিটালভাবে পাওয়া যাবে। শুনানির তারিখ, শুনানি স্থগিতের নোটিশ, অতিরিক্ত তথ্য চাওয়া এবং নতুন প্রমাণ সংক্রান্ত মোট ২৬ ধরনের নোটিশ অনলাইনে দেখার সুযোগ থাকবে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় এক কোটি মানুষ সোশ্যাল সিকিউরিটির প্রতিবন্ধী ভাতা পান। দীর্ঘদিন ধরে আবেদন ও আপিল প্রক্রিয়া জটিল এবং সময়সাপেক্ষ হওয়ায় এই নতুন ডিজিটাল সেবাকে বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ সতর্ক করে বলেছেন, অনেক আবেদনকারী বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তিরা এখনো ডিজিটাল সেবা ব্যবহারে অভ্যস্ত নন। তাই অনলাইন সুবিধা চালুর পাশাপাশি কাগজে নোটিশ পাঠানোর প্রচলিত ব্যবস্থাও চালু থাকবে। এসএসএ জানিয়েছে, নতুন সেবাগুলো ইতোমধ্যে my Social Security পোর্টালে চালু হয়েছে। আবেদনকারীদের যত দ্রুত সম্ভব নিজেদের অনলাইন অ্যাকাউন্ট সক্রিয় করে ই-মেইল বা এসএমএস নোটিফিকেশন চালু করার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।
যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ‘সোশ্যাল সিকিউরিটি’ আগামী মাত্র ছয় বছরের মধ্যে বড় ধরনের তহবিল সংকটের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধি, বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি, কম অভিবাসন এবং কর কাঠামোর পরিবর্তনের কারণে এই খাতের ওপর তীব্র চাপ তৈরি হয়েছে। এর ফলে অবসরে যাওয়া এবং প্রতিবন্ধী নাগরিকদের মাসিক সুবিধায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে বড় ধরনের কাটছাঁটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে নীতিনির্ধারক ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব, যদি মার্কিন আইনপ্রণেতারা কিছু কঠিন অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে রাজি হন। সোশ্যাল সিকিউরিটি প্রশাসনের প্রধান অ্যাকচুয়ারি কারেন গ্লেন জানিয়েছেন, এটি মূলত একটি সাধারণ গাণিতিক সমস্যা হলেও এর রাজনৈতিক সমাধান বেশ জটিল। এই ঘাটতি পূরণ করতে হলে সরকারকে হয় করের হার বাড়াতে হবে, নয়তো নাগরিকদের সুযোগ-সুবিধা কমাতে হবে, অথবা দুইয়ের সংমিশ্রণ ঘটাতে হবে। সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি ভুল ধারণা রয়েছে যে, সোশ্যাল সিকিউরিটি দেউলিয়া হয়ে গেলে হয়তো সুবিধাভোগী প্রায় ৭ কোটি আমেরিকান আর কোনো অর্থই পাবেন না। কিন্তু অর্থনীতিবিদরা স্পষ্ট করেছেন যে, তহবিল শেষ হলেও মাসিক চেক দেওয়া পুরোপুরি বন্ধ হবে না, তবে বর্তমানে চলমান গড় মাসিক পেমেন্ট ২,০৭১ ডলার থেকে প্রায় ৫০০ ডলার পর্যন্ত কমে যেতে পারে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশেষজ্ঞরা মূলত কয়েকটি সম্ভাব্য সমাধানের কথা বলছেন। এর মধ্যে অন্যতম হলো সোশ্যাল সিকিউরিটি ট্যাক্স ক্যাপ বা করের সর্বোচ্চ সীমা বাতিল করা। বর্তমানে ২০২৬ সালে ১,৮৪,৫০০ ডলারের বেশি আয়ের ওপর কোনো পে-রোল কর দিতে হয় না। এই সীমা তুলে দিলে বা উচ্চ আয়ের মানুষের ওপর কর পুনর্বহাল করলে তহবিলের ঘাটতি অনেকটাই দূর করা সম্ভব। এছাড়া পে-রোল ট্যাক্সের বর্তমান হার ৬.২ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে কর্মী ও নিয়োগকর্তা উভয়ের জন্যই ৮.৫ শতাংশ করার প্রস্তাবও রয়েছে, যা এই সংকট সম্পূর্ণ দূর করতে পারে। অন্যান্য বিকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে পূর্ণ অবসরের বয়সসীমা ৬৭ থেকে বাড়িয়ে ৬৯ বছর করা, যার ফলে নাগরিকদের আয়ু বৃদ্ধির সাথে সামঞ্জস্য রাখা সম্ভব হলেও বার্ষিক সুবিধা গড়ে ১৩ শতাংশ পর্যন্ত কমে আসবে। পাশাপাশি উচ্চ আয়ের চাকরিজীবীদের জন্য সোশ্যাল সিকিউরিটির সুবিধা কমিয়ে দেওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছেন কিছু রিপাবলিকান নীতিনির্ধারক। অন্যদিকে, দেশের শীর্ষ ধনীদের বিনিয়োগ খাত, যেমন ক্যাপিটাল গেইন্স বা লভ্যাংশের ওপর নতুন করে কর আরোপের দাবি তুলেছেন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স। সম্প্রতি স্পেসএক্স-এর আইপিও-র মাধ্যমে ইলন মাস্ক বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হওয়ার ঘটনার পর এই আলোচনা আরও গতি পেয়েছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, ধনকুবেরদের বিনিয়োগের ওপর ১২.৪ শতাংশ কর আরোপ করা গেলে সোশ্যাল সিকিউরিটির এই দীর্ঘমেয়াদি সংকট পুরোপুরি সমাধান করা সম্ভব। তবে শেষ পর্যন্ত কোন গোষ্ঠী এই সংস্কারের খরচ বহন করবে, তা নিয়ে মার্কিন রাজনীতিতে বিতর্ক এখনও তুঙ্গে।
যুক্তরাষ্ট্রের সোশ্যাল সিকিউরিটি ট্রাস্ট ফান্ড ২০৩২ সালের মধ্যে শেষ হয়ে যেতে পারে—এমন পূর্বাভাস সামনে আসার পর নতুন এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, তহবিল সংকট বাস্তবায়িত হলে নিউইয়র্কসহ সারা দেশের অবসরপ্রাপ্তরা গড়ে মাসে প্রায় ৫০০ ডলার পর্যন্ত সুবিধা হারাতে পারেন। কমিটি ফর আ রেসপনসিবল ফেডারেল বাজেটের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, কংগ্রেস কোনো বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে তহবিল শেষ হওয়ার পর সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বর্তমান আয়ের ভিত্তিতে কমিয়ে দেওয়া হবে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত প্রায় ১৬ বছর ধরে এই কর্মসূচি আয়করের তুলনায় বেশি অর্থ ব্যয় করছে। ফলে ঘাটতি পূরণে ট্রাস্ট ফান্ডের সঞ্চিত অর্থ ব্যবহার করা হচ্ছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে ২০৩২ সালের দিকে তহবিল পুরোপুরি শেষ হয়ে যেতে পারে। সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, তহবিল শেষ হলে মোট সুবিধা প্রায় ২৪ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। এতে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অবসরপ্রাপ্তদের গড় মাসিক আয় প্রায় ৫০০ ডলার পর্যন্ত হ্রাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৭ কোটি মানুষ সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধার ওপর নির্ভরশীল, যার মধ্যে অবসরপ্রাপ্ত, জীবিত স্বামী বা স্ত্রী এবং নির্ভরশীলরাও অন্তর্ভুক্ত। এই কাটছাঁট কার্যকর হলে সব অঙ্গরাজ্যই প্রভাবিত হবে। নিউইয়র্কে প্রায় ৩৩ লাখের বেশি মানুষ সোশ্যাল সিকিউরিটির ওপর নির্ভরশীল। বিশ্লেষণ অনুযায়ী, রাজ্যের একজন গড় অবসরপ্রাপ্ত মাসে প্রায় ৫১১ ডলার পর্যন্ত হারাতে পারেন। এতে রাজ্যের অর্থনীতিতেও উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়তে পারে। বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যের মধ্যে ২৯টিতে গড়ে মাসিক কাটছাঁট ৫০০ ডলারের বেশি হতে পারে। কানেকটিকাট, নিউ জার্সি, নিউ হ্যাম্পশায়ার ও ডেলাওয়ারে এর প্রভাব তুলনামূলকভাবে বেশি হতে পারে। অর্থনীতিবিদদের মতে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় এখনই রাজনৈতিক সমাধান জরুরি। তা না হলে ভবিষ্যতে কোটি কোটি অবসরপ্রাপ্ত নাগরিকের আয় কমে গিয়ে জীবনযাত্রার ব্যয় সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।