সংসদ

চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম।
সংসদের শব্দযন্ত্রে গোলযোগ কি স্যাবোটাজ? তদন্তে নামছে বিশেষজ্ঞরা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই সাউন্ড সিস্টেমে সৃষ্ট নজিরবিহীন গোলযোগের নেপথ্যে কোনো ‘ইচ্ছাকৃত অন্তর্ঘাত’ বা স্যাবোটাজ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। শনিবার সংসদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম। তদন্তের গুরুত্ব বিবেচনা করে এই প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) বিশেষজ্ঞদের কারিগরি পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে। চিফ হুইপ জানান, আগামী ৩রা এপ্রিলের মধ্যে কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, "আমাদের ধারণা এখানে একটি স্যাবোটাজ হয়ে থাকতে পারে। তাই দুটি বিষয়কে আমরা অগ্রাধিকার দিচ্ছি—প্রথমত এটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কি না, আর দ্বিতীয়ত কারিগরি ত্রুটি থাকলে তার স্থায়ী সমাধান কী?" উল্লেখ্য, গত ১২ই মার্চ সংসদের প্রথম অধিবেশনের শুরুতেই শব্দযন্ত্রের চরম বিভ্রাটে বিঘ্নিত হয় কার্যক্রম, যার ফলে বেশ কিছুক্ষণ অধিবেশন স্থগিত রাখতে হয়েছিল। পরবর্তী কার্যদিবসেও একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি ঘটলে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। সাউন্ড সিস্টেমের পাশাপাশি সংসদ সদস্যদের আবাসন নিয়েও কথা বলেন চিফ হুইপ। যানজট এড়ানো এবং সংসদীয় কাজে গতিশীলতা আনতেই সকল সংসদ সদস্যকে সংসদ ভবনের কাছাকাছি আবাসন সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে তিনি জানান।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৮, ২০২৬ 0
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। মঙ্গলবার বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। ছবি: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সৌজন্যে
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি: বাস্তবায়নের আগে সংসদে আলোচনা হবে—পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত বাণিজ্যচুক্তি বাস্তবায়নের আগে তা জাতীয় সংসদে এবং সংসদের বাইরে আলোচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী Shama Obaed Islam। প্রয়োজনে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও পুনরায় আলোচনা হতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মঙ্গলবার বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের একাধিক বাণিজ্য ও অন্যান্য চুক্তি রয়েছে, যা দেশের অর্থনীতি ও জনগণের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে বেসরকারি খাত এসব চুক্তির প্রভাবে বেশি প্রভাবিত হয়। তাই প্রতিটি চুক্তি বাস্তবায়নের আগে দেশের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে যথাযথ আলোচনা করা হবে।   গত বছরের এপ্রিলে Donald Trump প্রশাসন বাংলাদেশের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেয়। পরবর্তীতে আলোচনার মাধ্যমে তা কমিয়ে ২০ শতাংশে আনা হয়। আগে থেকেই বিদ্যমান ১৫ শতাংশ শুল্ক যুক্ত হওয়ায় মোট শুল্কহার দাঁড়ায় ৩৫ শতাংশ। পরে দীর্ঘ প্রায় ৯ মাস আলোচনার পর দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক শুল্ক বিষয়ে একটি চুক্তি হয়, যার ফলে শুল্কহার সামান্য কমে ১৯ শতাংশ নির্ধারিত হয়।   তবে অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার মাত্র তিন দিন আগে এই চুক্তি সম্পাদিত হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা রয়েছে। চুক্তি নিয়ে আলোচনায় বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা Khalilur Rahman। এদিকে চুক্তি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও বিতর্ক দেখা দিয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেন, চুক্তির আগে বিএনপি ও জামায়াতের সম্মতি ছিল। তবে জামায়াতে ইসলামীর আমির Shafiqur Rahman এ দাবি নাকচ করে জানিয়েছেন, তাদের সঙ্গে এ বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।   অন্যদিকে, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে ইরানে অবস্থানরত প্রায় দুই হাজার বাংলাদেশি নাগরিক নিরাপদে রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিক্ষার্থী রয়েছে। পরিস্থিতি অবনতি হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনা হবে। এ ছাড়া জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী Sheikh Hasina-এর প্রত্যর্পণ ইস্যুতে ভারতের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলেও জানান তিনি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ফেরত আনার বিষয়েও কনস্যুলার পর্যায়ে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে এবং এ বিষয়ে অগ্রগতি আশা করছে সরকার।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৫, ২০২৬ 0
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
১৩৩ অধ্যাদেশের বিষয়ে সংসদীয় কমিটি: ‘জুলাই যোদ্ধাদের’ জন্য আসছে দায়মুক্তি অধ্যাদেশ

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শাসনামলে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে পর্যালোচনার ঘোষণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) জাতীয় সংসদে বিশেষ কমিটির বৈঠকের আগে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এই পর্যালোচনা প্রক্রিয়ায় বিশেষ গুরুত্ব পাবে জুলাই অভ্যুত্থানের বিপ্লবীদের আইনি সুরক্ষা। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, "জুলাই যোদ্ধাদের ইনডেমনিটি (দায়মুক্তি) দেওয়া হয়েছে, সেটি আমরা গ্রহণ করব।" এছাড়া বিগত সরকারের আমলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের যে নামকরণ করা হয়েছিল, সেগুলো পরিবর্তনের বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এর আগে গত ১৫ মার্চ স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে এই বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান সংসদে যে ১৩৩টি অধ্যাদেশ উত্থাপন করেছিলেন, ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে সেগুলোর উপযোগিতা যাচাই করে কোনটি বহাল থাকবে আর কোনটি বাতিল হবে, তা নির্ধারণ করবে এই কমিটি। এদিকে জামায়াতে ইসলামীর সিনিয়র নায়েব আমির মুজিবুর রহমান এ বিষয়ে তাঁর দলের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। তিনি জানান, সংবিধান ও জন-আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থি কোনো অধ্যাদেশের পক্ষে তাঁর দল সুপারিশ করবে না। সংসদের এই বিশেষ কমিটিকে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত প্রভাবশালী ও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৪, ২০২৬ 0
সংসদে লিখিত বক্তব্য নিয়ে দ্বৈত আচরণ? স্পিকারের মন্তব্যে শুরু নতুন বিতর্ক

জাতীয় সংসদে লিখিত বক্তব্য পাঠ করা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য, প্রয়াত নেতা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর পুত্র মাসুদ উদ্দিন সাঈদী সংসদে লিখিত বক্তব্য পাঠ করলে স্পিকার তাকে দেখে না পড়ে বক্তব্য দেওয়ার পরামর্শ দেন। একই ধরনের মন্তব্য করা হয় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের এক সংসদ সদস্যের ক্ষেত্রেও।   স্পিকার বলেন, সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় কাগজ দেখে পড়ার পরিবর্তে হাউজের দিকে তাকিয়ে কথা বলা উচিত। তবে এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রশ্ন উঠেছে—সংসদে কি লিখিত বক্তব্য পড়া নিষিদ্ধ, নাকি তা সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য নয়।   সমালোচকরা বলছেন, অতীতে বহু গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য লিখিতভাবেই সংসদে উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীসহ বিভিন্ন শীর্ষ নেতার বক্তব্য লিখিত ছিল, এমনকি রাষ্ট্রপতির ভাষণও লিখিত আকারেই সংসদে পাঠ করা হয়েছে। ফলে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলনের সংসদ সদস্যদের ক্ষেত্রে আলাদা করে মন্তব্য করার কারণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।   রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গুরুত্বপূর্ণ বা সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার সময় অনেক সংসদ সদস্য লিখিত বক্তব্য ব্যবহার করে থাকেন, যাতে ভুল না হয় এবং বক্তব্য সঠিকভাবে উপস্থাপন করা যায়। তাই লিখিত বক্তব্য পড়াকে কেন্দ্র করে আপত্তি তোলায় সংসদের ভেতরে ও বাইরে আলোচনা শুরু হয়েছে।   এদিকে সরকারি দলের একটি শোক প্রস্তাব উত্থাপনের সময় কয়েকজন প্রয়াত নেতার নাম উচ্চারণে জটিলতা তৈরি হওয়ায় বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে। এতে সংসদে বক্তব্য দেওয়ার নিয়ম ও শালীনতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৬, ২০২৬ 0
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
বিরোধী দলের ওয়াক আউট নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কড়া জবাব

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই রাষ্ট্রপতির ভাষণকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক অঙ্গন। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে বিরোধী দলীয় সদস্যদের সংসদ কক্ষ ত্যাগের (ওয়াকআউট) ঘটনায় মুখ খুলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বিরোধী দলের এই অবস্থানের কড়া সমালোচনা করে তাদের রাজনৈতিক ‘স্ববিরোধিতা’ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। বৃহস্পতিবার বিকেলে সংসদ অধিবেশন মুলতবি হওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংসদীয় গণতন্ত্রে ওয়াকআউট একটি স্বাভাবিক সংস্কৃতি হলেও বর্তমান প্রেক্ষাপটে এটি যুক্তিহীন। তিনি মনে করিয়ে দেন যে, বর্তমান রাষ্ট্রপতির সঙ্গেই ৫ ও ৬ আগস্ট বিরোধী দলগুলো দফায় দফায় আলোচনা করেছে এবং তার কাছেই অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা শপথ নিয়েছেন। সালাহউদ্দিন আহমদ প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেন, "যে রাষ্ট্রপতির অধীনে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হলো এবং যাদের দলের সদস্যরা এই সংসদেই শপথ নিলেন, আজ হঠাৎ তাকে কেন অস্বীকার করা হচ্ছে? এই স্ববিরোধিতার জবাব তাদেরই দিতে হবে।" তিনি আরও আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, সংসদ হবে জাতীয় সমস্যার সমাধানের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু। ফ্যাসিবাদবিরোধী জাতীয় ঐক্য বজায় রেখে সরকার সামনের দিকে এগিয়ে যাবে বলেও তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। উল্লেখ্য, এর আগে স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ যখন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে ভাষণ দেওয়ার আহ্বান জানান, তখন বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে সদস্যরা ‘জুলাই নিয়ে গাদ্দারি চলবে না’ স্লোগান দিয়ে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেন। বিরোধী দলের দাবি, জুলাই হত্যাকাণ্ডের সময় রাষ্ট্রপতির ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ ছিল।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১২, ২০২৬ 0
জামায়াতে ইসলামীর আমির ড. শফিকুর রহমান
সংসদে প্রথমবার বক্তব্য রাখলেন আমিরে জামায়াত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হলো দেশ। প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য হিসেবে বক্তব্য রাখলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ড. শফিকুর রহমান। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) তার এই ভাষণ দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বক্তব্যের শুরুতেই ড. শফিকুর রহমান সংসদকে দেশের সর্বোচ্চ গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, জনগণের কাছে দায়বদ্ধতা প্রদর্শনের জন্য সংসদই শ্রেষ্ঠ জায়গা। তার বক্তব্যে উঠে আসে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নাগরিকদের মৌলিক অধিকার এবং একটি স্বচ্ছ নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করার গুরুত্ব। ড. শফিকুর রহমান আরও উল্লেখ করেন, তাদের মূল উদ্দেশ্য হলো দেশের সুষম উন্নয়ন এবং জনগণের কল্যাণ। সংসদীয় কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে তারা গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে চান এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক সরকার প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াতের শীর্ষ নেতার এই সংসদীয় উপস্থিতি এবং গঠনমূলক বক্তব্য দেশের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এটি বিরোধী দলগুলোর মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি এবং সংসদীয় গণতন্ত্রের চর্চায় নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলে তারা মনে করছেন।  

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১২, ২০২৬ 0
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার নির্বাচিত হয়েছেন ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম)।
স্পিকার নির্বাচন কীভাবে হয়? পদাধিকার ও সাংবিধানিক বিধিনিষেধ

বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার এবং নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হয়েছেন।  বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সংসদের প্রথম অধিবেশনে সর্বসম্মতিক্রমে তারা এই গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদে অভিষিক্ত হন। সংবিধানের ৭৪(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সাধারণ নির্বাচনের পর সংসদের প্রথম বৈঠকেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা বাধ্যতামূলক। প্রবীণ সংসদ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে একক প্রার্থী হিসেবে তারা নির্বাচিত হন। উল্লেখ্য যে, সংসদ ভেঙে গেলেও নতুন স্পিকার কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত বিদায়ী স্পিকার পদে বহাল থাকেন, যা এই পদের অনন্য সাংবিধানিক বৈশিষ্ট্য। স্পিকার কি এমপি বা মন্ত্রী থাকতে পারেন? এই প্রশ্নটি জনমনে প্রায়ই দেখা দেয়। সংবিধান অনুযায়ী এর ব্যাখ্যা অত্যন্ত স্পষ্ট: সাংসদ পদ: স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার হতে হলে তাকে অবশ্যই আগে একজন সংসদ সদস্য হতে হবে। অর্থাৎ, তারা একই সাথে স্পিকার এবং এমপি। মন্ত্রী পদ: সংবিধানের ১৪৭(৩) ও ৭৪(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার কোনো 'লাভজনক পদ' বা নির্বাহী বিভাগের (মন্ত্রিত্ব) দায়িত্ব পালন করতে পারেন না। তাৎক্ষণিক প্রভাব: মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমদ এতদিন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী এবং ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ভূমি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার হিসেবে শপথ নেওয়ার সাথে সাথেই তাদের মন্ত্রী পদটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে শূন্য হয়ে গেছে। সংসদের অভিভাবক হিসেবে স্পিকারের হাতে রয়েছে অপরিসীম ক্ষমতা। তিনি সভার শৃঙ্খলা রক্ষা করেন এবং বিতর্ক পরিচালনা করেন। সাধারণ অবস্থায় তিনি ভোট দেন না, তবে কোনো বিষয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের ভোট সমান হয়ে গেলে তিনি জয়-পরাজয় নির্ধারণী ‘কাস্টিং ভোট’ প্রদান করেন। যদিও তারা দলীয় মনোনয়নে নির্বাচিত হন, তবে চেয়ারে বসার পর তারা দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে দায়বদ্ধ। মেজর হাফিজের বর্ণাঢ্য কর্মজীবন নবনির্বাচিত স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং ‘বীর বিক্রম’ খেতাবধারী। রাজনীতিতে আসার আগে তিনি পাকিস্তান ফুটবল দলের অধিনায়ক এবং টানা তিনবার পূর্ব পাকিস্তানের দ্রুততম মানব ছিলেন। তার দীর্ঘ সংসদীয় অভিজ্ঞতা এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে রাজনৈতিক প্রজ্ঞা সংসদ পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১২, ২০২৬ 0
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার নির্বাচিত হয়েছেন ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম)।
স্পিকার নির্বাচন কীভাবে হয়? পদাধিকার ও সাংবিধানিক বিধিনিষেধ

বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার এবং নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হয়েছেন।  বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সংসদের প্রথম অধিবেশনে সর্বসম্মতিক্রমে তারা এই গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদে অভিষিক্ত হন। সংবিধানের ৭৪(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সাধারণ নির্বাচনের পর সংসদের প্রথম বৈঠকেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা বাধ্যতামূলক। প্রবীণ সংসদ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে একক প্রার্থী হিসেবে তারা নির্বাচিত হন। উল্লেখ্য যে, সংসদ ভেঙে গেলেও নতুন স্পিকার কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত বিদায়ী স্পিকার পদে বহাল থাকেন, যা এই পদের অনন্য সাংবিধানিক বৈশিষ্ট্য। স্পিকার কি এমপি বা মন্ত্রী থাকতে পারেন? এই প্রশ্নটি জনমনে প্রায়ই দেখা দেয়। সংবিধান অনুযায়ী এর ব্যাখ্যা অত্যন্ত স্পষ্ট: সাংসদ পদ: স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার হতে হলে তাকে অবশ্যই আগে একজন সংসদ সদস্য হতে হবে। অর্থাৎ, তারা একই সাথে স্পিকার এবং এমপি। মন্ত্রী পদ: সংবিধানের ১৪৭(৩) ও ৭৪(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার কোনো 'লাভজনক পদ' বা নির্বাহী বিভাগের (মন্ত্রিত্ব) দায়িত্ব পালন করতে পারেন না। তাৎক্ষণিক প্রভাব: মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমদ এতদিন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী এবং ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ভূমি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার হিসেবে শপথ নেওয়ার সাথে সাথেই তাদের মন্ত্রী পদটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে শূন্য হয়ে গেছে।   সংসদের অভিভাবক হিসেবে স্পিকারের হাতে রয়েছে অপরিসীম ক্ষমতা। তিনি সভার শৃঙ্খলা রক্ষা করেন এবং বিতর্ক পরিচালনা করেন। সাধারণ অবস্থায় তিনি ভোট দেন না, তবে কোনো বিষয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের ভোট সমান হয়ে গেলে তিনি জয়-পরাজয় নির্ধারণী ‘কাস্টিং ভোট’ প্রদান করেন। যদিও তারা দলীয় মনোনয়নে নির্বাচিত হন, তবে চেয়ারে বসার পর তারা দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে দায়বদ্ধ। মেজর হাফিজের বর্ণাঢ্য কর্মজীবন নবনির্বাচিত স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং ‘বীর বিক্রম’ খেতাবধারী। রাজনীতিতে আসার আগে তিনি পাকিস্তান ফুটবল দলের অধিনায়ক এবং টানা তিনবার পূর্ব পাকিস্তানের দ্রুততম মানব ছিলেন। তার দীর্ঘ সংসদীয় অভিজ্ঞতা এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে রাজনৈতিক প্রজ্ঞা সংসদ পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১২, ২০২৬ 0
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি: সংগৃহীত
সংসদের নেতিবাচক সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে চায় বিএনপি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন

সংসদের অতীতের নেতিবাচক সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে একটি কার্যকর ও শক্তিশালী সংসদ গড়ে তুলতে চায় বিএনপি- এমন মন্তব্য করেছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।   শনিবার (৭ মার্চ) রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে সংসদ সদস্যদের প্রশিক্ষণ কর্মশালার শেষ দিনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।   স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, কর্মশালায় সংবিধান, সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি, সংসদের রীতি-নীতি ও প্রচলিত প্রথা নিয়ে সংসদ সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শক্তিশালী গণতন্ত্র চর্চাকারী সংসদগুলোর কার্যক্রম নিয়েও আলোচনা করা হয়েছে।   তিনি বলেন, ভবিষ্যতের সংসদ অধিবেশন দেখে দেশবাসী আশ্বস্ত হবে বলে তারা আশা করছেন। অতীতে সংসদে যে নেতিবাচক ধারা তৈরি হয়েছিল, তা জনগণের মন থেকে মুছে দিতে চায় বিএনপি।   নতুন সংসদ সদস্যদের বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, যারা প্রথমবার নির্বাচিত হয়েছেন তারা নতুন করে সংসদীয় কার্যক্রম শিখবেন। তাদের মধ্যে যদি কোনো খারাপ সংস্কৃতি না থাকে, তাহলে তারা ভালো শিক্ষা গ্রহণ করতে পারবেন।   তিনি আরও বলেন, “একটি শিশু যেমন জন্মের পর নতুন পরিবেশে ভালো সংস্কৃতি শিখে বড় হয়, ঠিক তেমনি নবীন সংসদ সদস্যদেরও আমরা সেইভাবে প্রস্তুত করার চেষ্টা করছি।”   জনপ্রত্যাশা পূরণে সংসদ সদস্যদের দক্ষ করে তুলতেই এ ধরনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।   বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রথমবার নির্বাচিত দলটির সংসদ সদস্যদের জন্য সংসদীয় কার্যক্রম, বিধি-বিধান ও সংসদীয় আচরণ বিষয়ে দুই দিনের প্রশিক্ষণ কর্মশালা আয়োজন করা হয়েছে।   কর্মশালার সকালের সেশনে ঢাকা জেলা, ময়মনসিংহ, ঢাকা বিভাগ ও ফরিদপুর জেলার সংসদ সদস্যরা অংশ নেন। বিকেলের সেশনে সিলেট, কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের সংসদ সদস্যদের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।   বিএনপি জানিয়েছে, আগামী ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনকে সামনে রেখে নবনির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও মন্ত্রীদের প্রস্তুত করতেই এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে।   এ কর্মশালায় অভিজ্ঞ সাবেক আমলা, একাডেমিশিয়ান ও সাবেক সংসদ সদস্যরা অংশ নিয়ে সংসদ সদস্যদের দায়িত্ব, সংসদীয় রেওয়াজ এবং মন্ত্রণালয় পরিচালনায় করণীয় বিষয়ে দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ৭, ২০২৬ 0
টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও টাঙ্গাইল-৮ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জোয়াহেরুল ইসলাম
কলকাতায় সাবেক সংসদ সদস্য জোয়াহেরুল ইসলামের মৃত্যু

টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও টাঙ্গাইল-৮ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জোয়াহেরুল ইসলাম আর নেই। শুক্রবার দিবাগত রাতে ভারতের কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭০ বছর বয়সে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।  দীর্ঘদিন ধরে নানা শারীরিক জটিলতায় ভোগার পর মাল্টি অর্গান ফেলিওর ও হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় এই পলাতক রাজনীতিকের। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, অসুস্থতা বৃদ্ধির কারণে সপ্তাহখানেক আগে তাকে কলকাতার ফিনিক্স মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়েছিল। মৃত্যুকালে তার পাশে স্ত্রী ও বিদেশ থেকে আসা কন্যা উপস্থিত ছিলেন। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি পালিয়ে ভারতে চলে যান এবং কলকাতার নিউটাউনে অবস্থান করছিলেন। বর্তমানে মরদেহের অনাপত্তিপত্র (এনওসি) পাওয়ার জন্য বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করছে তার পরিবার। বর্তমানে মরদেহ সংরক্ষণের জন্য কলকাতার পিস হেভেনে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। পেশায় আইনজীবী জোয়াহেরুল ইসলাম ২০১৭ সালে টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান। ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখিপুর) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬ 0
জাতীয় সংসদ ভবন। ফাইল ছবি
ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন ১২ মার্চ — সভাপতিত্ব কে করবেন

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ–এর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসছে আগামী ১২ মার্চ। নতুন সংসদের এই অধিবেশনের শুরুতেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তবে পরিবর্তিত রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিস্থিতিতে অধিবেশনের শুরুতে কে সভাপতিত্ব করবেন, তা নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।   নির্বাচন–পরবর্তী নিয়ম অনুযায়ী সাধারণত বিদায়ী স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারের সভাপতিত্বে সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয় এবং প্রথমেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন সম্পন্ন করা হয়। কিন্তু এবার বিদায়ী স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতি নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।   গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী সংসদ সদস্যদের গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। এরপর নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ান এ এম এম নাসির উদ্দীন।   এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্বের বিষয়টি এখনো আলোচনা হয়নি। আগামী কার্যক্রম সংবিধান ও সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী পরিচালিত হবে।   সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী, কোনো সদস্য অধিবেশনের অন্তত এক ঘণ্টা আগে অন্য কোনো সদস্যকে স্পিকার পদে নির্বাচনের জন্য সংসদ সচিবের কাছে লিখিত প্রস্তাব দিতে পারেন। প্রস্তাবটি তৃতীয় কোনো সদস্যের সমর্থনসহ জমা দিতে হয়। প্রস্তাবিত ব্যক্তি স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব নিতে সম্মত—এমন ঘোষণাও সংযুক্ত থাকতে হবে।   তবে কেউ নিজের নাম প্রস্তাব বা সমর্থন করতে পারবেন না এবং নিজের নির্বাচনের সময় সভাপতিত্বও করতে পারবেন না।   দ্বাদশ সংসদের স্পিকার ছিলেন শিরীন শারমিন চৌধুরী। রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তিনি ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে পদত্যাগ করেন এবং এরপর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। বিদায়ী ডেপুটি স্পিকার বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন বলে জানা গেছে।   সংবিধানের ৭৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদের প্রথম বৈঠকে সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করতে হবে। কোনো পদ শূন্য হলে সাত দিনের মধ্যে অথবা সংসদ বৈঠকরত না থাকলে পরবর্তী প্রথম বৈঠকে তা পূরণ করতে হবে।   সংসদ গবেষক ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক নিজাম উদ্দিন আহমদ বলেন, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতির মনোনীত (প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে) কোনো ব্যক্তি স্পিকার নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করতে পারেন।   সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার কিংবা সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যদের অনুপস্থিতিতে সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে প্রস্তাবের মাধ্যমে একজনকে সভাপতিত্বের জন্য নির্বাচিত করা যেতে পারে।   এবারের অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি কারো নাম মনোনীত করবেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সংবিধান ও সংসদের বিধি অনুসরণ করেই প্রথম অধিবেশন পরিচালনা করা হবে।   ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন ঘিরে রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। ১২ মার্চের অধিবেশনের দিকে এখন নজর রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৬ 0
ডা. শফিকুর রহমান ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের ও নাহিদ ইসলাম
সংসদে বিরোধীদলের নেতৃত্বে জামায়াত: কে পাচ্ছেন কোন পদ?

সংসদে বিরোধী শক্তির নেতৃত্বে বড় পরিবর্তন এল। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এখন সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা। আজ মঙ্গলবার এক আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাধ্যমে বিরোধীদলের এই নতুন কাঠামোর কথা জানানো হয়েছে।   একনজরে নতুন দায়িত্বশীলরা: বিরোধীদলীয় নেতা: ডা. শফিকুর রহমান (আমির, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী)।   বিরোধীদলীয় উপনেতা: ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের (নায়েবে আমির, জামায়াত)।   বিরোধীদলীয় হুইপ: নাহিদ ইসলাম (আহ্বায়ক, জাতীয় নাগরিক পার্টি - এনসিপি)।   আজ দুপুর ১২টার পর প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে শপথ গ্রহণ করেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা। যদিও বিএনপি সংস্কার পরিষদের শপথ না নেওয়া নিয়ে আগে কিছুটা সংশয় তৈরি হয়েছিল, তবে জরুরি বৈঠকের পর দেশের স্বার্থে শপথ ও সংসদীয় দায়িত্ব পালনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় জামায়াত জোট।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬ 0
বঙ্গভবন নয়, কেন সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন মন্ত্রিসভার শপথ
বঙ্গভবন নয়, কেন সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন মন্ত্রিসভার শপথ?

ঐতিহ্য ভেঙে এবার এক নতুন ইতিহাসের সাক্ষী হতে যাচ্ছে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা। মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় এখানেই অনুষ্ঠিত হবে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান।   গতানুগতিক বঙ্গভবনের চার দেয়াল পেরিয়ে কেন এই ঐতিহাসিক স্থানকে বেছে নেওয়া হলো, তা নিয়ে মুখ খুলেছেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল।   কেন এই স্থানটি এতো তাৎপর্যপূর্ণ? ঐতিহাসিক গুরুত্ব: জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান এবং ‘জুলাই ঘোষণা’ ও ‘জুলাই সনদের’ মতো বিপ্লবের স্মৃতি জড়িয়ে আছে এই প্রাঙ্গণে।   আবেগের জায়গা: স্থানটি রাজনৈতিকভাবেও অত্যন্ত সংবেদনশীল। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জানাজা থেকে শুরু করে বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত এই দক্ষিণ প্লাজা।   রাজনৈতিক সদিচ্ছা: আইন উপদেষ্টা জানিয়েছেন, বিএনপি নিজেই এই স্থানে শপথ অনুষ্ঠানের বিষয়ে তাদের অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছিল। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জনআকাঙ্ক্ষাকে গুরুত্ব দিতেই এই সিদ্ধান্ত।   এক নজরে শপথের সময়সূচী: সকাল ১০:০০টা: নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ। সিইসি এই শপথ পরিচালনা করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।   সকাল ১১:৩০টা: বিএনপির সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচন।   বিকেল ৪:০০টা: নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পাঠ করাবেন রাষ্ট্রপতি।   রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসস সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তুতির কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে এক নতুন বাংলাদেশের যাত্রার সাক্ষী হতে যাচ্ছে সংসদ ভবনের এই আঙিনা।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬ 0
আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল
মঙ্গলবার সকালে এমপি ও বিকেলে মন্ত্রীদের শপথ

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে যুক্ত হতে যাচ্ছে নতুন একটি অধ্যায়। এদিন সকাল ১০টায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণ করবেন।    এরপরই বিকেল ৪টায় একই স্থানে অনুষ্ঠিত হবে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান। আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল আজ রোববার সাংবাদিকদের এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।    জানা গেছে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করাবেন।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬ 0
নতুন সরকার গঠন সোম বা মঙ্গলবার
নতুন সরকার গঠন সোম বা মঙ্গলবার

যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচিত সরকারের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করতে চায় অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। সে লক্ষ্যেই নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান দ্রুত সম্পন্ন করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। সরকারের সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নবনির্বাচিত এমপিদের শপথ পড়াতে পারেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি)।   সে ক্ষেত্রে আগামী সোমবার বা মঙ্গলবার শপথ অনুষ্ঠিত হতে পারে। একই দিনে নতুন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথের সম্ভাবনাও রয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের একাধিক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।   বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী, সাধারণত নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ান স্পিকার অথবা তাঁর মনোনীত ব্যক্তি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা সম্ভব না হলে পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে সিইসি শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করবেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সরাসরি সিইসিকে দিয়ে শপথ পড়ানোর বিষয়টিই গুরুত্ব পাচ্ছে।   সরকারি সূত্র বলছে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে পদত্যাগের পর প্রকাশ্যে আসেননি। অন্যদিকে, বিদায়ী ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু একটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন। এ অবস্থায় বিদায়ী স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারের মাধ্যমে শপথ আয়োজন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আপত্তি রয়েছে। ফলে বিকল্প হিসেবে সিইসির মাধ্যমে শপথ আয়োজনের প্রস্তুতি এগোচ্ছে।   গেজেট প্রকাশের পর সংবিধান অনুযায়ী তিন দিনের একটি সময়সীমা রয়েছে। সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার পর সিইসি শপথ পড়াতে পারেন। তবে রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে কোনো বিকল্প প্রস্তাব এলে সময়ের আগেও শপথ আয়োজনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না।   নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে ২৯৭টি আসনের বেসরকারি ফল ঘোষণা করেছে। উচ্চ আদালতের নির্দেশনার কারণে দুটি আসনের ফলাফল এখনো গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সব আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছ থেকে ফলাফল বিবরণী পাওয়ার পর দ্রুত গেজেট প্রকাশ করা হবে। শুক্রবার সন্ধ্যার মধ্যেই অধিকাংশ ফলাফল কমিশনের হাতে পৌঁছাতে শুরু করেছে।   নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফলে দেখা গেছে, বিএনপি ২০৯টি আসনে জয় পেয়েছে। ফল স্থগিত থাকা দুটি আসনেও তাদের প্রার্থীরা এগিয়ে আছেন। দলটির শরিকেরা পেয়েছে আরও তিনটি আসন। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসনে জয়ী হয়েছে এবং তাদের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের অন্য শরিকেরা পেয়েছে ৯টি আসন।   সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদে সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের বিধান উল্লেখ রয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, নির্বাচনের ফল সরকারি গেজেটে প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে নির্ধারিত ব্যক্তি শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করবেন। তা না হলে পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার শপথ পড়াবেন।   তবে আইন বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচন সংবিধানের ১২৩(৩) অনুচ্ছেদের আওতায় অনুষ্ঠিত হয়নি, যা শপথের প্রক্রিয়া নিয়ে কিছু আইনি প্রশ্ন তৈরি করেছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ–অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে এবং ৬ আগস্ট সংসদ ভেঙে দেওয়া হয়।   পরে পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। প্রথম প্রজ্ঞাপনে ১২৩ অনুচ্ছেদের উল্লেখ থাকলেও সংশোধিত প্রজ্ঞাপনে তা বাদ দেওয়া হয়।   সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় যেহেতু একটি সমঝোতার ভিত্তিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, তাই শপথের বিষয়টিও রাজনৈতিক ঐকমত্যের মাধ্যমেই চূড়ান্ত হতে পারে।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৬ 0
জাতীয় সংসদ
সংসদ ও স্পিকারহীন দেশ, কীভাবে হবে নতুন সরকারের শপথ?

নির্বাচন পরবর্তী সরকার গঠন নিয়ে জনমনে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—সংসদ নেই, স্পিকার নেই, তাহলে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ কে পড়াবেন? নির্বাচন কমিশনের বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী বিএনপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করার পর এখন সবার চোখ ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়ার দিকে।   শপথের সময়সীমা ও গেজেট: সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নির্বাচনের ফলাফল 'সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপিত' হওয়ার পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে শপথ গ্রহণ বাধ্যতামূলক। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিবের তথ্যমতে, এই প্রক্রিয়া আগামী ১৮ই ফেব্রুয়ারির বেশি দেরি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। সবকিছু ঠিক থাকলে ১৫ থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই শুরু হতে পারে নতুন সরকারের পথচলা।   স্পিকারের অনুপস্থিতিতে বিকল্প কী? সাধারণত স্পিকার শপথ পড়ান, কিন্তু বর্তমান বিশেষ পরিস্থিতিতে স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার কেউই নেই। এক্ষেত্রে সংবিধান দুটি পথ বাতলে দিয়েছে: ১. রাষ্ট্রপতির মনোনীত ব্যক্তি: রাষ্ট্রপতি চাইলে প্রধান বিচারপতি বা অন্য কোনো উপযুক্ত ব্যক্তিকে শপথ পড়ানোর দায়িত্ব দিতে পারেন। ২. প্রধান নির্বাচন কমিশনার (CEC): যদি রাষ্ট্রপতির মনোনীত ব্যক্তি নির্ধারিত তিন দিনের মধ্যে শপথ পাঠ করাতে ব্যর্থ হন, তবে পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিজেই শপথ পরিচালনা করবেন।   আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের মতে, সরকার দ্রুততম সময়ে ক্ষমতা হস্তান্তরের পক্ষে। সেক্ষেত্রে তিন দিন অপেক্ষা না করে রাষ্ট্রপতির মনোনীত কোনো ব্যক্তির মাধ্যমেই শপথের কাজ সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।   ক্ষমতা হস্তান্তরের চূড়ান্ত ধাপ: শপথ গ্রহণ শেষ হওয়ার পর শুরু হবে আসল প্রক্রিয়া। রাষ্ট্রপতি সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতাকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানাবেন। সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, যাকে সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থাভাজন মনে হবে, রাষ্ট্রপতি তাকেই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেবেন। প্রধানমন্ত্রী এবং মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ নেওয়ার মুহূর্ত থেকেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে দায়িত্ব ও ক্ষমতা লাভ করবেন, যার মাধ্যমে আগের সরকারের মেয়াদ আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২৬ 0
আজ যেসব যানবাহন চলবে
আজ যেসব যানবাহন চলবে

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কিছু যানবাহন চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি)।   এর অংশ হিসেবে আজ (১৩ ফেব্রুয়ারি) সারা দেশে মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে মোটরসাইকেল ছাড়া অন্যান্য যানবাহন সীমিত আকারে চলাচল করতে পারছে।   সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের আওতাধীন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)–এর সংস্থাপন শাখার উপসচিব আল-আমিন মো. নুরুল ইসলামের স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।   প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ায় ১১ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত (২৪ ঘণ্টা) ট্যাক্সি ক্যাব, পিকআপ, মাইক্রোবাস ও ট্রাক চলাচল বন্ধ ছিল।   এছাড়া ১০ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত (৭২ ঘণ্টা) মোটরসাইকেল চলাচলে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রয়েছে। নির্বাচনের দিনকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ইসির নির্দেশনায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   তবে অনুমোদন সাপেক্ষে সংবাদকর্মী, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং জরুরি সেবায় নিয়োজিত যানবাহনের ক্ষেত্রে এ নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা যাবে।   বিদেশগামী যাত্রী বা বন্দর থেকে আগত জরুরি পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে পারলে যাতায়াতের সুযোগ থাকবে। সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমানো এবং নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত করতেই আগাম এ ঘোষণা দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।   নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মোটরসাইকেল চালালে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। ভোটারদের যাতায়াতের সুবিধার্থে সীমিত পরিসরে গণপরিবহন ও রিকশা চলাচলের সুযোগ রাখা হলেও ইঞ্জিনচালিত দুই চাকার যান সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ রয়েছে। এই ৭২ ঘণ্টার বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নির্বাচনকে ঘিরে সারাদেশে নিরাপত্তা জোরদারের অংশ হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২৬ 0
ভোট শেষ, ফলের অপেক্ষা
ভোট শেষ, ফলের অপেক্ষা

প্রায় দেড় দশক পর জাতীয় নির্বাচনের আমেজে সরব ছিল সারা দেশ। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ভোট শেষ হয়েছে, এখন প্রার্থী ও ভোটাররা ফলাফলের অপেক্ষায়।   দেশের ইতিহাসে এবার প্রথমবারের মতো সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফলে দুটি ফলাফল একসঙ্গে ঘোষণা করা হবে। পছন্দের প্রার্থী জয়ী হয়েছেন কি না—তা জানতে অনেকেই ভোটকেন্দ্রে অবস্থান করছেন, আবার কেউ টেলিভিশন ও অনলাইন মাধ্যমে ফলাফল দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন।   দুটি ভোট একসঙ্গে হওয়ায় ব্যালট গণনায় কিছুটা সময় বেশি লাগতে পারে বলে আগেই জানিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। তবে সামগ্রিকভাবে রাজধানীসহ দেশের অধিকাংশ এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনার খবর পাওয়া গেলেও বড় ধরনের সহিংসতার ঘটনা ঘটেনি।   কয়েকটি আসনে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির প্রার্থীরা কারচুপি ও কেন্দ্র দখলের চেষ্টা সংক্রান্ত অভিযোগ এনে নির্বাচন কমিশনের কাছে লিখিত আবেদন দিয়েছেন এবং সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলোর ভোট স্থগিতের দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে বিভিন্ন স্থানে জাল ভোট, ব্যালট ছিনতাই বা অনিয়মের অভিযোগে কয়েকজনকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দণ্ড দেওয়া হয়েছে।   নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, বিকেল সাড়ে ৪টার মধ্যে যারা লাইনে দাঁড়িয়েছেন, তারা ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। তবে নির্ধারিত সময়ের পর নতুন করে কাউকে লাইনে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি বলে কেন্দ্র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।   রাজধানীর গুলশান, বনানী ও ধানমণ্ডিসহ বিভিন্ন এলাকায় নারী ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েও অনেককে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিতে দেখা গেছে।   নির্বাচন কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, সকাল ১১টার মধ্যেই অনেক কেন্দ্রে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ ভোট পড়েছে। ঢাকার একটি কেন্দ্রে দুপুরের আগেই মোট ভোটের প্রায় ২২ শতাংশ কাস্টিং সম্পন্ন হয়।   নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২৯৯টি সংসদীয় আসনে ব্যালটের মাধ্যমে ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। একটি আসনে প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে নির্বাচন স্থগিত রয়েছে। মোট ৫১টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল এ নির্বাচনে অংশ নেয়। ২ হাজার ৩৪ জন প্রার্থীর মধ্যে ২৭৫ জন স্বতন্ত্র হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিভিন্ন বড় দলের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রার্থী এ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন।   এবারের নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা প্রায় ১২ কোটি ৭৭ লাখের বেশি। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটির বেশি এবং নারী ভোটারও প্রায় সমানসংখ্যক।   নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী, বিজিবি, র‌্যাব, পুলিশ ও আনসার সদস্যসহ প্রায় ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করেছেন। দেশের ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রে প্রায় ৮ লাখ কর্মকর্তা নিয়োজিত ছিলেন। এছাড়া দেশি-বিদেশি মিলিয়ে প্রায় ৫৬ হাজার পর্যবেক্ষক নির্বাচন পর্যবেক্ষণে দায়িত্ব পালন করেছেন।   সব মিলিয়ে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচন ঘিরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন এখন চূড়ান্ত ফল ঘোষণার প্রতীক্ষায়।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৬ 0
৭৯ বছর বয়সে প্রথমবার বাংলাদেশের ভোটকেন্দ্রে মাসুদুল আলম
৭৯ বছর বয়সে প্রথমবার বাংলাদেশের ভোটকেন্দ্রে মাসুদুল আলম

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন ৭৯ বছর বয়সী প্রবীণ ভোটার মাসুদুল আলম চৌধুরী। দীর্ঘদিন কানাডায় বসবাস করায় আগে কখনো দেশে ভোট দেওয়া হয়নি তাঁর। তবে এবার দেশে অবস্থান করায় প্রথমবারের মতো নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন তিনি।   বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে সাতটায় চট্টগ্রাম নগরের জামালখান এলাকার ডা. খাস্তগীর সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেন মাসুদুল আলম চৌধুরী। তাঁর বাসাও একই এলাকায়। ভোট দিয়ে তিনি জানান, জীবনের এই পর্যায়ে এসে প্রথমবার বাংলাদেশের নির্বাচনে ভোট দিতে পেরে তিনি ভীষণ আনন্দিত। এত দিন বিদেশে থাকায় ভোটের সময় দেশে থাকা হয়নি, তাই সুযোগও পাননি।   তিনি আশা প্রকাশ করেন, দেশ যেন উন্নয়ন, শান্তি ও স্থিতিশীলতার পথে এগিয়ে যায়। নতুন সরকার জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করবে—এমন বিশ্বাসও ব্যক্ত করেন তিনি। পাশাপাশি ভোটকেন্দ্রের পরিবেশ নিয়ে সন্তুষ্টি জানান।   ডা. খাস্তগীর সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে নারী ও পুরুষ মিলিয়ে মোট ৪ হাজার ৮৬ জন ভোটার রয়েছেন। ভোটগ্রহণের শুরুর দিকে উপস্থিতি তুলনামূলক কম দেখা গেছে। এই কেন্দ্রে ৮টি ভোটকক্ষ থাকলেও সব প্রার্থীর পোলিং এজেন্ট উপস্থিত ছিলেন না। প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মুহিবউল্লাহ জানান, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামিক ফ্রন্টের প্রার্থীদের পোলিং এজেন্টরা কেন্দ্রে ছিলেন।   চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি–বাকলিয়া) আসনে মোট ১০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ আসনে ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ১৬ হাজার ৩৬৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ১৩ হাজার ৯০৬ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ২ হাজার ৪৪৮ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৯ জন। মোট ১২১টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৬ 0
রংপুর বিভাগে ২,৫৬১ ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ, কঠোর ৬ স্তরের নিরাপত্তা জোরদার
রংপুর বিভাগে ২,৫৬১ ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ, কঠোর ৬ স্তরের নিরাপত্তা জোরদার

গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে রংপুরে যেকোনো ধরনের সহিংসতা বা বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে ছয় স্তরের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ভোটকেন্দ্রগুলোতে গোয়েন্দা নজরদারির পাশাপাশি পুলিশ সদস্যদের ব্যবহারের জন্য চালু করা হচ্ছে বডিওর্ন ক্যামেরা, যা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সরাসরি পর্যবেক্ষণ করবেন।   রংপুর বিভাগের আটটি জেলার ৩৩টি সংসদীয় আসনে মোট ভোটার সংখ্যা এক কোটি ৩৪ লাখের বেশি। তাদের ভোটগ্রহণের জন্য চার হাজার ৫৪৬টি কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রশাসনের মূল্যায়নে দুই হাজার ৫৬১টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অতিঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের সংখ্যা ৮২৭টি।   বিশেষভাবে চরাঞ্চল, দুর্গম ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন এলাকা, পাশাপাশি প্রভাবশালী ব্যক্তি বা প্রার্থীর বাড়ির আশপাশে অবস্থিত কেন্দ্রগুলোতে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। অতীতের ভোটকেন্দ্র দখল, সংঘর্ষ, ভয়ভীতি ও অনিয়মের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় রেখে এসব কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা।   প্রশাসন সূত্র জানায়, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হচ্ছে। পাশাপাশি অতিরিক্ত সশস্ত্র পুলিশ, আনসার সদস্য, ভিজিলেন্স টিম এবং স্ট্রাইকিং ফোর্স মোতায়েন থাকবে।   রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দায়িত্ব পালন করা হবে। প্রতিটি এমন কেন্দ্রে অতিরিক্ত পুলিশ থাকবে এবং বডিওর্ন ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হবে।   এদিকে জেলা পুলিশ সুপার মারুফাত হুসাইন বলেন, জেলার আওতাধীন ৬৬৯টি ভোটকেন্দ্রে সরাসরি পুলিশ দায়িত্ব পালন করবে। কেন্দ্রের বাইরে ইউনিয়ন ও পৌরসভা এলাকায় মোবাইল টিম, সাব-সেক্টর ও সেক্টর ভিত্তিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যাতে ভোটার ও নির্বাচনী সরঞ্জাম নিরাপদ থাকে। ৩১৫টি কেন্দ্রে পুলিশ সদস্যরা বডিওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করবেন।   তিনি আরও জানান, পুলিশ ছাড়াও সেনাবাহিনী, বিজিবি, র‍্যাব ও আনসার বাহিনী একযোগে মাঠে কাজ করবে। রংপুর জেলায় মোট ৮৭৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ৬৬৯টি জেলা পুলিশের অধীনে রয়েছে এবং এসব কেন্দ্রে সিসিটিভি বসানো হয়েছে।   রংপুর জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে মোট ভোটকেন্দ্র ৮৭৩টি। এর মধ্যে ২১৬টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত। রংপুর সিটি এলাকায় রয়েছে ১২১টি এবং উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ৯৫টি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র। ভোটার সংখ্যা বেশি, পূর্বের সহিংসতা, অবকাঠামোগত দুর্বলতা ও ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনায় এসব কেন্দ্র চিহ্নিত করা হয়েছে।   রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল আহসান জানান, ছয়টি আসনে মোট ভোটার প্রায় ২৬ লাখ। এর মধ্যে নারী ভোটার ১৩ লাখের বেশি, পুরুষ ভোটার প্রায় ১২ লাখ ৯৩ হাজার এবং হিজড়া ভোটার রয়েছেন ৩১ জন। মোট ৪ হাজার ৯৮৮টি বুথে ভোটগ্রহণ হবে এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৪৪ জন প্রার্থী।   যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে সেনাবাহিনীর ৬৬ পদাতিক ডিভিশনের বিশেষ কমান্ডো ইউনিট। প্রয়োজনে দুর্গম এলাকায় হেলিকপ্টারের মাধ্যমে দ্রুত মোতায়েন করা হবে।   এছাড়া রংপুর, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও গাইবান্ধা জেলায় ৩ হাজার বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। ২৬টি ক্যাম্পের ৭৪টি প্লাটুন মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বিজিবির বিশেষ নজরদারি, চেকপোস্ট, ডগ স্কোয়াড ও টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।   পুলিশ, বিজিবি ও সেনাবাহিনীর পাশাপাশি র‍্যাব, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী সমন্বিতভাবে নির্বাচনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬ 0
পাবনা-৫ আসনে পোস্টাল ব্যালটে রাষ্ট্রপতির ভোট প্রদান
পাবনা-৫ আসনে পোস্টাল ব্যালটে রাষ্ট্রপতির ভোট প্রদান

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।   সোমবার রাষ্ট্রপতির সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) মোহাম্মদ সাগর হোসেন বাসসকে জানান, রোববার গভীর রাতে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি পোস্টাল ব্যালটে ভোট প্রদান করেন। তিনি পাবনা-৫ আসনের ভোটার হিসেবে নিজের ভোট দেন। ডাক বিভাগের একজন কর্মকর্তা ব্যালটটি রাষ্ট্রপতির কাছে পৌঁছে দেন।   এবার দেশের অভ্যন্তরে তিনটি শ্রেণির নাগরিক—সরকারি চাকরিজীবী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং কারাবন্দিরা—পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।   পাশাপাশি বিশ্বের ১২২টি দেশে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিরাও এই পদ্ধতিতে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারছেন।   সব মিলিয়ে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার জন্য ১৫ লাখ ৩৩ হাজারের বেশি ভোটার নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন।   ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল ৭টা ৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে।   প্রতিবেদক: শ্যামল সান্যাল

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

১২ ঘণ্টারও কম সময়ে দেশে আবারও স্বর্ণের দামে বড় পতন

দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা।   শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে।   এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা।   নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা।   এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

বিয়ের মাধ্যমে আমেরিকার নাগরিকত্ব কি বন্ধ? ইউএস ইমিগ্রেশন ওয়েবসাইটে কী বলা আছে

সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রে বিয়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব বা গ্রীন কার্ড পাওয়ার নিয়ম বন্ধ হয়ে গেছে। তবে মার্কিন ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ ইউএস সিটিজেনশিপ এন্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিস  এর অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী এই দাবি সঠিক নয়। সংস্থাটি জানিয়েছে, বিয়ের মাধ্যমে এখনও গ্রীন কার্ড এবং পরে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ রয়েছে, তবে আবেদনকারীদের নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলতে হবে এবং বর্তমানে যাচাই-বাছাই আগের তুলনায় বেশি কঠোর করা হয়েছে। ইউএসসিআইএসের নিয়ম অনুযায়ী, একজন মার্কিন নাগরিক বা গ্রীন কার্ডধারী তার স্বামী বা স্ত্রীর জন্য পারিবারিক ভিত্তিতে অভিবাসনের আবেদন করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে প্রথমে বৈধ বিয়ের প্রমাণসহ আবেদন জমা দিতে হয়। আবেদন অনুমোদিত হলে বিদেশি স্বামী বা স্ত্রী গ্রীন কার্ড পেতে পারেন এবং স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি পাবেন। সাধারণত মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করলে প্রক্রিয়া তুলনামূলক দ্রুত হয়, আর গ্রীন কার্ডধারীকে বিয়ে করলে অপেক্ষার সময় কিছুটা বেশি হতে পারে। গ্রীন কার্ড পাওয়ার পর নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার নিয়মও আগের মতোই রয়েছে। ইমিগ্রেশন নীতিমালা অনুযায়ী, যদি কেউ মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করে গ্রীন কার্ড পান এবং কমপক্ষে তিন বছর একসাথে বসবাস করেন, তাহলে তিনি নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারেন। আর যদি গ্রীন কার্ডধারীকে বিয়ে করেন, তাহলে সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে পাঁচ বছর পূর্ণ হলে নাগরিকত্বের আবেদন করা যায়। ইমিগ্রেশন বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে বেশি সাক্ষাৎকার নেওয়া হচ্ছে, অতিরিক্ত কাগজপত্র চাওয়া হচ্ছে এবং যৌথ ব্যাংক হিসাব, বাসার ঠিকানা, ট্যাক্স নথি ও পারিবারিক প্রমাণ জমা দিতে হচ্ছে। ভুয়া বিয়ের মাধ্যমে সুবিধা নেওয়া ঠেকাতে এই যাচাই-বাছাই বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া আবেদন প্রক্রিয়ায় সময় বেশি লাগার কারণেও অনেকের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি হয়েছে যে বিয়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব বন্ধ হয়ে গেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বিয়ের মাধ্যমে আমেরিকার নাগরিকত্ব বা গ্রীন কার্ড বন্ধ হয়নি। তবে বর্তমানে আবেদন প্রক্রিয়া কঠোর হয়েছে এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে বৈধ বিবাহ, একসাথে বসবাস এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রমাণ করা বাধ্যতামূলক।

Top week

বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?
আমেরিকা

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মার্চ ২৫, ২০২৬ 0