জুলাই ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের চেতনা ও 'জুলাই সনদ'কে সংবিধানে স্থায়ী রূপ দিতে সংস্কার নয় বরং প্রয়োজনীয় সংশোধনীর উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। রোববার (৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে জুলাই জাতীয় সনদ ও সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত এক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ এই ঘোষণা দেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার বক্তব্যে স্পষ্ট করেন যে, চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের অভিপ্রায়কে সম্মান জানিয়ে 'জুলাই ঘোষণা'র মূল নির্যাসকে সংবিধানের চতুর্থ তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতার ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও উচ্চতা অন্য কিছুর সাথে তুলনীয় নয়।
সালাউদ্দিন আহমেদ অভিযোগ করেন, সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বিগত সরকার বড় ধরনের 'লেজিসলেটিভ ফ্রড' বা আইনি প্রতারণা করেছে। তিনি বলেন, হাইকোর্ট ইতিমধ্যে ওই সংশোধনীর কিছু অংশ অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছে। এখন এই সার্বভৌম সংসদ ৫, ৬ ও ৭ নম্বর তফসিলে চাপিয়ে দেওয়া ভুল ইতিহাস ও তথাকথিত স্বাধীনতার ঘোষণা বাতিল করে প্রকৃত ইতিহাস পুনঃপ্রতিষ্ঠা করবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানই ২৬শে মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা দেন এবং ২৭শে মার্চ কালুরঘাট থেকে 'প্রোভিশনাল হেড অফ স্টেট' হিসেবে তা প্রচার করেন—এটিই প্রকৃত ইতিহাস।
সংবিধানের মূলনীতি প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রবর্তিত 'মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস' নীতিটি সংবিধানে পুনর্বহাল করতে সরকার বদ্ধপরিকর। এছাড়া তিনি জানান, রাষ্ট্রক্ষমতায় জনগণের প্রকৃত মালিকানা নিশ্চিত করতে ১০০ সদস্য বিশিষ্ট একটি 'উচ্চকক্ষ' প্রবর্তনের ম্যান্ডেট রয়েছে, যেখানে রাজনৈতিক দলগুলো আনুপাতিক হারে প্রতিনিধিত্ব করবে।
সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে সকল দলের সমন্বয়ে একটি ‘বিশেষ সংসদীয় কমিটি’ গঠনের প্রস্তাব দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "সংবিধান কীভাবে সংশোধিত হবে তা এই সংসদেই নির্ধারিত হবে। বাইরে থেকে আমদানি করা কোনো প্রেসক্রিপশনে দেশ চলবে না।" তিনি সরকারি, বিরোধী ও স্বতন্ত্র সদস্যদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের সংবিধানকে যুগোপযোগী করার আহ্বান জানান।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
বসুন্ধরা গ্রুপের মালিকানাধীন কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে দীর্ঘ সময় ধরে বিএনপি, দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে ভিত্তিহীন, একপেশে ও ষড়যন্ত্রমূলক বয়ান প্রচার করা হয়েছিল বলে দাবি করেছে অনলাইনভিত্তিক অনুসন্ধানী প্ল্যাটফর্ম দ্য ডিসেন্ট। সম্প্রতি প্রকাশিত একটি 'মিডিয়া ওয়াচ' প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানটি দাবি করেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের আগে কালের কণ্ঠ, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ডেইলি সান ও বাংলানিউজ২৪.কমে প্রকাশিত অসংখ্য সংবাদ ও মতামতধর্মী লেখায় বিএনপি এবং দলটির শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অর্থ পাচার, বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ, ষড়যন্ত্র, ক্যাসিনো-সংশ্লিষ্টতা ও দল পরিচালনায় ব্যর্থতার মতো অভিযোগ নিয়মিতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৩ সাল থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত প্রকাশিত সংবাদ ও নিবন্ধ বিশ্লেষণ করে অন্তত ৮১টি প্রতিবেদন শনাক্ত করেছে দ্য ডিসেন্ট। এর মধ্যে ৫২টি সংবাদ প্রতিবেদন এবং ২৮টি মতামতধর্মী লেখা রয়েছে। প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, এসব সংবাদের উল্লেখযোগ্য অংশে নির্ভরযোগ্য বা নাম প্রকাশিত কোনো সূত্রের উদ্ধৃতি ছিল না। দ্য ডিসেন্টের ভাষ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর একই সংবাদমাধ্যমগুলোতে বিএনপি, তারেক রহমান ও খালেদা জিয়াকে নিয়ে ইতিবাচক প্রতিবেদন ও নিবন্ধ প্রকাশের প্রবণতা দেখা যায়। প্রতিবেদনে এই পরিবর্তনকে সম্পাদকীয় অবস্থানের উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি আওয়ামী লীগ-সমর্থক বিভিন্ন পেজে তারেক রহমানকে নিয়ে যে নেতিবাচক পোস্ট ছড়ানো হয়েছে, সেগুলোর অনেক ক্ষেত্রেই অতীতে প্রকাশিত এসব সংবাদকে সূত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। দ্য ডিসেন্ট দাবি করেছে, তাদের অনুসন্ধানে পাওয়া প্রতিবেদনগুলোর বিষয়বস্তু ছিল মূলত তারেক রহমানের বিরুদ্ধে অর্থ পাচার, লন্ডনে বিলাসী জীবন, ক্যাসিনো-সংশ্লিষ্টতা, বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ এবং বিএনপির নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, কালের কণ্ঠ, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ডেইলি সান ও বাংলানিউজ২৪.কমে প্রকাশিত একাধিক বিশেষ প্রতিবেদন ও কলামে এসব অভিযোগ উপস্থাপন করা হলেও অনেক ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ বা পরিচয়যুক্ত সূত্রের উল্লেখ পাওয়া যায়নি বলে তাদের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। দ্য ডিসেন্ট আরও দাবি করেছে, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা, ক্যাসিনো কেলেঙ্কারি, হাওয়া ভবন, বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ, বিএনপির নেতৃত্বের সংকট, দল পরিচালনায় ব্যর্থতা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে প্রকাশিত বহু প্রতিবেদনে একই ধরনের বয়ান অনুসরণ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, তাদের এই 'মিডিয়া ওয়াচ'-এর উদ্দেশ্য ছিল ৫ আগস্টের আগে ও পরে একই রাজনৈতিক ব্যক্তি ও দলকে ঘিরে সংবাদ পরিবেশনের ধরনে কোনো পরিবর্তন এসেছে কি না এবং প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো কতটা তথ্যনির্ভর ছিল, তা পর্যালোচনা করা। তবে প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে কালের কণ্ঠ, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ডেইলি সান, বাংলানিউজ২৪.কম কিংবা সংশ্লিষ্ট ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপের কোনো বক্তব্য প্রকাশ করা হয়নি। এই অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিক্রিয়াও প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেছেন, বিশ্ব পরিস্থিতি যেভাবেই পরিবর্তিত হোক না কেন, বাংলাদেশ-চীন বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থেকে বেইজিং কখনও সরে আসবে না। তিনি বলেন, চীন সবসময় বাংলাদেশের বিশ্বস্ত বন্ধু, ভালো প্রতিবেশী ও নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে পাশে থাকবে। শুক্রবার বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে শি জিনপিং এসব কথা বলেন। বৈঠকে তিনি বাংলাদেশের জাতীয় স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি চীনের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে যেকোনো বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করবে বলেও জানান। বৈঠকে দুই দেশ 'অভিন্ন ভবিষ্যৎসম্পন্ন বাংলাদেশ-চীন সম্প্রদায়' গঠনের ঘোষণা দেয় এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও উচ্চ পর্যায়ে উন্নীত করার বিষয়ে সম্মত হয়। শি জিনপিং বলেন, বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগ, সবুজ উন্নয়ন, ডিজিটাল অর্থনীতি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, তথ্যপ্রযুক্তি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং আঞ্চলিক সংযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে চায় চীন। জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে চীন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। তিনি চীনের উন্নয়নকে বাংলাদেশের জন্য অনুসরণযোগ্য মডেল হিসেবে উল্লেখ করেন এবং অর্থনীতি, বাণিজ্য, কৃষি, প্রযুক্তি, সবুজ জ্বালানি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বৈষম্য কমাতে চীনা বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশাধিকার বাড়ানোর অনুরোধও জানান। প্রধানমন্ত্রী আরও পুনর্ব্যক্ত করেন, বাংলাদেশ 'এক চীন' নীতিতে অটল রয়েছে। তিনি বলেন, তাইওয়ানকে বাংলাদেশ চীনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয় এবং আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয়ে বেইজিংয়ের সঙ্গে সমন্বয় আরও জোরদার করতে আগ্রহী।
চুয়াডাঙ্গার দর্শনা থানার কুড়ুলগাছি ইউনিয়নের রাইসার বিল মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র এলাকায় বোমাসদৃশ একটি বস্তু উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। বুধবার (২৪ জুন) সকালে ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল ১০টার দিকে কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের প্রধান ফটকের পাশে একটি সন্দেহজনক বস্তু পড়ে থাকতে দেখেন। বস্তুটির গায়ে লেখা ছিল ‘জয় বাংলা’। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে মৎস্য কমিটির সদস্যদের জানানো হলে নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে দর্শনা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বস্তুটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। প্রাথমিকভাবে এটিকে বোমাসদৃশ মনে হলেও সেটি কার্যকর বিস্ফোরক কিনা, তা যাচাই করতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। এ বিষয়ে কুড়ুলগাছি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুর রশিদসহ স্থানীয় কয়েকজন নেতা দাবি করেন, বস্তুটির গায়ে ‘জয় বাংলা’ লেখা থাকায় এটি কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নাশকতার অংশ হতে পারে বলে তারা ধারণা করছেন। তবে এ বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু নিশ্চিত করেনি। দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, “খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে একটি বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধার করা হয়েছে। সেটি থানায় নিয়ে আসা হয়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” এদিকে, ঘটনাটিকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তদন্ত শেষে বস্তুটির প্রকৃতি ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।