বিশ্ব

দেশে খেলাপি ঋণ ৫ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকা ছাড়াল: অর্থমন্ত্রী

Unknown প্রকাশ: এপ্রিল ৫, ২০২৬ ১৯:০
অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী । ফাইল ছবি
অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী । ফাইল ছবি

দেশে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৫ লাখ ৪৪ হাজার ৮৩১ কোটি ৮৮ লাখ টাকায় পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

 

আজ সোমবার (৬ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন। ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী এ তথ্য জানানো হয়।

 

ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে এনসিপির সংসদ সদস্য আবুল হাসনাত (হাসনাত আবদুল্লাহ)-এর প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সংসদ সদস্য ও তাঁদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১১ হাজার ১১৭ কোটি ৩১ লাখ টাকা।

 

মন্ত্রী আরও জানান, আদালতের নির্দেশনার কারণে এই ঋণের মধ্যে ৩ হাজার ৩৩০ কোটি ৮ লাখ টাকা খেলাপি হিসেবে বিবেচিত হয়নি।

 

সংসদে অর্থমন্ত্রী শীর্ষ ২০ ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানের তালিকাও উপস্থাপন করেন। তালিকায় রয়েছে এস আলম সুপার এডিবল অয়েল, এস আলম ভেজিটেবল অয়েল, এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ, বাংলাদেশ এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট কোম্পানি লিমিটেড, গ্লোবাল ট্রেডিং করপোরেশন, কেয়া কসমেটিকস, দেশবন্ধু সুগার মিলস, বেক্সিমকো কমিউনিকেশনসসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বিশ্ব

View more
ইসরায়েলি নিষেধাজ্ঞার কারণে গাজায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে, ফলে বাধ্য হয়েই চড়া দামে পণ্য কিনছেন সাধারণ মানুষ। ছবি: সংগৃহীত
ইসরায়েলের বিধিনিষেধে গাজায় জমজমাট কালোবাজার: মুনাফা লুটছে ইসরায়েলি সেনা ও ব্যবসায়ীরা, নিঃস্ব হচ্ছে সাধারণ ফিলিস্তিনিরা

ইসরায়েলের কঠোর বিধিনিষেধের কারণে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। আর এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে সেখানে গড়ে উঠেছে বিশাল এক কালোবাজার বা চোরাচালান অর্থনীতি। সাধারণ ফিলিস্তিনিদের চড়া দামে খাদ্যপণ্য থেকে শুরু করে ব্যাটারি বা ওষুধ কিনতে হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, এই চোরাচালানের মাধ্যমে ইসরায়েলি সেনা, মধ্যস্বত্বভোগী ব্যবসায়ী এবং গাজার হামাস সরকার সবাই বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। আদালতের নথি, ব্যবসায়ী, ট্রাকচালক ও কর্মকর্তাদের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে এপি জানিয়েছে, ২০২৩ সালের অক্টোবরে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গাজায় সিগারেট ও তামাকজাত পণ্য প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে ইসরায়েল। বর্তমানে এই পণ্যটি চোরাকারবারিদের জন্য সবচেয়ে লাভজনক খাতে পরিণত হয়েছে।   শুধু সিগারেট নয়, আইফোন, সোলার প্যানেল থেকে শুরু করে জ্বালানি ও চেতনানাশক ওষুধও অবৈধভাবে গাজায় ঢুকছে। ইসরায়েল কিছু পণ্যের পরিমাণ নির্দিষ্ট করে দিয়েছে এবং অনেক পণ্যকে 'দ্বৈত ব্যবহারের' অজুহাতে পুরোপুরি নিষিদ্ধ করেছে। ইসরায়েলের দাবি, কংক্রিট, গাড়ির যন্ত্রাংশ বা এক্স-রে মেশিনের মতো জিনিসগুলো হামাস সামরিক কাজে ব্যবহার করতে পারে। গাজায় পণ্য প্রবেশের ওপর ইসরায়েলের কঠোর নিয়ন্ত্রণের কারণে বাধ্য হয়েই অনেকেই চোরাচালানের পথ বেছে নিচ্ছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শীর্ষ ব্যবসায়ী ও ট্রাকচালক জানিয়েছেন, ইসরায়েলি বাহিনীর কিছু সদস্য অর্থের বিনিময়ে এই অবৈধ বাণিজ্যে সহায়তা করতে প্রস্তুত। এক ব্যবসায়ী বলেন, দখলদাররা তাদের সামনে আর কোনো পথ খোলা রাখেনি, তাই চোরাচালান এখন রোজকার ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে তাদের এবং ইসরায়েলি সেনাদের লাভ হওয়ার পাশাপাশি গাজার মানুষও অন্তত খাবার বা পণ্যটুকু পাচ্ছে। তবে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তারা চোরাচালান রোধে কঠোরভাবে কাজ করছে এবং কোনো সেনার জড়িত থাকার প্রমাণ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গাজায় সব ধরনের পণ্য প্রবেশের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে ইসরায়েল। বর্তমানে জাতিসংঘ ও অন্যান্য মানবিক সংস্থার পাশাপাশি মাত্র ১২ জন ফিলিস্তিনি ব্যবসায়ীকে গাজায় বাণিজ্যিকভাবে পণ্য আনার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে প্রতিটি চালানের আগে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিতে হয়, যা অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ। চাহিদা মেটাতে ব্যবসায়ীরা তাই চোরাকারবারিদের দ্বারস্থ হচ্ছেন। এমনকি হাসপাতালগুলোও জরুরি ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের জন্য এই কালোবাজারের ওপর নির্ভরশীল। ব্যবসায়ীরা জানান, তারা 'সমন্বয়ক' বা কো-অর্ডিনেটরদের কাছে পণ্যের তালিকা পাঠান। এই সমন্বয়করা ইসরায়েল ও পশ্চিম তীরের মধ্যস্বত্বভোগী। পণ্যগুলো মূলত দক্ষিণ গাজার কেরেম শালোম ক্রসিং দিয়ে ঢোকে। চোরাকারবারিরা অনেক সময় ইসরায়েলি সেনাদের ঘুষ দিয়ে ট্রাক পার করে, আবার কখনো কখনো সরাসরি সামরিক যানে করেও পণ্য ভেতরে আনা হয়। আদালতের নথিতে 'আবু বাসেল' নামে এক রহস্যময় চোরাচালান সমন্বয়কের নাম উঠে এসেছে, যার সাথে ইসরায়েলি পুলিশের গভীর সখ্যতা রয়েছে। গাজার ব্যবসায়ীদের মতে, আবু বাসেল এই জগতের অঘোষিত সম্রাট; তার ইশারা ছাড়া গাজায় কিছুই ঢোকে না।   গাজার ব্যবসায়ীদের দাবি, চোরাচালান হওয়া পণ্যের ওপর হামাস পরিচালিত সরকারও মোটা অঙ্কের 'কর' বা ভাগ বসায়। ফিলিস্তিনের অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা মোহাম্মদ বারবাখ জানান, ব্যবসায়ীরা নিজে থেকে জানালে সরকার পণ্যের মূল্যের ২০ শতাংশ নেয়। কিন্তু না জানিয়ে ধরা পড়লে তা ৮০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। হামাস প্রশাসনের দুজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে চোরাচালান হওয়া পণ্য থেকে প্রায় ১০ কোটি ডলার সংগ্রহ করা হয়েছে। এই অর্থ দিয়ে সরকারি চাকরিজীবী ও পুলিশদের বেতন দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, ইসরায়েলি আদালতেও চোরাচালানে জড়িত থাকার দায়ে বেশ কয়েকজন রিজার্ভ সেনার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যে শিন বেত-এর প্রধানের ভাই বেজালেল জিনির নামও রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, একটি সামরিক যানে করে সিগারেট পার করার জন্য তিনি প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার ডলার ঘুষ নিয়েছিলেন। এছাড়া আলগারাবলি নামের দুই ভাই মাত্র তিন মাসে চোরাচালান থেকে প্রায় ২২ লাখ ডলার আয় করেছেন।   কালোবাজারের এই রমরমা বাণিজ্যের চূড়ান্ত মাশুল গুনতে হচ্ছে গাজার সাধারণ মানুষকে। যুদ্ধের আগে যে গাড়ির ব্যাটারির দাম ছিল ১৪০ ডলার, তা এখন বিক্রি হচ্ছে ২৩০০ ডলারে। ১৬ সেন্টের সোলার প্যানেল বিক্রি হচ্ছে ৩.২৫ ডলারে। তবে সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে সিগারেটের। এক প্যাকেট সিগারেটের দাম কখনো কখনো ১৪০ ডলার ছাড়িয়ে যাচ্ছে। ইসরায়েলের সম্পূর্ণ অবরোধের সময় এটি ১০০০ ডলারেও বিক্রি হয়েছিল। রাফাহ শহর থেকে বাস্তুচ্যুত হওয়া মোহাম্মদ আবুয়েল-এনেইন হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ফ্যানের মতো সাধারণ জিনিসও ইসরায়েল ঢুকতে দিচ্ছে না। ক্রসিং দিয়ে ফ্যান ঢুকলে কী ক্ষতি হবে, তা তিনি বুঝতে পারছেন না। ফ্যান দিয়ে কেউ রকেট বানাবে না উল্লেখ করে তিনি জানান, তীব্র গরমে বাচ্চাদের গায়ে পানি ছিটিয়ে তাদের দিন পার করতে হচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২০, ২০২৬ ২২:৩২
আয়ারল্যান্ডের ওয়াটারফোর্ডে অবস্থিত স্ট্র্যাঙ্কালি ক্যাসল, সম্প্রতি এটি কিনেছেন মেটা প্রধান মার্ক জাকারবার্গ। ছবি: সংগৃহীত

আয়ারল্যান্ডে ১৯ শতকের দুর্গ কিনলেন মার্ক জাকারবার্গ, মূল্য হতে পারে ৩০ মিলিয়ন ইউরো পর্যন্ত

১৫ বছর ব্যথার পর ধরা পড়ল আসল রোগ, এরই মধ্যে ভুল চিকিৎসায় দুই অঙ্গ হারিয়েছে ব্রিটিশ নারী

১৫ বছর ব্যথার পর ধরা পড়ল আসল রোগ, এরই মধ্যে ভুল চিকিৎসায় দুই অঙ্গ হারিয়েছে ব্রিটিশ নারী

যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্য-কানাডার বাইরে নতুন সম্ভাবনার খোঁজে  বিকল্প ঠিকানা খুঁজছেন অভিবাসীরা

যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্য-কানাডার বাইরে নতুন সম্ভাবনার খোঁজে বিকল্প ঠিকানা খুঁজছেন অভিবাসীরা

১৮ বছর ধরে খুঁজেও হারানো গুহার সন্ধান পাননি, ফিরে পেয়ে দেখলেন ভেতরেই মেঘ, নদী আর জঙ্গল!
১৮ বছর ধরে খুঁজেও হারানো গুহার সন্ধান পাননি, ফিরে পেয়ে দেখলেন ভেতরেই মেঘ, নদী আর জঙ্গল!

ভিয়েতনামের ঘন জঙ্গলে বৃষ্টির মধ্যে আশ্রয় নিতে গিয়ে যে গুহাটির সন্ধান পেয়েছিলেন হো খান, সেটিই পরে পরিচিত হয় পৃথিবীর সবচেয়ে বড় গুহা হিসেবে। কিন্তু প্রথম দেখার পর ঘন জঙ্গলের ভেতর গুহাটির অবস্থান হারিয়ে ফেলেছিলেন তিনি। এরপর প্রায় ১৮ বছর ধরে খুঁজতে খুঁজতে শেষ পর্যন্ত ২০০৯ সালে আবার সেই গুহার সন্ধান পান তিনি। নাম দেওয়া হয় হ্যাং সন দুং।   ঘটনাটির শুরু ১৯৯০ সালে। ভিয়েতনামের কোয়াং বিন প্রদেশের ফং না-ক্য বাং এলাকার জঙ্গলে ঘুরতে গিয়ে প্রবল বৃষ্টির মধ্যে পড়েছিলেন স্থানীয় বাসিন্দা হো খান। আশ্রয়ের খোঁজে তিনি একটি গুহায় ঢোকেন। সেখানে ঠান্ডা বাতাস বেরিয়ে আসতে এবং ভেতর থেকে নদীর পানির শব্দ শুনতে পান। তবে অন্ধকার ও অজানা পরিবেশের কারণে আর গভীরে যাওয়ার সাহস করেননি।   পরে গুহাটির অবস্থান আবার খুঁজে বের করার চেষ্টা করলেও ঘন, চিহ্নহীন জঙ্গলের কারণে তা সম্ভব হয়নি। কিন্তু জায়গাটির কথা তিনি ভুলে যাননি। দীর্ঘ সময় ধরে খোঁজ চালানোর পর ২০০৯ সালে অবশেষে গুহাটির প্রবেশপথ আবার খুঁজে পান হো খান। এরপর ব্রিটিশ কেভ রিসার্চ অ্যাসোসিয়েশনের অভিযাত্রীদের একটি দল তার সঙ্গে সেখানে যায় এবং গুহাটির বিশালত্ব দেখে বিস্মিত হয়।    সন দুংয়ের বিশালতা সাধারণ কোনো গুহার সঙ্গে তুলনা করার মতো নয়। ভিয়েতনামের সরকারি পর্যটন তথ্য অনুযায়ী, গুহাটি প্রায় ৯ কিলোমিটার দীর্ঘ, কোনো কোনো অংশ প্রায় ২০০ মিটার উঁচু এবং ১৫০ মিটার পর্যন্ত প্রশস্ত। এর বিশাল কক্ষগুলোর আকার এতটাই বড় যে একটি ৪০ তলা ভবনের সমান উচ্চতার কাঠামোও সেখানে কল্পনা করা যায়।    গুহার ভেতর দিয়ে বয়ে গেছে ভূগর্ভস্থ নদী। সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয়গুলোর একটি হলো এর ছাদের বিশাল দুটি অংশ ধসে গিয়ে তৈরি হয়েছে ‘ডোলাইন’ বা প্রাকৃতিক উন্মুক্ত অংশ। সেখান দিয়ে সূর্যের আলো ও বৃষ্টির পানি গুহার গভীরে পৌঁছায়। ফলে মাটির নিচেই তৈরি হয়েছে ঘন সবুজ বনাঞ্চল, যেখানে গাছপালা স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠছে।    শুধু বন নয়, গুহার ভেতরের পরিবেশও আলাদা। বিশাল ভূগর্ভস্থ কক্ষগুলোর নিজস্ব ক্ষুদ্র জলবায়ু তৈরি হয়। উষ্ণ ও আর্দ্র বাতাস ঠান্ডা বাতাসের সঙ্গে মিশে সেখানে কুয়াশা ও মেঘের মতো পরিবেশ তৈরি করতে পারে। এ কারণেই সন দুংকে শুধু একটি গুহা নয়, বরং মাটির নিচে গড়ে ওঠা এক স্বতন্ত্র প্রাকৃতিক জগত হিসেবে দেখা হয়।    গুহাটিতে রয়েছে বিশাল স্ট্যালাগমাইট, অনন্য পাথরের গঠন এবং ‘কেভ পার্ল’ নামে পরিচিত ক্যালসাইটের গোলাকার গঠন। কয়েক মিলিয়ন বছর ধরে পানি ও ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়ার প্রভাবে তৈরি এসব গঠন গুহাটিকে আরও অনন্য করে তুলেছে।    সন দুং অবস্থিত ফং না-ক্য বাং ন্যাশনাল পার্কে, যা ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট। এই এলাকায় ৩০০টিরও বেশি গুহা ও ভূগর্ভস্থ নদীর সন্ধান পাওয়া গেছে। তবে সন দুংয়ের পরিবেশ অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় সেখানে প্রবেশ ও অভিযান কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত।    একসময় কাঠ সংগ্রহ ও শিকারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন হো খান। পরে তার খুঁজে পাওয়া এই গুহা বিশ্বজুড়ে পরিচিত হয়ে ওঠে এবং ফং না-ক্য বাং অঞ্চলের অ্যাডভেঞ্চার পর্যটনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণে পরিণত হয়। তবে সন দুংয়ের গল্পের সবচেয়ে বিস্ময়কর অংশ হয়তো এর বিশালত্ব নয়, বরং একটি বৃষ্টিভেজা রাতের কৌতূহল কীভাবে প্রায় দুই দশক পর পৃথিবীর অন্যতম অসাধারণ প্রাকৃতিক বিস্ময়ের দরজা খুলে দিয়েছিল।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২০, ২০২৬ ৩:১৩
স্টেট হাউসের পর এবার সিনেট জয় করে ইতিহাস গড়তে চান মেরিয়াম খান

স্টেট হাউসের পর এবার সিনেট জয় করে ইতিহাস গড়তে চান মেরিয়াম খান

যুক্তরাজ্যই কি এবার ইলন মাস্কের টার্গেট? কিনতে কত খরচ হবে

যুক্তরাজ্যই কি এবার ইলন মাস্কের টার্গেট? কিনতে কত খরচ হবে, জানতে চেয়ে প্রশ্ন করলেন তিনি

নিজ দেশে গেলে হারাতে পারেন কানাডার স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা

নিজ দেশে গেলে হারাতে পারেন কানাডার স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা

৫০ বছরের পুরোনো প্রতিশ্রুতি রাখতে বন্ধুর শেষ বিদায়ে লাঠি ছেড়ে কফিনের পাশে ৮৩ বছরের সাবেক মেরিন
৫০ বছরের পুরোনো প্রতিশ্রুতি রাখতে বন্ধুর শেষ বিদায়ে লাঠি ছেড়ে কফিনের পাশে ৮৩ বছরের সাবেক মেরিন

ভিয়েতনাম যুদ্ধের ভয়াবহতার মধ্যে করা একটি ছোট্ট প্রতিশ্রুতি প্রায় পাঁচ দশক পরও ভুলে যাননি সাবেক মার্কিন মেরিন মাস্টার সার্জেন্ট উইলিয়াম এইচ. ‘বিল’ কক্স। ১৯৬৮ সালে যুদ্ধের সময় এক বাঙ্কারে প্রাণ বাঁচানোর লড়াইয়ে পরিচয় হওয়া সহযোদ্ধা ফার্স্ট সার্জেন্ট জেমস ‘হলি’ হলিংসওয়ার্থের সঙ্গে তিনি কথা দিয়েছিলেন, বেঁচে ফিরলে প্রতি বছর নববর্ষের রাতে একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখবেন। সেই প্রতিশ্রুতি তারা প্রায় ৫০ বছর ধরে পালন করেন।  ১৯৬৮ সালের নিউ ইয়ার্স ইভে ভিয়েতনামের মার্বেল মাউন্টেনে গোলাবর্ষণের মধ্যে একটি বাঙ্কারে আশ্রয় নিয়েছিলেন কক্স ও হলিংসওয়ার্থ। তখন তারা জানতেন না রাতটি শেষ পর্যন্ত তাদের জন্য কী নিয়ে আসবে। সেই অনিশ্চয়তার মধ্যেই দুজন সিদ্ধান্ত নেন, যদি তারা যুদ্ধ থেকে জীবিত ফিরে আসতে পারেন, তাহলে জীবনের বাকি সময় প্রতি ৩১ ডিসেম্বর একে অপরের সঙ্গে কথা বলবেন।    যুদ্ধের পর দুজনই যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যান। জীবনের নানা পরিবর্তন, দূরত্ব ও আলাদা পথ তাদের সম্পর্ককে থামাতে পারেনি। প্রতি বছর নববর্ষের রাতে তারা একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। ভিয়েতনামে একই মেরিন হেলিকপ্টার স্কোয়াড্রন ভিএমও-২-এ কাজ করার সময় তারা ২০০টিরও বেশি মিশনে একসঙ্গে অংশ নিয়েছিলেন।    ২০১৭ সালে হলিংসওয়ার্থ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে কক্স দক্ষিণ ক্যারোলাইনার পিডমন্ট থেকে জর্জিয়ার হেফজিবাহতে তার বন্ধুর সঙ্গে শেষবারের মতো দেখা করতে যান। সেই সাক্ষাতে হলিংসওয়ার্থ বন্ধুর কাছে জীবনের শেষ একটি অনুরোধ রাখেন। তিনি চান, মৃত্যুর পর কক্স যেন তার শেষকৃত্যে প্রশংসাবক্তব্য দেন এবং তার কফিনের পাশে দাঁড়িয়ে সম্মান জানান।    কক্স সেই প্রতিশ্রুতিও রাখেন। ৮৩ বছর বয়সে, ২০১৭ সালের ২০ অক্টোবর হলিংসওয়ার্থের শেষকৃত্যে তিনি মেরিনদের আনুষ্ঠানিক পোশাক পরে বন্ধুর কফিনের পাশে দাঁড়িয়ে পাহারা দেন। নিয়মিত হাঁটার জন্য তাকে লাঠি ব্যবহার করতে হলেও সেদিন সেই লাঠি পাশে রেখে তিনি দাঁড়িয়ে ছিলেন। পাশাপাশি বন্ধুর স্মরণে শেষকৃত্যে প্রশংসাবক্তব্যও দেন।    দুজনের দীর্ঘ বন্ধুত্বের আরেকটি বিশেষ দিক ছিল তাদের বিদায়ের একটি নির্দিষ্ট বাক্য। ফোনে কথা শেষ করার সময় তারা একে অপরকে বলতেন, “হলি, তুমি উড়তে থাকো, আমি গুলি চালাতে থাকব।” হলিংসওয়ার্থের শেষকৃত্যে বক্তব্য শেষ করার সময়ও কক্স সেই পরিচিত বাক্যটি স্মরণ করেন।    হলিংসওয়ার্থের ছেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কক্স ও তার বাবার একটি ছবি প্রকাশ করার পর ঘটনাটি ব্যাপক মানুষের নজরে আসে। ছবিতে ৮৩ বছরের কক্সকে বন্ধুর কফিনের পাশে মেরিন পোশাকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।    যুদ্ধের ময়দানে তৈরি সেই সম্পর্ক তাই শুধু স্মৃতিতে সীমাবদ্ধ থাকেনি। প্রায় ৫০ বছর ধরে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা এবং বন্ধুর জীবনের শেষ মুহূর্তে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করে কক্স দেখিয়েছেন, কিছু বন্ধুত্ব সময় ও দূরত্ব পেরিয়েও অটুট থাকতে পারে। তাদের গল্পে যুদ্ধের স্মৃতির পাশাপাশি উঠে এসেছে দায়িত্ব, বিশ্বস্ততা এবং দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের এক বিরল দৃষ্টান্ত।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২০, ২০২৬ ০:৩৪
ভূমিকম্পের সময় ১০ নবজাতককে উদ্ধারে অংশ নিয়ে আলোচনায় আসেন কলম্বিয়ার চিকিৎসক জার্মান সোমোয়ার। ছবি: সংগৃহীত

ভূমিকম্পের সময় জীবন বাজি রেখে ১০ শিশুকে বাঁচালেন, সেই চিকিৎসক পেলেন জার্মানিতে উচ্চতর প্রশিক্ষণের সুযোগ

একই মায়ের গর্ভে জন্ম নেওয়া যমজ দুই শিশুর বাবা আলাদা হওয়ার বিরল ঘটনা এটি। ছবি: সংগৃহীত

একই মায়ের যমজ সন্তান, ডিএনএ পরীক্ষায় জানা গেল দুই শিশুর বাবা দুইজন

যুদ্ধ আরও বাড়লে রাষ্ট্র হিসেবে বিলুপ্ত হতে পারে ইসরায়েল - রুশ জেনারেলের

যুদ্ধ আরও বাড়লে রাষ্ট্র হিসেবে বিলুপ্ত হতে পারে ইসরায়েল - রুশ জেনারেলের

0 Comments