সড়ক দুর্ঘটনা

ছবি: সংগৃহীত
ঈদযাত্রায় প্রাণহানি বাড়ছেই: ১২ দিনে সড়ক-রেল-নৌপথে নিহত ২৪১

ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে দেশের সড়ক, রেল ও নৌপথে দুর্ঘটনায় প্রাণহানি উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। ঈদযাত্রা পুরোপুরি শেষ না হলেও প্রাথমিক হিসাবেই ভয়াবহ চিত্র সামনে এসেছে। মাত্র ১২ দিনেই বিভিন্ন দুর্ঘটনায় ২৪১ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।   প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, এই সময়ের মধ্যে ২০৫টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৪২ জন নিহত এবং অন্তত ৪৪১ জন আহত হয়েছেন। যদিও ঈদের আগে-পরে মোট ১৫ দিনকে সাধারণত ঈদযাত্রা হিসেবে ধরা হয়, তবে এবারের হিসাব এখনো পূর্ণাঙ্গ নয়।   এদিকে, ১৮ মার্চ রাজধানীর সদরঘাট এলাকায় দুই লঞ্চের সংঘর্ষে প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত দুজন নিহত হন। একই দিন কুমিল্লায় একটি যাত্রীবাহী বাস রেললাইনে উঠে ট্রেনের সঙ্গে সংঘর্ষে ১২ জন নিহত এবং ২৩ জন আহত হন।   অন্যদিকে, ২৫ মার্চ রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় একটি বাস পদ্মা নদীতে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৬ জনে। উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে আরও কয়েকজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।   সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর মতে, ঈদের সময় অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ, বেপরোয়া গতি, চালকের ক্লান্তি ও অদক্ষতা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। গত এক দশকের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে দেশে হাজারো দুর্ঘটনায় কয়েক হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানোর প্রতিযোগিতা, ফিটনেসবিহীন যানবাহন এবং দুর্বল তদারকি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় ৪২ শতাংশ দুর্ঘটনার জন্য দায়ী বেপরোয়া গতি। পাশাপাশি সড়কের নাজুক অবস্থাও বড় ঝুঁকি হিসেবে কাজ করছে।   তারা মনে করেন, দুর্ঘটনা কমাতে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি জোরদার, দক্ষ চালক তৈরি, যানবাহনের ফিটনেস নিশ্চিতকরণ এবং কঠোর আইন প্রয়োগ জরুরি। একই সঙ্গে চালক ও যাত্রীদের সচেতনতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৭, ২০২৬ 0
সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু, আরও তিনজন আহত
সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু, আরও তিনজন আহত

  যশোর-মাগুরা মহাসড়ক-এ ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের তিনজন প্রাণ হারিয়েছেন। সোমবার (২৩ মার্চ) গভীর রাত প্রায় ৩টার দিকে গাইদঘাট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।   নিহতরা হলেন—মজিদ সরদার (৭০), তার ছেলে মাহমুদ হাসান জাকারিয়া জনি (৪৩) এবং জনির চার বছর বয়সী কন্যা সেহেরিশ। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন জনির স্ত্রী, ছেলে ও মা। তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা-তে পাঠানো হয়েছে। হতাহতরা সবাই মণিরামপুর উপজেলার ফাতেহাবাদ গ্রামের বাসিন্দা।   স্থানীয় সূত্র ও পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, আত্মীয়ের বাড়ি থেকে ফেরার পথে দুর্ঘটনাটি ঘটে। চুয়াডাঙ্গা থেকে আসা প্রাইভেটকারটি গাইদঘাট এলাকায় পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারান। দ্রুতগতির গাড়িটি সড়কের পাশে থাকা একটি বড় গাছের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা খায়। এতে গাড়ির সামনের অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ঘটনাস্থলেই দুজনের মৃত্যু হয়।   খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল-এ নিয়ে যান। সেখানে নেওয়ার পথে আরও একজনের মৃত্যু হয়।   বারবাজার হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আলমগীর কবির জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে গভীর রাতে চালক ঘুমিয়ে পড়ায় গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারায় এবং গাছের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৪, ২০২৬ 0
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: বিএনপির ফেসবুক পেজ
বগুড়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় বেঁচে থাকা শিশুর চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন প্রধানমন্ত্রী

বগুড়ার শেরপুরে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের চারজন নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় অলৌকিকভাবে বেঁচে গেছে দেড় বছরের এক শিশুকন্যা। গুরুতর আহত শিশুটিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানীর আগারগাঁওয়ের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে আনা হয়েছে।   প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিশুটির চিকিৎসার যাবতীয় দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। বুধবার সন্ধ্যায় তিনি বগুড়ার জেলা প্রশাসক ও হাসপাতালের পরিচালকের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন এবং শিশুটির সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।   আতিকুর রহমান জানান, দুর্ঘটনায় আহত অন্যান্য ব্যক্তিদেরও সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া শিশুটির চিকিৎসার সকল ব্যয়ভারও তিনি গ্রহণ করেছেন।   দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার সকালে, যখন ঢাকা থেকে রংপুরগামী ১২ জন যাত্রী নিয়ে একটি মাইক্রোবাস বগুড়ার শেরপুর এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। ঘটনাস্থলেই একজন নিহত হন। আহতদের উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক শিশুটির আরও তিনজন স্বজনকে মৃত ঘোষণা করেন।   বগুড়ার জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান জানান, নিহতদের মরদেহ রংপুরের কাউনিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং সেখানে দাফন সম্পন্ন হবে। নিহতরা ঈদ উদযাপনের জন্য পরিবার নিয়ে রংপুর যাচ্ছিলেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
রামপালে দুর্ঘটনায় নিহত বরসহ একই পরিবারের ৯ জনের দাফন

বাগেরহাটের রামপালে বাস ও মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত বর আহাদুর রহমান সাব্বিরসহ তার পরিবারের ৯ সদস্যের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার (১৩ মার্চ) জুমা শেষে মোংলা উপজেলা পরিষদ মাঠে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে মোংলা পৌর কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।   জানাজায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম, স্থানীয় সংসদ সদস্য মনজুরুল হক রাহাদ, জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ সুপারসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন মোংলা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক, তার তিন সন্তান, এক পুত্রবধূ এবং চার নাতি-নাতনি। এছাড়া কনের পক্ষের নববধূ মার্জিয়া আক্তার মিতুসহ আরও চারজন এবং মাইক্রোবাস চালকও এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন।   স্থানীয়রা জানান, দুর্ঘটনায় আব্দুর রাজ্জাকের পরিবারের একটি বড় অংশ চিরতরে হারিয়ে গেছে। স্ত্রী ও তিন সন্তানকে হারানো আশরাফুল আলম জনি শোকে ভেঙে পড়ে বলেন, এক নিমেষেই সব শেষ হয়ে গেছে। স্বজন ও প্রতিবেশীদের আহাজারিতে জানাজা প্রাঙ্গণ ভারি হয়ে ওঠে। পরিবারের বেঁচে থাকা সদস্যরা এখন চরম দিশেহারা অবস্থায় রয়েছেন।   দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা প্রদানের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন জানিয়েছেন, ত্রাণ তহবিল ও সড়ক পরিবহন আইনের আওতায় নিহতদের পরিবারকে সহায়তা করা হবে। ইতোমধ্যে নিহত মাইক্রোবাস চালকের পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৩, ২০২৬ 0
ছবি:  আমেরিকা বাংলা
নৌবাহিনীর বাস-মাইক্রোর সংঘর্ষ,দুই শিশুসহ নিহত ১২ জন

বাগেরহাটের রামপাল উপজেলায় নৌবাহিনীর একটি বাস ও একটি মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই শিশুসহ অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও চারজন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকেল ৩টার দিকে রামপাল উপজেলার বেলাই ব্রিজ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।   হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, নিহতদের মধ্যে আটজনের মরদেহ খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। অন্য চারজনের মরদেহ রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে।   রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুকান্ত কুমার পাল জানান, দুর্ঘটনায় আহতদের মধ্যে চারজনকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। আহত কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।   অন্যদিকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মেডিক্যাল অফিসার ডা. মেহনাজ মোশাররফ জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত দুই শিশুসহ আটজনের মরদেহ হাসপাতালে আনা হয়েছে। তাদের মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়।   এ বিষয়ে কাটাখালী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাফর আহমেদ জানান, নৌবাহিনীর বাসটি মোংলা থেকে ছেড়ে আসছিল। বেলাই ব্রিজ এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মাইক্রোবাসের সঙ্গে বাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তিন নারীসহ চারজনের মৃত্যু হয়।   তিনি আরও জানান, স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থল থেকে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। নিহতরা সবাই মাইক্রোবাসের যাত্রী ছিলেন। মাইক্রোবাসটি খুলনা থেকে মোংলার দিকে যাচ্ছিল। পুলিশ জানায়, নিহতদের বিস্তারিত পরিচয় এখনও নিশ্চিত করা যায়নি। মরদেহগুলো রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে এবং এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১২, ২০২৬ 0
বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার বেলাই ব্রিজ এলাকায় একটি মাইক্রোবাস ও নৌবাহিনীর বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে অন্তত ১২ জন নিহত।
রামপালে বাস-মাইক্রোবাস সংঘর্ষে ১২ নিহত

বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার বেলাই ব্রিজ এলাকায় নৌবাহিনীর একটি বাস ও একটি মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও চার জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকাল ৩টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।   নিহতদের মধ্যে আট জনের মরদেহ খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। বাকি চার জনের মরদেহ রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুকান্ত কুমার পাল।   ডা. সুকান্ত কুমার পাল বলেন, দুর্ঘটনায় আহতদের মধ্যে চারটি মরদেহ রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রয়েছে এবং আহত কয়েকজনকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।   খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মেডিক্যাল অফিসার ডা. মেহনাজ মোশাররফ জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত এক শিশুসহ আট জনের মরদেহ হাসপাতালে আনা হয়েছে এবং তাদের মৃত অবস্থায় আনা হয়।   বাগেরহাটের কাটাখালী হাইওয়ে থানার ওসি মো. জাফর আহমেদ জানান, নৌবাহিনীর বাসটি মোংলা থেকে ছেড়ে এসেছিল। বেলাই ব্রিজ এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মাইক্রোবাসের সঙ্গে বাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তিন নারীসহ চার জন নিহত হন। স্থানীয়রা মাইক্রোবাসে থাকা আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। নিহতরা সবাই মাইক্রোবাসের যাত্রী ছিলেন এবং মাইক্রোবাসটি খুলনা থেকে মোংলার দিকে যাচ্ছিল। নিহতদের মরদেহ রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে। হতাহতদের বিস্তারিত পরিচয় এখনও জানাতে পারেনি পুলিশ।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১২, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকিকে গার্ড অব অনারে যাওয়ার পথে পুলিশের গাড়ি উল্টে আহত ৮

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকিকে গার্ড অব অনার দিতে যাওয়ার পথে পুলিশের একটি গাড়ি উল্টে অন্তত আট সদস্য আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।   শুক্রবার সকালে উপজেলার ছয়ফুল্লাকান্দি ইউনিয়নের ভেলানগর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নবীনগর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পিয়াস বসাক জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ লাইনস থেকে একটি দল নির্ধারিত কর্মসূচিতে যোগ দিতে গাড়িযোগে বাঞ্ছারামপুরের উদ্দেশে রওনা দেয়। পথে ভেলানগর এলাকায় পৌঁছালে গাড়িটির চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে সেটি উল্টে সড়কের পাশের জমিতে পড়ে যায়।   দুর্ঘটনায় নায়েক জুয়েল মিয়া ও কনস্টেবল শরিফ গুরুতর আহত হন। অন্য আহতরা হলেন কনস্টেবল মহিউদ্দিন, মেহেদী হাসান, জহির রায়হান, আব্দুস সালাম, মাইনুল হাসান এবং এএসআই নিজাম।   পরে আহতদের উদ্ধার করে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে গুরুতর আহত দুই পুলিশ সদস্যকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার সেন্ট্রাল পুলিশ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
বরিশালে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে চালক নিহত, আহত অন্তত ২০

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় ঢাকা–বরিশাল মহাসড়কে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে একজন চালক নিহত এবং অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার দিকে বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর সেতু-র উত্তর পাশের ঢালে এ দুর্ঘটনা ঘটে।   নিহত ব্যক্তি ইসলাম পরিবহনের চালক কবির হোসেন। তিনি বরগুনার বাসিন্দা বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।   পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, পাথরঘাটা থেকে ঢাকাগামী ইসলাম পরিবহন (ঢাকা মেট্রো ব-১৩-২৩৪৬) এবং ঢাকা থেকে বরিশালগামী লাবিবা পরিবহন (ঢাকা মেট্রো ব-১৪-৩৯৭৯) বাস দুটি মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে লাবিবা পরিবহনের চালক রাসেলসহ উভয় বাসের ১৫ থেকে ২০ জন যাত্রী গুরুতর আহত হন। আহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।   গুরুতর আহত অবস্থায় কবির হোসেনকে দ্রুত শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।   দুর্ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স-এর বাবুগঞ্জ ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করে। আহতদের বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ নিকটবর্তী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।   বাবুগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার জাহিদুল ইসলাম জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।   বাবুগঞ্জ থানার ওসি শেখ মো. এহতেশামুল ইসলাম বলেন, দুর্ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। নিহত চালকের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।   দুর্ঘটনার খবর পেয়ে বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা উল হুসনা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং হাসপাতালে ভর্তি আহতদের খোঁজ নেন। তিনি আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেছেন বলে জানান।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
গোপালগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনা: বাস ও ট্রাক মুখোমুখি সংঘর্ষে আহত ১৫ জন

গোপালগঞ্জের সদর উপজেলার চন্দ্রদিঘলীয়া এলাকায় সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ঘটনায় অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় ঢাকামুখী একটি ট্রাক ও খুলনাগামী যাত্রীবাহী বাস মুখোমুখি সংঘর্ষের শিকার হয়।   পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, সংঘর্ষের সময় উভয়ের সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ আহতদের উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।   দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন সড়কের উপর থাকায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে প্রায় দুই ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরে উদ্ধারকাজ শেষে যানবাহন সরিয়ে মহাসড়কে চলাচল স্বাভাবিক হয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

Top week

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ৩, ২০২৬ 0