আমেরিকা

হরমুজ প্রণালী বন্ধে বিশ্বজুড়ে হিলিয়াম সংকট: ঝুঁকিতে চিকিৎসা ও প্রযুক্তি খাত

Unknown প্রকাশ: এপ্রিল ৪, ২০২৬ ২:২১
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালীতে অচলাবস্থার কারণে এবার বিশ্বজুড়ে তীব্র হিলিয়াম সংকট দেখা দিয়েছে। জ্বালানি তেল বা এলএনজি নিয়ে আলোচনার আড়ালে ঢাকা পড়ে যাওয়া এই ‘হিলিয়াম সংকট’ এখন আধুনিক সভ্যতার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে চিকিৎসা, সেমিকন্ডাক্টর এবং মহাকাশ গবেষণা খাতে নেমে এসেছে চরম অনিশ্চয়তা।


বিশ্বের মোট হিলিয়াম চাহিদার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সরবরাহ হয় হরমুজ প্রণালী দিয়ে। বর্তমানে ইরানের নিষেধাজ্ঞায় এই রুটটি বন্ধ থাকায় সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। এছাড়া কাতারে জ্বালানি গ্যাস উৎপাদন কেন্দ্রে ইরানি হামলায় এলএনজির পাশাপাশি হিলিয়াম উৎপাদনও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উল্লেখ্য, কাতার একাই বিশ্বের ৩০ থেকে ৩৩ শতাংশ হিলিয়াম সরবরাহ করে। আমেরিকা ও রাশিয়ার সামান্য উৎপাদন থাকলেও তা বৈশ্বিক চাহিদা মেটাতে একেবারেই অপর্যাপ্ত।


হিলিয়াম গ্যাসের এই সংকটে সবচেয়ে বড় বিপর্যয়ের মুখে চিকিৎসা খাত। এমআরআই (MRI) মেশিন সচল রাখতে বিপুল পরিমাণ হিলিয়াম প্রয়োজন হয়। এই গ্যাসের অভাব দেখা দিলে বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা বড় ধরনের ধাক্কা খাবে। পাশাপাশি সংকটে পড়েছে সেমিকন্ডাক্টর বা চিপ নির্মাণ শিল্প। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) এই যুগে চিপ তৈরিতে হিলিয়াম অপরিহার্য, যা চিপ উৎপাদন প্রক্রিয়াকে শীতল রাখতে ব্যবহৃত হয়। সরবরাহ বন্ধ থাকলে ডেটা সেন্টার এবং এআই প্রযুক্তির বিকাশ থমকে যেতে পারে।


মহাকাশ গবেষণাতেও হিলিয়ামের গুরুত্ব অপরিসীম। রকেট উৎক্ষেপণ থেকে শুরু করে ফাইবার অপটিক্স এবং ওয়েল্ডিং শিল্পেও এই গ্যাসের বিকল্প নেই। এদিকে ভারতের মতো দেশগুলো যারা তাদের চাহিদার শতভাগ হিলিয়াম আমদানি করে, তাদের জন্য পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। বর্তমানে হরমুজে আটকে থাকা ২০০টিরও বেশি জাহাজে আটকা পড়ে আছে জরুরি হিলিয়াম গ্যাস। হাতে থাকা মজুদ ফুরিয়ে আসছে দ্রুত, আর সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে পৃথিবী এক চরম সংকটের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
হরমুজকে ‘নতুন মার্কিন ভূখণ্ড’ ঘোষণা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের
হরমুজকে ‘নতুন মার্কিন ভূখণ্ড’ ঘোষণা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের, সব মাইন সরিয়ে প্রণালি খোলার দাবি

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও বাণিজ্যিক জলপথ হরমুজ প্রণালিকে ‘নতুন মার্কিন ভূখণ্ড’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রুথ সোশ্যালে প্রকাশিত একটি মানচিত্রে হরমুজ প্রণালির ওপর বড় নীল বৃত্ত এঁকে ‘নিউ ইউএস টেরিটরি’ লেখা হয়। একই পোস্টে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেন, প্রণালিটি এখন খোলা ও সচল এবং সেখানকার সব সামুদ্রিক মাইন সরিয়ে নেওয়া অথবা ধ্বংস করা হয়েছে।    প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, মার্কিন নৌ অবরোধ পুরোপুরি কার্যকর রয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের পথ খুলে দেওয়া হয়েছে এবং পানিতে থাকা সব মাইন অপসারণ বা বিস্ফোরণের মাধ্যমে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। তবে সব মাইন অপসারণের এই দাবি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। ফলে এটিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দাবি হিসেবেই দেখা হচ্ছে।    তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হরমুজকে ‘নতুন মার্কিন ভূখণ্ড’ ঘোষণা করলেও এর মাধ্যমে প্রণালিটির আন্তর্জাতিক আইনি অবস্থান পরিবর্তিত হয়েছে - এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। হরমুজ ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথ। আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা আইএমও বলেছে, আন্তর্জাতিক নৌচলাচলে ব্যবহৃত প্রণালিতে ট্রানজিট প্যাসেজের অধিকার বাধাগ্রস্ত, অস্বীকার বা স্থগিত করা উচিত নয়।    প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ‘হরমুজ খোলা ও সচল’ থাকার দাবির বিপরীতে বাস্তব জাহাজ চলাচলের চিত্রও এখনো স্বাভাবিক নয়। কেপলারের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার হরমুজ দিয়ে মাত্র ছয়টি পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করেছে। সোমবার এই সংখ্যা ছিল নয়টি, আর সাম্প্রতিক ১০ দিনের দৈনিক গড় প্রায় ১১টি। যুদ্ধের আগে প্রতিদিন ১৩০টির বেশি জাহাজ এই জলপথ অতিক্রম করত।    আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, বড় তেল ও গ্যাসবাহী জাহাজের চলাচলও ব্যাপকভাবে কমেছে। সাম্প্রতিক কয়েক দিনে কোনো কোনো দিন হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচল একেবারে বন্ধ থাকার ঘটনাও ঘটেছে। শনিবার মাত্র পাঁচটি পণ্যবাহী জাহাজ প্রণালিটি ব্যবহার করেছিল, আর পরদিন রোববার কেপলারের হিসাবে কোনো পণ্যবাহী জাহাজই হরমুজ অতিক্রম করেনি। নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে অনেক জাহাজ মালিক গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ এড়িয়ে চলছেন।    ইরানও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বক্তব্যের সম্পূর্ণ বিপরীত অবস্থান নিয়েছে। দেশটির শীর্ষ আলোচক মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র জুনে হওয়া অন্তর্বর্তী সমঝোতার শর্ত পূরণ না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত তার বক্তব্যে পরিষ্কার করা হয়েছে, ওয়াশিংটনের কাছ থেকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ চায় তেহরান।    ইরানের শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে ইরানি বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন অবরোধ তুলে নেওয়া, তেল রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, বিদেশে আটকে থাকা ইরানি সম্পদ মুক্ত করা এবং সব ফ্রন্টে সামরিক হুমকি ও অভিযান বন্ধ করা। তেহরানের অবস্থান অনুযায়ী, এসব শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ পুরোপুরি স্বাভাবিকভাবে খুলে দেওয়ার প্রশ্ন নেই।    এদিকে ইরানের সঙ্গে দ্রুত নতুন কোনো সমঝোতা হওয়ার সম্ভাবনাও আপাতত অনিশ্চিত। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তেহরানের সঙ্গে বর্তমানে কোনো আলোচনা বা কথোপকথন চলছে না এবং নতুন কোনো আলোচনাও নির্ধারিত নেই। ফলে একদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হরমুজ খুলে দেওয়ার দাবি করছেন, অন্যদিকে তেহরান বলছে প্রণালিটি বন্ধ থাকবে - দুই পক্ষের সম্পূর্ণ বিপরীত বক্তব্যে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।   এই অনিশ্চয়তার সরাসরি প্রভাব পড়ছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহনেও। যুদ্ধের আগে বিশ্বের অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যেত। কিন্তু সংঘাতের কারণে সেই প্রবাহ ব্যাপকভাবে কমে গেছে। রয়টার্সের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, হরমুজ দিয়ে দৈনিক তেল পরিবহন যুদ্ধ-পূর্ব প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ ব্যারেল থেকে কমে প্রায় ২০ লাখ ব্যারেলে নেমে এসেছে।    ঝুঁকি এতটাই বেড়েছে যে চীনের দুটি বড় রাষ্ট্রীয় জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান জুলাইয়ের শেষ দিক থেকে হরমুজ ও বাব আল-মান্দেবের মতো গুরুত্বপূর্ণ মধ্যপ্রাচ্যের জলপথ দিয়ে চলাচল বন্ধ রেখেছে। প্রতিষ্ঠান দুটি আগে চীনের মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করা তেলের প্রায় অর্ধেক পরিবহনের সঙ্গে যুক্ত ছিল। এখন ঝুঁকি এড়াতে বিকল্প ব্যবস্থায় তেল পরিবহনের চেষ্টা করছে তারা।    তবে সংকটের মধ্যেও সীমিত পরিসরে তেল পরিবহন শুরু করার চেষ্টা চলছে। সৌদি আরামকো হরমুজের ভেতরে থাকা টার্মিনাল থেকে আবার কিছু অপরিশোধিত তেল লোড করা শুরু করেছে। ১২ থেকে ১৬ আগস্টের মধ্যে তিনটি বড় তেলবাহী জাহাজ জুয়াইমাহ ও রাস তানুরা টার্মিনাল থেকে তেল নিয়েছে। প্রতিটি জাহাজ প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল তেল বহনে সক্ষম।    হরমুজের পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থাও উদ্বিগ্ন। আইএমও এর আগে বেসামরিক বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার নিন্দা জানিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী নৌচলাচলের স্বাধীনতা রক্ষার আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটি স্পষ্ট করেছে, আন্তর্জাতিক নৌচলাচলে ব্যবহৃত কোনো প্রণালিতে জাহাজের ট্রানজিট প্যাসেজ বাধাগ্রস্ত বা স্থগিত করা উচিত নয়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৯, ২০২৬ ৩:৩৯
স্কুলে নিয়মিত গেলেই সপ্তাহে ১০০ ডলার

স্কুলে নিয়মিত গেলেই সপ্তাহে ১০০ ডলার! ডেট্রয়েটে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির জন্য নগদ ইন্সেন্টিভস

আমেরিকায় ইউএসপিএসে চাকরির সুযোগ

আমেরিকায় ইউএসপিএসে চাকরির সুযোগ : আবেদন করার যোগ্যতা, সুবিধা এবং আবেদন করবেন যেভাবে

গাড়িতে ইঞ্জিন বন্ধ হওয়ার পরও  আগুনের ঝুঁকি

গাড়িতে ইঞ্জিন বন্ধ হওয়ার পরও আগুনের ঝুঁকি! যুক্তরাষ্ট্রে ১৫ লাখের বেশি গাড়ি রিকল

অপারেশনের সময় পটাশিয়াম দেওয়ার পর পরই প্যারালাইজড বৃদ্ধা
অপারেশনের সময় পটাশিয়াম দেওয়ার পর পরই প্যারালাইজড বৃদ্ধা, হাসপাতালের বিরুদ্ধে পরিবারের অভিযোগ

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসির ন্যাশভিলে একটি হাসপাতালে অপারেশনের সময় পটাশিয়াম দেওয়ার পর এক নারী কোমর থেকে নিচের অংশে প্যারালাইজড হয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার। ঘটনাটি ঘটেছে অ্যাসেনশন সেন্ট থমাস হসপিটাল মিডটাউনে। তবে ঠিক কী কারণে তার শারীরিক অবস্থার এমন পরিবর্তন হয়েছে, সে বিষয়ে পরিবারের বক্তব্যের বাইরে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত কোনো চূড়ান্ত মেডিকেল সিদ্ধান্ত এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউকেআরএন নিউজ ২-কে ওই নারীর পুত্রবধূ জানিয়েছেন, তার শাশুড়ি চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে গিয়েছিলেন। অপারেশনের সময় তাকে পটাশিয়াম দেওয়ার পর পরিস্থিতি ভয়াবহভাবে বদলে যায় বলে পরিবারের দাবি। এরপর থেকে তিনি কোমরের নিচের অংশ নড়াচড়া করতে পারছেন না।   পরিবারের অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে অপারেশনের সময় পটাশিয়াম দেওয়ার বিষয়টি। তবে রোগীকে কী পরিমাণ পটাশিয়াম দেওয়া হয়েছিল, কেন দেওয়া হয়েছিল এবং সেটিই তার প্যারালাইসিসের সরাসরি কারণ কি না, তা নিশ্চিত করার মতো পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল তথ্য প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি।   পটাশিয়াম মানবদেহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ইলেক্ট্রোলাইট। এটি স্নায়ু, পেশি ও হৃদযন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রা খুব কম বা খুব বেশি হলে গুরুতর শারীরিক জটিলতা তৈরি হতে পারে। এ কারণে হাসপাতালে পটাশিয়াম দেওয়ার ক্ষেত্রে রোগীর শারীরিক অবস্থা, রক্ত পরীক্ষার ফল এবং প্রয়োজনীয় ডোজ বিবেচনা করা হয়।   তবে কোনো নির্দিষ্ট রোগীর ক্ষেত্রে পটাশিয়াম দেওয়ার পর জটিলতা দেখা দিলেই সেটিকে সরাসরি কারণ হিসেবে ধরে নেওয়া যায় না। অপারেশনের সময় ব্যবহৃত অ্যানেসথেশিয়া, রোগীর আগে থেকে থাকা শারীরিক সমস্যা, স্নায়ু বা মেরুদণ্ডের জটিলতা এবং অন্যান্য চিকিৎসাগত কারণও বিবেচনায় নিতে হয়। এই ঘটনায় পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল রেকর্ড ও বিশেষজ্ঞ মূল্যায়ন ছাড়া প্যারালাইসিসের সুনির্দিষ্ট কারণ নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।   অ্যাসেনশন সেন্ট থমাস হসপিটাল মিডটাউন ন্যাশভিলের একটি বড় হাসপাতাল। সেখানে ইমার্জেন্সি কেয়ার, সার্জারি, নিউরোলজি, অর্থোপেডিকস, হার্ট ও ভাসকুলার কেয়ারসহ বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়। হাসপাতালটির সার্জারি ও ক্রিটিক্যাল কেয়ার সুবিধাও রয়েছে।   পরিবারের অভিযোগ সামনে আসার পর ঘটনাটি নিয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এখন, অপারেশনের সময় রোগীর চিকিৎসায় ঠিক কী ঘটেছিল এবং তার বর্তমান শারীরিক অবস্থার সঙ্গে সেই চিকিৎসার কোনো সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না। এসব প্রশ্নের নির্ভরযোগ্য উত্তর পেতে মেডিকেল রেকর্ড, চিকিৎসকদের মূল্যায়ন এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ হবে।   পরিবারটি এখন ওই নারীর চিকিৎসা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন। একই সঙ্গে তারা অপারেশনের সময় কী ঘটেছিল তার স্পষ্ট ব্যাখ্যা চাইছে। চিকিৎসাজনিত ত্রুটির অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে এমন তথ্য এখনো প্রকাশ্যে না আসায় ঘটনাটিকে এই পর্যায়ে পরিবারের অভিযোগ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৯, ২০২৬ ১:৫৮
রকেট বানিয়ে নাসার চ্যালেঞ্জে অংশ নেওয়ার সুযোগ

রকেট বানিয়ে নাসার চ্যালেঞ্জে অংশ নেওয়ার সুযোগ, আবেদন শেষ ১৪ সেপ্টেম্বর

যোগ্য গাড়ির বীমা গ্রাহকদের ৫ বিলিয়ন ডলার ফেরত দিচ্ছে স্টেট ফার্ম। ছবি: সংগৃহীত

স্টেট ফার্মের ৫ বিলিয়ন ডলারের ক্যাশব্যাক শুরু, দেখে নিন কারা পাচ্ছেন গাড়ির ইন্স্যুরেন্সের এই অর্থ ফেরত

ভার্জিনিয়ায় অভিবাসী আটকের ঘটনাকে ঘিরে উঠেছে গুরুতর আঘাতের অভিযোগ। ছবি: সংগৃহীত

ভার্জিনিয়ায় কর্মস্থলে যাওয়ার পথে আইসিইর হাতে আটক অভিবাসী, হাসপাতালে পরীক্ষায় মিলল মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ

ছেলেকে উদ্ধারের পর নদীতে তলিয়ে গিয়ে প্রাণ হারান অ্যাঞ্জেলিনা খালিমেনডিক। ছবি: সংগৃহীত
ছেলেকে বাঁচাতে নদীতে ঝাঁপ, নিজের জীবন দিয়ে সন্তানকে বাঁচালেন মা

যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের লিবার্টিভিলে নদীতে ডুবে এক মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। রবিবার সন্ধ্যায় ছেলে নদীতে পড়ে গেলে তাকে বাঁচাতে ডেস প্লেইনস নদীতে ঝাঁপ দেন ৩১ বছর বয়সী অ্যাঞ্জেলিনা খলিমেন্দিক। ছেলেকে নিরাপদে তীরে পৌঁছে দিতে সক্ষম হলেও নিজে আর ফিরতে পারেননি তিনি।   লেক কাউন্টি ফরেস্ট প্রিজার্ভ পুলিশ ও লিবার্টিভিলের ফায়ার ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, রবিবার সন্ধ্যা ৭টার পর ইন্ডিপেনডেন্স গ্রোভ ফরেস্ট প্রিজার্ভের কাছের নদীতে উদ্ধারকাজের জন্য তাদের ডাকা হয়। ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকর্মীরা ওই নারীকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করেন। তখন তিনি শ্বাস নিচ্ছিলেন না। দ্রুত তাকে অ্যাডভোকেট কন্ডেল মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।   লেক কাউন্টি করোনার অফিস জানিয়েছে, নিহত ওই নারী ইলিনয়ের হিনসডেল এলাকার বাসিন্দা। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ছেলেকে সাহায্য করতেই তিনি নদীতে ঝাঁপ দিয়েছিলেন। ছেলেকে নিরাপদে তীরে তুলে দেওয়ার পর তিনি নিজেই পানির নিচে তলিয়ে যান। ওই সময় এক আত্মীয় ও উপস্থিত কয়েকজন ব্যক্তি দ্রুত পানিতে নেমে অ্যাঞ্জেলিনাকে উদ্ধার করে ডাঙায় নিয়ে আসেন।   সোমবার তার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। করোনার অফিস জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের ফলাফলে পানিতে ডুবেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। বর্তমানে লেক কাউন্টি ফরেস্ট প্রিজার্ভ পুলিশ এবং লেক কাউন্টি করোনার অফিস যৌথভাবে এ ঘটনার তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৮, ২০২৬ ২২:৪০
যুক্তরাষ্ট্রের একটি ট্রাম্প পণ্যদোকানে বিক্রির জন্য রাখা বিভিন্ন সামগ্রী। ছবি: সংগৃহীত

বিক্রি কমে বন্ধ হচ্ছে ট্রাম্পের দুই বড় দোকান, কমেছে ক্রেতার ভিড়

সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে জিমে ব্যায়ামের ভিডিও প্রকাশ করে আলোচনায় মার্কিন ইনফ্লুয়েন্সার অ্যাঞ্জেলা হোলম। ছবি: সংগৃহীত

নবজাতককে বুকে বেঁধে জিমে ব্যায়াম, তীব্র সমালোচনার মুখে ইনফ্লুয়েন্সার মা

ডিভোর্সের প্রক্রিয়ায় থাকা এই দম্পতির দুই ছোট শিশু ঘটনার সময় বাড়িতেই উপস্থিত ছিল। ছবি: সংগৃহীত

সন্তানদের নিতে এসে ফিরলেন লাশ হয়ে, টেক্সাসে স্বামীর হাতে স্ত্রীর মর্মান্তিক পরিণতি

0 Comments