ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে দেশের সড়ক, রেল ও নৌপথে দুর্ঘটনায় প্রাণহানি উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। ঈদযাত্রা পুরোপুরি শেষ না হলেও প্রাথমিক হিসাবেই ভয়াবহ চিত্র সামনে এসেছে। মাত্র ১২ দিনেই বিভিন্ন দুর্ঘটনায় ২৪১ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, এই সময়ের মধ্যে ২০৫টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৪২ জন নিহত এবং অন্তত ৪৪১ জন আহত হয়েছেন। যদিও ঈদের আগে-পরে মোট ১৫ দিনকে সাধারণত ঈদযাত্রা হিসেবে ধরা হয়, তবে এবারের হিসাব এখনো পূর্ণাঙ্গ নয়।
এদিকে, ১৮ মার্চ রাজধানীর সদরঘাট এলাকায় দুই লঞ্চের সংঘর্ষে প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত দুজন নিহত হন। একই দিন কুমিল্লায় একটি যাত্রীবাহী বাস রেললাইনে উঠে ট্রেনের সঙ্গে সংঘর্ষে ১২ জন নিহত এবং ২৩ জন আহত হন।
অন্যদিকে, ২৫ মার্চ রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় একটি বাস পদ্মা নদীতে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৬ জনে। উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে আরও কয়েকজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর মতে, ঈদের সময় অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ, বেপরোয়া গতি, চালকের ক্লান্তি ও অদক্ষতা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। গত এক দশকের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে দেশে হাজারো দুর্ঘটনায় কয়েক হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানোর প্রতিযোগিতা, ফিটনেসবিহীন যানবাহন এবং দুর্বল তদারকি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় ৪২ শতাংশ দুর্ঘটনার জন্য দায়ী বেপরোয়া গতি। পাশাপাশি সড়কের নাজুক অবস্থাও বড় ঝুঁকি হিসেবে কাজ করছে।
তারা মনে করেন, দুর্ঘটনা কমাতে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি জোরদার, দক্ষ চালক তৈরি, যানবাহনের ফিটনেস নিশ্চিতকরণ এবং কঠোর আইন প্রয়োগ জরুরি। একই সঙ্গে চালক ও যাত্রীদের সচেতনতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রে বিয়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব বা গ্রীন কার্ড পাওয়ার নিয়ম বন্ধ হয়ে গেছে। তবে মার্কিন ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ ইউএস সিটিজেনশিপ এন্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিস এর অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী এই দাবি সঠিক নয়। সংস্থাটি জানিয়েছে, বিয়ের মাধ্যমে এখনও গ্রীন কার্ড এবং পরে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ রয়েছে, তবে আবেদনকারীদের নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলতে হবে এবং বর্তমানে যাচাই-বাছাই আগের তুলনায় বেশি কঠোর করা হয়েছে। ইউএসসিআইএসের নিয়ম অনুযায়ী, একজন মার্কিন নাগরিক বা গ্রীন কার্ডধারী তার স্বামী বা স্ত্রীর জন্য পারিবারিক ভিত্তিতে অভিবাসনের আবেদন করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে প্রথমে বৈধ বিয়ের প্রমাণসহ আবেদন জমা দিতে হয়। আবেদন অনুমোদিত হলে বিদেশি স্বামী বা স্ত্রী গ্রীন কার্ড পেতে পারেন এবং স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি পাবেন। সাধারণত মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করলে প্রক্রিয়া তুলনামূলক দ্রুত হয়, আর গ্রীন কার্ডধারীকে বিয়ে করলে অপেক্ষার সময় কিছুটা বেশি হতে পারে। গ্রীন কার্ড পাওয়ার পর নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার নিয়মও আগের মতোই রয়েছে। ইমিগ্রেশন নীতিমালা অনুযায়ী, যদি কেউ মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করে গ্রীন কার্ড পান এবং কমপক্ষে তিন বছর একসাথে বসবাস করেন, তাহলে তিনি নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারেন। আর যদি গ্রীন কার্ডধারীকে বিয়ে করেন, তাহলে সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে পাঁচ বছর পূর্ণ হলে নাগরিকত্বের আবেদন করা যায়। ইমিগ্রেশন বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে বেশি সাক্ষাৎকার নেওয়া হচ্ছে, অতিরিক্ত কাগজপত্র চাওয়া হচ্ছে এবং যৌথ ব্যাংক হিসাব, বাসার ঠিকানা, ট্যাক্স নথি ও পারিবারিক প্রমাণ জমা দিতে হচ্ছে। ভুয়া বিয়ের মাধ্যমে সুবিধা নেওয়া ঠেকাতে এই যাচাই-বাছাই বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া আবেদন প্রক্রিয়ায় সময় বেশি লাগার কারণেও অনেকের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি হয়েছে যে বিয়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব বন্ধ হয়ে গেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বিয়ের মাধ্যমে আমেরিকার নাগরিকত্ব বা গ্রীন কার্ড বন্ধ হয়নি। তবে বর্তমানে আবেদন প্রক্রিয়া কঠোর হয়েছে এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে বৈধ বিবাহ, একসাথে বসবাস এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রমাণ করা বাধ্যতামূলক।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে দেশের সড়ক, রেল ও নৌপথে দুর্ঘটনায় প্রাণহানি উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। ঈদযাত্রা পুরোপুরি শেষ না হলেও প্রাথমিক হিসাবেই ভয়াবহ চিত্র সামনে এসেছে। মাত্র ১২ দিনেই বিভিন্ন দুর্ঘটনায় ২৪১ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, এই সময়ের মধ্যে ২০৫টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৪২ জন নিহত এবং অন্তত ৪৪১ জন আহত হয়েছেন। যদিও ঈদের আগে-পরে মোট ১৫ দিনকে সাধারণত ঈদযাত্রা হিসেবে ধরা হয়, তবে এবারের হিসাব এখনো পূর্ণাঙ্গ নয়। এদিকে, ১৮ মার্চ রাজধানীর সদরঘাট এলাকায় দুই লঞ্চের সংঘর্ষে প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত দুজন নিহত হন। একই দিন কুমিল্লায় একটি যাত্রীবাহী বাস রেললাইনে উঠে ট্রেনের সঙ্গে সংঘর্ষে ১২ জন নিহত এবং ২৩ জন আহত হন। অন্যদিকে, ২৫ মার্চ রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় একটি বাস পদ্মা নদীতে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৬ জনে। উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে আরও কয়েকজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর মতে, ঈদের সময় অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ, বেপরোয়া গতি, চালকের ক্লান্তি ও অদক্ষতা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। গত এক দশকের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে দেশে হাজারো দুর্ঘটনায় কয়েক হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানোর প্রতিযোগিতা, ফিটনেসবিহীন যানবাহন এবং দুর্বল তদারকি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় ৪২ শতাংশ দুর্ঘটনার জন্য দায়ী বেপরোয়া গতি। পাশাপাশি সড়কের নাজুক অবস্থাও বড় ঝুঁকি হিসেবে কাজ করছে। তারা মনে করেন, দুর্ঘটনা কমাতে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি জোরদার, দক্ষ চালক তৈরি, যানবাহনের ফিটনেস নিশ্চিতকরণ এবং কঠোর আইন প্রয়োগ জরুরি। একই সঙ্গে চালক ও যাত্রীদের সচেতনতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলায় বাড়িতে ঢুকে পুলিশ পরিচয়ে এক কলেজছাত্রকে গুলি করে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) বিকেলে উপজেলার শিবপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আমির হামজা (২৩) শিবপুর গ্রামের বাসিন্দা রুহুল আমিন মুন্সির ছেলে। তিনি খুলনা সরকারি সুন্দরবন কলেজের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। পাশাপাশি খুলনার একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারেও কর্মরত ছিলেন। নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকেল চারটার দিকে বাড়ির উঠানে বাবা ও চাচার সঙ্গে কথা বলছিলেন হামজা। এ সময় তিনটি মোটরসাইকেলে করে কয়েকজন যুবক সেখানে এসে পৌঁছায়। তাদের সবার মাথায় হেলমেট ছিল। তারা নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে হামজাকে ধাওয়া দেয়। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে হামজা দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে পাশের একটি খালের পাড়ে পৌঁছালে হামলাকারীরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি করে। গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। পরে হামলাকারীরা দ্রুত সেখান থেকে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে পাঠায়। বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) শামীম হোসেন জানিয়েছেন, ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে কাজ করছে জেলা পুলিশ, সিআইডি, পিবিআই এবং গোয়েন্দা পুলিশ। হত্যার কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। এর আগে চলতি মাসেই জেলার বিভিন্ন এলাকায় গুলিতে হত্যার একাধিক ঘটনা ঘটেছে। ১৪ মার্চ মোল্লাহাট উপজেলা সদরে বাড়ি ফেরার পথে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন এক ব্যবসায়ী। তারও আগে একই এলাকায় আরেক ব্যক্তিকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এসব ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় পদ্মা নদীতে ডুবে যাওয়া বাসের উদ্ধারকাজ সরাসরি মনিটরিং করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উদ্ধার কার্যক্রম দ্রুততম সময়ে সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। বুধবার (২৫ মার্চ) মধ্যরাতে সড়ক পরিবহন ও সেতু, নৌপরিবহন ও রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এক প্রেস বার্তায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এবং নিহতদের প্রতি গভীর শোক ও পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। মন্ত্রী জানান, দুর্ঘটনার পরপরই বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ এবং ডুবুরি দল কাজ শুরু করেছে। পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিস, বিআইডব্লিউটিসি, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, পুলিশ, নৌপুলিশ এবং স্থানীয় জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থা সমন্বিতভাবে উদ্ধার তৎপরতায় অংশগ্রহণ করছে। মন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছেন এবং দ্রুততম সময়ে উদ্ধার কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য সব সংস্থাকে নির্দেশনা দিয়েছেন। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। দায়ী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করা হবে। উদ্ধার কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও সেতু বিভাগের প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নূরুন্নাহার চৌধুরী এবং অন্যান্য কর্মকর্তাগণ। দুর্ঘটনায় বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত পর্যন্ত ১৬টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।