অনলাইনে পরিচয়, তারপর প্রেম। ধীরে ধীরে সম্পর্ক গভীর হয়। একপর্যায়ে অসুস্থতার কথা জানিয়ে শুরু হয় অর্থ সাহায্যের অনুরোধ। চিকিৎসা খরচ, হাসপাতালের বিল, জীবনরক্ষাকারী যন্ত্রপাতি, ওষুধ—একের পর এক কারণ দেখিয়ে টাকা পাঠাতে থাকেন যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের এক ব্যক্তি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি জানতে পারেন, যাকে বাঁচানোর জন্য এত অর্থ ব্যয় করেছেন, সেই নারী বাস্তবে কখনও ছিলেনই না।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনজে ডটকম ও আদালতের নথি অনুযায়ী, এই প্রতারণা চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার দায়ে নিউ জার্সির এডিসন এলাকার ৩৮ বছর বয়সী কেনি ওসাস ওকুংহেকে চার বছর তিন মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন একটি ফেডারেল আদালত।
মামলার নথিতে বলা হয়েছে, ওহাইওর ওই ব্যক্তি অনলাইনে ‘অ্যাগি গঞ্জালেস’ নামে এক নারীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন। কিছুদিন পর নারীটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, তিনি গুরুতর অসুস্থ এবং হাসপাতালে ভর্তি। পরে একজন কথিত চিকিৎসকও তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
চিকিৎসকের পরিচয়ে পাঠানো বার্তাগুলোতে দাবি করা হয়, ওই নারীর শারীরিক অবস্থা দ্রুত অবনতি হচ্ছে। চিকিৎসা ব্যয় মেটানো না গেলে তাকে বাঁচানো সম্ভব হবে না। আবেগঘন এসব বার্তায় বিশ্বাস করে ওই ব্যক্তি মাসের পর মাস অর্থ পাঠাতে থাকেন।
পরে তদন্তে দেখা যায়, অ্যাগি গঞ্জালেস নামে কোনো নারী ছিল না। চিকিৎসক পরিচয়ে যিনি বার্তা পাঠিয়েছিলেন, তিনিও ছিলেন কাল্পনিক চরিত্র। পুরো ঘটনাটি ছিল সুপরিকল্পিত প্রতারণার অংশ।
আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০১৯ সাল থেকে ২০২৩ সালের শেষ পর্যন্ত ওকুংহের নিয়ন্ত্রণাধীন একাধিক ব্যাংক হিসাবে ৪০ লাখ ডলারের বেশি অর্থ জমা হয়। এসব অর্থ এসেছে বিভিন্ন ধরনের অনলাইন প্রতারণার মাধ্যমে।
ওহাইওর ওই ব্যক্তি একাই হারিয়েছেন ৪ লাখ ১৬ হাজার ডলারের বেশি। একই ধরনের আরেকটি প্রেমের প্রতারণায় অ্যারিজোনার এক বাসিন্দা হারিয়েছেন ৫ লাখ ৫৫ হাজার ডলার। এছাড়া আরও কয়েকজন ভুক্তভোগী ভুয়া বাড়ি ভাড়া, কাল্পনিক বিনিয়োগ প্রকল্প এবং ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবসার প্রলোভনে অর্থ হারিয়েছেন।
তদন্তকারীরা জানান, প্রতারণার কৌশল প্রায় সব ক্ষেত্রেই একই ছিল। প্রথমে ভুয়া পরিচয়ে সম্পর্ক তৈরি করা হতো। এরপর আবেগঘন সংকট, জরুরি পরিস্থিতি কিংবা লাভজনক বিনিয়োগের সুযোগ দেখিয়ে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করা হতো।
মামলায় উঠে এসেছে, ওহাইওর ওই ব্যক্তিকে পরে একটি ভুয়া ক্রিপ্টোকারেন্সি প্ল্যাটফর্মে বিনিয়োগের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল। সেখানে বলা হয়, তার বিনিয়োগে বিপুল মুনাফা জমা হয়েছে। তবে সেই অর্থ তুলতে হলে আগে কর ও বিভিন্ন ফি পরিশোধ করতে হবে। সেই অর্থও নির্দিষ্ট ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হয়।
মার্কিন ফেডারেল প্রসিকিউটরদের ভাষ্য অনুযায়ী, এ ধরনের প্রতারণাকে বর্তমানে ‘পিগ বুচারিং’ নামে ডাকা হয়। এতে প্রতারকরা দীর্ঘ সময় ধরে ভুক্তভোগীর বিশ্বাস ও আবেগ অর্জন করে, তারপর ধাপে ধাপে বড় অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেয়।
তদন্ত চলাকালে একটি ব্যাংক সন্দেহজনক লেনদেন নিয়ে প্রশ্ন তুললে ওকুংহে দাবি করেন, তিনি গাড়ির যন্ত্রাংশের ব্যবসা করেন এবং অর্থগুলো ব্যবসায়িক লেনদেনের অংশ। কিন্তু পরে তদন্তকারীরা তার ই-মেইলে এমন কিছু নথি খুঁজে পান, যা অর্থ স্থানান্তরের পর তৈরি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ।
২০২২ সালের অক্টোবরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে অর্থ পাচারের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন তিনি। আদালত তাকে কারাদণ্ডের পাশাপাশি সাতজন ভুক্তভোগীকে মোট ১২ লাখ ৭৫ হাজার ডলার ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন সম্পর্ক, বিনিয়োগ বা আর্থিক সহায়তার অনুরোধের ক্ষেত্রে পরিচয় যাচাই না করে অর্থ পাঠানো ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আবেগকে পুঁজি করে পরিচালিত এ ধরনের প্রতারণা বিশ্বজুড়ে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না। নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার। তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের আকাশে শনাক্ত হওয়া একটি রহস্যময় উড়ন্ত বস্তুকে সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকি মনে করে প্রায় ৫ লাখ ডলার মূল্যের ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ভূপাতিত করেছিল মার্কিন সামরিক বাহিনী। তবে পরে তদন্তে উঠে আসে, সেটি আসলে একটি গবেষণামূলক বেলুন ছিল, যা একটি স্কাউট-সংশ্লিষ্ট বৈজ্ঞানিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে পরিচালিত হচ্ছিল। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৩ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি মিশিগানের লেক হিউরন এলাকার আকাশে একটি অজ্ঞাত উড়ন্ত বস্তু শনাক্ত করে মার্কিন বিমান বাহিনী। বস্তুটির পরিচয় নিশ্চিত করা না গেলেও সেটিকে সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। পরে একটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান থেকে এআইএম-৯ সাইডউইন্ডার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে সেটিকে ধ্বংস করা হয়। সম্প্রতি এক নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা বিষয়ক সম্মেলনে মার্কিন সরকারের অল-ডোমেইন অ্যানোমালি রেজল্যুশন অফিসের (এএআরও) সাবেক পরিচালক শন কার্কপ্যাট্রিক জানান, পরে বিশ্লেষণে দেখা যায় ধ্বংস করা বস্তুটি কোনো সামরিক বা ভিনগ্রহীয় প্রযুক্তি ছিল না। বরং সেটি ছিল একটি ছোট গবেষণা বেলুন, যা বৈজ্ঞানিক তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছিল। তার দাবি, বেলুনটি পৃথিবীকে সাত থেকে আটবার প্রদক্ষিণও করেছিল। একই অনুষ্ঠানে এএআরওর সাবেক ভারপ্রাপ্ত পরিচালক টিম ফিলিপস বলেন, ২০২৩ সালের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের আকাশে চীনা নজরদারি বেলুন শনাক্ত হওয়ার পর দেশটির প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো অত্যন্ত সতর্ক অবস্থানে চলে যায়। ফলে আকাশে শনাক্ত হওয়া যেকোনো অস্বাভাবিক বস্তুকেই সম্ভাব্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল। সেই প্রেক্ষাপটে কিছু সাধারণ গবেষণা বেলুন বা বেসামরিক উড়ন্ত যন্ত্রও সামরিক নজরদারির আওতায় পড়ে। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ওই সময় আলাস্কার আকাশেও আরেকটি গবেষণা বেলুন ধ্বংসে ব্যয়বহুল ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল। তুলনামূলকভাবে স্বল্পমূল্যের গবেষণা বেলুন ধ্বংসে বিপুল অর্থ ব্যয়ের বিষয়টি পরে বিভিন্ন মহলে সমালোচনার জন্ম দেয়। অনেকেই প্রশ্ন তোলেন, পর্যাপ্ত যাচাই ছাড়া এমন সামরিক পদক্ষেপ কতটা যৌক্তিক ছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক সামরিক রাডার ও নজরদারি প্রযুক্তি এখন এতটাই সংবেদনশীল যে অনেক সময় আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ বেলুন, বৈজ্ঞানিক যন্ত্র কিংবা অন্যান্য মানবসৃষ্ট ছোট উড়ন্ত বস্তুকেও অস্বাভাবিক বা রহস্যময় বস্তু হিসেবে শনাক্ত করা হতে পারে। এ কারণেই সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউএফও বা বর্তমানে ব্যবহৃত পরিভাষা অনুযায়ী “অননুমোদিত অস্বাভাবিক আকাশীয় ঘটনা” সংক্রান্ত বহু ঘটনার পুনর্মূল্যায়ন শুরু হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, চীনা নজরদারি বেলুনকে ঘিরে সৃষ্ট জাতীয় নিরাপত্তা উদ্বেগের পর যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখানোর নীতি গ্রহণ করেছিল। তবে লেক হিউরনের ঘটনাটি দেখিয়েছে, অতিরিক্ত সতর্কতার কারণে কখনও কখনও সাধারণ বৈজ্ঞানিক কার্যক্রমও সামরিক সন্দেহের মুখে পড়তে পারে। ঘটনাটি এখনও যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা নীতির আলোচনায় একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) অন্যতম সহযোগী সংগঠন জাতীয়তাবাদী যুবদলের ১৫১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি অনুমোদন করা হয়েছে। গত ৪ জুন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই নতুন কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়। সদ্য ঘোষিত এই কেন্দ্রীয় কমিটিতে সহ-সভাপতি হিসেবে পদ পেয়েছেন মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার সন্তান এবং বর্তমান যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট আবু সাঈদ আহমদ। প্রবাসে অবস্থান করলেও দলীয় কার্যক্রমে এবং কমিউনিটি সেবায় দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন আবু সাঈদ আহমদ। যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির মতো গুরুত্বপূর্ণ ফোরামে সহ-সভাপতির দায়িত্ব পাওয়ার আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্র যুবদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দীর্ঘদিন নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রবাসে দলের সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করার পাশাপাশি তিনি কেন্দ্রীয় যুবদলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক হিসেবেও সফলতার সঙ্গে কাজ করে দলের হাইকমান্ডের আস্থা অর্জন করেন। দলীয় সূত্রে জানা যায়, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, দলের প্রতি অবিচল আনুগত্য এবং বিগত দিনে রাজপথ ও প্রবাসের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকার মূল্যায়ন স্বরূপ তাকে এবার কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতির মতো সম্মানজনক পদে পদায়ন করা হয়েছে। প্রবাসে দলের জন্য নিবেদিত এই নেতার নতুন পদায়নের খবর ছড়িয়ে পড়লে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাশাপাশি তার নিজ এলাকা মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার নেতাকর্মীদের মধ্যেও ব্যাপক আনন্দ ও ইতিবাচক সাড়া লক্ষ্য করা গেছে।
লস এঞ্জেলস, ক্যালিফোর্নিয়া: উত্তর আমেরিকায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের অন্যতম বৃহত্তম ও ঐতিহ্যবাহী সংগঠন ফোবানার (ফেডারেশন অব বাংলাদেশি অ্যাসোসিয়েশনস ইন নর্থ আমেরিকা) ৪০তম ফোবানা কনভেনশন ২০২৬ সফল ও সুশৃঙ্খলভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে গতকাল লস এঞ্জেলসে হোস্ট কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ কার্যকরী পরিষদের পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। লস এঞ্জেলসের জনপ্রিয় কলাপাতা রেস্টুরেন্টে অনুষ্ঠিত এ সভার আয়োজন করেন হোস্ট কমিটির কনভেনার জয়নাল আবেদীন এবং মেম্বার সেক্রেটারি মাহমুদ ইকবাল। সভায় কনভেনশনের সার্বিক পরিকল্পনা, সাংগঠনিক কার্যক্রম এবং বিভিন্ন উপকমিটির দায়িত্ব ও প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। সভায় স্কলারশিপ কার্যক্রম, নারী ক্ষমতায়ন (উইমেন এমপাওয়ারমেন্ট), সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বিভিন্ন শিল্পীর শিডিউলিং, রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া এবং হোটেল অ্যাকোমোডেশনসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। উপস্থিত নেতৃবৃন্দ কনভেনশনকে আরও সুন্দর, সুশৃঙ্খল ও অংশগ্রহণমূলকভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে মতামত ও পরামর্শ প্রদান করেন। সভায় আরও জানানো হয়, আগামী ১৩ তারিখ একটি টাউন হল কমিউনিটি মিটিং অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে বৃহত্তর কমিউনিটির অংশগ্রহণের মাধ্যমে কনভেনশনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও কার্যক্রম নিয়ে আরও আলোচনা করা হবে। সভায় প্রায় ৩০ জন কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ ও সংগঠক উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত ছিলেন হোস্ট কমিটির কনভেনার জয়নাল আবেদীন, আয়োজক কমিটির প্রেসিডেন্ট মোয়াজ্জেম চৌধুরী, মেম্বার সেক্রেটারি মোহাম্মদ ইকবাল, চিফ অ্যাডভাইজর মাসুদ রব চৌধুরী, কো কনভেনর হাবিব টিয়া এবং চিফ কোঅর্ডিনেটর মোহাম্মদ এস হক ও লস্কর আল মামুন, চেয়ারম্যান, মিডিয়া এন্ড পাবলিকেশন এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন শিপার চৌধুরী, তুহিন খান, রফিকুল ইসলাম, নজরুল আলম, শহীদ আহমদ মিঠু (কালচারাল সেক্রেটারি), যুব ফোরামের চেয়ারম্যান ড. রাসেল মাহমুদ জুয়েল, মোহাম্মদ লিংকন ও মোহাম্মদ আলী, মোকলেস ভুইয়া, শিমুল কান্তি বড়ুয়া, মেহেদী হাসান, শফিক রহমান, ডাঃ মুশফিকুর হক, সাজিয়া হক সহ কমিউনিটির আরও অনেকে। বক্তারা বলেন, ফোবানা শুধু একটি কনভেনশন নয়; এটি উত্তর আমেরিকায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের ঐক্য, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও প্রজন্মের বন্ধনের এক মহামিলন। দীর্ঘ চার দশকের ঐতিহ্য বহনকারী এ আয়োজন প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সাংস্কৃতিক বন্ধন সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। তারা আরও বলেন, ২০২৬ সালে অনুষ্ঠিতব্য ৪০তম ফোবানা কনভেনশনকে ইতিহাসের অন্যতম সফল ও স্মরণীয় আয়োজনে পরিণত করতে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা, আন্তরিক সহযোগিতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। সভা শেষে উপস্থিত সকলের মধ্যে ৪০তম ফোবানা কনভেনশনকে ঘিরে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। একই সঙ্গে একটি সফল, বর্ণাঢ্য ও ইতিহাসগড়া ফোবানা আয়োজনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন আয়োজক ও কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ।