সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

তীব্র গরমের চাপে যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যুৎ গ্রিড, যে ১৪ অঙ্গরাজ্যে লোডশেডিংয়ের সতর্কতা!

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২২, ২০২৬ ০:৫১
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

তীব্র তাপপ্রবাহ ও রেকর্ড বিদ্যুৎ চাহিদার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যাঞ্চলের ১৪টি অঙ্গরাজ্যে ঘূর্ণায়মান লোডশেডিংয়ের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থার দায়িত্বে থাকা সংস্থা সাউথওয়েস্ট পাওয়ার পুল (এসপিপি) জানিয়েছে, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হওয়ায় জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। 

এসপিপি সোমবার সন্ধ্যায় সর্বোচ্চ পর্যায়ের ‘লেভেল থ্রি এনার্জি অ্যালার্ট’ জারি করে। এই সতর্কতার অর্থ হলো, বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে সংস্থাটি তাদের প্রায় সব পরিচালন রিজার্ভ ব্যবহার করেছে। যদিও এখন পর্যন্ত কোনো এলাকায় পরিকল্পিত ঘূর্ণায়মান লোডশেডিং কার্যকর করতে হয়নি, পরিস্থিতি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। কয়েক ঘণ্টা পর পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলে সতর্কতার মাত্রা কমিয়ে আনা হয়। 

 

 

 

এসপিপির বিদ্যুৎ সেবা আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে যেসব অঙ্গরাজ্যে রয়েছে, সেগুলো হলো আরকানসাস, আইওয়া, কানসাস, লুইজিয়ানা, মিনেসোটা, মিসৌরি, মন্টানা, নেব্রাস্কা, নিউ মেক্সিকো, নর্থ ডাকোটা, ওকলাহোমা, সাউথ ডাকোটা, টেক্সাস ও ওয়াইওমিং। 

সংস্থাটি জানিয়েছে, চলমান তাপপ্রবাহের কারণে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের ব্যবহার ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ায় বিদ্যুতের চাহিদা রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে। একই সময়ে কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে উৎপাদন বন্ধ করে দেওয়ায় রিজার্ভ সক্ষমতা দ্রুত কমে যায় এবং পুরো বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর চাপ আরও বেড়ে যায়। 

এসপিপি বলেছে, প্রয়োজন হলে নিয়ন্ত্রিত বা ঘূর্ণায়মান লোডশেডিংয়ের মাধ্যমে বৃহত্তর বিদ্যুৎ বিপর্যয় ঠেকানোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। এ ধরনের পদক্ষেপের উদ্দেশ্য হলো পুরো গ্রিড ধসে পড়া রোধ করা এবং দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ বিভ্রাট এড়ানো। 

 

 

 

এদিকে চলতি জুলাই মাসেই যুক্তরাষ্ট্রের আরও একটি বড় আঞ্চলিক বিদ্যুৎ গ্রিড পরিচালনাকারী সংস্থা মিডকন্টিনেন্ট ইন্ডিপেনডেন্ট সিস্টেম অপারেটর (এমআইএসও) একই ধরনের জরুরি সতর্কতা জারি করেছিল। সেখানে তাপপ্রবাহ, বিদ্যুৎকেন্দ্রের যান্ত্রিক সমস্যা এবং চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় পাইকারি বিদ্যুতের দামও অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়। 

আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকলে বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে। তাই এসপিপি সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোর বাসিন্দাদের অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ ব্যবহার কমানোর আহ্বান জানিয়েছে, যাতে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হয়।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের ফলে ভবিষ্যতে গবাদিপশু রক্ষার জন্য খামারি ও পশুপালকদের নেকড়ে হত্যার সুযোগ তৈরি হতে পারে
নেকড়ে হত্যা বৈধ করার পথে ট্রাম্প! ৯০ দিনের মধ্যে আসছে বড় সিদ্ধান্ত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ধূসর নেকড়ে ও মেক্সিকান নেকড়ের জন্য থাকা বিপন্ন প্রজাতির আইনি সুরক্ষা তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করতে নির্দেশ দিয়েছেন। এ বিষয়ে তিনি একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন।   ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের ফলে ভবিষ্যতে গবাদিপশু রক্ষার জন্য খামারি ও পশুপালকদের নেকড়ে হত্যার সুযোগ তৈরি হতে পারে। নির্বাহী আদেশে বলা হয়েছে, খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা ও আমেরিকার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে খামারিদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তবে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ সংগঠনগুলো ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে। তাদের আশঙ্কা, এতে নেকড়ের সংখ্যা বাড়ানোর কয়েক দশকের প্রচেষ্টা বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়তে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের ফিশ অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশটিতে বন্য অবস্থায় মেক্সিকান নেকড়ের সংখ্যা ছিল ৩১৯টি। ১৯৯৮ সালে তাদের আবার বনে ফিরিয়ে দেওয়ার সময় এই সংখ্যা ছিল মাত্র চারটি। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে প্রায় ১৮ হাজার ধূসর নেকড়ে রয়েছে। তবে মানুষের কর্মকাণ্ডে তাদের প্রাকৃতিক আবাসস্থলের বড় একটি অংশ ধ্বংস হওয়ায় প্রজাতিটি এখনো বিপন্ন হিসেবে বিবেচিত। ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের ফলে খামারিরা এখনই নেকড়ে গুলি করে হত্যা করতে পারবেন—এমন নয়। বরং যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্রসচিব ডগ বার্গামকে আগামী ৯০ দিনের মধ্যে নেকড়েদের সংখ্যা ও পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে বলা হয়েছে। নেকড়েদের সংখ্যা যথেষ্ট বেড়েছে কি না এবং তাদের বিপন্ন প্রজাতির তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে কি না, সেটিই পর্যালোচনা করা হবে। পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর দাবি, গবাদিপশুর ওপর নেকড়ের হামলা তুলনামূলকভাবে বিরল। তাদের মতে, নেকড়ের হামলার কারণে খামারিদের আয়ের ওপরও বড় ধরনের প্রভাব পড়ে না। ওয়েস্টার্ন ওয়াটারশেডস প্রজেক্টের উপপরিচালক গ্রেটা অ্যান্ডারসন বলেন, নেকড়েকে বড় হুমকি হিসেবে তুলে ধরে কয়েকজন খামারিকে সন্তুষ্ট করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তার দাবি, বিষয়টি ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যান্য নীতির প্রভাব থেকে মানুষের দৃষ্টি সরানোর একটি কৌশল। ওয়ালফ কনজারভেশন সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, নেকড়ের আক্রমণে গবাদিপশু মারা গেলে বর্তমান ব্যবস্থায় খামারিরা ক্ষতির সর্বোচ্চ শতভাগ পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ পেতে পারেন। পাশাপাশি বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য নেকড়ের হামলা ঠেকাতে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অর্থ সহায়তা দেয়। গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন ওয়ালফ রিকভারি প্রজেক্টের নির্বাহী পরিচালক ক্লেয়ার মাসার বলেন, শুধু নেকড়ের সংখ্যা বেড়েছে বলেই মেক্সিকান নেকড়েকে পুরোপুরি নিরাপদ বলা যায় না। এখন ফেডারেল সুরক্ষা দুর্বল করা হলে কয়েক দশকের সংরক্ষণ প্রচেষ্টা ঝুঁকিতে পড়বে। ট্রাম্পের এই নির্বাহী আদেশ এমন সময়ে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রে গরুর মাংসের দাম রেকর্ড পর্যায়ে রয়েছে। খরার পাশাপাশি গবাদিপশুর মধ্যে পরজীবী সংক্রমণের কারণে মাংসের সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। দাম কমানোর চেষ্টা হিসেবে ট্রাম্প প্রশাসন গরুর মাংস আমদানির ওপর কিছু বিধিনিষেধ শিথিল করেছে। এতে মার্কিন খামারিদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে, কারণ তারা মনে করছেন এতে তাদের সীমিত লাভের ওপর আরও চাপ পড়তে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে নেকড়েদের বিরুদ্ধে অভিযান নতুন কিছু নয়। উনিশ শতকের শেষ দিকে দেশটির সরকার নেকড়েদের নির্মূল করতে ব্যাপক অভিযান চালিয়েছিল। কৃষক ও ভূমিমালিকরাও নেকড়ে ধরে হত্যা করতেন। এসব কারণে একসময় যুক্তরাষ্ট্রে নেকড়ে প্রায় বিলুপ্তির পথে চলে যায়। বর্তমানে নেকড়েদের সুরক্ষার জন্য কঠোর আইন রয়েছে। ফলে গবাদিপশুর ওপর হামলা করলেও অনুমতি ছাড়া নেকড়ে হত্যা করা অনেক ক্ষেত্রে ফেডারেল আইনে অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬ ৬:১
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, কোনো ভিসা থাকলেই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিশ্চিত না

বি-১/বি-২ ভিসা নিয়ে বাংলাদেশিদের সতর্ক করল মার্কিন দূতাবাস

ট্রাম্পের নীতি প্রচারে হোয়াইট হাউসের পাঁচ রেট্রো গেম

ট্রাম্পের নীতির প্রচারে হোয়াইট হাউসের ওয়েবসাইটে ৫ ভিডিও গেম

গ্যাসের দাম বাড়ায় লেবার ডে ভ্রমণে বাড়ছে মার্কিনদের খরচ

গ্যাসের দাম বাড়ায় লেবার ডে ভ্রমণে বাড়ছে মার্কিনদের খরচ

আমেরিকায় গুরুত্বপূর্ণ মেইল হারালে যে ৭টি পদক্ষেপ নিতে হবে দ্রুত
আমেরিকায় গুরুত্বপূর্ণ মেইল হারালে যে ৭টি পদক্ষেপ নিতে হবে দ্রুত, জেনে নিন

আমেরিকায় নতুন আসার পর গ্রিন কার্ড, কর্মসংস্থার অনুমতিপত্র, সোশ্যাল সিকিউরিটি কার্ডসহ গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট ডাকযোগে পাওয়ার কথা থাকলেও তা হাতে না এলে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করা ঠিক নয়। মেইল দেরি, ভুল ঠিকানায় চলে যাওয়া বা হারিয়ে যাওয়ার মতো ঘটনায় দ্রুত কয়েকটি পদক্ষেপ নিলে ডকুমেন্ট উদ্ধারের সুযোগ বাড়ে এবং প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার মাধ্যমে নতুন কার্ড পাওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু করা যায়।   মার্কিন ডাক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মেইল না পেলে প্রথমে সেটির অবস্থান বা ট্র্যাকিং তথ্য যাচাই করা উচিত। এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী হারানো মেইল খোঁজার আবেদন, স্থানীয় পোস্ট অফিসে যোগাযোগ এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাকে জানানোর মতো পদক্ষেপ নেওয়া যায়।   ১. ডাক বিভাগের মেইল নোটিফিকেশন চালু করুন মার্কিন ডাক বিভাগের বিনামূল্যের ‘ইনফর্মড ডেলিভারি’ সেবা চালু করলে আপনার ঠিকানায় আসতে থাকা চিঠির ডিজিটাল প্রিভিউ এবং প্যাকেজের আপডেট পাওয়া যায়। চিঠির ক্ষেত্রে সাধারণত খামের ঠিকানা অংশের স্ক্যান করা ছবি দেখা যায়। ফলে কোনো গুরুত্বপূর্ণ চিঠি আসার কথা জানা থাকলেও সেটি হাতে না এলে দ্রুত বিষয়টি শনাক্ত করা সহজ হয়। তবে অনলাইনে চিঠির প্রিভিউ দেখা মানেই সেটি ইতোমধ্যে মেইলবক্সে পৌঁছে গেছে, এমন নয়। প্রিভিউ দেখানোর পরও কোনো কোনো মেইল পৌঁছাতে সময় লাগতে পারে।   ২. হারানো মেইল খোঁজার আবেদন করুন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মেইল না এলে ডাক বিভাগের ‘মিসিং মেইল সার্চ’ সেবার মাধ্যমে খোঁজার আবেদন করা যায়। সাধারণত মেইল পাঠানোর সাত দিন পর এই আবেদন করা যায়। আবেদনের সময় প্রেরক ও প্রাপকের ঠিকানা, মেইল পাঠানোর তারিখ, ট্র্যাকিং নম্বর থাকলে সেটি এবং মেইলের ধরন ও ভেতরে থাকা সামগ্রীর বিস্তারিত তথ্য দিতে হতে পারে। তবে আবেদন করলেই ডাক বিভাগ মেইলটি খুঁজে পাওয়ার নিশ্চয়তা দেয় না।   ৩. স্থানীয় পোস্ট অফিসে যোগাযোগ করুন মেইল হারিয়ে গেছে বা ভুলভাবে ডেলিভারি হয়েছে বলে মনে হলে স্থানীয় পোস্ট অফিসে সরাসরি যোগাযোগ করা যেতে পারে। পরিচয়পত্রের পাশাপাশি মেইলটির সম্ভাব্য তথ্য সঙ্গে রাখলে কর্মকর্তাদের বিষয়টি খুঁজে দেখতে সুবিধা হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় পোস্ট অফিসের মাধ্যমে মেইলের অবস্থান সম্পর্কে অতিরিক্ত তথ্য পাওয়া যেতে পারে। তাই শুধু অনলাইনে অভিযোগ করে বসে না থেকে প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট পোস্ট অফিসেও যোগাযোগ করা গুরুত্বপূর্ণ।   ৪. গ্রিন কার্ড বা কর্মসংস্থার অনুমতিপত্র না এলে অভিবাসন কর্তৃপক্ষকে জানান যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন কর্তৃপক্ষ থেকে পাঠানো গ্রিন কার্ড বা কর্মসংস্থার অনুমতিপত্র ঠিকানায় না পৌঁছালে কার্ড না পাওয়ার বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে অনুসন্ধান করা যায়। তবে নতুন করে অনুমোদিত আবেদনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়সীমা মেনে এই অনুসন্ধান করতে হয়। কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী, কিছু ক্ষেত্রে অনুমোদনের নোটিশ পাওয়ার পর অন্তত ৯০ দিন অপেক্ষা করে কার্ড না পাওয়ার বিষয়ে অনুসন্ধান করতে বলা হয়। কার্ড হারিয়ে গেলে, চুরি হলে বা নষ্ট হয়ে গেলে পরিস্থিতি অনুযায়ী নতুন কার্ডের জন্য আবেদন করার সুযোগও রয়েছে। তাই মেইলের অপেক্ষায় দীর্ঘ সময় না থেকে নিজের আবেদনের অবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা যাচাই করা জরুরি।   ৫. সোশ্যাল সিকিউরিটি কার্ড না এলে সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসনে যোগাযোগ করুন সোশ্যাল সিকিউরিটি কার্ড সাধারণত ডাকযোগে পাঠানো হয়। প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই ও আবেদন সম্পন্ন হওয়ার পর সাধারণত প্রায় ১০ কর্মদিবসের মধ্যে কার্ড পৌঁছানোর কথা। এই সময়ের মধ্যে কার্ড না এলে সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করা যেতে পারে। কার্ড হারিয়ে গেলে প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন কার্ডের জন্য আবেদন করার ব্যবস্থাও রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে অনলাইনে নতুন কার্ডের আবেদন করা যায় এবং এর জন্য কোনো ফি নেওয়া হয় না।   ৬. ঠিকানা পরিবর্তনের তথ্য যাচাই করুন নতুন বাসায় ওঠার পর ডাক বিভাগের কাছে ঠিকানা পরিবর্তনের আবেদন না করলে গুরুত্বপূর্ণ মেইল পুরোনো ঠিকানায় চলে যেতে পারে। তাই বাসা পরিবর্তনের পর মেইল অন্য ঠিকানায় পাঠানোর ব্যবস্থা সক্রিয় আছে কি না, তা যাচাই করা জরুরি। তবে ডাক বিভাগের ঠিকানা পরিবর্তন করলেই সরকারি সংস্থা, ব্যাংক, ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি বা অন্য প্রতিষ্ঠানের নথিতে ঠিকানা পরিবর্তন হয়ে যায় না। এসব প্রতিষ্ঠানকেও আলাদাভাবে নতুন ঠিকানা জানাতে হবে।   ৭. গুরুত্বপূর্ণ মেইল পাঠানোর সময় ট্র্যাকিং ও স্বাক্ষরভিত্তিক সেবা ব্যবহার করুন গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট বা প্যাকেজ পাঠানোর ক্ষেত্রে উপযুক্ত ট্র্যাকিং ও স্বাক্ষরভিত্তিক ডাকসেবা ব্যবহার করা হলে ডেলিভারির তথ্য পাওয়া সহজ হয়। কিছু সেবায় ডেলিভারির সময়, তারিখ এবং স্বাক্ষরের তথ্যও সংরক্ষিত থাকে। নির্দিষ্ট কিছু সেবার মাধ্যমে কেবল অনুমোদিত ব্যক্তির কাছে মেইল পৌঁছানোর ব্যবস্থাও করা যায়।   তবে সরকারি সংস্থার পাঠানো সব ডকুমেন্টে প্রাপক নিজের ইচ্ছামতো স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক করার ব্যবস্থা যোগ করতে পারেন না। কোন ধরনের ডাকসেবা ব্যবহার করা হবে, তা সাধারণত প্রেরকের ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে।   গুরুত্বপূর্ণ মেইল হাতে না এলে প্রথমে সেটির ট্র্যাকিং তথ্য যাচাই করুন। এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী হারানো মেইল খোঁজার আবেদন, স্থানীয় পোস্ট অফিসে যোগাযোগ এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করুন। বিশেষ করে গ্রিন কার্ড, কর্মসংস্থার অনুমতিপত্র বা সোশ্যাল সিকিউরিটি কার্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্টের ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা না করে নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।   আর মেইল চুরি হয়েছে বলে সন্দেহ হলে যুক্তরাষ্ট্রের ডাক পরিদর্শন সেবায় অভিযোগ করা যেতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট হারিয়ে গেলে পরিচয় চুরির ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। তাই এমন ঘটনায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬ ১:১০
আমেরিকান সেনাবাহিনীতে চাকরির সুযোগ, জেনে নিন যোগ্যতা ও সুবিধাসমূহ

আমেরিকান সেনাবাহিনীতে চাকরির সুযোগ, জেনে নিন যোগ্যতা ও সুবিধাসমূহ

রেডি হয়ে বাসা থেকে বের হওয়ার সময় নিজেই নিজের গুলিতে আহত

রেডি হয়ে বাসা থেকে বের হওয়ার সময় নিজেই নিজের গুলিতে আহত এনওয়াইপিডি কর্মকর্তা

নিউইয়র্ক স্টেটে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে সেপ্টেম্বর মাসে একাধিক পদে নিয়োগ চলছে। ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কে ৮০০টির বেশি সরকারি পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, যোগ্য অভিবাসীরাও করতে পারবেন আবেদন

মাউন্ট শাস্তার দুর্গম এলাকায় পথ হারানোর পর উদ্ধার করা হয় তিন হাইকারকে। ছবি: সংগৃহীত
এআই দিয়ে পরিকল্পনা করে পাহাড়ে উঠতে গিয়ে পথ হারালেন ৩ হাইকার, রাতভর আটকে থাকার পর উদ্ধার

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় মাউন্ট শাস্তা পর্বতে ওঠার পরিকল্পনা করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সহায়তা নিয়েছিলেন তিন অনভিজ্ঞ হাইকার। গুগলের জেমিনি থেকে পাওয়া পথ ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামসংক্রান্ত পরামর্শের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার পর চূড়ায় উঠতে গিয়ে বিপাকে পড়েন তারা। পরে পথ হারিয়ে একজন হাঁটুতে আঘাত পাওয়ায় তিনজনকেই উদ্ধার করতে হয়।   ঘটনাটি ঘটে ক্যালিফোর্নিয়ার উত্তরাঞ্চলে, ওরেগন সীমান্তের কাছে ক্যাসকেড পর্বতমালার অংশ মাউন্ট শাস্তায়। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৪ হাজার ১৭৯ ফুট উঁচু এই পর্বতটি অভিজ্ঞ পর্বতারোহীদের কাছেও চ্যালেঞ্জিং হিসেবে পরিচিত। সিসকিয়ু কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের বরাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, তিন হাইকারই ক্যালিফোর্নিয়ার রোজভিলের বাসিন্দা এবং পর্বতারোহণে তারা অনভিজ্ঞ ছিলেন।   গত ২৯ আগস্ট শনিবার প্রায় ৮ হাজার ৪০০ ফুট উচ্চতায় তারা শিবির স্থাপন করেন। পরদিন ভোর ৩টার দিকে হালকা ব্যাগ নিয়ে চূড়ার উদ্দেশে রওনা দেন। তাদের পরিকল্পনা ছিল প্রায় আট ঘণ্টার মধ্যে ওঠা ও নামার কাজ শেষ করা।   কিন্তু বাস্তবে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন হয়ে যায়। প্রায় ১৬ ঘণ্টা পর রাত ৭টার দিকে তারা মাউন্ট শাস্তার চূড়ায় পৌঁছান। অথচ পর্বত কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা নির্দেশনায় দুপুর ১২টার মধ্যে চূড়ায় পৌঁছাতে না পারলে ফিরে আসার পরামর্শ দেওয়া হয়। কারণ এরপর নামার সময় পর্যাপ্ত দিনের আলো না থাকার ঝুঁকি তৈরি হয়।   তিনজন নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে চূড়ায় পৌঁছানোর পর অন্ধকারের মধ্যেই নামা শুরু করেন। নামার প্রায় এক ঘণ্টা পর তারা পথনির্দেশনার জন্য সিসকিয়ু কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের জরুরি যোগাযোগ নম্বরে ফোন করেন। এরপরও তারা নির্ধারিত ক্লিয়ার ক্রিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে মাড ক্রিক ক্যানিয়নের দিকে চলে যান। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন দলের একজন পড়ে গিয়ে হাঁটুতে আঘাত পান। দুর্গম ও খাড়া মাড ক্রিক ক্যানিয়নের ভেতরে আটকা পড়ে তিনজনকে সেখানেই রাত কাটাতে হয়। তাদের কাছে পর্যাপ্ত খাবার, পানি ও জরুরি সরঞ্জামও ছিল না।   পরদিন সকালে যুক্তরাষ্ট্রের বন বিভাগের পর্বতারোহণ উদ্ধারকারী দল তাদের সন্ধান পায়। উদ্ধারকারীরা আহত হাইকারকে চিকিৎসা দেন এবং তিনজনকেই নিরাপদে নিচে নামিয়ে আনতে সহায়তা করেন। পরে সিসকিয়ু কাউন্টির অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী স্বেচ্ছাসেবকেরাও অভিযানে যুক্ত হন। শেষ পর্যন্ত তিন হাইকার এবং উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা নিরাপদে ট্রেইলহেডে ফিরে আসেন।   উদ্ধারের পর শেরিফের এক কর্মকর্তাকে তিন হাইকার জানান, মাউন্ট শাস্তায় ওঠার প্রস্তুতির সময় তারা গুগলের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সহকারী জেমিনির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করেছিলেন। কোন পথে উঠবেন এবং কতটা খাবার ও পানি সঙ্গে নেবেন, সেসব বিষয়েও তারা জেমিনির পরামর্শ নিয়েছিলেন।   শেরিফের কার্যালয় ঘটনাটিকে ‘গুরুতর ভুল’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। কর্মকর্তাদের ভাষ্য, জেমিনি তাদের প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম খাবার ও পানি সঙ্গে নিতে পরামর্শ দিয়েছিল। আট ঘণ্টার মধ্যে শেষ করার কথা থাকা যাত্রাটি যখন একাধিক দিনের পরিস্থিতিতে পরিণত হয়, তখন অপর্যাপ্ত সরঞ্জাম তাদের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করে।   তবে উদ্ধারকারী কর্তৃপক্ষ শুধু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পরামর্শকেই দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে দেখছে না। নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে চূড়ায় ওঠা এবং অন্ধকারে নামার সিদ্ধান্তও পরিস্থিতিকে আরও বিপজ্জনক করে তোলে। পাশাপাশি দুর্গম এলাকায় পথনির্দেশনার জন্য একাধিক নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি রাখার ওপরও জোর দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।   সিসকিয়ু কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় হাইকারদের মাউন্ট শাস্তা রেঞ্জার স্টেশনে যাওয়ার আগে স্থানীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সর্বশেষ পথ ও আবহাওয়ার তথ্য নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। শুধু মুঠোফোন, স্মার্ট ঘড়ি বা কোনো একটি ডিজিটাল ব্যবস্থার ওপর নির্ভর না করে বিকল্প পথনির্দেশনার ব্যবস্থাও সঙ্গে রাখার কথা বলা হয়েছে।   কর্তৃপক্ষ বিশেষভাবে দুপুর ১২টার ‘ফিরে আসার সময়সীমা’ মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চূড়ায় পৌঁছাতে না পারলে ফিরে আসা উচিত, যাতে দিনের আলো থাকতে নিরাপদে নিচে নামা যায়। মাউন্ট শাস্তার ক্লিয়ার ক্রিক পথকে প্রযুক্তিগতভাবে অত্যন্ত কঠিন পর্বতারোহণের পথ হিসেবে বিবেচনা না করা হলেও, সেখানে শারীরিক সক্ষমতা, পর্যাপ্ত প্রস্তুতি এবং আকস্মিক পরিস্থিতি মোকাবিলার সক্ষমতা প্রয়োজন বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।   ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন ভ্রমণ, পড়াশোনা থেকে শুরু করে দৈনন্দিন বিভিন্ন কাজে মানুষ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সহকারীদের ওপর ক্রমেই বেশি নির্ভর করছেন। মাউন্ট শাস্তার এই ঘটনা আবারও দেখিয়ে দিল, দুর্গম বা ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে এআইয়ের পরামর্শকে স্থানীয় বিশেষজ্ঞদের তথ্য, সরকারি নির্দেশনা এবং বাস্তব পরিস্থিতি যাচাইয়ের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬ ২১:৪৫
নিউইয়র্কে ৪৫০% ভাড়া বৃদ্ধির রায় বাতিল, বিলিয়নিয়ারদের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে মধ্যবিত্তদের জয়

নিউইয়র্কে ৪৫০% ভাড়া বৃদ্ধির রায় বাতিল, বিলিয়নিয়ারদের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে মধ্যবিত্তদের জয়

যুক্তরাষ্ট্রে বয়স্কদের টার্গেট করে ২৫ কোটি ডলারের প্রতারণা চক্রের মূলহোতা গ্রেপ্তার, অভিযুক্ত ৪০ জনের বেশি

যুক্তরাষ্ট্রে বয়স্কদের টার্গেট করে ২৫ কোটি ডলারের প্রতারণা, মূলহোতা গ্রেপ্তার; অভিযুক্ত ৪০ জনের বেশি

৯/১১-এর উদ্ধারকাজে অসুস্থ হয়ে প্রাণ হারানো তিন কারারক্ষীকে মরণোত্তর সম্মাননা

৯/১১-এর উদ্ধারকাজে অসুস্থ হয়ে প্রাণ হারানো তিন কারারক্ষীকে মরণোত্তর সম্মাননা

0 Comments