- প্রচ্ছদ
- Topic
প্রতারণা
ফেসবুক মার্কেটপ্লেসে ট্র্যাক্টর কেনার জন্য ২০০ ডলার অগ্রিম পাঠিয়ে প্রতারণার শিকার হন যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ার ডোনা শাক। ঘটনাটি ফেসবুকে জানাতে গিয়ে তিনি গুগলে পাওয়া একটি ভুয়া কাস্টমার সার্ভিস নম্বরে ফোন করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানেই দ্বিতীয়বার প্রতারণার শিকার হয়ে সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বরসহ ১৩টি অ্যাকাউন্টের তথ্য দিয়ে ফেলেন তিনি। ল্যাংকাস্টার কাউন্টির ডোনা স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউজিএএলকে জানান, মার্কেটপ্লেসে একটি ছোট ট্র্যাক্টরের বিজ্ঞাপন দেখে তিনি বিক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ওই বিক্রেতা তাঁর পরিবারের দুজনের ফেসবুক ফ্রেন্ড ছিলেন। তাই ২০০ ডলার অগ্রিম পাঠান। কিছুক্ষণ পর বিক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায় এবং তাঁর প্রোফাইলও আর দেখা যায়নি। অভিযোগ জানাতে ফেসবুকের কাস্টমার সার্ভিস নম্বর খুঁজে ফোন করলে এক ব্যক্তি নিজেকে প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি পরিচয় দেন। ডোনার দাবি, ওই ব্যক্তি তাঁকে বলেন, বিক্রেতা হয়তো তাঁর ফোনের তথ্যেও প্রবেশ করতে পেরেছেন। অ্যাকাউন্ট সুরক্ষিত রাখা ও কার্ডগুলো বাতিল করার কথা বলে তিনি ডোনার সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর এবং ব্যাংক ও ক্রেডিট কার্ডের তথ্য চান। ডোনা ১৩টি অ্যাকাউন্টের তথ্য দেন। পরে বুঝতে পারেন, নম্বরটি ভুয়া ছিল। ডোনা এখন সংশ্লিষ্ট কার্ডগুলোর পরিবর্তে নতুন কার্ড পাওয়ার অপেক্ষায় আছেন। দ্বিতীয় ঘটনায় তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে কত টাকা নেওয়া হয়েছে, এমন কোনো অঙ্ক নিশ্চিত করা হওয়া যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ট্রেড কমিশন সতর্ক করেছে, সার্চ রেজাল্টে পরিচিত প্রতিষ্ঠানের নামে ভুয়া কাস্টমার সার্ভিস নম্বর দেখাতে পারে প্রতারকেরা। কোনো প্রতিষ্ঠানে অভিযোগ জানাতে হলে সরাসরি তার অফিশিয়াল অ্যাপ বা ওয়েবসাইটে দেওয়া যোগাযোগের ব্যবস্থা ব্যবহার করার পরামর্শ সংস্থাটির। সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর বা আর্থিক তথ্য প্রতারকের হাতে গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে দ্রুত জানানো এবং পরিচয় চুরির ঝুঁকি মোকাবিলায় ব্যবস্থা নেওয়ারও পরামর্শ দিয়েছে কমিশন।
থাইল্যান্ড থেকে ভারতে এসে স্বামীর খোঁজ করতে গিয়ে প্রতারণার অভিযোগ তুলেছেন এক থাই নারী। উত্তর প্রদেশের কানপুরে পৌঁছে তিনি জানতে পারেন, যাঁকে তিনি নিজের স্বামী বলে জানতেন, সেই মোহাম্মদ ইরফান আগে থেকেই বিবাহিত এবং তাঁর তিন সন্তান রয়েছে। ওই নারীর আরও অভিযোগ, ব্যবসার প্রয়োজনের কথা বলে ইরফান তাঁর কাছ থেকে প্রায় ৬০ লাখ রুপি নিয়েছেন। অভিযোগের পর ইরফানকে গ্রেপ্তার করেছে কানপুর পুলিশ। প্রকাশিত প্রতিবেদনে ওই নারীর নাম আপসর্ন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর দাবি, প্রায় চার বছর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কানপুরের চামড়া ব্যবসায়ী মোহাম্মদ ইরফানের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। ব্যবসার কাজে ইরফান নিয়মিত থাইল্যান্ডে যাতায়াত করতেন। একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। আপসর্নের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় দুই বছর আগে থাইল্যান্ডের স্থানীয় রীতি মেনে তাঁদের বিয়ে হয়। বিয়ের আগে ইরফান নিজেকে অবিবাহিত বলে পরিচয় দিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। বিয়ের পর ব্যবসা ও অন্যান্য আর্থিক প্রয়োজনের কথা বলে ইরফান তাঁর কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে অর্থ নিতে শুরু করেন। শুরুতে প্রায় ২০ লাখ রুপি দেওয়ার পর কয়েক দফা লেনদেনে মোট অর্থের পরিমাণ প্রায় ৬০ লাখ রুপিতে পৌঁছায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। আপসর্ন থাইল্যান্ডে একটি ক্যান্টিন ও রেস্তোরাঁ ব্যবসা পরিচালনা করেন। তাঁর দাবি, ইরফানকে দেওয়া অর্থের একটি অংশ ছিল তাঁর নিজের উপার্জনের টাকা। বাকি অর্থের কিছু তিনি আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে ধার করেছিলেন। তবে ইরফান কোনো অর্থ ফেরত দেননি বলে অভিযোগ তাঁর। পরিস্থিতি বদলে যায় যখন আপসর্ন টাকা ফেরত চাইতে শুরু করেন। তাঁর অভিযোগ, এরপর ইরফান ধীরে ধীরে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ কমিয়ে দেন। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভারতে ফিরে আসার পর তাঁর ফোনকলেরও উত্তর দেওয়া বন্ধ করে দেন। একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর স্বামীর খোঁজে নিজেই ভারতে আসার সিদ্ধান্ত নেন আপসর্ন। গত ৬ অক্টোবর পরিচিত একজনকে সঙ্গে নিয়ে কানপুরের লাটুশ রোড এলাকায় ইরফানের বাড়িতে যান তিনি। সেখানেই জানতে পারেন, ইরফান আগে থেকেই বিবাহিত এবং তাঁর তিন সন্তান রয়েছে। হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আপসর্ন পুলিশকে জানিয়েছেন, ইরফানের আগের বিয়ের বয়স প্রায় ১৪ বছর। আপসর্ন আরও অভিযোগ করেছেন, টাকা ফেরত চাইলে তাঁকে ভারতে এসে ইরফানের সঙ্গে থাকতে, ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করতে এবং বোরকা পরতে বলা হয়েছিল। তাঁর দাবি, ইরফানের বাড়িতে যাওয়ার পর তাঁকে মারধরও করা হয়। অভিযোগ পাওয়ার পর কানপুরের আনোয়ারগঞ্জ থানায় মামলা করা হয়। ইরফানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মামলায় মারধরের অভিযোগের পাশাপাশি উত্তর প্রদেশের ধর্মান্তরবিরোধী আইনের ধারাও যুক্ত করা হয়েছে। পুলিশের সহকারী কমিশনার মঞ্জয় সিং জানিয়েছেন, ইরফান ওই নারীকে বিয়ে করার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। কানপুর পুলিশের ডেপুটি কমিশনার অতুল শ্রীবাস্তবও জানিয়েছেন, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তদন্তকারীরা বিয়ের নথি, ছবি, আর্থিক লেনদেনের কাগজপত্রসহ অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তথ্য যাচাই করছেন। আপসর্ন পুলিশের কাছে বিয়ের ছবি ও অন্যান্য নথি জমা দিয়েছেন বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। তাঁর মেডিকেল পরীক্ষাও করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে পুলিশ। তবে ইরফানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো এখনো তদন্তাধীন এবং আদালতে প্রমাণিত হয়নি। আর্থিক লেনদেনের প্রকৃত পরিমাণ, আগের বিয়ের তথ্য গোপনের অভিযোগ এবং ধর্মান্তরের জন্য চাপ দেওয়ার বিষয়গুলো তদন্ত শেষে আরও স্পষ্ট হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে সোশ্যাল সিকিউরিটি কর্মকর্তা পরিচয়ে এক প্রবীণের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় নগদ অর্থ সংগ্রহের অভিযোগে বাংলাদেশি নাগরিক আবু সালেহকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জর্জিয়ার আটলান্টার বাসিন্দা ৪৭ বছর বয়সী সালেহকে বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ক্রসভিলের একটি ম্যাকডোনাল্ডসের পার্কিং লট থেকে আটক করেন তদন্তকারীরা। কারাগারের নথিতে তাঁর নাগরিকত্ব বাংলাদেশি হিসেবে উল্লেখ রয়েছে। কাম্বারল্যান্ড কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত বিবৃতি অনুযায়ী, ভুক্তভোগী এর আগে দুই দফায় মোট ৫১ হাজার ডলার তুলে দিয়েছিলেন। পরে আরও ১৪ হাজার ডলার সংগ্রহের জন্য আসা ব্যক্তিকে ধরতে অভিযান সাজান তদন্তকারীরা। সালেহ ওই অর্থ রয়েছে মনে করে একটি সাজানো নগদ প্যাকেট সংগ্রহ করার পর তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। তদন্তকারীদের ভাষ্য, এক ব্যক্তি ফোন করে নিজেকে সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের ফেডারেল কর্মকর্তা পরিচয় দেন। তিনি দাবি করেন, ভুক্তভোগীর সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর ফাঁস হয়েছে, কম্পিউটার হ্যাক হয়েছে এবং তাঁর ব্যাংকের একজন কর্মী হ্যাকারদের সহায়তা করছেন। এরপর নতুন ল্যাপটপ কিনে সেটিতে দূর থেকে প্রবেশের অনুমতি দিতে এবং অর্থ নিরাপদে রাখার নামে নগদ টাকা একজন কুরিয়ারের হাতে তুলে দিতে বলা হয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউভিএলটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভুক্তভোগীর অভিযোগ পাওয়ার পর ২৮ সেপ্টেম্বর তদন্ত শুরু করে শেরিফের কার্যালয়। অভিযানে টেনেসি ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের সাইবারক্রাইম ইউনিটও সহায়তা করে। সালেহর বিরুদ্ধে ১০ হাজার ডলারের বেশি মূল্যের সম্পত্তি চুরি, একই ধরনের চুরির চেষ্টা এবং প্রবীণ ব্যক্তির আর্থিক শোষণের অভিযোগ আনা হয়েছে। জর্জিয়ায় একই ধরনের অর্থ সংগ্রহের অভিযোগসংক্রান্ত একটি গ্রেফতারি পরোয়ানাও রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তাঁর মোট বন্ড নির্ধারণ করা হয়েছে ২৬ লাখ ৫০ হাজার ডলার। কারাগারের নথিতে ১ অক্টোবর তাঁর নামে আইসিই হোল্ড যুক্ত হওয়ার তথ্য রয়েছে। আগামী ৫ অক্টোবর কাম্বারল্যান্ড কাউন্টি জেনারেল সেশনস কোর্টে তাঁর হাজির হওয়ার কথা। অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় মার্কিন নাগরিকত্বের ভুয়া দাবি করে প্রায় তিন দশক একটি মহাকাশ ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানে কাজ করার অভিযোগে মেক্সিকোর এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির ফেডারেল কর্তৃপক্ষ। আলমা প্যাট্রিসিয়া কনত্রেরাস ভিয়াফানা নামে ৫৪ বছর বয়সী ওই নারী দক্ষিণ লস অ্যাঞ্জেলেসের বাসিন্দা। শুক্রবার তাকে টরেন্সে হাওমেট অ্যারোস্পেসের একটি কারখানার বাইরে গ্রেপ্তার করা হয়। সেখানে তিনি যন্ত্রকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে মোট আটটি ফেডারেল অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে পাঁচটি তারবার্তা-ভিত্তিক প্রতারণার মামলা, ভুয়া বা জাল নাগরিকত্ব সনদ ব্যবহারের একটি অভিযোগ, গুরুতর পরিচয় চুরির একটি অভিযোগ এবং মার্কিন নাগরিকত্বের মিথ্যা দাবি করার একটি অভিযোগ। ফেডারেল গ্র্যান্ড জুরির দাখিল করা অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ভিয়াফানা ১৯৯৬ সালের ডিসেম্বরে টরেন্সের একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি পাওয়ার সময় ফর্ম আই-৯-এ নিজেকে মার্কিন নাগরিক হিসেবে উল্লেখ করেন। যুক্তরাষ্ট্রে নতুন কর্মীদের পরিচয় ও কাজের বৈধ অনুমতি যাচাইয়ের জন্য এই ফর্ম ব্যবহার করা হয়। তবে মার্কিন অভিবাসন নথি অনুযায়ী, ২০০৩ সালে একজন অভিবাসন বিচারক তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের নির্দেশ দিয়েছিলেন। এরপরও তিনি ওই প্রতিষ্ঠানে কাজ চালিয়ে যান বলে অভিযোগ। চলতি বছরের জানুয়ারিতে চাকরি ধরে রাখার জন্য আবারও ফর্ম আই-৯ জমা দেন ভিয়াফানা। এবারও তিনি নিজেকে মার্কিন নাগরিক বলে উল্লেখ করেন এবং এমন একটি ন্যাচারালাইজেশন সনদের নম্বর ব্যবহার করেন, যা অন্য একজনের ছিল বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। মার্কিন বিচার বিভাগের হিসাবে, ১৯৯৬ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ওই প্রতিষ্ঠান ও এর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে কাজ করে ভিয়াফানা অন্তত ১৪ লাখ ২ হাজার ৪৫৯ ডলার পারিশ্রমিক পেয়েছেন। এর একটি অংশ সরাসরি তার ব্যাংক হিসাবে জমা হয়েছে বলে অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে। শুক্রবার গ্রেপ্তারের আগে টরেন্সের কারখানায় দুই ঘণ্টার বেশি সময় ধরে পরিস্থিতি জটিল ছিল বলে নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতির খবর পেয়ে ভিয়াফানা নিজের কর্মস্থল ছেড়ে একটি সম্মেলনকক্ষে অবস্থান নেন বলে তদন্তকারীদের উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনটিতে জানানো হয়েছে। পরে তিনি সেখান থেকে বের হলে তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়। মার্কিন কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, যে প্রতিষ্ঠানটিতে তিনি দীর্ঘদিন কাজ করেছেন সেটি বিমান ও প্রতিরক্ষা খাতের জন্য বিভিন্ন যন্ত্রাংশ তৈরি করে এবং মার্কিন সামরিক বাহিনীর সঙ্গে ব্যবসা করে। হাওমেট অ্যারোস্পেস জেট ইঞ্জিনের উপাদান, মহাকাশযানের জন্য টাইটানিয়াম কাঠামোসহ বিভিন্ন প্রতিরক্ষা ও শিল্পপণ্য তৈরি করে। প্রতিষ্ঠানটির তৈরি কিছু উপাদান লকহিড মার্টিনের এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানেও ব্যবহৃত হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেসের শীর্ষ ফেডারেল প্রসিকিউটর বিল এসাইলি বলেন, সামরিক খাতের সঙ্গে কাজ করা একটি প্রতিষ্ঠানে ভিয়াফানা এত দীর্ঘ সময় ধরে কীভাবে কাজ করতে পেরেছেন, তা উদ্বেগের বিষয়। তিনি দাবি করেন, এমন ঘটনা জাতীয় নিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তবে এগুলো প্রসিকিউটরের বক্তব্য, আদালতে প্রমাণিত কোনো তথ্য নয়। ভিয়াফানার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের তদন্ত করছে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস। প্রতিষ্ঠানটির নিয়োগপ্রক্রিয়ায় কোনো আইন লঙ্ঘন হয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে। হাওমেটের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে আনা পাঁচটি তারবার্তা-ভিত্তিক প্রতারণার প্রতিটি অভিযোগে সর্বোচ্চ ২০ বছর করে কারাদণ্ড হতে পারে। ভুয়া নাগরিকত্ব সনদ ব্যবহারের অভিযোগে সর্বোচ্চ ১০ বছর, মিথ্যা নাগরিকত্ব দাবির অভিযোগে সর্বোচ্চ তিন বছর এবং গুরুতর পরিচয় চুরির অভিযোগে বাধ্যতামূলকভাবে অতিরিক্ত দুই বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। তবে মার্কিন বিচার বিভাগ স্পষ্ট করে জানিয়েছে, গ্র্যান্ড জুরির অভিযোগপত্র কেবল অভিযোগের আনুষ্ঠানিক উপস্থাপন। আদালতে দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত ভিয়াফানাকে নির্দোষ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। আগামী সোমবার লস অ্যাঞ্জেলেসের ফেডারেল আদালতে তার প্রাথমিক শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। সূত্র: মার্কিন বিচার বিভাগ, নিউইয়র্ক পোস্ট
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসে গৃহহীন মানুষের আবাসন ও সহায়তার জন্য বরাদ্দ সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ। একই ঘটনায় চতুর্থ এক ব্যক্তি অর্থ আত্মসাৎ ও অর্থপাচারের অভিযোগে দোষ স্বীকার করতে সম্মত হয়েছেন। মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে, এসব ঘটনায় কোটি কোটি ডলারের সরকারি অর্থ ব্যক্তিগত খরচ, ব্যবসা ও অন্যান্য কাজে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। ১৬ সেপ্টেম্বর মার্কিন বিচার বিভাগের ক্যালিফোর্নিয়ার সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টের অ্যাটর্নি কার্যালয় জানায়, গৃহহীনদের জন্য বরাদ্দ অর্থের অপব্যবহার ও দুর্নীতি তদন্তে গঠিত বিশেষ টাস্কফোর্সের অভিযানের অংশ হিসেবে এসব মামলা করা হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন ‘হোম অ্যাট লাস্ট’ নামের একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের সহপ্রতিষ্ঠাতা মাইকেল ইয়ং, ‘দ্য বিগ ব্লু আমব্রেলা’র প্রধান নির্বাহী ডনিয়ে মিচেল এবং ‘স্পেশাল সার্ভিস ফর গ্রুপস’-এর কর্মী লাকিয়া ম্যালোন। চতুর্থ ব্যক্তি আলেকজান্ডার সুফার ‘অ্যাবানড্যান্ট ব্লেসিংস’ নামের একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী পরিচালক ছিলেন। মাইকেল ইয়ংয়ের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, গৃহহীনদের আবাসন ও সেবা দেওয়ার জন্য বরাদ্দ ৭৫ লাখ ডলারের বেশি অর্থ তিনি ভুয়া প্রতিষ্ঠান ও বিলিং ব্যবস্থার মাধ্যমে নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেন। পরে সেই অর্থের একটি অংশ বাণিজ্যিক সম্পত্তি, বিলাসবহুল ভ্রমণ, পুরোনো গাড়ি সংস্কার এবং একটি রেস্তোরাঁ ও নাইটক্লাব নির্মাণে ব্যবহার করা হয় বলে অভিযোগ। কর্তৃপক্ষের অভিযোগ অনুযায়ী, ইয়ং কাল্পনিক বা ভুয়া সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান তৈরি করেছিলেন। এসব প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীন তৃতীয় পক্ষের কোম্পানি হিসেবে দেখিয়ে ভুয়া দরপত্র, জাল স্বাক্ষর ও মিথ্যা চালান ব্যবহার করা হয়। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এসব প্রতিষ্ঠানের কোনো কর্মী, কার্যকর কার্যালয় বা স্বাভাবিক ব্যবসায়িক কার্যক্রম ছিল না। এর মাধ্যমে সরকারি অর্থ নিজের নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিষ্ঠানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে প্রসিকিউশন। অভিযোগের একটি অংশে বলা হয়েছে, ইয়ং ইনগেলউডে ‘সিক্স সেভেন ফাইভ লাউঞ্জ’ নামে একটি বিলাসবহুল রেস্তোরাঁ ও নাইটক্লাব চালু করতে সরকারি অর্থের ১০ লাখ ডলারের বেশি ব্যবহার করেন। ওই ব্যবসার মদের লাইসেন্স, স্থপতি, নির্মাণকাজ এবং অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জার খরচেও করদাতাদের অর্থ ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি ওই অর্থ দিয়ে গৃহহীনদের আবাসনের সঙ্গে সম্পর্কহীন বাণিজ্যিক সম্পত্তিও কেনা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ইয়ংয়ের বিরুদ্ধে তার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে লস অ্যাঞ্জেলেস হোমলেস সার্ভিসেস অথরিটির কাছ থেকে পাওয়া অর্থ অপব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে। মার্কিন বিচার বিভাগের নথি অনুযায়ী, হোম অ্যাট লাস্টকে দেওয়া চুক্তিগুলো ২০২৬ সালের জুনে বাতিল করে লস অ্যাঞ্জেলেস হোমলেস সার্ভিসেস অথরিটি। সংস্থাটি জানিয়েছে, অনিয়মের শক্ত প্রমাণ পাওয়া এবং চুক্তির শর্ত পূরণে ব্যর্থতার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দ্বিতীয় মামলায় ডনিয়ে মিচেলের বিরুদ্ধে ১২ লাখ ডলারের বেশি অনুদান প্রতারণার মাধ্যমে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। মিচেল ‘দ্য বিগ ব্লু আমব্রেলা’র প্রধান নির্বাহী ও নির্বাহী পরিচালক। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, তিনি লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির অর্থায়নে পরিচালিত একটি সংস্থার কাছে নিজের প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা ও গৃহহীনদের আবাসন দেওয়ার অভিজ্ঞতা সম্পর্কে ভুল তথ্য দিয়ে ওই অর্থ পান। অভিযোগ অনুযায়ী, অর্থ পাওয়ার পর মিচেল প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের বেতন ও ব্যয়ের তথ্যেও অসত্য তথ্য দেন। সরকারি অনুদানের অর্থের একটি অংশ নিজের জামিনের খরচ, ক্রেডিট কার্ডের দেনা, পরিবারের সদস্যদের কাছে অর্থ পাঠানো, বাসাভাড়া এবং ভিডিও গেম কেনার মতো ব্যক্তিগত খরচে ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ২০২৫ সালের মে মাসে প্রায় ৩ লাখ ১৫ হাজার ডলার দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট সংস্থা মিচেলের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে। মিচেলের বিরুদ্ধে তার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ১২ লাখ ডলারের বেশি অনুদান প্রতারণার অভিযোগে তারের মাধ্যমে প্রতারণার মামলা করা হয়েছে। তিনি ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গ্রেপ্তার হননি এবং মার্কিন কর্তৃপক্ষ তাকে পলাতক হিসেবে বিবেচনা করছে। তৃতীয় ঘটনায় স্পেশাল সার্ভিস ফর গ্রুপসের কর্মী লাকিয়া ম্যালোনের বিরুদ্ধে ২১টি অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, তিনি আলেকজান্ডার সুফারের কাছ থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার ডলারের বেশি ঘুষ ও অবৈধ অর্থ নিয়েছেন। বিনিময়ে তিনি গৃহহীনদের আবাসন কর্মসূচিতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে লোক পাঠাতেন। এসব ব্যক্তির মধ্যে এমন কথিত ‘ভুয়া অংশগ্রহণকারী’ও ছিল, যারা বাস্তবে সংশ্লিষ্ট আবাসনকেন্দ্রে থাকতেন না। তদন্তকারীদের অভিযোগ, এসব কাল্পনিক অংশগ্রহণকারীর জন্য ভুয়া স্বাগতপত্র, উপস্থিতির তালিকা এবং যোগ্যতার নথি তৈরি করা হয়েছিল। এর মাধ্যমে সুফারের প্রতিষ্ঠান স্পেশাল সার্ভিস ফর গ্রুপসের কাছ থেকে ১ কোটি ৭০ লাখ ডলারের বেশি অর্থ পাওয়ার সুযোগ তৈরি করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ম্যালোনকে এসব কথিত সুবিধা দেওয়ার বিনিময়ে অর্থ পরিশোধ করা হয়েছিল বলে প্রসিকিউটরদের দাবি। এই মামলার সঙ্গে যুক্ত চতুর্থ ব্যক্তি আলেকজান্ডার সুফার তারের মাধ্যমে প্রতারণা ও অর্থপাচারের একটি করে অভিযোগে দোষ স্বীকার করতে সম্মত হয়েছেন। মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, তিনি স্বীকার করেছেন যে গৃহহীনদের সহায়তার জন্য বরাদ্দ সরকারি অর্থের ২ কোটি ৩০ লাখ ডলার তিনি পেয়েছিলেন। এর অন্তত ২০ লাখ ডলার ব্যক্তিগত সুবিধা ও গৃহহীনদের আবাসনের সঙ্গে সম্পর্কহীন ব্যবসায় ব্যবহারের কথাও তিনি স্বীকার করেছেন। সুফার অবৈধভাবে পাওয়া অর্থ সরকারের কাছে ফেরত দিতে সম্মত হয়েছেন। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে আদালতে আনুষ্ঠানিকভাবে তার দোষ স্বীকারের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে, এসব মামলার তদন্তে এফবিআই, অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বিভাগ বা আইআরএসের অপরাধ তদন্ত শাখা এবং আবাসন ও নগর উন্নয়ন বিভাগের মহাপরিদর্শকের কার্যালয় কাজ করছে। কর্মকর্তারা বলেছেন, গৃহহীনদের জন্য বরাদ্দ সরকারি অর্থের অপব্যবহার ঠেকাতে তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা আরও চলবে। মার্কিন আবাসন ও নগর উন্নয়নমন্ত্রী স্কট টার্নার বলেছেন, গৃহহীনদের সহায়তার জন্য দেওয়া সরকারি অর্থ ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করার ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রথম সহকারী মার্কিন অ্যাটর্নি বিল এসাইলিও বলেছেন, এসব ঘটনায় সরকারি অর্থের ওপর নজরদারি ও জবাবদিহির প্রশ্ন সামনে এসেছে। তবে মামলাগুলোর সব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। মার্কিন বিচার বিভাগের নথিতেও স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, অভিযোগপত্র ও ফৌজদারি অভিযোগ কেবল প্রসিকিউশনের অভিযোগ তুলে ধরে। আদালতে দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত সবাই আইনগতভাবে নির্দোষ বলে বিবেচিত হবেন। সূত্র: মার্কিন বিচার বিভাগ, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক বয়স্ক বাসিন্দাকে টার্গেট করে সংঘবদ্ধভাবে সোনার প্রতা রণা চালানোর অভিযোগে তিনজনকে গ্রে প্তার করেছে ফ্রেন্ডসউড পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তরা নিজেদের ফেডারেল কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয় দিয়ে ওই ব্যক্তিকে বিপুল পরিমাণ অর্থ সোনায় রূপান্তর করতে প্ররোচিত করেছিলেন। ফ্রেন্ডসউড পুলিশ ডিপার্টমেন্টের তদন্তকারীরা আগস্টে ঘটনাটির তদন্ত শুরু করেন। এক বয়স্ক বাসিন্দা সন্দেহজনক যোগাযোগের বিষয়ে পুলিশকে জানান। ফোন করা ব্যক্তিরা নিজেদের ফেডারেল কর্তৃপক্ষের সদস্য পরিচয় দিয়ে ওই বাসিন্দাকে তাঁর অর্থ ঝুঁকিতে রয়েছে বলে বিশ্বাস করানোর চেষ্টা করেন। পরে তাঁকে বিপুল পরিমাণ অর্থ সোনায় রূপান্তর করতে বলা হয়। তদন্তকারীরা ওই বাসিন্দার সঙ্গে সমন্বয় করে ২৫ আগস্ট একটি পরিকল্পিত সোনা লেনদেনের ব্যবস্থা করেন। এ সময় ক্যালিফোর্নিয়ার লাথ্রপের বাসিন্দা সুখবিন্দর সিংকে শনাক্ত করা হয়। পুলিশ তাঁকে অনুসরণ করে পিয়ারল্যান্ডের একটি ওয়ালমার্টের ভেতরে থাকা ফেডএক্সের একটি শাখায় পৌঁছায়। সেখানে সোনা রাখা প্যাকেটগুলো পাঠানোর জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছিল। দোকান থেকে বের হওয়ার সময় সুখবিন্দর সিংকে গ্রে প্তার করা হয়। গ্যালভেস্টন কাউন্টিতে সুখবিন্দর সিংয়ের বিরুদ্ধে ৩ লাখ ডলারের বেশি অর্থ চু রি এবং সংঘবদ্ধ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে। তাঁর জা মিনের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ লাখ ডলার। এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে ফেডারেল অভিবাসন কর্তৃপক্ষের একটি আটকাদেশও রয়েছে। সুখবিন্দর সিং গ্রে প্তার হওয়ার পরও কথিত প্রতা রণা চক্রের সদস্যরা ওই বয়স্ক বাসিন্দাকে ফোন করা অব্যাহত রাখে। পুলিশ জানায়, তারা কলার আইডি স্পুফিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে ফোনগুলো এমনভাবে দেখাত, যেন সেগুলো সরাসরি ফ্রেন্ডসউড পুলিশ ডিপার্টমেন্ট থেকে করা হচ্ছে। তদন্তকারীদের অভিযোগ, প্রতা রকরা নিজেদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিতেন। এমনকি ওই বাসিন্দার মামলার দায়িত্বে থাকা গোয়েন্দার পরিচয়ও ব্যবহার করা হয়। এভাবে ভুক্তভোগীর আস্থা অর্জন করে তাঁর কাছ থেকে আরও অর্থ ও সম্পদ নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। তদন্ত এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ আরও দুই সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করে। তাদের বিরুদ্ধে চক্রটির নেতৃত্ব দেওয়া, অর্থের জোগান দেওয়া এবং প্রতা রণা থেকে পাওয়া অর্থ পাচারে ভূমিকা রাখার অভিযোগ রয়েছে। তদন্তকারীরা গ্যালভেস্টন কাউন্টি থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার রিভারসাইডের বাসিন্দা ডামান প্রীত সিং এবং লস এঞ্জেলেসের বাসিন্দা মানদীপ সিংয়ের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রে প্তারি পরোয়ানা নেন। ডামান প্রীত সিংয়ের জা মিনের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে ১ কোটি ডলার এবং মানদীপ সিংয়ের জা মিন ৫০ লাখ ডলার। ৯ সেপ্টেম্বর ফ্রেন্ডসউড পুলিশের তদন্তকারীরা ক্যালিফোর্নিয়ায় গিয়ে রিভারসাইড কাউন্টি শেরিফের অফিসের মেজর ক্রাইমস ইউনিটের সহায়তায় ডামান প্রীত সিংকে তাঁর বাসা থেকে বের হওয়ার সময় গ্রে প্তার করেন। একই সময়ে তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে এই প্রতা রণা চক্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে ধারণা করা হচ্ছে—এমন কিছু আলামত উদ্ধার করা হয়। পরদিন লস এঞ্জেলেসে মানদীপ সিংয়ের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে লস এঞ্জেলেস পুলিশ ডিপার্টমেন্টের ফুটহিল ডিভিশনের সহায়তায় তাঁকে তাঁর বাসা থেকে গ্রে প্তার করা হয়। দুইজনই বর্তমানে ক্যালিফোর্নিয়ায় হেফাজতে রয়েছেন। তাঁদের গ্যালভেস্টন কাউন্টিতে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া চলছে। ফ্রেন্ডসউড পুলিশ জানিয়েছে, এটি তাদের তদন্ত করা সাম্প্রতিক বড় সোনা প্রতা রণার ঘটনাগুলোর একটি। এর আগে মার্চে একই ধরনের সংঘবদ্ধ সোনা প্রতা রণার ঘটনায় ছয়জনকে গ্রে প্তারের কথা জানিয়েছিল পুলিশ। ওই ঘটনায় টেক্সাসজুড়ে বয়স্ক ভুক্তভোগীদের প্রায় ২৮ লাখ ডলারের ক্ষতি হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে আসে। ওই তদন্ত শুরু হয়েছিল ফ্রেন্ডসউডের ৮১ বছর বয়সী এক বাসিন্দাকে কেন্দ্র করে। তাঁকে প্রায় ৭ লাখ ৬৬ হাজার ডলার অর্থ ১৭৭টি এক আউন্সের কানাডিয়ান গোল্ড ম্যাপল লিফ কয়েনে রূপান্তর করতে রাজি করানো হয়েছিল। পরে ফ্রেন্ডসউডের গোয়েন্দারা সব ১৭৭টি কয়েন উদ্ধার করেন। একই তদন্তে হাম্বল, সাইপ্রেস, ক্লেবার্ন ও নিউ ব্রাউনফেলসের আরও কয়েকজন বয়স্ক বাসিন্দা একই ধরনের প্রতা রণার শিকার হয়েছেন বলে শনাক্ত করা হয়। পুলিশ বলছে, সংঘবদ্ধ প্রতা রণা চক্রগুলো একই ধরনের কৌশলে বয়স্ক মানুষদের টার্গেট করে আসছে। কখনো তারা ফেডারেল এজেন্ট, কখনো পুলিশ কর্মকর্তা, ব্যাংকের তদন্তকারী কিংবা পরিচিত কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি হিসেবে নিজেদের পরিচয় দেয়। এরপর তারা ভুক্তভোগীকে জানায়, তাঁর ব্যাংক হিসাব বা অর্থ ঝুঁকিতে রয়েছে। অর্থ নিরাপদ রাখা কিংবা গ্রে প্তার এড়ানোর কথা বলে তাঁকে সঞ্চিত অর্থ সোনা, ক্রিপ্টোকারেন্সি, গিফট কার্ড বা অন্য কোনো সম্পদে রূপান্তর করতে বলা হয়। পরে সেই সম্পদ সংগ্রহের জন্য একজন কুরিয়ার পাঠানো হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। ফ্রেন্ডসউড পুলিশের প্রধান জশ রজার্স বলেন, অপরাধীদের বিরুদ্ধে তদন্ত অব্যাহত থাকবে এবং তারা যেখানেই থাকুক, তাদের শনাক্ত ও গ্রে প্তারের চেষ্টা চালিয়ে যাবে। তিনি ওই ভুক্তভোগীর দ্রুত পুলিশের কাছে বিষয়টি জানানোর প্রশংসা করেন। রজার্স বলেন, ভুক্তভোগী দ্রুত প্রতা রণার বিষয়টি পুলিশকে জানানোয় এবার সফলভাবে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়েছে। তবে অনেক ক্ষেত্রে এমন ঘটনার পরিণতি এতটা ভালো হয় না বলেও সতর্ক করেন তিনি। পুলিশ জানিয়েছে, পরিবার, বন্ধু ও প্রতিবেশীদের উচিত বয়স্ক স্বজনদের এ ধরনের প্রতা রণা সম্পর্কে সচেতন করা। কোনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা সরকারি কর্মকর্তা অর্থ নিরাপদ রাখার কিংবা গ্রে প্তার এড়ানোর জন্য কাউকে সোনা, ক্রিপ্টোকারেন্সি, গিফট কার্ড বা অন্য কোনো সম্পদ কিনতে বলবেন না। কেউ এমন প্রতা রণার শিকার হচ্ছেন বলে সন্দেহ হলে প্রতা রকদের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দ্রুত স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছে ফ্রেন্ডসউড পুলিশ।
যুক্তরাষ্ট্রের চার অঙ্গরাজ্যে প্রতারণার মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে ১৫ লাখ ডলারের বেশি অর্থ ও স্বর্ণ হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন জর্জিয়ায় বসবাসকারী ৩৩ বছর বয়সী ভারতীয় নাগরিক প্রদীপ প্যাটেল। গত ১৮ আগস্ট আলাবামার মোবাইলের ইউএস ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে তিনি দোষ স্বীকার করেন। তার প্লিয়া চুক্তি অনুযায়ী, আলাবামার পাশাপাশি সাউথ ক্যারোলাইনা, ফ্লোরিডা ও টেনেসিতে সংঘটিত প্রতারণার ক্ষতির দায়ও তিনি স্বীকার করেছেন। মামলার তথ্য অনুযায়ী, প্রতারণার একটি ঘটনায় আলাবামার ফেয়ারহোপের এক দম্পতিকে তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছে বলে বিশ্বাস করানো হয়। ২০২৫ সালের আগস্টে ওই নারী তার আইপ্যাডে একটি পপআপ বার্তা পান, যেখানে তার অ্যাপল অ্যাকাউন্টে অননুমোদিত প্রবেশের সতর্কতা দেখানো হয়। বার্তায় দেওয়া নম্বরে যোগাযোগ করার পর একজন নিজেকে ‘স্কট গিবসন’ নামে পরিচয় দেন এবং পরে তাকে আরেক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলিয়ে দেন। ওই ব্যক্তি নিজেকে ‘রবিন স্টল’ নামে পরিচয় দিয়ে রিজিয়ন্স ব্যাংকের প্রতিনিধি বলে দাবি করেন। তিনি ওই নারীকে জানান, হ্যাকাররা তার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা চুরির চেষ্টা করছে এবং ব্যাংকের একজন কর্মীও এর সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন। এ কারণে স্থানীয় ব্যাংক শাখার কর্মীদের বিষয়টি জানাতে নিষেধ করা হয়। প্রতারকদের নির্দেশনা অনুসরণ করে ওই দম্পতি কয়েক দফায় ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ তুলে নেন। প্রথমে ১২ হাজার ৫০০ ডলার তুলে একটি বিটকয়েন এটিএমে জমা দেন। পরবর্তী সময়ে আরও ৩২ হাজার ডলারের বেশি অর্থ উত্তোলন করেন বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ রয়েছে। এরপর প্রতারণার কৌশল বদলে দম্পতিকে স্বর্ণের বার কেনার জন্য প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার একটি টেক্সাসভিত্তিক বুলিয়ন ডিলারের কাছে পাঠাতে বলা হয়। তাদের বোঝানো হয়, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নিরাপদ রাখতে অর্থ স্বর্ণে রূপান্তর করা প্রয়োজন। প্লিয়া চুক্তি অনুযায়ী, প্রদীপ প্যাটেল জর্জিয়া থেকে গাড়ি চালিয়ে ফেয়ারহোপে ওই দম্পতির বাড়িতে যান এবং তারা কেনা স্বর্ণের বার সংগ্রহ করেন। তবে প্যাটেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ শুধু আলাবামার এই ঘটনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। আদালতের নথি অনুযায়ী, সাউথ ক্যারোলাইনা, ফ্লোরিডা ও টেনেসিতেও একই ধরনের প্রতারণায় তার ভূমিকা ছিল। সাউথ ক্যারোলাইনার মাউন্ট প্লেজেন্টে এক দম্পতির কাছ থেকে ২০২৫ সালের মার্চে ২ লাখ ৯৪ হাজার ৫২৭ ডলারের ক্ষতির ঘটনায় প্যাটেল তার দায় স্বীকার করেছেন। ওই ঘটনায় ভুক্তভোগীকে বলা হয়েছিল, তার অ্যাপল অ্যাকাউন্টের সঙ্গে শিশু পর্নোগ্রাফি-সংক্রান্ত সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের যোগসূত্র পাওয়া গেছে। এরপর তাকে ক্রিপ্টোকারেন্সি পাঠাতে এবং স্বর্ণ কিনতে প্ররোচিত করা হয়। প্যাটেল স্বীকার করেছেন, তিনি ওই স্বর্ণ সংগ্রহকারী কুরিয়ারদের একজন ছিলেন। মাউন্ট প্লেজেন্টের আরেক ভুক্তভোগীর কাছ থেকে ১ লাখ ২১ হাজার ১১৫ ডলারের স্বর্ণমুদ্রা প্যাটেল সংগ্রহ করেন বলেও প্লিয়া চুক্তিতে উল্লেখ রয়েছে। এছাড়া ফ্লোরিডার পানামা সিটির এক ভুক্তভোগীর কাছ থেকে ৮১ হাজার ২৯ ডলারের স্বর্ণ এবং টেনেসির বার্ডসটাউনের আরেক ভুক্তভোগীর কাছ থেকে ২ লাখ ২ হাজার ৬৫ ডলারের স্বর্ণ নেওয়ার ঘটনায়ও তিনি দায় স্বীকার করেছেন। প্লিয়া চুক্তিতে এসব প্রতারণার সম্মিলিত ক্ষতির পরিমাণ ১৫ লাখ ডলারের বেশি উল্লেখ করা হয়েছে। এই মামলায় নেপালের নাগরিক সৌরভ শর্মার বিরুদ্ধেও অভিযোগ রয়েছে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, ফেয়ারহোপের একই দম্পতির কাছ থেকে তিনি আলাদাভাবে স্বর্ণ সংগ্রহ করেছিলেন। শর্মাকে জুন মাসে জর্জিয়ায় গ্রেপ্তার করা হয় এবং তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। তার বিরুদ্ধে মামলাটি এখনো বিচারাধীন। আদালতের নথি অনুযায়ী, প্যাটেল এর আগে মার্চে অভিযোগ অস্বীকার করে দোষী নন বলে আবেদন করেছিলেন এবং বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পরে তিনি প্লিয়া চুক্তির মাধ্যমে দোষ স্বীকার করেন। ফেডারেল আইনে প্যাটেলের সর্বোচ্চ ২০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। তবে দোষ স্বীকারের চুক্তির অংশ হিসেবে প্রসিকিউটররা তার ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে কম শাস্তির সুপারিশ করতে সম্মত হয়েছেন। চূড়ান্ত সাজা নির্ধারণ করবেন আদালত। প্যাটেলের সাজা ঘোষণার কোর্ট হিয়ারিং আগামী ১৯ নভেম্বর নির্ধারিত হয়েছে। এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক ‘গোল্ড বার স্ক্যাম’-এর একটি উদাহরণ, যেখানে প্রতারকরা ভুক্তভোগীদের ব্যাংক বা প্রযুক্তি অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার ভয় দেখিয়ে অর্থ নিরাপদ রাখার নামে ক্রিপ্টোকারেন্সি বা স্বর্ণে রূপান্তর করতে বলে। আলাবামা সিকিউরিটিজ কমিশনও ২০২৫ সালে এ ধরনের গোল্ড বার প্রতারণা নিয়ে সতর্কতা জারি করেছিল।
অনলাইনে পরিচয়, দ্রুত ঘনিষ্ঠতা, প্রেমের কথা, এমনকি বিয়ের প্রতিশ্রুতি। এরপর হঠাৎ জরুরি প্রয়োজনের কথা বলে টাকা চাওয়া। এভাবেই ভুয়া পরিচয়ে মানুষের বিশ্বাস অর্জন করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে রোমান্স স্ক্যামের মাধ্যমে। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন বা এফবিআই নতুন করে এ ধরনের প্রতারণা নিয়ে জনসাধারণকে সতর্ক করেছে। এফবিআই বলছে, প্রতারকরা সাধারণত ডেটিং সাইট, অ্যাপ কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া পরিচয় তৈরি করে। তারা দ্রুত সম্পর্ক গড়ে তুলে ভুক্তভোগীর বিশ্বাস অর্জনের চেষ্টা করে। কেউ কেউ নিজেদের যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে কর্মরত বলে পরিচয় দেয় এবং চিকিৎসা খরচ, ভ্রমণ, আইনি জটিলতা বা অন্য কোনো জরুরি পরিস্থিতির কথা বলে অর্থ দাবি করে। অনেক ক্ষেত্রে সামনাসামনি দেখা করার প্রতিশ্রুতি দিলেও শেষ পর্যন্ত নানা অজুহাতে সেই সাক্ষাৎ আর হয় না। এ ধরনের প্রতারণায় শুধু অর্থই নয়, ব্যক্তিগত ও আর্থিক তথ্যও ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। এফবিআই সতর্ক করেছে, অনলাইনে পরিচিত কেউ যদি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা গ্রহণ করে অন্যত্র পাঠাতে বলে, তাহলে ওই ব্যক্তি অজান্তেই অন্য একটি প্রতারণামূলক অর্থ স্থানান্তর চক্রের অংশ হয়ে যেতে পারেন। প্রতারকরা কখনো গিফট কার্ড, ক্রিপ্টোকারেন্সি, ওয়্যার ট্রান্সফার বা পেমেন্ট অ্যাপের মাধ্যমে অর্থ পাঠাতে বলে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে এফবিআইয়ের নরফোক ফিল্ড অফিস জানিয়েছিল, ভার্জিনিয়ায় আগের বছর রোমান্স স্ক্যামের ২০২টি অভিযোগে মোট ২০ দশমিক ২৬ মিলিয়ন ডলারের আর্থিক ক্ষতির কথা জানানো হয়েছিল। সংস্থাটি বলেছে, প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে, কারণ অনেক ভুক্তভোগী প্রতারণার শিকার হওয়ার পরও অভিযোগ করেন না। এফবিআইয়ের পরামর্শ, অনলাইনে পরিচিত কারও সঙ্গে সম্পর্ক দ্রুত গভীর হলে সতর্ক হতে হবে। ব্যক্তিটির ছবি ও পরিচয় যাচাই করা, বন্ধু বা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বিষয়টি আলোচনা করা এবং সামনাসামনি দেখা হয়নি এমন কাউকে কখনোই টাকা বা আর্থিক তথ্য না দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি। সম্পর্কের শুরুতেই কেউ যদি টাকা চায়, ব্যক্তিগত তথ্য নিতে চায় বা বিষয়টি গোপন রাখতে চাপ দেয়, সেটিকে বড় ধরনের সতর্কসংকেত হিসেবে দেখার কথা বলা হয়েছে। এফবিআই আরও জানিয়েছে, প্রতারকরা এখন জেনারেটিভ এআই ব্যবহার করে ভুয়া ছবি, প্রোফাইল ও বার্তা তৈরি করায় এসব প্রতারণা আরও বিশ্বাসযোগ্য হয়ে উঠছে। তাই অনলাইনে পরিচিত ব্যক্তির দেওয়া তথ্য যাচাই না করে কোনো আর্থিক সিদ্ধান্ত না নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কেউ রোমান্স স্ক্যামের শিকার হলে দ্রুত যোগাযোগ বন্ধ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও এফবিআইয়ের ইন্টারনেট ক্রাইম কমপ্লেইন্ট সেন্টারে অভিযোগ করার পাশাপাশি অর্থ পাঠানো হয়ে থাকলে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
কানাডার ভিসা ও অভিবাসন আবেদনকে কেন্দ্র করে প্রতারণার বিষয়ে সতর্ক করেছে দেশটির অভিবাসন কর্তৃপক্ষ। ভুয়া ওয়েবসাইট, মিথ্যা প্রতিশ্রুতি এবং অনুমোদনহীন প্রতিনিধির মাধ্যমে আবেদনকারীদের কাছ থেকে অর্থ ও ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার ঝুঁকি রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতারকেরা অনেক সময় সরকারি ওয়েবসাইট বা কর্মকর্তার পরিচয় নকল করে আবেদনকারীদের বিশ্বাস অর্জনের চেষ্টা করে। দ্রুত ভিসা করিয়ে দেওয়া, নিশ্চিতভাবে কানাডায় প্রবেশের সুযোগ বা উচ্চ বেতনের চাকরির নিশ্চয়তার মতো প্রলোভনও প্রতারণার অন্যতম লক্ষণ। বিশেষ করে কোনো ওয়েবসাইটে আবেদন ফরম বা গাইড পেতে টাকা চাওয়া হলে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কানাডার অভিবাসন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় আবেদন ফরম ও নির্দেশিকা তাদের সরকারি ওয়েবসাইটেই বিনামূল্যে পাওয়া যায়। আবেদনকারীদের আরও বলা হয়েছে, ব্যক্তিগত বা আর্থিক তথ্য দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটের ঠিকানা যাচাই করতে। সরকারি কানাডীয় ওয়েবসাইট সাধারণত canada.ca অথবা .gc.ca ডোমেইন ব্যবহার করে। তবে শুধু ওয়েবসাইটে তালা চিহ্ন বা নিরাপদ সংযোগ দেখেই সেটিকে বৈধ ধরে নেওয়া উচিত নয়। কর্তৃপক্ষের মতে, কোনো প্রতিনিধি বা পরামর্শদাতার মাধ্যমে আবেদন করলেও আবেদনপত্রে দেওয়া তথ্যের দায় আবেদনকারীরই। তাই অনুমোদিত প্রতিনিধি ছাড়া কাউকে গুরুত্বপূর্ণ নথি বা ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। এ ছাড়া কেউ যদি ভিসা দ্রুত করিয়ে দেওয়ার নিশ্চয়তা, অস্বাভাবিক কম খরচে অভিবাসনের সুযোগ কিংবা আবেদন অনুমোদনের গ্যারান্টি দেয়, সেটিকে সম্ভাব্য প্রতারণার সংকেত হিসেবে দেখার পরামর্শ দিয়েছে কানাডার কর্তৃপক্ষ। বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের কানাডাগামী আবেদনকারীদের জন্য মূল বার্তা হলো—ভিসার নামে কোনো দালাল বা অননুমোদিত ওয়েবসাইটকে টাকা বা ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়ার আগে অবশ্যই সরকারি সূত্রে তথ্য যাচাই করা।
ব্রাজিলে ১২ বছর বয়সী কিশোরীর পরিচয় দিয়ে একটি পরিবারের সঙ্গে ১৪ মাস বসবাস করার ঘটনায় আমান্ডা মারিয়া সুজা দে অলিভেইরাকে প্রতারণা ও মিথ্যা পরিচয় ব্যবহারের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেছে আদালত। বাস্তবে তাঁর বয়স ৩৮ বছর। সান্তা কাতারিনা অঙ্গরাজ্যের জইনভিলে একটি পরিবার তাঁকে নিজেদের সন্তান হিসেবে আশ্রয় দেওয়ার পর এক বছরেরও বেশি সময় তিনি ওই পরিবারের সঙ্গে ছিলেন। সান্তা কাতারিনার আদালতের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, অলিভেইরা একটি কাল্পনিক পরিচয় তৈরি করে নিজেকে ১২ বছর বয়সী শিশু হিসেবে উপস্থাপন করেছিলেন। তিনি দাবি করেছিলেন, নির্যাতনের শিকার হয়ে তিনি পালিয়ে এসেছেন। তাঁর এই বক্তব্য বিশ্বাস করে পরিবারটি তাঁকে নিজেদের বাড়িতে আশ্রয় দেয় এবং প্রায় ১৪ মাস তাঁকে পরিবারের সদস্য হিসেবেই দেখাশোনা করে। তদন্তে উঠে এসেছে, অলিভেইরা ‘গাব্রিয়েলে’ নাম ব্যবহার করতেন এবং শিশুসুলভ কণ্ঠে কথা বলতেন। নিজের প্রাপ্তবয়স্ক চেহারা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তিনি দাবি করতেন, শৈশবে তাঁকে জোর করে হরমোন দেওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে নিজেকে অটিজমে আক্রান্ত এবং নির্যাতনের শিকার শিশু হিসেবেও উপস্থাপন করেছিলেন। এসব তথ্য ব্যবহার করে তিনি পরিবারের সহানুভূতি অর্জন করেন বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন। পরিবারটি তাঁর গল্প বিশ্বাস করে তাঁকে নিজেদের মেয়ের মতো করে নেয়। তাঁকে আলাদা ঘর দেওয়া হয় এবং পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন প্রয়োজন মেটানো হতো। এমনকি তাঁর কথিত ১২তম জন্মদিনও উদ্যাপন করা হয়েছিল বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে একপর্যায়ে পরিবারের এক আত্মীয়ের সন্দেহ হয়। তিনি ইন্টারনেটে খোঁজ করে অলিভেইরার সঙ্গে মিল রয়েছে এমন আগের কয়েকটি ঘটনার তথ্য খুঁজে পান। এরপর বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে। তদন্তকারীরা জানতে পারেন, অলিভেইরার বিরুদ্ধে ব্রাজিলের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে একই ধরনের পরিচয় জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগের ইতিহাস রয়েছে। ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অলিভেইরা নিজেই স্বীকার করেছেন যে তিনি ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে শিশু পরিচয় ব্যবহার করেছেন। তবে তাঁর আইনজীবীদের দাবি, এই আচরণের উদ্দেশ্য ছিল কারও কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া নয়। বরং দীর্ঘদিনের অনিশ্চিত জীবন ও রাস্তায় থাকার অভিজ্ঞতা থেকে বেঁচে থাকার একটি উপায় হিসেবে তিনি এমন পরিচয় তৈরি করেছিলেন। আদালতে অলিভেইরা বলেছেন, তিনি মানুষকে বিভ্রান্ত করেছেন এবং মিথ্যা বলেছেন, তবে কাউকে প্রতারণা করার উদ্দেশ্য তাঁর ছিল না। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, শৈশবে যে ভালোবাসা ও যত্ন তিনি পাননি, সেটি পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা থেকেই তিনি পরিবারের সান্নিধ্য খুঁজেছিলেন। তবে রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ ছিল, মিথ্যা পরিচয় ব্যবহার করে তিনি পরিবারটির কাছ থেকে আশ্রয়, যত্ন ও বিভিন্ন সুবিধা পেয়েছেন। তদন্তে তাঁর ব্যবহৃত মিথ্যা পরিচয়, বিভিন্ন বক্তব্য এবং আগের ঘটনাগুলোর তথ্যও বিবেচনায় নেওয়া হয়। ব্রাজিলের আদালত শেষ পর্যন্ত তাঁকে প্রতারণা এবং মিথ্যা পরিচয় ব্যবহারের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে। রায়ে অলিভেইরাকে প্রতারণার দায়ে এক বছর ছয় মাস ১০ দিনের কারাদণ্ড এবং মিথ্যা পরিচয় ব্যবহারের দায়ে আরও চার মাস ১৮ দিনের সাজা দেওয়া হয়েছে। উভয় সাজাই প্রাথমিকভাবে আধা-খোলা কারা ব্যবস্থায় ভোগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর আগে মামলার বিচার চলাকালে অলিভেইরার মানসিক সক্ষমতা নিয়েও পরীক্ষা করা হয়েছিল। তাঁর আইনজীবীরা দাবি করেছিলেন, তাঁর দীর্ঘদিনের মানসিক ও সামাজিক সংকট রয়েছে এবং বিষয়টি মামলায় বিবেচনা করা প্রয়োজন। আদালতের প্রক্রিয়ায় বিশেষজ্ঞদের মতামতও নেওয়া হয়। অলিভেইরার আইনজীবী লুসিও সুজা রায়ের পর জানিয়েছেন, তাঁরা উচ্চ আদালতে আপিলসহ আইনগতভাবে সম্ভাব্য সব পদক্ষেপ নেবেন। তাঁর ভাষ্য, অলিভেইরার বিরুদ্ধে আর্থিক ক্ষতি করার অভিযোগ প্রতিষ্ঠিত হয়নি এবং তাঁর কর্মকাণ্ডকে ভিন্ন প্রেক্ষাপটে দেখা উচিত। এই ঘটনা ব্রাজিলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি কীভাবে দীর্ঘ সময় ধরে নিজেকে শিশু হিসেবে উপস্থাপন করে একটি পরিবারের আস্থা অর্জন করতে পেরেছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে মামলাটি সহানুভূতি, পরিচয় যাচাই এবং দুর্বল অবস্থায় থাকা ব্যক্তিদের সহায়তা করার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সতর্কতা নিয়েও নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। অলিভেইরার বিরুদ্ধে ব্রাজিলের আরও কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে একই ধরনের ঘটনার তদন্ত বা মামলা থাকার তথ্যও বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে। তবে এসব ঘটনার সবগুলোতে আদালতের চূড়ান্ত রায় হয়েছে কি না, তা আলাদাভাবে বিবেচনা করতে হবে। বর্তমান মামলায় সান্তা কাতারিনার আদালত তাঁকে প্রতারণা ও মিথ্যা পরিচয় ব্যবহারের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেছে। সংবাদসূত্র: ফক্স নিউজ, দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট
যুক্তরাষ্ট্রে সাড়ে ৭ মিলিয়ন ডলারের এক বিশাল প্রতারণা চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত এক ভারতীয় তরুণ কাতার পালিয়ে যাওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে কানাডায় গ্রেফতার হয়েছেন। ২১ বছর বয়সী জয় সুনীলভারতী গোস্বামী নামের গুজরাটের এই বাসিন্দা মার্কিন আদালত থেকে জামিন পাওয়ার ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে দেশ ছেড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে বসবাস করতেন এবং বয়স্ক নাগরিকদের টার্গেট করে গড়ে ওঠা একটি বিস্তৃত ইন্টারনেট ও টেলিফোনভিত্তিক প্রতারণা চক্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। জামিন পেয়ে তিনি সীমান্ত পার হয়ে কানাডায় প্রবেশ করেন এবং সেখান থেকে দোহা যাওয়ার টিকিট কাটেন, কিন্তু টরন্টো বিমানবন্দরে তাকে আটকে দেয় কানাডীয় কর্তৃপক্ষ। মার্কিন তদন্তকারী কর্মকর্তাদের মতে, এই প্রতারক চক্রটি মূলত বয়স্ক নাগরিকদের ফোন করে তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও ব্যক্তিগত তথ্য হ্যাক হওয়ার ভয় দেখাতো। এরপর তাদের বোঝানো হতো যে, নিজেদের সম্পদ রক্ষা করতে হলে সেগুলো দ্রুত নগদ অর্থ, স্বর্ণ বা গিফট কার্ডে রূপান্তর করতে হবে। নিজেদের আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সদস্য হিসেবে পরিচয় দিয়ে তারা ভুক্তভোগীদের বিশ্বাস অর্জন করত এবং সম্পদগুলো হস্তান্তরে বাধ্য করত। নগদ অর্থ ও স্বর্ণ সংগ্রহ করার জন্য চক্রটি 'মানি মিউল' বা বাহক ব্যবহার করত এবং অভিযোগ রয়েছে যে, জয় গোস্বামী ঠিক এই কাজটিই করতেন। নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সিতে কমপক্ষে ৯ জন বয়স্ক ব্যক্তির কাছ থেকে তিনি ব্যক্তিগতভাবে অর্থ ও স্বর্ণ সংগ্রহ করেছেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। ৫৯ থেকে ৮৭ বছর বয়সী এই ভুক্তভোগীরা সম্মিলিতভাবে প্রায় সাড়ে ৭ মিলিয়ন ডলার খুইয়েছেন। মার্কিন অ্যাটর্নি অফিস জানিয়েছে, তদন্তকারীরা গোস্বামীর ব্যাংক লেনদেনের তথ্যও খতিয়ে দেখেছেন, যেখানে ২০২৫ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত তার অ্যাকাউন্টে ৯০ হাজার ডলারের বেশি নগদ অর্থ জমা পড়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তদন্তকারীদের ধারণা, প্রতারণা চক্রের হয়ে কাজ করার বিনিময়েই তিনি এই বিপুল পরিমাণ অর্থ পেয়েছিলেন। গত ১৭ আগস্ট মার্কিন আদালতে হাজির হওয়ার পর তাকে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরের দিন সকালেই তিনি কানাডায় পালিয়ে যান। অবশেষে মার্কিন কর্তৃপক্ষের অনুরোধে গত ২০ আগস্ট তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার করা হয়। বর্তমানে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে আনতে বিচার বিভাগ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো যৌথভাবে কাজ করছে। দোষী সাব্যস্ত হলে তার সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ভুয়া গল্প সাজিয়ে ২০০ জনের বেশি মানুষের কাছ থেকে ৪০ হাজার ডলারেরও বেশি অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, অনুদান হিসেবে পাওয়া এই অর্থ তিনি চিকিৎসার জন্য নয়, ব্যক্তিগত ঋণ পরিশোধে ব্যবহার করেছেন। ফ্লোরিডার কলিয়ার কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (CCSO) জানিয়েছে, অভিযুক্তের নাম মারিবেথ এলেন জোনস (৫১)। তিনি বোনিটা স্প্রিংসের বাসিন্দা এবং একটি আবাসিক কমিউনিটিতে কার্যক্রম পরিচালকের দায়িত্বে ছিলেন। তদন্তে জানা গেছে, ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে তিনি বাসিন্দাদের কাছে দাবি করেন যে তিনি ক্যানসারে আক্রান্ত। অভিযোগ রয়েছে, বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করতে তিনি নিজের চুল কেটে ফেলেন, যাতে দেখে মনে হয় তিনি কেমোথেরাপির প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিজের শারীরিক অবস্থাও আরও খারাপ হচ্ছে বলে বিভিন্ন মানুষকে জানাতেন। তার এই দাবিতে সহানুভূতিশীল হয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা তার জন্য একটি গুফান্ডমি (GoFundMe) তহবিল সংগ্রহ অভিযান চালু করেন। ওই অনলাইন তহবিলের অর্থ সরাসরি তার ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে জমা হতো। এর বাইরে অনেকেই তাকে নগদ অর্থ ও ব্যক্তিগত চেকের মাধ্যমেও আর্থিক সহায়তা দেন। তদন্তে আরও বেরিয়ে আসে, এটিই প্রথম নয়। এর আগেও ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার একই দাবি করে অন্তত দুটি পৃথক গুফান্ডমি প্রচারণার সুবিধাভোগী ছিলেন তিনি। তদন্তকারীদের ভাষ্য, চিকিৎসা ব্যয়ের নামে সংগ্রহ করা অর্থের কোনো অংশই ক্যানসারের চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়নি। বরং তিনি ব্যক্তিগত ঋণ ও অন্যান্য দেনা পরিশোধে সেই অর্থ ব্যয় করেছেন। কলিয়ার কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এভাবে নেপলস এলাকার অন্তত ২৩৮ জন বাসিন্দার কাছ থেকে ৪০ হাজার ডলারের বেশি অর্থ প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে আদালত থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলে চলতি সপ্তাহে মারিবেথ এলেন জোনস নিজেই নেপলস জেল সেন্টারে আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে ২০ হাজার থেকে ১ লাখ ডলারের মধ্যে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে গুরুতর চুরির (গ্র্যান্ড থেফট) মামলা করা হয়েছে, যা ফ্লোরিডা আইনে দ্বিতীয় ডিগ্রির গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে তিনি আইনজীবী নিয়োগ করেছেন কি না বা আদালতে তার প্রথম শুনানি কবে হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ। কলিয়ার কাউন্টির শেরিফ কেভিন রামবস্ক বলেন, "এটি অত্যন্ত নিন্দনীয় একটি ঘটনা। কারণ মানুষ আন্তরিকভাবে বিশ্বাস করেছিল, একজন জীবন-মৃত্যুর লড়াইয়ে থাকা মানুষকে তারা সাহায্য করছে। সেই মানবিকতাকেই কাজে লাগিয়ে প্রতারণা করা হয়েছে।" তিনি আরও বলেন, "এ ধরনের প্রতারণা শুধু আর্থিক ক্ষতিই করে না, প্রকৃত অসুস্থ মানুষের জন্য পরিচালিত বৈধ তহবিল সংগ্রহ কার্যক্রমের ওপরও মানুষের আস্থা নষ্ট করে।" এদিকে অনলাইন তহবিল সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠান গুফান্ডমি জানিয়েছে, তাদের প্ল্যাটফর্মে প্রতারণার কোনো স্থান নেই। মারিবেথ জোনসের নামে পরিচালিত সব তহবিল সংগ্রহ কার্যক্রম সরিয়ে ফেলা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে তার নামে কোনো তহবিল সংগ্রহের সুযোগও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি আরও জানায়, তাদের 'গিভিং গ্যারান্টি' কর্মসূচির আওতায় অনুদানদাতাদের ৪১ হাজার ডলারের বেশি অর্থ ফেরত দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনার পর অনলাইনে অনুদান দেওয়ার আগে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে কলিয়ার কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়। কর্তৃপক্ষ বলছে, অনুদান দেওয়ার আগে ঘটনার সত্যতা যাচাই করা, আয়োজকের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং সম্ভব হলে সরাসরি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, হাসপাতাল বা নিবন্ধিত দাতব্য প্রতিষ্ঠানে অর্থ দেওয়াই নিরাপদ।
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রবীণ নাগরিকদের লক্ষ্য করে পরিচালিত অন্তত ২২ লাখ ডলারের একটি প্রতারণা চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তিন চীনা নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ফেডারেল প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, প্রতারণার মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে তা বিভিন্ন ভুয়া প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিদেশে পাঠানো হতো। ফ্লোরিডার মিডল ডিস্ট্রিক্টের যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি গ্রেগরি কিহো এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ইয়ংবো লি, হুয়াশান লু এবং ইউশিয়াং ঝাওকে ডাকযোগে প্রতারণার ষড়যন্ত্রের (Conspiracy to Commit Mail Fraud) অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বর্তমানে তারা বিচারিক হেফাজতে রয়েছেন। প্রসিকিউটরদের দাবি, গ্রেপ্তার হওয়া তিনজনই যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে অবস্থান করছিলেন না। তারা ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও দেশটিতে অবস্থান করছিলেন। এছাড়া এ মামলায় অভিযুক্ত আরেক ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের দ্বৈত নাগরিক বলে জানিয়েছেন গ্রেগরি কিহো। ৬৭ পৃষ্ঠার ফৌজদারি অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ইয়ংবো লির নেতৃত্বে এই চক্রটি যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ১৭টি অঙ্গরাজ্যের প্রবীণ ব্যক্তিদের ফোন ও বার্তার মাধ্যমে প্রতারণার ফাঁদে ফেলত। পরে তাদের ভুয়া প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে অর্থ পাঠাতে বাধ্য করা হতো। সেই অর্থ পরবর্তীতে চীন এবং কিছু ক্ষেত্রে বাহরাইনে পাঠিয়ে দেওয়া হতো। এ মামলায় আরও তিনজন লিং ওয়াং, শৌশিন লুও এবং শিয়াওওয়েই লিন এখনও পলাতক। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের ধারণা, তারা বর্তমানে চীনে অবস্থান করছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীনের বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তি না থাকায় তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা সম্ভব হবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত। অভিযোগপত্রে এখন পর্যন্ত ২৮ জন ভুক্তভোগীর নাম রয়েছে। তবে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, প্রতিদিনই নতুন ভুক্তভোগীর সন্ধান মিলছে এবং প্রকৃত সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। অভিযোগ অনুযায়ী, একজন ভুক্তভোগী একাই প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার ডলার হারিয়েছেন। তদন্তকারীদের হিসাবে, মোট প্রতারণার অর্থ অন্তত ২২ লাখ ডলার। গ্রেগরি কিহো বলেন, এই অর্থের বড় অংশই উদ্ধার করা কঠিন হবে। কারণ অর্থ বিভিন্ন দেশের একাধিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে খুব অল্প সময়ের মধ্যে স্থানান্তর করা হয়েছে। তদন্তের সূত্রপাত হয় চলতি বছরের জুন মাসে। ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের এক প্রবীণ নারী অনলাইনে প্রতারণার অভিযোগ দায়ের করলে অরল্যান্ডো পুলিশ বিষয়টি তদন্ত শুরু করে। পরে অরল্যান্ডো পুলিশের আর্থিক অপরাধ দমন ইউনিট যুক্তরাষ্ট্রের পোস্টাল ইন্সপেকশন সার্ভিসের সঙ্গে যৌথভাবে তদন্ত চালায়। তদন্তে অভিযুক্তদের একজনের নামে অরল্যান্ডোর একটি ইউপিএস স্টোরে নিবন্ধিত পোস্ট অফিস বক্সের সন্ধান পাওয়া যায়। পরে নজরদারির মাধ্যমে তদন্তকারীরা অভিযুক্তদের অরল্যান্ডোর একটি ব্যাংকে যাতায়াত করতে দেখেন এবং সেখান থেকে তদন্ত আরও এগিয়ে যায়। সংবাদ সম্মেলনে গ্রেগরি কিহো বলেন, প্রতারণার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ 'শূন্য সহনশীলতা' নীতি অনুসরণ করছে। তিনি বলেন, যেখানে প্রতারণা ঘটবে, সেখানেই আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো ব্যবস্থা নেবে। তিনি আরও বলেন, প্রতারণার শিকার ব্যক্তির অর্থ উদ্ধারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দ্রুত অভিযোগ জানানো। কারণ অর্থ একবার বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর হয়ে গেলে তা ফিরিয়ে আনা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। অরল্যান্ডো পুলিশের প্রধান এরিক স্মিথও জনগণকে প্রতারণার শিকার হলে দ্রুত অভিযোগ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, কেউ যদি মনে করেন তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন বা সন্দেহজনক কোনো ঘটনার মুখোমুখি হয়েছেন, তাহলে দ্রুত পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত। মার্কিন অ্যাটর্নির কার্যালয় জানিয়েছে, এই প্রতারণা চক্রটি কবে থেকে সক্রিয় ছিল এবং এর সঙ্গে আর কারা জড়িত, তা জানতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
যুক্তরাজ্যের ওয়েলসে আর্থিক সুবিধা পাওয়ার উদ্দেশ্যে নিজের মায়ের মরদেহ তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে বাড়ির ফ্রিজারে লুকিয়ে রাখার ঘটনায় এক ব্যক্তিকে দুই বছরের বেশি কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। গ্রে নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৬০ বছর বয়সী ক্রিস্টোফার ফিলিপস সোমবার আদালতে দুই বছরের বেশি কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন। এর আগে গত ২০ মার্চ তিনি একটি মৃতদেহের আইনসম্মত ও মর্যাদাপূর্ণ দাফন বা সৎকারে বাধা দেওয়া এবং মিথ্যা তথ্য দিয়ে প্রতারণার অভিযোগ স্বীকার করেন। তদন্ত অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সাউথ ওয়েলস পুলিশ সিলভিয়া ফিলিপস নামে এক বৃদ্ধার খোঁজ নিতে একটি বাড়িতে যায়। চিকিৎসকদের সঙ্গে ২০২২ সালের পর থেকে তার কোনো যোগাযোগ না থাকায় তার খোঁজখবর নিতে পুলিশকে অনুরোধ করা হয়েছিল। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ক্রিস্টোফার ফিলিপসের সঙ্গে কথা বলে। মায়ের অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, তার মা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে লন্ডনে আছেন। তবে কোথায় আছেন বা কার সঙ্গে আছেন, সে বিষয়ে তিনি কোনো বিস্তারিত তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ একটি ফ্রিজারের ভেতরে সিলভিয়া ফিলিপসের মরদেহ উদ্ধার করে। কর্মকর্তারা জানান, মরদেহের ওপর ফুল রাখা ছিল। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সিলভিয়া ফিলিপসের বয়স আশির কোঠায় ছিল। তবে তার মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নির্ধারণ করা যায়নি। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। আদালতে উপস্থাপিত তথ্যে বলা হয়, ক্রিস্টোফার ফিলিপস আর্থিক সুবিধা পাওয়ার উদ্দেশ্যেই মায়ের মৃত্যুর বিষয়টি গোপন রেখেছিলেন। যদিও প্রতিবেদনে তিনি ঠিক কী ধরনের আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়নি। মামলার রায়ে আদালত উল্লেখ করেন, মৃত ব্যক্তির মরদেহ দীর্ঘ সময় গোপন রাখা এবং যথাযথভাবে দাফন বা সৎকারে বাধা দেওয়া গুরুতর অপরাধ। একই সঙ্গে প্রতারণার মাধ্যমে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও আদালতে প্রমাণিত হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস (এনএইচএস)-এ শিক্ষাগত যোগ্যতা, কর্ম-অভিজ্ঞতা ও রেফারেন্স জাল করে ১৩টি চাকরি নেওয়ার অভিযোগে ব্রিটিশ-বাংলাদেশি এক ব্যক্তিকে চার বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। তদন্তে উঠে এসেছে, ভুয়া তথ্য ব্যবহার করে তিনি এনএইচএসের প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার পাউন্ড আর্থিক ক্ষতি করেছেন। দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির নাম আমরান হোসেন (৪০)। কেন্টের ওয়েস্টারহ্যামের ফ্রেঞ্চ স্ট্রিটের বাসিন্দা আমরানকে গত ২৪ জুলাই মেইডস্টোন ক্রাউন কোর্ট চার বছরের কারাদণ্ড দেন। এর আগে তিনি প্রতারণার অভিযোগে দোষ স্বীকার করেছিলেন। যুক্তরাজ্যের এনএইচএস কাউন্টার ফ্রড অথরিটি (এনএইচএসসিএফএ) জানায়, চাকরি পেতে আমরান মিথ্যা দাবি করেছিলেন যে তিনি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। পাশাপাশি তিনি এনএইচএসের বিভিন্ন উচ্চপদে কাজ করার ভুয়া অভিজ্ঞতাও নিজের জীবনবৃত্তান্তে উল্লেখ করেন। তদন্তে আরও জানা যায়, তিনি বার্কবেক, ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন থেকেও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন বলে দাবি করেছিলেন। কিন্তু দুই বিশ্ববিদ্যালয়ই নিশ্চিত করে যে তিনি কোনো কোর্সই সম্পন্ন করেননি। তদন্তকারীরা জানান, আমরান এনএইচএসের বিভিন্ন পদে ২ হাজার ৭১টি আবেদন করেছিলেন। এর মধ্যে তিনি প্রতারণার মাধ্যমে ১৩টি অ-ক্লিনিক্যাল পদে চাকরি পান। তদন্তে একটি নির্দিষ্ট ধারা দেখা যায় চাকরিতে যোগ দেওয়ার কিছুদিন পরই তিনি অসুস্থতার ছুটি নিতেন এবং চাকরির মেয়াদ শেষ হওয়া বা চাকরি বাতিল হওয়া পর্যন্ত কাজে অনুপস্থিত থাকতেন। ফলে তিনি অধিকাংশ ক্ষেত্রেই খুব সামান্য বা কোনো কাজই করতেন না। পরে সেই চাকরির অভিজ্ঞতাকেই পরবর্তী আবেদনগুলোতে ব্যবহার করতেন। এনএইচএস কাউন্টার ফ্রড অথরিটি আরও জানায়, চাকরির আবেদনকে বিশ্বাসযোগ্য করতে তিনি ভুয়া রেফারেন্স জমা দিয়েছিলেন। এমনকি একটি রেফারেন্স ছিল সম্পূর্ণ কাল্পনিক এবং কয়েকটি রেফারেন্স এমন ই-মেইল ঠিকানা থেকে পাঠানো হয়েছিল, যেগুলোর নিয়ন্ত্রণ ছিল তার নিজের হাতে। এছাড়া বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের সদস্য হওয়ার দাবিও তদন্তে মিথ্যা প্রমাণিত হয়। ২০২১ সালে ডেভন পার্টনারশিপ এনএইচএস ট্রাস্ট তাকে একটি জ্যেষ্ঠ পদে নিয়োগের প্রস্তাব দেওয়ার পর নিয়মিত ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাইয়ের সময় এই প্রতারণার সূত্রপাত ধরা পড়ে। আবেদনপত্রে আমরান দাবি করেছিলেন, তিনি কভেন্ট্রি অ্যান্ড ওয়ারউইকশায়ার পার্টনারশিপ এনএইচএস ট্রাস্টে ‘ডিরেক্টর অব ট্রান্সফরমেশন অ্যান্ড ইমপ্রুভমেন্ট’ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট ট্রাস্ট জানায়, তাদের প্রতিষ্ঠানে আমরান হোসেন নামে কেউ কখনো চাকরি করেননি। এরপর শুরু হয় বিস্তৃত তদন্ত। এনএইচএস কাউন্টার ফ্রড অথরিটির অপারেশনস প্রধান বেন হ্যারিসন বলেন, এই রায় একটি স্পষ্ট বার্তা দেয় যে মিথ্যা তথ্য, ভুয়া যোগ্যতা বা জাল রেফারেন্স ব্যবহার করে সরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি নেওয়ার চেষ্টা করলে তার কঠোর পরিণতি ভোগ করতে হবে। তার ভাষায়, এ ধরনের প্রতারণা শুধু সরকারি অর্থের অপচয়ই নয়, এনএইচএসের নিয়োগ প্রক্রিয়ার ওপর মানুষের আস্থাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে।
যুক্তরাষ্ট্রের নেভাডা অঙ্গরাজ্যের লাস ভেগাসে এক চীনা নারীকে ঘিরে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশের অভিযোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়ের মাধ্যমে একাধিক পুরুষকে বিয়ে করে তাদের কাছ থেকে বড় অঙ্কের অর্থ নিয়েছেন তিনি। এরপর অনেক ক্ষেত্রেই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। তদন্তে উঠে এসেছে, ২০১৯ সাল থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে তিনি অন্তত ১৫টি বিয়ের আবেদন জমা দিয়েছিলেন, যার মধ্যে আটটি বিয়ের সনদ ইস্যু হয়। অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন পরিচয় ব্যবহার করে তিনি প্রায় ১৪ জন পুরুষকে বিয়ের ফাঁদে ফেলেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কেভিভিইউ (KVVU) ও আদালতের নথির বরাতে জানা গেছে, অভিযুক্ত জিয়াইং চেনকে (Jiaying Chen) গত ৪ জুন লাস ভেগাসের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একটি রেস্তোরাঁ থেকে আটক করা হয়। তদন্তকারীরা জানতে পেরেছিলেন, তিনি সেখানে এক ব্যক্তির সঙ্গে সম্ভাব্য বিয়ের বিষয়ে আলোচনা করতে যাচ্ছিলেন। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই অভিযান চালায় লাস ভেগাস মেট্রোপলিটন পুলিশ। গ্রেপ্তারের সময় তদন্তকারীরা তার কাছ থেকে 'ভিকি লিয়াং' (Vicky Liang) নামে একটি সন্দেহভাজন জাল মার্কিন পাসপোর্ট এবং নেভাডা অঙ্গরাজ্যের একটি ড্রাইভিং লাইসেন্স উদ্ধার করেন। পরে নেভাডা মোটরযান বিভাগের তথ্য যাচাই করে দেখা যায়, ওই লাইসেন্স নম্বর বা নাম-জন্মতারিখের সঙ্গে সরকারি কোনো রেকর্ডের মিল নেই। তদন্তে ক্লার্ক কাউন্টির বিয়ে নিবন্ধন সংক্রান্ত নথি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, 'ভিকি লিয়াং' নামেও একাধিক বিয়ের আবেদন করা হয়েছিল। এর মধ্যে সাতটি বিয়ের সনদ ইস্যু করা হয়েছে। সবচেয়ে সাম্প্রতিক একটি বিয়ের আবেদন করা হয় ২৩ এপ্রিল ২০২৫ সালে এবং বিয়ের সনদ নিবন্ধিত হয় একই বছরের ৫ মে। ওই বিয়ের সঙ্গে জড়িত এক ব্যক্তি তদন্তকারীদের জানান, তিনি চেনকে অর্থ দিয়েছিলেন। পরে জানতে পারেন, একই সময়ে তিনি আরও একাধিক ব্যক্তিকে বিয়ে করেছেন। এরপর তিনি আদালতে বিয়ে বাতিলের আবেদন করেন। আরেক ব্যক্তি, যিনি ২৩ এপ্রিল ২০২৬ সালের একটি বিয়ের সনদে চেনের স্বামী হিসেবে তালিকাভুক্ত, তদন্তকারীদের জানান যে বিয়ের আগে ছয় মাস তাদের পরিচয় ছিল। তিনি দাবি করেন, চেনের সৎবোনের চিকিৎসার কথা শুনে তিনি তাকে ২০ হাজার ডলার দিয়েছিলেন। তবে তারা এখনও আইনগতভাবে স্বামী-স্ত্রী। এছাড়া ২১ মে জমা দেওয়া আরেকটি বিয়ের আবেদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তি জানান, তিনি চেনকে ৩০ হাজার ডলার দিয়েছেন এবং এখনও তাদের বৈবাহিক সম্পর্ক বহাল রয়েছে। তদন্তকারীরা এপ্রিল ও মে মাসে করা আরও কয়েকটি বিয়ের আবেদনও পর্যালোচনা করেছেন। তবে সেসব বিয়ে বাতিল বা বিচ্ছেদের কোনো নথি এখনও পাওয়া যায়নি। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারের সময় চেনের সঙ্গে ছয়জন পুরুষের বৈধ বৈবাহিক সম্পর্ক বহাল ছিল। এর বেশিরভাগ বিয়েই গত তিন মাসের মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে। কাউন্টির নথি অনুযায়ী, ২০১৯ সালের মার্চ থেকে ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত চেন ক্লার্ক কাউন্টি ম্যারেজ লাইসেন্স ব্যুরোতে ১৫টি বিয়ের আবেদন জমা দেন। এর মধ্যে আটটি বিয়ের সনদ ইস্যু হয়। তদন্তকারীদের কাছে তিনি স্বীকার করেন, সব আবেদনই বিয়েতে গড়ায়নি, কারণ তার ভাষায়, "সবাই টাকা দেয় না।" এছাড়া তিনি পুলিশকে জানান, একটি বিয়ে থেকে তিনি সর্বোচ্চ ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত আয় করতে পারতেন এবং লাস ভেগাসে বিয়ে করতেন কারণ সেখানে বিয়ের প্রক্রিয়া তুলনামূলক সহজ। তদন্তকারীদের দাবি, চেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুরুষদের সঙ্গে পরিচিত হতেন। এরপর অল্প সময়ের মধ্যেই বিয়ের প্রস্তাব দিতেন এবং বিভিন্ন অজুহাতে অর্থ চাইতেন। কিছু মামলায় অভিযোগ রয়েছে, তিনি অসুস্থ আত্মীয়ের চিকিৎসার কথা বলে অর্থ নিতেন। তবে কেন এসব ব্যক্তি এত দ্রুত বিয়েতে রাজি হয়েছিলেন, সে বিষয়টি এখনও স্পষ্ট নয়। এদিকে লাস ভেগাস রিভিউ-জার্নাল-এর তথ্য অনুযায়ী, পৃথক তদন্তে অভিযোগ উঠেছে যে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে নেওয়া অর্থের একটি অংশ জুয়ায় ব্যয় করা হয়েছে। আদালতে তিনি ইতোমধ্যে একটি সমঝোতার অংশ হিসেবে বহুবিবাহ এবং প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ নেওয়ার অভিযোগে দোষ স্বীকারে সম্মত হয়েছেন বলে বিভিন্ন মার্কিন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। তার সাজা ঘোষণা করা হবে আগামী ২০ আগস্ট।
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে আবারও সক্রিয় হয়েছে ‘অদাবিকৃত জীবনবীমার অর্থ’ দেওয়ার নামে নতুন প্রতারণার কৌশল। ফেডারেল ট্রেড কমিশন (FTC) জানিয়েছে, বিভিন্ন মানুষের কাছে ডাকযোগে এমন চিঠি পাঠানো হচ্ছে, যেখানে দাবি করা হচ্ছে—একজন মৃত ব্যক্তির সঙ্গে তাদের পদবির মিল রয়েছে এবং তারা কোটি ডলারের জীবনবীমার বৈধ উত্তরাধিকারী। তবে বাস্তবে এসব চিঠি প্রতারকদের ফাঁদ ছাড়া আর কিছুই নয়। এফটিসির মতে, প্রতারকরা নিজেদের আইনজীবী বা কোনো আইন সংস্থার প্রতিনিধি হিসেবে পরিচয় দেয়। চিঠিতে বলা হয়, মৃত ব্যক্তির প্রকৃত উত্তরাধিকারীকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাই বীমার অর্থের একটি অংশ প্রাপক, একটি অংশ দাতব্য সংস্থা এবং বাকি অংশ আইন সংস্থা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেবে। কিন্তু বাস্তবে এমন কোনো জীবনবীমা বা উত্তরাধিকারই থাকে না। চিঠির জবাব দিলে প্রতারকরা ধীরে ধীরে ব্যক্তিগত ও আর্থিক তথ্য, যেমন—সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর, ব্যাংক হিসাবের তথ্য বা বিভিন্ন অজুহাতে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এফটিসি সতর্ক করে বলেছে, অপরিচিত কারও কাছ থেকে বড় অঙ্কের অর্থ পাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে যোগাযোগ করা হলে সেটিকে সন্দেহের চোখে দেখতে হবে। কোনো অবস্থাতেই ব্যক্তিগত তথ্য, ব্যাংকিং তথ্য বা অর্থ পাঠানো উচিত নয়। সংস্থাটি এমন চিঠি পেলে তিনটি পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। প্রথমত, কোনো ধরনের জবাব না দিয়ে চিঠিটি উপেক্ষা করুন। দ্বিতীয়ত, পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের এ ধরনের প্রতারণা সম্পর্কে সতর্ক করুন, বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তিদের। তৃতীয়ত, বিষয়টি ফেডারেল ট্রেড কমিশনের কাছে প্রতারণার অভিযোগ হিসেবে জানিয়ে দিন, যাতে অন্যরাও একই ফাঁদে না পড়েন। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে পরিচয় চুরি, ভুয়া উত্তরাধিকার, লটারি জেতা এবং সরকারি সংস্থার পরিচয়ে প্রতারণাসহ নানা ধরনের আর্থিক জালিয়াতি বেড়েছে। তাই কোনো অপ্রত্যাশিত আর্থিক প্রস্তাব বা উত্তরাধিকার সংক্রান্ত চিঠি পাওয়া গেলে যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে এফটিসি।
যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যে একটি ডেটিং সাইটে পরিচয়ের সূত্র ধরে এক ফেডারেল সরকারি কর্মচারীর কাছ থেকে ৪ লাখ ডলারের বেশি হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে ৭২ বছর বয়সী এক নারীকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন আদালত। দোষী সাব্যস্ত ওই নারীর সর্বোচ্চ ২৩ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে বলে জানিয়েছে প্রসিকিউশন। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, দোষী সাব্যস্ত নারীর নাম জেনি সিয়ার্স। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি নিজেকে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষিত সফল ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দিয়ে ভুক্তভোগীর আস্থা অর্জন করেন এবং পরে বড় অঙ্কের অর্থ আত্মসাৎ করেন। মন্টগোমারি কাউন্টি স্টেটস অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্যমতে, ৫০ বছর বয়সী এক ফেডারেল কর্মচারীর সঙ্গে একটি ডেটিং সাইটে সিয়ার্সের পরিচয় হয়। পরে তিনি ভুক্তভোগীকে নিজের বাড়িতে থাকতে রাজি করান। ২০২১ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ধাপে ধাপে প্রতারণার ঘটনাগুলো ঘটে। প্রসিকিউটরদের দাবি, সিয়ার্স ভুক্তভোগীকে জানান যে তিনি তার অর্থ ফাইজারের শেয়ারে বিনিয়োগ করবেন। সেই বিশ্বাসে ভুক্তভোগী চেক, ব্যাংক ট্রান্সফার এবং নগদ অর্থের মাধ্যমে ৪ লাখ ডলারের বেশি তার হাতে তুলে দেন। তবে তদন্তে দেখা যায়, শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের পরিবর্তে ওই অর্থ ব্যক্তিগত বিলাসিতায় ব্যয় করেন সিয়ার্স। প্রসিকিউশন জানায়, তিনি অর্থের একটি অংশ দিয়ে একটি আলফা রোমিও গাড়ি কেনেন এবং এমজিএম-সহ বিভিন্ন ক্যাসিনোতে ১ লাখ ডলারের বেশি জুয়া খেলেন। মামলার বিচার চলাকালে জুরিদের সামনে ব্যাংক লেনদেন ও অর্থের প্রবাহসংক্রান্ত বিভিন্ন নথি উপস্থাপন করা হয়, যেখানে ভুক্তভোগীর অর্থ কীভাবে ব্যয় হয়েছে, তার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। দুই দিনব্যাপী বিচার শেষে মাত্র ৭৫ মিনিটের আলোচনার পর মন্টগোমারি কাউন্টির জুরি বোর্ড সিয়ার্সকে সিকিউরিটিজ জালিয়াতি, এক লাখ ডলারের বেশি অর্থ আত্মসাতের পরিকল্পনা এবং অর্থ তছরুপের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে। আদালতের রায় অনুযায়ী, এসব অভিযোগে তার সর্বোচ্চ ২৩ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। সর্বোচ্চ সাজা হলে ৯৫ বছর বয়স পর্যন্ত তাকে কারাগারে থাকতে হতে পারে। আদালত আগামী ২৮ আগস্ট তার সাজা ঘোষণা করবেন। মন্টগোমারি কাউন্টি স্টেটস অ্যাটর্নির কার্যালয় জানিয়েছে, অনলাইন পরিচয়ের মাধ্যমে আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা অত্যন্ত জরুরি। বিনিয়োগের নামে বড় অঙ্কের অর্থ দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের পরিচয় ভালোভাবে যাচাই করার পরামর্শও দিয়েছে তারা।
দীর্ঘ ২২ বছর ধরে পেশাদার সাংবাদিক হিসেবে টেলিভিশনের পর্দায় খবর পড়েছেন তিনি। মানুষকে সতর্ক করেছেন নানা প্রতারণার বিষয়ে। অথচ সেই তিনিই এবার একটি সাধারণ টেক্সট মেসেজ প্রতারণার শিকার হয়ে খুইয়েছেন ৭২ হাজার মার্কিন ডলার! যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ফ্রেসনো শহরের ‘কেএসইই ২৪’ (KSEE 24) চ্যানেলের সাবেক সংবাদ পাঠিকা অ্যালেক্স ডেলগাডো নিজেই এখন এক চাঞ্চল্যকর খবরের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মার্চ মাসে ডেলগাডোর ফোনে জনপ্রিয় স্টক ট্রেডিং অ্যাপ ‘রবিনহুড’-এর নাম করে একটি সন্দেহজনক টেক্সট মেসেজ আসে। মেসেজটিতে বলা হয়, তার অ্যাকাউন্টে সন্দেহজনক লেনদেনের চেষ্টা চলছে এবং এ বিষয়ে দ্রুত একটি নম্বরে কল করে রিপোর্ট করতে বলা হয়। একটি ভ্রমণের প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত থাকা ডেলগাডো খুব একটা না ভেবেই ওই নম্বরে কল করে বসেন। আর সেটাই ছিল তার জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল। কলটি রিসিভ করার পর অপর প্রান্ত থেকে তাকে অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সঙ্গে ‘ফ্রড ডিপার্টমেন্টে’ ট্রান্সফার করার কথা বলা হয়, যা শুনে তার কাছে পুরো বিষয়টি একেবারে আসল বলেই মনে হয়েছিল। ফোনের ওই প্রান্তে থাকা ভুয়া প্রতিনিধি ডেলগাডোকে জানান যে, এশিয়া থেকে কেউ একজন অ্যান্ড্রয়েড ফোন ব্যবহার করে তার ইনভেস্টমেন্ট অ্যাকাউন্টে প্রবেশের চেষ্টা করছে। তাই তদন্ত চলাকালীন নিরাপত্তার স্বার্থে তার বিনিয়োগকৃত অর্থ অন্য একটি অ্যাকাউন্টে সরিয়ে নিতে হবে। ডেলগাডো জানান, এরপর টানা দুদিন ধরে প্রতারকরা ফোনে ধাপে ধাপে নির্দেশনা দিয়ে তাকে অর্থ স্থানান্তরে বাধ্য করে। মাঝে মাঝে তিনি কলটি কেটে দিতে চাইলেও প্রতারকরা নানা কৌশলে তাকে আটকে রাখে। যখন তিনি বুঝতে পারেন যে তার অ্যাকাউন্ট থেকে হাজার হাজার ডলার উধাও হয়ে গেছে, ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। নিজের এমন বোকামিতে চরম হতাশ এই সাবেক সাংবাদিক বলেন, “আমি নিজেকে খুব বোকা মনে করছি। খবরের মানুষ হিসেবে আমার আরও সতর্ক হওয়া উচিত ছিল। আমি এসব বিষয়ে খবর সংগ্রহ করেছি, সব সময় শুনেছি। এটি যদি আমার সাথে ঘটতে পারে, তবে যে কারও সাথেই হতে পারে।” ঘটনার পর তিনি আসল ‘রবিনহুড’ কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করলেও তাদের কিছুই করার ছিল না। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অভিযোগ জানালেও তার খোয়া যাওয়া অর্থ কবে ফেরত পাবেন বা আদৌ পাবেন কি না, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। হতাশ ডেলগাডোর এখন একটাই পরামর্শ, “দুর্ভাগ্যবশত, নিজের মা ছাড়া আর কাউকেই বিশ্বাস করবেন না!”
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের ইভশাম টাউনশিপ পুলিশ সদর দপ্তরের সেইফ এক্সচেঞ্জ জোনে ২৪ হাজার ২০০ ডলারের একটি বিরল পোকেমন সংগ্রহযোগ্য কার্ড কেনার সময় ভুয়া ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহার করার অভিযোগে ফিলাডেলফিয়ার এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ইভশাম টাউনশিপ পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ভুক্তভোগী ব্যক্তি ফেসবুক মার্কেটপ্লেসে ২৪ হাজার ২০০ ডলারে একটি বিরল পোকেমন কার্ড বিক্রির জন্য বিজ্ঞাপন দিয়েছিলেন। পরে ক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগের পর উভয় পক্ষ নিরাপদ লেনদেনের উদ্দেশ্যে পুলিশ সদর দপ্তরের সেইফ এক্সচেঞ্জ জোনে দেখা করেন। লেনদেনের সময় ক্রেতা ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে অর্থ পরিশোধ করেছেন বলে দাবি করেন। তবে পরে যাচাই করে দেখা যায়, অর্থ পরিশোধে ব্যবহৃত ক্রিপ্টোকারেন্সি ভুয়া ছিল। বিষয়টি বুঝতে পেরে ভুক্তভোগী পুলিশকে অভিযোগ জানান। তদন্তের মাধ্যমে পুলিশ সন্দেহভাজন হিসেবে ২৬ বছর বয়সী ফিলাডেলফিয়ার বাসিন্দা ক্রিশ্চিয়ান এলামকে শনাক্ত করে। পরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে প্রতারণার মাধ্যমে চুরি এবং কম্পিউটার-সংশ্লিষ্ট চুরির অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ইভশাম টাউনশিপ পুলিশ বিভাগ জানায়, তাদের সেইফ এক্সচেঞ্জ জোনটি নিউ জার্সির মার্লটন এলাকার ৯৮৪ টাকারটন রোডে অবস্থিত পুলিশ সদর দপ্তরের লবিতে রয়েছে। এটি দিনে ২৪ ঘণ্টা জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকে এবং পুরো এলাকা সার্বক্ষণিক ভিডিও নজরদারির আওতায় রয়েছে। ঘটনার পর পুলিশ জনগণকে সতর্ক করে বলেছে, নিরাপদ স্থানে লেনদেন করলেও উচ্চমূল্যের পণ্য কেনাবেচার ক্ষেত্রে অর্থ পরিশোধ নিশ্চিত না হয়ে কোনো পণ্য হস্তান্তর করা উচিত নয়। বিশেষ করে ক্রিপ্টোকারেন্সি বা অন্যান্য ডিজিটাল পেমেন্টের ক্ষেত্রে লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে কি না, তা একাধিকবার যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছে তারা। পুলিশ আরও জানিয়েছে, সেইফ এক্সচেঞ্জ জোনের উদ্দেশ্য হলো নিরাপদ পরিবেশে ক্রেতা ও বিক্রেতার সাক্ষাতের সুযোগ করে দেওয়া। তবে পুলিশ সদস্যরা কোনো লেনদেনে অংশ নেন না, সাক্ষী হিসেবে থাকেন না কিংবা আইনি পরামর্শও দেন না। এছাড়া অস্ত্র বা মাদক-সংক্রান্ত কোনো লেনদেন সেখানে অনুমোদিত নয়।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রযুক্তিনির্ভর প্রতারণার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। বিশেষ করে ফোন কলের মাধ্যমে পরিচয় গোপন করে কিংবা ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ ও ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে দেশটির কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই (FBI) নাগরিকদের বেশ কয়েকটি বহুল প্রচলিত ফোনভিত্তিক প্রতারণা সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটির বিভিন্ন জনসচেতনতামূলক নির্দেশনা ও সাম্প্রতিক সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, প্রতারকরা সাধারণত ভয়, আতঙ্ক বা জরুরি পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে মানুষকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করার চেষ্টা করে। অনেক ক্ষেত্রেই তারা সরকারি সংস্থা, ব্যাংক বা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি পরিচয়ে যোগাযোগ করে। এফবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি দেখা যায় সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বরকে কেন্দ্র করে প্রতারণা। এ ধরনের ফোন কলে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর স্থগিত করা হবে অথবা তার নামে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তদন্ত চলছে। এরপর ব্যক্তিগত তথ্য কিংবা অর্থ দাবি করা হয়। তবে বাস্তবে যুক্তরাষ্ট্রের সোশ্যাল সিকিউরিটি প্রশাসন সাধারণত ফোনে কাউকে ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ বা ব্যক্তিগত তথ্য চায় না। আরেকটি পরিচিত প্রতারণা হলো ট্যাক্স সংক্রান্ত ভুয়া কল। প্রতারকরা নিজেদের অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বিভাগের (IRS) কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে দাবি করে যে ভুক্তভোগীর বকেয়া কর রয়েছে এবং তা দ্রুত পরিশোধ না করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অথচ আইআরএস সাধারণত কর সংক্রান্ত বিষয়ে প্রথম যোগাযোগ ডাকযোগে বা আনুষ্ঠানিক নোটিশের মাধ্যমে করে থাকে। ব্যাংকিং খাতকেও লক্ষ্যবস্তু করছে প্রতারকরা। অনেক সময় ফোন করে বলা হয়, গ্রাহকের ব্যাংক হিসাব ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বা সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্ত হয়েছে। এরপর ওটিপি, যাচাইকরণ কোড কিংবা অনলাইন ব্যাংকিং সংক্রান্ত তথ্য চাওয়া হয়। ব্যাংকিং নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরে সতর্ক করে আসছেন যে কোনো বৈধ ব্যাংক কখনো ফোনে গ্রাহকের পাসওয়ার্ড, ওটিপি বা নিরাপত্তা কোড জানতে চায় না। প্রযুক্তি সহায়তার নামে প্রতারণাও বাড়ছে। এ ধরনের কলে বলা হয়, ব্যবহারকারীর কম্পিউটার বা মোবাইল ফোনে ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে এবং তা সমাধানের জন্য দূর থেকে ডিভাইসে প্রবেশাধিকার দিতে হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের অনুরোধ গ্রহণ করলে ব্যক্তিগত তথ্য, ছবি, আর্থিক তথ্য বা অনলাইন অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। অ্যাপল বা মাইক্রোসফটের মতো প্রতিষ্ঠান সাধারণত বিনা কারণে গ্রাহকদের ফোন করে এ ধরনের সতর্কবার্তা দেয় না। সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে উদ্বেগজনক হিসেবে উঠে এসেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে পরিচালিত ভয়েস প্রতারণা। এ ক্ষেত্রে প্রতারকরা পরিবারের সদস্য, বন্ধু বা পরিচিত কারও কণ্ঠস্বর নকল করে জরুরি পরিস্থিতির কথা বলে অর্থ পাঠানোর অনুরোধ করে। এফবিআই সম্প্রতি এ ধরনের ঘটনার বিষয়ে বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে। সংস্থাটি বলছে, কোনো জরুরি আর্থিক অনুরোধ পাওয়া গেলে অর্থ পাঠানোর আগে অন্য কোনো মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া উচিত। সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, ফোনে কেউ যদি অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে, ভয় দেখায়, দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে বলে অথবা অর্থ ও ব্যক্তিগত তথ্য দাবি করে, তাহলে সেটিকে সন্দেহজনক হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। প্রয়োজনে কলটি কেটে দিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার অফিসিয়াল নম্বরে যোগাযোগ করে তথ্য যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সচেতনতা ও সতর্কতাই এ ধরনের প্রতারণা থেকে সুরক্ষার সবচেয়ে কার্যকর উপায়। একটি অসতর্ক মুহূর্তেই ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হওয়ার পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন যে কেউ।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।