যুক্তরাষ্ট্রের নেভাডা অঙ্গরাজ্যের লাস ভেগাসে এক চীনা নারীকে ঘিরে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশের অভিযোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়ের মাধ্যমে একাধিক পুরুষকে বিয়ে করে তাদের কাছ থেকে বড় অঙ্কের অর্থ নিয়েছেন তিনি। এরপর অনেক ক্ষেত্রেই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। তদন্তে উঠে এসেছে, ২০১৯ সাল থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে তিনি অন্তত ১৫টি বিয়ের আবেদন জমা দিয়েছিলেন, যার মধ্যে আটটি বিয়ের সনদ ইস্যু হয়। অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন পরিচয় ব্যবহার করে তিনি প্রায় ১৪ জন পুরুষকে বিয়ের ফাঁদে ফেলেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কেভিভিইউ (KVVU) ও আদালতের নথির বরাতে জানা গেছে, অভিযুক্ত জিয়াইং চেনকে (Jiaying Chen) গত ৪ জুন লাস ভেগাসের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একটি রেস্তোরাঁ থেকে আটক করা হয়। তদন্তকারীরা জানতে পেরেছিলেন, তিনি সেখানে এক ব্যক্তির সঙ্গে সম্ভাব্য বিয়ের বিষয়ে আলোচনা করতে যাচ্ছিলেন। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই অভিযান চালায় লাস ভেগাস মেট্রোপলিটন পুলিশ। গ্রেপ্তারের সময় তদন্তকারীরা তার কাছ থেকে 'ভিকি লিয়াং' (Vicky Liang) নামে একটি সন্দেহভাজন জাল মার্কিন পাসপোর্ট এবং নেভাডা অঙ্গরাজ্যের একটি ড্রাইভিং লাইসেন্স উদ্ধার করেন। পরে নেভাডা মোটরযান বিভাগের তথ্য যাচাই করে দেখা যায়, ওই লাইসেন্স নম্বর বা নাম-জন্মতারিখের সঙ্গে সরকারি কোনো রেকর্ডের মিল নেই। তদন্তে ক্লার্ক কাউন্টির বিয়ে নিবন্ধন সংক্রান্ত নথি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, 'ভিকি লিয়াং' নামেও একাধিক বিয়ের আবেদন করা হয়েছিল। এর মধ্যে সাতটি বিয়ের সনদ ইস্যু করা হয়েছে। সবচেয়ে সাম্প্রতিক একটি বিয়ের আবেদন করা হয় ২৩ এপ্রিল ২০২৫ সালে এবং বিয়ের সনদ নিবন্ধিত হয় একই বছরের ৫ মে। ওই বিয়ের সঙ্গে জড়িত এক ব্যক্তি তদন্তকারীদের জানান, তিনি চেনকে অর্থ দিয়েছিলেন। পরে জানতে পারেন, একই সময়ে তিনি আরও একাধিক ব্যক্তিকে বিয়ে করেছেন। এরপর তিনি আদালতে বিয়ে বাতিলের আবেদন করেন। আরেক ব্যক্তি, যিনি ২৩ এপ্রিল ২০২৬ সালের একটি বিয়ের সনদে চেনের স্বামী হিসেবে তালিকাভুক্ত, তদন্তকারীদের জানান যে বিয়ের আগে ছয় মাস তাদের পরিচয় ছিল। তিনি দাবি করেন, চেনের সৎবোনের চিকিৎসার কথা শুনে তিনি তাকে ২০ হাজার ডলার দিয়েছিলেন। তবে তারা এখনও আইনগতভাবে স্বামী-স্ত্রী। এছাড়া ২১ মে জমা দেওয়া আরেকটি বিয়ের আবেদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তি জানান, তিনি চেনকে ৩০ হাজার ডলার দিয়েছেন এবং এখনও তাদের বৈবাহিক সম্পর্ক বহাল রয়েছে। তদন্তকারীরা এপ্রিল ও মে মাসে করা আরও কয়েকটি বিয়ের আবেদনও পর্যালোচনা করেছেন। তবে সেসব বিয়ে বাতিল বা বিচ্ছেদের কোনো নথি এখনও পাওয়া যায়নি। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারের সময় চেনের সঙ্গে ছয়জন পুরুষের বৈধ বৈবাহিক সম্পর্ক বহাল ছিল। এর বেশিরভাগ বিয়েই গত তিন মাসের মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে। কাউন্টির নথি অনুযায়ী, ২০১৯ সালের মার্চ থেকে ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত চেন ক্লার্ক কাউন্টি ম্যারেজ লাইসেন্স ব্যুরোতে ১৫টি বিয়ের আবেদন জমা দেন। এর মধ্যে আটটি বিয়ের সনদ ইস্যু হয়। তদন্তকারীদের কাছে তিনি স্বীকার করেন, সব আবেদনই বিয়েতে গড়ায়নি, কারণ তার ভাষায়, "সবাই টাকা দেয় না।" এছাড়া তিনি পুলিশকে জানান, একটি বিয়ে থেকে তিনি সর্বোচ্চ ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত আয় করতে পারতেন এবং লাস ভেগাসে বিয়ে করতেন কারণ সেখানে বিয়ের প্রক্রিয়া তুলনামূলক সহজ। তদন্তকারীদের দাবি, চেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুরুষদের সঙ্গে পরিচিত হতেন। এরপর অল্প সময়ের মধ্যেই বিয়ের প্রস্তাব দিতেন এবং বিভিন্ন অজুহাতে অর্থ চাইতেন। কিছু মামলায় অভিযোগ রয়েছে, তিনি অসুস্থ আত্মীয়ের চিকিৎসার কথা বলে অর্থ নিতেন। তবে কেন এসব ব্যক্তি এত দ্রুত বিয়েতে রাজি হয়েছিলেন, সে বিষয়টি এখনও স্পষ্ট নয়। এদিকে লাস ভেগাস রিভিউ-জার্নাল-এর তথ্য অনুযায়ী, পৃথক তদন্তে অভিযোগ উঠেছে যে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে নেওয়া অর্থের একটি অংশ জুয়ায় ব্যয় করা হয়েছে। আদালতে তিনি ইতোমধ্যে একটি সমঝোতার অংশ হিসেবে বহুবিবাহ এবং প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ নেওয়ার অভিযোগে দোষ স্বীকারে সম্মত হয়েছেন বলে বিভিন্ন মার্কিন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। তার সাজা ঘোষণা করা হবে আগামী ২০ আগস্ট।
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে আবারও সক্রিয় হয়েছে ‘অদাবিকৃত জীবনবীমার অর্থ’ দেওয়ার নামে নতুন প্রতারণার কৌশল। ফেডারেল ট্রেড কমিশন (FTC) জানিয়েছে, বিভিন্ন মানুষের কাছে ডাকযোগে এমন চিঠি পাঠানো হচ্ছে, যেখানে দাবি করা হচ্ছে—একজন মৃত ব্যক্তির সঙ্গে তাদের পদবির মিল রয়েছে এবং তারা কোটি ডলারের জীবনবীমার বৈধ উত্তরাধিকারী। তবে বাস্তবে এসব চিঠি প্রতারকদের ফাঁদ ছাড়া আর কিছুই নয়। এফটিসির মতে, প্রতারকরা নিজেদের আইনজীবী বা কোনো আইন সংস্থার প্রতিনিধি হিসেবে পরিচয় দেয়। চিঠিতে বলা হয়, মৃত ব্যক্তির প্রকৃত উত্তরাধিকারীকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাই বীমার অর্থের একটি অংশ প্রাপক, একটি অংশ দাতব্য সংস্থা এবং বাকি অংশ আইন সংস্থা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেবে। কিন্তু বাস্তবে এমন কোনো জীবনবীমা বা উত্তরাধিকারই থাকে না। চিঠির জবাব দিলে প্রতারকরা ধীরে ধীরে ব্যক্তিগত ও আর্থিক তথ্য, যেমন—সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর, ব্যাংক হিসাবের তথ্য বা বিভিন্ন অজুহাতে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এফটিসি সতর্ক করে বলেছে, অপরিচিত কারও কাছ থেকে বড় অঙ্কের অর্থ পাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে যোগাযোগ করা হলে সেটিকে সন্দেহের চোখে দেখতে হবে। কোনো অবস্থাতেই ব্যক্তিগত তথ্য, ব্যাংকিং তথ্য বা অর্থ পাঠানো উচিত নয়। সংস্থাটি এমন চিঠি পেলে তিনটি পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। প্রথমত, কোনো ধরনের জবাব না দিয়ে চিঠিটি উপেক্ষা করুন। দ্বিতীয়ত, পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের এ ধরনের প্রতারণা সম্পর্কে সতর্ক করুন, বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তিদের। তৃতীয়ত, বিষয়টি ফেডারেল ট্রেড কমিশনের কাছে প্রতারণার অভিযোগ হিসেবে জানিয়ে দিন, যাতে অন্যরাও একই ফাঁদে না পড়েন। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে পরিচয় চুরি, ভুয়া উত্তরাধিকার, লটারি জেতা এবং সরকারি সংস্থার পরিচয়ে প্রতারণাসহ নানা ধরনের আর্থিক জালিয়াতি বেড়েছে। তাই কোনো অপ্রত্যাশিত আর্থিক প্রস্তাব বা উত্তরাধিকার সংক্রান্ত চিঠি পাওয়া গেলে যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে এফটিসি।
যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যে একটি ডেটিং সাইটে পরিচয়ের সূত্র ধরে এক ফেডারেল সরকারি কর্মচারীর কাছ থেকে ৪ লাখ ডলারের বেশি হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে ৭২ বছর বয়সী এক নারীকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন আদালত। দোষী সাব্যস্ত ওই নারীর সর্বোচ্চ ২৩ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে বলে জানিয়েছে প্রসিকিউশন। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, দোষী সাব্যস্ত নারীর নাম জেনি সিয়ার্স। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি নিজেকে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষিত সফল ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দিয়ে ভুক্তভোগীর আস্থা অর্জন করেন এবং পরে বড় অঙ্কের অর্থ আত্মসাৎ করেন। মন্টগোমারি কাউন্টি স্টেটস অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্যমতে, ৫০ বছর বয়সী এক ফেডারেল কর্মচারীর সঙ্গে একটি ডেটিং সাইটে সিয়ার্সের পরিচয় হয়। পরে তিনি ভুক্তভোগীকে নিজের বাড়িতে থাকতে রাজি করান। ২০২১ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ধাপে ধাপে প্রতারণার ঘটনাগুলো ঘটে। প্রসিকিউটরদের দাবি, সিয়ার্স ভুক্তভোগীকে জানান যে তিনি তার অর্থ ফাইজারের শেয়ারে বিনিয়োগ করবেন। সেই বিশ্বাসে ভুক্তভোগী চেক, ব্যাংক ট্রান্সফার এবং নগদ অর্থের মাধ্যমে ৪ লাখ ডলারের বেশি তার হাতে তুলে দেন। তবে তদন্তে দেখা যায়, শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের পরিবর্তে ওই অর্থ ব্যক্তিগত বিলাসিতায় ব্যয় করেন সিয়ার্স। প্রসিকিউশন জানায়, তিনি অর্থের একটি অংশ দিয়ে একটি আলফা রোমিও গাড়ি কেনেন এবং এমজিএম-সহ বিভিন্ন ক্যাসিনোতে ১ লাখ ডলারের বেশি জুয়া খেলেন। মামলার বিচার চলাকালে জুরিদের সামনে ব্যাংক লেনদেন ও অর্থের প্রবাহসংক্রান্ত বিভিন্ন নথি উপস্থাপন করা হয়, যেখানে ভুক্তভোগীর অর্থ কীভাবে ব্যয় হয়েছে, তার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। দুই দিনব্যাপী বিচার শেষে মাত্র ৭৫ মিনিটের আলোচনার পর মন্টগোমারি কাউন্টির জুরি বোর্ড সিয়ার্সকে সিকিউরিটিজ জালিয়াতি, এক লাখ ডলারের বেশি অর্থ আত্মসাতের পরিকল্পনা এবং অর্থ তছরুপের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে। আদালতের রায় অনুযায়ী, এসব অভিযোগে তার সর্বোচ্চ ২৩ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। সর্বোচ্চ সাজা হলে ৯৫ বছর বয়স পর্যন্ত তাকে কারাগারে থাকতে হতে পারে। আদালত আগামী ২৮ আগস্ট তার সাজা ঘোষণা করবেন। মন্টগোমারি কাউন্টি স্টেটস অ্যাটর্নির কার্যালয় জানিয়েছে, অনলাইন পরিচয়ের মাধ্যমে আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা অত্যন্ত জরুরি। বিনিয়োগের নামে বড় অঙ্কের অর্থ দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের পরিচয় ভালোভাবে যাচাই করার পরামর্শও দিয়েছে তারা।
দীর্ঘ ২২ বছর ধরে পেশাদার সাংবাদিক হিসেবে টেলিভিশনের পর্দায় খবর পড়েছেন তিনি। মানুষকে সতর্ক করেছেন নানা প্রতারণার বিষয়ে। অথচ সেই তিনিই এবার একটি সাধারণ টেক্সট মেসেজ প্রতারণার শিকার হয়ে খুইয়েছেন ৭২ হাজার মার্কিন ডলার! যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ফ্রেসনো শহরের ‘কেএসইই ২৪’ (KSEE 24) চ্যানেলের সাবেক সংবাদ পাঠিকা অ্যালেক্স ডেলগাডো নিজেই এখন এক চাঞ্চল্যকর খবরের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মার্চ মাসে ডেলগাডোর ফোনে জনপ্রিয় স্টক ট্রেডিং অ্যাপ ‘রবিনহুড’-এর নাম করে একটি সন্দেহজনক টেক্সট মেসেজ আসে। মেসেজটিতে বলা হয়, তার অ্যাকাউন্টে সন্দেহজনক লেনদেনের চেষ্টা চলছে এবং এ বিষয়ে দ্রুত একটি নম্বরে কল করে রিপোর্ট করতে বলা হয়। একটি ভ্রমণের প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত থাকা ডেলগাডো খুব একটা না ভেবেই ওই নম্বরে কল করে বসেন। আর সেটাই ছিল তার জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল। কলটি রিসিভ করার পর অপর প্রান্ত থেকে তাকে অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সঙ্গে ‘ফ্রড ডিপার্টমেন্টে’ ট্রান্সফার করার কথা বলা হয়, যা শুনে তার কাছে পুরো বিষয়টি একেবারে আসল বলেই মনে হয়েছিল। ফোনের ওই প্রান্তে থাকা ভুয়া প্রতিনিধি ডেলগাডোকে জানান যে, এশিয়া থেকে কেউ একজন অ্যান্ড্রয়েড ফোন ব্যবহার করে তার ইনভেস্টমেন্ট অ্যাকাউন্টে প্রবেশের চেষ্টা করছে। তাই তদন্ত চলাকালীন নিরাপত্তার স্বার্থে তার বিনিয়োগকৃত অর্থ অন্য একটি অ্যাকাউন্টে সরিয়ে নিতে হবে। ডেলগাডো জানান, এরপর টানা দুদিন ধরে প্রতারকরা ফোনে ধাপে ধাপে নির্দেশনা দিয়ে তাকে অর্থ স্থানান্তরে বাধ্য করে। মাঝে মাঝে তিনি কলটি কেটে দিতে চাইলেও প্রতারকরা নানা কৌশলে তাকে আটকে রাখে। যখন তিনি বুঝতে পারেন যে তার অ্যাকাউন্ট থেকে হাজার হাজার ডলার উধাও হয়ে গেছে, ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। নিজের এমন বোকামিতে চরম হতাশ এই সাবেক সাংবাদিক বলেন, “আমি নিজেকে খুব বোকা মনে করছি। খবরের মানুষ হিসেবে আমার আরও সতর্ক হওয়া উচিত ছিল। আমি এসব বিষয়ে খবর সংগ্রহ করেছি, সব সময় শুনেছি। এটি যদি আমার সাথে ঘটতে পারে, তবে যে কারও সাথেই হতে পারে।” ঘটনার পর তিনি আসল ‘রবিনহুড’ কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করলেও তাদের কিছুই করার ছিল না। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অভিযোগ জানালেও তার খোয়া যাওয়া অর্থ কবে ফেরত পাবেন বা আদৌ পাবেন কি না, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। হতাশ ডেলগাডোর এখন একটাই পরামর্শ, “দুর্ভাগ্যবশত, নিজের মা ছাড়া আর কাউকেই বিশ্বাস করবেন না!”
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের ইভশাম টাউনশিপ পুলিশ সদর দপ্তরের সেইফ এক্সচেঞ্জ জোনে ২৪ হাজার ২০০ ডলারের একটি বিরল পোকেমন সংগ্রহযোগ্য কার্ড কেনার সময় ভুয়া ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহার করার অভিযোগে ফিলাডেলফিয়ার এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ইভশাম টাউনশিপ পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ভুক্তভোগী ব্যক্তি ফেসবুক মার্কেটপ্লেসে ২৪ হাজার ২০০ ডলারে একটি বিরল পোকেমন কার্ড বিক্রির জন্য বিজ্ঞাপন দিয়েছিলেন। পরে ক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগের পর উভয় পক্ষ নিরাপদ লেনদেনের উদ্দেশ্যে পুলিশ সদর দপ্তরের সেইফ এক্সচেঞ্জ জোনে দেখা করেন। লেনদেনের সময় ক্রেতা ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে অর্থ পরিশোধ করেছেন বলে দাবি করেন। তবে পরে যাচাই করে দেখা যায়, অর্থ পরিশোধে ব্যবহৃত ক্রিপ্টোকারেন্সি ভুয়া ছিল। বিষয়টি বুঝতে পেরে ভুক্তভোগী পুলিশকে অভিযোগ জানান। তদন্তের মাধ্যমে পুলিশ সন্দেহভাজন হিসেবে ২৬ বছর বয়সী ফিলাডেলফিয়ার বাসিন্দা ক্রিশ্চিয়ান এলামকে শনাক্ত করে। পরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে প্রতারণার মাধ্যমে চুরি এবং কম্পিউটার-সংশ্লিষ্ট চুরির অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ইভশাম টাউনশিপ পুলিশ বিভাগ জানায়, তাদের সেইফ এক্সচেঞ্জ জোনটি নিউ জার্সির মার্লটন এলাকার ৯৮৪ টাকারটন রোডে অবস্থিত পুলিশ সদর দপ্তরের লবিতে রয়েছে। এটি দিনে ২৪ ঘণ্টা জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকে এবং পুরো এলাকা সার্বক্ষণিক ভিডিও নজরদারির আওতায় রয়েছে। ঘটনার পর পুলিশ জনগণকে সতর্ক করে বলেছে, নিরাপদ স্থানে লেনদেন করলেও উচ্চমূল্যের পণ্য কেনাবেচার ক্ষেত্রে অর্থ পরিশোধ নিশ্চিত না হয়ে কোনো পণ্য হস্তান্তর করা উচিত নয়। বিশেষ করে ক্রিপ্টোকারেন্সি বা অন্যান্য ডিজিটাল পেমেন্টের ক্ষেত্রে লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে কি না, তা একাধিকবার যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছে তারা। পুলিশ আরও জানিয়েছে, সেইফ এক্সচেঞ্জ জোনের উদ্দেশ্য হলো নিরাপদ পরিবেশে ক্রেতা ও বিক্রেতার সাক্ষাতের সুযোগ করে দেওয়া। তবে পুলিশ সদস্যরা কোনো লেনদেনে অংশ নেন না, সাক্ষী হিসেবে থাকেন না কিংবা আইনি পরামর্শও দেন না। এছাড়া অস্ত্র বা মাদক-সংক্রান্ত কোনো লেনদেন সেখানে অনুমোদিত নয়।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রযুক্তিনির্ভর প্রতারণার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। বিশেষ করে ফোন কলের মাধ্যমে পরিচয় গোপন করে কিংবা ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ ও ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে দেশটির কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই (FBI) নাগরিকদের বেশ কয়েকটি বহুল প্রচলিত ফোনভিত্তিক প্রতারণা সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটির বিভিন্ন জনসচেতনতামূলক নির্দেশনা ও সাম্প্রতিক সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, প্রতারকরা সাধারণত ভয়, আতঙ্ক বা জরুরি পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে মানুষকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করার চেষ্টা করে। অনেক ক্ষেত্রেই তারা সরকারি সংস্থা, ব্যাংক বা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি পরিচয়ে যোগাযোগ করে। এফবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি দেখা যায় সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বরকে কেন্দ্র করে প্রতারণা। এ ধরনের ফোন কলে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর স্থগিত করা হবে অথবা তার নামে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তদন্ত চলছে। এরপর ব্যক্তিগত তথ্য কিংবা অর্থ দাবি করা হয়। তবে বাস্তবে যুক্তরাষ্ট্রের সোশ্যাল সিকিউরিটি প্রশাসন সাধারণত ফোনে কাউকে ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ বা ব্যক্তিগত তথ্য চায় না। আরেকটি পরিচিত প্রতারণা হলো ট্যাক্স সংক্রান্ত ভুয়া কল। প্রতারকরা নিজেদের অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বিভাগের (IRS) কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে দাবি করে যে ভুক্তভোগীর বকেয়া কর রয়েছে এবং তা দ্রুত পরিশোধ না করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অথচ আইআরএস সাধারণত কর সংক্রান্ত বিষয়ে প্রথম যোগাযোগ ডাকযোগে বা আনুষ্ঠানিক নোটিশের মাধ্যমে করে থাকে। ব্যাংকিং খাতকেও লক্ষ্যবস্তু করছে প্রতারকরা। অনেক সময় ফোন করে বলা হয়, গ্রাহকের ব্যাংক হিসাব ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বা সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্ত হয়েছে। এরপর ওটিপি, যাচাইকরণ কোড কিংবা অনলাইন ব্যাংকিং সংক্রান্ত তথ্য চাওয়া হয়। ব্যাংকিং নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরে সতর্ক করে আসছেন যে কোনো বৈধ ব্যাংক কখনো ফোনে গ্রাহকের পাসওয়ার্ড, ওটিপি বা নিরাপত্তা কোড জানতে চায় না। প্রযুক্তি সহায়তার নামে প্রতারণাও বাড়ছে। এ ধরনের কলে বলা হয়, ব্যবহারকারীর কম্পিউটার বা মোবাইল ফোনে ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে এবং তা সমাধানের জন্য দূর থেকে ডিভাইসে প্রবেশাধিকার দিতে হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের অনুরোধ গ্রহণ করলে ব্যক্তিগত তথ্য, ছবি, আর্থিক তথ্য বা অনলাইন অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। অ্যাপল বা মাইক্রোসফটের মতো প্রতিষ্ঠান সাধারণত বিনা কারণে গ্রাহকদের ফোন করে এ ধরনের সতর্কবার্তা দেয় না। সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে উদ্বেগজনক হিসেবে উঠে এসেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে পরিচালিত ভয়েস প্রতারণা। এ ক্ষেত্রে প্রতারকরা পরিবারের সদস্য, বন্ধু বা পরিচিত কারও কণ্ঠস্বর নকল করে জরুরি পরিস্থিতির কথা বলে অর্থ পাঠানোর অনুরোধ করে। এফবিআই সম্প্রতি এ ধরনের ঘটনার বিষয়ে বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে। সংস্থাটি বলছে, কোনো জরুরি আর্থিক অনুরোধ পাওয়া গেলে অর্থ পাঠানোর আগে অন্য কোনো মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া উচিত। সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, ফোনে কেউ যদি অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে, ভয় দেখায়, দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে বলে অথবা অর্থ ও ব্যক্তিগত তথ্য দাবি করে, তাহলে সেটিকে সন্দেহজনক হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। প্রয়োজনে কলটি কেটে দিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার অফিসিয়াল নম্বরে যোগাযোগ করে তথ্য যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সচেতনতা ও সতর্কতাই এ ধরনের প্রতারণা থেকে সুরক্ষার সবচেয়ে কার্যকর উপায়। একটি অসতর্ক মুহূর্তেই ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হওয়ার পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন যে কেউ।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের নর্থ টেক্সাসে আবেগগতভাবে ভেঙে পড়া ও শোকাহত ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে দীর্ঘদিন ধরে ‘ভবিষ্যদ্বক্তা’ পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগে এক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ফেডারেল কর্তৃপক্ষের অভিযোগ অনুযায়ী, এই চক্রের মাধ্যমে অন্তত ২.৫ মিলিয়ন ডলার আত্মসাৎ করা হয়েছে। ফ্রিস্কো শহরের বাসিন্দা ৪৭ বছর বয়সী ব্রিজেট ডোরিন ইভান্স এবং তার স্বামী ৪৪ বছর বয়সী ভিনি জন উয়ানাওয়িচের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালতে ষড়যন্ত্র করে ডাক ও ইন্টারনেট জালিয়াতি এবং একাধিক প্রতারণার অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ২০২১ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৪ সালের জুলাই পর্যন্ত ইভান্স সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেকে ‘জোলিন ট্র্যাভিস’ নামে একজন জ্যোতিষী হিসেবে পরিচয় দিয়ে এমন ব্যক্তিদের লক্ষ্য করতেন, যারা ডিভোর্স, বিচ্ছিন্নতা বা প্রিয়জন হারানোর শোকে ছিলেন। প্রসিকিউটরদের ভাষ্যমতে, তিনি ভুক্তভোগীদের বোঝাতেন যে তাদের জীবনের আর্থিক ও ব্যক্তিগত দুর্দশার পেছনে একটি ‘অভিশাপ’ কাজ করছে। ওই অভিশাপ দূর করার জন্য সম্পদ বিক্রি করে নগদ অর্থ বা স্বর্ণমুদ্রা পাঠাতে বলা হতো, যা পরে ‘আধ্যাত্মিক পরিশুদ্ধির’ পর ফেরত দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হতো। তদন্তে বলা হয়েছে, এই অর্থ আর কখনোই ফেরত দেওয়া হয়নি। বরং অল্প কিছু অর্থ মাঝে মাঝে ফেরত দিয়ে ভুক্তভোগীদের আস্থা ধরে রাখার চেষ্টা করা হতো। একজন ভুক্তভোগী একাই দুই মিলিয়নেরও বেশি ডলার পাঠিয়েছেন বলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রসিকিউটর দপ্তর জানিয়েছে। আরেকজনের কাছ থেকে ৮৬ হাজার ডলার এবং অন্য একজনের কাছ থেকে ২ লাখ ৫৮ হাজার ডলার নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এক ঘটনায় ইভান্স ভুক্তভোগীকে ‘কার্মিক ঋণ’ পরিশোধের কথা বলে ক্রেডিট কার্ড খুলতে এবং গাড়ি ঋণ নিতে বাধ্য করেন, যার মাধ্যমে একটি শেভরোলেট করভেট কেনা হয়। তার স্বামী উয়ানাওয়িচ প্রতারণার অর্থ গ্রহণ, ব্যাংক হিসাব পরিচালনা এবং স্বর্ণমুদ্রা বিক্রিতে সহায়তা করেছেন বলে অভিযোগ আনা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায়, ইভান্স এর আগেও একই ধরনের প্রতারণার মামলায় দোষ স্বীকার করেছিলেন। তদন্তে আরও উঠে এসেছে, তিনি কারাগারে থাকাকালেও তার সহযোগীরা একই ছদ্মনামে প্রতারণা চালিয়ে যায়। এফবিআই জানিয়েছে, ঘটনাটি এখনো তদন্তাধীন এবং সম্ভাব্য আরও ভুক্তভোগীদের সামনে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে অভিযুক্তদের প্রতিটি অভিযোগে সর্বোচ্চ ২০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।
অনলাইনে পরিচয়, তারপর প্রেম। ধীরে ধীরে সম্পর্ক গভীর হয়। একপর্যায়ে অসুস্থতার কথা জানিয়ে শুরু হয় অর্থ সাহায্যের অনুরোধ। চিকিৎসা খরচ, হাসপাতালের বিল, জীবনরক্ষাকারী যন্ত্রপাতি, ওষুধ—একের পর এক কারণ দেখিয়ে টাকা পাঠাতে থাকেন যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের এক ব্যক্তি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি জানতে পারেন, যাকে বাঁচানোর জন্য এত অর্থ ব্যয় করেছেন, সেই নারী বাস্তবে কখনও ছিলেনই না। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনজে ডটকম ও আদালতের নথি অনুযায়ী, এই প্রতারণা চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার দায়ে নিউ জার্সির এডিসন এলাকার ৩৮ বছর বয়সী কেনি ওসাস ওকুংহেকে চার বছর তিন মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন একটি ফেডারেল আদালত। মামলার নথিতে বলা হয়েছে, ওহাইওর ওই ব্যক্তি অনলাইনে ‘অ্যাগি গঞ্জালেস’ নামে এক নারীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন। কিছুদিন পর নারীটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, তিনি গুরুতর অসুস্থ এবং হাসপাতালে ভর্তি। পরে একজন কথিত চিকিৎসকও তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। চিকিৎসকের পরিচয়ে পাঠানো বার্তাগুলোতে দাবি করা হয়, ওই নারীর শারীরিক অবস্থা দ্রুত অবনতি হচ্ছে। চিকিৎসা ব্যয় মেটানো না গেলে তাকে বাঁচানো সম্ভব হবে না। আবেগঘন এসব বার্তায় বিশ্বাস করে ওই ব্যক্তি মাসের পর মাস অর্থ পাঠাতে থাকেন। পরে তদন্তে দেখা যায়, অ্যাগি গঞ্জালেস নামে কোনো নারী ছিল না। চিকিৎসক পরিচয়ে যিনি বার্তা পাঠিয়েছিলেন, তিনিও ছিলেন কাল্পনিক চরিত্র। পুরো ঘটনাটি ছিল সুপরিকল্পিত প্রতারণার অংশ। আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০১৯ সাল থেকে ২০২৩ সালের শেষ পর্যন্ত ওকুংহের নিয়ন্ত্রণাধীন একাধিক ব্যাংক হিসাবে ৪০ লাখ ডলারের বেশি অর্থ জমা হয়। এসব অর্থ এসেছে বিভিন্ন ধরনের অনলাইন প্রতারণার মাধ্যমে। ওহাইওর ওই ব্যক্তি একাই হারিয়েছেন ৪ লাখ ১৬ হাজার ডলারের বেশি। একই ধরনের আরেকটি প্রেমের প্রতারণায় অ্যারিজোনার এক বাসিন্দা হারিয়েছেন ৫ লাখ ৫৫ হাজার ডলার। এছাড়া আরও কয়েকজন ভুক্তভোগী ভুয়া বাড়ি ভাড়া, কাল্পনিক বিনিয়োগ প্রকল্প এবং ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবসার প্রলোভনে অর্থ হারিয়েছেন। তদন্তকারীরা জানান, প্রতারণার কৌশল প্রায় সব ক্ষেত্রেই একই ছিল। প্রথমে ভুয়া পরিচয়ে সম্পর্ক তৈরি করা হতো। এরপর আবেগঘন সংকট, জরুরি পরিস্থিতি কিংবা লাভজনক বিনিয়োগের সুযোগ দেখিয়ে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করা হতো। মামলায় উঠে এসেছে, ওহাইওর ওই ব্যক্তিকে পরে একটি ভুয়া ক্রিপ্টোকারেন্সি প্ল্যাটফর্মে বিনিয়োগের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল। সেখানে বলা হয়, তার বিনিয়োগে বিপুল মুনাফা জমা হয়েছে। তবে সেই অর্থ তুলতে হলে আগে কর ও বিভিন্ন ফি পরিশোধ করতে হবে। সেই অর্থও নির্দিষ্ট ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হয়। মার্কিন ফেডারেল প্রসিকিউটরদের ভাষ্য অনুযায়ী, এ ধরনের প্রতারণাকে বর্তমানে ‘পিগ বুচারিং’ নামে ডাকা হয়। এতে প্রতারকরা দীর্ঘ সময় ধরে ভুক্তভোগীর বিশ্বাস ও আবেগ অর্জন করে, তারপর ধাপে ধাপে বড় অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেয়। তদন্ত চলাকালে একটি ব্যাংক সন্দেহজনক লেনদেন নিয়ে প্রশ্ন তুললে ওকুংহে দাবি করেন, তিনি গাড়ির যন্ত্রাংশের ব্যবসা করেন এবং অর্থগুলো ব্যবসায়িক লেনদেনের অংশ। কিন্তু পরে তদন্তকারীরা তার ই-মেইলে এমন কিছু নথি খুঁজে পান, যা অর্থ স্থানান্তরের পর তৈরি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। ২০২২ সালের অক্টোবরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে অর্থ পাচারের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন তিনি। আদালত তাকে কারাদণ্ডের পাশাপাশি সাতজন ভুক্তভোগীকে মোট ১২ লাখ ৭৫ হাজার ডলার ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন সম্পর্ক, বিনিয়োগ বা আর্থিক সহায়তার অনুরোধের ক্ষেত্রে পরিচয় যাচাই না করে অর্থ পাঠানো ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আবেগকে পুঁজি করে পরিচালিত এ ধরনের প্রতারণা বিশ্বজুড়ে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটিতে ভুয়া পরিচয়ে হাইস্কুলে ভর্তি হওয়ার এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ২৮ বছর বয়সী এক নারী নিজেকে ১৬ বছরের কিশোরী পরিচয় দিয়ে ব্রঙ্কসের একটি হাইস্কুলে ভর্তি হয়েছিলেন। পরে স্কুল কর্তৃপক্ষের সন্দেহের পর তার প্রকৃত পরিচয় প্রকাশ পেলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযুক্তের নাম কেসি ক্লাসেন। তিনি “শামারা রাশাদ” নামে ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে গত মাসে ব্রঙ্কসের ওয়েস্টচেস্টার স্কোয়ার একাডেমিতে ভর্তি হন। জমা দেওয়া নথিপত্রে তিনি দাবি করেন, তার জন্ম ২০১০ সালে এবং তিনি ওহাইও থেকে বোনের সঙ্গে নিউইয়র্কে এসেছেন। পুলিশের তথ্যমতে, ক্লাসেন প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে নিয়মিত ক্লাসে অংশ নেন। ভুয়া পরিচয় ও বয়সের ভিত্তিতে তাকে একটি স্কুল পরিচয়পত্রও দেওয়া হয়। তবে স্কুলের প্রিন্সিপালের সন্দেহ হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়। তদন্তের একপর্যায়ে তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের প্রোফাইল থেকে নেওয়া স্ক্রিনশটের মাধ্যমে প্রকৃত পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদের সময় ক্লাসেন প্রতারণার বিষয়টি স্বীকার করেন। পুলিশ জানায়, ক্লাসেন দাবি করেছেন, এক বন্ধুর পরামর্শে তিনি এ কাজ করেছেন, যাতে বেশি সরকারি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। গত ২৭ এপ্রিল স্কুল ক্যাম্পাস থেকেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে শিশু কল্যাণ বিপন্ন করা, অনধিকার প্রবেশ এবং ভুয়া পরিচয় ব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে। আদালতে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। আগামী ১৫ জুন মামলার পরবর্তী শুনানির দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। নিউইয়র্ক সিটি স্কুল কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে বলেছে, “এনরোলমেন্ট জালিয়াতি একটি গুরুতর অপরাধ, যা নিউইয়র্ক সিটির পাবলিক স্কুল ব্যবস্থার মৌলিক মূল্যবোধকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।” কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ ঘটনাটি তদন্ত করছে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ওয়েস্টচেস্টার স্কোয়ার একাডেমি একটি শিক্ষা ক্যাম্পাসের অংশ, যেখানে মোট ছয়টি স্কুল রয়েছে। একই ক্যাম্পাসের লেহম্যান হাইস্কুল কর্তৃপক্ষ অভিভাবকদের পাঠানো এক চিঠিতে জানায়, অভিযুক্তের পরিচয় নিয়ে যে সন্দেহ তৈরি হয়েছিল, তদন্তে তা সত্য প্রমাণিত হয়েছে।
ভারতের কেরালায় আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের সফর বাতিলকে ঘিরে প্রতারণার অভিযোগ তুলেছেন রাজ্যটির ক্রীড়ামন্ত্রী ভি আব্দুরাহিমান। তার দাবি, প্রায় ২৫০ কোটি রুপি সংগ্রহ করার পরও প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কেরালায় আসেনি আর্জেন্টিনা দল, যা ‘প্রতারণার শামিল’। বৃহস্পতিবার এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে ভি আব্দুরাহিমান বলেন, আর্জেন্টিনা দলকে কেরালায় এনে একটি প্রীতি ম্যাচ আয়োজনের জন্য দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা চলছিল। বিশেষ করে Lionel Messi-কে ঘিরে ছিল ব্যাপক পরিকল্পনা ও আগ্রহ। এ জন্য স্পন্সরের মাধ্যমে বড় অঙ্কের অর্থ সংগ্রহ করা হয়। তবে তার অভিযোগ, অর্থ সংগ্রহের পরও নির্ধারিত সময় অনুযায়ী দলটি কেরালায় আসেনি। “এভাবে তারা আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। আমরা এমন আচরণ আশা করিনি,” বলেন তিনি। মন্ত্রী আরও দাবি করেন, শুধু কেরালাই নয়—আরও কয়েকটি দেশের সঙ্গেও একই ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে আর্জেন্টিনা দল। অর্থ নেওয়ার পরও সেখানে গিয়ে ম্যাচ খেলেনি তারা। এ ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি। তার ভাষায়, “এটা এমন এক পরিস্থিতি, যেখানে আমাদের মামলা করতে হবে এবং ক্ষতিপূরণ দাবি করতে হবে।” কেরালার ফুটবলপ্রেমীদের হতাশার কথাও তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, আর্জেন্টিনা দলের আগমনের অপেক্ষায় ছিলেন হাজারো সমর্থক, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সফর বাতিল হওয়ায় ব্যাপক হতাশা তৈরি হয়েছে। উল্লেখ্য, গত বছরের নভেম্বরে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল যে চলতি বছরের মার্চে আর্জেন্টিনা দল কেরালা সফরে আসবে। তবে শেষ পর্যন্ত সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি। যদিও সম্প্রতি Lionel Messi ভারত সফর করেছেন এবং পশ্চিমবঙ্গ ও মুম্বাইসহ বিভিন্ন স্থানে অংশ নিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগে আরিফ মাঈনুদ্দিন (৫০) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁর কাছ থেকে ভুয়া প্রজ্ঞাপন, প্রধানমন্ত্রীর ছবিসংবলিত ভিজিটিং কার্ড এবং দুটি মুঠোফোন উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার দিবাগত মধ্যরাতে চকরিয়া এলাকা থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও কক্সবাজার জেলা পুলিশ-এর যৌথ অভিযানে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। রোববার রাজধানীর মিন্টো রোড-এ অবস্থিত ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)-এর অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আরিফ মাঈনুদ্দিন বিভিন্ন সময় ভিন্ন ভিন্ন নামে নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করে আসছিলেন। তিনি একটি ভুয়া প্রজ্ঞাপন তৈরি করে দাবি করেন, সরকার তাঁকে প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। সেই প্রজ্ঞাপনে বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার কথাও উল্লেখ করা হয়। পুলিশ জানায়, এসব ভুয়া নথি তিনি সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরে পাঠিয়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা পরিচয়ে ভুয়া ভিজিটিং কার্ড তৈরি করে ব্যবহার করছিলেন। অভিযানে তাঁর কাছ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক (প্রশাসন) পরিচয়ে তৈরি করা একটি জাল সিলও উদ্ধার করা হয়েছে। ডিবি কর্মকর্তারা আরও জানান, গত ১০ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ সরকারের নকল লোগো ও প্যাড ব্যবহার করে আরিফ একটি ভুয়া প্রজ্ঞাপন তৈরি করেন। সেখানে তিনি নিজেকে ‘গুমের ভিকটিম পুনর্বাসন’ প্রকল্পের আওতায় বিশেষ সম্মানিত ব্যক্তি হিসেবে দাবি করেন এবং বিভিন্ন সুবিধা প্রদানের কথা উল্লেখ করেন। এ ছাড়া ‘গুম কল্যাণ ট্রাস্ট’-এর সদস্যসচিব পরিচয়ে তিনি বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।