যুক্তরাষ্ট্রের আকাশে শনাক্ত হওয়া একটি রহস্যময় উড়ন্ত বস্তুকে সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকি মনে করে প্রায় ৫ লাখ ডলার মূল্যের ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ভূপাতিত করেছিল মার্কিন সামরিক বাহিনী। তবে পরে তদন্তে উঠে আসে, সেটি আসলে একটি গবেষণামূলক বেলুন ছিল, যা একটি স্কাউট-সংশ্লিষ্ট বৈজ্ঞানিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে পরিচালিত হচ্ছিল।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৩ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি মিশিগানের লেক হিউরন এলাকার আকাশে একটি অজ্ঞাত উড়ন্ত বস্তু শনাক্ত করে মার্কিন বিমান বাহিনী। বস্তুটির পরিচয় নিশ্চিত করা না গেলেও সেটিকে সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। পরে একটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান থেকে এআইএম-৯ সাইডউইন্ডার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে সেটিকে ধ্বংস করা হয়।
সম্প্রতি এক নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা বিষয়ক সম্মেলনে মার্কিন সরকারের অল-ডোমেইন অ্যানোমালি রেজল্যুশন অফিসের (এএআরও) সাবেক পরিচালক শন কার্কপ্যাট্রিক জানান, পরে বিশ্লেষণে দেখা যায় ধ্বংস করা বস্তুটি কোনো সামরিক বা ভিনগ্রহীয় প্রযুক্তি ছিল না। বরং সেটি ছিল একটি ছোট গবেষণা বেলুন, যা বৈজ্ঞানিক তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছিল। তার দাবি, বেলুনটি পৃথিবীকে সাত থেকে আটবার প্রদক্ষিণও করেছিল।
একই অনুষ্ঠানে এএআরওর সাবেক ভারপ্রাপ্ত পরিচালক টিম ফিলিপস বলেন, ২০২৩ সালের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের আকাশে চীনা নজরদারি বেলুন শনাক্ত হওয়ার পর দেশটির প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো অত্যন্ত সতর্ক অবস্থানে চলে যায়। ফলে আকাশে শনাক্ত হওয়া যেকোনো অস্বাভাবিক বস্তুকেই সম্ভাব্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল। সেই প্রেক্ষাপটে কিছু সাধারণ গবেষণা বেলুন বা বেসামরিক উড়ন্ত যন্ত্রও সামরিক নজরদারির আওতায় পড়ে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ওই সময় আলাস্কার আকাশেও আরেকটি গবেষণা বেলুন ধ্বংসে ব্যয়বহুল ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল। তুলনামূলকভাবে স্বল্পমূল্যের গবেষণা বেলুন ধ্বংসে বিপুল অর্থ ব্যয়ের বিষয়টি পরে বিভিন্ন মহলে সমালোচনার জন্ম দেয়। অনেকেই প্রশ্ন তোলেন, পর্যাপ্ত যাচাই ছাড়া এমন সামরিক পদক্ষেপ কতটা যৌক্তিক ছিল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক সামরিক রাডার ও নজরদারি প্রযুক্তি এখন এতটাই সংবেদনশীল যে অনেক সময় আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ বেলুন, বৈজ্ঞানিক যন্ত্র কিংবা অন্যান্য মানবসৃষ্ট ছোট উড়ন্ত বস্তুকেও অস্বাভাবিক বা রহস্যময় বস্তু হিসেবে শনাক্ত করা হতে পারে। এ কারণেই সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউএফও বা বর্তমানে ব্যবহৃত পরিভাষা অনুযায়ী “অননুমোদিত অস্বাভাবিক আকাশীয় ঘটনা” সংক্রান্ত বহু ঘটনার পুনর্মূল্যায়ন শুরু হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, চীনা নজরদারি বেলুনকে ঘিরে সৃষ্ট জাতীয় নিরাপত্তা উদ্বেগের পর যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখানোর নীতি গ্রহণ করেছিল। তবে লেক হিউরনের ঘটনাটি দেখিয়েছে, অতিরিক্ত সতর্কতার কারণে কখনও কখনও সাধারণ বৈজ্ঞানিক কার্যক্রমও সামরিক সন্দেহের মুখে পড়তে পারে। ঘটনাটি এখনও যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা নীতির আলোচনায় একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ অভিযোগ করেছে, ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া সান ডিয়েগো (ইউসি সান ডিয়েগো) স্কুল অব মেডিসিন ভর্তিপ্রক্রিয়ায় শ্বেতাঙ্গ ও এশীয় আবেদনকারীদের প্রতি বৈষম্য করেছে। বিভাগের তদন্তে বলা হয়েছে, কৃষ্ণাঙ্গ ও হিস্পানিক আবেদনকারীদের ভর্তি বাড়াতে বিশ্ববিদ্যালয় এমন কিছু পদ্ধতি ব্যবহার করেছে, যা ফেডারেল আইন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরিপন্থী। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের সিভিল রাইটস ডিভিশন সোমবার জানায়, তাদের তদন্তে দেখা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়টি আবেদনকারীদের এমসিএটি স্কোর ও জিপিএর মতো একাডেমিক যোগ্যতার পাশাপাশি এমন কিছু বিষয় বিবেচনা করেছে, যা বাস্তবে বর্ণভিত্তিক অগ্রাধিকার নিশ্চিত করতে ব্যবহৃত হয়েছে। বিভাগের ভাষ্য অনুযায়ী, এর ফলে তুলনামূলকভাবে কম একাডেমিক যোগ্যতা থাকা কিছু কৃষ্ণাঙ্গ ও হিস্পানিক আবেদনকারী ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন, আর বেশি যোগ্যতা থাকা কিছু শ্বেতাঙ্গ ও এশীয় আবেদনকারী বাদ পড়েছেন। বিচার বিভাগ আরও দাবি করেছে, আবেদনকারীদের ব্যক্তিগত দুর্ভোগ বা প্রতিকূলতা সম্পর্কিত উত্তরের মাধ্যমে তথাকথিত ‘আন্ডাররিপ্রেজেন্টেড মাইনরিটি’ শনাক্ত করা হতো। পরে সেই তথ্য ব্যবহার করে সাক্ষাৎকারের জন্য প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর আবেদনকারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। তদন্তে এ পদ্ধতিকে ১৯৬৪ সালের সিভিল রাইটস অ্যাক্টের টাইটেল সিক্স এবং ২০২৩ সালে সুপ্রিম কোর্টের ‘স্টুডেন্টস ফর ফেয়ার অ্যাডমিশনস বনাম হার্ভার্ড’ মামলার রায়ের লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ইউসি সান ডিয়েগো এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা বিচার বিভাগের চিঠি পর্যালোচনা করছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি, তাদের মেডিকেল স্কুলে ভর্তি হওয়া সব শিক্ষার্থীকে একই কঠোর একাডেমিক মানদণ্ড পূরণ করতে হয় এবং তারা আইন মেনেই ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করে। বিচার বিভাগ জানিয়েছে, তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে ভর্তিনীতি সংশোধনের চেষ্টা করবে। সমঝোতা না হলে আদালতে মামলা করা হতে পারে। ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্ণভিত্তিক ভর্তি নীতি বাতিলের রায় দেওয়ার পর থেকে ট্রাম্প প্রশাসন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভর্তি প্রক্রিয়া নিয়ে একাধিক তদন্ত শুরু করেছে। এর আগে ইউসিএলএ, ইয়েল এবং ইউসি ডেভিসের মেডিকেল স্কুলের বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযোগ তুলে তদন্তের ফল প্রকাশ করেছিল বিচার বিভাগ।
লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা সম্পূর্ণ প্রত্যাহারে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, দেশের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে এবং রাষ্ট্রের পূর্ণ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠায় ইসরায়েলি বাহিনীর প্রত্যাহার অত্যন্ত জরুরি। মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে ট্রাম্প ও আউন লেবাননের নিরাপত্তা পরিস্থিতি, হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণ, দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার, দেশটির সেনাবাহিনীকে সহায়তা, পুনর্গঠন এবং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার নিয়ে আলোচনা করেন। প্রায় দুই দশকের মধ্যে এটি কোনো লেবাননের প্রেসিডেন্টের প্রথম হোয়াইট হাউস সফর। বৈঠকের পর লেবাননের প্রেসিডেন্টের দপ্তর জানায়, আউন ট্রাম্পকে বলেছেন, লেবাননের ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলি সেনাদের সম্পূর্ণ প্রত্যাহার না হলে দেশের সার্বভৌমত্ব সুসংহত করা সম্ভব হবে না। তাঁর ভাষায়, রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও কর্তৃত্ব কেবল লেবাননের নিজস্ব বাহিনীর হাতেই থাকা উচিত। আলোচনায় হিজবুল্লাহর অস্ত্র সমর্পণের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। গত জুনে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে যে কাঠামোগত সমঝোতা হয়, তার অন্যতম লক্ষ্য ছিল ধাপে ধাপে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্রীকরণের পথ তৈরি করা। তবে হিজবুল্লাহ ইতোমধ্যে ওই পরিকল্পা এবং ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার বিরোধিতা করেছে। বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, লেবাননকে সম্মানের সঙ্গে এগিয়ে যেতে যুক্তরাষ্ট্র সহযোগিতা করবে। তিনি আরও ঘোষণা দেন, ১৯৮৫ সালের পর প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক বিমান সংস্থাগুলোকে আবার সরাসরি লেবাননে উড়ার অনুমতি দেওয়া হবে। এদিকে দক্ষিণ লেবাননের কয়েকটি এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর আংশিক প্রত্যাহারের পর সেখানে লেবাননের সেনাবাহিনী মোতায়েন শুরু হয়েছে। এই পদক্ষেপকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া চুক্তির প্রথম বাস্তব পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এখনো দক্ষিণ লেবাননের কিছু এলাকায় ইসরায়েলি সেনা অবস্থান করছে এবং সংঘাতের কারণে বাস্তুচ্যুত বহু মানুষ নিজ নিজ বাড়িতে ফিরতে পারেননি। এমন পরিস্থিতিতে আউন আশা করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক চাপ ইসরায়েলের পূর্ণ সেনা প্রত্যাহার নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থানকারী অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান আরও জোরদার করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। দেশটির ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (DHS) জানিয়েছে, অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে মোট ৮৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের জরিমানা আরোপ করা হয়েছে। ডিএইচএসের তথ্য অনুযায়ী, যেসব ব্যক্তি আদালতের চূড়ান্ত বহিষ্কার আদেশ (Final Order of Removal) পাওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করেননি, তাঁদের লক্ষ্য করেই এই জরিমানাগুলো জারি করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইনে বহিষ্কার আদেশ অমান্য করে দেশে অবস্থান করলে প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ জরিমানা করার বিধান রয়েছে। সেই আইনের আওতায় দীর্ঘদিনের বকেয়া জরিমানা হিসাব করেই মোট অঙ্কটি নির্ধারণ করা হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য হলো অভিবাসন আইন কার্যকর করা এবং আদালতের নির্দেশ অমান্যকারীদের জবাবদিহির আওতায় আনা। অন্যদিকে, অভিবাসন অধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে। তাদের দাবি, অধিকাংশ অভিবাসীর পক্ষেই এত বড় অঙ্কের জরিমানা পরিশোধ করা বাস্তবে সম্ভব নয়। ফলে এটি কার্যকর আর্থিক শাস্তির চেয়ে ভীতির পরিবেশ তৈরির কৌশল হিসেবেই বেশি ব্যবহৃত হতে পারে। দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসন নীতিতে একের পর এক কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার, গণহারে আটক অভিযান, দ্রুত বহিষ্কার কার্যক্রম এবং অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে আর্থিক শাস্তি—সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনার চেষ্টা চলছে।