দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অভিযান ডি-ডে’র ৮২তম বার্ষিকীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি একাধিক পোস্ট শেয়ার করে নতুন আলোচনা সৃষ্টি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর মধ্যে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রেসিডেন্সিয়াল লাইব্রেরিকে জরাজীর্ণ ও আবর্জনায় ঘেরা অবস্থায় দেখানো একটি ছবি বিশেষভাবে নজর কেড়েছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট জানিয়েছে, শনিবার সকালে ট্রাম্প তার মালিকানাধীন সামাজিক মাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে একটি এআই-নির্মিত সংগীত ভিডিও প্রকাশ করেন। ভিডিওটি তৈরি করেন নিউইয়র্কের কংগ্রেস প্রার্থী অ্যান্থনি কনস্টান্টিনো, যাকে সম্প্রতি সমর্থন দিয়েছেন ট্রাম্প।
ভিডিওটিতে ট্রাম্পকে বিভিন্ন কাল্পনিক ও নাটকীয় দৃশ্যে দেখা যায়। কোথাও তিনি সিংহের পিঠে চড়ছেন, কোথাও মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউমের সঙ্গে খাবার খাচ্ছেন, আবার কোথাও হোয়াইট হাউসে আয়োজিত একটি লড়াইয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত রয়েছেন। ভিডিওটির মূল বার্তা ছিল বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা তুলে ধরা।
এর কয়েক ঘণ্টা পর ট্রাম্প আরেকটি এআই-নির্মিত ছবি পোস্ট করেন, যেখানে ওবামা প্রেসিডেন্সিয়াল লাইব্রেরিকে ভবিষ্যতে ভগ্নপ্রায় অবস্থায় দেখানো হয়। ছবিতে ভবনটির চারপাশে গৃহহীনদের বসতি এবং ছাদের ওপর বিশাল আবর্জনার স্তূপ দেখানো হয়। ছবির সঙ্গে ট্রাম্প ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্যও যুক্ত করেন।
তবে সমালোচকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে আরেকটি বিষয়। ডি-ডে’র মতো ঐতিহাসিক দিবসে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে কোনো সরাসরি স্মরণবার্তা দেখা যায়নি। বরং দিনের বাকি সময়েও তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে লক্ষ্য করে পোস্ট করতে থাকেন।
অন্যদিকে বিশ্বের বিভিন্ন নেতা দিবসটি উপলক্ষে আনুষ্ঠানিক বার্তা দিয়েছেন। কানাডার প্রধানমন্ত্রী Mark Carney, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট Volodymyr Zelenskyy এবং যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী Keir Starmer সামাজিক মাধ্যমে ডি-ডে স্মরণ করেন। হোয়াইট হাউসের আনুষ্ঠানিক এক্স অ্যাকাউন্ট এবং ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরও ১৯৪৪ সালের ৬ জুন প্রাণ হারানো সেনাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পোস্ট প্রকাশ করে।
উল্লেখ্য, ১৯৪৪ সালের ৬ জুন মিত্রবাহিনী ফ্রান্সের নরম্যান্ডি উপকূলে অবতরণ করে নাৎসি জার্মানির বিরুদ্ধে বৃহৎ আক্রমণ শুরু করে। ইতিহাসে এটি ডি-ডে নামে পরিচিত এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া ঘটনাগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হয়।
ডি-ডে উপলক্ষে ট্রাম্পের অবস্থান অতীতের তুলনায় এবার কিছুটা ভিন্ন ছিল। ২০২৪ সালে তিনি যুদ্ধের প্রবীণ সেনাদের সঙ্গে ভার্চুয়াল আলাপচারিতার ভিডিও এবং নিহত সেনাদের স্মরণে বার্তা প্রকাশ করেছিলেন। ২০২৩ সালেও তার পুনর্নির্বাচনী প্রচারণা দল ডি-ডে উপলক্ষে একটি বিশেষ ভিডিও প্রকাশ করেছিল।
এদিকে ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত ডি-ডে স্মরণ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী Pete Hegseth ইউরোপের অভিবাসন নীতি নিয়েও মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ইউরোপের বিভিন্ন উপকূলে বর্তমানে ভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে এবং এ বিষয়ে ইউরোপীয় দেশগুলোর আরও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।
তার এই বক্তব্য ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের অবস্থানেরই প্রতিফলন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্প ন্যাটো মিত্রদের প্রতি আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছেন এবং ইউরোপীয় দেশগুলোকে নিরাপত্তা ও সামরিক ব্যয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হওয়ার অভিযোগ করে আসছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ডি-ডে’র মতো একটি ঐতিহাসিক স্মরণ দিবসে ট্রাম্পের এআই-নির্মিত পোস্টগুলো আবারও দেখিয়েছে যে, তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে রাজনৈতিক বার্তা ও প্রতিপক্ষকে আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে চলেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সিমি ভ্যালিতে পারিবারিক সহিংসতার অভিযোগে অভিযুক্ত এক ব্যক্তিকে ধাওয়া করার পর পুলিশের গুলিতে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর পুরো এলাকাজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং কী পরিস্থিতিতে গুলি চালানো হয়েছিল, তা নিয়ে পৃথক তদন্ত শুরু হয়েছে। সিমি ভ্যালি পুলিশ জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ডুসান স্ট্রিটের ২৫০০ ব্লকে একটি পারিবারিক সহিংসতার অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থলে যান কর্মকর্তারা। সেখানে পৌঁছে তারা জানতে পারেন, ৩৭ বছর বয়সী সন্দেহভাজন ব্যক্তি ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল ছেড়ে পালিয়েছেন। প্রাথমিক তদন্তে তাঁর বিরুদ্ধে পারিবারিক নির্যাতন ও বয়স্ক ব্যক্তির ওপর নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেপ্তারের যথেষ্ট ভিত্তি পাওয়া যায়। পুলিশের দাবি, সন্দেহভাজনের কাছে একটি আগ্নেয়াস্ত্র ছিল এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এলে তিনি পুলিশের সঙ্গে ‘গুলি বিনিময়ে জড়ানোর’ ইচ্ছার কথাও জানিয়েছিলেন। পরে দুপুর প্রায় ১টা ৩৫ মিনিটে সিমি ভ্যালি টাউন সেন্টারের কাছে তাঁর গাড়ি শনাক্ত করা হলে পুলিশ থামার নির্দেশ দেয়। কিন্তু তিনি নির্দেশ অমান্য করে পালিয়ে যান এবং শুরু হয় ধাওয়া। ধাওয়া শেষে ডুসান স্ট্রিট এলাকায় সন্দেহভাজনের পিকআপ ট্রাকের সঙ্গে একটি পুলিশ মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ হয়। এরপর সেখানে গুলির ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলেই ওই ব্যক্তিকে মৃত ঘোষণা করা হয়। ঘটনাস্থলের আকাশপথের ভিডিওতে একটি ক্ষতিগ্রস্ত পিকআপ ট্রাক, একটি ভেঙে যাওয়া পুলিশ মোটরসাইকেল এবং গুলির চিহ্ন দেখা গেছে। সিমি ভ্যালি পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় কোনো পুলিশ সদস্য আহত হননি। তবে তদন্তের স্বার্থে গুলি চালানোর পরিস্থিতি বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পরিচয় এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না। ঘটনার তদন্তে সিমি ভ্যালি পুলিশের গোয়েন্দা শাখার পাশাপাশি ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির দপ্তরও অংশ নিয়েছে। একই সঙ্গে পুলিশের প্রফেশনাল স্ট্যান্ডার্ডস ব্যুরো পৃথক অভ্যন্তরীণ তদন্ত করবে। ঘটনার পর কয়েক ঘণ্টা ডুসান স্ট্রিট ও আশপাশের এলাকায় যান চলাচল সীমিত রাখা হয়। পুলিশ বাসিন্দাদের অপ্রয়োজনীয়ভাবে ওই এলাকায় না যাওয়ার অনুরোধ জানায় এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের তদন্তে সহায়তা করার আহ্বান জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে বাংলাদেশি মুসলিম কমিউনিটির উদ্যোগে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হয়েছে তিন দিনব্যাপী আউটডোর ওয়াজ মাহফিল ও কিরাত প্রতিযোগিতা। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, প্রবাসী বাংলাদেশিদের ব্যাপক অংশগ্রহণ এবং উৎসবমুখর পরিবেশে আয়োজিত এ অনুষ্ঠান গত ১৯ জুলাই আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হয়। ১৭ জুলাই শুরু হওয়া এই আয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত প্রখ্যাত আলেম-উলামা, মাশায়েখ, হাফেজ, ক্বারী, ইসলামী বক্তা ও সম্মানিত অতিথিরা অংশ নেন। তাঁদের কুরআন তিলাওয়াত, ইসলামী আলোচনা এবং দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যে পুরো মাহফিল প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল কিরাত প্রতিযোগিতা। এতে ৬০ জনের বেশি শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। বিচারকদের মূল্যায়নের ভিত্তিতে সেরা ১০ জন প্রতিযোগীকে সম্মাননা ও পুরস্কার প্রদান করা হয়। উন্মুক্ত আকাশের নিচে আয়োজিত এ ব্যতিক্রমধর্মী মাহফিলকে স্বাগত জানিয়ে অংশগ্রহণকারীরা আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পুরো আয়োজনজুড়ে ছিল প্রবাসে এক টুকরো বাংলাদেশি আবহ। পরিবার-পরিজন, বন্ধু ও কমিউনিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে এটি পরিণত হয় মিলনমেলায়। পাশাপাশি বাংলাদেশি খাবার ও নাস্তার বিভিন্ন স্টলও দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু ছিল। অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথি, আলেম-উলামা এবং কমিউনিটির সদস্যরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের আয়োজন যুক্তরাষ্ট্রে ইসলামী দাওয়াহ, ধর্মীয় শিক্ষা এবং প্রবাসী বাংলাদেশি মুসলিমদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ আরও সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তারা ভবিষ্যতেও প্রতিবছর নিয়মিতভাবে এ ধরনের বৃহৎ আয়োজন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। আয়োজকদের মতে, ধর্মীয় শিক্ষা ও সামাজিক বন্ধনকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের মধ্যে ইসলামী মূল্যবোধ ছড়িয়ে দেওয়াই ছিল এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। তিন দিনের এই মাহফিল শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যেও সন্তোষ প্রকাশ করতে দেখা যায়।
ক্যালিফোর্নিয়া ও মিনেসোটার জন্য নির্ধারিত ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি ফেডারেল মেডিকেইড অর্থ সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। প্রশাসনের দাবি, সম্ভাব্য জালিয়াতি ও অনিয়মের অভিযোগ যাচাই না হওয়া পর্যন্ত এই অর্থ ছাড়া হবে না। তবে দুই অঙ্গরাজ্যের কর্মকর্তারা এ সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে সমালোচনা করেছেন। মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগ (এইচএইচএস) এবং সেন্টারস ফর মেডিকেয়ার অ্যান্ড মেডিকেইড সার্ভিসেস (সিএমএস) জানায়, ক্যালিফোর্নিয়ার জন্য ৮৬৭ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার এবং মিনেসোটার জন্য ১৯৯ মিলিয়ন ডলারের ফেডারেল মেডিকেইড অর্থ আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি স্থায়ী অর্থ কর্তন নয়; সংশ্লিষ্ট দাবির বৈধতা প্রমাণে প্রয়োজনীয় নথি জমা দিলে অর্থ ছেড়ে দেওয়া হবে। স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের সচিব রবার্ট এফ. কেনেডি জুনিয়র বলেন, মেডিকেইড কর্মসূচির অর্থ কেবল বৈধ দাবির ক্ষেত্রেই ব্যয় হওয়া উচিত। তাঁর দাবি, করদাতাদের অর্থ সুরক্ষিত রাখতে জালিয়াতি, অপচয় ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। সিএমএসের প্রশাসক ড. মেহমেত ওজও বলেন, অর্থ বিতরণের পর তা উদ্ধারের চেয়ে আগে থেকেই সন্দেহজনক দাবিগুলো যাচাই করাই সংস্থার নতুন কৌশল। প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ক্যালিফোর্নিয়ায় বিশেষ করে ইন-হোম কেয়ার কর্মসূচির ব্যয়ের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি এবং মিনেসোটার ১৪টি উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ মেডিকেইড সেবা খাতে কিছু দাবির বিষয়ে অতিরিক্ত পর্যালোচনার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত ফেডারেল সরকার নির্দিষ্ট কোনো জালিয়াতির প্রমাণ প্রকাশ করেনি। এই সিদ্ধান্তের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়তে পারে ক্যালিফোর্নিয়ার ইন-হোম সাপোর্টিভ সার্ভিসেস (আইএইচএসএস) কর্মসূচির ওপর, যার মাধ্যমে ৯ লাখের বেশি বয়স্ক, প্রতিবন্ধী এবং গুরুতর অসুস্থ ব্যক্তি নিজ বাড়িতে পরিচর্যা সেবা পান। অর্থ দীর্ঘ সময় স্থগিত থাকলে সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ও পরিচর্যাকারীদের অর্থপ্রদান বিলম্বিত হওয়ার পাশাপাশি রাজ্য সরকারকে বিকল্প অর্থায়নের ব্যবস্থা করতে হতে পারে। তবে বর্তমানে মেডিকেইড সুবিধাভোগীদের যোগ্যতা বা স্বাস্থ্যসেবা বন্ধ করা হয়নি। অন্যদিকে মিনেসোটায় স্থগিত হওয়া অর্থ ১৪টি উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ মেডিকেইড সেবা খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হলেও কতজন সুবিধাভোগী সরাসরি প্রভাবিত হতে পারেন, সে সংখ্যা এখনো প্রকাশ করেনি ফেডারেল সরকার বা অঙ্গরাজ্য কর্তৃপক্ষ। ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং মিনেসোটার গভর্নর টিম ওয়ালজ এ পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাঁদের দাবি, প্রশাসন কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়াই অর্থ স্থগিত করেছে এবং এর ফলে বয়স্ক, প্রতিবন্ধী ও নিম্নআয়ের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। মেডিকেইড যুক্তরাষ্ট্রের নিম্নআয়ের পরিবার, বয়স্ক ব্যক্তি, প্রতিবন্ধী এবং কিছু দীর্ঘমেয়াদি রোগীর জন্য পরিচালিত যৌথ ফেডারেল-অঙ্গরাজ্য স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচি। সাম্প্রতিক এই অর্থ স্থগিতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটনে স্বাস্থ্যনীতি, ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং ফেডারেল-অঙ্গরাজ্য সম্পর্ক নিয়ে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।