আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের পেন্টাগনে বিষাক্ত গ্যাসের আতঙ্ক, আংশিক লকডাউন জারি

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: জুন ১১, ২০২৬ ১২:৩৭
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রধান কার্যালয় ‘পেন্টাগন’ ভবনের ভেতরে আকস্মিকভাবে বায়ুর গুণগত মান পরিবর্তন বা বাতাস দূষিত হওয়ার আশঙ্কায় আংশিক লকডাউন জারি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ভবনের নির্দিষ্ট কিছু অংশে এই বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নির্দেশ (শেল্টার-ইন-প্লেস) দেওয়া হয়। একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সূত্র এই পুরো ঘটনাটিকে একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক রাসায়নিক বা ক্ষতিকর উপাদানের (হ্যাজার্ডাস মেটেরিয়ালস) জরুরি পরিস্থিতি হিসেবে বর্ণনা করেছে। ঘটনার পরপরই পুরো ভবনজুড়ে চরম আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়।

 

পেন্টাগনের দায়িত্বরত নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, ভবনের ভেতরে বাতাসের মান মারাত্মকভাবে কমে যাওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ার পর পেন্টাগনের একাধিক তলা এবং করিডোর পুরোপুরি অবরুদ্ধ বা লকডাউন করে দেওয়া হয়। একই সময়ে অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো থেকে সাধারণ কর্মী ও কর্মকর্তাদের দ্রুত এবং নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেওয়া বা স্থানান্তরের কাজ শুরু করা হয়। কী ধরনের উপাদান থেকে এই বিষাক্ত বা ক্ষতিকর গ্যাসের উৎপত্তি হয়েছে, তা নিশ্চিত করতে পেন্টাগনের বিশেষ তদন্তকারী দল এবং পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা ইতিমধ্যেই কাজ শুরু করে দিয়েছেন।

 

বিভিন্ন প্রত্যক্ষদর্শী ও সূত্রের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, উদ্ভূত সংকটজনক পরিস্থিতির কারণে পেন্টাগন ভবনের ভেতরে বিশেষ পুলিশ বাহিনীকে গ্যাস মাস্ক এবং সম্পূর্ণ রাসায়নিক প্রতিরক্ষামূলক পোশাক (কেমিক্যাল প্রটেক্টিভ গিয়ার) পরা অবস্থায় দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে। যেকোনো ধরনের বড় রাসায়নিক আক্রমণ বা দুর্ঘটনা মোকাবিলায় তারা পেন্টাগনের প্রতিটি স্পর্শকাতর পয়েন্টে অবস্থান নিয়েছেন। তবে ঠিক কী কারণে বা কোন উৎসের মাধ্যমে এই বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, সে বিষয়ে পেন্টাগনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট বা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

 

হঠাৎ করে বিশ্বের অন্যতম সুরক্ষিত এই সামরিক সদর দপ্তরে এমন আংশিক লকডাউন এবং বিষাক্ত গ্যাসের আতঙ্ক তৈরি হওয়ার পর ওয়াশিংটনসহ পুরো দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। পুরো পরিস্থিতি এখন কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং বাতাস পরীক্ষার চূড়ান্ত প্রতিবেদন আসার পরই মূল ঘটনা জানা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

নাহিদা বৃষ্টির লাশ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কেন? দুই কারণ জানাল পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না।   নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার।   তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।

Advertisement

আমেরিকা

View more
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে স্কুল বাস ও কারের মুখোমুখি সংঘর্ষে আহত ১২

যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের অ্যান আরুন্ডেল কাউন্টির ডেভিডসনভিলে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় ১১ জন শিক্ষার্থী এবং একজন গাড়িচালকসহ মোট ১২ জন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। কাউন্টির ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে, একটি স্কুল বাসের সাথে অপর একটি যাত্রীবাহী গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষের ফলে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। বৃহস্পতিবার সকালে ২১৪ নম্বর রুটের ওয়েস্ট সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউয়ের ৮০০ ব্লকে এই মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার পরপরই স্থানীয় উদ্ধারকারী দল এবং পুলিশ প্রশাসন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে।   স্থানীয় স্কুল কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার সময় ওই স্কুল বাসটিতে ডেভিডসনভিল এলিমেন্টারি স্কুলের মোট ২৮ জন শিক্ষার্থী সওয়ার ছিল। বাসে থাকা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১৭ জন শিক্ষার্থীকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ঘটনাস্থল থেকেই সরাসরি তাদের বাবা-মায়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনাকবলিত প্রাইভেট কারটিতে থাকা দুজন শিক্ষার্থীও সামান্য আহত হয়েছে এবং তাদেরকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এছাড়া ওই প্রাইভেট কারটির চালকও এই সংঘর্ষে আহত হয়েছেন এবং তাকেও উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।   দুর্ঘটনার শিকার স্কুল বাসটিতে থাকা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৯ জনকে সম্পূর্ণ সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে শারীরিক মূল্যায়নের জন্য একটি স্থানীয় মেডিকেল সেন্টারে জরুরি ভিত্তিতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বড় কোনো অভ্যন্তরীণ আঘাত বা সমস্যা রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতেই মূলত চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে তাদের। অন্যদিকে দুর্ঘটনাস্থলে বাকি থাকা পাঁচজন শিক্ষার্থীর জন্য বিকল্প পরিবহনের ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত কাউন্টির ফায়ার সার্ভিস এবং পুলিশের কর্মকর্তারা তাদের সঙ্গে অপেক্ষা করেন এবং তাদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন।   এই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার পরপরই স্কুল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট সকল শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের সাথে দ্রুত যোগাযোগ করা হয়। কর্মকর্তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী, যেসকল অভিভাবক তাদের সন্তানদের ঘটনাস্থল বা স্কুল থেকে সরাসরি নিজেদের দায়িত্বে বাড়ি নিয়ে যেতে চান, তারা যেন স্কুল প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস এবং পুলিশের সাথে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করে তাদের সন্তানদের সংগ্রহ করেন। পুলিশ প্রশাসন ইতিমধ্যে এই মুখোমুখি সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করতে একটি আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: জুন ১১, ২০২৬ ১৩:১৯
বিশ্বকাপ দর্শকদের পরিবহনে ব্যবহারের জন্য বিশেষ নৌযান প্রস্তুত রাখছে নিউ জার্সি ট্রানজিট । ছবি: নিউ জার্সি ট্রানজিট

বিশ্বকাপ দর্শকদের জন্য বিশেষ ফেরি প্রস্তুত রাখছে নিউ জার্সি ট্রানজিট, ট্রেন সেবা ব্যাহত হলে নদীপথে যাতায়াত

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে বাস্কেটবল খেলা শেষে ব্যাপক তাণ্ডব, গ্রেফতার ৫৬

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের পেন্টাগনে বিষাক্ত গ্যাসের আতঙ্ক, আংশিক লকডাউন জারি

ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্পের তোরণ বানাতে দিনে ২০ ঘণ্টা কাজ করবেন শ্রমিকেরা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত বিশাল ‘বিজয় তোরণ’ (ট্রিয়াম্ফাল আর্চ) নির্মাণের জন্য একটি অত্যন্ত আগ্রাসী ও দ্রুতগতির কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে যাচ্ছেন দেশটির কেন্দ্রীয় কর্মকর্তারা। এই তোরণটি আর্লিংটন ন্যাশনাল সেমেটারির কাছে নির্মাণ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। চলতি সপ্তাহে ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত সরকারি নথির বরাত দিয়ে জানা গেছে যে, এই প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করতে টানা দুই থেকে তিন বছর ধরে প্রতিদিন গড়ে ২০ ঘণ্টা করে নির্মাণকাজ চালানো হতে পারে। ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিসের পক্ষ থেকে ফেডারেল রেজিস্টারে জমা দেওয়া নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মূল নির্মাণকাজের একটি বড় ধাপ সর্বোচ্চ ১১ মাস পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।   সরকারি নথিতে আরও বলা হয়েছে যে, এই বৃহৎ অবকাঠামোটি গড়ে তোলার জন্য বেশ কয়েকটি বড় টাওয়ার ক্রেন, ফোরক্লিফট, স্কিড স্টিয়ার, ড্রিল রিগ এবং কংক্রিট পাম্পিং সিস্টেমের মতো ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহারের প্রয়োজন হবে। বছরজুড়ে নিরবচ্ছিন্নভাবে এই নির্মাণকাজ সচল রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে, যেখানে প্রতিদিন ১০ ঘণ্টা করে মোট দুটি শিফটে (অর্থাৎ দিনে মোট ২০ ঘণ্টা) শ্রমিক ও প্রকৌশলীরা কাজ করবেন। উল্লেখ্য, লিনকন মেমোরিয়াল এবং আর্লিংটন ন্যাশনাল সেমেটারির মধ্যবর্তী একটি ট্রাফিক সার্কেলে এই ২৫০ ফুট উঁচু বিজয় তোরণ নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত কয়েক মাস ধরেই জোর প্রচার ও আলোচনা চালিয়ে আসছিলেন। প্রস্তাবিত এই স্থানটি মূলত পোটোম্যাক নদীর ভার্জিনিয়া অংশে অবস্থিত হলেও এটি টেকনিক্যালি ডিস্ট্রিক্ট অব কলম্বিয়ার সীমানার মধ্যে পড়েছে।   এই বিশাল তোরণটি নির্মাণের কারণে ওয়াশিংটন ডিসি এবং ভার্জিনিয়ার মধ্যে সংযোগ রক্ষাকারী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আর্লিংটন মেমোরিয়াল ব্রিজ এবং আর্লিংটন ন্যাশনাল সেমেটারি সংলগ্ন আর্লিংটন বুলেভার্ডে যানবাহন, বাইসাইকেল ও পথচারী চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে। নির্মাণকাজ চলাকালীন এই ব্রিজের পশ্চিমমুখী যান চলাচলের পথটি তিন লেন থেকে কমিয়ে দুই লেনে নামিয়ে আনা হবে। সরকারি কর্মকর্তারা তোরণটি মেমোরিয়াল সার্কেলের ঠিক মাঝখানে তথা ব্রিজের প্রবেশমুখে স্থাপন করার প্রস্তাব দিয়েছেন। নতুন এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য মেমোরিয়াল সার্কেলের ভেতরে এবং এর চারপাশে একগুচ্ছ কাঠামোগত পরিবর্তনের প্রয়োজন হবে, যা সরাসরি আর্লিংটন ন্যাশনাল সেমেটারির প্রবেশদ্বারের সাথে সংযুক্ত।   যদি প্রস্তাব অনুযায়ী এই তোরণটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়, তবে এটি নদীর ওপারে অবস্থিত ৯৯ ফুট উঁচু ঐতিহাসিক লিনকন মেমোরিয়ালকে উচ্চতার দিক থেকে অনায়াসেই ছাড়িয়ে যাবে। এমনকি এটি বর্তমানে মেক্সিকো সিটিতে অবস্থিত বিশ্বের সবচেয়ে বড় তোরণ ‘প্লাজা দে লা রিপাবলিকা’র চেয়েও প্রায় ৩০ ফুট বেশি উঁচু হবে। ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিসের নথিতে বলা হয়েছে যে, মূলত যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উদযাপনকে স্মরণীয় করে রাখতেই এই তোরণটির উচ্চতা ২৫০ ফুট নির্ধারণ করা হয়েছে। ওয়াশিংটন ডিসির বেশিরভাগ স্মৃতিস্তম্ভ মার্বেল বা চুনাপাথরের মতো প্রাকৃতিক পাথর দিয়ে তৈরি হলেও এই তোরণটি মূলত কংক্রিট দিয়ে নির্মাণ করা হবে এবং এর বাইরের অংশে গ্রানাইটের আস্তরণ দিয়ে চূড়ান্ত রূপ দেওয়া হবে।   এদিকে ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) গত সপ্তাহে জানিয়েছে যে, তারা এই প্রকল্পের মূল পৃষ্ঠপোষক ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিসের সাথে সমন্বয় করে একটি পূর্ণাঙ্গ বৈমানিক সমীক্ষা চালাচ্ছে। এফএএ এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে যে, তাদের পেশাদার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা কাছাকাছি অবস্থিত রোনাল্ড রেগান ন্যাশনাল এয়ারপোর্টের বিমান পরিচালনায় এই তোরণের কারণে কোনো ক্ষতিকর বা প্রতিকূল প্রভাব খুঁজে পাননি। তবে এফএএ-এর সম্ভাব্যতা যাচাই সমীক্ষায় বলা হয়েছে যে, তোরণের শীর্ষে লাল রঙের নিরাপত্তা সতর্কীকরণ আলো যোগ করতে হবে, যা যেন বিমানবন্দরের রেডিও বা নেভিগেশনাল কার্যক্রমে কোনো বিঘ্ন না ঘটায়। এই প্রস্তাবিত বিজয় তোরণের বিষয়ে সাধারণ মানুষের মতামত দেওয়ার প্রক্রিয়াটি বর্তমানে উন্মুক্ত রয়েছে, যা আগামী ১৫ জুন ২০২৬ তারিখে বন্ধ হয়ে যাবে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: জুন ১১, ২০২৬ ১২:২৭
ছবি: সংগৃহীত

ক্ষতিকর ভীমরুলের বাসা দেখলেই জানানোর নির্দেশ দিল জর্জিয়া

ছবি: সংগৃহীত

আটলান্টিক সিটিতে মেয়রের শিক্ষাবৃত্তি কর্মসূচি ঘোষণা, আবেদন ১৫ জুন পর্যন্ত

কুইন্সের আর্চি স্পিগনার পার্কে বাংলাদেশ ফেস্টিভ্যাল ২০২৬ | ছবি: সংগৃহীত

কুইন্সে বাংলাদেশ ফেস্টিভ্যালে প্রবাসীদের মিলনমেলা, পাঁচ হাজারের বেশি মানুষের অংশগ্রহণ

ছবি: সংগৃহীত
প্রশান্ত মহাসাগরে শক্তিশালী ‘এল নিনো’ শুরু, বিশ্বজুড়ে চরম আবহাওয়ার বড় পূর্বাভাস

বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য দায়ী প্রাকৃতিক আবহাওয়া চক্র ‘এল নিনো’ প্রশান্ত মহাসাগরে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন মার্কিন বিজ্ঞানীরা। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় মহাসাগরীয় ও বায়ুমণ্ডলীয় প্রশাসন (নোয়া) ঘোষণা করেছে যে, গ্রীষ্মমন্ডলীয় প্রশান্ত মহাসাগরে এল নিনোর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এবং সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা তীব্রভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। কম্পিউটার মডেলগুলোর পূর্বাভাস অনুযায়ী, এবারের এল নিনো একটি ‘সুপার এল নিনো’ বা ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী রূপ নিতে পারে। মানুষের তৈরি বৈশ্বিক উষ্ণায়নের সাথে এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ যুক্ত হয়ে আগামী ২০২৭ সালে বিশ্বজুড়ে রেকর্ড পরিমাণ তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং খাদ্য সরবরাহ ও অর্থনীতিতে মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।   চলতি বছরের শুরুতে শীতল আবহাওয়া চক্র ‘লা নিনা’ শেষ হওয়ার পর থেকেই আবহাওয়াবিদেরা এই উষ্ণায়ন পর্বের আশঙ্কা করছিলেন। বর্তমানে মধ্য ও গ্রীষ্মমন্ডলীয় প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা গড় তাপমাত্রা থেকে শূন্য দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে, যা মার্কিন বিজ্ঞানীদের মতে এল নিনো শুরুর প্রধান লক্ষণ। বিজ্ঞানীরা আরও লক্ষ্য করেছেন যে, সমুদ্রের ওপরের বায়ুপ্রবাহের গতিপথও বদলাতে শুরু করেছে। এর অর্থ হলো, কেবল সমুদ্রের পানিই গরম হচ্ছে না, বরং বায়ুমণ্ডলও এখন সমুদ্রের এই বাড়তি উষ্ণতার প্রতি সাড়া দিতে শুরু করেছে।   কম্পিউটার মডেলগুলোর শক্তিশালী পূর্বাভাস বিজ্ঞানীদের সবচেয়ে বেশি বিস্মিত করেছে। নোয়া-র জুন মাসের আউটলুক বা পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী নভেম্বর থেকে জানুয়ারির মধ্যে এই এল নিনো অত্যন্ত শক্তিশালী রূপ নেওয়ার আশঙ্কা প্রায় ৬৩ শতাংশ। যদি এমনটা ঘটে, তবে ১৯৫০ সালের পর থেকে রেকর্ড করা ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী এল নিনো হবে এটি। মার্কিন ও ইউরোপীয় কিছু আবহাওয়া মডেল আরও স্পষ্ট করে দেখিয়েছে যে, বছরের শেষ নাগাদ প্রশান্ত মহাসাগরের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে।   যুক্তরাজ্যের মেট অফিসের দশকীয় পূর্বাভাস প্রধান অধ্যাপক অ্যাডাম স্কাইফ এই পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, চলমান এল নিনো মূলত জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে আগে থেকে উত্তপ্ত থাকা পৃথিবীর ওপর আঘাত হানছে। এর ফলে উপদ্রুত অঞ্চলগুলোতে প্রকৃত তাপমাত্রা অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে। ২০২৪ সালটি ইতিমধ্যেই ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণ বছর হিসেবে রেকর্ড গড়েছে এবং ২০২৫ সালেও লা নিনার শীতল প্রভাব থাকা সত্ত্বেও তা শীর্ষ উষ্ণ বছরগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল। ফলে ২০২৭ সালে বৈশ্বিক তাপমাত্রা প্রাক-শিল্পায়নের যুগের চেয়ে সহজে ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি বেড়ে যেতে পারে।   সাধারণত এল নিনোর প্রভাবে পেরুর উত্তরাঞ্চল, ইকুয়েডরের দক্ষিণাঞ্চল, পূর্ব আফ্রিকা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত ও বন্যার ঝুঁকি তৈরি হয়। এর বিপরীতে অস্ট্রেলিয়া, ইন্দোনেশিয়া এবং দক্ষিণ আমেরিকার উত্তরাঞ্চলে তীব্র খরা ও দাবদাহের সৃষ্টি হয়, যা বৈশ্বিক কৃষি ও খাদ্য মজুতকে সরাসরি হুমকির মুখে ফেলে দেয়। আফ্রিকার জলবায়ু বিষয়ক ক্যাম্পেইন গ্রুপ ‘পাওয়ার শিফট আফ্রিকা’-র পরিচালক মোহাম্মদ আদো বলেন, “এল নিনোর এই ঘোষণা লাখ লাখ মানুষের কাছে একটি ভয়াবহ সংকেত। এর অর্থ হলো অনাবৃষ্টি, ফসলের মৃত্যু, খাদ্যপণ্যের চড়া দাম এবং অসংখ্য পরিবারকে চরম সংকটের দিকে ঠেলে দেওয়া।”

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: জুন ১১, ২০২৬ ১০:৩৪
ছবি: সংগৃহীত

ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাধা সত্ত্বেও মার্কিন ইতিহাসে প্রথমবার কয়লাকে পেছনে ফেলে রেকর্ড গড়ল সৌরবিদ্যুৎ

ছবি: সংগৃহীত

ট্রাম্পের সহযোগীদের অর্থায়নে মার্কিন নির্বাচন নিয়ে ভুয়া তথ্য ছড়ানোর প্রমাণ ফাঁস

ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কের বাংলাদেশি-আমেরিকান রিয়েল এস্টেট সংগঠন আবার্নির নতুন নেতৃত্বে সাব্বির

0 Comments