যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের গ্র্যান্ড হ্যাভেন টাউনশিপে একটি বাড়িতে রহস্যজনক অগ্নিকাণ্ডের পর একই পরিবারের আট সদস্যের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় নিহত দুই প্রাপ্তবয়স্কের পরিচয় প্রকাশ করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনাটি এখনও সন্দেহজনক হিসেবে তদন্তাধীন রয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে কয়েকজনের মরদেহে গুলির চিহ্নও পাওয়া গেছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম পিপল, দ্য ডেট্রয়েট নিউজ, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, নিহত দুই প্রাপ্তবয়স্ক হলেন ৩৯ বছর বয়সী আমান্ডা "ম্যান্ডি" কারোলকিয়েভিচ এবং তার ৪৭ বছর বয়সী স্বামী ক্রিস্টোফার কারোলকিয়েভিচ। তাদের সঙ্গে নিহত হয়েছে দম্পতির ছয় সন্তান, যাদের বয়স ৫ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে।
গত শুক্রবার স্থানীয় সময় সকাল প্রায় ১১টা ৪০ মিনিটে অটোয়া কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় এবং গ্র্যান্ড হ্যাভেন ফায়ার ডিপার্টমেন্ট একটি বাড়িতে আগুন লাগার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পর অগ্নিনির্বাপক কর্মীরা বাড়ির ভেতরে একাধিক মরদেহ দেখতে পান। পরে একই পরিবারের আট সদস্যের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
অটোয়া কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের ক্যাপ্টেন জ্যাকব স্পার্কস জানান, ঘটনাস্থলে পাওয়া কয়েকটি মরদেহে গুলির চিহ্ন রয়েছে। তবে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং অন্যান্য ফরেনসিক পরীক্ষার ফল পাওয়ার পর এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।
তিনি বলেন, ঘটনাস্থলটি অত্যন্ত জটিল এবং তদন্তকারীরা সব ধরনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছেন। আগুনটি ইচ্ছাকৃতভাবে লাগানো হয়েছিল কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
নিহত আমান্ডা কারোলকিয়েভিচের সৎ বাবা স্টিভ ল'উইল দ্য ডেট্রয়েট নিউজকে পরিবারের সদস্যদের পরিচয় নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পরিবারের অন্য সদস্যদের ময়নাতদন্তের ফলাফল এবং পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য না পাওয়া পর্যন্ত তারা এ বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করতে চান না।
এদিকে, আমান্ডার বোন মলি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পরিবারের আট সদস্যের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে লিখেছেন, "আমাদের হৃদয় সম্পূর্ণ ভেঙে গেছে। 'মর্মান্তিক' শব্দটিও এই ক্ষতির গভীরতা প্রকাশ করতে পারে না।"
জানা গেছে, আমান্ডা কারোলকিয়েভিচ গ্র্যান্ড হ্যাভেন এরিয়া পাবলিক স্কুলসে বিকল্প শিক্ষক হিসেবে কাজ করতেন। ঘটনার পর স্কুল কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানায়, এই ঘটনায় শোকাহত শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য মানসিক সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে।
স্কুল জেলার সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন পারকোভস্কি বলেন, "গ্র্যান্ড হ্যাভেন টাউনশিপে একাধিক প্রাণহানির এই ঘটনায় আমরা গভীরভাবে শোকাহত। তদন্তে ভবিষ্যতে যাই সামনে আসুক না কেন, এটি আমাদের পুরো সম্প্রদায়ের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।"
তিনি আরও বলেন, "আমাদের স্কুল পরিবারের সবাই এই শোকের অংশীদার। এই কঠিন সময়ে একে অপরের পাশে থাকার আহ্বান জানাই।"
অটোয়া কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে, তদন্ত এখনও চলমান। কীভাবে এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে, আগুনের প্রকৃত কারণ কী এবং এর পেছনে অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না, তা জানতে তদন্তকারীরা আলামত সংগ্রহ ও ফরেনসিক বিশ্লেষণ চালিয়ে যাচ্ছেন। এখন পর্যন্ত কোনো সন্দেহভাজন ব্যক্তি বা সম্ভাব্য অভিযোগ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে ভিব্রিও ভালনিফিকাস (Vibrio vulnificus) নামের বিরল কিন্তু প্রাণঘাতী ব্যাকটেরিয়ায় চলতি বছরের প্রথম মৃত্যুর ঘটনা নিশ্চিত করেছে ফ্লোরিডা স্বাস্থ্য বিভাগ। রাজ্যের পাম বিচ কাউন্টির একজন বাসিন্দার মৃত্যু হয়েছে এই সংক্রমণে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা উপকূলীয় এলাকায় বসবাসকারী ও সমুদ্রসৈকতে যাতায়াতকারীদের প্রয়োজনীয় সতর্কতা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। ফ্লোরিডা স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে ১১টি সংক্রমণের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে, যা চলতি বছরের প্রথম প্রাণহানির ঘটনা। গত বছর ফ্লোরিডায় এই ব্যাকটেরিয়ায় ৩৩ জন আক্রান্ত হয়েছিলেন এবং পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছিল। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভিব্রিও ভালনিফিকাস উষ্ণ লবণাক্ত ও অল্প লবণাক্ত (ব্র্যাকিশ) পানিতে স্বাভাবিকভাবেই বাস করে। সাধারণত কাঁচা বা ঠিকমতো রান্না না করা ঝিনুক, বিশেষ করে অয়েস্টার খাওয়ার মাধ্যমে মানুষ এতে আক্রান্ত হতে পারেন। এছাড়া শরীরে কাটা বা খোলা ক্ষত থাকলে সেই ক্ষত সমুদ্রের পানির সংস্পর্শে এলেও সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে সংক্রমণ অনেক সময় তুলনামূলক হালকা হতে পারে। তবে যাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল, দীর্ঘদিনের লিভারের রোগ রয়েছে বা অন্যান্য জটিল স্বাস্থ্য সমস্যা আছে, তাদের ক্ষেত্রে এই সংক্রমণ দ্রুত রক্তে ছড়িয়ে জীবনহানির ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। গুরুতর অবস্থায় জ্বর, কাঁপুনি, রক্তদূষণ (সেপসিস) এবং ত্বকে ফোসকার মতো ক্ষত দেখা দিতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) বলছে, এই সংক্রমণে আক্রান্ত প্রায় পাঁচজনের একজনের মৃত্যু হতে পারে, অনেক সময় অসুস্থ হওয়ার এক বা দুই দিনের মধ্যেই। গুরুতর রোগীদের অনেকের নিবিড় পরিচর্যা প্রয়োজন হয়, আবার কারও কারও ক্ষেত্রে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে অঙ্গ কেটে ফেলতেও হতে পারে। তাই উপসর্গ দেখা দিলে পরীক্ষার ফলাফলের জন্য অপেক্ষা না করে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি। ফ্লোরিডা স্বাস্থ্য বিভাগ আরও জানিয়েছে, হারিকেন, বন্যা বা জলোচ্ছ্বাসের পর উপকূলীয় এলাকায় জমে থাকা পানি ও বন্যার পানি সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। অতীতেও বড় ধরনের ঘূর্ণিঝড়ের পর রাজ্যের কয়েকটি কাউন্টিতে আক্রান্তের সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছিল। তাই দুর্যোগ-পরবর্তী সময়ে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, কাঁচা ঝিনুক বা অন্যান্য শেলফিশ না খাওয়া, সামুদ্রিক খাবার ভালোভাবে রান্না করে খাওয়া এবং শরীরে কোনো কাটা বা ক্ষত থাকলে সমুদ্র বা অল্প লবণাক্ত পানিতে নামা থেকে বিরত থাকা উচিত। সমুদ্রের পানি বা কাঁচা শেলফিশের সংস্পর্শে আসার পর জ্বর, তীব্র ব্যথা, ক্ষত ফুলে যাওয়া বা ত্বকে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা।
যুক্তরাষ্ট্রে কোথায় বসবাস করলে জীবনযাত্রার মান সবচেয়ে ভালো হবে, এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে নতুন এক শহরকে এগিয়ে রেখেছে ভ্রমণ ও জীবনযাপন বিষয়ক ম্যাগাজিন ট্রাভেল অ্যান্ড লেইজার। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা, পরিবেশ এবং সামগ্রিক জীবনমান বিবেচনায় শহরটি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের অন্যতম সেরা স্থান হিসেবে উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বসবাসের উপযোগিতা নির্ধারণে শুধু চাকরি বা আয় নয়, বরং মানুষের দৈনন্দিন জীবন কতটা আরামদায়ক, পরিবেশ কেমন, স্বাস্থ্যসেবা কতটা সহজলভ্য এবং পরিবার নিয়ে বসবাসের সুযোগ কেমন এসব বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রে অনেক মানুষ বড় শহরের ব্যস্ততা, অতিরিক্ত খরচ ও চাপ থেকে দূরে গিয়ে তুলনামূলক শান্ত, নিরাপদ এবং উন্নত জীবনমানের জায়গা খুঁজছেন। এ কারণে ছোট ও মাঝারি আকারের শহরগুলোর জনপ্রিয়তা বাড়ছে। ট্রাভেল অ্যান্ড লেইজারের তালিকায় থাকা শহরটি তার সুন্দর প্রাকৃতিক পরিবেশ, পরিচ্ছন্নতা, স্থানীয় সুযোগ-সুবিধা এবং বাসিন্দাদের জন্য উন্নত জীবনধারার কারণে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অনেক বড় শহরে যেমন নিউইয়র্ক, লস অ্যাঞ্জেলেস বা সান ফ্রান্সিসকোতে কর্মসংস্থানের সুযোগ বেশি হলেও জীবনযাত্রার ব্যয়ও অনেক বেশি। অন্যদিকে, তুলনামূলক ছোট শহরগুলোতে কম চাপের জীবন, বেশি খোলা জায়গা এবং পরিবারবান্ধব পরিবেশ অনেক মানুষের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। জীবনযাত্রার মান নিয়ে তৈরি হওয়া এসব তালিকা সাধারণত আবাসন খরচ, অপরাধের হার, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষার সুযোগ, পরিবেশ, বিনোদন এবং স্থানীয় সুযোগ-সুবিধার মতো বিষয় বিশ্লেষণ করে তৈরি করা হয়। বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক সময়ে মানুষ শুধু ভালো চাকরি নয়, বরং ভারসাম্যপূর্ণ জীবন, মানসিক শান্তি এবং দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তাকেও গুরুত্ব দিচ্ছেন। সেই কারণেই যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের জন্য সেরা জায়গার তালিকায় নতুন নতুন শহর আলোচনায় আসছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসেচুসেটস অঙ্গরাজ্যের ডাক্সবারি শহরে নিজের তিন সন্তানকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত মা লিন্ডসে ক্ল্যান্সির বহুল আলোচিত মামলার বিচার কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। আদালতে পেশ করা প্রাথমিক বক্তব্যে বিবাদী পক্ষের আইনজীবী দাবি করেছেন, লিন্ডসে এই অপরাধের জন্য অপরাধমূলকভাবে দায়ী নন; কারণ ঘটনার সময় তিনি প্রসূতিপরবর্তী তীব্র মানসিক রোগ বা 'পোস্টপার্টাম সাইকোসিস'-এ ভুগছিলেন। ৩৫ বছর বয়সী লিন্ডসে ক্ল্যান্সি বোস্টনের একটি হাসপাতালের সাবেক লেবার অ্যান্ড ডেলিভারি নার্স। ২০২৩ সালের ২৪ জানুয়ারি নিজের তিন সন্তান ৫ বছরের কোরা, ৩ বছরের ডসন এবং ৮ মাস বয়সী ক্যালাংকে তাদের ঘরের নিচতলায় ব্যায়ামের রেজিস্ট্যান্স ব্যান্ড দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। এরপর লিন্ডসে নিজের কবজি ও গলা কেটে দোতলার জানালা থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালান। এই ঘটনার পর তিনি আংশিকভাবে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়েন। আদালতে লিন্ডসে তার বিরুদ্ধে আনা তিনটি হত্যা মামলার অভিযোগেই নিজেকে ‘নির্দোষ’ দাবি করেছেন। সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের পেছনে লিন্ডসের সরাসরি জড়িত থাকার বিষয়টি উভয় পক্ষই স্বীকার করেছে। তবে আদালতে মূল আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে ঘটনার সময় তার মানসিক সুস্থতা ও অপরাধের দায়ভার গ্রহণ করার ক্ষমতা। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের দাবি, লিন্ডসে পূর্বপরিকল্পিতভাবে এবং চরম নৃশংসতার সাথে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। পক্ষান্তরে, আসামিপক্ষের প্রধান আইনজীবী কেভিন রেডিংটন যুক্তি দেখান যে, লিন্ডসে তীব্র মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন এবং নিজের আচরণের ওপর তার কোনো নিয়ন্ত্রণ ছিল না। চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে করা এক দেওয়ানি মামলায় লিন্ডসে জানান, ঘটনার সময় তার মাথার ভেতরে একটি অদৃশ্য কণ্ঠস্বর তাকে নিজের সন্তানদের হত্যা করতে এবং নিজেকে শেষ করে দেওয়ার আদেশ দিয়েছিল। লিন্ডসের ভাষ্যমতে, "আমি সব নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছিলাম। আমার শরীর আমার নির্দেশ ছাড়াই কাজ করছিল। আমি কেবল সেই আদেশের দাসত্ব করছিলাম।" আদালতে এই মামলার শুনানিতে মূল দৃষ্টি থাকবে মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ এবং চিকিৎসকদের বক্তব্যের ওপর। বিশেষজ্ঞরা লিন্ডসের গর্ভাবস্থা-পরবর্তী মানসিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে তাদের সিদ্ধান্ত জানাবেন। ছয় থেকে আট সপ্তাহব্যাপী এই বিচার প্রক্রিয়ায় অপরাধ প্রমাণিত হলে লিন্ডসের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে। বর্তমানে তিনি ম্যাসেচুসেটসের তিউকসবারি স্টেট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ও বন্দি অবস্থায় রয়েছেন। মামলায় অন্যতম মূল সাক্ষী হতে যাচ্ছেন লিন্ডসের স্বামী প্যাট্রিক ক্ল্যান্সি। ২০২৩ সালের সেই মর্মান্তিক দিনে তিনি টেক-আউট খাবার কিনতে বাইরে গিয়েছিলেন এবং ফিরে এসে এই হৃদয়বিদারক দৃশ্য দেখতে পান। তবে নিজের স্ত্রীর প্রতি কোনো বিদ্বেষ না রেখে প্যাট্রিক মনে করেন, লিন্ডসে এক মারাত্মক মানসিক রোগে আক্রান্ত ছিলেন। ২০২৪ সালে একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, "আমি কোনো রাক্ষস বা দানবকে বিয়ে করিনি—আমি এমন একজনকে ভালোবেসেছিলাম যে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছিল।" মামলার নথি থেকে জানা যায়, তৃতীয় সন্তানের জন্মের পর থেকেই লিন্ডসের মধ্যে তীব্র বিষণ্ণতা, দুশ্চিন্তা, অনিদ্রা ও আত্মহত্যার প্রবণতা দেখা দেয়। ২০২২ সালের অক্টোবর থেকে হত্যাকাণ্ডের আগ পর্যন্ত তিনি একাধিক চিকিৎসকের পরামর্শ নেন এবং তাদের নির্দেশে অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট, সেডেটিভ ও অ্যান্টিসাইকোটিকসহ প্রায় এক ডজন ভিন্ন ভিন্ন ওষুধ সেবন করেন। তিনি মানসিক চিকিৎসার জন্য দু'বার হাসপাতালে ভর্তি হলেও তার অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। পরবর্তীকালে চিকিৎসকরা তাকে 'পোস্টপার্টাম সিভিয়ার বাইপোলার ডিসঅর্ডার'-এ আক্রান্ত বলে শনাক্ত করেন। লিন্ডসের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, চিকিৎসকদের ভুল চিকিৎসা ও মানসিক রোগের সঠিক নির্ণয় না হওয়ায় আজ তাকে এই ট্র্যাজেডির মুখোমুখি হতে হয়েছে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে অপরাধের ক্ষেত্রে মানসিক অসুস্থতাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে 'ইনস্যানিটি ডিফেন্স' বা 'অপরাধমূলক দায়মুক্তির' পক্ষে রায় পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। ফরেনসিক সাইকিয়াট্রিস্ট ড. জনি জনস্টন জানান, অপরাধের বিচারে উন্মাদনার অজুহাত খুব বিরল ক্ষেত্রেই আদালত কর্তৃক গৃহীত হয়। তবে আদালত যদি লিন্ডসেকে মানসিকভাবে অসুস্থ ও দায়মুক্ত হিসেবে ঘোষণা করে, তবে তাকে কারাদণ্ডের বদলে আজীবন রাষ্ট্রীয় মানসিক হাসপাতালে চিকিৎসা ও হেফাজতে রাখা হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এমন ঘটনা নতুন নয়। ২০০১ সালে টেক্সাসের অ্যান্ড্রিয়া ইয়েটস নামে এক মা তার পাঁচ সন্তানকে পানিতে ডুবিয়ে হত্যা করেছিলেন। প্রথমে সাজা হলেও পরবর্তী সময়ে ২০০৬ সালের পুনর্বিচারে মানসিক অসুস্থতা প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে দায়মুক্ত ঘোষণা করেন এবং মানসিক হাসপাতালে পাঠান। এছাড়া ১৯৮১ সালে প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রেগানকে গুলি করা জন হিঙ্কলি জুনিয়রকেও মানসিক অসুস্থতার কারণে আদালত খালাস দিয়েছিল। বিজ্ঞান ও চিকিৎসার অগ্রগতি সত্ত্বেও মাতৃত্বকালীন বা গর্ভাবস্থা-পরবর্তী চরম মানসিক বিষণ্ণতা ও মানসিক ব্যাধি কতটা মারাত্মক রূপ নিতে পারে, লিন্ডসে ক্ল্যান্সির বিচার প্রক্রিয়াটি পুনরায় তা বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে।