ট্রাম্পের তোরণ বানাতে দিনে ২০ ঘণ্টা কাজ করবেন শ্রমিকেরা
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত বিশাল ‘বিজয় তোরণ’ (ট্রিয়াম্ফাল আর্চ) নির্মাণের জন্য একটি অত্যন্ত আগ্রাসী ও দ্রুতগতির কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে যাচ্ছেন দেশটির কেন্দ্রীয় কর্মকর্তারা। এই তোরণটি আর্লিংটন ন্যাশনাল সেমেটারির কাছে নির্মাণ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। চলতি সপ্তাহে ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত সরকারি নথির বরাত দিয়ে জানা গেছে যে, এই প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করতে টানা দুই থেকে তিন বছর ধরে প্রতিদিন গড়ে ২০ ঘণ্টা করে নির্মাণকাজ চালানো হতে পারে। ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিসের পক্ষ থেকে ফেডারেল রেজিস্টারে জমা দেওয়া নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মূল নির্মাণকাজের একটি বড় ধাপ সর্বোচ্চ ১১ মাস পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।
সরকারি নথিতে আরও বলা হয়েছে যে, এই বৃহৎ অবকাঠামোটি গড়ে তোলার জন্য বেশ কয়েকটি বড় টাওয়ার ক্রেন, ফোরক্লিফট, স্কিড স্টিয়ার, ড্রিল রিগ এবং কংক্রিট পাম্পিং সিস্টেমের মতো ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহারের প্রয়োজন হবে। বছরজুড়ে নিরবচ্ছিন্নভাবে এই নির্মাণকাজ সচল রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে, যেখানে প্রতিদিন ১০ ঘণ্টা করে মোট দুটি শিফটে (অর্থাৎ দিনে মোট ২০ ঘণ্টা) শ্রমিক ও প্রকৌশলীরা কাজ করবেন। উল্লেখ্য, লিনকন মেমোরিয়াল এবং আর্লিংটন ন্যাশনাল সেমেটারির মধ্যবর্তী একটি ট্রাফিক সার্কেলে এই ২৫০ ফুট উঁচু বিজয় তোরণ নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত কয়েক মাস ধরেই জোর প্রচার ও আলোচনা চালিয়ে আসছিলেন। প্রস্তাবিত এই স্থানটি মূলত পোটোম্যাক নদীর ভার্জিনিয়া অংশে অবস্থিত হলেও এটি টেকনিক্যালি ডিস্ট্রিক্ট অব কলম্বিয়ার সীমানার মধ্যে পড়েছে।
এই বিশাল তোরণটি নির্মাণের কারণে ওয়াশিংটন ডিসি এবং ভার্জিনিয়ার মধ্যে সংযোগ রক্ষাকারী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আর্লিংটন মেমোরিয়াল ব্রিজ এবং আর্লিংটন ন্যাশনাল সেমেটারি সংলগ্ন আর্লিংটন বুলেভার্ডে যানবাহন, বাইসাইকেল ও পথচারী চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে। নির্মাণকাজ চলাকালীন এই ব্রিজের পশ্চিমমুখী যান চলাচলের পথটি তিন লেন থেকে কমিয়ে দুই লেনে নামিয়ে আনা হবে। সরকারি কর্মকর্তারা তোরণটি মেমোরিয়াল সার্কেলের ঠিক মাঝখানে তথা ব্রিজের প্রবেশমুখে স্থাপন করার প্রস্তাব দিয়েছেন। নতুন এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য মেমোরিয়াল সার্কেলের ভেতরে এবং এর চারপাশে একগুচ্ছ কাঠামোগত পরিবর্তনের প্রয়োজন হবে, যা সরাসরি আর্লিংটন ন্যাশনাল সেমেটারির প্রবেশদ্বারের সাথে সংযুক্ত।
যদি প্রস্তাব অনুযায়ী এই তোরণটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়, তবে এটি নদীর ওপারে অবস্থিত ৯৯ ফুট উঁচু ঐতিহাসিক লিনকন মেমোরিয়ালকে উচ্চতার দিক থেকে অনায়াসেই ছাড়িয়ে যাবে। এমনকি এটি বর্তমানে মেক্সিকো সিটিতে অবস্থিত বিশ্বের সবচেয়ে বড় তোরণ ‘প্লাজা দে লা রিপাবলিকা’র চেয়েও প্রায় ৩০ ফুট বেশি উঁচু হবে। ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিসের নথিতে বলা হয়েছে যে, মূলত যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উদযাপনকে স্মরণীয় করে রাখতেই এই তোরণটির উচ্চতা ২৫০ ফুট নির্ধারণ করা হয়েছে। ওয়াশিংটন ডিসির বেশিরভাগ স্মৃতিস্তম্ভ মার্বেল বা চুনাপাথরের মতো প্রাকৃতিক পাথর দিয়ে তৈরি হলেও এই তোরণটি মূলত কংক্রিট দিয়ে নির্মাণ করা হবে এবং এর বাইরের অংশে গ্রানাইটের আস্তরণ দিয়ে চূড়ান্ত রূপ দেওয়া হবে।
এদিকে ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) গত সপ্তাহে জানিয়েছে যে, তারা এই প্রকল্পের মূল পৃষ্ঠপোষক ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিসের সাথে সমন্বয় করে একটি পূর্ণাঙ্গ বৈমানিক সমীক্ষা চালাচ্ছে। এফএএ এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে যে, তাদের পেশাদার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা কাছাকাছি অবস্থিত রোনাল্ড রেগান ন্যাশনাল এয়ারপোর্টের বিমান পরিচালনায় এই তোরণের কারণে কোনো ক্ষতিকর বা প্রতিকূল প্রভাব খুঁজে পাননি। তবে এফএএ-এর সম্ভাব্যতা যাচাই সমীক্ষায় বলা হয়েছে যে, তোরণের শীর্ষে লাল রঙের নিরাপত্তা সতর্কীকরণ আলো যোগ করতে হবে, যা যেন বিমানবন্দরের রেডিও বা নেভিগেশনাল কার্যক্রমে কোনো বিঘ্ন না ঘটায়। এই প্রস্তাবিত বিজয় তোরণের বিষয়ে সাধারণ মানুষের মতামত দেওয়ার প্রক্রিয়াটি বর্তমানে উন্মুক্ত রয়েছে, যা আগামী ১৫ জুন ২০২৬ তারিখে বন্ধ হয়ে যাবে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে অস্থায়ী সুরক্ষার আওতায় বসবাসরত এক লাখের বেশি ইউক্রেনীয় এবং প্রায় ১ হাজার ৮০০ সুদানি নাগরিকের জন্য সাময়িক স্বস্তির খবর এসেছে। মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) তাঁদের সুরক্ষার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও আপাতত যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সুযোগ দিয়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের ২০ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কর্তৃপক্ষ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নেওয়া পর্যন্ত এই সাময়িক ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে। তবে সুরক্ষা কত দিন চলবে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাজের অনুমতির বৈধতা কী হবে, সে বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ স্পষ্টতা দেওয়া হয়নি। এই সুবিধাটি টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাস (টিপিএস) নামে পরিচিত। নিজ দেশে যুদ্ধ, সশস্ত্র সংঘাত, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অন্য কোনো বিশেষ পরিস্থিতির কারণে নিরাপদে ফিরে যাওয়া সম্ভব না হলে নির্দিষ্ট দেশের যোগ্য নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে সাময়িকভাবে থাকার সুরক্ষা দেওয়া হয়। এটি স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বা গ্রিন কার্ড নয়; বরং নির্ধারিত শর্তে সাময়িক সুরক্ষা। ইউক্রেনের ক্ষেত্রে ২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আক্রমণের পর দেশটির নাগরিকদের জন্য টিপিএসের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। সুদানের ক্ষেত্রেও দীর্ঘদিনের সংঘাত ও অস্থিতিশীলতার কারণে সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তাৎক্ষণিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে যাওয়ার অনিশ্চয়তা কিছুটা কমেছে। তবে এটি স্থায়ী সমাধান নয় এবং পরবর্তী সরকারি সিদ্ধান্তের ওপর তাঁদের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে। টিপিএসের আওতায় থাকা ব্যক্তিদের জন্য কাজের অনুমতির বিষয়টি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি করেন, বাড়িভাড়া দেন, সন্তানদের পড়াশোনার খরচ বহন করেন এবং পরিবারের সদস্যদের আর্থিক সহায়তা করেন। তাঁদের অভিবাসন-অবস্থা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে চাকরি, আয়, বাসস্থান ও পারিবারিক পরিকল্পনায় প্রভাব পড়তে পারে। তাই শুধু থাকার সুরক্ষা বাড়ানো হয়েছে শুনেই কাজের অনুমতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বৈধ আছে ধরে নেওয়া উচিত নয়। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি অভিবাসীদের জন্যও এই খবর একটি গুরুত্বপূর্ণ স্মরণ করিয়ে দেয়: অভিবাসন-সংক্রান্ত সরকারি সিদ্ধান্তে অনেক সময় নির্দিষ্ট দেশ, নির্দিষ্ট শ্রেণি এবং নির্দিষ্ট সময়সীমার শর্ত থাকে। অন্য দেশের নাগরিকদের জন্য ঘোষিত সুবিধা বাংলাদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে—এমন নয়। কারও টিপিএস, কাজের অনুমতি, আশ্রয়ের আবেদন বা অন্য অভিবাসন-অবস্থা থাকলে নিজের নথির মেয়াদ ও সরকারি নির্দেশনা আলাদাভাবে যাচাই করা জরুরি। টিপিএস নিজে থেকে গ্রিন কার্ডের পথ তৈরি করে না। তবে কোনো ব্যক্তির অন্য কোনো অভিবাসন-সুবিধার যোগ্যতা থাকলে সেটি আলাদাভাবে বিবেচিত হতে পারে। তাই নিজের পরিস্থিতি অনুযায়ী যোগ্য অভিবাসন আইনজীবী বা স্বীকৃত আইনি সহায়তা সংস্থার পরামর্শ নেওয়া নিরাপদ। সাময়িক সুরক্ষার এই সিদ্ধান্ত ইউক্রেনীয় ও সুদানি পরিবারগুলোর জন্য কিছুটা স্বস্তি আনলেও ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা পুরোপুরি কাটেনি। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত তাঁদের সরকারি ঘোষণা, নথির মেয়াদ এবং কাজের অনুমতির শর্ত সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে।
নাগরিকত্বের অপেক্ষায় লাখো অভিবাসী, যুক্তরাষ্ট্রে আবেদন নিষ্পত্তিতে বাড়ছে দীর্ঘসূত্রতা
বিদ্যুৎ বিভ্রাটেও কয়েক দিন চলবে আবাসন, যুক্তরাষ্ট্রে নতুন ব্যাটারি প্রযুক্তিতে বড় উদ্যোগ
যুক্তরাষ্ট্রে চালকবিহীন পাতালরেলের পরিকল্পনা, বদলে যেতে পারে যাতায়াতের ভবিষ্যৎ
যুক্তরাষ্ট্রে নিম্ন আয়ের মানুষের খাবার কেনার খরচ মেটাতে সহায়তা দেওয়া সরকারি কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত দেশটিতে খাদ্যসহায়তা কর্মসূচির সুবিধাভোগী কমেছেন প্রায় ৫৫ লাখ, যা মোট অংশগ্রহণকারীর প্রায় ১৩ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রের বাজেট ও নীতিবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার অন বাজেট অ্যান্ড পলিসি প্রায়োরিটিজের ২৩ অক্টোবর প্রকাশিত হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুলাইয়ে এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা কমে প্রায় ৩ কোটি ৬১ লাখে দাঁড়ায়। এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক নাম সাপ্লিমেন্টাল নিউট্রিশন অ্যাসিস্ট্যান্স প্রোগ্রাম। সাধারণভাবে এটি খাদ্যসহায়তা বা ফুড স্ট্যাম্প কর্মসূচি হিসেবে পরিচিত। এর মাধ্যমে যোগ্য পরিবারগুলো নির্দিষ্ট নিয়মে খাবার কেনার জন্য অর্থসহায়তা পায়। যেসব পরিবারে আয় কম, চাকরি নেই কিংবা সন্তানদের ভরণপোষণের ব্যয় বেশি, তাদের দৈনন্দিন খাবারের খরচ সামলাতে এই সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সুবিধাভোগীর সংখ্যা কমে যাওয়ার পেছনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সময় প্রণীত নতুন আইন ও কর্মসূচির নিয়ম পরিবর্তনকে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে কার্যকর হওয়া আইনটির আওতায় খাদ্যসহায়তার জন্য কিছু প্রাপকের কাজসংক্রান্ত শর্ত সম্প্রসারিত হয়েছে। আগে নির্দিষ্ট কিছু প্রাপ্তবয়স্কের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য শর্ত এখন আরও বেশি মানুষের ওপর প্রযোজ্য হতে পারে। নির্দিষ্ট শ্রেণির সন্তাননির্ভরতা নেই এমন কর্মক্ষম প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণত মাসে অন্তত ৮০ ঘণ্টা কাজ, অনুমোদিত প্রশিক্ষণ বা স্বীকৃত কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার শর্ত পূরণ করতে হতে পারে। যোগ্যতা, বয়স, পারিবারিক পরিস্থিতি এবং আইনে নির্ধারিত ব্যতিক্রম অনুযায়ী নিয়মের প্রয়োগ ভিন্ন হতে পারে। এই পরিবর্তন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রশাসনের সমর্থকদের বক্তব্য, কাজের শর্ত জোরদার করলে কর্মসংস্থানে উৎসাহ বাড়বে এবং সরকারি সহায়তার অর্থ আরও টেকসইভাবে ব্যবহার করা সম্ভব হবে। অন্যদিকে, খাদ্যনিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, কাজ খুঁজেও যারা পাচ্ছেন না কিংবা নির্ধারিত কাগজপত্র সময়মতো জমা দিতে পারছেন না, তাঁদের একটি অংশ সহায়তা হারাতে পারেন। ফলে সুবিধাভোগীর সংখ্যা কমলেই যে সবাই চাকরি পেয়েছেন বা আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হয়েছেন, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। গবেষণা প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, ২৮টি অঙ্গরাজ্যে পাওয়া উপাত্তে ২০২৫ সালের জুলাই থেকে শিশুদের খাদ্যসহায়তা গ্রহণকারীর সংখ্যা প্রায় ১৫ লাখ কমেছে। এসব অঙ্গরাজ্যের তথ্যের ভিত্তিতে সারা দেশে শিশু সুবিধাভোগীর সংখ্যা প্রায় ২০ লাখ কমে থাকতে পারে বলে প্রতিষ্ঠানটি অনুমান করেছে। তবে এটি সব অঙ্গরাজ্যের সম্পূর্ণ হিসাব নয়; তাই জাতীয় পর্যায়ের শিশুসংখ্যাটি অনুমান হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে। অঙ্গরাজ্যভেদে পরিস্থিতিরও বড় পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। গবেষণা প্রতিষ্ঠানটির উপাত্তে ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত অ্যারিজোনায় খাদ্যসহায়তা গ্রহণকারীর সংখ্যা প্রায় ৫১ শতাংশ কমেছে। একই সময়ে টেক্সাসে অংশগ্রহণকারী কমেছেন প্রায় ৭ লাখ ৯ হাজার, আর ফ্লোরিডায় কমেছেন প্রায় ৬ লাখ ৬৬ হাজার। এসব সংখ্যা কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের পরিবর্তন বোঝায়; প্রত্যেক ব্যক্তি কেন সহায়তা হারিয়েছেন, তা শুধু এই পরিসংখ্যান থেকে জানা যায় না।
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি বিক্রি করতে হিমশিম মালিকেরা, ক্রেতা পেতে লাখ ডলার পর্যন্ত ছাড়
শিশুদের ডে-কেয়ারের খরচে দিশেহারা মার্কিন পরিবার, কাজ করেও সঞ্চয় থাকছে না
যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের আগে ২০ হাজার ভোটারকে ঘিরে নতুন বিতর্ক, ক্যালিফোর্নিয়ায় বাড়ছে আইনি চাপ
যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসার ব্যয় অনেক পরিবারের জন্য বড় আর্থিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে। দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের ২৩ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চিকিৎসার খরচ বহন করতে না পেরে দেশটির বহু মানুষ চিকিৎসকের সাক্ষাৎ পিছিয়ে দিচ্ছেন, ওষুধের ব্যবহার কমাচ্ছেন, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা স্থগিত করছেন কিংবা স্বাস্থ্যবিমা চালু রাখা কঠিন বলে তা ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবছেন। প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, সমস্যা শুধু নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। স্বাস্থ্যবিমার মাসিক প্রিমিয়াম, চিকিৎসা শুরুর আগে নিজ পকেট থেকে দিতে হয় এমন অর্থ এবং হাসপাতালের বিল—সব মিলিয়ে বিভিন্ন আয়ের পরিবারের বাজেটে চাপ পড়ছে। কারও ক্ষেত্রে চিকিৎসার খরচ মেটাতে সঞ্চয় ভাঙতে হচ্ছে, আবার কারও চিকিৎসার বিল দীর্ঘমেয়াদি ঋণ বা আর্থিক সংকটের কারণ হচ্ছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে মোট স্বাস্থ্যসেবা ব্যয় প্রায় ৫ লাখ ৩০ হাজার কোটি ডলারে পৌঁছেছিল। হাসপাতালের উচ্চমূল্য, চিকিৎসাসেবার ব্যয়, ব্যয়বহুল চিকিৎসাপদ্ধতি এবং স্বাস্থ্যবিমা ব্যবস্থার জটিলতা এই খরচ বৃদ্ধির পেছনে ভূমিকা রাখছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, স্বাস্থ্যবিমার সরকারি ভর্তুকি ও স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচিতে পরিবর্তন হলে ভবিষ্যতে অনেক পরিবারের ব্যয় আরও বাড়তে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্য বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। পরিবারে শিশু, প্রবীণ সদস্য বা দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজন রয়েছে—এমন ক্ষেত্রে চিকিৎসার খরচ আগে থেকে পরিকল্পনা করা জরুরি। শুধু বিমার মাসিক প্রিমিয়াম কম হলেই সেটি সাশ্রয়ী হবে, এমন নয়; চিকিৎসা নেওয়ার সময় কত টাকা নিজেকে দিতে হবে, কোন চিকিৎসক ও হাসপাতাল বিমার আওতায় রয়েছে এবং ওষুধের খরচ কত, সেগুলোও যাচাই করা দরকার। যাঁদের স্বাস্থ্যবিমা রয়েছে, তাঁরা নিজেদের বিমার সুবিধা, বার্ষিক ছাড়যোগ্য অর্থ এবং চিকিৎসার সর্বোচ্চ নিজস্ব ব্যয়ের সীমা পর্যালোচনা করতে পারেন। যাঁরা চাকরি পরিবর্তন করছেন বা আয় কমে যাওয়ার মুখে পড়েছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে বিমার বিকল্প এবং যোগ্যতা অনুযায়ী সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচির তথ্য যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ। তবে চিকিৎসা ব্যয়ের কারণে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পুরোপুরি বন্ধ না করে চিকিৎসক বা হাসপাতালের আর্থিক সহায়তা বিভাগে কিস্তি কিংবা সহায়তার সুযোগ আছে কি না, তা জেনে নেওয়া ভালো। চিকিৎসার খরচ বাড়ার বিষয়টি কেবল স্বাস্থ্য খাতের সমস্যা নয়; এটি পরিবারের সঞ্চয়, দৈনন্দিন ব্যয় এবং আর্থিক নিরাপত্তার সঙ্গেও জড়িত। তাই স্বাস্থ্যবিমা নির্বাচন, চিকিৎসার পরিকল্পনা এবং সম্ভাব্য খরচ সম্পর্কে আগেভাগে জানা এখন অনেক মার্কিন পরিবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
মা-বাবা দেশে ফেরত, ১৮ বছরেই ছোট ভাইবোনদের পুরো পরিবারের দায়িত্ব তরুণীর কাঁধে
নিউ জার্সিতে ক্যাসিনো হোটেলে ব্যক্তিকে বিবস্ত্র করে অর্থ ছিনতাইয়ের অভিযোগ, গ্রেপ্তার শিক্ষিকা