ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ফ্লোরিডায় অভিবাসন অভিযান জোরদার, বাড়ছে গ্রেপ্তার
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে অভিবাসনবিষয়ক গ্রেপ্তার উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরুর পর থেকে পরিচালিত অভিযানে রাজ্য ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্রিয় অংশগ্রহণের কারণে গ্রেপ্তারের সংখ্যা আগের তুলনায় কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)।
অভিবাসনবিষয়ক তথ্য বিশ্লেষণ করে এপি জানিয়েছে, ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ১১ মার্চ পর্যন্ত ৪১৬ দিনে ফ্লোরিডায় প্রায় ৩৯ হাজার অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তুলনায়, এর আগের একই সময়সীমায়, যখন জো বাইডেন প্রেসিডেন্ট ছিলেন, গ্রেপ্তারের সংখ্যা ছিল ১১ হাজার ৮৮। অর্থাৎ এক বছরের কিছু বেশি সময়ের ব্যবধানে গ্রেপ্তার প্রায় সাড়ে তিন গুণ বেড়েছে।
বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ফ্লোরিডায় প্রতিদিন গড়ে ৯৩ জন অভিবাসী গ্রেপ্তার হয়েছেন। এ ক্ষেত্রে কেবল টেক্সাস অঙ্গরাজ্যই ফ্লোরিডার চেয়ে এগিয়ে রয়েছে।
অভিবাসন অভিযান জোরদারের পেছনে ফ্লোরিডার গভর্নর Ron DeSantis-এর নীতিগত সমর্থনকে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তার প্রশাসন ফেডারেল অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় বাড়াতে ব্যাপক উদ্যোগ নিয়েছে।
বিশেষ করে ‘২৮৭(জি)’ নামে পরিচিত এক ধরনের সহযোগিতা চুক্তির মাধ্যমে স্থানীয় ও অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অভিবাসন আইন প্রয়োগে অতিরিক্ত ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এর ফলে স্থানীয় পুলিশ কিংবা অন্যান্য সংস্থাও অভিবাসন-সংক্রান্ত জিজ্ঞাসাবাদ, আটক এবং বহিষ্কারের প্রক্রিয়ায় সরাসরি অংশ নিতে পারছে।
এপির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে কয়েকটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথাও। মার্চ মাসে ফ্লোরিডার বনিটা স্প্রিংস এলাকার একটি পার্কে কুকুর হাঁটাতে বের হওয়া এক গুয়াতেমালান দম্পতির সঙ্গে কথা বলেন রাজ্যের মাছ ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কমিশনের এক কর্মকর্তা। পরে ওই ব্যক্তিকে আটক করা হয় এবং কিছু সময় পর ফেডারেল অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সদস্যরা এসে তাকে নিয়ে যায়।
তার স্ত্রী দাবি করেছেন, আটক করার জন্য যে অভিযোগ দেখানো হয়েছিল তা বাস্তবতার সঙ্গে মিল ছিল না। তবে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগ (ডিএইচএস) জানিয়েছে, ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে পূর্ব থেকেই বহিষ্কারাদেশ কার্যকর ছিল।
একইভাবে ফেব্রুয়ারিতে ফোর্ট মায়ার্স এলাকার কাছে এক গুয়াতেমালান বাবা ও তার প্রাপ্তবয়স্ক ছেলেকে আটক করা হয়। পরিবারের দাবি, তাদের গাড়ির নিবন্ধন মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে বলে অভিযোগ আনা হয়েছিল, যদিও কাগজপত্র বৈধ ছিল। পরবর্তীতে দুজনকেই গুয়াতেমালায় ফেরত পাঠানো হয়।
তবে ডিএইচএসের বক্তব্য ভিন্ন। সংস্থাটি জানিয়েছে, ওই দুই ব্যক্তি অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন এবং তাদের বিরুদ্ধে আগে থেকেই বহিষ্কার সংক্রান্ত চূড়ান্ত আদেশ ছিল।
অভিবাসন আইনজীবীরা অভিযোগ করছেন, অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ ট্রাফিক তল্লাশি বা ক্ষুদ্র আইনগত বিষয়কে কেন্দ্র করে ব্যক্তিদের আটক করা হচ্ছে। পরে তাদের অভিবাসন কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে।
জ্যাকসনভিলভিত্তিক অভিবাসন আইনজীবী ভিলেরকা বিলবাও এপিকে বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে যেসব কর্মকর্তাকে অভিবাসন-সংক্রান্ত ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, তাদের অনেকেই সক্রিয়ভাবে অভিবাসীদের খুঁজছেন। তার ভাষায়, “অনেক সময় ভাঙা টেইললাইট বা গাড়ির জানালার অতিরিক্ত কালো কাচের মতো কারণ দেখিয়ে গাড়ি থামানো হয়, এরপর বিষয়টি আইসিই হেফাজতে গিয়ে শেষ হয়।”
এদিকে ফ্লোরিডার বিভিন্ন সংস্থার বিরুদ্ধে তথ্য গোপনের অভিযোগও উঠেছে। বেশ কয়েকটি স্থানীয় সংস্থা অভিবাসন-সংক্রান্ত গ্রেপ্তারের প্রতিবেদন কিংবা বডি-ক্যামেরার ভিডিও প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তাদের দাবি, এ ধরনের তথ্য এখন ফেডারেল অভিবাসন কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
সমালোচকদের মতে, এটি ফ্লোরিডার দীর্ঘদিনের ‘সানশাইন আইন’-এর চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ১৯৬৭ সালে প্রণীত এই আইনের মূল উদ্দেশ্য ছিল সরকারি তথ্য সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত রাখা।
ফ্লোরিডা একা নয়। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু হওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্রের ২০টি অঙ্গরাজ্যে মোট ১৩৫টি স্থানীয় সংস্থা ‘২৮৭(জি)’ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিল। বর্তমানে সেই সংখ্যা বেড়ে ৪১টি অঙ্গরাজ্য ও অঞ্চলে ১ হাজার ৭০০-এর বেশি চুক্তিতে পৌঁছেছে।
এ ছাড়া অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগ অংশগ্রহণকারী সংস্থাগুলোর জন্য আর্থিক প্রণোদনার ঘোষণাও দিয়েছে। এর মধ্যে কর্মকর্তাদের বেতন সহায়তা, সরঞ্জাম কেনার অর্থ এবং নতুন যানবাহন কেনার জন্য অতিরিক্ত তহবিল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ফ্লোরিডার অভিজ্ঞতা যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হয়ে উঠছে। সমর্থকদের মতে এটি সীমান্ত ও অভিবাসন আইন বাস্তবায়নে কার্যকর ভূমিকা রাখছে। অন্যদিকে সমালোচকদের আশঙ্কা, এতে অভিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে ভয় ও অনিশ্চয়তা আরও বাড়তে পারে।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিবাসন আইন প্রয়োগে স্থানীয় সংস্থাগুলোর ভূমিকা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে এ নিয়ে রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্কও আরও তীব্র হচ্ছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে করোনা মহামারির সময় সরকারি সহায়তা কর্মসূচি থেকে প্রতারণার মাধ্যমে ২১ লাখ ডলারের বেশি অর্থ নেওয়ার দায়ে এক ব্যক্তিকে সাড়ে ছয় বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন ফেডারেল আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে ২১ লাখ ৩১ হাজার ৭৪৭ ডলার ক্ষতিপূরণ হিসেবে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সোমবার (২ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এ তথ্য জানিয়েছে। সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তির নাম নিকেনসন জিন মাথুরিন। ৪৬ বছর বয়সী এই ব্যক্তি নিউ জার্সির সাসেক্স কাউন্টির স্পার্টা এলাকার বাসিন্দা। ফেডারেল প্রসিকিউটরদের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ট্রেনটনের ফেডারেল আদালতের বিচারক মাইকেল এ শিপ মাথুরিনকে ৭৮ মাসের কারাদণ্ড দেন। কারাভোগ শেষে তাঁকে আরও তিন বছর কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে থাকতে হবে। এর আগে চলতি বছরের ২১ মে চার দিনের বিচার শেষে জুরি বোর্ড তাঁকে তিনটি ওয়্যার ফ্রড বা ইলেকট্রনিক মাধ্যমে আর্থিক প্রতারণা এবং একটি মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে। আদালতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে প্রতারণামূলক কার্যক্রম শুরু করেন মাথুরিন। সে সময় করোনাভাইরাসের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অসংখ্য ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান আর্থিক সংকটে পড়ে। ব্যবসা সচল রাখা এবং কর্মীদের বেতন পরিশোধে সহায়তা দিতে ফেডারেল সরকার পেচেক প্রোটেকশন প্রোগ্রাম (পিপিপি) এবং ইকোনমিক ইনজুরি ডিজাস্টার লোন (ইআইডিএল) কর্মসূচির মাধ্যমে জরুরি আর্থিক সহায়তা চালু করেছিল। তদন্তকারীরা জানান, সরকারি এসব কর্মসূচির সুযোগ নিয়ে মাথুরিন নিজের মালিকানাধীন বলে দাবি করা কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নামে মোট ১৫টি ভুয়া ঋণ আবেদন জমা দেন। আবেদনগুলোতে প্রতিষ্ঠানের মাসিক বেতন ব্যয়, মোট আয় এবং কর্মীর সংখ্যা সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য দেওয়া হয়েছিল। ঋণ অনুমোদন করানোর জন্য জাল ট্যাক্স ডকুমেন্ট ও কর্মীদের বেতনসংক্রান্ত নথিও তৈরি করা হয়। ফেডারেল প্রসিকিউটরদের দাবি, ভুয়া তথ্য ও নথির ভিত্তিতে ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্মল বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনকে বিভ্রান্ত করেন মাথুরিন। এর মাধ্যমে তিনি সরকারি জরুরি সহায়তা তহবিল থেকে ২১ লাখ ডলারের বেশি অর্থ সংগ্রহ করতে সক্ষম হন। যে অর্থ প্রকৃতপক্ষে মহামারিতে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও তাদের কর্মীদের সহায়তার জন্য বরাদ্দ ছিল। ২০২৬ সালের মে মাসে মাথুরিনকে দোষী সাব্যস্ত করার পর নিউ জার্সির ফেডারেল প্রসিকিউটর রবার্ট ফ্রেজার জানিয়েছিলেন, মহামারিকালীন সহায়তা কর্মসূচিগুলো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে টিকিয়ে রাখা এবং কর্মীদের চাকরি রক্ষার উদ্দেশ্যে চালু করা হয়েছিল। ব্যক্তিগতভাবে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার জন্য এসব কর্মসূচি তৈরি হয়নি। তিনি বলেন, আদালতে উপস্থাপিত প্রমাণে জাল বেতন রেকর্ড, মিথ্যা ট্যাক্স ডকুমেন্ট এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সম্পর্কে ভুয়া তথ্য ব্যবহারের বিষয়টি উঠে এসেছে। এই প্রতারণার তদন্ত পরিচালনা করে যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টারনাল রেভিনিউ সার্ভিসের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (আইআরএস ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন)। সংস্থাটির তদন্তের ভিত্তিতে ফেডারেল প্রসিকিউটররা আদালতে মামলা পরিচালনা করেন। নিউ জার্সিতে কোভিড সহায়তার অর্থ নিয়ে বড় ধরনের প্রতারণার ঘটনা তদন্তের জন্য গঠিত বিশেষ ফেডারেল টাস্কফোর্সও এ ধরনের অপরাধ শনাক্তে কাজ করছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, করোনাকালীন সরকারি সহায়তা কর্মসূচির অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার বিরুদ্ধে দেশজুড়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। এ ধরনের প্রতারণা সম্পর্কে তথ্য থাকলে বিচার বিভাগের ন্যাশনাল সেন্টার ফর ডিজাস্টার ফ্রডের ৮৬৬-৭২০-৫৭২১ নম্বরে অভিযোগ জানানো যাবে। সংবাদসূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ, নিউ জার্সি ডিস্ট্রিক্টের ফেডারেল প্রসিকিউটর কার্যালয় ।
জ্যাকসন হাইটস ও ব্রঙ্কসে বাংলা ভাষায় কম খরচে ডেন্টাল সেবার দিচ্ছেন বাংলাদেশি চিকিৎসক ওয়ালী খান
যুক্তরাষ্ট্রে প্রেমিকাকে অজ্ঞান করে জোরপূর্বক গর্ভপাত, দোষ স্বীকার সাবেক সেনা ক্যাডেটের
যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ স্ট্যাটাস পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিতে কোটি ডলারের প্রতারণা, ১৩ বিদেশি নাগরিকের বিরুদ্ধে ফেডারেল মামলা
ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উত্তেজনা বাড়ার মধ্যে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা এবং সাধারণ নাগরিকদের বাধ্যতামূলকভাবে সেনাবাহিনীতে নেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের কয়েকটি নির্ধারিত কর্মসূচি বাতিলের খবরের পর এই উদ্বেগ আরও বেড়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে বাধ্যতামূলক সেনা নিয়োগ চালু নেই। নতুন করে এমন ব্যবস্থা চালুর কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তও ঘোষণা করা হয়নি। ভারতের সংবাদমাধ্যম দ্য ইকোনমিক টাইমসের ৩ নভেম্বরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের আইওয়া ও কানসাসে নির্ধারিত নির্বাচনি সমাবেশ এবং ভ্যান্সের মিনেসোটায় একটি সংবাদ সম্মেলন বাতিলের খবর সামনে আসে। একই সময়ে ইরানকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনা বাড়তে থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ নাগরিকদের যুদ্ধে অংশ নিতে বাধ্য করা হতে পারে কি না, সেই প্রশ্ন আলোচনায় আসে। তবে কর্মসূচি বাতিলের সঙ্গে বাধ্যতামূলক সেনা নিয়োগের কোনো সরাসরি সম্পর্ক নিশ্চিত হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রে ১৯৭৩ সালে ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় বাধ্যতামূলক সেনা নিয়োগ বন্ধ হয়। এরপর থেকে দেশটির সামরিক বাহিনী মূলত স্বেচ্ছায় যোগ দেওয়া সদস্যদের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। তবে জরুরি পরিস্থিতির জন্য সিলেক্টিভ সার্ভিস সিস্টেম নামে একটি নিবন্ধনব্যবস্থা চালু রয়েছে। এর আওতায় ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সী অধিকাংশ পুরুষ মার্কিন নাগরিক ও অভিবাসীকে নিবন্ধন করতে হয়। সিলেক্টিভ সার্ভিসের সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, গ্রিন কার্ডধারী, শরণার্থী, অ্যাসাইলাম আবেদনকারী এবং নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া বসবাসকারী পুরুষ অভিবাসীরাও নিবন্ধনের আওতায় পড়েন। তবে বৈধ নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসায় অবস্থানকারী ব্যক্তিদের জন্য ব্যতিক্রম রয়েছে। নিবন্ধনের অর্থ সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়া নয়। এটি জাতীয় জরুরি পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য নিয়োগের জন্য তথ্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা। যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে বাধ্যতামূলক সেনা নিয়োগ বা মিলিটারি ড্রাফট চালু করতে প্রেসিডেন্ট ও কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন। এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে নির্ধারিত বয়সের নিবন্ধিত ব্যক্তিদের মধ্য থেকে লটারি পদ্ধতিতে নির্বাচন করা হতে পারে। এরপর শারীরিক ও অন্যান্য যোগ্যতা যাচাইয়ের প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। সামরিক বিশ্লেষকেরা বর্তমানে বাধ্যতামূলক নিয়োগের প্রয়োজনীয়তা কম বলে মনে করছেন। ফোরসাইট স্ট্র্যাটেজিক অ্যাডভাইজার্সের ক্রিস্টোফার লি দ্য মিররকে জানিয়েছেন, ইরানকে ঘিরে সম্ভাব্য সামরিক অভিযান প্রধানত নৌ ও বিমানবাহিনীকেন্দ্রিক হতে পারে। এ ধরনের সংঘাত পরিচালনার জন্য বিপুলসংখ্যক সাধারণ নাগরিককে নতুন করে সেনাবাহিনীতে নেওয়ার প্রয়োজন হওয়ার সম্ভাবনা কম। এদিকে যুক্তরাজ্যেও সামরিক প্রস্তুতি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশটির সরকার সাবেক সামরিক সদস্যদের জরুরি প্রয়োজনে পুনরায় দায়িত্বে ডাকার সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৫৫ থেকে ৬৫ বছরে উন্নীত করার প্রস্তাব করেছে। এই পরিবর্তনের লক্ষ্য অভিজ্ঞ সাবেক সেনাসদস্যদের প্রয়োজনের সময় কাজে লাগানো। এটি সাধারণ নাগরিকদের নতুন করে বাধ্যতামূলক সেনাবাহিনীতে নিয়োগের ব্যবস্থা নয়। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বাংলাদেশি-আমেরিকান ও অভিবাসী পরিবারগুলোর জন্য সিলেক্টিভ সার্ভিসের নিয়ম জানা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সী যোগ্য পুরুষদের নিবন্ধনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। নিবন্ধন না করলে নির্দিষ্ট সরকারি চাকরি, সুবিধা এবং অভিবাসনসংক্রান্ত প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হতে পারে। ইরানকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান সেনা নিয়োগব্যবস্থায় পরিবর্তনের ঘোষণা আসেনি। ১৯৭৩ সাল থেকে চালু থাকা স্বেচ্ছাসেবী নিয়োগব্যবস্থাই কার্যকর রয়েছে। ভবিষ্যতে বাধ্যতামূলক নিয়োগের প্রয়োজন দেখা দিলে তার জন্য পৃথক আইনি ও সরকারি সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সূত্র: দ্য ইকোনমিক টাইমস, যুক্তরাষ্ট্রের সিলেক্টিভ সার্ভিস সিস্টেম; ইউএসএ গভর্নমেন্ট
নিউইয়র্কের রাস্তায় গাড়ির পাশে নামাজ আদায়ের ছবি নিয়ে আলোচনা
যুক্তরাষ্ট্রে গর্ভবতী কর্মীদের গর্ভপাত ও বন্ধ্যত্বের চিকিৎসাসংক্রান্ত সুবিধা কমানোর পরিকল্পন ট্রাম্প প্রশাসনের
গর্ভবতী কর্মীদের সুরক্ষা কমানোর ট্রাম্প প্রশাসনের উদ্যোগ, বাড়ছে উদ্বেগ
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের জোন্সভিলে গাড়ির ধাক্কায় দুই বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনার ঘটনায় স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তদন্ত শুরু করেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইনডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে শিশুটির মৃত্যুর খবর উঠে এসেছে। ঘটনাটি ফ্লোরিডার আলাচুয়া কাউন্টির জোন্সভিল এলাকায় ঘটেছে বলে প্রতিবেদনের শিরোনাম থেকে জানা যায়। তবে দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট সময়, গাড়ির চালকের পরিচয় এবং কী পরিস্থিতিতে শিশুটি গাড়ির ধাক্কায় পড়ে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করা প্রয়োজন। ফ্লোরিডা হাইওয়ে প্যাট্রোলের তথ্য অনুযায়ী, নিহত শিশুটির বয়স এক বছর। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেলে শিশুটির বাবা-মা বাড়ির আঙিনায় কাজ করছিলেন। এ সময় তাঁদের অগোচরে শিশুটি বাড়ি থেকে বেরিয়ে কাছের সড়কে চলে যায়। পরিবারের সদস্যরা শিশুটিকে পরিচিত জায়গাগুলোতে খুঁজতে থাকলেও এর আগেই দুর্ঘটনাটি ঘটে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গাড়ির চালক সংঘর্ষের আগে শিশুটিকে দেখতে পাননি। গাড়ির ধাক্কায় গুরুতর আহত শিশুটিকে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন। দুর্ঘটনার পর ফ্লোরিডা হাইওয়ে প্যাট্রোল ঘটনাটির তদন্ত শুরু করে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউসিজেবির বরাত দিয়ে দ্য ইনডিপেনডেন্ট জানিয়েছে, তদন্তকারীরা গাড়ির চালক কিংবা শিশুটির বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনার পরিকল্পনা করছেন না। শিশুটির মৃত্যুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করেছেন অনেকে। কেউ কেউ পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। আবার বাড়ির বাইরে কাজ করার সময় ছোট শিশুদের নিরাপত্তা ও নজরদারির বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ ঘটনায় শিশুটির পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। দুর্ঘটনার সময় গাড়িটির গতি কত ছিল কিংবা সড়কের কোন অংশে সংঘর্ষ ঘটে, সে সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। সূত্র: ফ্লোরিডা হাইওয়ে প্যাট্রোল, দ্য ইনডিপেনডেন্ট, ৩ নভেম্বর ২০২৬।
নিউইয়র্কে অজান্তেই ১০ বছর ধরে প্রতিবেশীর বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করেন নারী, ক্ষতিপূরনের দাবি
ক্যালিফোর্নিয়ায় গ্রেপ্তার অভিযানের সময় প্রতিবেশীর দিকে আইসিই এজেন্টের অস্ত্র তাক, ভিডিও ভাইরাল