আমেরিকা

ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ফ্লোরিডায় অভিবাসন অভিযান জোরদার, বাড়ছে গ্রেপ্তার

বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ: জুন ১১, ২০২৬ ২২:২২
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে অভিবাসনবিষয়ক গ্রেপ্তার উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরুর পর থেকে পরিচালিত অভিযানে রাজ্য ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্রিয় অংশগ্রহণের কারণে গ্রেপ্তারের সংখ্যা আগের তুলনায় কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)।

 

অভিবাসনবিষয়ক তথ্য বিশ্লেষণ করে এপি জানিয়েছে, ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ১১ মার্চ পর্যন্ত ৪১৬ দিনে ফ্লোরিডায় প্রায় ৩৯ হাজার অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তুলনায়, এর আগের একই সময়সীমায়, যখন জো বাইডেন প্রেসিডেন্ট ছিলেন, গ্রেপ্তারের সংখ্যা ছিল ১১ হাজার ৮৮। অর্থাৎ এক বছরের কিছু বেশি সময়ের ব্যবধানে গ্রেপ্তার প্রায় সাড়ে তিন গুণ বেড়েছে।

 

বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ফ্লোরিডায় প্রতিদিন গড়ে ৯৩ জন অভিবাসী গ্রেপ্তার হয়েছেন। এ ক্ষেত্রে কেবল টেক্সাস অঙ্গরাজ্যই ফ্লোরিডার চেয়ে এগিয়ে রয়েছে।

 

অভিবাসন অভিযান জোরদারের পেছনে ফ্লোরিডার গভর্নর Ron DeSantis-এর নীতিগত সমর্থনকে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তার প্রশাসন ফেডারেল অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় বাড়াতে ব্যাপক উদ্যোগ নিয়েছে।

 

বিশেষ করে ‘২৮৭(জি)’ নামে পরিচিত এক ধরনের সহযোগিতা চুক্তির মাধ্যমে স্থানীয় ও অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অভিবাসন আইন প্রয়োগে অতিরিক্ত ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এর ফলে স্থানীয় পুলিশ কিংবা অন্যান্য সংস্থাও অভিবাসন-সংক্রান্ত জিজ্ঞাসাবাদ, আটক এবং বহিষ্কারের প্রক্রিয়ায় সরাসরি অংশ নিতে পারছে।

 

এপির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে কয়েকটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথাও। মার্চ মাসে ফ্লোরিডার বনিটা স্প্রিংস এলাকার একটি পার্কে কুকুর হাঁটাতে বের হওয়া এক গুয়াতেমালান দম্পতির সঙ্গে কথা বলেন রাজ্যের মাছ ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কমিশনের এক কর্মকর্তা। পরে ওই ব্যক্তিকে আটক করা হয় এবং কিছু সময় পর ফেডারেল অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সদস্যরা এসে তাকে নিয়ে যায়।

 

তার স্ত্রী দাবি করেছেন, আটক করার জন্য যে অভিযোগ দেখানো হয়েছিল তা বাস্তবতার সঙ্গে মিল ছিল না। তবে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগ (ডিএইচএস) জানিয়েছে, ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে পূর্ব থেকেই বহিষ্কারাদেশ কার্যকর ছিল।

 

একইভাবে ফেব্রুয়ারিতে ফোর্ট মায়ার্স এলাকার কাছে এক গুয়াতেমালান বাবা ও তার প্রাপ্তবয়স্ক ছেলেকে আটক করা হয়। পরিবারের দাবি, তাদের গাড়ির নিবন্ধন মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে বলে অভিযোগ আনা হয়েছিল, যদিও কাগজপত্র বৈধ ছিল। পরবর্তীতে দুজনকেই গুয়াতেমালায় ফেরত পাঠানো হয়।

 

তবে ডিএইচএসের বক্তব্য ভিন্ন। সংস্থাটি জানিয়েছে, ওই দুই ব্যক্তি অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন এবং তাদের বিরুদ্ধে আগে থেকেই বহিষ্কার সংক্রান্ত চূড়ান্ত আদেশ ছিল।

 

অভিবাসন আইনজীবীরা অভিযোগ করছেন, অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ ট্রাফিক তল্লাশি বা ক্ষুদ্র আইনগত বিষয়কে কেন্দ্র করে ব্যক্তিদের আটক করা হচ্ছে। পরে তাদের অভিবাসন কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে।

 

জ্যাকসনভিলভিত্তিক অভিবাসন আইনজীবী ভিলেরকা বিলবাও এপিকে বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে যেসব কর্মকর্তাকে অভিবাসন-সংক্রান্ত ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, তাদের অনেকেই সক্রিয়ভাবে অভিবাসীদের খুঁজছেন। তার ভাষায়, “অনেক সময় ভাঙা টেইললাইট বা গাড়ির জানালার অতিরিক্ত কালো কাচের মতো কারণ দেখিয়ে গাড়ি থামানো হয়, এরপর বিষয়টি আইসিই হেফাজতে গিয়ে শেষ হয়।”

 

এদিকে ফ্লোরিডার বিভিন্ন সংস্থার বিরুদ্ধে তথ্য গোপনের অভিযোগও উঠেছে। বেশ কয়েকটি স্থানীয় সংস্থা অভিবাসন-সংক্রান্ত গ্রেপ্তারের প্রতিবেদন কিংবা বডি-ক্যামেরার ভিডিও প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তাদের দাবি, এ ধরনের তথ্য এখন ফেডারেল অভিবাসন কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

 

সমালোচকদের মতে, এটি ফ্লোরিডার দীর্ঘদিনের ‘সানশাইন আইন’-এর চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ১৯৬৭ সালে প্রণীত এই আইনের মূল উদ্দেশ্য ছিল সরকারি তথ্য সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত রাখা।

 

ফ্লোরিডা একা নয়। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু হওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্রের ২০টি অঙ্গরাজ্যে মোট ১৩৫টি স্থানীয় সংস্থা ‘২৮৭(জি)’ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিল। বর্তমানে সেই সংখ্যা বেড়ে ৪১টি অঙ্গরাজ্য ও অঞ্চলে ১ হাজার ৭০০-এর বেশি চুক্তিতে পৌঁছেছে।

 

এ ছাড়া অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগ অংশগ্রহণকারী সংস্থাগুলোর জন্য আর্থিক প্রণোদনার ঘোষণাও দিয়েছে। এর মধ্যে কর্মকর্তাদের বেতন সহায়তা, সরঞ্জাম কেনার অর্থ এবং নতুন যানবাহন কেনার জন্য অতিরিক্ত তহবিল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

 

বিশ্লেষকদের মতে, ফ্লোরিডার অভিজ্ঞতা যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হয়ে উঠছে। সমর্থকদের মতে এটি সীমান্ত ও অভিবাসন আইন বাস্তবায়নে কার্যকর ভূমিকা রাখছে। অন্যদিকে সমালোচকদের আশঙ্কা, এতে অভিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে ভয় ও অনিশ্চয়তা আরও বাড়তে পারে।

 

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিবাসন আইন প্রয়োগে স্থানীয় সংস্থাগুলোর ভূমিকা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে এ নিয়ে রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্কও আরও তীব্র হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

নাহিদা বৃষ্টির লাশ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কেন? দুই কারণ জানাল পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না।   নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার।   তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।

Advertisement

আমেরিকা

View more
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রাহকের ব্যক্তিগত ছবি নিজের ফোনে পাঠানোর অভিযোগে মোবাইল কোম্পানির কর্মী গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের অস্টিন শহরে এক মোবাইল সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মী গ্রাহকের ব্যক্তিগত ছবি অনুমতি ছাড়া নিজের ফোনে পাঠানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন। তদন্ত নথি অনুযায়ী, নেটওয়ার্ক সেটিংস পরিবর্তনে সহায়তা করার সময় তিনি গ্রাহকের ফোনে প্রবেশাধিকার পান এবং সেই সুযোগের অপব্যবহার করেন।   অস্টিন পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, ২৯ বছর বয়সী রাঘুল আনন্দকৃষ্ণনের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘন এবং কম্পিউটার নিরাপত্তা ভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়েছে। আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, ঘটনাটি ঘটে ৭ জুন অস্টিনের ক্যাপিটাল প্লাজা শপিং সেন্টারে অবস্থিত একটি টোটাল ওয়্যারলেস শাখায়।   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ওই দিন বিকেল ৩টার কিছু পর এক নারী জরুরি সহায়তা নম্বরে ফোন করে অভিযোগ করেন যে দোকানের এক কর্মী তার ফোন ঘেঁটে ব্যক্তিগত ছবি নিজের কাছে পাঠিয়েছেন।   অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সেখানে তারা দোকান থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় সন্দেহভাজন কর্মীকে শনাক্ত করে। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।   আদালতে জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, অভিযুক্ত কর্মী স্বীকার করেন যে ওই নারী তার আইফোনের নেটওয়ার্ক সেটিংস পরিবর্তনের জন্য দোকানে এসেছিলেন। কাজটি সম্পন্ন করতে গ্রাহকের পাসকোড প্রয়োজন বলে তিনি তা সংগ্রহ করেন।   পুলিশকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, ফোন ব্যবহারের সময় ভুলবশত ছবির গ্যালারি খুলে যায়। পরে তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে গ্রাহকের কিছু ব্যক্তিগত ছবি নিজের কাছে পাঠানোর চেষ্টা করেন। তবে তার দাবি, ছবি স্থানান্তরের প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়নি এবং পরে তিনি ফোনটি গ্রাহককে ফেরত দেন।   তদন্ত নথিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযুক্ত নিজেই স্বীকার করেছেন যে গ্রাহক তাকে কেবল নেটওয়ার্ক সেটিংস পরিবর্তনের অনুমতি দিয়েছিলেন। ফোনের অন্যান্য অংশ, ছবি বা ব্যক্তিগত তথ্য দেখার অনুমতি তার ছিল না।   অন্যদিকে অভিযোগকারী নারী পুলিশকে জানান, পাসকোড দেওয়ার পর কর্মী তার ফোনটি দোকানের পেছনের অংশে নিয়ে যান। কাজ শেষ হওয়ার পর তিনি নিজের গাড়িতে গিয়ে ফোন ব্যবহার করতে গিয়ে দেখতে পান যে তার ব্যক্তিগত কিছু ছবি অন্য একটি ডিভাইসে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়েছে। পাশাপাশি তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি অ্যাকাউন্টেও অনুমতি ছাড়া প্রবেশ করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।   নারীটি স্পষ্টভাবে জানান, তিনি কোনোভাবেই তার ব্যক্তিগত ছবি, অ্যাকাউন্ট বা তথ্য ব্যবহারের অনুমতি দেননি এবং তিনি অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা চান।   তদন্তের ভিত্তিতে রাঘুল আনন্দকৃষ্ণনের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। পাশাপাশি কম্পিউটার নিরাপত্তা ভঙ্গের অভিযোগও যুক্ত করা হয়েছে। তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, স্মার্টফোনের ছবি সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা অপারেটিং সিস্টেমের অংশ হিসেবে একটি কম্পিউটারভিত্তিক তথ্যব্যবস্থা হিসেবে বিবেচিত হয়। ফলে অনুমতি ছাড়া সেখানে প্রবেশ করাও আইন লঙ্ঘনের আওতায় পড়ে।   বর্তমানে অভিযুক্ত ট্রাভিস কাউন্টি কারাগারে রয়েছেন। আদালত তার জামিন ১০ হাজার ডলার নির্ধারণ করেছে। একই সঙ্গে অভিযোগকারী নারীর সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   এখনও মামলার শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি। তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।   প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মোবাইল ফোনে প্রযুক্তিগত সহায়তা নেওয়ার সময় ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফোনের পাসকোড বা প্রবেশাধিকার অন্য কাউকে দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা এবং কাজ শেষে বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট ও তথ্য যাচাই করে নেওয়া উচিত।   ট্রাভিস কাউন্টির আদালতের নথি ও কারাগারের রেকর্ডের ভিত্তিতে এ তথ্য প্রকাশ করেছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১১, ২০২৬ ২২:৪৮
ছবি: সংগৃহীত

নিউ জার্সির অভিজাত এলাকায় দিনের আলোয় ছিনতাই, ফোন ও সানগ্লাস নিয়ে পালিয়েছিল সন্দেহভাজন

ছবি: সংগৃহীত

ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ফ্লোরিডায় অভিবাসন অভিযান জোরদার, বাড়ছে গ্রেপ্তার

ছবি: সংগৃহীত

মোস্ট ওয়ান্টেড প্রতারকদের তালিকা প্রকাশের পর প্রথম গ্রেপ্তার, মিনিয়াপোলিসে আটক সাঈদ আব্দুল্লাহি এরেগ

ছবিঃ সি বি এস নিউজ
যুক্তরাষ্ট্রে নিজ কন্যাকে হত্যার দায়ে দণ্ডিত পিতা অ্যাডাম মন্টগোমারির দণ্ড বাতিল করল সুপ্রিম কোর্ট

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ হ্যাম্পশায়ারের সুপ্রিম কোর্ট অ্যাডাম মন্টগোমারির খুনের সাজা বাতিল করেছে। নিজের পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে হারমনি মন্টগোমারিকে হত্যার দায়ে ২০২৪ সালে তাকে ৪৫ বছর থেকে শুরু করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। বৃহস্পতিবার দেওয়া এক রায়ে আদালত জানায়, মন্টগোমারি এই মামলায় ন্যায়বিচার পাননি।   কারণ তার বিরুদ্ধে আনা হত্যার অভিযোগটি অন্যান্য অভিযোগের সাথে যুক্ত না করে আলাদাভাবে বিচার করার যে আবেদন করা হয়েছিল, তা বিচারিক আদালতে খারিজ হয়ে গিয়েছিল। উল্লেখ্য, নিহত শিশু হারমনির মৃতদেহ আজ পর্যন্ত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।   নিউ হ্যাম্পশায়ারের সর্বোচ্চ আদালত তাদের পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে, দ্বিতীয় মাত্রার হত্যা বা সেকেন্ড ডিগ্রি মার্ডারের অভিযোগটির বিচার দ্বিতীয় মাত্রার হামলার অভিযোগ থেকে সম্পূর্ণ আলাদাভাবে পরিচালনা করা উচিত ছিল।   এই দুটি ভিন্ন অভিযোগ একসঙ্গে একই মামলায় বিচার করায় মন্টগোমারির নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু বিচার পাওয়ার অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে। আদালতের রায়ে বলা হয়, দুটি অভিযোগ একসঙ্গে মিলিয়ে ফেলাটা হত্যার অভিযোগ প্রমাণের ক্ষেত্রে কোনোভাবেই প্রভাবমুক্ত ছিল না।   একারণেই তার দ্বিতীয় মাত্রার হত্যার সাজা বাতিল করা হয়েছে। হারমনির ভাই জেমিসনের দত্তক প্রক্রিয়ার তদারকি করা ম্যাসাচুসেটসের অবসরপ্রাপ্ত বিচারক ক্যারল এরস্কিন জানান, জুলাই মাসে ঘটে যাওয়া একটি নিষ্ঠুর হামলার ঘটনার সঙ্গে কয়েক মাস পরের হত্যার ঘটনাকে আলাদা করে দেখা যেকোনো জুরির জন্যই অত্যন্ত কঠিন একটি কাজ।   এদিকে, নিউ হ্যাম্পশায়ার ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা এই হত্যা অভিযোগটির পুনঃবিচারের উদ্যোগ নেবে। বিবৃতিতে বলা হয়, হারমনির মৃত্যুর কারণে ঘটা একাধিক গুরুতর অপরাধ এবং আলাদা আগ্নেয়াস্ত্রের মামলায় মন্টগোমারি এখনো দোষী সাব্যস্ত হয়ে আছেন, যা আগেই আপিলে বহাল রাখা হয়েছিল।   এই অতিরিক্ত অভিযোগগুলোর জন্য তার মোট সাড়ে ৪৩ বছরের কারাদণ্ড সম্পূর্ণ অপরিবর্তিত থাকছে এবং আদালতের সাম্প্রতিক এই সিদ্ধান্তে সেগুলোর কোনো পরিবর্তন হবে না। তদন্তকারী ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর কাজের ওপর পূর্ণ আস্থা ব্যক্ত করে প্রশাসন জানিয়েছে, হারমনি এবং তাকে ভালোবাসতো এমন সবার জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে তারা আইনি লড়াই চালিয়ে যাবে।

ইসতিয়াক আহমেদ প্রকাশ: জুন ১১, ২০২৬ ১৯:৩৩
ছবিঃ নিউইয়র্ক পোস্ট

যুক্তরাষ্ট্রে ‘নিখোঁজ’ সাড়ে চার লাখ অভিবাসী শিশুর মধ্যে দেড় লাখের খোঁজ মিলেছে, দাবি ট্রাম্প প্রশাসনের

ছবিঃ আমেরিকা বাংলা

বিশ্বকাপের টিকিট নিয়ে প্রতারণার ফাঁদ, আটলান্টাবাসীকে সতর্ক করল বেটার বিজনেস ব্যুরো

ছবিঃ কোলাজ আমেরিকা বাংলা

ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের দুই যমজ সন্তানকে হত্যার পর বাবার মর্মান্তিক আত্মহত্যা

ছবি: সংগৃহীত
আটলান্টায় গ্যাং দমনে বড় পদক্ষেপ, পাঁচ সদস্যকে পাঠানো হলো ফেডারেল কারাগারে

আটলান্টা: মাদক পাচার, সশস্ত্র হামলা, ডাকাতি এবং অবৈধ অস্ত্র রাখাসহ একাধিক গুরুতর অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে আটলান্টাভিত্তিক ‘গুডফেলাস’ স্ট্রিট গ্যাংয়ের পাঁচ সদস্যকে ফেডারেল কারাদণ্ড দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের আদালত। দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে চারজন পূর্বে দণ্ডিত অপরাধী ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ সম্প্রতি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।   ফেডারেল কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, গুডফেলাস গ্যাং দীর্ঘদিন ধরে আটলান্টা এবং জর্জিয়ার বিভিন্ন এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিল। সংগঠনটি মূলত মাদক পাচার, ডাকাতি, গাড়ি ছিনতাই, প্রতারণা এবং অস্ত্র ব্যবসার মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করত। নিজেদের প্রভাব বজায় রাখতে তারা সহিংসতা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের পথ বেছে নিত বলে তদন্তে উঠে এসেছে।   উত্তর জর্জিয়ার যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি থিওডোর এস. হার্টজবার্গ এক বিবৃতিতে বলেন, গ্যাংটির সদস্যরা চলন্ত গাড়ি থেকে গুলি চালিয়ে শিশুদের আহত করেছে, একজন ব্যক্তিকে মারধর ও লুট করেছে, কারাগারে মাদক সরবরাহ করেছে এবং অবৈধভাবে আগ্নেয়াস্ত্র বহন করেছে। তিনি বলেন, সহিংস অপরাধ ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ফেডারেল ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যৌথ অভিযান অব্যাহত থাকবে।   এফবিআই আটলান্টা ফিল্ড অফিসের বিশেষ এজেন্ট মার্লো গ্রাহাম বলেন, সহিংস গ্যাংগুলো স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি। এসব অপরাধী সংগঠনকে চিহ্নিত, বিচ্ছিন্ন এবং ভেঙে দিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।   মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২১ সালের ১৭ জানুয়ারি ডি’আন্দ্রে জ্যাকসন ও তার সহযোগীরা আটলান্টার একটি আবাসিক এলাকায় গিয়ে এক নারীকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। হামলায় ওই নারী, তার ছয় বছর বয়সী ছেলে এবং ১৪ বছর বয়সী আরেক কিশোর আহত হয়। ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৫০টি গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়। আহত সবাই প্রাণে বেঁচে গেলেও ঘটনাটি এলাকাজুড়ে ব্যাপক উদ্বেগের সৃষ্টি করে।   এই ঘটনায় জ্যাকসনকে ১৫ বছর ৬ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের জেলা আদালত। সাজা ভোগ শেষে তাকে আরও পাঁচ বছর তত্ত্বাবধানে থাকতে হবে।   আরেকটি মামলায় ট্রেভন হকিন্স নামের এক গ্যাং সদস্যকে নয় বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আদালতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের এপ্রিলে তিনি আটলান্টার একটি বাড়িতে গিয়ে এক ব্যক্তিকে আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন। পরে আরও দুই ব্যক্তি ঘটনাস্থলে এসে ওই ব্যক্তিকে মারধর করে এবং মাদকদ্রব্যসহ একটি ব্যাগ নিয়ে যায়। পরবর্তীতে হকিন্সের বাসভবনে তল্লাশি চালিয়ে চারটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়, যা তার রাখার আইনগত অনুমতি ছিল না।   অন্যদিকে, ২০২৩ সালের আগস্টে ডাকুয়ান কসবি ও জেরেল রাকার একটি ড্রোন ব্যবহার করে টেলফেয়ার স্টেট প্রিজনে নিষিদ্ধ সামগ্রী সরবরাহের চেষ্টা করেন। পুলিশ তাদের থামানোর চেষ্টা করলে তারা পালিয়ে যায়। পরে গাড়ি থেকে একটি ড্রোন এবং ৫০০ গ্রামের বেশি মেথামফেটামিন উদ্ধার করা হয়। তদন্তের ধারাবাহিকতায় কসবির বাসা থেকে এক কেজি কোকেন এবং এক ডজনেরও বেশি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়।   এ ঘটনায় কসবিকে নয় বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এর আগে একই মামলায় জেরেল রাকারকে ১০ বছর এবং বেন্টোরে মুরকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আরেক অভিযুক্ত টাভারাস বিয়ার্ড মাদক ও অস্ত্র-সংক্রান্ত অভিযোগে দোষ স্বীকার করেছেন। আগামী জুলাইয়ে তার সাজা ঘোষণা হওয়ার কথা রয়েছে।   আটলান্টা পুলিশ প্রধান ড্যারিন শিয়ারবাম বলেন, গুলি, ডাকাতি, মাদক পাচার ও অস্ত্র অপরাধে জড়িত গ্যাংগুলোর জন্য সমাজে কোনো স্থান নেই। তিনি বলেন, আদালতের এই রায় অপরাধীদের জন্য একটি স্পষ্ট বার্তা—সহিংসতা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে অপরাধ সাম্রাজ্য গড়ার চেষ্টা করলে শেষ পর্যন্ত আইনের মুখোমুখি হতেই হবে।   বিচার বিভাগ জানিয়েছে, এফবিআই, আটলান্টা পুলিশ বিভাগ এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা সংস্থার যৌথ তদন্তের ভিত্তিতে মামলাগুলো পরিচালিত হয়েছে। কর্তৃপক্ষের মতে, সংগঠিত অপরাধ, মাদক পাচার এবং সহিংস অপরাধ দমনে চলমান জাতীয় অভিযানের অংশ হিসেবেই এই মামলাগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিচার সম্পন্ন করা হয়েছে।

আটলান্টা প্রতিনিধি প্রকাশ: জুন ১১, ২০২৬ ১৭:১
ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রে অ্যান্টি-বুলিং এআই চ্যাটবট তৈরি করে প্রেসিডেন্ট পুরস্কার জিতলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন শিক্ষার্থীরা

ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা

সাত সন্তানসহ নিখোঁজ মার্কিন অন্তঃসত্ত্বা মায়ের ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার মেক্সিকোতে

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে স্কুল বাস ও কারের মুখোমুখি সংঘর্ষে আহত ১২

0 Comments