- প্রচ্ছদ
- Topic
ফ্লোরিডা
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার এক বাসিন্দার বিরুদ্ধে ম্যাসাচুসেটসের ন্যানটুকেটে নিজের বিলাসবহুল ইয়টে এক নারী কর্মীকে মাদক খাইয়ে ধর্ষণের মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। ৫৪ বছর বয়সী ক্রিশ্চিয়ান ব্র্যাডলি উইলিয়ামস নামের ওই ব্যক্তির স্ত্রী, দুই বছরের সন্তান এবং আয়া ফ্লোরিডায় ফিরে যাওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরই তিনি এই জঘন্য কাণ্ডটি ঘটান বলে অভিযোগ। ৯ আগস্ট রাতের ওই ঘটনায় গত শুক্রবার তাকে আদালতে হাজির করা হয়। ন্যানটুকেটের পুলিশ রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২২ বছর বয়সী ভুক্তভোগী তরুণীটি গত জুন মাস থেকে উইলিয়ামসের 'কাইমেরা' নামের ইয়টটিতে ডেকহ্যান্ড হিসেবে কাজ করছিলেন। ৯ আগস্ট বিকেল ৪টা ১৫ মিনিটে উইলিয়ামসের পরিবার ইয়ট ছেড়ে যাওয়ার পর তিনি ওই তরুণীকে একটি সুন্দর জায়গায় ডিনারে যাওয়ার প্রস্তাব দেন এবং তাকে একটি ড্রেস পরতে বলেন। তরুণীটি ড্রেস পরে এলে উইলিয়ামসের হাবভাব দেখে তিনি প্রথমবারের মতো অস্বস্তি বোধ করেন। ডিনারের সময় উইলিয়ামস বারবার কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন এবং বিল পরিশোধের সময় তার স্ত্রীর কাছে লেনদেনের তথ্য গোপন রাখতে তরুণীর কার্ড ব্যবহার করেন। পরে তিনি নগদ ৫০০ ডলার তুলে ওই তরুণীকে দেন, যদিও বিল ছিল মাত্র ২৫০ ডলার। রাত আটটার দিকে তরুণীটি ইয়টে ফিরে আসার পর তিনি ঘুমাতে যেতে চাইলেও উইলিয়ামস জোরাজুরি করে তাকে একটি রাম (মদ) পান করান। তরুণীর অভিযোগ, ওই পানীয় পানের পরই তিনি মাথা ঘোরা অনুভব করেন এবং দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেন। এরপর উইলিয়ামস জোরপূর্বক তাকে ধর্ষণ করেন। পরদিন সকালে ওই তরুণী নিজেকে উইলিয়ামসের বিছানায় নগ্ন ও রক্তাক্ত অবস্থায় আবিষ্কার করেন। তিনি দ্রুত ইয়ট থেকে নেমে তার কোম্পানি ন্যানটুকেটের মালিক ম্যাক্স শাপিরোকে ঘটনাটি জানালে তিনি কোনো সাহায্য করেননি বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে তরুণীটি পদত্যাগ করে হাসপাতালে গিয়ে ডাক্তারি পরীক্ষা করান। ১ সেপ্টেম্বর ফরেনসিক রিপোর্টে তার শরীরে পুরুষের ডিএনএ পাওয়ার পর উইলিয়ামসকে গ্রেপ্তার করা হয়। সাবেক মার্কিন নৌবাহিনীর সাবমেরিন কমান্ডার হিসেবে পরিচিত উইলিয়ামস আদালতে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। বর্তমানে তাকে ৫০ হাজার ডলার নগদ বা ৫ লাখ ডলার শিউরিটি বন্ডে জামিনের শর্তে রাখা হয়েছে এবং তার আইনজীবী জানিয়েছেন, উইলিয়ামসের স্ত্রী জামিনের অর্থ নিয়ে ন্যানটুকেটে আসছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নিজের প্রেমিকাকে গুলি করে হত্যার পর একটি হোটেলে পুলিশের সঙ্গে দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস গোলাগুলিতে জড়িয়েছেন এক ব্যক্তি। টড ওয়েগরিখ (৫৩) নামের ওই ব্যক্তিকে ওয়েস্ট পাম বিচ এলাকার 'দ্য বেন হোটেল' থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফার্স্ট-ডিগ্রি মার্ডারের অভিযোগ এনেছে পাম বিচ কাউন্টি শেরিফ অফিস (পিবিএসও)। পুলিশ জানিয়েছে, গত ৪ সেপ্টেম্বর শুক্রবার টড ওয়েগরিখ তার প্রেমিকাকে হত্যার পর বন্ধুবান্ধব ও পরিবারের সদস্যদের ফোন এবং টেক্সট মেসেজ করে খুনের বিষয়টি জানান। তবে তিনি কোথায় পালিয়ে গেছেন, সে বিষয়ে কাউকে কিছু বলেননি। ওই মেসেজ ও ফোন পেয়ে অন্তত চারজন ব্যক্তি তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবগত করেন। খবর পেয়ে শেরিফ অফিসের কর্মকর্তারা লক্সাহ্যাচি এলাকার ট্যাঙ্গেলড অরচার্ড ট্রেসের ১৪০০ ব্লকের ওই বাড়িতে পৌঁছান। সেখানে তারা মূল দরজার ঠিক ভেতরেই একাধিক গুলির আঘাতসহ এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেন। বাড়িটির আশপাশেও গোলাগুলির আলামত পাওয়া যায়। তদন্তের একপর্যায়ে পুলিশ জানতে পারে যে, ঘাতক টড ওয়েস্ট পাম বিচ শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত দ্য বেন হোটেলে অবস্থান করছেন। পুলিশ তাকে ফোনে আত্মসমর্পণ করার জন্য দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টা ধরে বোঝানোর চেষ্টা করলেও তিনি রাজি হননি। পরে সোয়াট (SWAT) টিমের সদস্যরা হোটেলের সপ্তম তলায় অবস্থিত তার রুমে ঢোকার চেষ্টা করলে তিনি পুলিশকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়েন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ গ্যাস নিক্ষেপ করে এবং অবশেষে তাকে অক্ষত অবস্থায় গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। এই গোলাগুলির ঘটনায় কোনো পুলিশ কর্মকর্তা বা ওই সন্দেহভাজন আহত হননি। গ্রেপ্তারের পর টড ওয়েগরিখ পুলিশের কাছে নিজের প্রেমিকাকে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। তাকে পাম বিচ কাউন্টির কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আরও বেশ কয়েকটি অভিযোগ আনা হতে পারে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ফ্লোরিডায় একটি ট্রাকের কেবিনে চার শিশুকে ছয় বছরেরও বেশি সময় ধরে আটকে রেখে যৌন নির্যাতন ও অবহেলা করার অভিযোগ উঠেছে দুই প্রাপ্তবয়স্কের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত কেইশা মনিক ইপস, ৫১, এবং তামরা মার্শন স্টুয়ার্ট, ৩৭, এর বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড চাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ফ্লোরিডার অ্যাটর্নি জেনারেল জেমস উথমেয়ার। ফক্স নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চার শিশুর মধ্যে দুই মেয়ে ও দুই ছেলে রয়েছে। তাদের বয়স ছিল ৫, ৫, ৬ ও ৯ বছর। অভিযোগ অনুযায়ী, শিশুদের দীর্ঘ সময় ধরে একটি ট্রাকের কেবিনে রাখা হয়। ওই সময় তাদের স্বাভাবিকভাবে স্কুলে যাওয়া, চিকিৎসা নেওয়া কিংবা বাইরে চলাফেরার সুযোগও ছিল না। ১ সেপ্টেম্বর ফ্লোরিডার কিসিমিতে এক সংবাদ সম্মেলনে উথমেয়ার বলেন, শিশুরা এমন একটি চলন্ত কারাগারে আটকে ছিল, যেখানে তাদের দেখভালের দায়িত্বে থাকা প্রাপ্তবয়স্করাই তাদের নির্যাতন করেছেন। তিনি জানান, শিশুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত কথিত অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় তার দপ্তর মৃত্যুদণ্ডের আবেদন করবে। আদালতের নথি অনুযায়ী, ইপস পেশায় ট্রাকচালক ছিলেন। তিনি মিয়ামি ও আটলান্টার মধ্যে নিয়মিত যাতায়াত করতেন। স্টুয়ার্টকে তার বাগদত্তা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অভিযোগ, দুজনই শিশুদের সঙ্গে ট্রাকের কেবিনে বসবাস করতেন। তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, শিশুদের দিনের অধিকাংশ সময় ট্রাকের ভেতরেই কাটাতে হতো। কেবিনের জায়গা ছিল অত্যন্ত ছোট। চার শিশুকে একটি মাত্র শয্যায় পাশাপাশি শুতে হতো এবং জায়গার সংকটের কারণে তাদের কুঁকড়ে থাকতে হতো বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। শিশুরা প্রায় পাঁচ বছর স্কুলে যেতে পারেনি বলেও তদন্তে উঠে এসেছে। তাদের পর্যাপ্ত খাবার দেওয়া হতো না এবং নিয়মিত চিকিৎসা বা দাঁতের চিকিৎসাও করানো হয়নি বলে অভিযোগ। এমনকি জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হলেও তাদের চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হয়নি বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন। কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, দুই শিশুর শরীরে চিকিৎসা না পাওয়া পোড়ার ক্ষত ছিল। এর মধ্যে এক মেয়ে তদন্তকারীদের জানিয়েছে, রান্না করা নুডলসের কারণে একবার সে গুরুতরভাবে পুড়ে যায়। ওই সময় প্রচুর রক্তপাত হলেও তাকে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়নি। পরে ওই ঘটনার কারণে তার শরীরে স্থায়ী দাগ তৈরি হয় বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এক শিশুর শরীরে চিকিৎসা না পাওয়া যৌনবাহিত সংক্রমণও শনাক্ত হয়েছে বলে অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তর জানিয়েছে। দীর্ঘদিনের কথিত নির্যাতন ও অবহেলার কারণে শিশুদের গুরুতর শারীরিক সমস্যাও তৈরি হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষের দাবি। শুধু শারীরিক ও চিকিৎসাগত অবহেলাই নয়, শিশুদের যৌন নির্যাতনের অভিযোগও রয়েছে। উথমেয়ারের দপ্তর জানিয়েছে, দুই মেয়েশিশুকে স্টুয়ার্ট বছরের পর বছর যৌন নির্যাতন করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তদন্তকারীদের কাছে শিশুদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুই ছেলে ওই নির্যাতনের ঘটনা দেখতে পেয়ে স্টুয়ার্টকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করেছিল। এরপর তাদের মাথায় ঘুষি মারা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। শিশুরা ইপসকে কথিত যৌন নির্যাতনের বিষয়টি জানিয়েছিল এবং তিনি ঘটনাগুলোর কিছু প্রত্যক্ষও করেছিলেন বলে তদন্ত নথিতে উল্লেখ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, এরপরও তিনি শিশুদের স্টুয়ার্টের সঙ্গে একা রেখে যেতেন। একজন শিশুকে তিনি অপমানজনক নামেও ডেকেছিলেন বলে তদন্তকারীদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। উথমেয়ারের দপ্তরের দাবি, স্টুয়ার্ট তদন্তকারীদের কাছে একটি মেয়েশিশুর বিরুদ্ধে তিনটি যৌন নির্যাতনের ঘটনা ঘটানোর কথা স্বীকার করেছেন। তবে এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি এবং মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান। তদন্তকারীরা আরও জানিয়েছেন, শিশুদের ট্রাকের কেবিনে এমনভাবে রাখা হতো যে তাদের নিয়মিত গোসল করা, শৌচাগার ব্যবহার করা কিংবা বাইরে গিয়ে শারীরিকভাবে চলাফেরা করার সুযোগ ছিল না। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রয়োজন মেটাতে কখনো কখনো তাদের কাপ ও কাগজের ব্যাগ ব্যবহার করতে হতো। ইপস যখন ট্রাক চালাতেন, ঘুমাতেন বা গোসল করতেন, তখন শিশুদের দেখাশোনার দায়িত্ব স্টুয়ার্টের ওপর থাকত বলে শিশুদের বক্তব্যে উঠে এসেছে। ফলে বছরের পর বছর তাদের জীবন কার্যত ট্রাকের ছোট কেবিনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল বলে তদন্তকারীদের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। উথমেয়ার সংবাদ সম্মেলনে বলেন, তার দলের কাজ করা মামলাগুলোর মধ্যে এটি সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনাগুলোর একটি। শিশুদের দীর্ঘ সময় ধরে কথিত নির্যাতন ও অবহেলার কারণে তারা গুরুতর শারীরিক সমস্যায় ভুগছে বলেও তিনি জানান। ইপস ও স্টুয়ার্টকে ৬ আগস্ট গ্রেপ্তার করা হয়। ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দুজনই ডুভাল কাউন্টি কারাগারে ছিলেন। স্টুয়ার্টের আইনগত প্রতিনিধিত্ব করছে ডুভাল কাউন্টি পাবলিক ডিফেন্ডারের কার্যালয়। ইপসের পক্ষে রয়েছে ফ্লোরিডার অফিস অব ক্রিমিনাল কনফ্লিক্ট অ্যান্ড সিভিল রিজিওনাল কাউন্সেল। ফ্লোরিডার আইনে ১২ বছরের কম বয়সী শিশুর বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ধরনের যৌন নির্যাতনের ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত প্রাপ্তবয়স্কের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড চাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে প্রসিকিউশন মৃত্যুদণ্ড চাইলেই তা কার্যকর হবে এমন নয়। মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ায় অভিযোগগুলোর সত্যতা, প্রমাণ এবং সাজা নির্ধারণ করা হবে। ঘটনাটি সামনে আসার পর শিশুদের দীর্ঘ সময় শিক্ষা, চিকিৎসা ও স্বাভাবিক জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন রাখার অভিযোগ বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে। কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও আদালতের কার্যক্রমের মাধ্যমে তাদের সঙ্গে কী ঘটেছিল এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো কতটা প্রমাণিত হয়, তা পরবর্তী সময়ে নির্ধারিত হবে। সূত্র: ফক্স নিউজ
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার মিয়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অ্যামাজন প্রাইম এয়ারের একটি বোয়িং ৭৬৭ কার্গো বিমান রানওয়ে ছাড়িয়ে দুর্ঘটনায় পড়েছে। স্থানীয় সময় রোববার দুপুর ২টার দিকে অবতরণের পর বিমানটি রানওয়ের শেষ প্রান্ত পেরিয়ে যায়। ভয়াবহ দুর্ঘটনার ভিডিওতে বিমান থেকে আগুন ও ঘন কালো ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) জানিয়েছে, এটি ২১ এয়ার ফ্লাইট ৭৫৯৮, একটি বোয়িং ৭৬৭-৩০০ কার্গো বিমান। বিমানটি পুয়ের্তো রিকোর সান হুয়ান থেকে মিয়ামির উদ্দেশে উড়েছিল। অবতরণের সময় বিমানটি রানওয়ে ছাড়িয়ে বিমানবন্দরের উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে গিয়ে অচল হয়ে পড়ে। মিয়ামি-ডেড ফায়ার রেসকিউ জানিয়েছে, রানওয়ে ছাড়িয়ে যাওয়ার পর বিমানটি একাধিক গাড়িতে আঘাত করে এবং আগুন ধরে যায়। দুর্ঘটনাস্থলে ৬০টির বেশি ফায়ার-রেসকিউ ইউনিট পাঠানো হয়। একাধিক ব্যক্তি আহত হওয়ার কথা জানানো হলেও, তাদের আঘাতের মাত্রা বা প্রাণহানির বিষয়ে প্রাথমিক প্রতিবেদনে বিস্তারিত নিশ্চিত করা হয়নি। দুর্ঘটনার পর মিয়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সব রানওয়ে ও ট্যাক্সিওয়ে সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং উড্ডয়ন-অবতরণে গ্রাউন্ড স্টপ জারি করা হয়। এতে বিমানবন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয় এবং ফ্লাইটে বিলম্বের আশঙ্কা তৈরি হয়। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে বিমানটিকে সড়কের পাশে আগুনে জ্বলতে এবং আকাশে ঘন কালো ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। দুর্ঘটনার কারণ এখনো জানা যায়নি। এফএএ ঘটনাটি তদন্ত করছে। সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট | রয়টার্স| অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় একটি হাইস্কুলে স্কুল রিসোর্স অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করা সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা রেমন্ড কার্নারকে একাধিক নারীর করা অনৈতিক ও যৌন আচরণের অভিযোগের পর চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। অভিযোগগুলোর বিষয়ে কোরাল স্প্রিংস পুলিশ ডিপার্টমেন্টের অভ্যন্তরীণ তদন্ত শেষ হওয়ার পর তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কার্নার কোরাল স্প্রিংসের জে.পি. তারাভেলা হাইস্কুলে ২০১৩ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত প্রায় আট বছর স্কুল রিসোর্স অফিসার হিসেবে কাজ করেন। ২০২২ সালে তিনি পুলিশ বিভাগ থেকে অবসর নেন। পরে একই বছর পার্টটাইম মৌসুমি স্কুল রিসোর্স অফিসার হিসেবে আবার কাজে ফেরেন এবং ঈগল রিজ এলিমেন্টারি স্কুলেও দায়িত্ব পালন করেন। পুলিশ জানিয়েছে, কয়েকজন নারী তার বিরুদ্ধে যৌন প্রকৃতির অনুপযুক্ত আচরণ ও কথাবার্তার অভিযোগ করার পর অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু হয়। অভিযোগ ওঠার পরই তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং তদন্ত শেষে তাকে আর পুলিশ বিভাগে রাখা হয়নি। তদন্তে যেসব অভিযোগ উঠে এসেছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর পর্যালোচনা করা পুলিশ বিভাগের অভ্যন্তরীণ তদন্ত প্রতিবেদনে বেশ কিছু গুরুতর অভিযোগের কথা উঠে এসেছে। এক সাবেক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, ২১ বছর বয়সে কার্নার তার পোশাকের ভেতর হাত দিয়ে টাকা রাখার চেষ্টা করেছিলেন। আরেক সাবেক শিক্ষার্থীর অভিযোগ, তিনি শিক্ষার্থী থাকা অবস্থায় কার্নার ফেসটাইমে তার সঙ্গে যোগাযোগ করে পর্নোগ্রাফি দেখান এবং অশালীন আচরণ করেন। তদন্ত প্রতিবেদনে আরও কয়েকটি যৌন আচরণ ও অনুপযুক্ত মন্তব্যের অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। লোকাল ১০-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভ্যন্তরীণ তদন্তে কার্নারের বিরুদ্ধে ব্যাটারি, অশ্লীল প্রদর্শন, অপ্রাপ্তবয়স্ককে অশ্লীল উপকরণ দেখানো এবং যৌন নিপীড়নের অভিযোগসহ কয়েকটি নীতিমালা লঙ্ঘনের বিষয় বহাল রাখা হয়। তবে এগুলো অভ্যন্তরীণ তদন্তের অভিযোগ ও প্রশাসনিক findings, আদালতে প্রমাণিত অপরাধ নয়। কেন ফৌজদারি মামলা হচ্ছে না? ঘটনাটির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, কার্নারের বিরুদ্ধে বর্তমানে কোনো ফৌজদারি মামলা বা অভিযোগ আনা হচ্ছে না। পুলিশের পক্ষ থেকে মামলা করার উদ্যোগ নেওয়া হলেও প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, অভিযোগগুলোর কিছু ঘটনা আইনে নির্ধারিত স্ট্যাটিউট অব লিমিটেশনের সময়সীমা পার হয়ে যাওয়ায় সেগুলোতে ফৌজদারি মামলা এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। অর্থাৎ, পুলিশ বিভাগের অভ্যন্তরীণ তদন্তে গুরুতর অভিযোগ বহাল থাকলেও এর অর্থ এই নয় যে কার্নার কোনো ফৌজদারি মামলায় আদালতে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। আরও ভুক্তভোগী আছেন কি না, খতিয়ে দেখছে পুলিশ কোরাল স্প্রিংস পুলিশ প্রধান ব্র্যাড মক ঘটনাটিকে “অগ্রহণযোগ্য” বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, স্কুলে দায়িত্ব পালনকারী একজন কর্মকর্তার কাছ থেকে শিক্ষার্থী ও পরিবারের আস্থা রক্ষা এবং পেশাগত সীমারেখা বজায় রাখার দায়িত্ব আরও বেশি। পুলিশ প্রধান আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, এমন আরও কেউ থাকতে পারেন যারা একই ধরনের অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েও বিষয়টি কখনো জানাননি। তাদের সামনে এসে তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ। কার্নার-সংক্রান্ত কোনো তথ্য থাকলে কোরাল স্প্রিংস পুলিশ বিভাগের সার্জেন্ট আর্নেস্তো ব্রুনার সঙ্গে ৯৫৪-৩৪৬-১২৩৪ নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। সূত্র: WSVN 7News, CBS News Miami
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের মায়ামিতে একটি বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্টে নিজের মাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে ৩৬ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। স্টেফানো ক্রেমাস্কো সিসারো নামের ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে সেকেন্ড ডিগ্রি মার্ডার বা দ্বিতীয় মাত্রার খুনের অভিযোগ আনা হয়েছে। শুক্রবার ভোরে ব্রিকল এলাকার একটি বহুতল ভবন থেকে ওই নারীর রক্তাক্ত মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। মিয়ামি পুলিশের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার ভোর ৪টা ৪৭ মিনিটের দিকে সাউথওয়েস্ট এইটথ স্ট্রিটের সলিটেয়ার ব্রিকল অ্যাপার্টমেন্ট থেকে পুলিশের কাছে একটি জরুরি কল আসে। ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর ভবনের নিচতলার লবিতে স্টেফানোকে দেখতে পান পুলিশ কর্মকর্তারা। সে সময় তার জুতা, হাত ও পোশাকে রক্তের দাগ লেগে ছিল। পুলিশকে দেখেই তিনি বলে ওঠেন, আমি কেবল আত্মরক্ষা করছিলাম। পুলিশ জানিয়েছে, ফ্ল্যাটের দরজা খুলতেই তারা এক নারীর নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। তার শরীরে ছুরিকাঘাতের একাধিক চিহ্ন ছিল এবং পুরো শরীর রক্তে ভেসে যাচ্ছিল। মিয়ামি ফায়ার রেসকিউ টিমের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভোর ৫টা ৮ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে পুলিশ নিশ্চিত করে যে, নিহত নারী স্টেফানোর মা। তবে তার বয়স ও নাম তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। ভবনের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে মা ও ছেলেকে একসঙ্গে লিফটে উঠতে দেখা যায়। এরপর শুক্রবার ভোর ৪টা ২৬ মিনিটে স্টেফানোকে সাদা শার্ট ও প্যান্ট পরা অবস্থায় লিফটে দেখা যায়। তখন তার পোশাকে রক্তের ছাপ ছিল এবং হাতে একটি ছুরি ছিল। ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি ছুরিটি হাত থেকে ফেলে দেন এবং পরে সেটি কুড়িয়ে নিয়ে অন্য একটি লিফটে করে ওপরে চলে যান। কিছুক্ষণ পর অন্য একটি নীল রঙের ফুলহাতা শার্ট পরে তাকে লিফট থেকে নামতে দেখা যায়। ঘটনার পর ভবনের লবিতে খাবার সরবরাহ করতে আসা এক কর্মীর সঙ্গে স্টেফানোর দেখা হয়। ওই নারী কর্মী পুলিশকে জানান, স্টেফানো ভেতর থেকে লবির দরজা খুলে দেন এবং তার কাছে সাহায্য চান। স্টেফানো নিজেই জরুরি সেবা ৯১১ নম্বরে ফোন করেন, কিন্তু ঠিকানা বলার জন্য ফোনটি ওই কর্মীর হাতে ধরিয়ে দেন। এ সময় ওই কর্মী স্টেফানোর শরীরে রক্তের দাগ দেখতে পান। কল শেষ হওয়ার পর ফোনটি ফেরত দিতে চাইলে স্টেফানো তা নিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে পুলিশ এলে কর্মীটি ফোনটি তাদের কাছে হস্তান্তর করেন। হত্যাকাণ্ডের পর মিয়ামি পুলিশের হোমিসাইড ইউনিটের গোয়েন্দারা ওই ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালান। সেখানে তারা রক্তের দাগযুক্ত রান্নাঘরের কয়েকটি ছুরি, রক্তমাখা দুটি সাদা শার্ট, ভাঙা কাচ এবং একটি ভাঙা মদের বোতল উদ্ধার করেন। এছাড়া ভবনের লবি থেকে রক্তমাখা জুতা, চশমা, মোবাইল চার্জার এবং স্টেফানোর একটি কমলা রঙের আইফোন ১৭ উদ্ধার করা হয়। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, স্টেফানো ইনভেস্টর ভিসায় মায়ামিতে বসবাস করছিলেন। গত জুলাই মাস থেকে ওই ফ্ল্যাটে তিনি ও তার স্ত্রীর নামে চুক্তি ছিল। ঘটনার পর পুলিশ ফ্রান্সে অবস্থানরত স্টেফানোর স্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা বলে। তিনি জানান, স্টেফানোর মা মেক্সিকো থেকে তাদের কাছে বেড়াতে এসেছিলেন। বাবা মায়ের বিবাহবিচ্ছেদের পর থেকে মায়ের সঙ্গে স্টেফানোর সম্পর্ক খুব একটা ভালো ছিল না। এছাড়া কোকোনাট গ্রোভ এলাকায় একটি নতুন রেস্তোরাঁ চালু করা নিয়ে স্টেফানো বেশ মানসিক চাপের মধ্যে ছিলেন। এই মর্মান্তিক ঘটনায় ওই ভবনের অন্যান্য বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। জ্যাক কারসন নামের এক বাসিন্দা জানান, ঘটনাটি ছিল অত্যন্ত ভীতিকর। তিনি ভয়ে নিজের ফ্ল্যাটের ব্যালকনির দরজা বন্ধ করে দেন এবং প্রায় ১০ মিনিট দরজার ছিদ্র দিয়ে বাইরের পরিস্থিতি দেখার চেষ্টা করেন। পরে লিফট ব্যবহার না করে ৪৭ তলা থেকে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নেমে আসেন। সেবাস্তিয়ান নামের আরেক বাসিন্দা জানান, এত পুলিশ দেখে তিনি অবাক হয়েছিলেন। তিনি বলেন, যা ঘটেছে তা সত্যিই ভয়ংকর। গ্রেপ্তারের পর স্টেফানো নিজের আইনজীবীর উপস্থিতির দাবি জানান। বর্তমানে তাকে টার্নার গিলফোর্ড নাইট কারেকশনাল সেন্টারে আটকে রাখা হয়েছে এবং তার জামিন এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। ঠিক কী কারণে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানাতে পারেনি পুলিশ।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় হাসপাতালে যাওয়ার পথে গাড়ির সামনের সিটেই কন্যাসন্তান প্রসব করেছেন এক নারী। পরিস্থিতি সামলাতে প্রথমবার বাবা হতে যাওয়া ইয়াসের সোলোরজানো নিজেই প্রসবে সহায়তা করেন। বৃহস্পতিবার রাতে ইয়াসের সোলোরজানো ও তাঁর সঙ্গী আয়শা তেনোরি হাসপাতালে যাচ্ছিলেন। কিন্তু পথে আয়শার প্রসববেদনা দ্রুত বেড়ে গেলে তিনি বুঝতে পারেন, হাসপাতালে পৌঁছানোর মতো সময় আর নেই। মাত্র কয়েক মিনিটের পথ যাওয়ার পরই তিনি গাড়ি থামাতে বলেন। সোলোরজানো দ্রুত ফ্লোরিডার ব্র্যান্ডনের একটি ভ্যালু পন অ্যান্ড জুয়েলারি দোকানের পার্কিং লটে গাড়ি থামিয়ে ৯১১-এ ফোন করেন। তখন তিনি বুঝতে পারেন, শিশুটি উল্টো অবস্থানে বা ব্রিচ পজিশনে আছে। এরপর গাড়ির সামনের সিটেই নিজের কন্যাসন্তানকে প্রসব করাতে সহায়তা করেন তিনি। প্রায় ছয় মিনিট পর জরুরি চিকিৎসাকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে মা ও নবজাতককে অ্যাম্বুলেন্সে করে এইচসিএ ফ্লোরিডা ব্র্যান্ডন হাসপাতালে নেওয়া হয়। শিশুটি নির্ধারিত সময়ের প্রায় চার সপ্তাহ আগেই জন্ম নেয়। পরিবার পরে মেয়ের নাম রাখে লিয়ানা ভ্যালেনটিনা সোলোরজানো। জন্মের সময় তার ওজন ছিল ৪ পাউন্ড ১০ আউন্স। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে থাকলেও তাকে এনআইসিইউতে নিতে হয়নি। মা ও মেয়ে দুজনই সুস্থ আছেন বলে পরিবার জানিয়েছে। প্রথমবার বাবা হওয়ার এই অভিজ্ঞতাকে সোলোরজানো জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্তগুলোর একটি হিসেবে দেখছেন। হাসপাতাল থেকে শনিবার মা ও মেয়েকে নিয়ে বাড়ি ফেরার আশা করছে পরিবার।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অবৈধ অভিবাসী শিক্ষার্থীদের ভর্তিতে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার ফ্লোরিডার বোর্ড অব গভর্নরসের এক ভোটাভুটিতে এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। নতুন এই নীতি অনুযায়ী, যেসব স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ে সব যোগ্য আবেদনকারীকে ভর্তির সুযোগ দেওয়া সম্ভব হয় না, সেখানে যুক্তরাষ্ট্রে বেআইনিভাবে অবস্থানরত কোনো শিক্ষার্থী নতুন করে ভর্তি হতে পারবেন না। আগামী ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে বিতর্কিত এই নিষেধাজ্ঞা আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হতে যাচ্ছে। এর কয়েক মাস আগেই ফ্লোরিডার বোর্ড অব এডুকেশন রাজ্যের সরকারি কলেজ এবং বয়স্ক শিক্ষাকার্যক্রমেও অবৈধ অভিবাসীদের ভর্তিতে অনুরূপ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। নতুন এই নিয়মের মধ্য দিয়ে আলাবামা, জর্জিয়া ও সাউথ ক্যারোলাইনার পর চতুর্থ অঙ্গরাজ্য হিসেবে ফ্লোরিডা তাদের উচ্চশিক্ষায় অবৈধ অভিবাসীদের প্রবেশাধিকার সীমিত করল। ফ্লোরিডার রিপাবলিকান গভর্নর রন ডিস্যান্টিস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেছেন। এক পোস্টে তিনি জানান, তাদের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বহিরাগতদের বদলে ফ্লোরিডাবাসী তথা আমেরিকানদেরই সবসময় অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত। তবে প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে ‘ইউনাইটেড ফ্যাকাল্টি অব ফ্লোরিডা’ এবং ‘ফ্লোরিডা এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশন’। ইউনাইটেড ফ্যাকাল্টি অব ফ্লোরিডার প্রেসিডেন্ট রবার্ট ক্যাসানেলো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, সবার জন্য উচ্চশিক্ষার সুরক্ষায় বোর্ড অব গভর্নরসের যে দায়িত্ব ছিল, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তারা তা হারিয়েছে। রাজ্যের ভবিষ্যৎ কর্মী ও নেতৃত্ব গড়ে তোলার পরিবর্তে এই নিয়ম বরং উন্নয়নের পথে বাধা সৃষ্টি করবে এবং সম্ভাবনার দরজাগুলো বন্ধ করে দেবে। বিশেষ করে বর্তমান সময়ে যখন ফ্লোরিডায় স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং দক্ষ শ্রমিকের তীব্র সংকট চলছে, তখন এই ধরনের সিদ্ধান্ত রাজ্যের সার্বিক উন্নয়নের জন্য চরম ধ্বংসাত্মক হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তারা।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় চিকিৎসাধীন এক রোগীর সঙ্গে গোপন যৌন সম্পর্কে জড়ানোর অভিযোগে ৩২ বছর বয়সী নারী থেরাপিস্ট মিশেল লুচাউ-রেবোরাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, তিনি রোগীর সঙ্গে থেরাপি সেশনের সময়ও যৌন সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন। পাশাপাশি চিকিৎসাকেন্দ্র থেকে ওই রোগীকে বাইরে যাওয়ার সুযোগ করে দিতে বিভিন্ন অজুহাত তৈরিতে সহায়তা করেছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। মিশেল লুচাউ-রেবোরা ফ্লোরিডার হোমস্টেডের নিউ হোপ কর্পস নামের মাদক ও অ্যালকোহল চিকিৎসাকেন্দ্রে মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক থেরাপিস্ট হিসেবে শিক্ষানবিশ ছিলেন। সেখানে চিকিৎসাধীন ৪২ বছর বয়সী এক পুরুষ রোগীর সঙ্গে তার প্রায় তিন মাসের যৌন সম্পর্ক ছিল বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই রোগীই পরে বিষয়টি তদন্তকারীদের জানান। আটকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে ওই তিন মাসের সময়ে তাদের মধ্যে যৌন সম্পর্ক চলেছিল। কখনো কখনো থেরাপি সেশনের মধ্যেও তারা যৌন সম্পর্কে জড়াতেন বলে রোগী তদন্তকারীদের জানিয়েছেন। তবে এসব তথ্য বর্তমানে তদন্তে উঠে আসা অভিযোগের ভিত্তিতে প্রকাশ করা হয়েছে, যা আদালতে প্রমাণিত হয়নি। কর্তৃপক্ষের আরও অভিযোগ, চিকিৎসাকেন্দ্রের কঠোর নিয়মের মধ্যে থাকা ওই রোগীকে বাইরে বের হওয়ার সুযোগ করে দিতে লুচাউ-রেবোরা বিভিন্ন অজুহাত তৈরিতে সহায়তা করতেন। এর ফলে রোগী অনুমতি নিয়ে চিকিৎসাকেন্দ্র থেকে বের হয়ে তার সঙ্গে দেখা করতে পারতেন বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, রোগীর সঙ্গে দেখা করার কয়েকটি স্থান ছিল লুচাউ-রেবোরার নিজের বাড়ি, তার মায়ের বাড়ি এবং একটি স্থানীয় হাসপাতাল। অর্থাৎ চিকিৎসাকেন্দ্রের বাইরে বিভিন্ন জায়গায় তাদের দেখা হতো বলে তদন্তে দাবি করা হয়েছে। এসব তথ্যও পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম প্রকাশ করেছে। তদন্তকারীদের কাছে ওই রোগী আরও অভিযোগ করেন, লুচাউ-রেবোরা তাকে তাদের সম্পর্কের বিষয়টি গোপন রাখতে বলেছিলেন। বিষয়টি প্রকাশ হলে থেরাপিস্ট হিসেবে তার চাকরিতে প্রভাব পড়তে পারে বলেও তিনি রোগীকে সতর্ক করেছিলেন বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে লুচাউ-রেবোরা ওই সম্পর্ক শেষ করে দেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এরপর ৪২ বছর বয়সী ওই রোগী চিকিৎসাকেন্দ্রের কর্তৃপক্ষের কাছে সম্পর্কের বিষয়টি প্রকাশ করেন। অভিযোগ জানার পর প্রতিষ্ঠানটি লুচাউ-রেবোরার শিক্ষানবিশ পদ বাতিল করে এবং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানায়। নিউ হোপ কর্পসের নির্বাহী পরিচালক স্টিফেন আলভারেজ জানিয়েছেন, অভিযোগের বিষয়টি জানার পর প্রতিষ্ঠানটি দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সংস্থাগুলোকে অবহিত করে। একই সঙ্গে লুচাউ-রেবোরার শিক্ষানবিশ পদ বাতিল করা হয় এবং তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করা হয়েছে বলে তিনি জানান। মিশেল লুচাউ-রেবোরা ১ সেপ্টেম্বর পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। পরদিন আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তার জামিনের অর্থ ৫ হাজার মার্কিন ডলার নির্ধারণ করেন। তার বিরুদ্ধে একজন রোগীর সঙ্গে অনুমতি ছাড়া যৌন সম্পর্কে জড়ানোর অভিযোগে দ্বিতীয় মাত্রার গুরুতর অপরাধের মামলা করা হয়েছে। লুচাউ-রেবোরা অভিযোগ স্বীকার করেছেন কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট নয়। একইভাবে তার পক্ষে কোনো আইনজীবী আনুষ্ঠানিকভাবে বক্তব্য দিয়েছেন কি না, সেটিও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফলে মামলাটিতে বর্তমানে পুলিশের অভিযোগ ও তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে আসা তথ্যই সামনে রয়েছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর চিকিৎসক বা থেরাপিস্ট এবং রোগীর মধ্যকার পেশাগত সম্পর্কের সীমারেখা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে চিকিৎসাধীন একজন রোগীর সঙ্গে থেরাপিস্টের যৌন সম্পর্কে জড়ানোর অভিযোগ এবং তাকে চিকিৎসাকেন্দ্রের বাইরে যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগ মামলাটিকে আরও গুরুতর করে তুলেছে। তবে এসব অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা আদালতের বিচারপ্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে। সূত্র: পিপল, এনবিসি মায়ামি
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় ওয়ালমার্টের পার্কিংয়ে গাড়ি রাখার জায়গা নিয়ে বিরোধের জেরে ৬২ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় এক নারীকে কোনো ফৌজদারি অভিযোগের মুখোমুখি হতে হবে না। তদন্ত শেষে প্রসিকিউটররা বলেছেন, ঘটনার সময় ওই নারী আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করেছিলেন এবং ফ্লোরিডার ‘স্ট্যান্ড ইওর গ্রাউন্ড’ আইনের সুরক্ষা পাওয়ার যোগ্য। ঘটনাটি ঘটে গত ৩০ জুন নর্থ লডারডেলের একটি ওয়ালমার্টের পার্কিং এলাকায়। নিহত ব্যক্তির নাম বার্ট ডিগুগলিয়েলমো। ব্রোওয়ার্ড কাউন্টি স্টেট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের বৃহস্পতিবার প্রকাশ করা একটি স্মারকে বলা হয়েছে, ঘটনাটি পার্কিংয়ের একটি জায়গা নিয়ে বিরোধ থেকে শুরু হয় এবং পুরো ঘটনার বেশির ভাগ অংশই মুঠোফোন ও একটি টেসলা গাড়ির ক্যামেরাসহ একাধিক ভিডিওতে ধারণ করা হয়েছিল। ফলে কী ঘটেছিল, তা নিয়ে তদন্তকারীদের কাছে তুলনামূলকভাবে পরিষ্কার তথ্য ছিল। স্টেট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের স্মারক অনুযায়ী, গুলি চালানো নারীকে মেলিসা পেইন হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। ঘটনার সময় তিনি তার ভাতিজি ও ভাতিজির শিশুকে সঙ্গে নিয়ে গাড়িতে ছিলেন। পেইন ও ডিগুগলিয়েলমো একই পার্কিং স্পটে গাড়ি রাখার চেষ্টা করলে দুজনের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি ও এক ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হয়। এরপর ডিগুগলিয়েলমো নিজের গাড়িটি চলাচলের পথে রেখে দোকানের ভেতরে যান। কিছুক্ষণ পর তিনি গাড়িতে ফিরে আসেন। প্রসিকিউটরদের স্মারকে বলা হয়েছে, একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী তাকে পেইনের গাড়ি নিয়ে ক্ষতি করার কথা বলতে শুনেছেন। এরপর তিনি দ্রুত গাড়ি চালিয়ে অন্য জায়গায় পার্ক করেন এবং হেঁটে পেইনের গাড়ির দিকে এগিয়ে যান। একজন প্রত্যক্ষদর্শী তাকে তখন দৃশ্যত ক্ষুব্ধ অবস্থায় দেখেছেন বলে জানিয়েছেন। পেইন তখন গাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন। তার বাঁ হাতে ছিল মোবাইল ফোন এবং ডান হাতে আগ্নেয়াস্ত্র। প্রত্যক্ষদর্শীর ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি ডিগুগলিয়েলমোকে সতর্ক করে বলেন, তিনি যদি তার দিকে এগিয়ে আসতে থাকেন, তাহলে তিনি গুলি করবেন। কিন্তু ওই সতর্কবার্তার পরও ডিগুগলিয়েলমো তার দিকে এগিয়ে যেতে থাকেন বলে তদন্ত নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। ভিডিওতেও তাকে পেইনের দিকে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে এগিয়ে যেতে দেখা যায় বলে প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন। তদন্ত নথি অনুযায়ী, ডিগুগলিয়েলমো এগিয়ে আসার সময় পেইন পেছাতে থাকেন। ভিডিওতে ডিগুগলিয়েলমোকে তার পিছু নিতে এবং চাবি দিয়ে পেইনের গাড়ির ক্ষতি করার মতো অঙ্গভঙ্গি করতে দেখা যায়। একপর্যায়ে তিনি ফিরে গেলেও আবার পেইনের দিকে এগিয়ে আসেন। তখন পেইন গুলি চালান। গুলিটি ডিগুগলিয়েলমোর পেটে লাগে। গুলি চালানোর সময় পেইন তার স্বামীর সঙ্গে ফোনে কথা বলছিলেন। তার স্বামীর ভাষ্য অনুযায়ী, গুলি চালানোর পর পেইন তাকে পুলিশে ফোন করতে বলেন। পরে ব্রোওয়ার্ড শেরিফের কার্যালয়ের কর্মকর্তারা তাকে অল্প সময়ের জন্য হেফাজতে নেন। তদন্ত নথিতে বলা হয়েছে, পুলিশের কাছে পেইনের দেওয়া ঘটনার বিবরণ বিভিন্ন ভিডিওতে পাওয়া তথ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল। পরে আত্মরক্ষার দাবি করার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এরপর মামলাটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য ব্রোওয়ার্ড কাউন্টি স্টেট অ্যাটর্নির কার্যালয়ে যায়। প্রসিকিউটরদের পর্যালোচনায় মূল প্রশ্ন ছিল, প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগের সময় পেইন যুক্তিসংগতভাবে নিজের জীবন বা গুরুতর শারীরিক ক্ষতির আশঙ্কা করেছিলেন কি না। ব্রোওয়ার্ড স্টেট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের হোমিসাইড ট্রায়াল ইউনিটের প্রধান স্টিফেন জ্যাকর বলেন, পেইন একটি জনসমাগমস্থলে ছিলেন এবং ওয়ালমার্টের পার্কিং এলাকায় অবস্থান করার আইনগত অধিকার তার ছিল। তিনি কোনো দণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধীও নন এবং আইন অনুযায়ী আগ্নেয়াস্ত্র রাখার অধিকার তার ছিল। ফলে গুলি চালানোর মুহূর্তে তিনি অন্য কোনো বেআইনি কর্মকাণ্ডে ছিলেন, এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফ্লোরিডার ‘স্ট্যান্ড ইওর গ্রাউন্ড’ আইন আত্মরক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা দেয়। এই আইনের আওতায় কোনো ব্যক্তি যদি যুক্তিসংগতভাবে মনে করেন যে তিনি মৃত্যু বা গুরুতর শারীরিক ক্ষতির আশঙ্কায় রয়েছেন, তাহলে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সরে না গিয়ে নিজের অবস্থান ধরে রেখে প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগ করতে পারেন। প্রসিকিউটরদের মূল্যায়ন অনুযায়ী, পেইনের ক্ষেত্রে তার ভয় অযৌক্তিক ছিল, এমন প্রমাণ রাষ্ট্রপক্ষের হাতে নেই। প্রসিকিউটর জ্যাকরের মতে, এই আইনের কারণে পেইনকে আগে আক্রান্ত হওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হয়নি। তার পক্ষে সরে যাওয়াও বাধ্যতামূলক ছিল না, যদি তার আশঙ্কা যুক্তিসংগত হয়ে থাকে এবং বিপরীত প্রমাণ না থাকে। ভিডিও ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করে রাষ্ট্রপক্ষ মনে করেছে, এই ঘটনায় পেইনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা চালানোর মতো প্রমাণ নেই। ঘটনার কয়েক দিন পর ব্রোওয়ার্ড কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছিল, পার্কিংয়ের জায়গা নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটির পর গুলি চালানোর ঘটনা ঘটে এবং পেইন দাবি করেছিলেন, তিনি আত্মরক্ষার্থে গুলি চালিয়েছেন। সে সময় তদন্ত চলছিল এবং তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা হবে কি না, তা স্টেট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছিল। শেষ পর্যন্ত প্রসিকিউটররা পেইনের বিরুদ্ধে অভিযোগ না আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ফলে পার্কিংয়ের জায়গা নিয়ে শুরু হওয়া ওই বিরোধে ডিগুগলিয়েলমোর মৃত্যুর ঘটনায় পেইনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা হবে না। ঘটনাটি আবারও ফ্লোরিডার ‘স্ট্যান্ড ইওর গ্রাউন্ড’ আইন নিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এর আগে ২০১৮ সালে ক্লিয়ারওয়াটারে পার্কিংয়ের জায়গা নিয়ে বিরোধের সময় গুলি করে একজনকে হত্যার ঘটনাতেও একই আইন নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক হয়েছিল। তবে বর্তমান নর্থ লডারডেল ঘটনার ক্ষেত্রে প্রসিকিউটরদের সিদ্ধান্ত ভিডিও ফুটেজ ও অন্যান্য তদন্ত-তথ্যের ভিত্তিতেই নেওয়া হয়েছে। সংবাদসূত্র: এবিসি নিউজ
ফ্লোরিডার টাম্পায় নিজের অ্যাপার্টমেন্টে ঘুমিয়ে থাকা ৯৩ বছর বয়সী এক নারী ঘুম থেকে উঠে বিছানার পায়ের কাছে এক অচেনা যুবককে দেখতে পান। ঘটনাটি ঘটে ৩০ আগস্ট সকালে। পরে অ্যাপার্টমেন্টের নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজের সহায়তায় ২৪ বছর বয়সী কনর নরক্রসকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করেছে হিলসবরো কাউন্টি শেরিফ’স অফিসের গোয়েন্দারা। শেরিফের অফিসের তথ্য অনুযায়ী, সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ওই নারী ঘুম থেকে উঠে নরক্রসকে তার বিছানার কাছে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন। প্রথমে তিনি তাকে নিজের নাতি মনে করে কাছে ডাকেন। পরে বুঝতে পারেন, লোকটি তার পরিচিত কেউ নন। ওই নারী জানান, তাকে উঠতে হবে এবং ওষুধ খেতে হবে। তখন নরক্রস তার হাত ঘষতে শুরু করেন এবং তাকে ওষুধ এনে দেওয়ার কথা বলেন। নারীটি তাকে অ্যাপার্টমেন্ট থেকে চলে যেতে বললে তিনি পেছনের কাচের স্লাইডিং দরজা দিয়ে বেরিয়ে যান। তবে কিছুক্ষণ পর নরক্রস আবার ফিরে এসে সামনের দরজা দিয়ে অ্যাপার্টমেন্টে ঢোকার চেষ্টা করেন। দরজাটি তখন লক করা ছিল। পরে তদন্তকারীরা অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সের নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে নরক্রসকে শনাক্ত করেন। ১ সেপ্টেম্বর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে বসবাসরত ব্যক্তিসহ বাসায় চুরির উদ্দেশ্যে অনুপ্রবেশ এবং ৬৫ বছরের বেশি বয়সী ব্যক্তির ওপর শারীরিক হামলার অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশের অভিযোগ অনুযায়ী ঘটনা ঘটলেও আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত নরক্রসকে আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
ফ্লোরিডায় মার্চ মাসে গাড়ি উল্টে যাওয়ার ঘটনায় করা মামলায় সমঝোতার পর গলফ তারকা টাইগার উডসের ড্রাইভিং লাইসেন্স পাঁচ বছরের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে এক হাজার মার্কিন ডলার জরিমানা করা হয়েছে। বুধবারের সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ১৫ বারের মেজর চ্যাম্পিয়ন উডস বেপরোয়া গাড়ি চালানোর অভিযোগে আদালতে হাজির হয়ে অভিযোগটি মেনে নিয়ে মামলাটি নিষ্পত্তি করেন। ৫০ বছর বয়সী উডস ফ্লোরিডার স্টুয়ার্টে মার্টিন কাউন্টি কোর্টহাউসে হাজির হন। সেখানে তিনি বেপরোয়া গাড়ি চালানোর অভিযোগে আদালতের প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হন। এটি তার বিরুদ্ধে করা মূল মাদকাসক্ত অবস্থায় গাড়ি চালানোর অভিযোগের তুলনায় কম গুরুতর অভিযোগ। এই অভিযোগে তাকে এক হাজার ডলার জরিমানা করা হয় এবং তার ড্রাইভিং লাইসেন্স পাঁচ বছরের জন্য স্থগিত করা হয়। উডসের বিরুদ্ধে মাদক পরীক্ষার জন্য নমুনা দিতে অস্বীকৃতির অভিযোগও ছিল। ওই পৃথক অভিযোগের বিষয়টিও মামলার সমঝোতার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হয়েছে। মার্চের ২৭ তারিখ জুপিটার আইল্যান্ডে দুর্ঘটনার পর উডসকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তার গাড়িটি একটি পিকআপ ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে এবং পরে উল্টে যায়। দুর্ঘটনায় কোনো আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। দুর্ঘটনার কয়েক দিন পর উডস জানিয়েছিলেন, তিনি কিছু সময়ের জন্য পেশাদার গলফ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন। দুর্ঘটনার পর চিকিৎসা নেওয়া এবং নিজের স্বাস্থ্যের দিকে মনোযোগ দেওয়ার জন্য তিনি সাময়িকভাবে পেশাদার গলফ থেকে দূরে থাকার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিলেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর উডস মদ্যপানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। তবে মাদক পরীক্ষার জন্য প্রস্রাবের নমুনা দিতে তিনি অস্বীকৃতি জানান। এ ঘটনায় করা পুলিশি নথিতে দুর্ঘটনার সময় উডসের আচরণ সম্পর্কেও উল্লেখ করা হয়েছে। পুলিশের হলফনামা অনুযায়ী, কর্মকর্তারা উডসকে অতিরিক্ত ঘামতে দেখেছিলেন। তাকে অলস ও ধীরগতির আচরণ করতে দেখা যায় বলেও নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। তার চোখ লাল ও কাচের মতো দেখাচ্ছিল বলেও পুলিশ কর্মকর্তারা বর্ণনা দিয়েছেন। তদন্তকারীদের কাছে উডস জানিয়েছিলেন, দুর্ঘটনার আগে তিনি নিজের মুঠোফোনের দিকে তাকাচ্ছিলেন এবং গাড়ির রেডিও স্টেশন পরিবর্তন করছিলেন। এ কারণে তার সামনে থাকা গাড়িটি গতি কমিয়ে দিয়েছিল, সেটি তিনি খেয়াল করেননি বলে তদন্তকারীদের জানান উডস। মার্চের এই দুর্ঘটনাটি উডসের গাড়ি-সংক্রান্ত আলোচিত ঘটনার অন্তত চতুর্থ ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টিতে ভয়াবহ গাড়ি দুর্ঘটনায় তিনি গুরুতর আহত হয়েছিলেন। ওই দুর্ঘটনায় তার ডান পা ও গোড়ালিতে গুরুতর আঘাত লাগে এবং একাধিক অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয়েছিল। টাইগার উডস গলফের অন্যতম সফল খেলোয়াড়। তিনি ১৫টি মেজর চ্যাম্পিয়নশিপ এবং পিজিএ ট্যুরের ৮২টি প্রতিযোগিতায় জয় পেয়েছেন। মার্চের দুর্ঘটনার পর পেশাদার গলফ থেকে সাময়িকভাবে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেওয়ার পর এবার গাড়ি চালানোর মামলায়ও আদালতের সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হলেন তিনি। ফ্লোরিডার আদালতে বেপরোয়া গাড়ি চালানোর অভিযোগে মামলাটি নিষ্পত্তির পর উডসের পাঁচ বছরের জন্য ড্রাইভিং লাইসেন্স স্থগিত এবং এক হাজার ডলার জরিমানার সিদ্ধান্ত হয়েছে। একই সঙ্গে মাদক পরীক্ষার জন্য নমুনা দিতে অস্বীকৃতির সঙ্গে সম্পর্কিত পৃথক অভিযোগটিও নিষ্পত্তি করা হয়েছে। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দুই নারী ট্রাকচালকের বিরুদ্ধে দীর্ঘ ৬ বছর ধরে চার শিশুকে একটি চলন্ত ট্রাকের স্লিপার কেবিনে বন্দি রেখে ভয়ংকর শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। ফ্লোরিডার অ্যাটর্নি জেনারেল জেমস উথমিয়ার গত মঙ্গলবার কিসিমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই গা শিউরে ওঠা ঘটনার বিস্তারিত প্রকাশ করেন। তিনি জানান, আটলান্টা ও মিয়ামির পথে ছুটে চলা বিশাল এই সেমি-ট্রাকটি ওই চার নিষ্পাপ শিশুর জন্য আক্ষরিক অর্থেই একটি "চলন্ত অন্ধকূপে" পরিণত হয়েছিল। স্কুলে যাওয়া বা ট্রাকের বাইরে বের হওয়ার কোনো অনুমতিই তাদের ছিল না। অভিযুক্ত দুই নারী হলেন আটলান্টার ৫১ বছর বয়সী কেইশা মনিক এপস এবং জ্যাকসনভিলের ৩৭ বছর বয়সী টামরা মার্শন স্টুয়ার্ট। নির্যাতন শুরু হওয়ার সময় ওই দুই ছেলে ও দুই মেয়ে শিশুটির বয়স ছিল মাত্র পাঁচ থেকে নয় বছরের মধ্যে। প্রসিকিউটররা জানান, স্টুয়ার্ট মেয়ে শিশু দুটির ওপর ভয়াবহ যৌন নিপীড়ন চালাতেন। ছেলে দুটি এর প্রতিবাদ করলে বা এপসকে জানালে তাদের ওপরও নেমে আসত অমানুষিক শারীরিক নির্যাতন। দিনের পর দিন তাদের ঠিকমতো খাবার দেওয়া হতো না, এমনকি গোসল করার সুযোগ থেকেও তারা ছিল বঞ্চিত। প্রাপ্তবয়স্করা ট্রাক স্টেশনে থেমে নিজেদের পরিচ্ছন্নতার কাজ সারলেও শিশুদের ওই অন্ধকূপেই আটকে রাখা হতো। বছরের পর বছর একটি আবদ্ধ কেবিনে বন্দি থাকার কারণে শিশুদের হাঁটাচলায় অস্বাভাবিকতা দেখা দিয়েছে এবং তারা মারাত্মক শারীরিক ও মানসিক দুর্বলতায় ভুগছে। ন্যূনতম চিকিৎসা সেবার অভাবে গরম নুডলসে পুড়ে যাওয়া এক শিশুর শরীরে স্থায়ী ক্ষত তৈরি হয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ শিশুদের উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। বর্তমানে তারা নিরাপদ আশ্রয়ে থেকে দীর্ঘমেয়াদি থেরাপি ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। অভিযুক্ত স্টুয়ার্ট ও এপসের বিরুদ্ধে শিশু নির্যাতন, যৌন নিপীড়ন ও কর্তব্যে অবহেলার মতো একাধিক গুরুতর ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। অ্যাটর্নি জেনারেল স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, শিশুদের ক্ষতি করতে চাওয়া কাউকেই ফ্লোরিডায় বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার মায়ামি-ডেড কাউন্টিতে প্রেমিকের গোপন ছবি ফাঁসের হুমকি দিয়ে ২০ হাজার ডলার দাবি করার অভিযোগে ১৯ বছর বয়সী নাথালি রদ্রিগেজ গনজালেজকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ওই তরুণী জানতে পারেন, তার সঙ্গে সম্পর্কে থাকা এক ব্যবসায়ীর আগে থেকেই একজন প্রেমিকা রয়েছে। এরপর তিনি ওই ব্যক্তির কাছে অর্থ দাবি করে হুমকিমূলক বার্তা পাঠাতে শুরু করেন। কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, নাথালি মায়ামি-ডেড কাউন্টির একটি রেস্তোরাঁয় ওয়েট্রেস হিসেবে কাজ করতেন। সেখানেই ওই ব্যবসায়ীর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়। কয়েকবার দেখা করার পর নাথালি জানতে পারেন, ওই ব্যবসায়ীর পুরো সময়জুড়েই অন্য একজন প্রেমিকা ছিলেন। এরপর অভিযোগ অনুযায়ী, নাথালি ওই ব্যবসায়ীকে হুমকি দিয়ে তার ব্যাংক হিসাব থেকে ২০ হাজার ডলার দাবি করেন। তিনি সতর্ক করে দেন, অর্থ পরিশোধ না করলে দাবির সঙ্গে আরও ৫ হাজার ডলার যোগ করা হবে। একই সঙ্গে ব্যবসায়ীর অন্তরঙ্গ ছবি তার প্রেমিকা ও ব্যবসায়িক অংশীদারের কাছে পাঠানোর হুমকিও দেন বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। ভুক্তভোগী অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। অভিযোগ রয়েছে, নাথালি তার ব্যবসায়িক অংশীদারের কাছে একটি অন্তরঙ্গ ছবি পাঠান। এরপর ওই অংশীদারের কাছে ভুক্তভোগীর প্রেমিকার ফোন নম্বর চান, যাতে তাকেও ছবিটি পাঠাতে পারেন। পরে ছবিটি ভুক্তভোগীর প্রেমিকার কাছেও পাঠানো হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে। কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, নাথালি এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবিগুলো প্রকাশ করার হুমকি দিতে থাকেন। তিনি টিকটকেও ছবিগুলো প্রকাশ করেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। পাশাপাশি অর্থ না দিলে আরও ছবি প্রকাশ এবং বিষয়টি আরও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ভুক্তভোগীকে একাধিক বার্তা পাঠানো হয়। ভুক্তভোগী ২৪ আগস্ট মায়ামি-ডেড শেরিফের কার্যালয়ের কেন্ডাল জেলা স্টেশনে যান। সেখানে তিনি একটি ছবির মাধ্যমে নাথালিকে শনাক্ত করেন বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। এরপর শুক্রবার তাকে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তকারীদের সঙ্গে কথা বলার সময় নাথালি অভিযোগের বিষয়ে সম্পূর্ণ স্বীকারোক্তি দিয়েছেন বলে কর্তৃপক্ষের দাবি। গ্রেপ্তারের পর নাথালির বিরুদ্ধে হুমকি ও চাঁদাবাজির অভিযোগ আনা হয়েছে। তাকে টার্নার গিলফোর্ড সংশোধন কেন্দ্রে নেওয়া হয়। পরে ৭ হাজার ৫০০ ডলারের জামিনে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। মামলাটি নিয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ঘটনাটি সামনে আসার পর অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে অর্থ আদায়ের জন্য অন্তরঙ্গ ছবি প্রকাশের হুমকি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের বিষয়টি। তবে মামলাটি এখনো অভিযোগের পর্যায়ে রয়েছে এবং পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ায় এ বিষয়ে আদালতে আরও তথ্য উপস্থাপিত হবে।
ফ্লোরিডায় মাত্র পাঁচ দিনের বিশেষ অভিযানে ১৬৩ জন নিখোঁজ শিশুকে খুঁজে বের করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ১৭ থেকে ২১ আগস্ট পরিচালিত ‘অপারেশন স্টেটওয়াইড শিল্ড’ নামের এই অভিযানে উদ্ধার হওয়া শিশুদের বয়স ছিল মাত্র ২ মাস থেকে ১৭ বছর। ফ্লোরিডা ডিপার্টমেন্ট অব ল এনফোর্সমেন্ট বা এফডিএলই বলছে, অনেক শিশু নির্যাতন, অবহেলা, শোষণ কিংবা অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সংস্পর্শে ছিল। এফডিএলইর তথ্য অনুযায়ী, এটি ছিল ফ্লোরিডার প্রথম রাজ্য নেতৃত্বাধীন পূর্ণাঙ্গ নিখোঁজ শিশু উদ্ধারের উদ্যোগ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের অন্যতম বড় শিশু উদ্ধারের অভিযান। অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল ১৮ বছরের কম বয়সী নিখোঁজ শিশুদের শনাক্ত করা, তাদের অবস্থান খুঁজে বের করা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার মাধ্যমে নিরাপদে ফিরিয়ে আনা। অভিযানে ফ্লোরিডার বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধার হওয়া শিশুদের মধ্যে টাম্পা বে অঞ্চলে ৪৬ জন, মায়ামিতে ৪১ জন, জ্যাকসনভিলে ৩২ জন, অরল্যান্ডোতে ২১ জন, ফোর্ট মায়ার্সে ১২ জন, পেনসাকোলায় ৮ জন এবং তালাহাসি অঞ্চলে ৩ জন রয়েছে। এর বাইরে আরও শিশু যুক্তরাষ্ট্রের ছয়টি অঙ্গরাজ্য, একটি ইউএস টেরিটরি এবং ১২টি দেশে শনাক্ত ও উদ্ধার হয়েছে। তবে এই ১৬৩ শিশুকে একই জায়গা থেকে বা একই ধরনের কোনো অপহরণকারী চক্রের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়নি। এফডিএলই জানিয়েছে, অভিযানটি রিয়েল-টাইম গোয়েন্দা তথ্য ও মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। অর্থাৎ বিভিন্ন নিখোঁজ শিশুর পৃথক কেস অনুসরণ করে তাদের অবস্থান শনাক্ত করা হয় এবং স্থানীয়, অঙ্গরাজ্য ও ফেডারেল পর্যায়ের বিভিন্ন সংস্থা সমন্বিতভাবে তাদের খুঁজে বের করে। উদ্ধারের পর যেসব শিশুর তাৎক্ষণিক সহায়তা প্রয়োজন ছিল, তাদের স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নির্ধারিত রিকভারি হাবে নিয়ে যায়। সেখানে সোশ্যাল সার্ভিসেস, শিশু কল্যাণ বিশেষজ্ঞ, মেডিকেল প্রোভাইডার, ভিকটিম অ্যাডভোকেটসহ বিভিন্ন সংস্থার কর্মীরা তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেন। পরে ফ্লোরিডা ডিপার্টমেন্ট অব চিলড্রেন অ্যান্ড ফ্যামিলিজ এবং ডিপার্টমেন্ট অব জুভেনাইল জাস্টিস শিশুদের কাস্টডি হস্তান্তরের বিষয়টি দেখভাল করে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া অনেক শিশুই বিভিন্ন মাত্রার নির্যাতন, অবহেলা, শোষণ কিংবা অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ঝুঁকিতে ছিল। তবে ১৬৩ শিশুর সবাই অপহরণের শিকার ছিল, এমন তথ্য কর্তৃপক্ষ দেয়নি। প্রতিটি শিশুর নিখোঁজ হওয়ার কারণ ও পরিস্থিতি আলাদা হতে পারে এবং সংশ্লিষ্ট তদন্তের সব তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি। অভিযান থেকে তিনটি ফেলোনি মামলা তৈরি হয়েছে। ফ্লোরিডা অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিসের স্টেটওয়াইড প্রসিকিউশন বিভাগ এবং মায়ামি-ডেড স্টেট অ্যাটর্নির অফিস এসব মামলায় আইনি সহায়তা দিচ্ছে। এফডিএলই জানিয়েছে, শিশুদের উদ্ধারের পাশাপাশি তাদের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করাও অভিযানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য ছিল। ফ্লোরিডার অ্যাটর্নি জেনারেল জেমস উথমেয়ার বলেছেন, অনেক শিশুই এমন ব্যক্তিদের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যারা দুর্বল শিশুদের লক্ষ্য করে। এ ধরনের শিশুদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনা এবং তাদের ওপর সংঘটিত অপরাধের জন্য দায়ীদের আইনের আওতায় আনার কাজ অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। পাঁচ দিনের অভিযানে ১৬৩ শিশুকে খুঁজে পাওয়ার ঘটনা ফ্লোরিডায় নিখোঁজ ও ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত তৎপরতা এবং নিখোঁজ শিশুদের অবস্থান শনাক্তে তথ্যভিত্তিক অনুসন্ধানের গুরুত্বও সামনে এসেছে।
মহাকাশবিদ্যা এবং মহাজাগতিক নানা অজানা রহস্য উন্মোচনের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা থেকে সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা হয়েছে নাসার নতুন ফ্ল্যাগশিপ অবজারভেটরি ‘ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ’। প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত এই শক্তিশালী স্পেস টেলিস্কোপটি গত রোববার ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে স্পেসএক্সের ফ্যালকন হেভি রকেটে চড়ে মহাশূন্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। ডার্ক এনার্জি এবং ডার্ক ম্যাটারের মতো মহাবিশ্বের সবচেয়ে বড় রহস্যগুলো অনুসন্ধানের পাশাপাশি বিশাল পরিসরে অভিকর্ষ বলের পরীক্ষা এবং সৌরজগতের বাইরের গ্রহ বা এক্সোপ্ল্যানেট আবিষ্কারের জন্য এই টেলিস্কোপটির নকশা করা হয়েছে। উৎক্ষেপণের আগে কিছুটা বৈরী আবহাওয়ার শঙ্কা থাকলেও শেষ পর্যন্ত পরিষ্কার আকাশ ভেদ করে সফলভাবেই মহাকাশে পাড়ি জমায় এটি। পৃথিবী থেকে প্রায় ১৬ লাখ কিলোমিটার দূরে ‘ল্যাগ্রাঞ্জ পয়েন্ট ২’ নামক একটি নির্দিষ্ট কক্ষপথের দিকে অগ্রসর হচ্ছে রোমান। প্রাথমিকভাবে এর মিশনকাল পাঁচ বছর নির্ধারণ করা হলেও নাসার মতে, টেলিস্কোপটিতে আরও পাঁচ বছর চলার মতো পর্যাপ্ত জ্বালানি রয়েছে। ১৯৯০ সালে উৎক্ষেপিত হাবল স্পেস টেলিস্কোপ এবং ২০২১ সালের জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের সক্ষমতাকে ভিত্তি করেই রোমান তার কার্যক্রম পরিচালনা করবে। নাসার বিজ্ঞান মিশন অধিদপ্তরের প্রধান নিকোলা ফক্স জানান, হাবল এবং জেমস ওয়েব যেখানে মহাবিশ্বের দিকে অনেকটা চাবির ছিদ্র দিয়ে উঁকি দিয়েছে, সেখানে রোমান স্পেস টেলিস্কোপ আক্ষরিক অর্থেই পুরো দরজা ভেঙে ফেলবে। হাবল টেলিস্কোপের সমকক্ষ তীক্ষ্ণতা ও সংবেদনশীলতা থাকলেও রোমান অনেক দ্রুততার সঙ্গে বিস্তীর্ণ আকাশ পর্যবেক্ষণ করতে সক্ষম। নাসার গডার্ড স্পেস ফ্লাইট সেন্টারের জ্যেষ্ঠ প্রকল্প বিজ্ঞানী জুলি ম্যাকএনারির মতে, রোমান মাত্র এক মাসে আমাদের গ্যালাক্সির যে পরিমাণ পর্যবেক্ষণ করতে পারবে, হাবল টেলিস্কোপের তা করতে প্রায় এক শতাব্দী সময় লেগে যেত। জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ যেমন মহাবিশ্বের গভীরে অত্যন্ত সূক্ষ্ম বিষয়গুলো অনুসন্ধান করতে পারে, তেমনি রোমানের ওয়াইড-অ্যাঙ্গেল বা প্যানোরামিক ভিউ সেই গভীর পর্যবেক্ষণের পরিপূরক হিসেবে একটি বিস্তৃত চিত্র তুলে ধরবে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, এই টেলিস্কোপটি মহাবিশ্বের এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বিস্তারিত ত্রিমাত্রিক মানচিত্র তৈরি করে ডার্ক এনার্জি ও ডার্ক ম্যাটারের রহস্য সমাধানে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে। এছাড়াও হাজার হাজার নতুন এক্সোপ্ল্যানেট আবিষ্কারের মাধ্যমে মহাকাশ গবেষণায় নতুন এক দিগন্তের সূচনা করবে ন্যান্সি গ্রেস রোমান।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় এক হাইস্কুল ক্যাম্পাসে ১৭ বছর বয়সী এক ছাত্রের সঙ্গে যৌন সম্পর্কে জড়ানোর দায়ে হেদার ম্যাশবার্ন-স্মিথ নামের এক শিক্ষিকাকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। কারাদণ্ডের পাশাপাশি ৩৭ বছর বয়সী ওই শিক্ষিকাকে আরও ১৫ বছরের প্রবেশনে (probation) থাকার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। গত এপ্রিলে গ্রেপ্তারের পর মঙ্গলবার তিনি অপ্রাপ্তবয়স্কের সঙ্গে বেআইনি কার্যকলাপে জড়িত থাকার দোষ স্বীকার করেন এবং বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে তার এই সাজা ঘোষণা করা হয়। পুলিশ ও এবিসি৭-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, পোর্ট শার্লট হাইস্কুলের ওই শিক্ষিকা গত এপ্রিলে স্কুল ক্যাম্পাসের ভেতরেই ওই ছাত্রের সঙ্গে অন্তত দুবার যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হন। ফ্লোরিডার আইন অনুযায়ী যৌন সম্পর্কের সম্মতির ন্যূনতম বয়সসীমা ১৮ বছর। যেহেতু অভিযুক্ত নারী একজন শিক্ষিকা, তাই তার বিরুদ্ধে প্রথম মাত্রার ফেলোনি বা গুরুতর অপরাধের অভিযোগ আনা হয়। শার্লট কাউন্টির শেরিফ বিল প্রুমেল এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে এক বিবৃতিতে বলেন, "এই নারী যা করেছেন তা শুধু বেআইনিই নয়, বরং এটি তার চারপাশের শিক্ষার্থী ও কর্মীদের জন্যও মারাত্মক ক্ষতিকর। যাদের রক্ষা করার দায়িত্ব তার ওপর ছিল, তিনি সেই বিশ্বাস ও দুর্বলতারই ঘৃণ্য সুযোগ নিয়েছেন।" জানা গেছে, গত ২৯ এপ্রিল গ্রেপ্তারের পরপরই ম্যাশবার্ন-স্মিথ পুলিশের কাছে নিজের অপরাধের পূর্ণ স্বীকারোক্তি দিয়েছিলেন। ন্যাক্কারজনক এই ঘটনার পর স্কুল কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করে। আদালত সাজা ঘোষণার আগে হাজতবাসের কারণে তার সাজার মেয়াদ থেকে ১১৮ দিন মওকুফ করেছেন। এ বিষয়ে শার্লট কাউন্টি শেরিফ অফিস, ক্লার্ক অফিস বা স্কুল ডিস্ট্রিক্ট কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় এক বছর বয়সী নিজের নাতনিকে তপ্ত গাড়ির ভেতর ফেলে রেখে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগে কারেন বেনিয়ার্ড নামের ৭৪ বছর বয়সী এক বৃদ্ধাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মর্মান্তিক এই অবহেলার কারণে ওই দাদির বিরুদ্ধে গুরুতর নরহত্যার (অ্যাগ্রাভেটেড ম্যানস্লটার) অভিযোগ এনেছে স্থানীয় পুলিশ। তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিযুক্ত কারেন বেনিয়ার্ড শিশুটিকে অন্তত ৯০ মিনিটের বেশি সময় ধরে একটি বন্ধ ও উত্তপ্ত গাড়ির ভেতর রেখে বাড়ির ভেতরে গিয়ে নিশ্চিন্তে ঘুমাচ্ছিলেন। তীব্র গরমে দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকার ফলে একপর্যায়ে শিশুটির করুণ মৃত্যু হয়। পরবর্তীতে সেলফোনের ডেটা এবং বাড়ির রিং ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ এই মর্মান্তিক মৃত্যুর পেছনের সময়রেখা সম্পর্কে পুরোপুরি নিশ্চিত হয়েছে। আপন দাদির এমন চরম অবহেলায় ছোট্ট একটি প্রাণের অকাল মৃত্যুতে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও শোকের সৃষ্টি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় গাড়ি দুর্ঘটনায় আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গ্রেপ্তার হওয়া এক ইকুয়েডরীয় মা ও মেয়ে শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে নিজ দেশে ফিরে গেছেন। ৩৯ বছর বয়সী গ্রেস ক্যালোরো এবং তার ১৯ বছর বয়সী মেয়ে জিউলিয়ানা ক্যারিয়েল গত শুক্রবার ইকুয়েডরের রাজধানী কিটোর মারিসকাল সুক্রে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। নিজ দেশে প্রাণনাশের হুমকি ও সহিংসতা থেকে বাঁচতে তারা যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছিলেন, কিন্তু গত ২০ আগস্ট ফ্লোরিডার ওসেওলা কাউন্টির এইচসিএ ফ্লোরিডা পয়েনসিয়ানা হাসপাতালে আইসিই (ICE) এজেন্টদের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর তারা ‘স্বেচ্ছায় নির্বাসন’ বা সেলফ-ডিপোর্টের পথ বেছে নেন। ঘটনার দিন মেয়েকে নিয়ে কাজে যাওয়ার পথে তাদের গাড়িটি অন্য একটি গাড়ির ধাক্কায় বেশ কয়েকবার উল্টে যায়। এরপর তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, হাতে স্যালাইনের সুচ লাগানো অবস্থাতেই মা ও মেয়ে একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছেন এবং আইসিই এজেন্ট ও পোল্ক কাউন্টির শেরিফরা তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছেন। হাসপাতাল থেকে সরাসরি তাদের পোল্ক কাউন্টি জেলে নিয়ে যাওয়া হয়। তাদের আইনি অবস্থান নিয়ে অবশ্য দুই ধরনের বক্তব্য পাওয়া গেছে। পরিবারের দাবি, গ্রেসের একটি রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন ও বৈধ ওয়ার্ক পারমিট রয়েছে এবং তার মেয়ের ভিসার মেয়াদ ২০৩০ সাল পর্যন্ত বৈধ। অন্যদিকে, পোল্ক কাউন্টি শেরিফ অফিস ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট (DHS) জানিয়েছে, তারা দুজনেই ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও বেআইনিভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছিলেন। এই অমানবিক গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে শুক্রবার এইচসিএ পয়েনসিয়ানা হাসপাতালের বাইরে ‘হোপ কমিউনিটি সেন্টার’ এবং অন্যান্য শ্রমিক সংগঠনের কর্মীরা বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। বিক্ষোভকারীরা অভিবাসীদের চিকিৎসাসেবা নেওয়ার ক্ষেত্রে এমন ভীতি সৃষ্টির তীব্র নিন্দা জানান। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ভেরিফায়েড সদস্যদের সাথে আইনি বাধ্যবাধকতা মেনেই তারা কাজ করেছে এবং রোগীদের চিকিৎসাসেবা প্রদানে তাদের কোনো গাফিলতি ছিল না।
অবসর কাটাতে উষ্ণ আবহাওয়া, তুলনামূলক কম খরচ ও শান্ত পরিবেশের জন্য দীর্ঘদিন ধরে ফ্লোরিডা ছিল বয়স্ক আমেরিকানদের অন্যতম পছন্দের গন্তব্য। তবে এখন সেই প্রবণতায় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। অনেক বেবি বুমার ফ্লোরিডার বদলে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলের ডেলাওয়্যারের সমুদ্রঘেঁষা এলাকাগুলোতে বসতি গড়ছেন। ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২০ সালের পর থেকে ডেলাওয়্যারের সাসেক্স কাউন্টিতে ৪০ হাজারের বেশি মানুষ নতুন করে বসতি গড়েছেন। এতে কাউন্টিটির জনসংখ্যা প্রায় ১৭ শতাংশ বেড়েছে, যা একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারের প্রায় পাঁচ গুণ। বয়স্কদের আগমনেও ডেলাওয়্যার এগিয়ে আছে। ২০২০ সালের পর রাজ্যটিতে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা ২৩ শতাংশ বেড়েছে, যা দেশের যেকোনো রাজ্যের তুলনায় সর্বোচ্চ। এর পেছনে সাসেক্স কাউন্টিতে বিপুলসংখ্যক বেবি বুমারের স্থানান্তর অন্যতম কারণ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অবসরপ্রাপ্তদের আকর্ষণের অন্যতম কারণ কর ও জীবনযাত্রার খরচ। ডেলাওয়্যারে ইনকাম ট্যাক্স থাকলেও কোনো সেলস ট্যাক্স নেই। পাশাপাশি নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সির তুলনায় অনেক ক্ষেত্রে প্রপার্টি ট্যাক্সও কম। ফিন্যান্সিয়াল প্ল্যানার ব্র্যাড ট্রাভিস জুনিয়র ব্লুমবার্গকে বলেন, নিউ জার্সি থেকে ডেলাওয়্যারে যাওয়া কোনো কোনো বাড়ির মালিক বছরে প্রায় ১৮ হাজার ডলারের প্রপার্টি ট্যাক্সের পরিবর্তে প্রায় ১ হাজার ৫০০ ডলারের কাছাকাছি দিতে পারেন। ডেলাওয়্যারের লুইস ও রেহোবোথ বিচ এখন অবসরপ্রাপ্তদের অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য। সমুদ্রসৈকত, তুলনামূলক শান্ত পরিবেশ এবং বড় শহরের তুলনায় কম খরচ অনেককে আকৃষ্ট করছে। নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডের বাসিন্দা ৬০ বছর বয়সী অ্যানেট বাবিচও তাদের একজন। অবসর কাটানোর জন্য অনলাইনে বিভিন্ন জায়গা খুঁজতে গিয়ে তিনি ডেলাওয়্যারের লুইসের সন্ধান পান। ২০১৮ সালে সেখানে গিয়ে এক রিয়েলটরের পরামর্শে তিনি সমুদ্র থেকে কিছুটা ভেতরের মিল্টন এলাকায় বাড়ি কেনেন। বাবিচের ভাষায়, নিউইয়র্কের তুলনায় ডেলাওয়্যারে তার নতুন বাড়িটির দাম ছিল অবিশ্বাস্য রকম কম। পরে তিনি নিউইয়র্কের প্রায় এক ডজন বন্ধুকেও ডেলাওয়্যারে চলে আসতে উৎসাহিত করেছেন। তবে বয়স্কদের এই ঢল ডেলাওয়্যারের জন্য নতুন কিছু সমস্যাও তৈরি করছে। সমুদ্রসৈকতের দিকে যাওয়ার সড়কগুলোতে যানজট বাড়ছে। চিকিৎসকের অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাওয়া কঠিন হয়ে উঠছে এবং বাড়তে থাকা আয় ও সম্পত্তির দাম স্থানীয় শিক্ষক ও হেলথ কেয়ার কর্মীদের জন্যও বসবাসের খরচ বাড়িয়ে দিতে পারে। সাসেক্স কাউন্টির গড় বয়সও দ্রুত বাড়ছে। গত বছর কাউন্টিটির মধ্যম বয়স দাঁড়িয়েছে ৫৩ দশমিক ২ বছর, যা ২০১৫ সালের তুলনায় প্রায় পাঁচ বছর বেশি এবং যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গড়ের চেয়ে প্রায় ১৪ বছর বেশি। সাসেক্সে বসবাসকারী ৭৯ বছর বয়সী অবসরপ্রাপ্ত ইউনিভার্সিটি অব ডেলাওয়্যার অধ্যাপক জো পিকা বলেন, এলাকায় মানুষের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে যানজট, দৈনন্দিন নানা ঝামেলা ও মানসিক চাপও বেড়েছে। তিনি জানান, কোলনোস্কপির জন্য তাকে নয় মাস এবং ডেন্টাল অ্যাপয়েন্টমেন্টের জন্য ১৮ মাস অপেক্ষা করতে হয়েছে। ত্বকের চিকিৎসকের কাছে যেতে তাকে প্রায় ৪০ মাইল দূরে যেতে হয়। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে ডেভেলপাররাও এখন উপকূলের বাইরে কৃষিজমি এলাকায় নতুন আবাসিক কমিউনিটি তৈরি করছেন। এর মধ্যে অনেকগুলো বিশেষভাবে ৫৫ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের জন্য বাজারজাত করা হচ্ছে। তবে স্থানীয়দের একটি অংশের আশঙ্কা, অতিরিক্ত উন্নয়ন ও জনসংখ্যা বৃদ্ধি ডেলাওয়্যারের ছোট শহরের স্বতন্ত্র পরিবেশ নষ্ট করে দিতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যটির ধীরগতির জীবনযাত্রার কারণে যে ‘লোয়ার, স্লোয়ার ডেলাওয়্যার’ পরিচিতি তৈরি হয়েছে, সেটিও হুমকির মুখে পড়তে পারে। ফলে অবসরপ্রাপ্তদের কাছে ডেলাওয়্যার যতই আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে, নতুন বাসিন্দাদের এই ঢল রাজ্যটির জন্য একই সঙ্গে সুযোগ এবং নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
যুক্তরাষ্ট্রে অবসরজীবন কাটানোর জনপ্রিয় গন্তব্য হিসেবে দীর্ঘদিন ধরেই ফ্লোরিডার নাম সবার আগে আসে। উষ্ণ আবহাওয়া, তুলনামূলক কম জীবনযাত্রার খরচ ও সমুদ্রসৈকতের কারণে দেশটির দক্ষিণাঞ্চল বহু বছর ধরে অবসরপ্রাপ্তদের আকর্ষণ করে আসছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সেই চিত্র কিছুটা বদলাচ্ছে। ফ্লোরিডার বাড়তি আবাসন ব্যয় ও জীবনযাত্রার খরচের কারণে অনেক বয়স্ক মার্কিন নাগরিক এখন নতুন ঠিকানা হিসেবে বেছে নিচ্ছেন ডেলাওয়্যারকে। বিশেষ করে ডেলাওয়্যারের দক্ষিণাঞ্চলের সাসেক্স কাউন্টি অবসরপ্রাপ্তদের কাছে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২০ সালের পর থেকে সাসেক্স কাউন্টিতে ৪০ হাজারের বেশি মানুষ বসতি গড়েছেন। এতে কাউন্টিটির জনসংখ্যা প্রায় ১৭ শতাংশ বেড়েছে, যা একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারের প্রায় পাঁচ গুণ। এই জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সবচেয়ে বেশি বাড়ছে বয়স্ক বাসিন্দাদের সংখ্যা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডেলাওয়্যারে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা ২৩ শতাংশ বেড়েছে, যা দেশটির অঙ্গরাজ্যগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ বৃদ্ধির হার। এর পেছনে সাসেক্স কাউন্টিতে অবসরপ্রাপ্তদের ব্যাপক আগমন অন্যতম কারণ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সাসেক্স কাউন্টির জনপ্রিয় শহরগুলোর মধ্যে রয়েছে লুইস ও রেহোবোথ বিচ। সমুদ্রের কাছাকাছি অবস্থান, ছোট শহরের পরিবেশ এবং তুলনামূলক কম করের কারণে এসব এলাকায় অবসরপ্রাপ্তদের আগ্রহ বাড়ছে। নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডের বাসিন্দা ৬০ বছর বয়সী অ্যানেট বাবিচও তাদের একজন। বহু বছর নিউইয়র্কে থাকার পর অবসরজীবনের জন্য নতুন জায়গা খুঁজতে গিয়ে তিনি ডেলাওয়্যারের দিকে নজর দেন। ফ্লোরিডার গরম আবহাওয়া তার পছন্দ নয় বলেও তিনি জানিয়েছেন। ব্লুমবার্গকে বাবিচ বলেন, গ্রীষ্মকালে ফ্লোরিডায় থাকার অভিজ্ঞতা তার কাছে খুব একটা স্বস্তিদায়ক মনে হয়নি। পরে অবসর কাটানোর জন্য ভালো জায়গা খুঁজতে গিয়ে তিনি ডেলাওয়্যারের উপকূলীয় শহর লুইসের সন্ধান পান। ২০১৮ সালে সেখানে গিয়ে বাড়ি খোঁজার সময় এক আবাসন এজেন্ট তাকে উপকূলের কাছের আরও সাশ্রয়ী এলাকা মিল্টনে নিয়ে যান। ঐতিহাসিক বাড়ি, সমুদ্রসৈকতের কাছাকাছি অবস্থান এবং তুলনামূলক কম দামের কারণে জায়গাটি তার পছন্দ হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত তিনি ও তার সঙ্গী সেখানে একটি বাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত নেন। বাবিচের ভাষায়, নিউইয়র্কের তুলনায় ডেলাওয়্যারের বাড়িটির দাম ছিল অবিশ্বাস্যভাবে কম। ডেলাওয়্যারকে আকর্ষণীয় করে তুলছে করব্যবস্থাও। অঙ্গরাজ্যটিতে আয়কর রয়েছে, তবে রাজ্য বা স্থানীয় বিক্রয় কর নেই। ডেলাওয়্যার সরকারের তথ্য অনুযায়ী, সামাজিক নিরাপত্তা ও রেলপথ অবসরভাতা থেকে পাওয়া আয় রাজ্য আয়করের আওতায় পড়ে না। ৬০ বছর বা তার বেশি বয়সীদের জন্য নির্দিষ্ট অবসরকালীন আয় থেকেও সর্বোচ্চ ১২ হাজার ৫০০ ডলার পর্যন্ত ছাড়ের সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সির মতো উচ্চ করের অঙ্গরাজ্য থেকে আসা বাড়ির মালিকদের কাছে সম্পত্তি করের পার্থক্যটি বড় আকর্ষণ হয়ে উঠেছে। ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে আর্থিক পরিকল্পনাবিদ ব্র্যাড ট্রাভিস জুনিয়রের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, নিউ জার্সি থেকে আসা কিছু বাড়ির মালিক বছরে প্রায় ১৮ হাজার ডলারের সম্পত্তি করের পরিবর্তে ডেলাওয়্যারে প্রায় ১ হাজার ৫০০ ডলারের কাছাকাছি কর দিতে পারেন। তবে ডেলাওয়্যারেও এই দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধির কিছু নেতিবাচক প্রভাব দেখা দিতে শুরু করেছে। সমুদ্রসৈকতের দিকে যাওয়া সড়কে যানজট বাড়ছে। একই সঙ্গে চিকিৎসকের অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাওয়া কঠিন হয়ে উঠছে। নতুন বাসিন্দাদের কারণে আবাসন ও জমির চাহিদা বাড়ায় স্থানীয়ভাবে জীবনযাত্রার ব্যয়ও বাড়ছে। জনসংখ্যার বয়সের চিত্রেও পরিবর্তন স্পষ্ট। যুক্তরাষ্ট্রের আদমশুমারি ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের আমেরিকান কমিউনিটি সার্ভে হিসাবে সাসেক্স কাউন্টির জনসংখ্যা ছিল প্রায় ২ লাখ ৭১ হাজার। ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে কাউন্টিটির মধ্যম বয়স বেড়ে ৫৩ দশমিক ২ বছরে দাঁড়িয়েছে। ২০১৫ সালের তুলনায় এটি প্রায় পাঁচ বছর বেশি এবং জাতীয় গড়ের চেয়ে প্রায় ১৪ বছর বেশি। এই পরিবর্তনের প্রভাব স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবাতেও পড়ছে। ৭৯ বছর বয়সী জো পিকা ব্লুমবার্গকে জানিয়েছেন, এলাকায় বসবাসের সঙ্গে যানজট ও দৈনন্দিন নানা ঝামেলা বেড়েছে। তিনি কোলনোস্কপি করানোর জন্য নয় মাস অপেক্ষা করেছেন, দাঁতের চিকিৎসার জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে ১৮ মাস এবং চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে যেতে প্রায় ৪০ মাইল দূরে যেতে হয়েছে। পিকা বর্তমানে সাসেক্স প্রিজারভেশন কোয়ালিশনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। সংগঠনটি এলাকায় অতিরিক্ত উন্নয়ন ও দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধির গতি কমানোর চেষ্টা করছে। তবে এর মধ্যেও রয়েছে এক ধরনের বৈপরীত্য। কারণ পিকা ও তার স্ত্রী নিজেরাই মাত্র চার বছর আগে সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেছেন। নতুন বাসিন্দাদের আগমন শুধু স্বাস্থ্যসেবা বা যানজটের ওপরই চাপ তৈরি করছে না, বদলে দিচ্ছে স্থানীয় আবাসন ব্যবস্থাও। বয়স্ক বাসিন্দাদের বাড়তি চাহিদা পূরণ করতে নির্মাতারা সমুদ্রতীরের বাইরে কৃষিজমির দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। সেখানে গড়ে উঠছে নতুন আবাসিক এলাকা, যার অনেকগুলোই ৫৫ বছর বা তার বেশি বয়সী বাসিন্দাদের লক্ষ্য করে তৈরি করা হচ্ছে। এর ফলে স্থানীয়দের মধ্যে আরেকটি উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দ্রুত উন্নয়ন ও নতুন আবাসন প্রকল্পের কারণে ডেলাওয়্যারের ছোট শহরের স্বাভাবিক পরিবেশ ও পুরোনো বৈশিষ্ট্য হারিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকে। অবসরপ্রাপ্তদের কাছে জায়গাটির আকর্ষণ অবশ্য কমছে না। বাবিচের মতো অনেকেই নিউইয়র্কের বন্ধু ও পরিচিতদের ডেলাওয়্যারে আসতে উৎসাহিত করছেন। বাবিচ জানিয়েছেন, তার প্রায় এক ডজন নিউইয়র্কের বন্ধু পরে ডেলাওয়্যারে চলে এসেছেন। তাদের একজন স্কট রিচার্ডসন, যিনি তার স্বামীকে নিয়ে ডেলাওয়্যারে বসতি গড়েছেন। ব্লুমবার্গকে তিনি বলেন, জায়গাটির পরিবেশ শান্ত, ধীরগতির এবং বন্ধুত্বপূর্ণ। তার কাছে ডেলাওয়্যারকে কখনো কখনো মনে হয়, যেন স্থলভাগে ভেসে থাকা একটি প্রমোদতরী। তবে এই জনপ্রিয়তার মধ্যেই ডেলাওয়্যারের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে। কম কর, তুলনামূলক সাশ্রয়ী আবাসন ও সমুদ্রসৈকতের আকর্ষণে যে অবসরপ্রাপ্তরা এখানে আসছেন, তাদের সংখ্যা বাড়তে থাকলে স্বাস্থ্যসেবা, সড়ক যোগাযোগ, আবাসন এবং স্থানীয় কর্মসংস্থানের ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে। ডেলাওয়্যারের এই পরিবর্তন তাই শুধু অবসরপ্রাপ্তদের নতুন ঠিকানা খোঁজার গল্প নয়। এটি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ জনসংখ্যা স্থানান্তরেরও একটি বড় উদাহরণ, যেখানে ফ্লোরিডার মতো দীর্ঘদিনের জনপ্রিয় অবসর গন্তব্যের বাইরে তুলনামূলক ছোট অঙ্গরাজ্য ও উপকূলীয় শহরগুলো নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে। সূত্র: ব্লুমবার্গ, যুক্তরাষ্ট্রের আদমশুমারি ব্যুরো ও ডেলাওয়্যার রাজ্য সরকার।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।