- প্রচ্ছদ
- Topic
অভিবাসন
ব্যবসা ও পর্যটন ভিসার আবেদনকারীদের জন্য চালু করা ‘ভিসা বন্ড’ কর্মসূচিকে স্থায়ী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। নতুন এই নীতির আওতায় মূলত আফ্রিকার বেশিরভাগ দেশসহ ৫০টি দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা আবেদন করতে নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ জামানত হিসেবে জমা দিতে হবে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানিয়েছে, গত ৩১ জুলাই ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত একটি খসড়া বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রায় এক বছর ধরে পরিচালিত পরীক্ষামূলক কর্মসূচির পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ভিসার শর্ত মেনে চলা নিশ্চিত করতে এই বন্ড ব্যবস্থা কার্যকর ভূমিকা রাখছে। তাই এটিকে স্থায়ী করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। খসড়া বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সোমবার থেকেই এই কর্মসূচি স্থায়ীভাবে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে আরও কয়েকটি দেশকে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। এর আগে ২০২৫ সালের আগস্টে তৎকালীন ট্রাম্প প্রশাসন পরীক্ষামূলকভাবে এই কর্মসূচি চালু করে। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল নির্ধারিত সময়ের বেশি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকারী ভিসাধারীদের সংখ্যা কমানো এবং অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পদক্ষেপ নেওয়া। পরীক্ষামূলক কর্মসূচিতে ভিসা বন্ডের সর্বোচ্চ পরিমাণ ছিল ১৫ হাজার মার্কিন ডলার। এছাড়া কনস্যুলার কর্মকর্তার বিবেচনায় ৫ হাজার বা ১০ হাজার ডলার বন্ড নির্ধারণের সুযোগ ছিল। তবে নতুন স্থায়ী নীতিতে সর্বোচ্চ বন্ডের পরিমাণ বাড়িয়ে ২০ হাজার মার্কিন ডলার করা হয়েছে। একই সঙ্গে সর্বনিম্ন ৫ হাজার ডলারের বিকল্পটি বাতিল করা হয়েছে। অর্থাৎ আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে এখন ১০ হাজার বা সর্বোচ্চ ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত বন্ড নির্ধারণ করা হতে পারে। এই কর্মসূচির আওতাভুক্ত দেশের পাসপোর্টধারীদের ব্যবসায়িক ও পর্যটন ভিসার সাক্ষাৎকারে অংশ নেওয়ার আগেই নির্ধারিত বন্ড জমা দিতে হবে। তবে আবেদনকারীর ভিসা প্রত্যাখ্যান হলে জমা দেওয়া অর্থ ফেরত দেওয়া হবে। আবার ভিসা অনুমোদনের পর কেউ যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগসহ সব ভিসা শর্ত মেনে চলেন, তাহলেও পুরো বন্ড ফেরত পাবেন। মার্কিন প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, যেসব বিদেশি ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্রে থেকে যান, তাদের গ্রেপ্তার ও নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে গড়ে প্রায় ১৮ হাজার মার্কিন ডলার ব্যয় হয়। সেই ব্যয় কমানো এবং ভিসার শর্ত লঙ্ঘনের প্রবণতা নিরুৎসাহিত করাই এই নীতির অন্যতম উদ্দেশ্য। পররাষ্ট্র দপ্তর শুরুতে ধারণা করেছিল, প্রায় দুই হাজার আবেদনকারীকে এই বন্ড কর্মসূচির আওতায় আনতে হবে। কিন্তু পরবর্তী মূল্যায়নে দেখা যায়, বাস্তবে প্রায় ২০ হাজার ভিসা আবেদনকারী এই নিয়মের আওতায় পড়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এই নীতির আওতায় থাকা দেশগুলোর তালিকা সময়ে সময়ে পর্যালোচনা করা হবে। প্রয়োজনে নতুন দেশ যুক্ত করা বা বিদ্যমান তালিকায় পরিবর্তন আনার সুযোগও থাকবে।
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী বিদেশি নাগরিকদের অভিবাসন-সংক্রান্ত আবেদন যাচাই ও নিরাপত্তা পরীক্ষা আরও কঠোর করা হয়েছে। সংস্থাটির দাবি, আগের যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের ঘাটতি ছিল, যার ফলে যথাযথ নিরাপত্তা যাচাই ছাড়াই কিছু আবেদন অনুমোদিত হয়েছিল। ইউএসসিআইএসের প্রকাশিত হালনাগাদ তথ্যে বলা হয়েছে, এক্সিকিউটিভ অর্ডার ১৪১৬১ এবং সাম্প্রতিক দুটি প্রেসিডেন্সিয়াল প্রোক্লেমেশনের আওতায় নিরাপত্তা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত ৩৯টি দেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রে বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে। এসব দেশের অনেক আবেদন সাময়িকভাবে স্থগিত রেখে পুনরায় যাচাই করা হচ্ছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, আশ্রয়, স্থায়ী বাসিন্দা, ডাইভার্সিটি ভিসা এবং অন্যান্য অভিবাসন সুবিধার আবেদন নতুন করে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কার্যক্রম, আর্থিক তথ্য, বায়োমেট্রিক তথ্য, অপরাধমূলক রেকর্ড এবং অতিরিক্ত নিরাপত্তা তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। প্রয়োজনে পুনরায় সাক্ষাৎকারও নেওয়া হচ্ছে। ইউএসসিআইএস আরও জানায়, “অপারেশন প্যারিস” নামে একটি বিশেষ কর্মসূচির মাধ্যমে শরণার্থী ও উচ্চ ঝুঁকির দেশের আবেদনকারীদের অতিরিক্ত ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাই করা হচ্ছে। একই সঙ্গে পরিচয় নিশ্চিত করতে বায়োমেট্রিক যাচাই জোরদার করা হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নতুন তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্ত করার ব্যবস্থাও চালু করা হয়েছে। সংস্থাটির দাবি, নতুন এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো অভিবাসন ব্যবস্থায় জালিয়াতি রোধ, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং শুধুমাত্র যোগ্য ও নিরাপত্তা যাচাইয়ে উত্তীর্ণ ব্যক্তিদেরই অভিবাসন সুবিধা প্রদান করা। তবে ইউএসসিআইএস জানিয়েছে, সব আবেদন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত নয়। যেসব আবেদন নিরাপত্তা যাচাই সম্পন্ন করেছে বা কম ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে, সেগুলো ধাপে ধাপে নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া আবারও শুরু করা হচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসনের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রকে বিদেশি সন্ত্রাসবাদ, জালিয়াতি এবং জাতীয় নিরাপত্তার সম্ভাব্য হুমকি থেকে সুরক্ষিত রাখতেই এই কঠোর যাচাই-বাছাই কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
মার্কিন সরকারের নতুন ভিসা বন্ড কর্মসূচিতে বাংলাদেশের নাম থাকলেও আফ্রিকার কয়েকটি নিম্ন আয়ের দেশ সেই তালিকার বাইরে রয়েছে। তালিকা প্রকাশের পর বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের অভিবাসী ও ভিসাপ্রত্যাশীদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে কোন ভিত্তিতে এই দেশগুলো নির্বাচন করেছে যুক্তরাষ্ট্র? অর্থনৈতিক অবস্থান, নাকি অন্য কোনো মানদণ্ড? মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট সম্প্রতি জানিয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু দেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রে ব্যবসা ও পর্যটন ভিসা (বি-১/বি-২) ইস্যুর সময় কনস্যুলার কর্মকর্তা প্রয়োজন মনে করলে সর্বোচ্চ ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত ফেরতযোগ্য ভিসা বন্ডের শর্ত আরোপ করতে পারবেন। তবে এই নিয়ম তালিকাভুক্ত দেশের সব আবেদনকারীর জন্য বাধ্যতামূলক নয়; প্রতিটি আবেদন পৃথকভাবে মূল্যায়ন করা হবে। তালিকায় বাংলাদেশের পাশাপাশি নাইজেরিয়া, ইথিওপিয়া, উগান্ডা, মোজাম্বিক, বুরুন্ডিসহ বেশ কয়েকটি দেশের নাম রয়েছে। কিন্তু বিশ্বের নিম্ন আয়ের দেশ হিসেবে পরিচিত নাইজার, লাইবেরিয়া, মালি, চাদ ও মাদাগাস্কারের মতো কয়েকটি আফ্রিকান দেশ এই তালিকায় নেই। এখান থেকেই শুরু হয়েছে আলোচনা। প্রথম দেখায় মনে হতে পারে, অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল দেশগুলোই হয়তো ভিসা বন্ডের আওতায় আসবে। কিন্তু স্টেট ডিপার্টমেন্টের প্রকাশিত নীতিমালা ভিন্ন চিত্র তুলে ধরে। সেখানে কোথাও বলা হয়নি যে কোনো দেশের দারিদ্র্য, মাথাপিছু আয় বা অর্থনৈতিক অবস্থাই তালিকা তৈরির প্রধান ভিত্তি। মার্কিন সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, এই কর্মসূচির লক্ষ্য হলো ভিসার শর্ত মেনে চলা নিশ্চিত করা এবং ভিসার অপব্যবহার কমানো। এজন্য কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে বিবেচনা করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্রে থেকে যাওয়ার প্রবণতা (ভিসা ওভারস্টে), অভিবাসন আইন মেনে চলার রেকর্ড, নিজ দেশের নাগরিকদের প্রত্যাবাসনে সংশ্লিষ্ট সরকারের সহযোগিতা, পরিচয় ও নথি যাচাইয়ের সক্ষমতা, কনস্যুলার ঝুঁকি এবং জাতীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত মূল্যায়ন। অর্থাৎ, একই ধরনের অর্থনৈতিক অবস্থানে থাকা দুটি দেশের ক্ষেত্রে ভিন্ন সিদ্ধান্ত হতে পারে, যদি তাদের অভিবাসন-সংক্রান্ত ঝুঁকি বা ভিসা ব্যবহারের রেকর্ড এক না হয়। এই কারণেই বাংলাদেশ তালিকায় থাকলেও কিছু নিম্ন আয়ের আফ্রিকান দেশ বাইরে থাকতে পারে। এখানে আরেকটি বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ। ভিসা বন্ড কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত হওয়া মানেই ওই দেশের নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের দরজা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এমন ধারণা সঠিক নয়। স্টেট ডিপার্টমেন্ট বলছে, কেবল নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে কনস্যুলার কর্মকর্তা ভিসা বন্ডের শর্ত আরোপ করতে পারবেন। আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর ভিসার সব শর্ত মেনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশ ত্যাগ করলে জমা রাখা অর্থ ফেরত দেওয়া হবে। এই কর্মসূচি প্রথমে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়েছিল। পরবর্তী মূল্যায়নে এটিকে কার্যকর বলে বিবেচনা করার পর যুক্তরাষ্ট্র সরকার স্থায়ী নীতির অংশ হিসেবে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বন্ডের পরিমাণ আবেদনকারীর পরিস্থিতি বিবেচনায় নির্ধারণ করা হবে এবং তা সর্বোচ্চ ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত হতে পারে। তবে নতুন নীতিকে ঘিরে বিতর্কও রয়েছে। অভিবাসন অধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠনের মতে, উচ্চ অঙ্কের ভিসা বন্ড অনেক বৈধ ভ্রমণকারী, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী বা পরিবারের সদস্যদের জন্য অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি করতে পারে। তাদের আশঙ্কা, এতে বৈধ ভ্রমণ নিরুৎসাহিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। সব মিলিয়ে, বাংলাদেশ তালিকায় রয়েছে অথচ আফ্রিকার কয়েকটি নিম্ন আয়ের দেশ নেই এটি অর্থনৈতিক সক্ষমতার পার্থক্যের কারণে নয় বলে মার্কিন সরকারের নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে। সরকারি ব্যাখ্যা অনুযায়ী, তালিকাটি প্রস্তুত করা হয়েছে অভিবাসন আইন মেনে চলার রেকর্ড, ভিসা ওভারস্টে প্রবণতা, প্রত্যাবাসনে সহযোগিতা এবং জাতীয় নিরাপত্তাসহ একাধিক ঝুঁকি মূল্যায়নের ভিত্তিতে। ফলে কোনো দেশ তালিকায় থাকা বা না থাকা সেই দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অবস্থার প্রতিফলন নয়; বরং যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতির আওতায় করা একটি প্রশাসনিক ঝুঁকি মূল্যায়নের ফল।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আইন প্রয়োগে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। জুলাই মাসে দেশজুড়ে ৪৬ হাজারের বেশি মানুষকে আটক করেছে ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস), যা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে এক মাসে সর্বোচ্চ আটকের রেকর্ড। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের (ডিএইচএস) অভ্যন্তরীণ তথ্যের ভিত্তিতে এ তথ্য প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুলাই মাসের আটকের সংখ্যা জুন মাসের তুলনায়ও বেশি। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে আইস এর হেফাজতে প্রায় ৬৮ হাজার ব্যক্তি রয়েছেন, যা সংস্থাটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে দেশজুড়ে অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও জোরদারের নির্দেশনার পরই এই সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে আইস এর অভিযান শুধু কর্মস্থল বা নির্দিষ্ট এলাকায় সীমাবদ্ধ নেই। বিমানবন্দর, অভিবাসন চেক-ইন অফিস, ট্রাফিক স্টপ, আদালত প্রাঙ্গণ এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন কমিউনিটিতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ফলে বৈধ কাগজপত্র না থাকা বা অভিবাসন সংক্রান্ত জটিলতায় থাকা অনেক অভিবাসীর মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। বিশেষ করে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও অভিবাসন যাচাই কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। আইনজীবীরা পরামর্শ দিচ্ছেন, যাদের অভিবাসন মামলা চলমান বা যাদের বৈধ অবস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে, তারা ভ্রমণের আগে আইনি পরামর্শ নিয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঙ্গে রাখুন। এদিকে ট্রাম্প প্রশাসন তিন লাখের বেশি হাইতিয়ান অভিবাসীর টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাস (টিপিএস) বাতিলের সিদ্ধান্ত কার্যকর করার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিচ্ছে। এর ফলে এসব অভিবাসীর একটি বড় অংশ বহিষ্কারের ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারেন, যদি তারা অন্য কোনো বৈধ অভিবাসন সুবিধা অর্জন করতে না পারেন। অভিযান জোরদারের মধ্যেই গত মাসে টেক্সাস ও মেইনে পৃথক ঘটনায় আইস কর্মকর্তাদের গুলিতে দুই অভিবাসীর মৃত্যুর ঘটনাও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দুটি ঘটনাই এখনও তদন্তাধীন রয়েছে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ দাবি করেছে, বর্তমান প্রশাসনের অভিযানের ফলে এখন পর্যন্ত ৩০ লাখের বেশি অবৈধ অভিবাসী যুক্তরাষ্ট্র ছেড়েছেন। বিভাগের তথ্যমতে, এর মধ্যে আনুমানিক ২২ লাখ ব্যক্তি স্বেচ্ছায় দেশত্যাগ করেছেন। একই সময়ে ৯ লাখ ৮৫ হাজারের বেশি ব্যক্তিকে বহিষ্কার এবং ১০ লাখের বেশি অবৈধ অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে এসব পরিসংখ্যান হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের নিজস্ব তথ্য। এগুলোর সবগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অভিবাসন আইনজীবীদের মতে, প্রশাসনের সাম্প্রতিক পদক্ষেপে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অভিবাসন আইন প্রয়োগের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে যাদের অভিবাসন আবেদন বিচারাধীন, যাদের টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাস বা অন্যান্য অস্থায়ী সুবিধা রয়েছে, কিংবা যাদের বৈধ অবস্থান নিয়ে কোনো জটিলতা আছে, তাদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি প্রয়োজনে অভিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া উচিত।
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অভিবাসন আইন প্রয়োগে নতুন ধারা দেখা যাচ্ছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট আইস এর অভিযান জোরদার করেছে। একই সময়ে অ্যাসাইলাম আবেদন প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সংস্থা (ইউএসসিআইএস)। অভিবাসন আইনজীবীরা বলছেন, এই দুটি পরিবর্তনের ফলে যাদের অ্যাসাইলাম, স্ট্যাটাস পরিবর্তন, গ্রিন কার্ড বা অন্য কোনো ইমিগ্রেশন আবেদন এখনো নিষ্পত্তি হয়নি, তাদের জন্য বিমান ভ্রমণ আগের তুলনায় বেশি সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে। রয়টার্সসহ একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সান ফ্রান্সিসকো, লস অ্যাঞ্জেলেস, লাস ভেগাস, ডেনভার, ন্যাশভিলসহ বিভিন্ন বিমানবন্দরে সাম্প্রতিক সময়ে অভিবাসন-সংক্রান্ত কারণে যাত্রীদের আটক করার ঘটনা বেড়েছে। এসব অভিযানে শুধু চূড়ান্ত বহিষ্কার আদেশপ্রাপ্ত ব্যক্তিরাই নন, কিছু ক্ষেত্রে বিচারাধীন ইমিগ্রেশন আবেদন বা ভিসা-সংক্রান্ত জটিলতায় থাকা ব্যক্তিদেরও আটক করা হয়েছে। এই উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে মেরিল্যান্ডের বাল্টিমোরে ঘটে যাওয়া একটি বহুল আলোচিত ঘটনা। গত সপ্তাহে বাল্টিমোর ওয়াশিংটন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (বিডব্লিউআই) অভ্যন্তরীণ একটি ফ্লাইটে ওঠার সময় জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্লুমবার্গ স্কুল অব পাবলিক হেলথের গবেষক ফাতিমা আমেকাকে আইস আটক করে। ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। পরে তাকে মুক্তি দেওয়া হলেও যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) জানায়, তিনি ভিসার মেয়াদোত্তীর্ণ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছিলেন এবং সে কারণেই অভিবাসন আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকর্মী, গবেষক ও কয়েকজন আইনপ্রণেতা এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। বিমানবন্দরে অভিযানের পেছনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে সাম্প্রতিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। রয়টার্সের পর্যালোচনা করা অভ্যন্তরীণ নথি অনুযায়ী, ট্রান্সপোর্টেশন সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (টিএসএ) ২০২৫ সালের শুরু থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৩১ হাজারের বেশি যাত্রীর তথ্য আইস এর কাছে পাঠায়। সেই তথ্যের ভিত্তিতে ৮০০ জনেরও বেশি ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার বা আটক করা হয়। ডিএইচএস বলছে, জাতীয় নিরাপত্তা ও অভিবাসন আইন বাস্তবায়নের স্বার্থে সংস্থাগুলোর মধ্যে তথ্য আদান প্রদান আইনসম্মত। তবে অভিবাসন অধিকারকর্মীরা বলছেন, সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধের জন্য তৈরি যাত্রী তথ্যব্যবস্থা এখন বেসামরিক অভিবাসন আইন প্রয়োগেও ব্যবহৃত হওয়ায় অভিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। এদিকে অ্যাসাইলাম আবেদনকারীদের জন্যও এসেছে গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত পরিবর্তন। ইউএসসিআইএস সম্প্রতি একটি অন্তর্বর্তীকালীন চূড়ান্ত বিধি কার্যকর করেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে অ্যাসাইলাম কর্মকর্তা আবেদনকারীর সাক্ষাৎকার না নিয়েই আবেদনটি সরাসরি ইমিগ্রেশন কোর্টে পাঠাতে পারবেন। সরকারের ভাষ্য, দীর্ঘদিনের মামলার জট কমানো এবং দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে অভিবাসন আইন কর্মকর্তাদের একাংশের আশঙ্কা, সাক্ষাৎকারের সুযোগ কমে গেলে অনেক আবেদনকারী তাদের নির্যাতনের অভিজ্ঞতা বা আশ্রয় চাওয়ার কারণ বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হারাতে পারেন। যদিও কোনো আবেদন সরাসরি ইমিগ্রেশন কোর্টে পাঠানো মানেই সেটি বাতিল নয়। সে ক্ষেত্রে আবেদনকারী একজন ইমিগ্রেশন বিচারকের সামনে পূর্ণাঙ্গ শুনানির সুযোগ পাবেন। সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে অভিবাসন আইনজীবীরাও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন। তাদের ভাষ্য, যাদের অ্যাসাইলাম মামলা, স্ট্যাটাস পরিবর্তনের আবেদন, গ্রিন কার্ড বা ওয়ার্ক পারমিটের আবেদন এখনো বিচারাধীন, তারা অপ্রয়োজনীয় বিমান ভ্রমণের আগে অবশ্যই নিজেদের আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ করুন। একই সঙ্গে ভ্রমণের সময় বৈধ পরিচয়পত্র, ইমিগ্রেশন-সংক্রান্ত নথিপত্র এবং প্রয়োজনে আইনজীবীর যোগাযোগের তথ্য সঙ্গে রাখার পরামর্শও দিচ্ছেন তারা। ইমিগ্রেশন আইনজীবীরা আরও মনে করিয়ে দিচ্ছেন, বিচারাধীন আবেদন থাকা মানেই সবাইকে আটক করা হবে এমন কোনো নিয়ম নেই। প্রতিটি মামলার আইনি অবস্থা, নথিপত্র এবং ব্যক্তির অভিবাসন ইতিহাস আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা হয়। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত গুজব বা অসম্পূর্ণ তথ্যের ওপর নির্ভর না করে, ডিএচএস, ইউএসসিআইএস এবং অভিজ্ঞ ইমিগ্রেশন আইনজীবীর পরামর্শ অনুসরণ করাই বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে নিরাপদ পদক্ষেপ।
যুক্তরাজ্যে বসবাসরত কিছু ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) নাগরিকের প্রি-সেটেলড স্ট্যাটাস ‘ভুলবশত’ অনুমোদন করা হয়েছিল বলে দাবি করেছে দেশটির হোম অফিস। ইতোমধ্যে অন্তত ১০০ জনকে চিঠি পাঠিয়ে জানানো হয়েছে, প্রয়োজনীয় প্রমাণ ছাড়াই তাদের বসবাসের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। এ ঘটনায় চাকরি, বাসস্থান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগে পড়েছেন অনেক অভিবাসী। একই সঙ্গে বিষয়টি যুক্তরাজ্য-ইইউ প্রত্যাহার চুক্তি লঙ্ঘনের আশঙ্কাও তৈরি করেছে। হোম অফিসের পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, যাদের প্রি-সেটেলড স্ট্যাটাস যথাযথ নথিপত্র ছাড়া অনুমোদিত হয়েছিল বলে মনে করা হচ্ছে, তাদের ভবিষ্যতে সেটেলড স্ট্যাটাস পাওয়ার আবেদনও প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। এমনই একজন গ্যাব্রিয়েলা, যিনি পর্তুগিজ নাগরিকত্বের অধিকারী। তিনি যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস (এনএইচএস)-এ কর্মরত এবং একই সঙ্গে পিএইচডি গবেষণা করছেন। হোম অফিসের চিঠি পাওয়ার পর তিনি জানান, তার ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তায় পড়েছে। গ্যাব্রিয়েলার ভাষ্য, এই সিদ্ধান্ত শুধু তার অভিবাসন অবস্থাকেই নয়, চাকরি, বাসা ভাড়া, ব্যাংকিং সেবা এবং স্বাভাবিক জীবনযাপনকেও ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। বৈধভাবে বসবাসের অধিকার হারালে চাকরি ও বাসস্থানের পাশাপাশি ব্যাংকিং সেবাও বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। ব্রেক্সিটের আগে পাঁচ বছরের কম সময় যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী প্রায় ১৩ লাখ ইইউ নাগরিককে ইইউ সেটেলমেন্ট স্কিমের আওতায় প্রি-সেটেলড স্ট্যাটাস দেওয়া হয়েছিল। পাঁচ বছর পূর্ণ হলে তাদের অনেকেই সেটেলড স্ট্যাটাসে উন্নীত হওয়ার সুযোগ পান। তবে বর্তমানে হোম অফিস বিশেষ করে যেসব আবেদনকারীকে নতুন করে আবেদন করতে হয়েছে—যেমন শিশু, ইউরোপীয় অর্থনৈতিক অঞ্চল (ইইএ)-বহির্ভূত পরিবারের সদস্য এবং ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বরের পর যুক্তরাজ্যে আসা ব্যক্তিদের—তাদের কিছু আবেদন পুনরায় পর্যালোচনা করছে। গ্যাব্রিয়েলার ক্ষেত্রে হোম অফিসের দাবি, আবেদন করার সময় তিনি নিজেকে ‘প্রাসঙ্গিক ইইএ নাগরিক’ হিসেবে প্রমাণের জন্য প্রয়োজনীয় নথি জমা দেননি। তাই তার প্রি-সেটেলড স্ট্যাটাস ভুলবশত অনুমোদিত হয়েছিল। তবে এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন গ্যাব্রিয়েলা। তার দাবি, বাবা পর্তুগিজ হওয়ায় তিনি জন্মসূত্রেই ইইউ নাগরিক। আবেদন করার সময় তিনি কোনো তথ্য গোপন করেননি এবং সব প্রয়োজনীয় তথ্যই যথাযথভাবে দিয়েছেন। অভিবাসী অধিকারবিষয়ক সংগঠন ‘দ্য থ্রি মিলিয়ন’ জানিয়েছে, তাদের কাছে এ ধরনের আরও ডজনখানেক ঘটনার তথ্য রয়েছে। সংগঠনটির আশঙ্কা, ভবিষ্যতে আরও অনেক ব্যক্তি একই ধরনের চিঠি পেতে পারেন। তথ্য অধিকার আইনের আওতায় পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ মাসেই অন্তত ৯৫ জনকে এমন চিঠি পাঠানো হয়েছে। সংগঠনটির ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী মনিক হকিন্স বলেন, বহু মানুষ হোম অফিসের সিদ্ধান্তের ওপর আস্থা রেখে বছরের পর বছর যুক্তরাজ্যে জীবন গড়েছেন। তাদের সন্তানরা এখানকার স্কুলে পড়ছে, অনেকেই স্থায়ী চাকরিতে আছেন। পাঁচ বছর পর এসে যদি বলা হয় তাদের স্ট্যাটাস শুরু থেকেই ভুল ছিল, তাহলে তা শুধু অন্যায্য নয়, মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেও গভীর উদ্বেগের বিষয়। এদিকে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রত্যাহার চুক্তি বাস্তবায়ন তদারকির দায়িত্বে থাকা ইন্ডিপেনডেন্ট মনিটরিং অথরিটি জানিয়েছে, হোম অফিসের এই নীতি প্রত্যাহার চুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে। সংস্থাটি বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে হোম অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। অন্যদিকে হোম অফিস জানিয়েছে, তারা পৃথক কোনো মামলার বিষয়ে মন্তব্য করে না। তবে যাদের স্ট্যাটাস ভুলবশত দেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে, তারা চাইলে অন্য অভিবাসন ক্যাটাগরিতে আবেদন করতে পারবেন। এছাড়া কেউ যদি মনে করেন তার প্রি-সেটেলড স্ট্যাটাস সঠিকভাবেই দেওয়া হয়েছিল, তাহলে তিনি নতুন আবেদন করার পাশাপাশি আইনি আপিলের সুযোগও পাবেন।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আদালতের দ্রুত শুনানি প্রক্রিয়ার কারণে দেশছাড়ার আদেশের সংখ্যা বাড়ছে। নতুন তথ্য অনুযায়ী, আদালতের শুনানির সময় কমে যাওয়া এবং একসঙ্গে অনেক মামলা পরিচালনার কারণে অনেক অভিবাসী নির্ধারিত শুনানিতে উপস্থিত হতে পারছেন না। ফলে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত বহিষ্কারের আদেশ দেওয়া হচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘদিনের অভিবাসন আদালতের মামলার জট কমাতে আদালত কক্ষে শুনানির সংখ্যা বাড়িয়েছে। দেশজুড়ে অনেক আদালতে একেকজন বিচারকের সামনে একই দিনে কয়েক ডজন থেকে শতাধিক মামলা নির্ধারণ করা হচ্ছে। এসব শুনানিকে ‘মেগা’ মাস্টার হিয়ারিং বলা হচ্ছে। তথ্য বিশ্লেষণকারী সংস্থা মোবাইল পাথওয়েজের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুনে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে এক হাজার ৩০০টির বেশি এ ধরনের শুনানি হয়েছে। যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি। একই সঙ্গে অনেক অভিবাসী তাদের মামলা প্রস্তুতির জন্য আগের তুলনায় অনেক কম সময় পাচ্ছেন। আগে অনেক ক্ষেত্রে শুনানির প্রস্তুতির জন্য প্রায় ছয় মাস সময় পাওয়া গেলেও বর্তমানে অনেক অভিবাসী এক মাসের কিছু বেশি সময় পাচ্ছেন। এর ফলে অনেকে নির্ধারিত তারিখে আদালতে হাজির হতে পারছেন না এবং তাদের বিরুদ্ধে সরাসরি বহিষ্কারের আদেশ দেওয়া হচ্ছে। মোবাইল পাথওয়েজের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রায় ২০ শতাংশ অভিবাসী আদালতের শুনানিতে অনুপস্থিত ছিলেন। চলতি বছরের জুনে সেই হার বেড়ে প্রায় ৪০ শতাংশে পৌঁছেছে। একই সময়ে বহিষ্কারের আদেশের সংখ্যাও বেড়েছে। তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে প্রায় ৩৩ হাজার বহিষ্কারের আদেশ দেওয়া হলেও চলতি বছরের জুনে এই সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৭৯ হাজার হয়েছে। আদালতে উপস্থিত না হলে অনেক ক্ষেত্রে অভিবাসীদের আশ্রয় আবেদন বাতিল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অভিবাসন নীতির কঠোর সমর্থকদের মতে, দ্রুত শুনানি দীর্ঘদিনের মামলার জট কমাতে সহায়তা করছে। তবে অভিবাসীদের আইনজীবী ও অধিকারকর্মীরা বলছেন, কম সময়ে বেশি মামলা পরিচালনার কারণে অনেক বৈধ দাবিও যথাযথভাবে পর্যালোচনার সুযোগ পাচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের সংশ্লিষ্ট দপ্তর জানিয়েছে, বিচারকরা দ্রুত মামলা নিষ্পত্তির চেষ্টা করছেন এবং একই সঙ্গে আইনি প্রক্রিয়া ও ন্যায্যতা বজায় রাখার বিষয়টিও নিশ্চিত করা হচ্ছে। তাদের মতে, দীর্ঘসূত্রতা এমন অভিবাসীদের জন্যও সমস্যা তৈরি করে যাদের বৈধ দাবি রয়েছে। অন্যদিকে, সাবেক অভিবাসন বিচারক ও আইনজীবীরা সতর্ক করে বলেছেন, অতিরিক্ত সংখ্যক মামলা একসঙ্গে পরিচালনা করলে বিচারকদের ওপর চাপ বাড়ে এবং প্রত্যেকটি মামলা পর্যাপ্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখার সুযোগ কমে যেতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আদালতের মামলার জট কমলেও দ্রুত শুনানি প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। একদিকে সরকার দ্রুত নিষ্পত্তিকে প্রয়োজনীয় বলছে, অন্যদিকে সমালোচকরা বলছেন, এতে অনেক অভিবাসীর ন্যায্য আইনি সুযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের একজন সাবেক সেনাসদস্যকে (ইউএস আর্মি ভেটেরান) বিয়ে করার মাত্র দুই মাসের মধ্যেই গ্রিন কার্ড পাওয়ার অভিজ্ঞতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন এক ভারতীয় নারী। তিনি দাবি করেন, সামরিক সদস্যের জীবনসঙ্গী হওয়ায় আবেদন প্রক্রিয়া তুলনামূলক দ্রুত সম্পন্ন হয়েছে। তবে ভিডিওটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ভিডিওতে ওই নারী জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর সাবেক সদস্যের স্ত্রী হিসেবে তিনি দ্রুত গ্রিন কার্ড পেয়েছেন। তার ভাষ্য, সামরিক সদস্য ও তাদের পরিবারের জন্য বিদ্যমান কিছু প্রশাসনিক সুবিধার কারণেই আবেদনটি স্বল্প সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর অনেক ব্যবহারকারী অভিযোগ করেন, তিনি বিশেষ সুবিধা পাওয়ার বিষয়টি প্রদর্শন করছেন। কেউ কেউ মন্তব্য করেন, সাধারণ অভিবাসীদের দীর্ঘ অপেক্ষার বাস্তবতার সঙ্গে তার অভিজ্ঞতার মিল নেই। অন্যদিকে অনেকেই ওই নারীর পক্ষে অবস্থান নেন। তাদের মতে, তিনি কেবল নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন এবং কোথাও দাবি করেননি যে সবার ক্ষেত্রেই একই সময়ে গ্রিন কার্ড পাওয়া সম্ভব। তাই তাকে সমালোচনা করা অযৌক্তিক। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রিন কার্ডের আবেদন নিষ্পত্তির সময় আবেদনকারীর ক্যাটাগরি, নথিপত্রের সম্পূর্ণতা, নিরাপত্তা যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাজের চাপের ওপর নির্ভর করে ভিন্ন হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে সামরিক সদস্য ও তাদের পরিবারের জন্য নির্দিষ্ট প্রশাসনিক সুবিধা বা দ্রুত প্রক্রিয়া থাকলেও, তা সব আবেদনকারীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। ভিডিওটি নতুন করে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থা, সামরিক পরিবারের জন্য বিদ্যমান সুবিধা এবং গ্রিন কার্ড প্রক্রিয়ার বৈষম্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম বলেছেন, ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে ছোট নৌকায় অবৈধভাবে যুক্তরাজ্যে প্রবেশের সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তবে তিনি স্বীকার করেছেন, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণে সরকারের এখনও অনেক কাজ বাকি এবং এই সংখ্যা “আরও অনেক নিচে নামাতে হবে।” সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত প্রায় ১৩ হাজারের বেশি অভিবাসী ছোট নৌকায় করে ইংলিশ চ্যানেল অতিক্রম করে যুক্তরাজ্যে পৌঁছেছেন। এটি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৪৫ শতাংশ কম। তবে সাম্প্রতিক উষ্ণ আবহাওয়ার কারণে কয়েক দিনের মধ্যে আবারও নৌকায় পারাপার বেড়েছে। বার্নহ্যাম বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদের নেতৃত্বে সরকার সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে একটি কঠোর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। তাঁর দাবি, বছরের সামগ্রিক পরিসংখ্যান প্রমাণ করে যে সরকারের কৌশল ইতিবাচক ফল দিচ্ছে। তবে জনগণ সীমান্তে আরও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ দেখতে চায় এবং সরকার সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে। অভিবাসন সংকট মোকাবিলায় যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের মধ্যে নতুন সহযোগিতা চুক্তিও কার্যকর হয়েছে। এর আওতায় ফরাসি উপকূল থেকে ছোট নৌকা যাত্রা ঠেকানোর চেষ্টা চলছে। যদিও এ পর্যন্ত এ খাতে যুক্তরাজ্য এক বিলিয়ন পাউন্ডের বেশি অর্থ ব্যয় করেছে, বিরোধীরা দাবি করছে যে সাম্প্রতিক পারাপার বৃদ্ধি প্রমাণ করে বর্তমান ব্যবস্থা এখনও পুরোপুরি কার্যকর নয়। এদিকে বিরোধী কনজারভেটিভ পার্টির নেতারা অভিযোগ করেছেন, ফরাসি কর্তৃপক্ষ অনেক ক্ষেত্রেই নৌকা থামাতে ব্যর্থ হচ্ছে। তারা সরকারের অভিবাসন নীতির কঠোর সমালোচনা করে বলেছে, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন। বার্নহ্যাম জোর দিয়ে বলেন, যুক্তরাজ্যে প্রবেশকারী প্রত্যেক ব্যক্তিকে জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাইয়ের আওতায় আনা হবে। তাঁর ভাষায়, সীমান্তের ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী করতে প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে এবং অবৈধ পারাপারের সংখ্যা আরও কমানোই সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।
অনিয়মিত অভিবাসনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে আরও ২৩ জন বাংলাদেশিকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) সকাল ১১টায় বিশেষ ফ্লাইট OAE2323-এ তারা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। এ নিয়ে ২০২৫ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরত পাঠানো বাংলাদেশির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৬৯ জন। বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক, এভিয়েশন সিকিউরিটি এবং ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের সহযোগিতায় তাদের তাৎক্ষণিক সহায়তা, প্রয়োজনীয় পরামর্শ এবং নিজ নিজ গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য পরিবহন সুবিধা দেওয়া হয়। ব্র্যাকের তথ্য অনুযায়ী, ফেরত আসা ২৩ জনের মধ্যে ১৩ জনই নোয়াখালীর বাসিন্দা। এছাড়া সিলেট, কক্সবাজার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, মুন্সীগঞ্জ, কুমিল্লা, লক্ষ্মীপুর, ঢাকা এবং আরও কয়েকটি জেলার বাসিন্দাও রয়েছেন। ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান জানান, প্রাথমিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, তাদের অধিকাংশই দক্ষিণ ও মধ্য আমেরিকার দীর্ঘ, ব্যয়বহুল এবং অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ রুট ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন। জনপ্রতি প্রায় ৫০ থেকে ৬৫ লাখ টাকা ব্যয় করেও শেষ পর্যন্ত অভিবাসন-সংক্রান্ত আইনি জটিলতায় পড়ে তাদের দেশে ফিরতে হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ফেরত আসা ব্যক্তিদের বেশিরভাগই বৈধভাবে ব্রাজিলে গেলেও পরে দালালচক্রের সহায়তায় অনিয়মিত পথে বলিভিয়া, পেরু, ইকুয়েডর, কলম্বিয়া, পানামা, কোস্টারিকা, নিকারাগুয়া, হন্ডুরাস ও গুয়াতেমালা হয়ে মেক্সিকো সীমান্ত অতিক্রম করে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন। এই যাত্রায় তাদের ১৩ থেকে ১৫টি দেশ বাসে ও পায়ে হেঁটে অতিক্রম করতে হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছে অনেকেই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ শুরু করলেও প্রয়োজনীয় বৈধ কাগজপত্র না থাকায় তারা মার্কিন অভিবাসন কর্তৃপক্ষের নজরে পড়েন। পরে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে তাদের আটক করে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়। ব্র্যাক জানিয়েছে, অনিয়মিত অভিবাসনের পথে বিপুল অর্থ ব্যয় করেও অনেক বাংলাদেশিকে শেষ পর্যন্ত দেশে ফিরতে হচ্ছে। সংস্থাটি সম্ভাব্য অভিবাসীদের দালালচক্রের প্রলোভনে না পড়ে বৈধ, নিরাপদ ও নিয়মতান্ত্রিক অভিবাসনের পথ বেছে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক সময়ে অনিয়মিত অভিবাসনের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার হওয়ায় বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের পাশাপাশি বাংলাদেশিদেরও ফেরত পাঠানোর ঘটনা বেড়েছে। অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈধ নথিপত্র ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান বা প্রবেশের চেষ্টা করলে গ্রেপ্তার, আটক এবং নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে আরও ২৩ জন বাংলাদেশি নাগরিককে বিশেষ চার্টার ফ্লাইটে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ভোরে ওমনি এয়ার ইন্টারন্যাশনালের একটি বিশেষ ফ্লাইটে তারা ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশে ফিরে আসা এসব বাংলাদেশি বিভিন্ন সময়ে উন্নত কর্মসংস্থানের আশায় বাংলাদেশ ছেড়েছিলেন। পরবর্তীতে তারা দুবাই, কাতার, দক্ষিণ আফ্রিকা, ব্রাজিল ও পেরুসহ বিভিন্ন দেশে অবস্থান করেন এবং সেখান থেকে সীমান্ত অতিক্রম করে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পর তারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করলেও বৈধ অভিবাসন-সংক্রান্ত শর্ত পূরণ করতে পারেননি। পরে মার্কিন অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে দেশটির অভিবাসন কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়। বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক প্রত্যেক প্রত্যাবর্তনকারীকে ৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেয়। পাশাপাশি তাদের জন্য খাবারেরও ব্যবস্থা করা হয়। ইমিগ্রেশন ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পর দুপুর দেড়টার দিকে তারা বিমানবন্দর ত্যাগ করেন। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া অবস্থান বা অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর কার্যক্রম জোরদার হয়েছে। এর অংশ হিসেবে বাংলাদেশি নাগরিকদেরও পর্যায়ক্রমে বিশেষ ফ্লাইটে দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বরাবরই সতর্ক করে আসছেন, বিদেশে কর্মসংস্থান বা স্থায়ীভাবে বসবাসের উদ্দেশ্যে যাত্রার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশের অভিবাসন আইন ও বৈধ ভিসা প্রক্রিয়া অনুসরণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্যথায় গ্রেপ্তার, আটক এবং শেষ পর্যন্ত নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিভাবকহীন অভিবাসী শিশুদের দেখভালের দায়িত্বে থাকা ফেডারেল সংস্থা অফিস অব রিফিউজি রিসেটেলমেন্ট (ওআরআর) থেকে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইস) কাছে তথ্য সরবরাহের ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদে ১২ হাজারের বেশি শিশু, তাদের অভিভাবক ও পৃষ্ঠপোষককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার প্রকাশিত রয়টার্সের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে মার্কিন সরকারের অভ্যন্তরীণ নথি পর্যালোচনার ভিত্তিতে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ওআরআর অভিভাবকহীন শিশু, তাদের অভিভাবক, আত্মীয়স্বজন এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সম্পর্কে ৪ লাখ ৬০ হাজারের বেশি তথ্য ও তদন্তসূত্র আইসের কাছে পাঠিয়েছে। অতীতে শিশু কল্যাণ কার্যক্রমকে অভিবাসন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কার্যক্রম থেকে আলাদা রাখা হলেও বর্তমান নীতিতে সেই অবস্থান বদলে গেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে ২৪ বছর বয়সী এক অভিবাসী মা, ছদ্মনাম অরোরার ঘটনার কথা তুলে ধরা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে থাকা অবস্থায় নিজের ছয় বছরের মেয়েকে ফিরে পেতে তিনি ছয় মাস চেষ্টা করেন। মা ও মেয়ের পুনর্মিলনের কয়েক দিনের মধ্যেই দুজনকে আইস আটক করে টেক্সাসের একটি পারিবারিক আটক কেন্দ্রে পাঠায়। পরে তাদের মুক্তি দেওয়া হলেও অরোরাকে ইলেকট্রনিক অ্যাঙ্কেল মনিটর পরিয়ে নিয়মিত কর্তৃপক্ষের কাছে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ওআরআর ১৯৮০ সালে যুদ্ধ ও নিপীড়ন থেকে পালিয়ে আসা শরণার্থীদের পুনর্বাসনের জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে যুক্তরাষ্ট্র মেক্সিকো সীমান্তে একা আসা শিশুদের আশ্রয় ও তত্ত্বাবধানের দায়িত্বও সংস্থাটিকে দেওয়া হয়। ২০০৮ সালের আইনের উদ্দেশ্য ছিল শিশুদের দ্রুত নিরাপদ অভিভাবকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া এবং অভিভাবকদের অভিবাসনগত অবস্থান নির্বিশেষে পারিবারিক পুনর্মিলন নিশ্চিত করা। বাইডেন প্রশাসনের সময় ওআরআরের ডেপুটি ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করা জেন স্মায়ার্স রয়টার্সকে বলেন, শিশু সুরক্ষার জন্য আগে যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল তা এখন পুরোপুরি বদলে গেছে এবং শিশু কল্যাণ কর্মসূচিকে আরও বেশি মানুষকে দেশ থেকে বহিষ্কারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে ওআরআর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, শিশুদের গ্রেপ্তারে তাদের কোনো ভূমিকা নেই এবং অভিবাসন আইন প্রয়োগের বিষয়টি হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্টের আওতাধীন। অন্যদিকে ডিএইচএস বলেছে, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপর্যাপ্তভাবে যাচাই করা বা অপরাধমূলক অতীত রয়েছে এমন পৃষ্ঠপোষকদের শনাক্ত করার উদ্দেশ্যেই ওআরআর থেকে আইসের তদন্ত শাখায় তথ্য সরবরাহ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে গত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে বৈধভাবে বসবাসকারী এক গ্রিনকার্ডধারী নারীকে গত এক বছর ধরে কারাগারে আটকে রেখেছে মার্কিন অভিবাসন ও কাস্টমস প্রয়োগকারী সংস্থা (আইসিই)। বাগানে কাজ করার সময় হঠাৎ ধরে নিয়ে যাওয়া ওই নারীর মুক্তির দাবিতে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন তার দুই কন্যা। প্রায় ১২ মাস ধরে বন্দি থাকা এই নারীর মুক্তি ও ডিপোর্টেশন (দেশত্যাগ) ঠেকানোর চেষ্টায় এখন আন্তর্জাতিক মহলেও জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম শিকাগো ট্রিব্রিউন-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। আটক ওই নারীর নাম বেয়াটা সিমিওনকোভিক। তিনি পোল্যান্ডের নাগরিক হলেও ১৯৯৫ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যে বসবাস করে আসছেন। ২০০৩ সালে তিনি দেশটির স্থায়ী বাসিন্দার অনুমোদন বা গ্রিনকার্ড অর্জন করেন। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বের জন্যও আবেদন করেছিলেন তিনি। পেশায় পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও প্রবীণদের সেবিকা বেয়াটা তার দুই মেয়েকে নিয়ে রাউন্ড লেক এলাকায় বসবাস করতেন। ঘটনাবলির সূত্রপাত ২০২৫ সালের আগস্টে। শিকাগোর শহরতলি ডেস প্লেইনসে নিজ মেয়ের বাড়ির বাগানে গাছপালার পরিচর্যা করছিলেন বেয়াটা। সে সময় হঠাৎ সাধারণ পোশাকে মুখে মাস্ক পরা দুই আইসিই কর্মকর্তা সেখানে হাজির হয়ে তাকে জোরপূর্বক গাড়িতে তুলে নিয়ে যান। সেদিনের স্মৃতির কথা তুলে ধরে তার মেয়ে ক্লাউদিয়া (২৫) জানান, খবরটি প্রথম তারা জানতে পারেন তাদের সত্-বাবা জনের ফোনের মাধ্যমে। তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে তাদের জানিয়েছিলেন, চোখের সামনে থেকে মুহূর্তের মধ্যে তাকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়, তার কিছুই করার ছিল না। গ্রেপ্তারের পর তাকে কেন্টাকির ক্যাম্পবেল কাউন্টি ডিটেনশন সেন্টারে পাঠায় কর্তৃপক্ষ। সেখানে প্রায় ৬০ জন নারীর সঙ্গে গাদাগাদি করে তাকে রাখা হয়, যাদের অধিকাংশই ছিলেন বিভিন্ন দেশ থেকে আসা অভিবাসী। নোংরা পরিবেশ, অপরিস্কার সেল এবং এমনকি মারাত্মক অপরাধীদের সঙ্গে রাখা হয়েছিল তাকে। আইসিই সূত্রের বরাতে জানানো হয়েছে, ২০০৫ এবং ২০১১ সালে দোকানে ছোটখাটো চুরির অপরাধের রেকর্ড রয়েছে বেয়াটার বিরুদ্ধে। এছাড়া ২০০১ সালে অভিবাসন সুবিধার জন্য ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহারের অভিযোগও আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে। যদিও তার পরিবার ও আদালতের রেকর্ড অনুযায়ী, বহু বছর আগেই জরিমানা এবং আদালতের নজরদারির মেয়াদ শেষ করে সেই পুরনো আইনি জটিলতার অবসান ঘটেছিল। কঠিন সময়ে সন্তানদের জন্য ছোটখাটো চুরির ভুলের এত বছর পর এমন কঠোর পদক্ষেপকে অন্যায় বলে দাবি করছেন তার পরিবার। তবে মার্কিন ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির (ডিএইচএস) এক মুখপাত্র শিকাগো ট্রিব্রিউনকে বলেছেন, "গ্রিনকার্ড থাকা কোনো অধিকার নয়, এটি একটি বিশেষ সুযোগ। দেশের আইন লঙ্ঘন বা অপব্যবহার করা হলে সেই অনুমোদন বাতিল করার পূর্ণ অধিকার সরকারের রয়েছে।" গত বছরের ডিসেম্বরে অভিবাসন আদালত তার ডিপোর্টেশনের নির্দেশ দিলেও তার পরিবার এর বিরুদ্ধে আপিল করেছে। এদিকে বেয়াটার মতোই একই পরিস্থিতির শিকার হয়েছিলেন ডোনা হিউজ-ব্রাউন নামের এক আইরিশ নাগরিক। তবে সম্প্রতি তার ওপর থেকে ডিপোর্টেশনের আদেশ বাতিল করে আদালত তাকে মুক্তি দিয়েছে। ডোনা এখন বেয়াটার মুক্তির জন্য জোর দাবি তুলছেন এবং আশা করছেন যে তার মামলার আইনি নজির ব্যবহার করেই বেয়াটাকে আইসিই-এর বন্দিদশা থেকে মুক্ত করা সম্ভব হবে। মায়ের আইনি লড়াইয়ের খরচ চালানো এবং ঘরের বন্দক পরিশোধ করতে গিয়ে ছোট মেয়ে গ্যাবি (২১) তার নার্সিং পড়াশোনা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছেন। দুই বোন মিলে মায়ের আইনি লড়াই ও ভবিষ্যৎ টিকিয়ে রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ইলিনয়ের প্রভাবশালী সিনেটর ডিক ডারবিনের কার্যালয়ও এই পরিবারটিকে আইনি সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে। নিজের জন্মভূমি পোল্যান্ডে এখন আর বেয়াটার চেনা কেউ নেই। দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে গড়ে তোলা সংসার, সন্তান ও জীবন ছেড়ে তাকে আবারও নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে হবে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগে রয়েছে তার পরিবার।
যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর বিশেষ সুরক্ষাপ্রাপ্তি বা টিপিএস সুবিধা হারাতে বসা হাইতিয়ান অভিবাসীদের লক্ষ্য করে একটি বড় ধরনের অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে দেশটির অভিবাসন ও শুল্ক এনফোর্সমেন্ট সংস্থা। একাধিক ফেডারেল সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহেই এই অভিযান শুরু হতে পারে। হাইতিয়ান নাগরিকদের টিপিএস সুবিধা বাতিলের পথ সুগম করতে সুপ্রিম কোর্টের সার্টিফাইড রায় সোমবার নিম্ন আদালতে আসার কথা রয়েছে। এর ফলে প্রশাসনের জন্য প্রায় তিন লাখের বেশি হাইতিয়ান নাগরিকের টিপিএস বাতিলের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে আর কোনো আইনি বাধা থাকছে না। ফেডারেল সূত্রগুলো জানিয়েছে, ওহাইও রাজ্যে এই অভিযানের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হবে, কারণ ওই রাজ্যের স্প্রিংফিল্ড শহরে একটি বড় হাইতিয়ান সম্প্রদায়ের বসবাস রয়েছে। ইতোমধ্যে সংস্থার শীর্ষ নেতৃত্বকে এই অপারেশনাল পরিকল্পনার বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে। গত মাসে সুপ্রিম কোর্ট নিম্ন আদালতের সেই রায়গুলো খারিজ করে দেন, যা আইনি লড়াই চলাকালীন হাইতি ও সিরিয়ার জন্য প্রশাসনের টিপিএস বাতিল প্রক্রিয়া স্থগিত রেখেছিল। ২০১০ সালের বিধ্বংসী ভূমিকম্পের পর প্রথম হাইতিকে এই বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছিল। যুদ্ধবিরতি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অন্যান্য অস্বাভাবিক পরিস্থিতির মুখে পড়া দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে সাময়িকভাবে আইনিভাবে বসবাস ও কাজের সুযোগ দিতেই এই কর্মসূচি চালু করা হয়েছিল। তবে প্রশাসন শুরু থেকেই হাইতির টিপিএস বাতিলের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। প্রশাসনের যুক্তি, এই কর্মসূচি কখনো স্থায়ী আইনি মর্যাদার পথ হিসেবে তৈরি করা হয়নি। হোয়াইট হাউসের একজন মুখপাত্র এই রায়কে প্রশাসনের জন্য একটি বড় বিজয় হিসেবে উল্লেখ করে জানান, এই সুবিধার নামের মধ্যেই 'সাময়িক' বিষয়টি রয়েছে এবং এটি কখনো স্থায়ী সমাধানের পথ ছিল না। অন্যদিকে, স্প্রিংফিল্ড শহরটি অভিবাসন বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। বিগত নির্বাচনী প্রচারণার সময় এই শহরে হাইতিয়ান সম্প্রদায়ের দ্রুত বৃদ্ধি জাতীয় আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। এই অভিযানের বিষয়ে মন্তব্য জানতে সংবাদমাধ্যমটির পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট অভিবাসন ও স্বরাষ্ট্র দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।
ইউরোপীয় কমিশনের প্রস্তাবিত নতুন অভিবাসন ও আশ্রয়নীতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর অবস্থান নিতে যাচ্ছে। নতুন নিয়মে সীমান্তে পৌঁছানো অভিবাসীদের দ্রুত নিবন্ধন, নিরাপত্তা যাচাই, আশ্রয় আবেদন নিষ্পত্তি এবং আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলে দ্রুত প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা জোরদার করা হবে। নতুন কাঠামোর আওতায় ইইউর সব সদস্য রাষ্ট্রে একই ধরনের আশ্রয় প্রক্রিয়া চালু হবে। সীমান্তে আগত ব্যক্তিদের পরিচয়, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা যাচাই সর্বোচ্চ সাত দিনের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে। যেসব দেশের নাগরিকদের আশ্রয় আবেদনের অনুমোদনের হার কম, তাদের আবেদন সীমান্তেই দ্রুত নিষ্পত্তি করা হবে এবং প্রয়োজন হলে তাদের নিজ দেশ বা নিরাপদ তৃতীয় দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হবে। এছাড়া অভিবাসনের চাপ বেশি থাকা দেশগুলোর বোঝা ভাগাভাগি করতে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে নতুন সংহতি ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কোনো দেশ আশ্রয়প্রার্থী গ্রহণ না করলে আর্থিক বা অন্যান্য সহায়তার মাধ্যমে দায়িত্ব পালনের সুযোগ থাকবে। ইউরোপীয় কমিশনের দাবি, নতুন নিয়ম সীমান্ত ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করবে, আশ্রয় আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি হবে এবং অবৈধভাবে অবস্থানকারীদের ফেরত পাঠানোর হার বাড়বে। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এসব বিধান বাস্তবায়িত হলে সীমান্তে আটক, দ্রুত প্রত্যাবাসন এবং আশ্রয়প্রার্থীদের আইনি সুরক্ষা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তারা বলছে, নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মানবাধিকার রক্ষার বিষয়টিও সমান গুরুত্ব পাওয়া উচিত।
যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন অ্যাজাইলাম বা আশ্রয়প্রার্থীদের বিষয়ে বড় ধরনের নীতি পরিবর্তন এনেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এখন থেকে কিছু অভিবাসীকে প্রাথমিক সাক্ষাৎকার ছাড়াই সরাসরি অভিবাসী আদালতে পাঠাতে পারবেন দেশটির আশ্রয় কর্মকর্তারা। মামলার দীর্ঘসূত্রতা ও বিশাল জট কমাতেই এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। সোমবার ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) এই নীতি পরিবর্তনের ঘোষণা দেয়, যা মঙ্গলবারের ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত হওয়ার কথা রয়েছে। নতুন এই নিয়মের ফলে অভিবাসন আবেদনগুলো আরও দ্রুত প্রক্রিয়াজাত করা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থার (ইউএসসিআইএস) কর্মকর্তারা এখন থেকে নির্দিষ্ট কিছু অ্যাজাইলাম আবেদন সরাসরি বিচার বিভাগের অভিবাসন আদালতে পাঠাতে পারবেন। অথচ এর আগে আবেদনকারীদের বাধ্যতামূলকভাবে প্রাথমিক সাক্ষাৎকারের মুখোমুখি হতে হতো, যা বাদ দেওয়ার ফলে পুরো প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। ডিএইচএসের আনুমানিক হিসাব অনুযায়ী, এই নতুন নিয়মের ফলে প্রতি বছর প্রায় ১ লাখ ৩২ হাজার ভবিষ্যৎ আশ্রয়প্রার্থী সরাসরি প্রভাবিত হতে পারেন। ২০২৫ অর্থবছর শেষে তাদের কাছে ১ কোটি ৪০ লাখের বেশি পেন্ডিং বা অমীমাংসিত অ্যাজাইলাম মামলা জমা ছিল, যা দ্রুত নিষ্পত্তি করা প্রশাসনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, আবেদন চূড়ান্তভাবে মঞ্জুর বা নাকচ করার আগে এবং আইনগতভাবে বাধ্যবাধকতা থাকলে সাক্ষাৎকার নেওয়ার প্রক্রিয়াটি বহাল থাকবে। এছাড়া বিদ্যমান নথিপত্রে কেউ অযোগ্য প্রমাণিত হলে কিংবা নিয়ম অনুযায়ী সুরক্ষার উপযুক্ত না হলে অফিসাররা সরাসরি মামলা রেফার করতে পারবেন। ইউএসসিআইএস পরিচালক জোসেফ এডলোর মতে, দীর্ঘকাল ধরে এই সিস্টেমের অপব্যবহার করা হচ্ছে। অন্যদিকে, মানবাধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, প্রাথমিক সাক্ষাৎকার বাদ দেওয়ার এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রকৃত ও নির্যাতিত আশ্রয়প্রার্থীরা নানামুখী জটিলতা ও নির্বাসনের ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। সূত্র: নিউজউইক
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের অভিবাসী আদালতগুলোতে কড়াকড়ি বাড়ায় বড় ধরনের আইনি ঝুঁকিতে পড়েছে শিশুরা। ট্রাম্প প্রশাসনের বিচার বিভাগ মামলার দীর্ঘসূত্রতা কমাতে দ্রুত বিচারকাজ পরিচালনার নীতি গ্রহণ করায় নিউআর্ক ফেডারেল আদালতে শিশু ও অপ্রাপ্তবয়স্ক অভিবাসীদের নির্বাসনের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। স্থানীয় অভিবাসী আইনজীবী ও প্রবক্তাদের তথ্য অনুযায়ী, গত তিন মাসে নিউআর্কের আদালতে একসঙ্গে অনেক মানুষের উপস্থিতি ও অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত শুনানির প্রবণতা ব্যাপকভাবে লক্ষ্য করা গেছে। অনেক ক্ষেত্রে প্রাপ্তবয়স্কদের বিশাল মামলার তালিকার সঙ্গেই শিশু ও অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিচারকাজে যুক্ত করা হচ্ছে, যা শিশুদের সুরক্ষার আইনগত বিধানকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে। আইনি সহায়তার পর্যাপ্ত সুযোগ না থাকা এবং বিচারকাজ দ্রুত শেষ করার তীব্র তাগিদে বহু শিশু আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনো সুযোগই পাচ্ছে না। ফলে তারা প্রতিনিয়ত গুরুতর আইনি জটিলতার মুখোমুখি হচ্ছে এবং কোনো ধরনের আইনি প্রতিনিধিত্ব ছাড়াই তাদের আদালতে হাজিরা দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। ভেরা ইনস্টিটিউট অব জাস্টিসের তথ্য মতে, বিগত ছয় মাসে আদালতে যাওয়া শিশু ও অপ্রাপ্তবয়স্কদের প্রায় ৮১ শতাংশকেই যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাইডেন প্রশাসনের শেষ ছয় মাসের তুলনায় এই নির্বাসনের হার প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে, যা মানবাধিকার কর্মীদের মধ্যে চরম উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। আইনজীবীরা আরও বলছেন, বিশেষ অভিবাসী শিশু মর্যাদা পাওয়ার পরও বর্তমান আইনি ও প্রশাসনিক পরিবর্তনের কারণে অনেক শিশু এখন নির্বাসন থেকে কোনো ধরনের সুরক্ষা পাচ্ছে না। ফলে এসব অসহায় শিশু ও তরুণদের ভবিষ্যৎ জীবন চরম অনিশ্চয়তা ও শঙ্কার মুখে পতিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এবং অভিবাসন বিষয়ক নির্বাহী পর্যালোচনা কার্যালয় অবশ্য জানিয়েছে, আইনি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও যথাসময়ে সম্পন্ন করতেই মূলত মামলার জট কমানোর ওপর এই বাড়তি জোর দেওয়া হচ্ছে। তবে মানবাধিকারকর্মীদের মতে, তাড়াহুড়ো করে এমন কঠোর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ফলে অভিবাসী শিশুরা চরম অমানবিক পরিস্থিতির শিকার হচ্ছে এবং তাদের মৌলিক মানবিক অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। আইনি প্রক্রিয়া আরও দ্রুত করতে সরকার নতুন অভিবাসন বিচারক নিয়োগের প্রক্রিয়াও চালিয়ে যাচ্ছে। তবে প্রয়োজনীয় আইনি পরামর্শদাতা ও আইনজীবীর তীব্র সংকটের কারণে অভিবাসী পরিবার ও শিশুরা চরম আইনি সহায়তাহীনতার মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছে।
মার্কিন চিকিৎসা ভিসায় আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ বাধ্যতামূলক, করদাতাদের ওপর বোঝা না হওয়ার বিষয়টি যাচাই করবে কনস্যুলার কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে বি-২ ভিসার জন্য আবেদনকারীদের চিকিৎসা ব্যয়, সংশ্লিষ্ট সব খরচ এবং যুক্তরাষ্ট্রে যাতায়াতের ব্যয় বহনের আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ দেখাতে হবে। পাশাপাশি প্রতিটি আবেদন কনস্যুলার কর্মকর্তারা পৃথকভাবে পর্যালোচনা করবেন, যাতে নিশ্চিত হওয়া যায় যে আবেদনকারীর যুক্তরাষ্ট্র সফর দেশটির করদাতাদের ওপর কোনো আর্থিক বোঝা সৃষ্টি করবে না। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী, চিকিৎসার জন্য বি-২ ভিসা আবেদনকারীদের সাধারণত নিজ দেশের একজন চিকিৎসকের কাছ থেকে রোগ নির্ণয়সংক্রান্ত নথি জমা দিতে হয়। এতে কেন যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসা প্রয়োজন, তার চিকিৎসাগত কারণ উল্লেখ থাকতে হবে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের যে হাসপাতাল বা চিকিৎসক চিকিৎসা দিতে সম্মত, তাদের পক্ষ থেকে চিকিৎসার সম্ভাব্য সময়কাল, ব্যয় এবং চিকিৎসা গ্রহণের সম্মতিপত্রও দাখিল করতে হতে পারে। এ ছাড়া আবেদনকারী বা তার চিকিৎসার ব্যয় বহনকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব, আয়-সঞ্চয়ের নথি কিংবা কর-সংক্রান্ত কাগজপত্রের মাধ্যমে প্রমাণ করতে হবে যে চিকিৎসা, আবাসন, যাতায়াত এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয় বহনের পর্যাপ্ত সামর্থ্য রয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, ভিসা আবেদনগুলো মামলাভিত্তিক পর্যালোচনা করা হয়। কনস্যুলার কর্মকর্তা আবেদনকারীর স্বাস্থ্য, আর্থিক অবস্থা, পারিবারিক পরিস্থিতি এবং ভ্রমণের উদ্দেশ্যসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেন তিনি যুক্তরাষ্ট্রের আইনে ভিসা পাওয়ার যোগ্য কি না। একই সঙ্গে তারা নিশ্চিত হন যে আবেদনকারী চিকিৎসা বা অন্যান্য ব্যয়ের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বেন না এবং এতে মার্কিন করদাতাদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি হবে না।
শিশুদের নিয়ে কানাডা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পথে এক কানাডীয় পরিবারকে সীমান্তে প্রায় ১২ ঘণ্টা আটকে রেখে জিজ্ঞাসাবাদের পর প্রবেশের অনুমতি না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের সদস্যদের ছবি ও আঙুলের ছাপ নেওয়ার পাশাপাশি তাদের মুঠোফোন তল্লাশি করা হয় এবং একজনের ফোন রেখে দেওয়া হয় বলেও দাবি করা হয়েছে। ঘটনার তিন সপ্তাহ পরও ফোনটি ফেরত পাওয়া যায়নি বলে পরিবারের এক বন্ধুর ভাষ্য। ঘটনাটি সামনে আসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম রেডিটে প্রকাশিত একটি পোস্টের মাধ্যমে। পরে পোস্টটি মুছে ফেলা হয়। ভ্রমণকারীদের এক বন্ধু ওই পোস্টে ঘটনার বিবরণ দিয়ে সীমান্তে কী ঘটেছিল এবং ভবিষ্যতে তারা আবার যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবেন কি না, সে বিষয়ে পরামর্শ চেয়েছিলেন। পরে ভ্রমণবিষয়ক সংবাদমাধ্যম দ্য ট্রাভেল ঘটনাটি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রকাশিত বিবরণ অনুযায়ী, পরিবারটির সদস্যরা কানাডার নাগরিক। তবে সীমান্তে নথিপত্র পরীক্ষা করার সময় তাদের কাছে তিউনিসিয়ার পাসপোর্টও পাওয়া যায়। এরপর তাদের আরও বিস্তারিত যাচাইয়ের জন্য সেকেন্ডারি ইন্সপেকশনে নেওয়া হয় বলে দাবি করা হয়েছে। তবে তিউনিসিয়ার দ্বিতীয় পাসপোর্ট থাকার কারণেই তাদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি, এমন কোনো তথ্য মার্কিন কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন বা সিবিপি নিশ্চিত করেনি। পরিবারটির প্রবেশ প্রত্যাখ্যানের নির্দিষ্ট কারণও প্রকাশ্যে জানা যায়নি। পরিবারটির বন্ধুর দাবি, সেকেন্ডারি ইন্সপেকশনের সময় তাদের ছবি ও আঙুলের ছাপ নেওয়া হয় এবং মুঠোফোন পরীক্ষা করেন কর্মকর্তারা। একপর্যায়ে একজনের ফোন নিজেদের কাছে রেখে দেন সিবিপি কর্মকর্তারা। পোস্টে আরও দাবি করা হয়, শুরুতে কয়েকজন কর্মকর্তা তাদের আশ্বস্ত করেছিলেন যে প্রক্রিয়াটি শেষ হতে বেশি সময় লাগবে না। কিন্তু অপেক্ষা দীর্ঘ হতে হতে প্রায় ১২ ঘণ্টায় গড়ায়। শেষ পর্যন্ত পরিবারটিকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি না দিয়ে কানাডায় ফেরত পাঠানো হয়। পরিবারটির একজনের মুঠোফোন ঘটনার তিন সপ্তাহ পরও ফেরত পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেছেন পোস্টদাতা। ফোনটির বিষয়ে জানতে সীমান্ত কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও স্পষ্ট কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি বলেও তিনি জানান। এই নির্দিষ্ট ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। সিবিপির পক্ষ থেকেও পরিবারটির পরিচয়, ১২ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ, প্রবেশ প্রত্যাখ্যানের কারণ কিংবা ফোনটি দীর্ঘ সময় ধরে রাখার বিষয়ে কোনো প্রকাশ্য বিবৃতি পাওয়া যায়নি। ফলে এসব তথ্য সংশ্লিষ্ট পক্ষের দাবি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তে বিদেশি ভ্রমণকারীদের সেকেন্ডারি ইন্সপেকশনে নেওয়া অস্বাভাবিক নয়। সিবিপির সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক যাচাইয়ের সময় নথিপত্র বা দেওয়া তথ্যে কোনো বিষয় আরও যাচাইয়ের প্রয়োজন হলে, অভিবাসনসংক্রান্ত প্রশ্ন দেখা দিলে অথবা কর্মকর্তারা অতিরিক্ত পরীক্ষা প্রয়োজন মনে করলে একজন যাত্রীকে সেকেন্ডারি ইন্সপেকশনে পাঠাতে পারেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে যাত্রীকে দৈবচয়নের ভিত্তিতেও অতিরিক্ত যাচাইয়ের জন্য নেওয়া হয়। সিবিপির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশপথগুলোতে ৪২ কোটির বেশি আন্তর্জাতিক যাত্রী প্রক্রিয়াকরণ করা হয়। তাদের মধ্যে প্রায় এক কোটি ২৬ লাখ ৬১ হাজার যাত্রীকে সেকেন্ডারি ইন্সপেকশনে পাঠানো হয়েছিল, যা মোট যাত্রীর প্রায় ৩ শতাংশ। সীমান্তে মুঠোফোন তল্লাশির বিষয়েও সিবিপির নির্দিষ্ট নীতিমালা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ বা দেশটি থেকে বের হওয়ার সময় কর্মকর্তারা প্রয়োজনে যাত্রীর মুঠোফোন, কম্পিউটার, ক্যামেরাসহ অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইস পরীক্ষা করতে পারেন। সিবিপির হিসাবে, ২০২৪ অর্থবছরে ৪৭ হাজার ৪৭ জন আন্তর্জাতিক যাত্রীর ইলেকট্রনিক ডিভাইস তল্লাশি করা হয়েছিল, যা মোট যাত্রীর শূন্য দশমিক শূন্য এক শতাংশেরও কম। সিবিপির নীতিমালা অনুযায়ী, সীমান্ত তল্লাশি চালিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনে কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস সাময়িকভাবে নিজেদের কাছে রাখতে পারেন কর্মকর্তারা। পাঁচ দিনের বেশি ডিভাইস রাখতে হলে উচ্চপর্যায়ের অনুমোদনের প্রক্রিয়া রয়েছে এবং ১৫ দিনের বেশি রাখার ক্ষেত্রেও আরও ঊর্ধ্বতন পর্যায়ের অনুমোদন প্রয়োজন। তাই আলোচিত ঘটনায় ফোনটি সত্যিই তিন সপ্তাহ ধরে সিবিপির কাছে থেকে থাকলে সেটি সাধারণ প্রাথমিক সময়সীমার চেয়ে দীর্ঘ। তবে কেন ফোনটি রাখা হয়েছে বা এর জন্য প্রয়োজনীয় ঊর্ধ্বতন অনুমোদন নেওয়া হয়েছে কি না, সে তথ্য প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি। কানাডার নাগরিকদের সাধারণ পর্যটন বা স্বল্পমেয়াদি সফরের জন্য অধিকাংশ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রয়োজন হয় না। কিন্তু কানাডার নাগরিকত্ব বা পাসপোর্ট যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের নিশ্চয়তা দেয় না। যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশপথে একজন বিদেশি নাগরিককে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা সিবিপি কর্মকর্তাদের রয়েছে। এ কারণে পরিবারটির দ্বিতীয় পাসপোর্ট পাওয়ার পর অতিরিক্ত যাচাই শুরু হওয়ার দাবি সংবাদটির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলেও, সেই পাসপোর্টকেই তাদের প্রবেশ প্রত্যাখ্যানের নিশ্চিত কারণ হিসেবে দেখানোর মতো সরকারি তথ্য এখন পর্যন্ত নেই।
যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসের হাতে এক ইউক্রেনীয় নারী আটকের ঘটনায় উদারপন্থী শহরটিতে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে দেশটিতে বসবাসকারী ওই নারীর আটকের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ৩৮ বছর বয়সী ইরিনা গোর্ব পেশায় একজন কফি তৈরির কারিগর এবং পেশাদার আলোকচিত্রী। গত বুধবার পোর্টল্যান্ড থেকে সান ফ্রান্সিসকো বিমানবন্দরে ফিরে আসার পর ফেডারেল এজেন্টরা তাকে আটক করেন। ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির তথ্য অনুযায়ী, ইরিনা ২০১০ সালের জুলাই মাসে আইনগতভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন এবং ২০১১ সালের মে মাস পর্যন্ত তার ভিসার মেয়াদ ছিল। কিন্তু এরপরও তিনি দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করে আসছিলেন। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, বিমানবন্দরের একটি দোকানের সামনে কয়েকজন সাদা পোশাকের এজেন্ট ইরিনাকে মাটিতে চেপে ধরে রেখেছেন। এ সময় তাকে চিৎকার করে বলতে শোনা যায় যে তাকে শ্বাসরোধ করা হচ্ছে এবং তিনি ইউক্রেন থেকে এসেছেন। উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীরা এজেন্টদের পরিচয়পত্র দেখতে চান এবং আটকের কারণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। পরবর্তীতে এজেন্টরা তাকে একটি হুইলচেয়ারে করে নিয়ে যান। আইসিই কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইরিনা পালানোর চেষ্টা করায় এবং গ্রেপ্তারে বাধা দেওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বর্তমানে তাকে হেফাজতে রেখে বহিষ্কারের প্রক্রিয়া চলছে। প্রশাসনের মুখপাত্র বলেছেন, অনিয়মিত প্রবাসীদের জন্য নিজ দায়িত্বে ফিরে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। এদিকে এই ঘটনায় সান ফ্রান্সিসকোর প্রগতিশীল ও উদারপন্থী মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। কংগ্রেসের প্রার্থী ও স্টেট সিনেটর স্কট উইনার এই গ্রেপ্তারের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, ইরিনা সান ফ্রান্সিসকোতে নিজের একটি স্থায়ী ঠিকানা গড়ে তুলেছিলেন এবং তিনি কোনো অপরাধ করেননি। অথচ তাকে জোরপূর্বক ধরে এমন একটি দেশে ফেরত পাঠানোর চেষ্টা চলছে, যা বর্তমানে যুদ্ধের মুখোমুখি। এছাড়া রিচমন্ড সিটি কাউন্সিলের সদস্য ডোরিয়া রবিনসন এই আটককে একটি 'অপহরণ' বলে অভিহিত করেছেন।
বিদেশি নাগরিকরা কীভাবে ব্রিটিশ নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারবেন, সে বিষয়ে সাতটি প্রধান আইনি পথের তথ্য প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্য সরকার। আবেদনকারীর ব্যক্তিগত পরিস্থিতি, পারিবারিক সম্পর্ক, বসবাসের ইতিহাস ও আইনি অবস্থার ওপর ভিত্তি করে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ নির্ধারণ করা হয়। যুক্তরাজ্যের সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, ব্রিটিশ নাগরিকত্ব অর্জনের জন্য নির্দিষ্ট কয়েকটি শ্রেণিতে আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব, ব্রিটিশ নাগরিকের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক, রাষ্ট্রহীন ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা এবং কিছু ঐতিহাসিক পরিস্থিতির আওতায় আবেদন। সরকারের প্রকাশিত সাতটি প্রধান পথ হলো: প্রথমত, জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব। নির্দিষ্ট আইনি শর্ত পূরণ হলে যুক্তরাজ্যে জন্ম নেওয়া ব্যক্তি ব্রিটিশ নাগরিকত্বের জন্য যোগ্য হতে পারেন। তবে শুধু যুক্তরাজ্যে জন্মগ্রহণ করলেই সব ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব পাওয়া যায় না; বাবা-মায়ের অভিবাসন অবস্থা ও জন্মের সময়কার পরিস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ। দ্বিতীয়ত, ব্রিটিশ নাগরিকের স্বামী, স্ত্রী বা সিভিল পার্টনারের মাধ্যমে আবেদন। নির্ধারিত সময় যুক্তরাজ্যে বৈধভাবে বসবাস এবং অন্যান্য শর্ত পূরণ করলে তারা নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারেন। তৃতীয়ত, আইরিশ নাগরিকদের জন্য বিশেষ সুযোগ। নির্দিষ্ট সময় যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী কিছু আইরিশ নাগরিক ব্রিটিশ নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার যোগ্য হতে পারেন। চতুর্থত, রাষ্ট্রহীন ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ বিধান। যাদের কোনো দেশের নাগরিকত্ব নেই, তারা নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ব্রিটিশ নাগরিক হিসেবে নিবন্ধনের সুযোগ পেতে পারেন। পঞ্চমত, আগে ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন এমন ব্যক্তিরা। যারা আইন অনুযায়ী নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছিলেন, তারা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে পুনরায় নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারেন। ষষ্ঠত, বিশেষ পরিস্থিতিতে আবেদন। ব্রিটিশ নাগরিকত্ব আইনের আওতায় কিছু নির্দিষ্ট অবস্থায় থাকা ব্যক্তিদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা রয়েছে। সপ্তমত, চাগোসিয়ান বংশোদ্ভূত ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ সুযোগ। ব্রিটিশ ইন্ডিয়ান ওশান টেরিটরিতে জন্ম নেওয়া ব্যক্তিদের নির্দিষ্ট বংশধররা বিশেষ নিয়মের অধীনে নাগরিকত্বের আবেদন করতে পারেন। এ ছাড়া সাধারণভাবে ব্রিটিশ নাগরিকত্বের আবেদনকারীদের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত পূরণ করতে হয়। এর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাজ্যে বৈধ বসবাসের নির্দিষ্ট সময় পূরণ, ইংরেজি ভাষার দক্ষতা, ‘লাইফ ইন দ্য ইউকে’ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া এবং ‘গুড ক্যারেক্টার’ বা ভালো নৈতিক অবস্থানের প্রমাণ দেওয়া। তবে সবার ক্ষেত্রে একই নিয়ম প্রযোজ্য নয়। আবেদনকারীর ভিসার ধরন, যুক্তরাজ্যে থাকার ইতিহাস, পারিবারিক সম্পর্ক এবং ব্যক্তিগত পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে যোগ্যতার শর্ত পরিবর্তিত হতে পারে। অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্রিটিশ নাগরিকত্বের আবেদন একটি দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া। তাই আবেদন করার আগে নিজের পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় শর্ত ও প্রমাণপত্র ভালোভাবে যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।