অভিবাসন

ছবি: সংগৃহীত
ফাঁকা করা হলো ফ্লোরিডার বিতর্কিত ‘অ্যালিগেটর অ্যালকাট্রেজ’ অভিবাসী আটক কেন্দ্র

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের বিতর্কিত ‘অ্যালিগেটর অ্যালকাট্রেজ’ অভিবাসী আটক কেন্দ্র থেকে সব বন্দিকে সরিয়ে নিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। এর ফলে কেন্দ্রটি কার্যত ফাঁকা হয়ে পড়েছে এবং কার্যক্রম স্থগিত অবস্থায় রয়েছে।   মার্কিন অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগ (ডিএইচএস) জানিয়েছে, আটলান্টিক মহাসাগরে ঘূর্ণিঝড় মৌসুম শুরু হওয়ার কারণে নিরাপত্তা বিবেচনায় বন্দিদের অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়েছে।   বিভাগের মুখপাত্র লরেন বিস অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে বলেন, ‘অবৈধ অভিবাসী বন্দিদের নিরাপত্তার স্বার্থে আমরা তাদের অন্য কেন্দ্রে স্থানান্তর করেছি।’ তবে কতজনকে সরানো হয়েছে এবং তাদের কোথায় পাঠানো হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। কেন্দ্রটি স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হয়েছে কি না, সে বিষয়েও কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।   গত মে মাসে দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে কয়েকজন কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, ফ্লোরিডার ‘বিগ সাইপ্রেস ন্যাচারাল প্রিজার্ভ’-এর ভেতরে অবস্থিত এই কেন্দ্রটি পরিচালনা ব্যয় অত্যন্ত বেশি ছিল।   ২০২৫ সালের ১৯ জুন এই আটক কেন্দ্রটি চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়। সান ফ্রান্সিসকোর কুখ্যাত ‘অ্যালকাট্রেজ’ কারাগারের আদলে এর নামকরণ করা হয়। জলাভূমিবেষ্টিত দুর্গম এলাকায় নির্মিত এই কেন্দ্রটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছিল যাতে পালিয়ে যাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়।   ফ্লোরিডার অ্যাটর্নি জেনারেল জেমস উথমিয়ার এক সময় বলেছিলেন, ‘কেউ যদি এখান থেকে পালায়, তবে বাইরে কুমির ও অজগর ছাড়া কিছুই অপেক্ষা করছে না।’   গত জুলাইয়ে কেন্দ্রটি চালুর পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডিসান্টিসকে সঙ্গে নিয়ে এটি পরিদর্শন করেন। ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদে গণ-ডিপোর্টেশন নীতির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।   চালুর পর থেকেই এই কেন্দ্রটি ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেয়। স্থানীয় মিকোসুকে ও সেমিনোল আদিবাসী নেতারা অভিযোগ করেন, এটি এভারগ্লেডস অঞ্চলে তাদের আবাসস্থল ও ধর্মীয় স্থানে ক্ষতি করছে।   মানবাধিকার সংস্থাগুলোও কেন্দ্রটির অবস্থান, জলবায়ু ঝুঁকি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। ফ্লোরিডায় তীব্র গরম, ভারী বৃষ্টি এবং ঘূর্ণিঝড় পরিস্থিতিতে এটি কতটা নিরাপদ, তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।   এক বছরের কার্যক্রমে কেন্দ্রটির বিরুদ্ধে একাধিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে। বন্দিদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, তাদের আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেওয়া হতো না। চিকিৎসা অবহেলা এবং খাবারে পোকা থাকার অভিযোগও উঠে আসে।   আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নের (এসিএলইউ) আইনজীবী অ্যামি গডশাল বলেন, ‘এই নিষ্ঠুর কেন্দ্র থেকে মানুষকে সরিয়ে নেওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ, তবে এতে পূর্বের ক্ষতি মুছে যায় না।’ তিনি কেন্দ্রটি স্থায়ীভাবে বন্ধের দাবি জানান।   প্রায় ৩ হাজার ধারণক্ষমতার এই কেন্দ্রটি হারিকেন প্রতিরোধে শক্তিশালী কাঠামো হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও নতুন করে তৈরি হওয়া ‘ট্রপিক্যাল স্টর্ম আর্থার’-এর পরিপ্রেক্ষিতে বন্দি সরানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।   সূত্র: আল-জাজিরা

শাহারিয়া নয়ন জুন ১৭, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে সোশ্যাল সিকিউরিটি তহবিলে বড় সংকট, অবসর ভাতায় কাটছাঁটের আশঙ্কা

যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ‘সোশ্যাল সিকিউরিটি’ আগামী মাত্র ছয় বছরের মধ্যে বড় ধরনের তহবিল সংকটের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধি, বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি, কম অভিবাসন এবং কর কাঠামোর পরিবর্তনের কারণে এই খাতের ওপর তীব্র চাপ তৈরি হয়েছে। এর ফলে অবসরে যাওয়া এবং প্রতিবন্ধী নাগরিকদের মাসিক সুবিধায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে বড় ধরনের কাটছাঁটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।   তবে নীতিনির্ধারক ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব, যদি মার্কিন আইনপ্রণেতারা কিছু কঠিন অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে রাজি হন। সোশ্যাল সিকিউরিটি প্রশাসনের প্রধান অ্যাকচুয়ারি কারেন গ্লেন জানিয়েছেন, এটি মূলত একটি সাধারণ গাণিতিক সমস্যা হলেও এর রাজনৈতিক সমাধান বেশ জটিল। এই ঘাটতি পূরণ করতে হলে সরকারকে হয় করের হার বাড়াতে হবে, নয়তো নাগরিকদের সুযোগ-সুবিধা কমাতে হবে, অথবা দুইয়ের সংমিশ্রণ ঘটাতে হবে।   সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি ভুল ধারণা রয়েছে যে, সোশ্যাল সিকিউরিটি দেউলিয়া হয়ে গেলে হয়তো সুবিধাভোগী প্রায় ৭ কোটি আমেরিকান আর কোনো অর্থই পাবেন না। কিন্তু অর্থনীতিবিদরা স্পষ্ট করেছেন যে, তহবিল শেষ হলেও মাসিক চেক দেওয়া পুরোপুরি বন্ধ হবে না, তবে বর্তমানে চলমান গড় মাসিক পেমেন্ট ২,০৭১ ডলার থেকে প্রায় ৫০০ ডলার পর্যন্ত কমে যেতে পারে।   এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশেষজ্ঞরা মূলত কয়েকটি সম্ভাব্য সমাধানের কথা বলছেন। এর মধ্যে অন্যতম হলো সোশ্যাল সিকিউরিটি ট্যাক্স ক্যাপ বা করের সর্বোচ্চ সীমা বাতিল করা। বর্তমানে ২০২৬ সালে ১,৮৪,৫০০ ডলারের বেশি আয়ের ওপর কোনো পে-রোল কর দিতে হয় না। এই সীমা তুলে দিলে বা উচ্চ আয়ের মানুষের ওপর কর পুনর্বহাল করলে তহবিলের ঘাটতি অনেকটাই দূর করা সম্ভব। এছাড়া পে-রোল ট্যাক্সের বর্তমান হার ৬.২ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে কর্মী ও নিয়োগকর্তা উভয়ের জন্যই ৮.৫ শতাংশ করার প্রস্তাবও রয়েছে, যা এই সংকট সম্পূর্ণ দূর করতে পারে।   অন্যান্য বিকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে পূর্ণ অবসরের বয়সসীমা ৬৭ থেকে বাড়িয়ে ৬৯ বছর করা, যার ফলে নাগরিকদের আয়ু বৃদ্ধির সাথে সামঞ্জস্য রাখা সম্ভব হলেও বার্ষিক সুবিধা গড়ে ১৩ শতাংশ পর্যন্ত কমে আসবে। পাশাপাশি উচ্চ আয়ের চাকরিজীবীদের জন্য সোশ্যাল সিকিউরিটির সুবিধা কমিয়ে দেওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছেন কিছু রিপাবলিকান নীতিনির্ধারক।   অন্যদিকে, দেশের শীর্ষ ধনীদের বিনিয়োগ খাত, যেমন ক্যাপিটাল গেইন্স বা লভ্যাংশের ওপর নতুন করে কর আরোপের দাবি তুলেছেন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স। সম্প্রতি স্পেসএক্স-এর আইপিও-র মাধ্যমে ইলন মাস্ক বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হওয়ার ঘটনার পর এই আলোচনা আরও গতি পেয়েছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, ধনকুবেরদের বিনিয়োগের ওপর ১২.৪ শতাংশ কর আরোপ করা গেলে সোশ্যাল সিকিউরিটির এই দীর্ঘমেয়াদি সংকট পুরোপুরি সমাধান করা সম্ভব। তবে শেষ পর্যন্ত কোন গোষ্ঠী এই সংস্কারের খরচ বহন করবে, তা নিয়ে মার্কিন রাজনীতিতে বিতর্ক এখনও তুঙ্গে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ১৭, ২০২৬ ১৪:০ 0
সেনেগাল জাতীয় ফুটবল দলের ফরোয়ার্ড ইলিমান এনদিয়ায়ে | ছবি: সংগৃহীত
অভিবাসন ও ফিফার নতুন নিয়মে ফুটবল বিশ্বকাপ এখন এক অন্যরকম ডায়াসপোরা টুর্নামেন্ট

বিশ্বকাপ ফুটবলের প্রায় এক শতাব্দীর ইতিহাসে অভিবাসন এবং ঔপনিবেশিক সম্পর্ক খেলোয়াড়দের জাতীয় পরিচয় নির্ধারণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। ১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপে লিভারপুলে জন্ম নেওয়া জর্জ মুরহাউস ইংল্যান্ডের পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে মাঠে নেমেছিলেন, যা ছিল বিশ্বকাপের ইতিহাসে কোনো ইংলিশ খেলোয়াড়ের ভিন্ন দেশের হয়ে খেলার প্রথম ঘটনা। সেই আসরে মার্কিন দলে স্কটল্যান্ডে জন্ম নেওয়া আরও পাঁচজন ফুটবলার ছিলেন, যারা তৎকালীন নিয়ম অনুযায়ী অভিবাসনের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেন। বর্তমান ফুটবল বিশ্বকাপেও এই চিত্র আরও ব্যাপকভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে, যেখানে বহু খেলোয়াড়ের পারিবারিক শিকড় এক দেশে হলেও জন্ম ও বেড়ে ওঠা অন্য দেশে।   এবারের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী মোট ১,২৪৮ জন খেলোয়াড়ের মধ্যে ২৯২ জনই নিজেদের প্রতিনিধিত্ব করা দেশের বাইরে জন্মগ্রহণ করেছেন। অংশগ্রহণকারী ৪৮টি দলের মধ্যে মাত্র আটটি দল ছাড়া বাকি সব দলের স্কোয়াডেই অন্তত একজন বিদেশে জন্ম নেওয়া খেলোয়াড় রয়েছেন। এই তালিকায় সবচেয়ে ব্যতিক্রমী দল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে কুরাসাও, যাদের স্কোয়াডের একজন ছাড়া বাকি সব খেলোয়াড়ই নেদারল্যান্ডসে জন্মগ্রহণ করেছেন। অন্যদিকে মরক্কো ও কাতারের মতো দলগুলো প্রকৃত অর্থেই বহুজাতিক রূপ ধারণ করেছে, যেখানে ব্রাজিলের বিপক্ষে মরক্কোর ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে থাকা ১১ জন খেলোয়াড়ের সবাই দেশের বাইরে জন্মেছিলেন।   বিশ্ব ফুটবলে খেলোয়াড় সরবরাহের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে রূপান্তরিত হয়েছে ফ্রান্স। চলতি বিশ্বকাপে মোট ৯৮ জন ফরাসি বংশোদ্ভূত খেলোয়াড় অংশ নিচ্ছেন, যাদের মধ্যে ৭৬ জনই ফ্রান্সের বাইরে অন্য দেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন। এই তালিকায় সবচেয়ে এগিয়ে আছে আলজেরিয়া, যাদের দলে সর্বোচ্চ ১৩ জন ফ্রান্সে জন্ম নেওয়া ফুটবলার রয়েছেন। এর পরেই রয়েছে হাইতি, সেনেগাল, আইভরি কোস্ট এবং কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র। সেনেগাল দলের ১০ জন খেলোয়াড় ফ্রান্সে জন্মগ্রহণ করলেও পারিবারিক শিকড়ের টানে তারা নিজেদের পূর্বপুরুষের দেশের হয়ে মাঠে নামছেন।   ফিফার জাতীয় দলে খেলার যোগ্যতা নির্ধারণের নিয়মে বেশ কিছু ঐতিহাসিক পরিবর্তন এই প্রক্রিয়াকে আরও সহজ করেছে। নাগরিকত্বের পাশাপাশি দ্বৈত নাগরিকত্বধারী খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে বাবা-মা বা দাদা-দাদির জন্মসূত্র অথবা সংশ্লিষ্ট দেশে ন্যূনতম পাঁচ বছর বসবাসের শর্ত প্রযোজ্য হয়। ২০০৪ সালের আগে বয়সভিত্তিক দলে খেললে অন্য দেশে যাওয়ার সুযোগ ছিল না। তবে আলজেরিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের আপত্তির মুখে ফিফা নিয়ম পরিবর্তন করে শর্তসাপেক্ষে ২১ বছর বয়সের আগে একবার জাতীয়তা পরিবর্তনের সুযোগ দেয়। পরবর্তীতে ২০০৯ এবং ২০২০ সালে এই নিয়ম আরও শিথিল করা হয়, যার ফলে দিয়েগো কস্তা বা ডেকলান রাইসের মতো তারকারা প্রীতি ম্যাচ খেলার পরও অন্য দেশের জাতীয় দলকে বেছে নিতে পেরেছেন।   খেলোয়াড়দের এই জটিল আন্তর্জাতিক স্থানান্তর প্রক্রিয়ায় স্পেনে জন্ম নেওয়া মুনির আল হাদ্দাদির মামলাটি ফুটবল ইতিহাসে এক নতুন যুগের সূচনা করে। ২০১৪ সালে স্পেনের হয়ে মাত্র ১৩ মিনিট খেলার কারণে মরক্কোর হয়ে তার খেলার আবেদন প্রথমে বাতিল হলেও ২০২০ সালের নতুন নিয়মে তিনি খেলার অনুমতি পান। নতুন নিয়মে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, ২১ বছরের আগে সর্বোচ্চ তিনটি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেললেও তিন বছর অপেক্ষা করে একবার জাতীয়তা পরিবর্তন করা যাবে। তবে শুধুমাত্র খেলার উদ্দেশ্যে নাগরিকত্ব কেনা যাবে না, খেলোয়াড়কে দেশের সঙ্গে প্রকৃত সম্পর্ক প্রমাণ করতে হবে।   বর্তমান সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন ফুটবল ফেডারেশন প্রবাসী বা দ্বৈত নাগরিকত্বধারী প্রতিভাদের খুঁজে বের করার জন্য আধুনিক প্রযুক্তি ও বিশেষ স্কাউট নিয়োগ করছে। তারা ট্রান্সফার মার্কেটের মতো ডাটাবেস ব্যবহার, হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ, লিংকডইন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খেলোয়াড়দের পারিবারিক ইতিহাস অনুসন্ধান করছে। এমনকি জনপ্রিয় ভিডিও গেম ‘ফুটবল ম্যানেজার’-এর ডেটা ব্যবহার করে চিলির ফুটবল ফেডারেশন ইংল্যান্ডে জন্ম নেওয়া বেন ব্রেরেটন দিয়াজের মায়ের চিলিয়ান নাগরিকত্বের তথ্য খুঁজে বের করে। জন্মভূমি ও পূর্বপুরুষের দেশের মধ্যকার এই টানাপোড়েনই আধুনিক বিশ্বকাপকে রূপ দিয়েছে এক অনন্য বহুজাতিক মঞ্চে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ জুন ১৫, ২০২৬ ১৪:০ 0
ফাইল ছবি
যুক্তরাষ্ট্রে শরণার্থী ও অভিবাসন আবেদন প্রক্রিয়া পুনরায় চালু হয়েছে

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা (ইউএসসিআইএস) ফেডারেল আদালতের নির্দেশনা অনুসরণ করে শরণার্থী ও অভিবাসনসংক্রান্ত আবেদনগুলোর প্রক্রিয়াকরণ পুনরায় শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে। আদালতের রায় বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।   গত শুক্রবার (১২ জুন) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইউএসসিআইএস জানায়, রোড আইল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের প্রভিডেন্সে ফেডারেল আদালতের প্রধান বিচারকের দেওয়া রায়ের সঙ্গে সংস্থাটি একমত না হলেও পরবর্তী বিচারিক পর্যালোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা আদালতের নির্দেশনা মেনে চলবে।   সংস্থাটি আরও জানায়, গত বৃহস্পতিবার চূড়ান্ত আদালতের আদেশ জারি হওয়ার পর থেকেই ইউএসসিআইএস এবং সংশ্লিষ্ট অংশীদার প্রতিষ্ঠানগুলো নির্দেশনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে।   গত সপ্তাহে রোড আইল্যান্ডের প্রধান বিচারক জন ম্যাককনেল এক রায়ে বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন ৩৯টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসন সুবিধা সীমিত করে আইন লঙ্ঘন করেছে। এসব দেশের মধ্যে আফগানিস্তানও রয়েছে।   ২০২৫ সালের শেষ দিকে একজন আফগান নাগরিকের সঙ্গে জড়িত একটি বন্দুক হামলার ঘটনার পর ট্রাম্প প্রশাসন ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে বিবেচিত কয়েকটি দেশের নাগরিকদের আশ্রয় আবেদন, ওয়ার্ক পারমিট, গ্রিন কার্ড এবং অন্যান্য অভিবাসন সুবিধার আবেদন প্রক্রিয়া স্থগিত বা বিলম্বিত করেছিল।   আদালতের রায়ে বলা হয়, এই নীতি যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও প্রশাসনিক আইনের পরিপন্থী। এর ফলে হাজারো আবেদনকারী দীর্ঘ সময় অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েন। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ও সহায়তা কর্মসূচিতে কাজ করা বহু আফগান নাগরিক নিরাপত্তা যাচাই সম্পন্ন করার পরও তাদের অভিবাসন আবেদন স্থগিত অবস্থায় ছিল।   আদালতের নির্দেশনার পর ইউএসসিআইএস জানিয়েছে, পরবর্তী আইনি কার্যক্রম চলমান থাকলেও ক্ষতিগ্রস্ত আবেদনগুলোর প্রক্রিয়াকরণ পুনরায় শুরু করা হবে। এতে আফগান শরণার্থী, বিশেষ অভিবাসী ভিসা (এসআইভি) সুবিধাভোগী এবং মানবিক সুরক্ষা প্রত্যাশী হাজারো আবেদনকারী কিছুটা স্বস্তি পাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।   তবে ট্রাম্প প্রশাসন এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতিতে কঠোর নিরাপত্তা যাচাই, শরণার্থী গ্রহণ সীমিতকরণ এবং উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত দেশগুলোর নাগরিকদের প্রবেশে বিধিনিষেধ আরোপকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এর ফলে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন প্রক্রিয়া আরও জটিল ও সময়সাপেক্ষ হয়ে উঠেছে।

বায়জিদ হাসান জুন ১৪, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
সুইজারল্যান্ডের জনসংখ্যা ১ কোটিতে সীমাবদ্ধ রাখার প্রস্তাব ভোট দিয়ে প্রত্যাখ্যান করলেন নাগরিকরা

সুইজারল্যান্ডের মোট জনসংখ্যা কোনোভাবেই ১ কোটির ওপরে যেতে দেওয়া যাবে না—ডানপন্থী দলগুলোর এমন একটি বিতর্কিত প্রস্তাব গণভোটে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন দেশটির নাগরিকরা। প্রাথমিক ফলাফলের বরাত দিয়ে রোববার আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস এই তথ্য জানিয়েছে। দেশটির শীর্ষ কট্টর ডানপন্থী দল ‘সুইস পিপলস পার্টি’ জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের এই কঠোর প্রস্তাবটি সামনে এনেছিল।   প্রাথমিক ভোট গণনা অনুযায়ী, সুইজারল্যান্ডের প্রায় ৫৫ শতাংশ ভোটার এই প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন। দেশজুড়ে প্রায় ৫৯ শতাংশ ভোটার এই ঐতিহাসিক গণভোটে অংশ নেন। সুইজারল্যান্ডের পার্লামেন্টে সবচেয়ে বেশি আসন থাকা পপুলিস্ট এই ডানপন্থী দলটি দীর্ঘদিন ধরেই অভিবাসনবিরোধী মনোভাব উসকে আসছিল। বিশেষ করে প্রতিবেশী ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে আসা কর্মীদের ঢল ঠেকাতে তারা এই গণভোটের আয়োজন করে।   সমালোচকরা এই প্রস্তাবটিকে ‘সুইস ব্রেক্সিট’ নামে অভিহিত করেছিলেন। কারণ এই আইন পাস হলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে সুইজারল্যান্ডের দীর্ঘদিনের গভীর অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক এবং মুক্ত যাতায়াতের চুক্তিগুলো বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়ত। যদিও সুইজারল্যান্ড ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি সদস্য দেশের একটি নয়, তবে এটি চারপাশ থেকে অন্যান্য সদস্য দেশগুলো দিয়েই পরিবেষ্টিত।   কট্টরপন্থী দলটির দাবি ছিল, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জনসংখ্যা অতিরিক্ত বৃদ্ধির কারণে সুইজারল্যান্ডের আবাসন ব্যবস্থা, সামাজিক কর্মসূচি, প্রাকৃতিক সম্পদ এবং ঐতিহ্যগত জীবনযাত্রার ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। তবে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার, পার্লামেন্ট এবং প্রধান ব্যবসায়ী সংগঠন ‘ইকোনমিসুইস’ শুরু থেকেই এই প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করে আসছিল। কারণ দেশটির চিকিৎসা, অর্থায়ন, ওষুধ এবং প্রযুক্তি খাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরগুলো মূলত বিদেশী দক্ষ কর্মীদের ওপর নির্ভরশীল।   সুইজারল্যান্ডের নিয়ম অনুযায়ী, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে ২০৫০ সালের মধ্যে জনসংখ্যা ১ কোটির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে সরকারকে বাধ্যতামুলক ব্যবস্থা নিতে হতো। এমনকি জনসংখ্যা ৯৫ লাখে পৌঁছালেই রাজনৈতিক আশ্রয়, পারিবারিক পুনর্মিলন এবং রেসিডেন্সি পারমিট দেওয়া বন্ধ করতে হতো। তবে ভোটাররা সচেতনভাবে এই প্রস্তাবটি নাকচ করে দেওয়ায় সুইজারল্যান্ডের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং বৈচিত্র্যময় সামাজিক কাঠামো আপাতত সুরক্ষিত রইল।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ জুন ১৩, ২০২৬ ১৪:০ 0
ফাইল ছবি
কেনো হাজার হাজার মানুষ ছাড়ছেন মার্কিন নাগরিকত্ব?

একসময় মার্কিন নাগরিকত্বকে বিশ্বের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত পরিচয়গুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হতো। সেই নাগরিকত্ব অর্জনের জন্য বহু মানুষ বছরের পর বছর অপেক্ষা করেছেন, আইনি লড়াই করেছেন এবং জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছেন। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভিন্ন একটি প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ স্বেচ্ছায় মার্কিন নাগরিকত্ব ত্যাগ করছেন।   এই প্রবণতার পেছনে রাজনৈতিক মতপার্থক্যের পাশাপাশি রয়েছে করব্যবস্থা, আর্থিক জটিলতা, বিদেশে বসবাসের বাস্তবতা এবং নতুন পরিচয়ের সন্ধান। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গত কয়েক বছরে নাগরিকত্ব ত্যাগের প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টারনাল রেভিনিউ সার্ভিস (আইআরএস)-এর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে ৪ হাজার ৮৮৯ জন মার্কিন নাগরিক তাদের নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন। এটি গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যা। অভিবাসন ও করবিষয়ক বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ২০২৬ সালে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের হিসাবে, বর্তমানে ৪০ হাজারের বেশি প্রবাসী আমেরিকান নাগরিকত্ব ত্যাগের প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপে রয়েছেন।   নিউজিল্যান্ডে বসবাসকারী ৩৪ বছর বয়সী ইরিন ক্লাট তাদেরই একজন। ২০১৬ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে নিউজিল্যান্ডে স্থায়ী হন। প্রায় এক দশক পর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে মার্কিন নাগরিকত্ব ত্যাগ করেন।   নিজের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, “আমি কখনোই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে খুব গভীরভাবে নিজেকে যুক্ত অনুভব করিনি। রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং বিদেশে থেকেও যুক্তরাষ্ট্রের করব্যবস্থার আওতায় থাকার বিষয়টি আমাকে এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে। এখন আমার কোনো অনুশোচনা নেই।”   সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজনৈতিক কারণ নিয়ে আলোচনা বেশি হলেও অধিকাংশ মানুষের ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক বিষয়গুলোই প্রধান ভূমিকা পালন করে।   যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের অল্প কয়েকটি দেশের মধ্যে একটি, যারা নাগরিকত্বের ভিত্তিতে কর আরোপ করে। অর্থাৎ একজন মার্কিন নাগরিক পৃথিবীর যে দেশেই বসবাস করুন না কেন, নির্দিষ্ট শর্ত অনুযায়ী তাকে যুক্তরাষ্ট্রে কর-সংক্রান্ত তথ্য জমা দিতে হয়। ফরেন অ্যাকাউন্ট ট্যাক্স কমপ্লায়েন্স অ্যাক্ট (FATCA) কার্যকর হওয়ার পর এই বাধ্যবাধকতা আরও কঠোর হয়েছে।   এর ফলে বিদেশে বসবাসকারী বহু আমেরিকান বিভিন্ন আর্থিক জটিলতার মুখোমুখি হচ্ছেন। ইউরোপের অনেক ব্যাংক জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিক ব্যক্তিদের অ্যাকাউন্ট খোলার ক্ষেত্রে অনাগ্রহ দেখায়। অনেকের জন্য গৃহঋণ গ্রহণ, অবসরকালীন সঞ্চয় গঠন কিংবা বিনিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনাও জটিল হয়ে উঠেছে।   এদিকে নাগরিকত্ব ত্যাগের প্রশাসনিক প্রক্রিয়াও কিছুটা সহজ হয়েছে। চলতি বছর মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট নাগরিকত্ব ত্যাগের আবেদন ফি ২ হাজার ৩৫০ ডলার থেকে কমিয়ে ৪৫০ ডলারে নির্ধারণ করেছে। প্রায় ৮০ শতাংশ ফি কমানোর পর আবেদনকারীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।   তবে নাগরিকত্ব ত্যাগের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন সহজ নয়। আবেদনকারীকে আগে অন্য কোনো দেশের নাগরিকত্ব অর্জন করতে হয়। এরপর পাঁচ বছরের কর-সংক্রান্ত নথিপত্র জমা দিতে হয়, মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটে সশরীরে উপস্থিত হয়ে শপথ করতে হয় এবং দীর্ঘ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। যাদের সম্পদের পরিমাণ ২০ লাখ ডলারের বেশি, তাদের জন্য অতিরিক্ত কর-সংক্রান্ত বিধানও প্রযোজ্য হতে পারে।   আইনজীবীরা সতর্ক করে বলছেন, এটি একটি স্থায়ী সিদ্ধান্ত। নাগরিকত্ব ত্যাগের পর ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের জন্য ভিসার প্রয়োজন হবে এবং সেই ভিসা পাওয়ার নিশ্চয়তা থাকে না। এ কারণে সাময়িক রাজনৈতিক ক্ষোভ বা স্বল্পমেয়াদি আর্থিক সুবিধার কথা বিবেচনা করে এমন সিদ্ধান্ত না নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন তারা।   প্রবাসী আমেরিকানদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন Americans Overseas-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা Dan Durlacher মনে করেন, নাগরিকত্ব ত্যাগের আগে মানুষের আরও গভীরভাবে বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত।   তার ভাষায়, “আপনি যদি মার্কিন নাগরিক হন, তাহলে এখনও আপনার ভোট দেওয়ার অধিকার রয়েছে। সেই অধিকার ব্যবহার করে পরিবর্তনের চেষ্টা করা যেতে পারে।”   মার্কিন নাগরিকত্ব এখনও বিশ্বের অন্যতম মূল্যবান পরিচয় হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে বৈশ্বিক জীবনযাত্রা, করনীতি এবং পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে সেই পরিচয় ধরে রাখার খরচ ও দায়বদ্ধতাও বেড়েছে। ফলে একসময় যে নাগরিকত্ব অর্জন ছিল বহু মানুষের স্বপ্ন, সেটি ত্যাগ করাও এখন অনেকের কাছে কঠিন কিন্তু বাস্তব একটি সিদ্ধান্ত হয়ে উঠছে।

শাহারিয়া নয়ন জুন ১২, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবিঃ নিউইয়র্ক পোস্ট
অবৈধ অভিবাসন ও আর্থিক জালিয়াতি ঠেকাতে মার্কিন ব্যাংকগুলোকে বিশেষ ক্ষমতা দিল ট্রাম্প প্রশাসন

মেক্সিকান অপরাধী চক্র (কার্টেল)-এর অর্থদাতা এবং অবৈধ অভিবাসন কেন্দ্রিক আর্থিক জালিয়াতি চক্রকে চিহ্নিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় ব্যাংকগুলোকে এক নজিরবিহীন ও ব্যাপক ক্ষমতা দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।   মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের পক্ষ থেকে শুক্রবার (১২ জুন) জানানো হয়েছে, এখন থেকে ব্যাংকগুলো সন্দেহভাজন গ্রাহকদের সিসিটিভি ফুটেজ এবং আইপি অ্যাড্রেসের মতো স্পর্শকাতর সাইবার ডেটা নিজেদের মধ্যে আদান-প্রদান করতে পারবে।   হিউস্টনে ব্যাংকারদের এক সভায় মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট জানান, বিদায়ী বাইডেন প্রশাসনের সময় "অবারিত অবৈধ অভিবাসনের" সুযোগ নিয়ে অপরাধী চক্রগুলো মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থায় কালো টাকা পাচার করেছে।   এর ফলে কেবল ২০২৫ সালেই বেতন কর ফাঁকির (পে-রোল ট্যাক্স ফ্রড) মাধ্যমে ব্যাংকগুলোতে আড়াই বিলিয়ন (২৫০ কোটি) ডলারের সন্দেহজনক লেনদেন হয়েছে। এই বিশাল জালিয়াতি সরাসরি সীমান্ত সংকটের সাথে জড়িত বলে তিনি উল্লেখ করেন।   মার্কিন প্রশাসনের এই কঠোর পদক্ষেপটি মূলত দেশটির বিতর্কিত 'প্যাট্রিয়ট অ্যাক্ট'-এর ধারা ৩১৪(বি)-এর ওপর ভিত্তি করে নেওয়া হয়েছে। ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইমস এনফোর্সমেন্ট নেটওয়ার্ক (ফিনসেন) জানিয়েছে, ব্যাংকগুলো যেন সন্দেহভাজন লেনদেনের ক্ষেত্রে একে অপরের সাথে তথ্য শেয়ার করে দ্রুত কেন্দ্রীয় সংস্থাকে (এফবিআই বা ফেডারেল কর্তৃপক্ষ) অবহিত করতে পারে, সেজন্যই এই পদক্ষেপ।   ট্রেজারি বিভাগ কিছু সুনির্দিষ্ট জালিয়াতির লক্ষণ বা 'রেড ফ্ল্যাগ' চিহ্নিত করেছে; যেমন— কোনো অ্যাকাউন্টে হঠাৎ নতুন বেতনভোগী যুক্ত করে বিপুল পরিমাণ অর্থ স্থানান্তর করা, ভৌগোলিকভাবে দূরবর্তী কোনো স্থান থেকে অ্যাকাউন্ট লগ-ইন করা, কিংবা একাধিক অ্যাকাউন্টে একই পরিচয়পত্র ব্যবহার করা।   এর আগে গ্রাহকদের নাগরিকত্বের তথ্য সংগ্রহ বাধ্যতামূলক করার জন্য হোয়াইট হাউজ একটি নির্বাহী আদেশ জারির পরিকল্পনা করেছিল, তবে নথিপত্রের পাহাড় ও বিপুল খরচের যুক্তিতে ব্যাংকিং খাতের তীব্র লবিংয়ের মুখে তা থেকে পিছিয়ে এসে এই নতুন কৌশল অবলম্বন করা হয়েছে।   ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট স্পষ্ট করে বলেছেন, এই নির্দেশনার অর্থ ব্যাংক কর্মকর্তাদের 'ইমিগ্রেশন অফিসার' বানিয়ে দেওয়া নয় কিংবা ঢালাওভাবে কোনো নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বন্ধ করাও এর উদ্দেশ্য নয়।   বরং ব্যাংকগুলো যেন তাদের গ্রাহকদের চিনে ঝুঁকি চিহ্নিত করতে পারে এবং সন্দেহজনক লেনদেন রোধ করতে পারে, সেই টুলস তাদের হাতে দেওয়া হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশিত এই ক্র্যাকডাউনটি মূলত ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বাধীন 'হোয়াইট হাউজ টাস্ক ফোর্স টু এলিমিনেট ফ্রড'-এর মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে।   ফিনসেনের এই নির্দেশনা আইনিভাবে বাধ্যতামূলক না হলেও, এটি অমান্য করলে ব্যাংকগুলোকে কঠোর আইনি তদন্ত ও জরিমানার মুখে পড়তে হতে পারে; যেমনটি গত মার্চ মাসে নিউ ইয়র্ক-ভিত্তিক বিনিয়োগ ব্যাংক ক্যানাকর্ড জেনুইটিকে সন্দেহজনক লেনদেন পর্যবেক্ষণে ব্যর্থতার জন্য রেকর্ড ৮০ মিলিয়ন ডলার জরিমানা করা হয়েছিল। দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম দিনই সীমান্তে জরুরি অবস্থা জারি এবং ওয়ার্ক পারমিট বন্ধের পর ট্রাম্পের অভিবাসন বিরোধী অভিযানের এটিই সর্বশেষ বড় ধাক্কা।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ১২, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
ফ্লোরিডায় অভিবাসনবিরোধী অভিযান তিনগুণের বেশি বৃদ্ধি, প্রায় ৩৯ হাজার গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে অভিবাসন আইন প্রয়োগে গ্রেপ্তারের সংখ্যা আগের তুলনায় তিনগুণেরও বেশি বেড়েছে বলে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। জানুয়ারি ২০২৫ থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩৯ হাজার গ্রেপ্তার হয়েছে, যা দেশটিতে টেক্সাসের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।   ক্যালিফোর্নিয়ার বার্কলে বিশ্ববিদ্যালয়ের “ডিপোর্টেশন ডাটা প্রজেক্ট”-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম ৪১৬ দিনে ফ্লোরিডায় দৈনিক গড়ে ৯৩টি করে অভিবাসন-সম্পর্কিত গ্রেপ্তার হয়েছে। একই সময়ে পূর্ববর্তী প্রশাসনের তুলনায় এই সংখ্যা ছিল দৈনিক প্রায় ২৭টি।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফ্লোরিডার এই অভিযানে ৩৪৭টি অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় সংস্থা অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন পুলিশ বিভাগ, শেরিফ অফিস, ফ্লোরিডা ফিশ অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন কমিশন, ফ্লোরিডা লটারি বিভাগ, হাইওয়ে পেট্রোল এবং ন্যাশনাল গার্ড।   এই সংস্থাগুলো ২৮৭(জি) নামে পরিচিত চুক্তির আওতায় কাজ করছে, যার মাধ্যমে স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে অভিবাসন আইন প্রয়োগের ক্ষমতা দেওয়া হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে এই ধরনের চুক্তির একটি বড় অংশই বর্তমানে ফ্লোরিডায় কেন্দ্রীভূত।   তবে এই কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্নও উঠছে। একাধিক সংস্থা গ্রেপ্তার সংক্রান্ত প্রতিবেদন এবং বডি ক্যামেরার ফুটেজ প্রকাশে অনীহা দেখিয়েছে। তাদের দাবি, এসব তথ্য ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের নির্দেশনার আওতায় এবং ফেডারেল অনুমোদন ছাড়া প্রকাশ করা সম্ভব নয়।   আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করেন, এই অবস্থান ফ্লোরিডার “সানশাইন আইন”-এর সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। ওই আইন অনুযায়ী সরকারি নথি সাধারণত জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রাখার বাধ্যবাধকতা রয়েছে, বিশেষ ব্যতিক্রম ছাড়া।   প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ অংশগ্রহণকারী সংস্থাগুলোকে আর্থিক সহায়তাও দিচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রতিটি কর্মকর্তার জন্য সরঞ্জাম কেনার ক্ষেত্রে ৭ হাজার ৫০০ ডলার পর্যন্ত এবং নতুন যানবাহনের জন্য প্রতিটি সংস্থাকে ১ লাখ ডলার পর্যন্ত সহায়তা।   সব মিলিয়ে বিশ্লেষকদের মতে, ফ্লোরিডায় অভিবাসন নীতি প্রয়োগের এই বিস্তৃতি একদিকে আইন প্রয়োগ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করছে, অন্যদিকে স্বচ্ছতা, প্রশাসনিক দায়বদ্ধতা এবং নাগরিক অধিকারের প্রশ্নও সামনে আনছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ১২, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ফ্লোরিডায় অভিবাসন অভিযান জোরদার, বাড়ছে গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে অভিবাসনবিষয়ক গ্রেপ্তার উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরুর পর থেকে পরিচালিত অভিযানে রাজ্য ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্রিয় অংশগ্রহণের কারণে গ্রেপ্তারের সংখ্যা আগের তুলনায় কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)।   অভিবাসনবিষয়ক তথ্য বিশ্লেষণ করে এপি জানিয়েছে, ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ১১ মার্চ পর্যন্ত ৪১৬ দিনে ফ্লোরিডায় প্রায় ৩৯ হাজার অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তুলনায়, এর আগের একই সময়সীমায়, যখন জো বাইডেন প্রেসিডেন্ট ছিলেন, গ্রেপ্তারের সংখ্যা ছিল ১১ হাজার ৮৮। অর্থাৎ এক বছরের কিছু বেশি সময়ের ব্যবধানে গ্রেপ্তার প্রায় সাড়ে তিন গুণ বেড়েছে।   বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ফ্লোরিডায় প্রতিদিন গড়ে ৯৩ জন অভিবাসী গ্রেপ্তার হয়েছেন। এ ক্ষেত্রে কেবল টেক্সাস অঙ্গরাজ্যই ফ্লোরিডার চেয়ে এগিয়ে রয়েছে।   অভিবাসন অভিযান জোরদারের পেছনে ফ্লোরিডার গভর্নর Ron DeSantis-এর নীতিগত সমর্থনকে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তার প্রশাসন ফেডারেল অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় বাড়াতে ব্যাপক উদ্যোগ নিয়েছে।   বিশেষ করে ‘২৮৭(জি)’ নামে পরিচিত এক ধরনের সহযোগিতা চুক্তির মাধ্যমে স্থানীয় ও অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অভিবাসন আইন প্রয়োগে অতিরিক্ত ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এর ফলে স্থানীয় পুলিশ কিংবা অন্যান্য সংস্থাও অভিবাসন-সংক্রান্ত জিজ্ঞাসাবাদ, আটক এবং বহিষ্কারের প্রক্রিয়ায় সরাসরি অংশ নিতে পারছে।   এপির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে কয়েকটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথাও। মার্চ মাসে ফ্লোরিডার বনিটা স্প্রিংস এলাকার একটি পার্কে কুকুর হাঁটাতে বের হওয়া এক গুয়াতেমালান দম্পতির সঙ্গে কথা বলেন রাজ্যের মাছ ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কমিশনের এক কর্মকর্তা। পরে ওই ব্যক্তিকে আটক করা হয় এবং কিছু সময় পর ফেডারেল অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সদস্যরা এসে তাকে নিয়ে যায়।   তার স্ত্রী দাবি করেছেন, আটক করার জন্য যে অভিযোগ দেখানো হয়েছিল তা বাস্তবতার সঙ্গে মিল ছিল না। তবে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগ (ডিএইচএস) জানিয়েছে, ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে পূর্ব থেকেই বহিষ্কারাদেশ কার্যকর ছিল।   একইভাবে ফেব্রুয়ারিতে ফোর্ট মায়ার্স এলাকার কাছে এক গুয়াতেমালান বাবা ও তার প্রাপ্তবয়স্ক ছেলেকে আটক করা হয়। পরিবারের দাবি, তাদের গাড়ির নিবন্ধন মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে বলে অভিযোগ আনা হয়েছিল, যদিও কাগজপত্র বৈধ ছিল। পরবর্তীতে দুজনকেই গুয়াতেমালায় ফেরত পাঠানো হয়।   তবে ডিএইচএসের বক্তব্য ভিন্ন। সংস্থাটি জানিয়েছে, ওই দুই ব্যক্তি অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন এবং তাদের বিরুদ্ধে আগে থেকেই বহিষ্কার সংক্রান্ত চূড়ান্ত আদেশ ছিল।   অভিবাসন আইনজীবীরা অভিযোগ করছেন, অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ ট্রাফিক তল্লাশি বা ক্ষুদ্র আইনগত বিষয়কে কেন্দ্র করে ব্যক্তিদের আটক করা হচ্ছে। পরে তাদের অভিবাসন কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে।   জ্যাকসনভিলভিত্তিক অভিবাসন আইনজীবী ভিলেরকা বিলবাও এপিকে বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে যেসব কর্মকর্তাকে অভিবাসন-সংক্রান্ত ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, তাদের অনেকেই সক্রিয়ভাবে অভিবাসীদের খুঁজছেন। তার ভাষায়, “অনেক সময় ভাঙা টেইললাইট বা গাড়ির জানালার অতিরিক্ত কালো কাচের মতো কারণ দেখিয়ে গাড়ি থামানো হয়, এরপর বিষয়টি আইসিই হেফাজতে গিয়ে শেষ হয়।”   এদিকে ফ্লোরিডার বিভিন্ন সংস্থার বিরুদ্ধে তথ্য গোপনের অভিযোগও উঠেছে। বেশ কয়েকটি স্থানীয় সংস্থা অভিবাসন-সংক্রান্ত গ্রেপ্তারের প্রতিবেদন কিংবা বডি-ক্যামেরার ভিডিও প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তাদের দাবি, এ ধরনের তথ্য এখন ফেডারেল অভিবাসন কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।   সমালোচকদের মতে, এটি ফ্লোরিডার দীর্ঘদিনের ‘সানশাইন আইন’-এর চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ১৯৬৭ সালে প্রণীত এই আইনের মূল উদ্দেশ্য ছিল সরকারি তথ্য সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত রাখা।   ফ্লোরিডা একা নয়। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু হওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্রের ২০টি অঙ্গরাজ্যে মোট ১৩৫টি স্থানীয় সংস্থা ‘২৮৭(জি)’ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিল। বর্তমানে সেই সংখ্যা বেড়ে ৪১টি অঙ্গরাজ্য ও অঞ্চলে ১ হাজার ৭০০-এর বেশি চুক্তিতে পৌঁছেছে।   এ ছাড়া অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগ অংশগ্রহণকারী সংস্থাগুলোর জন্য আর্থিক প্রণোদনার ঘোষণাও দিয়েছে। এর মধ্যে কর্মকর্তাদের বেতন সহায়তা, সরঞ্জাম কেনার অর্থ এবং নতুন যানবাহন কেনার জন্য অতিরিক্ত তহবিল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, ফ্লোরিডার অভিজ্ঞতা যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হয়ে উঠছে। সমর্থকদের মতে এটি সীমান্ত ও অভিবাসন আইন বাস্তবায়নে কার্যকর ভূমিকা রাখছে। অন্যদিকে সমালোচকদের আশঙ্কা, এতে অভিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে ভয় ও অনিশ্চয়তা আরও বাড়তে পারে।   অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিবাসন আইন প্রয়োগে স্থানীয় সংস্থাগুলোর ভূমিকা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে এ নিয়ে রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্কও আরও তীব্র হচ্ছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ১১, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবিঃ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রে ডেমোক্র্যাটদের বাধা পেরিয়ে ৭০ বিলিয়ন ডলারের অভিবাসন বিলে ট্রাম্পের স্বাক্ষর

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিতে আরও কঠোর অবস্থান নিশ্চিত করে ৭০ বিলিয়ন বা ৭ হাজার কোটি ডলারের একটি নতুন অভিবাসন প্রয়োগ বিলে চূড়ান্ত স্বাক্ষর করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত জানুয়ারিতে মিনিয়াপোলিসে অভিবাসন সংক্রান্ত এক অভিযানে দুই মার্কিন নাগরিক নিহতের পর ডেমোক্র্যাটদের তীব্র আপত্তির মুখে এই বিলটি কয়েক মাস ধরে আটকে ছিল। শেষ পর্যন্ত বিরোধী দলের সব বাধা পেরিয়ে বুধবার হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে এই বিলে স্বাক্ষর করেন তিনি। নতুন এই আইনের আওতায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বর্তমান মেয়াদের বাকি সময়ের জন্য ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) এবং কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার পেট্রোল (সিবিপি)-এর কার্যক্রম নির্বিঘ্ন করতে বিপুল পরিমাণ এই অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। গত জুলাইয়ে পাস হওয়া কর ও ব্যয় সংক্রান্ত অপর একটি বিল থেকে পাওয়া ১৪০ বিলিয়ন ডলারের পাশাপাশি নতুন এই ৭০ বিলিয়ন ডলার অভিবাসন সংস্থাগুলোর আর্থিক সক্ষমতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।   বিলটিতে স্বাক্ষরের সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ডেমোক্র্যাটদের কড়া সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, ডেমোক্র্যাটরা হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের (ডিএইচএস) সব ধরনের অর্থায়ন আটকে দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সীমানা সম্পূর্ণ অরক্ষিত করার এক ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল, যা দেশটিকে পুনরায় অপরাধ ও বিশৃঙ্খলার দিকে ঠেলে দেওয়ার শামিল। দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ট্রাম্প দেশজুড়ে গণ-বহিষ্কার বা 'মাস ডিপোর্টেশন' অভিযান পরিচালনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছেন। শুরুতে শুধু অপরাধের রেকর্ড থাকা ব্যক্তিদের লক্ষ্যবস্তু করার কথা বলা হলেও, পরবর্তীতে যাদের কোনো অপরাধের রেকর্ড নেই, তাদের ওপরও এই অভিযান সম্প্রসারিত করা হয়। লিগ্যাল ডিফেন্স ফান্ড নামের একটি সংগঠনের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম নয় মাসে আইসিই-এর রাস্তায় ধরপাকড় আগের তুলনায় প্রায় ১১ গুণ বেড়েছে, যার মধ্যে নির্দোষ বা আগে কোনো সাজা পাননি এমন ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের হার বেড়েছে অন্তত সাত গুণ।   মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার রক্ষায় কাজ করা সংগঠনগুলো অবশ্য এই বিলের তীব্র বিরোধিতা করে আসছে। তাদের অভিযোগ, কোনো ধরনের জবাবদিহিতা বা রক্ষাকবচ ছাড়াই এই বিপুল অর্থায়ন অভিবাসী সম্প্রদায়কে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলবে। আইসিই এবং সিবিপি-এর বিরুদ্ধে বর্ণবৈষম্য, মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগ এবং বিনা পরোয়ানায় তল্লাশির মতো অসাংবিধানিক কৌশল ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন তারা। তবে ট্রাম্প প্রশাসন এসব অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। গত জানুয়ারিতে মিনিয়াপোলিসে ‘অপারেশন মেট্রো সার্জ’ চলাকালীন রেনি গুড এবং অ্যালেক্স প্রেটি নামের দুই মার্কিন নাগরিককে গুলি করে হত্যার ঘটনার পরই মূলত ডেমোক্র্যাটরা এই বিলের বিপক্ষে কঠোর অবস্থান নেয়। তারা দাবি করেছিল, কর্মকর্তাদের আচরণের ওপর আইনি বাধ্যবাধকতা ও জবাবদিহিতা যুক্ত না করা পর্যন্ত তারা কোনো অর্থায়ন বিলে সমর্থন দেবে না। এর জেরে ডিএইচএস-এর অর্থায়ন আটকে যায় এবং ট্রান্সপোর্টেশন সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনসহ (টিএসএ) সংস্থাটির অপরিহার্য নয় এমন কার্যক্রম টানা ৭৬ দিন বন্ধ রাখতে বাধ্য হয় প্রশাসন।   অবশেষে রিপাবলিকানরা সিনেটের বিশেষ ‘বাজেট রিকনসিলিয়েশন’ বা বাজেট সমন্বয় প্রক্রিয়া ব্যবহার করে সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে বিলটি পাস করতে সক্ষম হয়। স্বাভাবিক নিয়মে এই বিল পাসের জন্য অন্তত ৬০টি ভোটের প্রয়োজন হলেও, এই বিশেষ প্রক্রিয়ায় তারা খুব সহজেই বাধা অতিক্রম করে। তবে এই অর্থায়নের কড়া সমালোচনা করে নিউইয়র্ক ইমিগ্রেশন কোয়ালিশনের (এনওয়াইআইসি) প্রেসিডেন্ট মুরাদ আওয়াউদেহ এক বিবৃতিতে বলেন, অভিবাসীদের বলির পাঁঠা বানালে জনসাধারণের নিরাপত্তা বাড়বে—এমন এক মিথ্যা ধারণার ওপর ভিত্তি করেই করদাতাদের এই বিপুল অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই বিলের ফলে আইসিই মিনিয়াপোলিস ও লস অ্যাঞ্জেলেসের মতো শহরগুলোতে আগের মতোই আইনবহির্ভূত ও সহিংস কার্যক্রম চালানোর একটি অবাধ লাইসেন্স পেয়ে গেল, যা পরিবারগুলোকে বিচ্ছিন্ন করার পাশাপাশি গোটা সমাজ ব্যবস্থাকেই চরম অস্থিতিশীল করে তুলবে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ১০, ২০২৬ ১৪:০ 0
ফাইল ছবি
যে স্বপ্নের টানে মানুষ ছুটে যায় আমেরিকায়, কতটা পূরণ হয় সেই স্বপ্ন?

আমেরিকান ড্রিম- শব্দ দুটি শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে নানা ছবি। কারও কল্পনায় আসে স্ট্যাচু অব লিবার্টির উঁচু মশাল, কারও মনে জায়গা করে নেয় ফুলের বাগানঘেরা একটি ডুপ্লেক্স বাড়ি। আবার কেউ হয়তো কল্পনা করেন লাস ভেগাসের ঝলমলে আলো কিংবা ক্যাসিনোর ঘূর্ণায়মান রুলেট। কিন্তু আসলে কী এই আমেরিকান ড্রিম, যার টানে বিশ্বের নানা প্রান্তের মানুষ নিজের দেশ, পরিবার ও পরিচিত পরিবেশ ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন জীবনের সন্ধানে পাড়ি জমায়?   এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে সাহিত্য, ইতিহাস, অর্থনীতি ও সমাজের নানা স্তরে চোখ রাখতে হয়।   আমেরিকান ড্রিম নিয়ে রচিত সবচেয়ে আলোচিত সাহিত্যকর্মগুলোর মধ্যে অন্যতম মার্কিন নাট্যকার আর্থার মিলারের কালজয়ী নাটক ‘ডেথ অব আ সেলসম্যান’। নাটকটিতে একটি নিম্ন-মধ্যবিত্ত আমেরিকান পরিবারের গল্প তুলে ধরা হয়েছে, যারা বছরের পর বছর ধরে কাঙ্ক্ষিত আমেরিকান ড্রিম অর্জনের চেষ্টা চালিয়ে যায়। কিন্তু দীর্ঘ সংগ্রামের পরও তাদের জীবনে প্রত্যাশিত পরিবর্তন আসে না।   নাটকের প্রতিটি চরিত্রের কাছে আমেরিকান ড্রিমের অর্থ ভিন্ন। কেউ অর্থনৈতিক সফলতাকে গুরুত্ব দেয়, কেউ সামাজিক স্বীকৃতিকে। সময়ের সঙ্গে প্রতিকূলতা বাড়ে, আর সেই সঙ্গে বদলে যায় স্বপ্নের সংজ্ঞাও।   বাস্তব জীবনেও চিত্রটি অনেকটা একই। একজন মানুষের কাছে একসময় বাড়ির সামনে দুটি গাড়ি থাকাই ছিল আমেরিকান ড্রিম। আজ হয়তো একটি গাড়ি ধরে রাখতে পারাটাই বড় সাফল্য। যে ব্যক্তি একসময় নিজের বাড়ির মালিক হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন, তার কাছে এখন ঋণমুক্ত জীবনই সবচেয়ে বড় অর্জন।   আমেরিকান ড্রিমের উৎপত্তি ১৯৩১ সালে মার্কিন লেখক জেমস ট্রুসলো অ্যাডামস তার ‘দ্য এপিক অব আমেরিকা’ গ্রন্থে প্রথম ‘দ্য আমেরিকান ড্রিম’ শব্দবন্ধটি জনপ্রিয় করেন। তবে তার ব্যাখ্যায় বস্তুগত সম্পদের চেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছিল সুযোগের সমতা এবং ব্যক্তিগত সক্ষমতার ভিত্তিতে উন্নতির সম্ভাবনা। তার ভাষায়, আমেরিকা এমন একটি ভূমি, যেখানে সবার জন্য জীবন হবে আরও ভালো, আরও সমৃদ্ধ এবং আরও পরিপূর্ণ; যেখানে মানুষের সুযোগ নির্ধারিত হবে তার যোগ্যতা ও অর্জনের ভিত্তিতে।   যদিও এই ব্যাখ্যা ছিল বেশ সরল, পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন লেখক ও গবেষক এ ধারণাকে নানা দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করেছেন। ফলে আমেরিকান ড্রিম নিয়ে আলোচনা যেমন বিস্তৃত হয়েছে, তেমনি নতুন প্রশ্নও সামনে এসেছে।   অনেক ইতিহাসবিদ মনে করেন, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ব্যাপক অভিবাসনের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে একটি অভিন্ন জাতীয় পরিচয়ের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। ইউরোপের মতো বংশ, গোত্র বা জাতিগত ঐতিহ্যের ভিত্তিতে নয়, বরং একটি অভিন্ন আদর্শকে কেন্দ্র করে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার প্রয়োজন ছিল। সেই প্রেক্ষাপটে আমেরিকান ড্রিমের ধারণা আরও শক্ত ভিত্তি পায়।   এ প্রসঙ্গে ১৯১৬ সালে প্রবন্ধকার অ্যাগনেস রিপলাইয়ারের ‘আমেরিকানিজম’ প্রবন্ধের কথাও উল্লেখ করা হয়, যেখানে অভিন্ন জাতীয় চেতনার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।   আমেরিকান ড্রিম কী? অনেক গবেষকের মতে, আমেরিকান ড্রিমের ধারণা যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রেও প্রতিফলিত হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, সব মানুষ সমান মর্যাদার অধিকারী এবং প্রত্যেকের জীবন, স্বাধীনতা ও সুখ অন্বেষণের অধিকার রয়েছে।   সাধারণ মানুষের কাছে আমেরিকান ড্রিমের অর্থ আরও সহজ। কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজের অবস্থার উন্নয়ন, সন্তানদের জন্য উন্নত শিক্ষা নিশ্চিত করা, কর্মসংস্থানের সুযোগ পাওয়া এবং ধর্ম, বর্ণ কিংবা সামাজিক পরিচয়ের সীমাবদ্ধতা ছাড়াই নিজের জীবন নিজের মতো করে গড়ে তোলার সুযোগই এর মূল ভিত্তি।   সমাজতাত্ত্বিক এমিলি রোজেনবার্গ আমেরিকান ড্রিমের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদানের কথা উল্লেখ করেছেন। এগুলো হলো- বিশ্বের অন্যান্য দেশের জন্য আমেরিকাকে অনুসরণযোগ্য মডেল হিসেবে দেখা, মুক্তবাজার অর্থনীতির প্রতি আস্থা রাখা, মুক্ত বাণিজ্য ও বৈদেশিক বিনিয়োগকে উৎসাহিত করা, তথ্য ও সংস্কৃতির অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করা, বেসরকারি উদ্যোগে সরকারি সহায়তাকে গ্রহণযোগ্য হিসেবে দেখা।   এতক্ষণ পর্যন্ত আলোচনায় আমেরিকান ড্রিমকে একটি আদর্শিক ধারণা বলে মনে হতে পারে। কিন্তু সাধারণ মানুষের মনে এই ধারণার সঙ্গে বাড়ি, গাড়ি ও আর্থিক সমৃদ্ধির সম্পর্ক কীভাবে তৈরি হলো?   প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর সমাজতন্ত্র ও কমিউনিজমের প্রভাব মোকাবিলায় মার্কিন প্রশাসন নাগরিকদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়। সেই সময় প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্কলিন ডি. রুজভেল্ট বলেছিলেন, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ছাড়া প্রকৃত স্বাধীনতা সম্ভব নয়। ক্ষুধা ও বেকারত্ব একটি সমাজকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।   পরবর্তী কয়েক দশকে যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবিত্ত শ্রেণির প্রসার, সহজ ঋণ সুবিধা, বাড়ির মালিকানা বৃদ্ধি এবং ভোক্তাকেন্দ্রিক অর্থনীতির বিকাশের ফলে আমেরিকান ড্রিমের সঙ্গে বস্তুগত সফলতার সম্পর্ক তৈরি হয়। ফলে অনেকের কাছে আমেরিকান ড্রিম বলতে বোঝায় নিজের বাড়ি, ব্যক্তিগত গাড়ি, সন্তানের উন্নত শিক্ষা, পোষা প্রাণী, সফল ক্যারিয়ার কিংবা নিজের ব্যবসার মালিক হওয়া।   তবে সময়ের সঙ্গে এই স্বপ্ন অর্জন করা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠেছে। অর্থনৈতিক স্থবিরতা, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, আবাসন সংকট, ঋণের বোঝা এবং কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা আমেরিকান ড্রিমের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। একসময় বাড়ির মালিক হওয়া ছিল এই স্বপ্নের প্রধান প্রতীক। কিন্তু বর্তমানে আবাসন খাতে মূল্যবৃদ্ধি ও কঠোর ঋণনীতির কারণে অনেকের কাছে সাশ্রয়ী ভাড়ায় বাসস্থান নিশ্চিত করাই বড় লক্ষ্য হয়ে উঠেছে।   ক্রেডিট ডটকমের এক জরিপ অনুযায়ী, ২৮ শতাংশ আমেরিকান পর্যাপ্ত সঞ্চয় নিয়ে অবসর জীবন কাটাতে চান। ২৩ শতাংশের কাছে ঋণমুক্ত জীবনই সবচেয়ে বড় স্বপ্ন। তরুণদের ক্ষেত্রেও চ্যালেঞ্জ কম নয়। উচ্চশিক্ষা শেষ করার পর অনেকের ওপর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ শিক্ষাঋণের চাপ থাকে। কর্মসংস্থানের বাজারও প্রতিযোগিতাপূর্ণ। ফলে অর্থনৈতিক সফলতা ও সামাজিক অগ্রগতির যে প্রতিশ্রুতি একসময় আমেরিকান ড্রিমের কেন্দ্রবিন্দু ছিল, তা অনেকের কাছেই ক্রমশ অধরা হয়ে উঠছে।   তবুও আমেরিকান ড্রিমের আবেদন ফুরিয়ে যায়নি। সময়ের সঙ্গে এর সংজ্ঞা বদলেছে, অগ্রাধিকার বদলেছে, কিন্তু উন্নত জীবনের প্রত্যাশা ও সুযোগের সন্ধান এখনো লাখো মানুষের কাছে এই স্বপ্নকে জীবন্ত করে রেখেছে।

শাহারিয়া নয়ন জুন ৯, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
অভিবাসন দমন ও সীমান্ত নিরাপত্তায় ৭০ বিলিয়ন ডলারের বিল পাস, ট্রাম্পের স্বাক্ষরের অপেক্ষায়

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আইন প্রয়োগ এবং সীমান্ত নিরাপত্তা কার্যক্রম জোরদার করতে প্রায় ৭০ বিলিয়ন ডলারের একটি তহবিল বিল পাস করেছে প্রতিনিধি পরিষদ। রিপাবলিকানদের সমর্থনে পাস হওয়া এই বিলকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।   মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে বিলটি ২১৪-২১২ ভোটে পাস হয়। প্রতিনিধি পরিষদের প্রায় সব ডেমোক্র্যাট সদস্য এর বিরোধিতা করেন। রিপাবলিকানদের সঙ্গে কাজ করা ক্যালিফোর্নিয়ার স্বতন্ত্র প্রতিনিধি কেভিন কাইলিও ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে বিলটির বিরুদ্ধে ভোট দেন।   নতুন এই আইনের মাধ্যমে আগামী তিন বছরের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর কার্যক্রম পরিচালনায় অতিরিক্ত অর্থায়নের পথ তৈরি হবে। বিলটি এখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের স্বাক্ষরের জন্য হোয়াইট হাউসে পাঠানো হবে। প্রেসিডেন্টের অনুমোদন পেলেই এটি আইনে পরিণত হবে।   বিলে সবচেয়ে বড় বরাদ্দ রাখা হয়েছে অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা আইসিইর জন্য। সংস্থাটির জন্য ৩৮ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। সীমান্ত টহল বাহিনীর জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ২৬ বিলিয়ন ডলার। এছাড়া জরুরি বা অপ্রত্যাশিত ব্যয় মোকাবিলায় আরও ৫ বিলিয়ন ডলার সংরক্ষিত রাখা হয়েছে।   রিপাবলিকান নেতৃত্বের দাবি, দক্ষিণ সীমান্তে অনিয়মিত অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ এবং বিদ্যমান আইন কার্যকর করতে এই অর্থায়ন অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসন বিলটির পক্ষে বক্তব্য দিতে গিয়ে বলেন, সীমান্ত নিরাপত্তা ও অভিবাসন আইন প্রয়োগে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ অনেক আগেই হওয়া উচিত ছিল।   তিনি বলেন, “সীমান্ত নিরাপত্তা ও অভিবাসন আইন বাস্তবায়নের জন্য অর্থায়ন জরুরি। দুঃখজনক হলেও সত্য, এই কাজটি রিপাবলিকানদের একাই করতে হচ্ছে।”   ডেমোক্র্যাটরা অবশ্য বিলটির কঠোর সমালোচনা করেছেন। তাদের অভিযোগ, বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে অভিবাসীদের বিরুদ্ধে আরও ব্যাপক অভিযান পরিচালনার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে, যা মানবাধিকার এবং অভিবাসী সম্প্রদায়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।   রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বিল ট্রাম্প প্রশাসনের বহুল আলোচিত অভিবাসন কর্মসূচিকে আরও শক্তিশালী করবে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থানকারীদের শনাক্তকরণ, আটক এবং বহিষ্কার কার্যক্রম পরিচালনায় আইসিইর সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।   বিলটি এমন এক সময়ে পাস হলো যখন যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন ইস্যু আবারও জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণা থেকে শুরু করে বর্তমান মেয়াদ পর্যন্ত ট্রাম্প প্রশাসন সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ এবং অবৈধ অভিবাসন রোধকে অন্যতম প্রধান নীতি হিসেবে তুলে ধরেছে।   উল্লেখ্য, গত বছর ট্রাম্প প্রশাসনের কর ও ব্যয়সংক্রান্ত বৃহৎ আইন প্যাকেজের আওতায় কংগ্রেস আইসিই এবং কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন সংস্থার জন্য প্রায় ১৪০ বিলিয়ন ডলার অনুমোদন করেছিল। নতুন ৭০ বিলিয়ন ডলারের বিল সেই অর্থায়নের অতিরিক্ত হিসেবে যোগ হবে।   এর আগে গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটেও বিলটি অনুমোদন পায়। দীর্ঘ রাতের অধিবেশনের পর অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে বিলটি ৫২-৪৭ ভোটে পাস হয়। এরপর এটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য প্রতিনিধি পরিষদে পাঠানো হয়েছিল।   অভিবাসন নীতিকে কেন্দ্র করে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা রাজনৈতিক বিরোধের মধ্যেই বিলটি পাস হলো। ফলে আগামী কয়েক বছরে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইন প্রয়োগ, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং বহিষ্কার কার্যক্রমের গতি ও পরিধি আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   পর্যবেক্ষকদের মতে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিলটিতে স্বাক্ষর করলে এটি শুধু প্রশাসনিক সক্ষমতাই বাড়াবে না, বরং অভিবাসন ইস্যুতে তার রাজনৈতিক অবস্থানকেও আরও সুসংহত করবে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ৯, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবিঃ মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসন
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদে ৭০ বিলিয়ন ডলারের অভিবাসন ও সীমান্ত নিরাপত্তা বিল পাস

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইন প্রয়োগ ও সীমান্ত নিরাপত্তার জন্য প্রায় ৭০ বিলিয়ন ডলারের একটি বিশাল তহবিল বিল গত মঙ্গলবার দেশটির প্রতিনিধি পরিষদে (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) পাস হয়েছে।নতুন এই বিলের আওতায় ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস)-এর জন্য ৩৮ বিলিয়ন ডলার এবং বর্ডার প্যাট্রল বা সীমান্তরক্ষী বাহিনীর জন্য ২৬ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ রাখা হয়েছে।   এছাড়া ভবিষ্যতে যেকোনো অপ্রত্যাশিত ব্যয় মেটাতে অতিরিক্ত আরও ৫ বিলিয়ন ডলারের তহবিল রাখা হয়েছে এই বিলে।   প্রতিনিধি পরিষদে অনুমোদনের পর বিলটি এখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ডেস্কে পাঠানো হচ্ছে, যেখানে তার স্বাক্ষরের মাধ্যমে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে আইনে পরিণত হবে।   এই বিল পাসের প্রতিক্রিয়ায় লুইজিয়ানা থেকে নির্বাচিত রিপাবলিকান প্রতিনিধি জনসন সন্তোষ প্রকাশ করে জানান, এই পদক্ষেপটি অনেক আগেই নেওয়া উচিত ছিল।   তিনি বলেন, দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা ও অভিবাসন আইন প্রয়োগের জন্য পর্যাপ্ত অর্থায়ন নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। তবে এই গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যুতে রিপাবলিকানদের একাই উদ্যোগ নিতে হচ্ছে বলে তিনি কিছুটা আক্ষেপ ও হতাশা প্রকাশ করেন।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ৯, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপের আবহে নিউইয়র্কে বড় ধরনের আইস অভিযানের হুঁশিয়ারি

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ শুরুর প্রাক্কালে নিউইয়র্কে বড় ধরনের অভিবাসন অভিযান চালানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প প্রশাসনের বর্ডার জার টম হোম্যান। বিশ্বের অন্যতম বড় ক্রীড়া আসরকে ঘিরে যখন যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন দেশ থেকে লাখো দর্শকের আগমন ঘটছে, তখন তার এ মন্তব্য অভিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।   গত সোমবার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে টম হোম্যান বলেন, নিউইয়র্ক সিটিতে এমন সংখ্যক আইস এজেন্ট মোতায়েন করা হবে, যা শহরটি আগে কখনও দেখেনি। তিনি জানান, একটি অপারেশনাল পরিকল্পনা ইতোমধ্যে পর্যালোচনা করা হয়েছে এবং বিষয়টি সম্পর্কে নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুলকে আগেই সতর্ক করা হয়েছিল।   সম্প্রতি গভর্নর হোকুল একটি বিল সই করেন, যার মাধ্যমে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে মুখোশধারী আইসিই এজেন্টদের অভিযান সীমিত করা এবং অভিবাসন কার্যক্রমে কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। পর্যবেক্ষকদের ধারণা, হোম্যানের বক্তব্য ওই পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়ার অংশ হতে পারে। এদিকে একই সময়ে নিউজার্সির একটি অভিবাসী আটক কেন্দ্রের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচিও চলছে, যা পরিস্থিতিকে আরও আলোচনায় নিয়ে এসেছে।   এই প্রেক্ষাপটে অভিবাসীদের অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে উদ্যোগ নিয়েছে নিউইয়র্ক ইমিগ্রেশন কোয়ালিশন। সংগঠনটি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত প্রত্যেক ব্যক্তি, তার অভিবাসন অবস্থান যাই হোক না কেন, কিছু মৌলিক আইনি অধিকার ভোগ করেন।   সংগঠনটির মতে, এসব অধিকারের মধ্যে অন্যতম হলো নীরব থাকার অধিকার। কেউ আইস বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মুখোমুখি হলে প্রশ্নের উত্তর না দেওয়ার অধিকার রাখেন। এছাড়া তল্লাশির ক্ষেত্রে সম্মতি না দেওয়া, কোনো নথিতে স্বাক্ষর করার আগে আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ করা এবং নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে নিজের অধিকার সম্পর্কে জানতে চাওয়ার সুযোগ রয়েছে।   নিউইয়র্ক ইমিগ্রেশন কোয়ালিশন আরও পরামর্শ দিয়েছে, গ্রিন কার্ড, ওয়ার্ক পারমিট বা ভিসার ফটোকপি সঙ্গে রাখা যেতে পারে। তবে প্রয়োজন ছাড়া এসব নথি প্রদর্শন না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পাসপোর্ট ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মূল নথি নিরাপদ স্থানে সংরক্ষণ এবং মোবাইল ফোন পাসওয়ার্ড দিয়ে সুরক্ষিত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   পরিবার ও শিশুদের নিরাপত্তার বিষয়েও সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে। সংগঠনটি বলছে, কোনো অভিভাবক হঠাৎ আটক হলে শিশুর দেখভালের জন্য আগেই একজন বিশ্বস্ত ব্যক্তিকে নির্ধারণ করে রাখা উচিত। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ফোন নম্বর, চিকিৎসা তথ্য এবং প্রয়োজনীয় নথির কপি প্রস্তুত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   বিশ্বকাপ উপলক্ষে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তানসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থী নিউইয়র্কে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে এ অঞ্চলের বড় একটি প্রবাসী জনগোষ্ঠীও নিউইয়র্কে বসবাস করে। এমন পরিস্থিতিতে অভিবাসন অভিযান নিয়ে আলোচনা এবং সচেতনতামূলক প্রচারণা নতুন গুরুত্ব পেয়েছে।

শাহারিয়া নয়ন জুন ৮, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষার্থী ভিসা বাতিল হতে পারে যেসব কারণে

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাওয়া যেমন বড় অর্জন, তেমনি ভিসা পাওয়ার পর তা ধরে রাখতে নির্দিষ্ট নিয়ম-কানুন মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এসব নিয়ম ভঙ্গ করলে মার্কিন শিক্ষার্থী ভিসা বাতিল বা প্রত্যাহারের ঝুঁকি তৈরি হয়, যা পড়াশোনা ও বৈধ অবস্থান উভয়কেই প্রভাবিত করতে পারে।   ভিসা বাতিল হতে পারে যেসব কারণে যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষার্থী ভিসা বিভিন্ন পরিস্থিতিতে বাতিল হতে পারে বলে জানাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কারণগুলো হলো—কোনো শিক্ষার্থী যদি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনুমতি বা যথাযথ তথ্য ছাড়া পাঁচ মাসের বেশি সময় যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকেন, তাহলে তার ভিসা বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। এক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে অন্যটিতে স্থানান্তরের ক্ষেত্রে ভিসা-সংক্রান্ত রেকর্ড সঠিকভাবে আপডেট না করলে শিক্ষার্থীকে অনুপস্থিত হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে, যা ভিসা বাতিলের কারণ হতে পারে। ভুয়া তথ্য বা নথি জমা দেওয়া, অনুমতি ছাড়া কাজ করা অথবা অন্য কোনো ধরনের জালিয়াতিমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে ভিসা বাতিল হতে পারে। শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত পরিস্থিতির পরিবর্তন বা নতুন তথ্যের ভিত্তিতে কর্তৃপক্ষ যদি মনে করে তিনি আর ভিসার শর্ত পূরণ করছেন না, সেক্ষেত্রেও ভিসা বাতিল হতে পারে। এছাড়া নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয় বা অপরাধের অভিযোগও কিছু ক্ষেত্রে ভিসা বাতিলের কারণ হতে পারে।   ভিসা বাতিল হলে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। প্রথমে জানতে হবে কোন কারণে ভিসা বাতিল হয়েছে। এটি প্রশাসনিক ত্রুটি, দীর্ঘ অনুপস্থিতি বা অন্য কোনো কারণে হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট করা গুরুত্বপূর্ণ। এরপর করণীয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে-বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী সেবা বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করা ভুল সিদ্ধান্ত হলে বা ব্যাখ্যার সুযোগ থাকলে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ পুনরায় আবেদন বা আপিল করা   জটিল পরিস্থিতিতে অভিবাসন আইনজীবীর সহায়তা নেওয়া ট্রাভেল বা স্টুডেন্ট ইনস্যুরেন্সে ভিসা বাতিলজনিত সুবিধা আছে কি না তা যাচাই করা   শিক্ষার্থী ভিসা বাতিল হওয়া কঠিন পরিস্থিতি হলেও দ্রুত পদক্ষেপ, সঠিক তথ্য জানা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ অনেক ক্ষেত্রে পরিস্থিতি সামাল দিতে সহায়ক হতে পারে।

শাহারিয়া নয়ন জুন ৮, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
২ হাজার ৮৬০ জনের জাতীয়তা যাচাইয়ে বাংলাদেশকে ভারতের অনুরোধ

অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করার মধ্যে ২ হাজার ৮৬০ জন ব্যক্তির জাতীয়তা যাচাই করতে বাংলাদেশকে অনুরোধ জানিয়েছে ভারত। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এসব ব্যক্তি বাংলাদেশি নাগরিক হতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।   ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল গত শুক্রবার নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে বলেন, বাংলাদেশকে ২ হাজার ৮৬০ জনেরও বেশি ব্যক্তির জাতীয়তা যাচাইয়ের জন্য তথ্য পাঠানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সাড়া পাওয়া যায়নি।   তিনি জানান, বাংলাদেশসহ যেকোনো দেশের নাগরিক যদি ভারতে অবৈধভাবে অবস্থান করেন, তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দেশের সঙ্গে তথ্য বিনিময় করা হয় এবং জাতীয়তা নিশ্চিত হওয়ার পর ফেরত পাঠানোর কার্যক্রম শুরু হয়।   রণধীর জয়সওয়াল আরও বলেন, এই ধরনের একাধিক অনুরোধ এখনো বাংলাদেশের কাছে ঝুলে রয়েছে। সেগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তি হলে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া আরও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।   ভারতে সম্প্রতি অবৈধভাবে অবস্থানকারী অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ ও আসাম রাজ্য সরকার এই কার্যক্রমে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৪০০ নথিবিহীন বাংলাদেশিকে আটক করার তথ্যও পাওয়া গেছে।   এদিকে রাজ্যের ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এই প্রক্রিয়ার কারণে অভিবাসীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে প্রশাসনিক পর্যায়ে ‘শনাক্ত, বাতিল ও বহিষ্কার’ নীতির কথাও উঠে এসেছে। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্র ও রাজ্য পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।

শাহারিয়া নয়ন জুন ৬, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইউরোপের অভিবাসন নীতি নিয়ে তীব্র সমালোচনা মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর

ইউরোপীয় দেশগুলোর অভিবাসন নীতির কড়া সমালোচনা করেছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। ফ্রান্সের নরম্যান্ডিতে এক অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি ইউরোপে অভিবাসীদের আগমনকে ‘আক্রমণ’ হিসেবে উল্লেখ করেন, যা নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।   ১৯৪৪ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসি অধিকৃত ইউরোপকে মুক্ত করতে মিত্রবাহিনীর ঐতিহাসিক নরম্যান্ডি অভিযান স্মরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি ইউরোপের বর্তমান অভিবাসন পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করেন।   হেগসেথ বলেন, দুঃখজনকভাবে আজ ইউরোপের বিভিন্ন উপকূলে ভিন্ন ভিন্ন বিপজ্জনক মতাদর্শের মানুষ প্রবেশ করছে। তার ভাষায়, স্পেন, ইতালি, গ্রিস ও বুলগেরিয়ার মতো দেশের উপকূলে নৌকায় করে মানুষের আগমন ঘটছে এবং ইউরোপ এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছে না। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ইউরোপীয় দেশগুলো কবে এই পরিস্থিতির বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।   তার এই মন্তব্য ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, কারণ ইউরোপজুড়ে অভিবাসন ইস্যু ইতোমধ্যেই অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক আলোচনার বিষয়। বিভিন্ন দেশে জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, কঠোর অভিবাসন নীতির পক্ষে থাকা রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি সমর্থনও বাড়ছে।   বিশ্লেষকদের মতে, নরম্যান্ডির মতো ঐতিহাসিক স্মরণ অনুষ্ঠানে এ ধরনের বক্তব্য আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন প্রশ্ন তৈরি করতে পারে।   সূত্র: বিবিসি    

শাহারিয়া নয়ন জুন ৬, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: আমেরিকা বাংলা
ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতি অবৈধ ঘোষণা, ৩৯ দেশের আবেদনকারীদের পক্ষে রায় মার্কিন আদালতের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ৩৯টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসন-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আবেদনের নিষ্পত্তি স্থগিত করে যে নীতি গ্রহণ করেছিল, তা অবৈধ বলে রায় দিয়েছেন এক মার্কিন ফেডারেল বিচারক।   বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার রোড আইল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের প্রভিডেন্সে অবস্থিত ফেডারেল আদালতের প্রধান বিচারক জন ম্যাককনেল এই রায় দেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা (ইউএসসিআইএস) ৩৯টি আফ্রিকান, এশীয়, লাতিন আমেরিকান এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশের নাগরিকদের লক্ষ্য করে একাধিক বেআইনি নীতি প্রয়োগ করেছিল।   মামলাটি দায়ের করে অভিবাসী সেবাদানকারী বিভিন্ন সংগঠন ও শ্রমিক ইউনিয়নের একটি জোট। গত মার্চ মাসে তারা আদালতের দ্বারস্থ হয়ে অভিযোগ করে যে, ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে ইউএসসিআইএস এমন কিছু নীতি কার্যকর করেছে, যার ফলে নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশের নাগরিকদের অভিবাসন-সুবিধা সংক্রান্ত আবেদনগুলো কার্যত স্থগিত হয়ে যায়।   বিতর্কিত এসব ব্যবস্থার আওতায় আশ্রয় আবেদন, কাজের অনুমতিপত্র, স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বা গ্রিন কার্ড এবং মার্কিন নাগরিকত্বের আবেদনগুলোর বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়া হচ্ছিল না। সংশ্লিষ্ট দেশগুলো ট্রাম্পের ঘোষিত পূর্ণ বা আংশিক ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার তালিকায় ছিল। ট্রাম্প প্রশাসন এসব নিষেধাজ্ঞাকে জাতীয় নিরাপত্তা ও আবেদনকারীদের যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে ব্যাখ্যা করেছিল।   রায়ে বিচারক ম্যাককনেল বলেন, এসব নীতি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অসংখ্য অভিবাসীর জীবনকে দীর্ঘ সময়ের জন্য অনিশ্চিত আইনি অবস্থার মধ্যে ফেলে দিয়েছিল। তাদের অনেকেই জানতেন না, তাদের আবেদন আদৌ নিষ্পত্তি হবে কি না কিংবা তাদের ভবিষ্যৎ অবস্থান কী হবে।   জন ম্যাককনেল সাবেক ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট Barack Obama-এর মনোনীত বিচারক। তিনি তার পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেন, প্রশাসনিক সংস্থাগুলো আইনের সীমার বাইরে গিয়ে কোনো গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে এমন নীতি গ্রহণ করতে পারে না।   রায়ের পর যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগ (ডিএইচএস) তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে অভিবাসন অধিকারকর্মীরা এই সিদ্ধান্তকে হাজারো আবেদনকারীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ আইনি বিজয় হিসেবে দেখছেন।   ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদ থেকেই ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা ও কঠোর অভিবাসন নীতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক বিতর্ক রয়েছে। সমর্থকদের মতে, এসব পদক্ষেপ নিরাপত্তা জোরদার করতে সহায়ক, অন্যদিকে সমালোচকদের দাবি, নির্দিষ্ট দেশ ও জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে নেওয়া এসব ব্যবস্থা বৈষম্যমূলক এবং যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের অভিবাসন ঐতিহ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।   সাম্প্রতিক এই রায় সেই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করল এবং ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির বৈধতা নিয়ে চলমান আইনি লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ৫, ২০২৬ ১৪:০ 0
লস অ্যাঞ্জেলেসে, সোফাই স্টেডিয়ামে কর্মরত ২,০০০-এরও বেশি আতিথেয়তা কর্মীর প্রতিনিধিত্বকারী একটি শ্রমিক ইউনিয়ন হুমকি দিয়েছে যে আইসিই (ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট) এজেন্টরা যদি দূরে না থাকে, তবে তারা ধর্মঘটে যাবে । ছবি: এএফপি
বিশ্বকাপ ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের শহরগুলোতে অভিবাসী সংগঠনগুলোর সতর্কতা, আইস আতঙ্কে তৎপরতা

আগামী ১১ জুন শুরু হতে যাওয়া ফিফা বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের ১১টি আয়োজক শহরে অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলো ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে। অভিবাসন ও সীমান্ত নিরাপত্তা সংস্থা আইসিই (ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট)-এর সম্ভাব্য অভিযান ও গ্রেপ্তার আতঙ্কের কারণে দর্শক ও স্থানীয়দের সতর্ক করতে অন্তত ১২০টিরও বেশি সংগঠন একত্র হয়েছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লস অ্যাঞ্জেলেস, ডালাস, মিয়ামি, সিয়াটলসহ বিভিন্ন শহরে শ্রমিক ইউনিয়ন, মানবাধিকার সংগঠন ও আইনজীবীরা জরুরি সহায়তা নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছে। তাদের লক্ষ্য হচ্ছে বিশ্বকাপ চলাকালীন সম্ভাব্য অভিবাসন আইন প্রয়োগ কার্যক্রমের সময় দ্রুত আইনি সহায়তা ও প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।   লস অ্যাঞ্জেলেসে সোফাই স্টেডিয়ামে কর্মরত দুই হাজারের বেশি হোটেল ও পরিষেবা কর্মীর প্রতিনিধিত্বকারী একটি শ্রমিক ইউনিয়ন হুমকি দিয়েছে, স্টেডিয়াম এলাকায় আইসিই এজেন্টদের উপস্থিতি বন্ধ না হলে তারা ধর্মঘটে যাবে। ডালাসে মানবাধিকার সংগঠন এল মুভিমিয়েন্তো ডিএফডব্লিউ গির্জা, দোকান এবং আবাসিক এলাকায় ‘হুইসেল কিট’ বিতরণ করছে। এতে আইসিই উপস্থিতি সম্পর্কে তথ্য ও বিনামূল্যে অভিবাসন আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগের উপায় রাখা হয়েছে।   একাধিক সংগঠন যুক্তরাষ্ট্রে সম্ভাব্য ১ কোটি দর্শনার্থীর উদ্দেশে সতর্কতা জারি করেছে। এতে বলা হয়েছে, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে “অবৈধভাবে প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা, গ্রেপ্তার, আটক ও নির্বাসনের ঝুঁকি” থাকতে পারে। বিশ্বের অন্যতম বড় এই ক্রীড়া আসর এমন এক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন দেশটির অভিবাসন নীতিকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন দমননীতির কারণে এই উদ্বেগ আরও বেড়েছে বলে দাবি করছে অধিকার সংগঠনগুলো।   তবে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ বলেছে, বিশ্বকাপ চলাকালে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় করছে। সংস্থাটির মতে, দর্শক ও খেলোয়াড়দের নিরাপত্তাই তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।   অধিকার সংগঠনগুলো জানিয়েছে, তারা জরুরি প্রতিক্রিয়া নেটওয়ার্ক, আইনজীবী সহায়তা এবং দ্রুত তথ্য আদান-প্রদানের ব্যবস্থা গড়ে তুলছে, যাতে কোনো অভিযান বা গ্রেপ্তার ঘটলে দ্রুত সাড়া দেওয়া যায়। সিয়াটলে শ্রম অধিকার সংগঠন ‘ওয়ার্কিং ওয়াশিংটন’ জানিয়েছে, তারা রেস্তোরাঁ ও কর্মস্থলে কর্মীদের জন্য সাংবিধানিক অধিকার বিষয়ক প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মুখোমুখি হলে করণীয় ও যোগাযোগ কৌশল।   মিয়ামিতে, যেখানে অভিবাসী গ্রেপ্তারের হার তুলনামূলকভাবে বেশি, সেখানে বিশেষ হটলাইন এবং আইন পর্যবেক্ষক দল সক্রিয় করা হয়েছে। এসব দল আইসিই উপস্থিতি নথিভুক্ত করার কাজ করবে।   কিছু সংগঠন বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে ‘নো আইসিই ইন দ্য কাপ’ নামের একটি জাতীয় প্রচারণা শুরু করেছে। এর মাধ্যমে আয়োজক শহরগুলোতে নিরাপদ অঞ্চল, কমিউনিটি সহায়তা কেন্দ্র এবং অভিবাসীদের জন্য সহায়তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সিয়াটলে কিছু সংগঠন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান ও রেস্তোরাঁর সঙ্গে কাজ করে “সেফ জোন” ঘোষণা করার উদ্যোগ নিয়েছে, যেখানে অভিবাসীরা সহায়তা ও তথ্য পেতে পারবেন।   অধিকারকর্মীদের মতে, এই উদ্যোগ কেবল রাজনৈতিক নয়, বরং অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। তাদের যুক্তি, নিরাপত্তা উদ্বেগ ও অভিবাসন অভিযান যদি পর্যটকদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে, তবে তা স্থানীয় অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

শাহারিয়া নয়ন মে ৩১, ২০২৬ ১৪:০ 0
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের নিউয়ার্ক লিবার্টি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট। ছবি: রয়টার্স
রেকর্ডসংখ্যক আমেরিকান দেশ ছাড়ার পথে, বিদেশে স্থায়ী হওয়ার উপায় জানতে খরচ করছেন শত শত ডলার

যুক্তরাষ্ট্রে রেকর্ডসংখ্যক নাগরিক দেশ ছাড়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। একই সঙ্গে বিদেশে স্থায়ীভাবে বসবাসের উপায় জানতে অনেকে শত শত ডলার ব্যয় করে বিশেষ প্রশিক্ষণ ও কর্মশালায় অংশ নিচ্ছেন। সাম্প্রতিক একাধিক গবেষণা ও জরিপে উঠে এসেছে, রাজনৈতিক কারণ, জীবনযাত্রার মান এবং অর্থনৈতিক বিবেচনা এই প্রবণতার প্রধান চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করছে।   গত সপ্তাহে অ্যারিজোনার ফিনিক্স থেকে জেসি ডের (৪১) এবং তার স্ত্রী জেস ইয়েস্টাডট (৪৫) গাড়িতে পাঁচ ঘণ্টা যাত্রা করে ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগোর হার্ড রক হোটেলে পৌঁছান। তাদের উদ্দেশ্য ছিল মেক্সিকোতে স্থায়ীভাবে বসবাসের উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত জানা। এই দম্পতির মতো আরও শত শত আমেরিকান একই সময়ে সেখানে জড়ো হন বিদেশে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা নিয়ে।   যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘এক্সপ্যাটসি’ ২০২২ সালে যাত্রা শুরু করার পর থেকে দেশ ছাড়ার আগ্রহী নাগরিকদের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি আয়োজন করছে। চলতি বছরের ৯ ও ১০ মে সান ডিয়েগোতে আয়োজিত দ্বিতীয় বার্ষিক ‘মুভ অ্যাব্রোড কন’ অনুষ্ঠানে প্রায় ৬০০ জন অংশ নেন। প্রতিষ্ঠানটির সহপ্রতিষ্ঠাতা জেন বার্নেট জানান, এটি আগের আয়োজনের তুলনায় দ্বিগুণ অংশগ্রহণ।   বার্নেটের তথ্য অনুযায়ী, ২১৮ জন অংশগ্রহণকারীর ওপর করা জরিপে দেখা গেছে, ৮৯ শতাংশ রাজনৈতিক কারণে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে চান। ৭৩ শতাংশ মানুষ অ্যাডভেঞ্চার ও উন্নত জীবনের সন্ধানে বিদেশে যেতে চান। ৫৭ শতাংশ অংশগ্রহণকারী ব্যয় কমানোর উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়তে আগ্রহী। অংশগ্রহণকারীদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশ ছাড়ার পরিকল্পনা করছেন।   জরিপে আরও দেখা যায়, অংশগ্রহণকারীদের গড় মাসিক বাজেট ৩ হাজার ৮৫৬ ডলার। তাদের মধ্যে ৪৪ শতাংশ একা, ৩৯ শতাংশ দম্পতি এবং ১৭ শতাংশ সন্তানসহ পরিবার হিসেবে বিদেশে যেতে চান।   অন্যদিকে ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের গবেষণা অনুযায়ী, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে নিট নেতিবাচক অভিবাসন দেখা গেছে, যেখানে দেশ ছাড়ার মানুষের সংখ্যা আগমনের তুলনায় বেশি। এই সংখ্যা আনুমানিক ১০ হাজার থেকে ২ লাখ ৯৫ হাজারের মধ্যে। গবেষণায় বলা হয়েছে, গত অন্তত ৫০ বছরের মধ্যে এই প্রথম যুক্তরাষ্ট্রে আগমনের চেয়ে দেশ ছাড়ার হার বেশি হয়েছে। কঠোর অভিবাসন নীতি এবং ডিপোর্টেশন কার্যক্রমকে এই প্রবণতার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।   অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে জেসি ডের জানান, তার পরিবার রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে দেশ ছাড়ার পরিকল্পনা করছে। তিনি গর্ভপাত সংক্রান্ত নীতি পরিবর্তন এবং ভোটিং রাইটস অ্যাক্ট দুর্বল করার বিষয়কে উদ্বেগের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, মেক্সিকোর সাম্প্রতিক নীতি পরিবর্তন এবং দেশটির প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেইনবাউমের নেতৃত্ব তাদের মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে হচ্ছে।   ডের আরও জানান, তাদের দেশ ছাড়ার সিদ্ধান্ত ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে। তিনি বলেন, ডেমোক্র্যাটিক পার্টি যদি কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পায় এবং বর্তমান প্রশাসনের নীতিগুলো পরিবর্তনের উদ্যোগ নেয়, তাহলে তা তাদের পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে।   এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে প্রতিজনকে ৫০০ থেকে ১ হাজার ডলার পর্যন্ত টিকিট ফি দিতে হয়েছে। দুই দিনের এই আয়োজনে ৫০ জনের বেশি বিশেষজ্ঞ বিভিন্ন সেশন পরিচালনা করেন। অংশগ্রহণকারীরা ভিসা প্রক্রিয়া, বিদেশে কর ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যবিমা এবং পর্তুগাল, মেক্সিকো, কানাডা ও নিউজিল্যান্ডের মতো দেশে বসবাসের নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পান।   ৪৫ বছর বয়সী সরকারি কর্মী ভন ব্র্যাডলি গত এক বছর ধরে বিদেশে কাজ ও বসবাসের পরিকল্পনা করছেন। তার পছন্দের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে দক্ষিণ স্পেনের ভ্যালেন্সিয়া শহর। তিনি জানান, জীবনযাত্রার ব্যয় কম এবং স্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে এই অঞ্চল তার কাছে বেশি আকর্ষণীয়।   ব্র্যাডলি বলেন, বিদেশে যাওয়ার প্রাথমিক খরচে ভিসা ও কাগজপত্রের জন্য কয়েকশ ডলার লাগে। পাশাপাশি স্থানান্তর ও মালপত্র পরিবহনের জন্য কয়েক হাজার ডলার প্রয়োজন হতে পারে। উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, শিকাগোর এক দম্পতি স্পেনের ভ্যালেন্সিয়ায় স্থানান্তরের জন্য ১০ মাসে ২০ হাজার ডলারেরও বেশি সঞ্চয় করেছেন।   তিনি আরও জানান, তার প্রথম পরিকল্পনা হলো কর্মস্থলের মাধ্যমে বিদেশে স্থানান্তর। তা সম্ভব না হলে তিনি এক্সপ্যাটসি নেটওয়ার্কের তথ্য ব্যবহার করবেন।

শাহারিয়া নয়ন মে ৩০, ২০২৬ ১৪:০ 0
অভিবাসন আবেদনপত্রে স্বাক্ষর যাচাই প্রক্রিয়ার প্রতীকী চিত্র
স্বাক্ষর ত্রুটিতে বাতিল হতে পারে এইচ-১বি ও গ্রিন কার্ড আবেদন

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন প্রক্রিয়ায় স্বাক্ষর সংক্রান্ত নতুন কঠোর নীতি চালু করতে যাচ্ছে ইউনাইটেড স্টেটস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস)। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, আবেদনপত্রে স্বাক্ষরের সামান্য ত্রুটিও আবেদন বাতিলের কারণ হতে পারে, যা আবেদনকারীদের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে।   ইউএসসিআইএস জানিয়েছে, ২০২৬ সালের ১০ জুলাই থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই নীতির আওতায় কোনো আবেদন ফর্মে বৈধ স্বাক্ষর না থাকলে তা গ্রহণ পর্যায়েই বাতিল করা হবে অথবা পরবর্তী যাচাই পর্যায়ে নাকচ করা যাবে। এ ক্ষেত্রে আবেদন ফি ফেরত দেওয়ার বাধ্যবাধকতাও থাকবে না।   সংস্থাটি বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে ভুয়া বা অননুমোদিত স্বাক্ষরের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে সফটওয়্যার-নির্ভর স্বাক্ষর, কপি-পেস্ট করা ছবি বা অনুমোদনহীন ব্যক্তির স্বাক্ষর ব্যবহারের কারণে যাচাই প্রক্রিয়ায় জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছিল।   নতুন নীতিমালায় বলা হয়েছে, হাতে লেখা স্বাক্ষর অথবা মূল স্বাক্ষরের পরিষ্কার স্ক্যান কপি গ্রহণযোগ্য হবে। তবে টাইপ করা নাম, ডিজিটালভাবে তৈরি স্বাক্ষর, সিগনেচার স্ট্যাম্প কিংবা অনুমোদনহীন ব্যক্তির দেওয়া স্বাক্ষর গ্রহণযোগ্য হবে না।   এই পরিবর্তনের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়তে পারে এইচ-১বি ভিসা ও কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদন প্রক্রিয়ায়। এসব আবেদন সাধারণত প্রতিষ্ঠান বা আইনজীবীদের মাধ্যমে জমা দেওয়া হয়, যেখানে স্বাক্ষর সংক্রান্ত ছোট ত্রুটিও বড় জটিলতা তৈরি করতে পারে।   ইউএসসিআইএস আরও জানিয়েছে, আবেদন জমা দেওয়ার পরেও যদি কোনো পর্যায়ে স্বাক্ষর নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়, তাহলে পুরো আবেদন বাতিল করা হতে পারে। এমন সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হিসেবে বিবেচিত হবে, ফলে আবেদনকারীদের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি কাজের অনুমতি বা অভিবাসন স্ট্যাটাস ঝুঁকিতে পড়তে পারে।   অভিবাসন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন নিয়ম কার্যকর হলে আবেদনকারী ও নিয়োগদাতা উভয় পক্ষকে আরও সতর্ক হতে হবে। প্রতিটি স্বাক্ষরের ক্ষেত্রে যথাযথ অনুমোদন নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংরক্ষণ করা জরুরি হয়ে উঠবে।   নতুন নীতির বিষয়ে জনমত গ্রহণ চলবে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত। তবে একই দিন থেকেই এটি কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে, ফলে প্রস্তুতির সময় সীমিত।

নুরুল্লাহ সাইদ মে ২০, ২০২৬ ১৪:০ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে গুগল প্রধান সুন্দর পিচাইকে দেখে শিক্ষার্থীদের মঞ্চ বর্জন

যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্যবাহী স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে গুগলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সুন্দর পিচাইয়ের বক্তব্য চলাকালীন ফিলিস্তিনপন্থী শিক্ষার্থীদের তীব্র বিক্ষোভ ও অনুষ্ঠান বর্জনের (ওয়াকআউট) ঘটনা ঘটেছে। রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩৫তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সুন্দর পিচাই প্রধান বক্তা হিসেবে মঞ্চে ওঠার পরপরই এই ঘটনা ঘটে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যায়, সুন্দর পিচাই বক্তব্য শুরু করার মুহূর্তেই সমাবর্তনস্থলে উপস্থিত ১০০ জনেরও বেশি গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থী তাদের আসন ছেড়ে উঠে দাঁড়ান। এ সময় তারা "ফ্রি, ফ্রি প্যালেস্টাইন" (ফিলিস্তিনের মুক্তি চাই) বলে উচ্চকণ্ঠে স্লোগান দিতে দিতে স্টেডিয়াম ত্যাগ করেন। কট্টর বামপন্থী ছাত্র সংগঠন 'স্টুডেন্টস ফর জাস্টিস ইন প্যালেস্টাইন' এবং 'নো টেক ফর অ্যাপার্থাইড'-এর যৌথ আহ্বানে এই প্রতিবাদের আয়োজন করা হয়।   বিক্ষোভের মূল কারণ হিসেবে ইসরায়েল সরকারের সাথে গুগলের ১.২ বিলিয়ন ডলারের ক্লাউড কম্পিউটিং চুক্তি 'প্রজেক্ট নিম্বাস'-কে দায়ী করা হচ্ছে। আমাজনের সাথে যৌথভাবে পরিচালিত এই প্রকল্পের মাধ্যমে গুগল ইসরায়েল সরকারকে ক্লাউড ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি সরবরাহ করে আসছে। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও মানবাধিকার কর্মীদের অভিযোগ, গুগলের এই প্রযুক্তি ফিলিস্তিনিদের ওপর নজরদারি এবং ইসরায়েলের সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর বিভিন্ন ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপে ব্যবহৃত হতে পারে। যদিও গুগল বরাবরই এই দাবি অস্বীকার করে বলেছে, এটি কেবল সরকারি বেসামরিক কাজের জন্য একটি ক্লাউড সেবা।   উল্লেখ্য, সুন্দর পিচাই নিজে ১৯৯৫ সালে এই স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই মেটেরিয়ালস সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন। নিজের সাবেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে এসে তাকে এমন নজিরবিহীন প্রতিবাদের মুখে পড়তে হলো। এর আগে ২০২৪ সালেও এই প্রজেক্ট নিম্বাসের বিরুদ্ধে গুগলের ক্যালিফোর্নিয়া ও নিউইয়র্ক অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অবস্থান ধর্মঘট করলে গুগল কয়েক ডজন কর্মীকে চাকরিচ্যুত করেছিল।   চলতি বছর আমেরিকার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের লক্ষ্য করে শিক্ষার্থীদের এমন ক্ষোভ প্রকাশের ঘটনা নিয়মিত চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিছুদিন আগেই অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে গুগলের সাবেক সিইও এরিক শ্মিড বক্তব্য দিতে গেলে এআই প্রযুক্তির ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে শিক্ষার্থীরা তাকে ধুয়ে দেয়। তবে স্ট্যানফোর্ডের অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের এই তুমুল হট্টগোল ও কক্ষ ত্যাগের মাঝেও সুন্দর পিচাই তাঁর বক্তব্য চালিয়ে যান, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ভূ-রাজনীতির চেয়ে দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে শিক্ষার্থীদের আশাবাদী থাকার পরামর্শই বেশি প্রাধান্য পায়।

Top week

ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা

স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে গুগল প্রধান সুন্দর পিচাইকে দেখে শিক্ষার্থীদের মঞ্চ বর্জন

তাবাস্সুম মোহাম্মদ জুন ১৪, ২০২৬ ১৪:০ 0