যুক্তরাষ্ট্রে পুরাতন পোশাক নষ্ট হওয়া ঠেকাতে পাবলিক লাইব্রেরিতে অভিনব উদ্যোগ
যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকো শহরের পাবলিক লাইব্রেরিগুলোতে ব্যবহৃত ও পুরাতন পোশাক মেরামত করে সেগুলোকে নতুন রূপ দেওয়ার এক প্রশংসনীয় উদ্যোগ চালু করা হয়েছে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ লাইব্রেরিগুলোর ভেতরেই এখন কোনো খরচ ছাড়াই পুরাতন পোশাক জোড়াতালি বা মেরামত করে মানুষের ব্যবহারের উপযোগী করে তোলা হচ্ছে। মূলত কাপড় ফেলে দেওয়ার কারণে পরিবেশের যে মারাত্মক ক্ষতি হয়, তা রোধ করতেই শহর কর্তৃপক্ষ এবং একটি স্থানীয় অলাভজনক সংস্থা যৌথভাবে এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। সম্প্রতি একটি শনিবার সান ফ্রান্সিসকো পাবলিক লাইব্রেরির পার্কসাইড শাখায় গিয়ে দেখা যায়, বই ধার নেওয়া বা ফেরত দেওয়ার জন্য নয়, বরং পোশাক মেরামতের জন্য মানুষ লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন।
সেখানে সেলাই মেশিন, বিশেষ কাঁচি ও সূঁচ নিয়ে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে কাজ করছেন পাঁচজন পোশাক বিশেষজ্ঞ। এই চমৎকার উদ্যোগটি মূলত ২০২৩ সালে ‘ক্লোথিং রিপেয়ার ক্লিনিক’ নামে প্রথম যাত্রা শুরু করেছিল এবং বর্তমানে এটি শহরের বিভিন্ন লাইব্রেরি শাখায় পর্যায়ক্রমে পরিচালিত হচ্ছে। সান ফ্রান্সিসকো পাবলিক লাইব্রেরি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই বিশেষ কর্মসূচিটি শহরের পরিবেশ বিভাগ এবং ‘স্ক্র্যাপ’ নামক একটি অলাভজনক সংস্থার যৌথ অংশীদারিত্বের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হচ্ছে। এই অলাভজনক সংস্থাটি মূলত ফেলে দেওয়া বা উদ্বৃত্ত বিভিন্ন শিল্প উপাদানকে নতুনভাবে সৃজনশীল কাজে ব্যবহারের জন্য রূপান্তর করে থাকে। এছাড়া লাইব্রেরিগুলোতে আরেকটি সংস্থার সহযোগিতায় বিনামূল্যে বাইসাইকেল মেরামতের জন্য একটি বিশেষ মোবাইল ক্লিনিক সেবাও দেওয়া হচ্ছে।
এই ক্লিনিকে সেবা নেওয়ার জন্য আগে থেকে কোনো বুকিং বা নিবন্ধনের প্রয়োজন হয় না, বরং যারা আগে আসেন তারা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সেবা পেয়ে থাকেন। এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের ফলে সাধারণ মানুষ বিনামূল্যে তাদের পোশাক সচল করার পাশাপাশি একটি সুন্দর সামাজিক বন্ধন তৈরির সুযোগ পাচ্ছেন। লাইব্রেরিতে আসা বারবারা কোহ নামের এক বাসিন্দা জানান, তিনি কয়েক দশক আগে বেইজিং থেকে তার মায়ের জন্য একটি রেশমি জ্যাকেট কিনেছিলেন। তার মা মারা যাওয়ার পর জ্যাকেটটি ছিঁড়ে নষ্ট হতে বসেছিল, কিন্তু এই ক্লিনিকের মাধ্যমে তা সুন্দরভাবে মেরামত করা হয়েছে। জ্যাকেটটি মায়ের স্মৃতি বহন করায় এটি তার কাছে অত্যন্ত মূল্যবান এবং এখন থেকে তিনি এটি নিয়মিত পরতে পারবেন।
পরিবেশ সচেতনতার এই অনন্য উদ্যোগটি মূলত বিশ্বজুড়ে চলমান ‘ফাস্ট ফ্যাশন’ বা দ্রুত পরিবর্তনশীল পোশাক সংস্কৃতির ফলে তৈরি হওয়া মারাত্মক পরিবেশ দূষণের সমস্যা দূর করতে কাজ করছে। জাতিসংঘের একটি বৈশ্বিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর সারা বিশ্বে কোটি কোটি টন পোশাক মানুষ ময়লা হিসেবে ফেলে দেয়, যার মধ্যে ৯২ মিলিয়ন টন পোশাক সরাসরি ল্যান্ডফিল বা বর্জ্য ফেলার স্থানে চলে যায়। এই পরিত্যক্ত বস্ত্রগুলো ধীরে ধীরে পচে গিয়ে বায়ুমণ্ডলে ক্ষতিকারক গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গত করে। এছাড়া সিন্থেটিক বা মিশ্র কাপড়ের বর্জ্য থেকে বিষাক্ত রাসায়নিক উপাদান, মাইক্রোপ্লাস্টিক এবং চিরস্থায়ী কেমিক্যাল নিঃসৃত হয়ে পরিবেশের মারাত্মক বিপর্যয় ঘটায়।
সান ফ্রান্সিসকোর নগর কর্মকর্তারা লক্ষ্য করেছেন যে, ইদানীং শহরের সাধারণ বর্জ্যের মধ্যে ভালো মানের কাপড়ের পরিমাণ আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছিল। এই অপচয় ও দূষণ ঠেকাতে এবং ভালো মানের বস্ত্রের পুনর্ব্যবহার নিশ্চিত করতে তারা সাধারণ মানুষকে পোশাক মেরামতে উৎসাহিত করছেন। এখানে কেবল এক্সপার্ট বা বিশেষজ্ঞরা কাপড় সেলাই করে দেন না, বরং তারা মেরামতের প্রক্রিয়াটি কাপড়ের মালিককে হাতে-কলমে শিখিয়েও দেন। এর মূল উদ্দেশ্য হলো, সাধারণ মানুষ যেন পরবর্তীতে ঘরে বসেই তাদের ছোটখাটো বা সহজ সমস্যাগুলো নিজেরাই সমাধান করতে পারেন এবং পরিবেশ রক্ষায় অবদান রাখতে পারেন।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে চাকরি খোঁজার ক্ষেত্রে কোন অঙ্গরাজ্যে সুযোগ বেশি, আর কোথায় কর্মসংস্থানের পরিস্থিতি তুলনামূলক দুর্বল—এমন প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে নতুন একটি র্যাঙ্কিং। দেশটির ৫০টি অঙ্গরাজ্যের চাকরির বাজার ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে তৈরি এই তালিকায় শীর্ষে রয়েছে নেব্রাস্কা। এরপর আছে নর্থ ডাকোটা, মিনেসোটা, সাউথ ডাকোটা ও নিউ হ্যাম্পশায়ার। অন্যদিকে তালিকার একেবারে শেষ অবস্থানে রয়েছে ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া। ক্যালিফোর্নিয়ার অবস্থান ২৫তম, আর ফ্লোরিডা রয়েছে ৪৭তম স্থানে। এই র্যাঙ্কিং তৈরিতে ৩৪টি সূচকের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যগুলোর তুলনা করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে চাকরির সুযোগ, কর্মসংস্থান বৃদ্ধির হার, বেকারত্ব, চাকরির নিরাপত্তা, আয়, কর্মীদের সুযোগ-সুবিধা এবং কর্মস্থলে যাতায়াতে ব্যয় হওয়া সময়। অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও শ্রমবাজারের শক্তিমত্তা—দুই দিক বিবেচনা করে প্রতিটি অঙ্গরাজ্যের সামগ্রিক স্কোর নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে তালিকাটি শুধু কোথায় চাকরির সুযোগ বেশি, তা দেখায় না; চাকরি পাওয়ার পর সেটি ধরে রাখা এবং কাজের পরিবেশ কেমন, সেটিও বিবেচনায় আনে। র্যাঙ্কিংয়ে নেব্রাস্কার মোট স্কোর ১০০-এর মধ্যে ৬৪ দশমিক ২৪। নর্থ ডাকোটার স্কোর ৬২ দশমিক ৯২, মিনেসোটার ৬২ দশমিক ৫০, সাউথ ডাকোটার ৬২ দশমিক ০২ এবং নিউ হ্যাম্পশায়ারের ৬১ দশমিক ৭২। শীর্ষ পাঁচে থাকা এই অঙ্গরাজ্যগুলোর পাশাপাশি ওয়াশিংটন ষষ্ঠ, মেইন সপ্তম, টেক্সাস অষ্টম, হাওয়াই নবম এবং টেনেসি দশম স্থানে রয়েছে। নেব্রাস্কা কেন শীর্ষে নেব্রাস্কা প্রথম স্থান পাওয়ার পেছনে অন্যতম কারণ রাজ্যটির তুলনামূলক কম বেকারত্ব। সেখানে বেকারত্বের হার প্রায় ৩ শতাংশ। জনসংখ্যার তুলনায় চাকরির সুযোগের সংখ্যায় রাজ্যটি ১১তম অবস্থানে রয়েছে। পাশাপাশি সেখানে চাকরির সংখ্যা বছরে প্রায় ১ দশমিক ২ শতাংশ হারে বাড়ছে, যা দেশটির অঙ্গরাজ্যগুলোর মধ্যে চতুর্থ সর্বোচ্চ। শুধু নতুন চাকরি তৈরি নয়, কর্মীদের চাকরি ধরে রাখার ক্ষেত্রেও নেব্রাস্কার অবস্থান ভালো। চাকরির নিরাপত্তার সূচকে রাজ্যটি তৃতীয়। বেসরকারি স্বাস্থ্যবিমার আওতায় থাকা কর্মীর অনুপাতেও রয়েছে চতুর্থ অবস্থানে। বিভিন্ন শিল্প খাতের বৈচিত্র্যের দিক থেকে নেব্রাস্কা দশম স্থানে রয়েছে। পাশাপাশি কর্মীদের কাজ ভাগাভাগি করে নেওয়ার কর্মসূচি এবং তুলনামূলক ভালো বেতনের ইন্টার্নশিপের সুযোগও রাজ্যটির অবস্থানকে শক্তিশালী করেছে। নর্থ ডাকোটা ও মিনেসোটার অবস্থান দ্বিতীয় স্থানে থাকা নর্থ ডাকোটায় বেকারত্বের হার ২ দশমিক ৬ শতাংশ। চাকরির সংখ্যা বৃদ্ধির গড় বার্ষিক হারে রাজ্যটি ১২তম স্থানে রয়েছে। কাজ খুঁজতে নিরুৎসাহিত হয়ে শ্রমবাজার থেকে দূরে থাকা মানুষের অনুপাতও সেখানে সবচেয়ে কম। অর্থাৎ হতাশা, দক্ষতার অভাব, বয়সজনিত বৈষম্য কিংবা অন্য কোনো বাধার কারণে যারা সক্রিয়ভাবে চাকরি খোঁজেন না, তাদের অংশ তুলনামূলকভাবে কম। কর্মপরিবেশের দিক থেকেও নর্থ ডাকোটা এগিয়ে। সেখানে কর্মস্থলে পৌঁছাতে গড়ে প্রায় ১৭ মিনিট লাগে, যা দেশটির অঙ্গরাজ্যগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন যাতায়াত সময়। চাকরির নিরাপত্তায় রাজ্যটি অষ্টম এবং বেসরকারি স্বাস্থ্যবিমা পাওয়া কর্মীর অনুপাতে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। বছরে ২৫ হাজার ডলার বা তার কম আয় করেন, এমন মানুষের ওপর রাজ্য আয়করের চাপ তুলনামূলক কম। ২৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার ডলার আয়ের মানুষের ক্ষেত্রেও করের চাপ দ্বিতীয় সর্বনিম্ন। কর্মজীবী মায়েদের জন্য উপযোগী অঙ্গরাজ্যের তালিকায় নর্থ ডাকোটা নবম। তৃতীয় স্থানে থাকা মিনেসোটার বড় সুবিধা হলো তুলনামূলক বেশি পারিবারিক আয় এবং কর্মীদের সুযোগ-সুবিধা। জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সমন্বয় করার পর রাজ্যটির মধ্যম পারিবারিক আয় প্রায় ৮৮ হাজার ডলার, যা দেশটির মধ্যে তৃতীয় সর্বোচ্চ। নতুন চাকরিতে যোগ দেওয়া কর্মীদের গড় মাসিক প্রারম্ভিক বেতন প্রায় ৪ হাজার ডলার। এই সূচকে মিনেসোটা ১১তম। মিনেসোটায় বেসরকারি স্বাস্থ্যবিমা এবং নিয়োগকর্তার মাধ্যমে অবসরকালীন সঞ্চয় পরিকল্পনায় অংশ নেওয়ার সুযোগ তুলনামূলক ভালো। রাজ্যটির বেকারত্বের হার প্রায় ৩ দশমিক ৯ শতাংশ। কর্মজীবী মা ও বাবাদের জন্যও মিনেসোটার অবস্থান উল্লেখযোগ্যভাবে ভালো। কর্মজীবী মায়েদের তালিকায় সপ্তম এবং বাবাদের তালিকায় পঞ্চম স্থানে রয়েছে রাজ্যটি। ক্যালিফোর্নিয়া ও টেক্সাসের অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের বড় অর্থনৈতিক কেন্দ্রগুলোর মধ্যে থাকা ক্যালিফোর্নিয়া সামগ্রিক তালিকায় ২৫তম। রাজ্যটির মোট স্কোর ৫৪ দশমিক ২৫। তবে চাকরির সুযোগের সংখ্যার সূচকে ক্যালিফোর্নিয়ার অবস্থান ৪৯তম, অর্থাৎ তালিকার নিচের দিক থেকে দ্বিতীয়। অর্থনৈতিক পরিবেশের সূচকে রাজ্যটি ১৮তম হলেও চাকরির বাজারের সূচকে রয়েছে ৩১তম স্থানে। অন্যদিকে টেক্সাস সামগ্রিকভাবে অষ্টম স্থানে রয়েছে। অর্থনৈতিক পরিবেশের সূচকে রাজ্যটি দ্বিতীয় হলেও চাকরির বাজারের শক্তিমত্তার সূচকে ২৫তম। এই পার্থক্য দেখায়, কোনো অঙ্গরাজ্যের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ভালো হলেই সেখানে চাকরি পাওয়ার সুযোগও সব সূচকে সমানভাবে ভালো হবে—এমন নয়। হাওয়াই চাকরির সুযোগের সূচকে প্রথম এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির হারেও প্রথম স্থানে রয়েছে। তবে সামগ্রিক র্যাঙ্কিংয়ে রাজ্যটি নবম। এর বিপরীতে ফ্লোরিডা কর্মসংস্থান বৃদ্ধির সূচকে ৫০তম বা সর্বশেষ স্থানে রয়েছে। সামগ্রিক তালিকায় ফ্লোরিডার অবস্থান ৪৭তম। চাকরির সুযোগের সূচকে নর্থ ক্যারোলাইনা প্রথম। এরপর রয়েছে হাওয়াই, ভারমন্ট, নিউ হ্যাম্পশায়ার ও মেইন। বিপরীত দিকে এই সূচকে সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা পাঁচটি অঙ্গরাজ্য হলো মিশিগান, ক্যালিফোর্নিয়া, ওরেগন, ইলিনয় ও নেভাদা। সবচেয়ে পিছিয়ে কোন অঙ্গরাজ্য সামগ্রিক র্যাঙ্কিংয়ের শেষ পাঁচটি অঙ্গরাজ্য হলো লুইজিয়ানা ৪৬তম, ফ্লোরিডা ৪৭তম, পেনসিলভানিয়া ৪৮তম, ওরেগন ৪৯তম এবং ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া ৫০তম। ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার মোট স্কোর ৩৯ দশমিক ৪২। চাকরির বাজারের সূচকেও রাজ্যটি সর্বশেষ স্থানে রয়েছে। পেনসিলভানিয়া ও ওরেগনের অবস্থানও নিচের দিকে, যা চাকরির সুযোগ এবং অর্থনৈতিক পরিস্থিতি—দুই ক্ষেত্রেই চ্যালেঞ্জের ইঙ্গিত দেয়। কর্মসংস্থান বৃদ্ধির সূচকে হাওয়াই প্রথম হলেও মিসিসিপি দ্বিতীয়, আলাস্কা তৃতীয়, নেব্রাস্কা চতুর্থ এবং কানসাস পঞ্চম স্থানে রয়েছে। অন্যদিকে এই সূচকে ফ্লোরিডা সর্বশেষ। ইউটাহ, ওয়াইয়োমিং, ভারমন্ট ও মেরিল্যান্ডও তালিকার নিচের দিকে রয়েছে। চাকরির জন্য কোন অঙ্গরাজ্য বেছে নেবেন, তা নির্ধারণের ক্ষেত্রে শুধু সামগ্রিক র্যাঙ্কিংয়ের ওপর নির্ভর করা যথেষ্ট নয়। চাকরিপ্রার্থীর পেশা, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা, প্রত্যাশিত বেতন এবং নির্দিষ্ট শহরের শ্রমবাজারের পরিস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি বাড়িভাড়া, যাতায়াতের ব্যয়, স্বাস্থ্যবিমা ও অন্যান্য জীবনযাত্রার খরচ বিবেচনা করা দরকার। চাকরির জন্য উপযোগী অঙ্গরাজ্যে বসবাস দীর্ঘমেয়াদে কর্মজীবনের স্থিতিশীলতা বাড়াতে পারে। সেখানে চাকরি খুঁজে পাওয়া ও ধরে রাখার সুযোগের পাশাপাশি প্রতিযোগিতামূলক বেতন এবং কর্মী-সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনাও থাকে। তবে কোনো তালিকাই নির্দিষ্ট ব্যক্তির চাকরি পাওয়ার নিশ্চয়তা দেয় না। তাই অন্য অঙ্গরাজ্যে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নিজের পেশার চাহিদা, সম্ভাব্য আয় এবং জীবনযাত্রার ব্যয় আলাদাভাবে যাচাই করাই ভালো।
জন্মতারিখ অনুযায়ী নভেম্বরের সোশ্যাল সিকিউরিটি পেমেন্ট, কোন দিন অ্যাকাউন্টে আসবে আপনার টাকা
রেকর্ড ভাড়ার মধ্যেও নিউইয়র্কবাসীর কাছে জনপ্রিয় হচ্ছেন মেয়র জোহরান মামদানি, জরিপে মিলল নতুন চিত্র
খুলনার সন্তান শেখ আল আমিনের মার্কিন সেনাবাহিনীতে ক্যাপ্টেন পদে পদোন্নতি
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের কুইন্সে এক কিশোরী রোগীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে ৭২ বছর বয়সী শিশু চিকিৎসক ডা. ফজল ইউসুফকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর গ্রেপ্তারের পর তাঁর বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়ন, জোরপূর্বক স্পর্শ এবং শিশুর কল্যাণ বিপন্ন করার অভিযোগ আনা হয়েছে। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের (এনওয়াইপিডি) বরাত দিয়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরী এবং ২০ বছর বয়সী এক তরুণী জড়িত। অভিযোগগুলোর তদন্তের পর পুলিশের স্পেশাল ভিকটিমস স্কোয়াড চিকিৎসককে গ্রেপ্তার করে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিযোগের একটি ঘটনা চিকিৎসকের ফ্লাশিং এলাকার চেম্বারে ঘটেছে। প্রসিকিউটরদের দাবি, ১৫ বছর বয়সী রোগীর শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে হাত দিয়েছিলেন চিকিৎসক। এ সময় তিনি ওই কিশোরীকে তাঁর সৌন্দর্য নিয়ে মন্তব্য করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় চিকিৎসকের বিরুদ্ধে তৃতীয় ডিগ্রির যৌন নিপীড়নের দুটি অভিযোগ, জোরপূর্বক স্পর্শ এবং শিশুর কল্যাণ বিপন্ন করার অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে আদালতে দোষ প্রমাণিত হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় অন্য কেউ ভুক্তভোগী হয়ে থাকলে তাঁদেরও সামনে এসে অভিযোগ জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে সম্ভাব্য অন্য ভুক্তভোগীদের তথ্য সংগ্রহ করছে কর্তৃপক্ষ। যুক্তরাষ্ট্রে ফৌজদারি মামলায় গ্রেপ্তার বা অভিযোগ গঠন মানেই অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়। আদালতে দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত ব্যক্তি আইনত নির্দোষ বলে বিবেচিত হন।
সাইবার হামলায় মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটির ৪১ হাজারের বেশি কর্মীর তথ্য ফাঁস
২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে চাকরির জন্য সবচেয়ে খারাপ অঙ্গরাজ্যগুলোর তালিকায় পেনসিলভানিয়া, বলছে গবেষণা
যুক্তরাষ্ট্রের ইবি-৫ ভিসার আবেদন ফি বাড়ছে ৩০ নভেম্বর থেকে, বিনিয়োগকারীদের খরচ বাড়বে
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় স্ত্রীকে হত্যার পর তিনি বিদেশে জীবিত আছেন, এমন ধারণা তৈরির চেষ্টা করার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এপিফানিও আইএক্স রামোস গামিন্দে নামের ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রথম ডিগ্রির হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। তাঁর স্ত্রী মারিয়া গামিন্দে ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে নিখোঁজ রয়েছেন। দীর্ঘ তদন্তের পর গত ২৬ অক্টোবর সোমবার তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে তদন্তকারীরা এখনো মারিয়ার মরদেহ উদ্ধার করতে পারেননি। ভোলুসিয়া কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জানায়, মারিয়ার পরিবারের সদস্যরা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে নিখোঁজের খবর দেন। এ সময় তাঁর স্বামী তদন্তকারীদের বলেছিলেন, মারিয়া স্বেচ্ছায় ডিবারির বাড়ি ছেড়ে বিদেশে চলে গেছেন। কিন্তু পরে তাঁর নামে পাঠানো বিভিন্ন খুদে বার্তা ও অন্যান্য যোগাযোগের সত্যতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়। তদন্তকারীদের ধারণা, মারিয়া জীবিত আছেন এবং পরিবারের সদস্য, বন্ধু ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে চাইছেন না, এমন একটি ভুল ধারণা তৈরি করার চেষ্টা করা হয়েছিল। ঘটনাটির তদন্তে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সংস্থার পাশাপাশি জাপান ও ফিলিপাইনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা নেওয়া হয়। ভোলুসিয়া কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় এবং ফ্লোরিডার সপ্তম জুডিশিয়াল সার্কিটের স্টেট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তদন্তকারীরা প্রমাণ সংগ্রহ ও সাক্ষীদের সঙ্গে কথা বলতে ফিলিপাইনেও যান। তদন্তের বিভিন্ন পর্যায়ে মারিয়ার নামে পাঠানো বার্তা ও অন্যান্য যোগাযোগের সূত্র যাচাই করা হয়। এসব অনুসন্ধানের পর তদন্তকারীরা মনে করেন, তাঁর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাটি আড়াল করতে পরিকল্পিতভাবে তাঁকে বিদেশে অবস্থানরত ও জীবিত হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়ে থাকতে পারে। ভোলুসিয়া কাউন্টির গ্র্যান্ড জুরি এপিফানিওর বিরুদ্ধে প্রথম ডিগ্রির হত্যার অভিযোগ অনুমোদন করার পর তাঁকে আটক করা হয়। বর্তমানে তিনি ভোলুসিয়া কাউন্টি শাখা কারাগারে জামিন ছাড়া আটক রয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থার পক্ষ থেকেও অভিবাসন-সংক্রান্ত আটকাদেশ রয়েছে। তবে অভিযোগ আনা হলেও মামলার বিচার এখনো শেষ হয়নি এবং আদালতে তাঁর অপরাধ প্রমাণিত হয়নি। মারিয়ার মরদেহ উদ্ধার না হওয়ায় তদন্তে নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তবে ফ্লোরিডার সপ্তম জুডিশিয়াল সার্কিটের স্টেট অ্যাটর্নি আর. জে. লারিজা বলেছেন, মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব না হলেও প্রসিকিউশন বা রাষ্ট্রপক্ষ মামলাটি এগিয়ে নিতে প্রস্তুত। তদন্তকারীরা এ ঘটনায় আরও তথ্য সংগ্রহ করছেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে পরে বিস্তারিত জানানো হবে। তথ্যসূত্র: ভোলুসিয়া কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় এবং ফ্লোরিডার সপ্তম জুডিশিয়াল সার্কিটের স্টেট অ্যাটর্নির কার্যালয়।
যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি ছেড়ে ডিজিটাল ব্যবসায় মাসে ১০ হাজার ডলার আয়, সাফল্যে ভূমিকা রেখেছে যে তিন বই
নিউ ইয়র্কে ইউটিউবার আইশোস্পিডের লুকোচুরি প্রতিযোগিতা, বিজয়ীর পুরস্কার ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার