যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের ওকল্যান্ড শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে এবং জনবসতিপূর্ণ এলাকায় অবৈধভাবে ময়লা-আবর্জনা ফেলা বন্ধ করতে ৯৩ লাখ মার্কিন ডলারের একটি বিশাল অনুদান সংগ্রহ করেছে নগর কর্তৃপক্ষ। একটি বেসরকারি দাতব্য ফাউন্ডেশন থেকে পাওয়া রেকর্ড পরিমাণ এই অর্থ দিয়ে শহরের নাগরিক জীবনের অন্যতম প্রধান সমস্যা মোকাবিলায় একটি বড় কৌশলগত পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। ওকল্যান্ডের সিটি লিডার বা নগর নেতারা জানিয়েছেন, ‘ক্র্যাঙ্কস্টার্ট’ নামের একটি সমাজকল্যাণমূলক ফাউন্ডেশন থেকে পাওয়া এই তহবিল মূলত অবৈধ ময়লা ফেলাকারীদের শনাক্ত করতে নজরদারি ক্যামেরা ও ড্রোন অপারেশনসহ কঠোর আইনি পদক্ষেপের পরিধি বাড়াতে ব্যবহার করা হবে।
শহরের বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে পুরোনো তোশক বা ম্যাট্রেস, ভাঙা আসবাবপত্র থেকে শুরু করে গৃহস্থালির বর্জ্য স্তূপ করে রাখার দৃশ্য ওকল্যান্ডের একটি অন্যতম দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা। ওকল্যান্ড পাবলিক ওয়ার্কস-এর পরিচালক লিয়াম গারল্যান্ড বলেন, এতদিন ওকল্যান্ড শহর কর্তৃপক্ষ কেবল অবৈধ বর্জ্য অপসারণের কাজ করে আসছিল, কিন্তু এখন তারা এই বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগের মাধ্যমে বর্জ্যের পরিমাণ সম্পূর্ণ কমিয়ে আনার ওপর জোর দিচ্ছেন। এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে অবৈধভাবে বর্জ্য ফেলা প্রতিরোধ করা এবং আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা জোরদার করা। পুরো প্রক্রিয়াটি সফল করতে একটি সরকারি-বেসরকারি যৌথ মডেল তৈরি করেছে ওকল্যান্ড প্রশাসন।
তবে এই নতুন উদ্যোগ নিয়ে সমালোচকেরা ভিন্ন মত প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি বা জরিমানা করার আগে শহরের সাধারণ মানুষের জন্য বড় আকারের বর্জ্য বিনামূল্যে বা কম খরচে ফেলার আইনি প্রক্রিয়াটি আরও সহজ করা উচিত ছিল। ওকল্যান্ডের একটি সাম্প্রতিক নিরীক্ষা বা অডিটে দেখা গেছে, বহুতল অ্যাপার্টমেন্টের ভাড়াটিয়া বাসিন্দারা বাড়ির মালিকদের তুলনায় শহরের ফ্রি বর্জ্য অপসারণ কর্মসূচির সুবিধা অনেক কম পান। ওকল্যান্ডের একক বাড়ির মালিকেরা বছরে দুইবার বিনামূল্যে বড় আবর্জনা অপসারণের সুযোগ পেলেও বড় অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের ভাড়াটিয়ারা মাত্র একবার এই সুযোগ পান। ফলে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত বা নিরুপায় হয়ে কম খরচে আবর্জনা সরাতে অবৈধ পন্থার আশ্রয় নেন।
ওকল্যান্ডের একটি স্থানীয় আবর্জনা অপসারণকারী প্রতিষ্ঠানের মালিক কেভিন টোরে জানান, আইনি উপায়ে ময়লা ফেলার খরচ অনেক বেশি এবং এর নিয়মকানুন অত্যন্ত জটিল। অনেক ভাড়াটিয়া যখন ব্যক্তিগত কোম্পানির ১৫০ ডলারের ন্যূনতম খরচ বহন করতে পারেন না, তখন তারা কোনো ট্রাকে করে রাতের আঁধারে ওয়েস্ট ওকল্যান্ডের নির্জন কোনো রাস্তায় আবর্জনা ফেলে আসেন। তবে ওকল্যান্ড পাবলিক ওয়ার্কস-এর সহকারী পরিচালক ক্রিস্টিন হ্যাথাওয়ে জানিয়েছেন, তারা ইতিমধ্যে এই জটিল নিয়ম সহজ করেছেন। এখন থেকে বড় অ্যাপার্টমেন্টের ভাড়াটিয়ারা বাড়ির মালিক বা ল্যান্ডলর্ডের অনুমতি ছাড়াই সরাসরি বুকিং দিয়ে নিজেদের বড় বর্জ্যগুলো বিনামূল্যে অপসারণের সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না। নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার। তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের ওকল্যান্ড শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে এবং জনবসতিপূর্ণ এলাকায় অবৈধভাবে ময়লা-আবর্জনা ফেলা বন্ধ করতে ৯৩ লাখ মার্কিন ডলারের একটি বিশাল অনুদান সংগ্রহ করেছে নগর কর্তৃপক্ষ। একটি বেসরকারি দাতব্য ফাউন্ডেশন থেকে পাওয়া রেকর্ড পরিমাণ এই অর্থ দিয়ে শহরের নাগরিক জীবনের অন্যতম প্রধান সমস্যা মোকাবিলায় একটি বড় কৌশলগত পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। ওকল্যান্ডের সিটি লিডার বা নগর নেতারা জানিয়েছেন, ‘ক্র্যাঙ্কস্টার্ট’ নামের একটি সমাজকল্যাণমূলক ফাউন্ডেশন থেকে পাওয়া এই তহবিল মূলত অবৈধ ময়লা ফেলাকারীদের শনাক্ত করতে নজরদারি ক্যামেরা ও ড্রোন অপারেশনসহ কঠোর আইনি পদক্ষেপের পরিধি বাড়াতে ব্যবহার করা হবে। শহরের বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে পুরোনো তোশক বা ম্যাট্রেস, ভাঙা আসবাবপত্র থেকে শুরু করে গৃহস্থালির বর্জ্য স্তূপ করে রাখার দৃশ্য ওকল্যান্ডের একটি অন্যতম দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা। ওকল্যান্ড পাবলিক ওয়ার্কস-এর পরিচালক লিয়াম গারল্যান্ড বলেন, এতদিন ওকল্যান্ড শহর কর্তৃপক্ষ কেবল অবৈধ বর্জ্য অপসারণের কাজ করে আসছিল, কিন্তু এখন তারা এই বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগের মাধ্যমে বর্জ্যের পরিমাণ সম্পূর্ণ কমিয়ে আনার ওপর জোর দিচ্ছেন। এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে অবৈধভাবে বর্জ্য ফেলা প্রতিরোধ করা এবং আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা জোরদার করা। পুরো প্রক্রিয়াটি সফল করতে একটি সরকারি-বেসরকারি যৌথ মডেল তৈরি করেছে ওকল্যান্ড প্রশাসন। তবে এই নতুন উদ্যোগ নিয়ে সমালোচকেরা ভিন্ন মত প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি বা জরিমানা করার আগে শহরের সাধারণ মানুষের জন্য বড় আকারের বর্জ্য বিনামূল্যে বা কম খরচে ফেলার আইনি প্রক্রিয়াটি আরও সহজ করা উচিত ছিল। ওকল্যান্ডের একটি সাম্প্রতিক নিরীক্ষা বা অডিটে দেখা গেছে, বহুতল অ্যাপার্টমেন্টের ভাড়াটিয়া বাসিন্দারা বাড়ির মালিকদের তুলনায় শহরের ফ্রি বর্জ্য অপসারণ কর্মসূচির সুবিধা অনেক কম পান। ওকল্যান্ডের একক বাড়ির মালিকেরা বছরে দুইবার বিনামূল্যে বড় আবর্জনা অপসারণের সুযোগ পেলেও বড় অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের ভাড়াটিয়ারা মাত্র একবার এই সুযোগ পান। ফলে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত বা নিরুপায় হয়ে কম খরচে আবর্জনা সরাতে অবৈধ পন্থার আশ্রয় নেন। ওকল্যান্ডের একটি স্থানীয় আবর্জনা অপসারণকারী প্রতিষ্ঠানের মালিক কেভিন টোরে জানান, আইনি উপায়ে ময়লা ফেলার খরচ অনেক বেশি এবং এর নিয়মকানুন অত্যন্ত জটিল। অনেক ভাড়াটিয়া যখন ব্যক্তিগত কোম্পানির ১৫০ ডলারের ন্যূনতম খরচ বহন করতে পারেন না, তখন তারা কোনো ট্রাকে করে রাতের আঁধারে ওয়েস্ট ওকল্যান্ডের নির্জন কোনো রাস্তায় আবর্জনা ফেলে আসেন। তবে ওকল্যান্ড পাবলিক ওয়ার্কস-এর সহকারী পরিচালক ক্রিস্টিন হ্যাথাওয়ে জানিয়েছেন, তারা ইতিমধ্যে এই জটিল নিয়ম সহজ করেছেন। এখন থেকে বড় অ্যাপার্টমেন্টের ভাড়াটিয়ারা বাড়ির মালিক বা ল্যান্ডলর্ডের অনুমতি ছাড়াই সরাসরি বুকিং দিয়ে নিজেদের বড় বর্জ্যগুলো বিনামূল্যে অপসারণের সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর বিভিন্ন ইভেন্ট ও কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে জারি করা সাময়িক বিমান চলাচল নিষেধাজ্ঞা অমান্য করায় তিনটি ড্রোন জব্দ করেছে দেশটির ফেডারেল কর্তৃপক্ষ। এফবিআই-এর আটলান্টা ফিল্ড অফিস স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং অন্যান্য ফেডারেল সহযোগীদের সাথে যৌথভাবে এই ড্রোনগুলো জব্দ করার ঘোষণা দেয়। একই সাথে তারা সতর্ক করে জানিয়েছে যে, বিশ্বকাপ ভেন্যু এবং এর সাথে সম্পর্কিত যেকোনো অনুষ্ঠানের কাছাকাছি অননুমোদিতভাবে ড্রোন ওড়ালে কঠোর আইনগত ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে হবে। এফবিআই-এর পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, যেসকল ড্রোন চালক এই সাময়িক নিষেধাজ্ঞা অমান্য করবেন, তাদের সরঞ্জাম বাজেয়াপ্ত করার পাশাপাশি সর্বোচ্চ ১ লাখ মার্কিন ডলার পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে। একই সাথে দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধের মামলাও দায়ের করা হতে পারে। তবে জব্দকৃত ড্রোনগুলো ঠিক কোন এলাকায় ওড়ানো হচ্ছিল কিংবা এই ঘটনায় কাউকে এখন পর্যন্ত গ্রেফতার করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করেনি তদন্তকারী কর্মকর্তারা। আন্তর্জাতিক এই ফুটবল টুর্নামেন্টকে কেন্দ্র করে আটলান্টায় বর্তমানে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট চলছে, যা উপভোগ করতে লাখ লাখ দর্শনার্থী ও ফুটবলপ্রেমী এই অঞ্চলে সমবেত হয়েছেন। ফেডারেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অনিরাপদ বা নিয়মবহির্ভূতভাবে ড্রোন বা মানহীন আকাশযান চালনা করলে তা সাধারণ বিমান চলাচল, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরাপত্তা কার্যক্রম এবং মাটিতে থাকা সাধারণ মানুষের জন্য মারাত্মক ঝুঁকির কারণ হতে পারে। এই কারণেই মূলত খেলাকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকার আকাশসীমায় কঠোর নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। যেকোনো ড্রোন ওড়ানোর আগে চালকদের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এফএএ) অনুমোদিত অ্যাপের মাধ্যমে ওই এলাকার আকাশসীমা সম্পর্কিত রিয়েল-টাইম তথ্য এবং সাময়িক নিষেধাজ্ঞাগুলো ভালোভাবে পরীক্ষা করে নেওয়ার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে। এছাড়া সাধারণ মানুষকেও ড্রোন সংক্রান্ত যেকোনো অনিরাপদ বা সন্দেহজনক কার্যকলাপের বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কেউ যদি এমন কোনো নিয়মবহির্ভূত ড্রোন ওড়াতে দেখেন, তবে তাকে সরাসরি এফবিআই-এর হটলাইনে বা অনলাইনের মাধ্যমে তথ্য দিয়ে সহায়তা করার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউসের উদ্যোগে গঠিত প্রতারণা দমন টাস্ক ফোর্স সম্প্রতি যে ‘মোস্ট ওয়ান্টেড প্রতারকদের’ তালিকা প্রকাশ করেছে, সেই তালিকাভুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে প্রথমবারের মতো একজনকে আটক করা হয়েছে। অভিযুক্ত সাঈদ আব্দুল্লাহি এরেগ মিনিয়াপোলিসে পৌঁছে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করার পর ফেডারেল কর্তৃপক্ষ তাকে হেফাজতে নিয়েছে। মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২০২৪ সাল থেকে এরেগের বিরুদ্ধে ফেডারেল পর্যায়ে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি ছিল। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের মধ্যে রয়েছে তারযুক্ত যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতারণার ষড়যন্ত্র, প্রতারণা এবং অর্থ পাচারের মতো গুরুতর অপরাধ। আদালতে দাখিল করা অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ২০২০ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে কোভিড-১৯ মহামারির সময় মিনিয়াপোলিসভিত্তিক ফেডারেল শিশু পুষ্টি কর্মসূচি থেকে ৪০ লাখ ডলারেরও বেশি অর্থ প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়। তদন্তকারীদের দাবি, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য খাবার সরবরাহের নামে ভুয়া তথ্য উপস্থাপন করে সরকারের কাছ থেকে অর্থ ফেরত নেওয়া হয়েছিল। ফেডারেল তদন্তকারীদের অভিযোগ, বাস্তবে যেসব খাবার বিতরণের দাবি করা হয়েছিল তার বড় একটি অংশের কোনো বাস্তব অস্তিত্ব ছিল না। জাল নথি ও ভুয়া হিসাবের মাধ্যমে সরকারি অর্থ সংগ্রহের পর সেই অর্থের একটি অংশ বিদেশি ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে স্থানান্তর করা হয়। তদন্তে আরও অভিযোগ করা হয়েছে যে আত্মসাৎ করা অর্থ বিলাসবহুল জীবনযাপনের জন্য ব্যয় করা হয়েছিল। মার্কিন বিচার বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে এই মামলার তদন্ত চালিয়ে আসছিলেন। সাম্প্রতিক সময়ে প্রতারণা ও সরকারি তহবিল অপব্যবহারের বিরুদ্ধে জোরালো পদক্ষেপের অংশ হিসেবে হোয়াইট হাউসের টাস্ক ফোর্স সবচেয়ে বেশি খোঁজা হচ্ছে এমন অভিযুক্তদের একটি তালিকা প্রকাশ করে। সেই তালিকা প্রকাশের এক সপ্তাহের মধ্যেই এরেগের আত্মসমর্পণ এবং গ্রেপ্তারকে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন। তবে মার্কিন বিচারব্যবস্থার নীতি অনুযায়ী, আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত সাঈদ আব্দুল্লাহি এরেগকে নির্দোষ হিসেবে গণ্য করা হবে। মামলাটির পরবর্তী শুনানি ও বিচারিক কার্যক্রম এখন ফেডারেল আদালতে চলবে।