যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই একটি ঐতিহাসিক দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষর হতে পারে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার মতে, চলতি সপ্তাহের শেষেই ইউরোপের কোনো এক স্থানে এই চুক্তিটি সম্পন্ন হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিজেই এই বড় কূটনৈতিক অগ্রগতির তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম সামা টিভির এক প্রতিবেদনে এই খবর প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে জানান, বহুল প্রতীক্ষিত এই চুক্তির নথিপত্র প্রস্তুতের কাজ এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তিনি অত্যন্ত আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এই দ্বিপাক্ষিক চুক্তিটি খুব শিগগিরই সফলভাবে সম্পন্ন হবে বলে তিনি মনে করেন। ট্রাম্পের দাবি, চুক্তিটি চূড়ান্ত করার বিষয়ে অন্যান্য পক্ষের মতোই ইরানও সমানভাবে আগ্রহী এবং তারা সফলভাবে আলোচনা শেষ করতে কাজ করছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বিশ্বাস করেন যে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ইতিমধ্যে এই সম্ভাব্য সমঝোতা চুক্তিটির প্রয়োজনীয় অনুমোদন দিয়েছেন। তবে ট্রাম্প জানান, ইউরোপে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে তিনি নিজে সশরীরে উপস্থিত থাকতে পারবেন না। এই অনুষ্ঠানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে মূল প্রতিনিধিত্ব করবেন দেশটির নবনির্বাচিত ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।
চুক্তির পরবর্তী ইতিবাচক প্রভাব নিয়ে ট্রাম্প বলেন, দুই দেশের মধ্যে চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে। এর ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম অনেক কমে আসবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসায় কাজের পরিকল্পনা থাকলে নতুন এই প্রস্তাবটি সম্পর্কে জানা আপনার জন্য অত্যন্ত জরুরি। মার্কিন সিনেটে রিপাবলিকান সিনেটর টিম শিহি ‘এন্ড এইচ-১বি অ্যাবিউজ অ্যাক্ট’ নামের একটি বিল উত্থাপন করেছেন, যেখানে নতুন এইচ-১বি ভিসা ইস্যু করা তিন বছরের জন্য স্থগিত করাসহ এই কর্মসূচিতে ব্যাপক পরিবর্তনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। যদিও এটি এখনও কেবল একটি বিল এবং আইনে পরিণত হয়নি, তবে এটি পাস হলে প্রতি বছর এইচ-১বি ভিসার একটি বিশাল অংশ পাওয়া ভারতীয় পেশাজীবীদের ওপর এর মারাত্মক প্রভাব পড়বে। মন্টানার এই সিনেটরের মতে, এইচ-১বি কর্মসূচিটি এমন সব বিশেষায়িত পদের জন্য তৈরি করা হয়েছিল, যেখানে আমেরিকান কোম্পানিগুলো পর্যাপ্ত যোগ্য কর্মী পায় না। এটিকে কম খরচের বিদেশি শ্রমিক দিয়ে আমেরিকানদের প্রতিস্থাপনের কাজে ব্যবহার করা উচিত নয়। তার দাবি, এই বিলটি পাস হলে কর্মসূচিটি তার মূল উদ্দেশ্যে ফিরে যাবে, জালিয়াতি কমবে এবং আমেরিকান কর্মীরা অগ্রাধিকার পাবেন। প্রস্তাবিত এই বিলে আগামী তিন বছরের জন্য নতুন এইচ-১বি ভিসা প্রদান পুরোপুরি স্থগিত রাখা এবং প্রতিটি এইচ-১বি পিটিশনের জন্য এক লাখ মার্কিন ডলার ফি বাধ্যতামূলক করার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া বর্তমান লটারি পদ্ধতির বদলে উচ্চ বেতনের চাকরিতে অগ্রাধিকার দিয়ে একটি বেতনভিত্তিক নির্বাচন ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি একাধিক প্রতিষ্ঠানে কাজের সুযোগ, থার্ড-পার্টি স্টাফিং এজেন্সির ব্যবহার এবং যুক্তরাষ্ট্রে কাজের পাশাপাশি স্থায়ী বসবাসের সুযোগ বা 'ডুয়াল ইনটেন্ট' বিধান বাতিলের কথাও উল্লেখ রয়েছে। বিলটিতে এইচ-শ্রেণির ভিসা গ্রহীতাদের পরিবারের সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়ার সুযোগ বন্ধ করা এবং বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য 'অপশনাল প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং' বা ওপিটি-এর মতো কাজের অনুমতি বাতিল করার মতো কঠোর প্রস্তাব রাখা হয়েছে। বিলটিতে ট্রাম্প প্রশাসনের সময় আরোপিত এক লাখ ডলার ফি পুনরায় আইনি বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে, যা আগে একটি ফেডারেল আদালত কংগ্রেসের অনুমোদনহীন অবৈধ কর আখ্যা দিয়ে বাতিল করেছিল। ভারত এই এইচ-১বি কর্মসূচির অন্যতম প্রধান সুবিধাভোগী দেশ। প্রতি বছর হাজার হাজার ভারতীয় প্রকৌশলী, আইটি পেশাজীবী, গবেষক ও স্বাস্থ্যকর্মী এই ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করতে যান। প্রস্তাবিত বিলটি আইনে পরিণত হলে এই পেশাজীবীরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তিন বছর নতুন ভিসা বন্ধ থাকার পাশাপাশি বিপুল ফি আরোপের কারণে কোম্পানিগুলো স্পন্সরশিপ দিতে নিরুৎসাহিত হতে পারে। এছাড়া পরিবার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার সুযোগ বন্ধ হলে এবং পড়াশোনা শেষে শিক্ষার্থীদের কাজের পথ রুদ্ধ হলে ভারতীয়দের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের আকর্ষণ অনেকটাই কমে যাবে। তবে আপাতত প্রস্তাবটি কেবল মার্কিন সিনেটে উত্থাপিত হয়েছে। এটিকে আইনে পরিণত হতে আইনি প্রক্রিয়ার দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে। তাই বর্তমানে বিদ্যমান নিয়মেই এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে এবং এই মুহূর্তে ভিসা প্রত্যাশীদের তাৎক্ষণিক চিন্তার কোনো কারণ নেই।
যুক্তরাষ্ট্রে সপ্তাহে চার দিনের কর্মসপ্তাহ চালুর দাবি ও বিতর্ক যখন বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য ও প্রতিষ্ঠানে আলোচনার বিষয়, তখন জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের একটি স্কুল জেলার অভিজ্ঞতা দেখাচ্ছে ভিন্ন এক চিত্র। সেখানে সপ্তাহে পাঁচ দিনের পরিবর্তে চার দিন ক্লাস চালুর সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, শিক্ষার পরিবেশ, শৃঙ্খলা এবং শিক্ষক-কর্মীদের সন্তুষ্টিতে ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে বলে জানিয়েছে জেলা কর্তৃপক্ষ। জর্জিয়ার চাটুগা কাউন্টি স্কুল জেলার সুপারিনটেনডেন্ট মিশেল হেলি বলেন, চার দিনের শিক্ষাসপ্তাহ শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য বাস্তব সুবিধা তৈরি করেছে। অতিরিক্ত ছুটির দিনটি অনেক শিক্ষার্থী চিকিৎসকের কাছে যাওয়া, ব্যক্তিগত কাজ সম্পন্ন করা কিংবা অন্যান্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রমের জন্য ব্যবহার করছে। একই সঙ্গে কর্মভিত্তিক শিক্ষা কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কাজের জন্যও বাড়তি সময় পাচ্ছে। এতে পড়াশোনা ও ব্যক্তিগত দায়িত্বের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা সহজ হচ্ছে। জেলা কর্তৃপক্ষ জানায়, ব্যয় সাশ্রয়ের উদ্দেশ্যে ২০১০ সালে প্রথম চার দিনের শিক্ষাসপ্তাহ চালু করা হয়। যদিও মাঝখানে দুই বছর পাঁচ দিনের ক্লাসে ফিরে যাওয়া হয়েছিল, পরে আবার আগের ব্যবস্থায় ফিরে আসে জেলা। দীর্ঘ সময়ের অভিজ্ঞতায় শিক্ষক নিয়োগ ও ধরে রাখা, শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ এবং সামগ্রিক শিক্ষার পরিবেশে ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। মিশেল হেলির ভাষ্য অনুযায়ী, চার দিনের শিক্ষাসপ্তাহে প্রতিদিনের ক্লাসের সময় কিছুটা বাড়ানো হয়েছে। ফলে শিক্ষকরা প্রতিটি শ্রেণিতে অতিরিক্ত সময় নিয়ে পাঠদান করতে পারছেন। অন্যদিকে টানা তিন দিনের সাপ্তাহিক বিরতি শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের পর্যাপ্ত বিশ্রামের সুযোগ দিচ্ছে। এতে তারা নতুন সপ্তাহের ক্লাসে আরও সতেজ ও প্রস্তুত হয়ে অংশ নিতে পারছেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের শতাধিক স্কুল জেলা চার দিনের শিক্ষাসপ্তাহ চালু করেছে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় শিক্ষক সংকট মোকাবিলা, দক্ষ শিক্ষক ধরে রাখা এবং পরিচালন ব্যয় কমানোর কৌশল হিসেবে এই মডেল জনপ্রিয়তা পেয়েছে। তবে শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চার দিনের শিক্ষাসপ্তাহের সাফল্য নির্ভর করে প্রতিদিনের পাঠদানের সময়, শিক্ষার মান এবং স্থানীয় বাস্তবতার ওপর। সব জেলার ক্ষেত্রে একই ধরনের ফল নাও আসতে পারে। তবুও চাটুগা কাউন্টি স্কুল জেলার অভিজ্ঞতা দেখাচ্ছে, সঠিক পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা গেলে সপ্তাহে চার দিনের ক্লাসও শিক্ষার মান বজায় রাখা, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে উন্নত করার ক্ষেত্রেও কার্যকর হতে পারে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সিএনএনের প্রধান হোয়াইট হাউস সংবাদদাতা কেইটলান কলিন্সের প্রাপ্ত সাংবাদিকতা পুরস্কারকে ‘ভুয়া’ বলে মন্তব্য করার পর এ নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন ওই সাংবাদিক। তিনি বলেছেন, ট্রাম্পের ব্যক্তিগত মন্তব্যে তিনি বিচলিত নন এবং এ ধরনের সমালোচনা তার সাংবাদিকতার পদ্ধতিতে কোনো পরিবর্তন আনবে না। সম্প্রতি প্রচারিত ‘দ্য ডেইলি শো’-তে সঞ্চালক জন স্টুয়ার্টের সঙ্গে আলাপকালে কেইটলান কলিন্স বলেন, ট্রাম্পকে কভার করার শুরু থেকেই তিনি একই নীতি অনুসরণ করে আসছেন। ব্যক্তিগত আক্রমণের জবাবে তিনি কখনো ব্যক্তিগত বিতর্কে জড়ান না; বরং সব সময় মূল প্রশ্নেই ফিরে যান। হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস’ ডিনারে বক্তব্য দিতে গিয়ে ট্রাম্প কলিন্সের পাওয়া সাংবাদিকতা পুরস্কারকে ‘ফেক’ বা ‘ভুয়া’ বলে কটাক্ষ করেন। একই সঙ্গে তিনি সাংবাদিককে নিয়ে ব্যক্তিগত মন্তব্যও করেন। বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। এর প্রতিক্রিয়ায় কলিন্স বলেন, ট্রাম্প কঠিন বা সমালোচনামূলক প্রশ্ন পছন্দ করেন না। তার ভাষায়, অনেক সময় এমনও হয়েছে যে ওভাল অফিসে কোনো প্রশ্ন করার আগেই ট্রাম্প তাকে ব্যক্তিগতভাবে সমালোচনা শুরু করেছেন। তবে তিনি মনে করেন, একজন সাংবাদিকের কাজ হলো ক্ষমতাসীনদের কাছে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় প্রশ্ন করা, ব্যক্তিগত মন্তব্যের জবাব দেওয়া নয়। সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন, বিষয়টি তার ব্যক্তিগত সম্মানকে কেন্দ্র করে নয়; বরং সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে প্রশ্ন করার অধিকার রক্ষার সঙ্গে সম্পর্কিত। এ কারণে তিনি আগের মতোই পেশাদারিত্ব বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করে যাবেন। কেইটলান কলিন্স এ বছর হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস’ অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেনশিয়াল সংবাদ কভারেজে উৎকর্ষের জন্য দেওয়া পুরস্কার অর্জন করেন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির ওভাল অফিস সফর নিয়ে তার প্রতিবেদনের জন্য তিনি এই স্বীকৃতি পান। ট্রাম্পের মন্তব্য এবং কলিন্সের প্রতিক্রিয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা, সাংবাদিকদের প্রতি রাজনৈতিক নেতাদের আচরণ এবং হোয়াইট হাউস প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।