যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই একটি ঐতিহাসিক দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষর হতে পারে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার মতে, চলতি সপ্তাহের শেষেই ইউরোপের কোনো এক স্থানে এই চুক্তিটি সম্পন্ন হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিজেই এই বড় কূটনৈতিক অগ্রগতির তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম সামা টিভির এক প্রতিবেদনে এই খবর প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে জানান, বহুল প্রতীক্ষিত এই চুক্তির নথিপত্র প্রস্তুতের কাজ এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তিনি অত্যন্ত আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এই দ্বিপাক্ষিক চুক্তিটি খুব শিগগিরই সফলভাবে সম্পন্ন হবে বলে তিনি মনে করেন। ট্রাম্পের দাবি, চুক্তিটি চূড়ান্ত করার বিষয়ে অন্যান্য পক্ষের মতোই ইরানও সমানভাবে আগ্রহী এবং তারা সফলভাবে আলোচনা শেষ করতে কাজ করছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বিশ্বাস করেন যে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ইতিমধ্যে এই সম্ভাব্য সমঝোতা চুক্তিটির প্রয়োজনীয় অনুমোদন দিয়েছেন। তবে ট্রাম্প জানান, ইউরোপে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে তিনি নিজে সশরীরে উপস্থিত থাকতে পারবেন না। এই অনুষ্ঠানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে মূল প্রতিনিধিত্ব করবেন দেশটির নবনির্বাচিত ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।
চুক্তির পরবর্তী ইতিবাচক প্রভাব নিয়ে ট্রাম্প বলেন, দুই দেশের মধ্যে চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে। এর ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম অনেক কমে আসবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না। নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার। তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।
নিউজিল্যান্ডে ওয়ার্কিং হলিডে ভিসায় যাওয়ার মাত্র ছয় মাসের মধ্যেই মার্কিন তরুণী এরিন ক্ল্যাট বুঝতে পেরেছিলেন, তিনি এই দেশটিকে নিজের স্থায়ী আবাস বানাতে চান। ২০১৬ সালে ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক নানা কারণে নিজের মাতৃভূমি যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার সময় তিনি মূলত পৃথিবীর অন্য কোথাও শান্তিতে থাকার খোঁজ করছিলেন। ক্ল্যাট বলেন, নিউজিল্যান্ডে আসার পর তার জীবনের সবকিছু যেন খুব চমৎকারভাবে মিলিয়ে গেল। এক দশক পর, ৩৪ বছর বয়সে এসে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নিজের সব সম্পর্ক ছিন্ন করেন। চলতি বছরের শুরুতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর নাগরিকত্ব ত্যাগের সরকারি ফি প্রায় ৮০ শতাংশ কমানোর আগেই তিনি ২,৩৫০ মার্কিন ডলার পরিশোধ করে মার্কিন নাগরিকত্ব ত্যাগের চূড়ান্ত শপথ পাঠ করেন। আমেরিকার উইসকনসিনে দুগ্ধ খামারে দীর্ঘ কাজের অভিজ্ঞতা থাকায় নিউজিল্যান্ডেও দ্রুত একই ধরনের কাজ পেয়ে যান তিনি। সেই কাজের সুবাদে পাওয়া ‘এসেনশিয়াল স্কিলস’ ভিসা তাকে দেশটিতে দীর্ঘদিন থাকার আইনি সুযোগ করে দেয়। ওই দুগ্ধ খামারেই তার পরিচয় হয় এক ইংরেজ যুবকের সঙ্গে, যিনি তখন নিউজিল্যান্ডে বসবাস ও কাজ করছিলেন। পরবর্তীতে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। এরপর ২০২৫ সালের মে মাসে তারা দুজন একসঙ্গে নিউজিল্যান্ডের নাগরিকত্ব অর্জন করেন। তখনই ক্ল্যাট সিদ্ধান্ত নেন যে এবার মার্কিন নাগরিকত্ব পুরোপুরি ছেড়ে দেওয়ার উপযুক্ত সময় এসেছে। তিনি জানান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি তিনি কখনোই খুব বেশি দেশপ্রেমিক বা আবেগগতভাবে যুক্ত অনুভব করেননি। পাশাপাশি সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আমলে যুক্তরাষ্ট্র যে রাজনৈতিক পথে এগিয়েছে, তা নিয়েও তিনি দীর্ঘদিন ধরে ভীষণ হতাশ ছিলেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ জটিল জাতীয় রাজনীতি এবং বিদেশে বসবাসকারী মার্কিন নাগরিকদের ওপর দেশটির সরকারের অতিরিক্ত করের বোঝা—এই দুই বিষয় মিলিয়ে নাগরিকত্ব ত্যাগ করাটাই তার কাছে সবচেয়ে স্বাভাবিক সিদ্ধান্ত মনে হয়েছে। তবে মার্কিন নাগরিকত্ব ত্যাগকারীর সঠিক সংখ্যা নির্ধারণ করা সহজ নয়। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের একজন মুখপাত্র আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সিএনএনকে জানিয়েছেন, তারা নাগরিকত্ব ত্যাগকারীদের সঠিক সংখ্যা কখনো প্রকাশ করে না। তবে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় প্রতি তিন মাসে একবার এ-সংক্রান্ত আইআরএস প্রতিবেদন প্রকাশ করে। বিদেশে বসবাসকারী মার্কিন নাগরিকদের সহায়তাকারী বিশেষ প্রতিষ্ঠান আমেরিকেন্স ওভারসিসের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালে আইআরএসের তালিকায় ৪,৮৮৯ জন মার্কিন নাগরিকের নাম রয়েছে। ২০২০ সালের পর এটিই সর্বোচ্চ সংখ্যা। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, গত বছরের তুলনায় এ বছর মার্কিন নাগরিকত্ব ত্যাগের সামগ্রিক হার প্রায় ১৫ শতাংশ বাড়তে পারে। ২০২৬ সালের জানুয়ারির শেষে ক্ল্যাট নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ডে মার্কিন কনস্যুলেটে সরাসরি সাক্ষাতের সময় পান এবং মার্চে গিয়ে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে নাগরিকত্ব ত্যাগ করেন। তখনো এই প্রক্রিয়া চালুর সরকারি ফি ছিল ২,৩৫০ ডলার, যা বর্তমানে কমিয়ে ৪৫০ ডলার করা হয়েছে। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক কর ও আইন পরামর্শ প্রতিষ্ঠান টাইগারম্যানের একজন শীর্ষ আইনজীবী জনাথন টি. টাইগারম্যান বলেন, বিদেশে বসবাস করলেও মৃত্যুর আগ পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী আয়ের ওপর মার্কিন কর-সংক্রান্ত কঠোর বাধ্যবাধকতা অনেককে নাগরিকত্ব ত্যাগে বড় ধরণের উৎসাহিত করে। বিশেষ করে যারা যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া বা মার্কিন বাবা-মায়ের সন্তান হওয়ার কারণে কোনো প্রচেষ্টা ছাড়াই স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব পেয়েছেন, কিন্তু হয়তো কখনোই যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস বা কাজ করেননি—তাদের জন্য এই করের বোঝা আরও অনেক বড়। তবে মার্কিন নাগরিকত্ব ত্যাগ করার এই পুরো প্রক্রিয়াটি মোটেও সহজ নয়। মার্কিন নাগরিকত্ব সম্পূর্ণ ত্যাগ করতে হলে আবেদনকারীর আগে অবশ্যই অন্য যেকোনো একটি দেশের বৈধ নাগরিকত্ব থাকতে হবে। এ ছাড়া নাগরিকত্ব ত্যাগের আগে অন্তত বিগত পাঁচ বছরের কর-সংক্রান্ত সমস্ত নথি হালনাগাদ থাকা বাধ্যতামূলক এবং কোনো ব্যক্তির দুই মিলিয়ন ডলারের বেশি সম্পদ থাকলে তার জন্য আরো জটিল নিয়ম ও কর প্রযোজ্য হয়। নিউইয়র্কভিত্তিক অভিবাসন আইনজীবী ব্র্যাড বার্নস্টেইন এই বিষয়ে সতর্ক করে বলেন, অনেকেই নাগরিকত্ব ত্যাগের এই সুদূরপ্রসারী পরিণতি পুরোপুরি ভেবে দেখেন না। কারণ নাগরিকত্ব ত্যাগের পর আপনি আর মার্কিন নাগরিক থাকবেন না এবং ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরতে চাইলে—এমনকি সাধারণ ভ্রমণের জন্যও—নতুন করে ভিসা লাগবে, আর সেই ভিসা পাওয়াও কিন্তু শতভাগ নিশ্চিত নয়। সূত্র: সিএনএন
যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকো শহরের পাবলিক লাইব্রেরিগুলোতে ব্যবহৃত ও পুরাতন পোশাক মেরামত করে সেগুলোকে নতুন রূপ দেওয়ার এক প্রশংসনীয় উদ্যোগ চালু করা হয়েছে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ লাইব্রেরিগুলোর ভেতরেই এখন কোনো খরচ ছাড়াই পুরাতন পোশাক জোড়াতালি বা মেরামত করে মানুষের ব্যবহারের উপযোগী করে তোলা হচ্ছে। মূলত কাপড় ফেলে দেওয়ার কারণে পরিবেশের যে মারাত্মক ক্ষতি হয়, তা রোধ করতেই শহর কর্তৃপক্ষ এবং একটি স্থানীয় অলাভজনক সংস্থা যৌথভাবে এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। সম্প্রতি একটি শনিবার সান ফ্রান্সিসকো পাবলিক লাইব্রেরির পার্কসাইড শাখায় গিয়ে দেখা যায়, বই ধার নেওয়া বা ফেরত দেওয়ার জন্য নয়, বরং পোশাক মেরামতের জন্য মানুষ লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন। সেখানে সেলাই মেশিন, বিশেষ কাঁচি ও সূঁচ নিয়ে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে কাজ করছেন পাঁচজন পোশাক বিশেষজ্ঞ। এই চমৎকার উদ্যোগটি মূলত ২০২৩ সালে ‘ক্লোথিং রিপেয়ার ক্লিনিক’ নামে প্রথম যাত্রা শুরু করেছিল এবং বর্তমানে এটি শহরের বিভিন্ন লাইব্রেরি শাখায় পর্যায়ক্রমে পরিচালিত হচ্ছে। সান ফ্রান্সিসকো পাবলিক লাইব্রেরি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই বিশেষ কর্মসূচিটি শহরের পরিবেশ বিভাগ এবং ‘স্ক্র্যাপ’ নামক একটি অলাভজনক সংস্থার যৌথ অংশীদারিত্বের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হচ্ছে। এই অলাভজনক সংস্থাটি মূলত ফেলে দেওয়া বা উদ্বৃত্ত বিভিন্ন শিল্প উপাদানকে নতুনভাবে সৃজনশীল কাজে ব্যবহারের জন্য রূপান্তর করে থাকে। এছাড়া লাইব্রেরিগুলোতে আরেকটি সংস্থার সহযোগিতায় বিনামূল্যে বাইসাইকেল মেরামতের জন্য একটি বিশেষ মোবাইল ক্লিনিক সেবাও দেওয়া হচ্ছে। এই ক্লিনিকে সেবা নেওয়ার জন্য আগে থেকে কোনো বুকিং বা নিবন্ধনের প্রয়োজন হয় না, বরং যারা আগে আসেন তারা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সেবা পেয়ে থাকেন। এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের ফলে সাধারণ মানুষ বিনামূল্যে তাদের পোশাক সচল করার পাশাপাশি একটি সুন্দর সামাজিক বন্ধন তৈরির সুযোগ পাচ্ছেন। লাইব্রেরিতে আসা বারবারা কোহ নামের এক বাসিন্দা জানান, তিনি কয়েক দশক আগে বেইজিং থেকে তার মায়ের জন্য একটি রেশমি জ্যাকেট কিনেছিলেন। তার মা মারা যাওয়ার পর জ্যাকেটটি ছিঁড়ে নষ্ট হতে বসেছিল, কিন্তু এই ক্লিনিকের মাধ্যমে তা সুন্দরভাবে মেরামত করা হয়েছে। জ্যাকেটটি মায়ের স্মৃতি বহন করায় এটি তার কাছে অত্যন্ত মূল্যবান এবং এখন থেকে তিনি এটি নিয়মিত পরতে পারবেন। পরিবেশ সচেতনতার এই অনন্য উদ্যোগটি মূলত বিশ্বজুড়ে চলমান ‘ফাস্ট ফ্যাশন’ বা দ্রুত পরিবর্তনশীল পোশাক সংস্কৃতির ফলে তৈরি হওয়া মারাত্মক পরিবেশ দূষণের সমস্যা দূর করতে কাজ করছে। জাতিসংঘের একটি বৈশ্বিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর সারা বিশ্বে কোটি কোটি টন পোশাক মানুষ ময়লা হিসেবে ফেলে দেয়, যার মধ্যে ৯২ মিলিয়ন টন পোশাক সরাসরি ল্যান্ডফিল বা বর্জ্য ফেলার স্থানে চলে যায়। এই পরিত্যক্ত বস্ত্রগুলো ধীরে ধীরে পচে গিয়ে বায়ুমণ্ডলে ক্ষতিকারক গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গত করে। এছাড়া সিন্থেটিক বা মিশ্র কাপড়ের বর্জ্য থেকে বিষাক্ত রাসায়নিক উপাদান, মাইক্রোপ্লাস্টিক এবং চিরস্থায়ী কেমিক্যাল নিঃসৃত হয়ে পরিবেশের মারাত্মক বিপর্যয় ঘটায়। সান ফ্রান্সিসকোর নগর কর্মকর্তারা লক্ষ্য করেছেন যে, ইদানীং শহরের সাধারণ বর্জ্যের মধ্যে ভালো মানের কাপড়ের পরিমাণ আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছিল। এই অপচয় ও দূষণ ঠেকাতে এবং ভালো মানের বস্ত্রের পুনর্ব্যবহার নিশ্চিত করতে তারা সাধারণ মানুষকে পোশাক মেরামতে উৎসাহিত করছেন। এখানে কেবল এক্সপার্ট বা বিশেষজ্ঞরা কাপড় সেলাই করে দেন না, বরং তারা মেরামতের প্রক্রিয়াটি কাপড়ের মালিককে হাতে-কলমে শিখিয়েও দেন। এর মূল উদ্দেশ্য হলো, সাধারণ মানুষ যেন পরবর্তীতে ঘরে বসেই তাদের ছোটখাটো বা সহজ সমস্যাগুলো নিজেরাই সমাধান করতে পারেন এবং পরিবেশ রক্ষায় অবদান রাখতে পারেন।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের অস্টিন শহরে এক মোবাইল সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মী গ্রাহকের ব্যক্তিগত ছবি অনুমতি ছাড়া নিজের ফোনে পাঠানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন। তদন্ত নথি অনুযায়ী, নেটওয়ার্ক সেটিংস পরিবর্তনে সহায়তা করার সময় তিনি গ্রাহকের ফোনে প্রবেশাধিকার পান এবং সেই সুযোগের অপব্যবহার করেন। অস্টিন পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, ২৯ বছর বয়সী রাঘুল আনন্দকৃষ্ণনের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘন এবং কম্পিউটার নিরাপত্তা ভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়েছে। আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, ঘটনাটি ঘটে ৭ জুন অস্টিনের ক্যাপিটাল প্লাজা শপিং সেন্টারে অবস্থিত একটি টোটাল ওয়্যারলেস শাখায়। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ওই দিন বিকেল ৩টার কিছু পর এক নারী জরুরি সহায়তা নম্বরে ফোন করে অভিযোগ করেন যে দোকানের এক কর্মী তার ফোন ঘেঁটে ব্যক্তিগত ছবি নিজের কাছে পাঠিয়েছেন। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সেখানে তারা দোকান থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় সন্দেহভাজন কর্মীকে শনাক্ত করে। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। আদালতে জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, অভিযুক্ত কর্মী স্বীকার করেন যে ওই নারী তার আইফোনের নেটওয়ার্ক সেটিংস পরিবর্তনের জন্য দোকানে এসেছিলেন। কাজটি সম্পন্ন করতে গ্রাহকের পাসকোড প্রয়োজন বলে তিনি তা সংগ্রহ করেন। পুলিশকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, ফোন ব্যবহারের সময় ভুলবশত ছবির গ্যালারি খুলে যায়। পরে তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে গ্রাহকের কিছু ব্যক্তিগত ছবি নিজের কাছে পাঠানোর চেষ্টা করেন। তবে তার দাবি, ছবি স্থানান্তরের প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়নি এবং পরে তিনি ফোনটি গ্রাহককে ফেরত দেন। তদন্ত নথিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযুক্ত নিজেই স্বীকার করেছেন যে গ্রাহক তাকে কেবল নেটওয়ার্ক সেটিংস পরিবর্তনের অনুমতি দিয়েছিলেন। ফোনের অন্যান্য অংশ, ছবি বা ব্যক্তিগত তথ্য দেখার অনুমতি তার ছিল না। অন্যদিকে অভিযোগকারী নারী পুলিশকে জানান, পাসকোড দেওয়ার পর কর্মী তার ফোনটি দোকানের পেছনের অংশে নিয়ে যান। কাজ শেষ হওয়ার পর তিনি নিজের গাড়িতে গিয়ে ফোন ব্যবহার করতে গিয়ে দেখতে পান যে তার ব্যক্তিগত কিছু ছবি অন্য একটি ডিভাইসে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়েছে। পাশাপাশি তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি অ্যাকাউন্টেও অনুমতি ছাড়া প্রবেশ করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। নারীটি স্পষ্টভাবে জানান, তিনি কোনোভাবেই তার ব্যক্তিগত ছবি, অ্যাকাউন্ট বা তথ্য ব্যবহারের অনুমতি দেননি এবং তিনি অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা চান। তদন্তের ভিত্তিতে রাঘুল আনন্দকৃষ্ণনের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। পাশাপাশি কম্পিউটার নিরাপত্তা ভঙ্গের অভিযোগও যুক্ত করা হয়েছে। তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, স্মার্টফোনের ছবি সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা অপারেটিং সিস্টেমের অংশ হিসেবে একটি কম্পিউটারভিত্তিক তথ্যব্যবস্থা হিসেবে বিবেচিত হয়। ফলে অনুমতি ছাড়া সেখানে প্রবেশ করাও আইন লঙ্ঘনের আওতায় পড়ে। বর্তমানে অভিযুক্ত ট্রাভিস কাউন্টি কারাগারে রয়েছেন। আদালত তার জামিন ১০ হাজার ডলার নির্ধারণ করেছে। একই সঙ্গে অভিযোগকারী নারীর সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এখনও মামলার শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি। তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মোবাইল ফোনে প্রযুক্তিগত সহায়তা নেওয়ার সময় ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফোনের পাসকোড বা প্রবেশাধিকার অন্য কাউকে দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা এবং কাজ শেষে বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট ও তথ্য যাচাই করে নেওয়া উচিত। ট্রাভিস কাউন্টির আদালতের নথি ও কারাগারের রেকর্ডের ভিত্তিতে এ তথ্য প্রকাশ করেছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম।