ক্যালিফোর্নিয়ায় উড্ডয়নের পরই বিধ্বস্ত মার্কিন বি-৫২ বোমারু বিমান, নিহত ৮
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের এডওয়ার্ডস বিমানঘাঁটি থেকে উড্ডয়নের পরপরই একটি বি-৫২ স্ট্র্যাটোফোর্ট্রেস বোমারু বিমান বিধ্বস্ত হয়ে অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন। মার্কিন বিমান বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিমানটিতে থাকা কেউই বেঁচে নেই বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্থানীয় সময় সোমবার সকাল ১১টা ২০ মিনিটে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার মোহাভে মরুভূমি এলাকায় অবস্থিত এডওয়ার্ডস এয়ার ফোর্স বেস থেকে একটি নিয়মিত পরীক্ষামূলক মিশনে উড্ডয়ন করে বিমানটি। কিন্তু রানওয়ে ছাড়ার পরপরই সেটি ভেঙে পড়ে এবং মুহূর্তের মধ্যে আগুনে পুড়ে যায়। দুর্ঘটনার পর আকাশে বিশাল কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়, যা বহু দূর থেকেও দৃশ্যমান ছিল।
এডওয়ার্ডস বিমানঘাঁটির ৪১২তম টেস্ট উইংয়ের কমান্ডার কর্নেল জেমস হেইস এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “আজ আমরা আটজন অসাধারণ আমেরিকানকে হারিয়েছি।” নিহতদের মধ্যে সামরিক সদস্য, সরকারি বেসামরিক কর্মী এবং সরকারি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী ছিলেন বলে তিনি জানান।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিমানটি বিমানঘাঁটির রাডার আধুনিকায়ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে একটি পরীক্ষামূলক কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছিল। প্রাথমিক ভিডিও ও ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি পর্যালোচনার পর কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, দুর্ঘটনাটি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে বেঁচে থাকার কোনো সম্ভাবনা ছিল না।
দুর্ঘটনার পর পুরো বিমানঘাঁটিতে সাময়িকভাবে উড্ডয়ন কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আগত সব বিমানকে অন্য বিমানবন্দরে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি জরুরি উদ্ধার ও তদন্ত কার্যক্রম নির্বিঘ্ন করতে বেসামরিক দর্শনার্থীদের প্রবেশও সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
নিহতদের পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি। বিমান বাহিনী জানিয়েছে, পরিবারের সদস্যদের আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করার পর তাদের নাম প্রকাশ করা হবে।
দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে এখনই কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে রাজি নয় মার্কিন বিমান বাহিনী। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে প্রায় ৩০ দিন সময় লাগতে পারে। আর বিস্তারিত কারণ অনুসন্ধান ও প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ শেষ হতে ছয় মাস বা তারও বেশি সময় লাগতে পারে।
বি-৫২ স্ট্র্যাটোফোর্ট্রেস যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে পরিচিত কৌশলগত বোমারু বিমানের একটি। ১৯৫০-এর দশক থেকে এটি মার্কিন বিমান বাহিনীতে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। দীর্ঘপাল্লার এই বিমানটি পারমাণবিক ও প্রচলিত উভয় ধরনের অস্ত্র বহনে সক্ষম। আকাশে জ্বালানি নেওয়ার সুবিধা থাকায় এর অভিযানের পরিধিও অত্যন্ত বিস্তৃত। বর্তমানে বিমানটির বিভিন্ন সংস্করণ আধুনিকায়নের মাধ্যমে আরও কয়েক দশক ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।
এডওয়ার্ডস বিমানঘাঁটি যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক পরীক্ষাকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। নতুন বিমান, রাডার ও অস্ত্র প্রযুক্তির পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য এটি দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তাই এই দুর্ঘটনা শুধু মার্কিন বিমান বাহিনীর জন্য নয়, দেশটির সামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
দুর্ঘটনার ঘটনায় মার্কিন কংগ্রেসের একাধিক সদস্য শোক প্রকাশ করেছেন। তারা নিহতদের পরিবার এবং উদ্ধারকর্মীদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় অভিযুক্ত হামলাকারী থমাস ম্যাথিউ ক্রুকসের দাহ করার খরচ একজন অজ্ঞাত ব্যক্তি বহন করেছেন বলে নতুন নথিতে উঠে এসেছে। ২০২৪ সালের ১৩ জুলাই পেনসিলভানিয়ার বাটলারে ট্রাম্পের নির্বাচনী সমাবেশে গুলির ঘটনায় ক্রুকস ঘটনাস্থলেই নিহত হন। সম্প্রতি প্রকাশিত ফেডারেল নথি পর্যালোচনা করে নিউইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছে, ক্রুকসের পরিবারের আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় তার দাহের খরচ একজন অজ্ঞাত দাতা পরিশোধ করেন। ক্রুকসের দাহ নিয়ে নতুন তথ্যটি উঠে এসেছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে হত্যাচেষ্টার তদন্তসংক্রান্ত নথিতে। এসব নথি সিনেট জুডিশিয়ারি কমিটির চেয়ারম্যান চাক গ্রাসলির কাছে জমা দেওয়া হয়েছিল। নথিতে ক্রুকসের বাবা ম্যাথিউ ক্রুকসের সঙ্গে তদন্তকারীদের সাক্ষাৎকারের সারাংশও রয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ওই সময় পরিবারের আর্থিক পরিস্থিতি ভালো ছিল না। ক্রুকসের বাবা বেকার ছিলেন এবং তার মা ছুটিতে ছিলেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে শেষকৃত্যের ব্যয় বহন করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। তবে ক্রুকসের মরদেহ দ্রুত পরিবারের কাছে হস্তান্তর ও পরে দাহ করা নিয়ে এরই মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২৩ জুলাইয়ের মধ্যে মরদেহ দাহ করা হয় বলে তদন্তসংক্রান্ত তথ্য থেকে জানা যায়। এ ঘটনায় আইনপ্রণেতা ক্লে হিগিন্স বিশেষভাবে প্রশ্ন তুলেছেন, কেন হামলার মাত্র ১০ দিন পর এফবিআই ক্রুকসের মরদেহ পরিবারের কাছে ছেড়ে দিয়েছিল এবং পরে সেটি দাহ করা হয়। এফবিআই অবশ্য জানিয়েছে, মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের আগে প্রয়োজনীয় তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছিল। সংস্থাটির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ঘটনাস্থল নিরাপদ করার পর বাটলার কাউন্টি করোনারের কার্যালয় মরদেহটি গ্রহণ করে। পরে অ্যালেগেনি কাউন্টি মেডিকেল এক্সামিনারের কার্যালয়ে ময়নাতদন্ত করা হয়। ময়নাতদন্ত শেষ হওয়ার পর বাটলার কাউন্টি করোনারের কার্যালয় এফবিআইয়ের সঙ্গে পরামর্শ করে জানতে চায়, মরদেহ নিয়ে তদন্তের আর কোনো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ বাকি আছে কি না। এফবিআই ও পেনসিলভানিয়া স্টেট পুলিশ এরপর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরে সম্মতি দেয়। এফবিআই স্পষ্ট করে বলেছিল, কোনো মৃত সন্দেহভাজনের মরদেহ তদন্তের প্রয়োজনে অনির্দিষ্ট সময় ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে রাখা তাদের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া নয়। সংস্থাটির কাছে ক্রুকসের ময়নাতদন্ত ও টক্সিকোলজি রিপোর্টও হস্তান্তর করা হয়েছিল। ময়নাতদন্ত অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৩ জুলাই সন্ধ্যা ৬টা ২৫ মিনিটে মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে ক্রুকসের মৃত্যু হয়। তার শরীর ও ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা পর্যালোচনাযোগ্য আলামত সিক্রেট সার্ভিসের পাল্টা গুলির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল। টক্সিকোলজি পরীক্ষায় অ্যালকোহল ও অপব্যবহৃত মাদকের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। ২০২৪ সালের ১৩ জুলাই বাটলারের নির্বাচনী সমাবেশে ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে ক্রুকস গুলি চালান। এ ঘটনায় সমাবেশে থাকা একজন নিহত হন এবং ট্রাম্পসহ আরও দুজন আহত হন। এফবিআই ঘটনাটিকে প্রেসিডেন্টকে হত্যার চেষ্টা এবং সম্ভাব্য দেশীয় সন্ত্রাসবাদ হিসেবে তদন্ত করে। সংস্থাটি পরে জানায়, তদন্তে ক্রুকসের কোনো সহযোগী বা সহষড়যন্ত্রকারী থাকার বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে তার হামলার সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য বা মোটিভ নিয়ে তদন্তকারীরা নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি। তদন্তে আরও জানা যায়, হামলার আগে ক্রুকস বাটলারের সমাবেশস্থলের কাছে একটি ভবনের ছাদে উঠেছিলেন। স্থানীয় ব্যবসার ভিডিও, পুলিশ ড্যাশক্যাম ও বডিক্যামের ফুটেজ বিশ্লেষণ করে এফবিআই জানায়, তিনি সন্ধ্যা ৬টা ৫ মিনিটের দিকে ছাদে ওঠেন এবং প্রায় ৬টা ১১ মিনিটে গুলি চালান। অর্থাৎ হামলার আগে তিনি প্রায় ছয় মিনিট ছাদে অবস্থান করেছিলেন। এফবিআইয়ের তদন্তে আরও উঠে আসে, হামলার আগে তিনি প্রায় ১১ মিনিট ড্রোন উড়িয়েছিলেন, যা তদন্তকারীদের মতে সমাবেশের নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যবেক্ষণে সহায়ক হতে পারে। ক্রুকসের দাহের খরচ অজ্ঞাত কোনো ব্যক্তি কেন বহন করেছেন, ওই ব্যক্তি কে এবং কেন তিনি পরিবারের হয়ে এই ব্যয় করেছেন, সে বিষয়ে প্রকাশ্য নথিতে বিস্তারিত তথ্য নেই। নিউইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছে, এ বিষয়ে ক্রুকসের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। মরদেহ দাহের অর্থ কে দিয়েছেন, সেই তথ্য নতুন করে প্রকাশ পাওয়ায় হামলার পর ক্রুকসের মরদেহ ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্নগুলো আবার সামনে এসেছে। তবে এফবিআইয়ের প্রকাশ্য বক্তব্য অনুযায়ী, মরদেহ পরিবারের কাছে দেওয়ার আগে ময়নাতদন্ত, টক্সিকোলজি পরীক্ষা এবং তদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছিল।
ক্লান্তিতে শিশুকে ধরে ঘুমিয়ে পড়ছিলেন মা, কোলে তুলে নিলেন ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট
ট্রাম্পের সীমান্ত দেয়াল ঠেকাতে মামলায় টেক্সাসের জমির মালিকরা
মহাকাশে অস্ত্রের সক্ষমতা বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, বদলে যেতে পারে ভবিষ্যৎ যুদ্ধের ধরন
যুক্তরাষ্ট্রে সক্রিয় দায়িত্বে থাকা মার্কিন সেনাদের পরিবারের সদস্যদের আটক ও ডিপোর্টেশনের ঘটনা বাড়ছে, এমন সময় পেন্টাগন আবারও অভিবাসী সম্প্রদায় থেকে সেনা নিয়োগ বাড়াচ্ছে। এবিসি নিউজের নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদে ৫০ জনের বেশি সক্রিয় দায়িত্বে থাকা সেনার বাবা-মা ও স্বামী-স্ত্রীকে অভিবাসন কর্তৃপক্ষ আটক করেছে; তাদের মধ্যে অন্তত ৬ জনকে ডিপোর্ট করা হয়েছে। এই পরিস্থিতির একটি উদাহরণ মার্কিন সেনাবাহিনীর স্পেশালিস্ট জেসমিন হার্নান্দেজের পরিবার। তিনি সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে বাবা-মায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতার কথা বলেছেন। কিন্তু তার বাবা অ্যানিসেতো হার্নান্দেজ-রেইনাকে চলতি বছরের মে মাসে আইসিই আটক করে। ওই সময় তিনি মিলিটারি প্যারোল ইন প্লেস কর্মসূচির জন্য আবেদন করে অপেক্ষায় ছিলেন। মিলিটারি প্যারোল ইন প্লেস এমন একটি অভিবাসন কর্মসূচি, যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে মার্কিন সেনা, সাবেক সেনা বা তাদের পরিবারের কিছু অনথিভুক্ত সদস্য যুক্তরাষ্ট্রে সাময়িকভাবে থাকার সুযোগ পেতে পারেন। তবে এই কর্মসূচিতে আবেদন করা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বৈধ অভিবাসন মর্যাদা দেয় না—ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বা ডিএইচএসও বিষয়টি স্পষ্ট করেছে। এবিসি নিউজের পর্যালোচনা অনুযায়ী, হার্নান্দেজের বাবার বিরুদ্ধে সহিংস অপরাধের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। তার ২০০২ সালের একটি ডিইউআইসহ কয়েকটি ট্রাফিক-সংক্রান্ত রেকর্ড রয়েছে। বর্তমানে তিনি অ্যারিজোনার ইলোয় ডিটেনশন সেন্টারে আছেন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এর আগে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের অনুসন্ধানে ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদে ৫২টি সামরিক পরিবারের সদস্য আটক হওয়ার ঘটনা শনাক্ত করা হয়। এসব পরিবারের সদস্য ছিলেন সক্রিয় দায়িত্বে থাকা সেনাদের বাবা-মা বা স্বামী-স্ত্রী। এপির অনুসন্ধানে অন্তত ছয়জন ডিপোর্ট হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়; সরকারি কোনো নির্দিষ্ট হিসাব না থাকায় প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ নিয়ে কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট সদস্যরাও তদন্ত শুরু করেছেন। ৬০ জনের বেশি আইনপ্রণেতা ডিএইচএস, ডিফেন্স ডিপার্টমেন্ট ও ভেটেরান্স অ্যাফেয়ার্স ডিপার্টমেন্টের কাছে জানতে চেয়েছেন, সামরিক পরিবারের সদস্যদের আটক ও ডিপোর্টেশনের ক্ষেত্রে পেন্টাগন এবং ডিএইচএসের মধ্যে কোনো সমন্বয় রয়েছে কি না। পেন্টাগন জানিয়েছে, তারা আইনপ্রণেতাদের চিঠির জবাব সরাসরি দেবে। অন্যদিকে, একই সময়ে পেন্টাগন গ্রিন কার্ডধারী অভিবাসীদের নিয়োগ বাড়াচ্ছে। এবিসি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামরিক বাহিনীতে জনবল বাড়ানোর অংশ হিসেবে অভিবাসী সম্প্রদায় থেকে নিয়োগের ওপর গুরুত্ব বাড়ছে। ফলে একদিকে অভিবাসী পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে আইসিইর অভিযান, অন্যদিকে অভিবাসী সম্প্রদায় থেকেই সামরিক বাহিনীতে নিয়োগ—এই দুই নীতির মধ্যে একটি স্পষ্ট বৈপরীত্য নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সামরিক কর্মকর্তাদের জন্য বিষয়টি শুধু পারিবারিক সংকট নয়, সেনাদের মানসিক চাপ ও সামরিক প্রস্তুতির সঙ্গেও যুক্ত বলে সামরিক নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। একটি আর্মি আইনি নোটিশে বলা হয়েছিল,পরিবারের সদস্যের অভিবাসন পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা সেনাসদস্যের মানসিক অবস্থায় প্রভাব ফেলতে পারে এবং দায়িত্ব পালনে মনোযোগ ব্যাহত করতে পারে। তবে ডিএইচএসের অবস্থান হলো, শুধু মার্কিন সামরিক বাহিনীতে কাজ করার কারণে পরিবারের কোনো অনথিভুক্ত সদস্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে বৈধ অভিবাসন মর্যাদা পান না এবং অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের পরিণতি থেকেও স্বয়ংক্রিয়ভাবে অব্যাহতি মেলে না। ফলে বর্তমানে সামরিক পরিবারের সদস্যদের জন্য অভিবাসন সুরক্ষা, সামরিক দায়িত্ব ও ডিপোর্টেশন নীতির সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রে বড় রাজনৈতিক ও মানবিক বিতর্কে পরিণত হয়েছে।
শিক্ষক ছাড়াই স্কুল, এআইয়ে পড়াশোনা - যুক্তরাষ্ট্রের ১৬ অঙ্গরাজ্যে নতুন মডেল
আমেরিকায় গাড়ি মেরামতের দোকানে যাওয়ার আগে জানুন এই ৭ বিষয়, বাঁচবে বাড়তি খরচ
চীন-রাশিয়াকে চাপে রাখতে প্রথমবারের মতো মহাকাশে অস্ত্র রাখার কথা স্বীকার করল যুক্তরাষ্ট্র
নিউইয়র্কের বাসিন্দা জোডি স্মিথের জীবনে দীর্ঘদিন ধরে ভয় ও প্যানিক অ্যাটাক ছিল নিত্যসঙ্গী। পরে এপিলেপসি ধরা পড়ার পর ওষুধে নিয়ন্ত্রণ না আসায় ২৮ বছর বয়সে তার মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়। অস্ত্রোপচারে ডান পাশের অ্যামিগডালা, হিপোক্যাম্পাস এবং ডান টেম্পোরাল লোবের সামনের অংশের টিস্যু অপসারণ করা হয়। এরপর স্মিথের দাবি, তার জীবনে ভয় অনুভব করার বিষয়টিই যেন বদলে যায়। স্মিথের সমস্যার শুরু হয়েছিল অতিরিক্ত উদ্বেগ ও বারবার প্যানিক অ্যাটাক দিয়ে। পরে তার এপিলেপসি শনাক্ত হয় এবং প্রায় দুই বছর বিভিন্ন ওষুধের মাধ্যমে চিকিৎসার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু খিঁচুনি নিয়ন্ত্রণে না আসায় চিকিৎসকেরা শেষ পর্যন্ত অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন। চিকিৎসকদের লক্ষ্য ছিল মস্তিষ্কের যে অংশ থেকে খিঁচুনির সূত্রপাত হচ্ছে, সেটি শনাক্ত করে সমস্যা কমানো। অস্ত্রোপচারের আগে চিকিৎসকেরা তার মস্তিষ্কে বিশেষ প্রোব বসিয়ে কয়েক দিন ধরে খিঁচুনির উৎস শনাক্ত করার চেষ্টা করেন। পরে পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে ডান টেম্পোরাল লোবের সামনের অংশ, ডান অ্যামিগডালা ও ডান হিপোক্যাম্পাসে অস্ত্রোপচার করা হয়। অস্ত্রোপচারের কয়েক দিনের মধ্যেই স্মিথ হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরেন। এরপর তিনি নিজের মধ্যে অস্বাভাবিক এক পরিবর্তন লক্ষ্য করেন। আগে যে পরিস্থিতিতে তীব্র ভয় বা আতঙ্ক তৈরি হতো, সেসব ঘটনায় তার প্রতিক্রিয়া অনেকটাই বদলে যায়। স্মিথের ভাষ্য অনুযায়ী, মৃত্যুর ভয়ও আগের মতো অনুভূত হচ্ছিল না। নিউইয়র্কের ব্যস্ত পরিবেশ কিংবা অন্য কোনো ভীতিকর পরিস্থিতিতেও তিনি তুলনামূলক শান্ত থাকতে পারছিলেন। এক ঘটনায় নিউ জার্সিতে পাঁচজন ব্যক্তি তাকে ঘিরে ধরেছিল বলে স্মিথ জানিয়েছেন। তার দাবি, পরিস্থিতিটি ছিনতাইয়ের মতো মনে হলেও তিনি আগের মতো আতঙ্কিত হননি এবং সেখান থেকে হেঁটে চলে যান। মাকড়সার মতো বিষয় নিয়েও তার ভয় অনেকটাই কমে যায় বলে তিনি বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন। তবে এসব ঘটনা তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও বর্ণনার ভিত্তিতে প্রকাশিত হয়েছে। মস্তিষ্কের অ্যামিগডালা মানুষের ভয় ও হুমকির প্রতিক্রিয়া তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ কারণেই অ্যামিগডালার কার্যক্রমে পরিবর্তনের পর ভয় অনুভূতিতে পরিবর্তন দেখা দেওয়ার বিষয়টি চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে পুরোপুরি অপ্রত্যাশিত নয়। তবে চিকিৎসকেরা সাধারণ মানুষের ভয় দূর করার জন্য এ ধরনের অস্ত্রোপচার করেন না। স্মিথের ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারের মূল উদ্দেশ্য ছিল গুরুতর এপিলেপসি নিয়ন্ত্রণ করা। অস্ত্রোপচারের পর ভয় কমে যাওয়ার পাশাপাশি স্মিথ কিছু স্মৃতি ও মনোযোগের সমস্যার কথাও জানিয়েছেন। এ ধরনের পরিবর্তন দেখায়, ভয় শুধু একটি নেতিবাচক অনুভূতি নয়, বরং বিপদ শনাক্ত করে মানুষকে সতর্ক রাখার গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রক্রিয়া। বিশেষজ্ঞদের মতে, এপিলেপসি বা নির্দিষ্ট নিউরোলজিক্যাল সমস্যার ক্ষেত্রে মস্তিষ্কের ত্রুটিপূর্ণ ভয়-প্রতিক্রিয়া কমানো উপকারী হতে পারে, কিন্তু স্বাভাবিক মানুষের ক্ষেত্রে ভয় সম্পূর্ণভাবে হারিয়ে ফেলা নিরাপদ বা কাঙ্ক্ষিত বিষয় নয়। জোডি স্মিথের ঘটনাটি তাই শুধু একজন মানুষের অস্বাভাবিক অভিজ্ঞতার গল্প নয়, মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশ কীভাবে ভয়, স্মৃতি, আবেগ ও আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে, তা বোঝার ক্ষেত্রেও একটি আলোচিত উদাহরণ। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার এপিলেপসি চিকিৎসার পাশাপাশি ভয় অনুভবের ক্ষমতায় যে পরিবর্তন এসেছে বলে তিনি জানিয়েছেন, সেটিই পরবর্তীতে তাকে চিকিৎসাবিজ্ঞান ও মস্তিষ্ক নিয়ে আলোচনার একটি আলোচিত চরিত্রে পরিণত করেছে।
মর্টগেজ রেট বাড়ার শঙ্কা, বাড়ি কিনতে গিয়ে বাড়তি চাপে পরবেন ক্রেতারা
পেনসিলভানিয়ায় দুই গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষে বাংলাদেশি আবুল কালাম নিহত