পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে ভয়াবহ সহিংসতা, রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে নিহত অন্তত ২৪
কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং বিধানসভায় সংরক্ষণ ব্যবস্থা বাতিলের দাবিতে জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটির (জেএএকে) ডাকা বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে পাকিস্তানের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল আজাদ কাশ্মির। গত ৫ জুন শুরু হওয়া এই আন্দোলন ৯ জুনের হরতালের পর থেকে চরম আকার ধারণ করে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে আন্দোলনকারীদের দফায় দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে গত প্রায় দুই সপ্তাহে ২৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ইতোমধ্যে বিক্ষোভে জড়িত থাকার অভিযোগে জেএএকের ৫১৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে এই সংঘাতের জেরে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যাপক প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। প্রাপ্ত তথ্যমতে, বিক্ষোভকারীদের ছোড়া ইট-পাটকেল ও হামলায় এ পর্যন্ত ৯৭ জন পুলিশ কর্মকর্তা এবং বেশ কয়েকজন সদস্য নিহত হয়েছেন। আজাদ কাশ্মিরের পুলিশপ্রধান লিয়াকত আলী মালিক জানিয়েছেন, রাজধানী মুজাফফরাবাদ থেকে ১০০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত রাওয়ালকোট শহরটি বর্তমানে এই বিক্ষোভের মূল কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাওয়ালকোটসহ বিভিন্ন এলাকায় কারফিউ জারি করেছে প্রশাসন। শহরের প্রধান সড়কগুলো অবরুদ্ধ করার পাশাপাশি ইন্টারনেট সংযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে এবং সংবাদমাধ্যমের উপস্থিতিও ব্যাপকভাবে সীমিত করা হয়েছে।
টানা বিক্ষোভ, সংঘাত ও কারফিউয়ের কারণে আজাদ কাশ্মিরের জনজীবন কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ। ওষুধের তীব্র সংকটে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। মুজাফফরাবাদের বাসিন্দা মুহম্মদ মাসকিন জানান, ওষুধের জন্য কয়েকদিন ধরে ঘুরলেও বড় ফার্মেসিগুলো বন্ধ থাকায় তা মিলছে না এবং যে কয়েকটি খোলা আছে সেখানেও সরবরাহ শেষ। আরেক বাসিন্দা সাবার হোসেনের কথায়, বাজারগুলো বন্ধ থাকায় শাক-সবজি ছাড়া আর কিছুই পাওয়া যাচ্ছে না, ফলে গত আটদিন ধরে তারা চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত সাউথ ক্যারোলাইনায় বড় রাজনৈতিক চমক দেখিয়েছে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী ডারলিন গ্রাহামকে পরাজিত করে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর নির্বাচিত হয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যানি অ্যান্ড্রুজ। দীর্ঘ ২৮ বছর পর রাজ্যটিতে সিনেট নির্বাচনে জয় পেলেন কোনো ডেমোক্র্যাট প্রার্থী। বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পেশায় শিশু বিশেষজ্ঞ অ্যানি অ্যান্ড্রুজের এই জয় রিপাবলিকানদের জন্য বড় ধাক্কা। বিশেষ করে এমন একটি রাজ্যে ডেমোক্র্যাটদের বিজয় এসেছে, যেখানে ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রায় ১৮ শতাংশ পয়েন্টের ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। নির্বাচনের প্রকাশিত ফল অনুযায়ী, অ্যান্ড্রুজ প্রায় ৯ লাখ ৮৪ হাজার ভোট পেয়েছেন। অন্যদিকে তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ডারলিন গ্রাহাম পেয়েছেন প্রায় ৯ লাখ ১৬ হাজার ভোট। ভোট গণনার ভিত্তিতে অ্যান্ড্রুজের জয় নিশ্চিত করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো। পরাজিত রিপাবলিকান প্রার্থী ডারলিন গ্রাহাম ছিলেন প্রয়াত সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের বোন। চলতি বছরের জুলাইয়ে লিন্ডসে গ্রাহামের মৃত্যুর পর তাঁকে সিনেটের শূন্য আসনে নিয়োগ দেওয়া হয়। পরে রিপাবলিকান পার্টির মনোনয়ন পেয়ে পূর্ণ মেয়াদের জন্য নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তিনি। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রকাশ্যে তাঁকে সমর্থন দেন এবং নির্বাচনের আগে তাঁর পক্ষে প্রচারণাও চালান। অন্যদিকে অ্যানি অ্যান্ড্রুজ নির্বাচনী প্রচারণায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়, বাসস্থান, শিশুদের যত্ন এবং স্বাস্থ্যসেবার খরচ কমানোর বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেন। মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষ তাঁর প্রচারণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে বিভিন্ন মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। সাউথ ক্যারোলাইনায় সর্বশেষ ১৯৯৮ সালে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ফ্রিটজ হলিংস সিনেট নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন। এরপর দীর্ঘ সময় রাজ্যটির সিনেট আসনগুলোতে রিপাবলিকানদের আধিপত্য বজায় ছিল। সেই ধারাবাহিকতা ভেঙে অ্যান্ড্রুজের বিজয় রাজ্যটির রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হয়ে উঠেছে। তিনি সাউথ ক্যারোলাইনা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে নির্বাচিত প্রথম নারীও। মঙ্গলবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের আরও কয়েকটি রাজ্যে ডেমোক্র্যাটদের উল্লেখযোগ্য সাফল্য এসেছে। অর্থনীতি, জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় এবং ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন নীতি নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষ নির্বাচনী ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে বলে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। সাউথ ক্যারোলাইনায় অ্যান্ড্রুজের জয় ডেমোক্র্যাটদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক অর্জন। একই সঙ্গে রিপাবলিকানদের দীর্ঘদিনের শক্ত ঘাঁটিতেও ভোটারদের সমর্থনে পরিবর্তন আসতে পারে, এবারের নির্বাচনী ফল সেই ইঙ্গিত দিয়েছে।
মাইকেল জ্যাকসনের মৃত্যুর ১৭ বছর পরও ট্রাস্টের অর্থ পাননি তিন সন্তান, আদালতে মেয়ে প্যারিস জ্যাকসন
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ হারানোর মুখে রিপাবলিকানরা, এগিয়ে ডেমোক্র্যাটরা
ট্রাম্প-সমর্থিত প্রার্থীকে হারিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী গভর্নর হলেন কিশা ল্যান্স বটমস
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মিশিগানের সিনেট আসন ঘিরে গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ে এগিয়ে রয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ডা. আবদুল এল-সাইদ। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের সঙ্গে ভোটের ব্যবধানে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য তৈরি হয়েছে। ৩ নভেম্বর রাত ৯টা ৪৫ মিনিটের প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, এল-সাইদ পেয়েছেন ৪ লাখ ৮০ হাজার ৪৩১ ভোট। অন্যদিকে মাইক রজার্স পেয়েছেন ৩ লাখ ৮২ হাজার ২৬৮ ভোট। অর্থাৎ দুই প্রার্থীর মধ্যে ভোটের ব্যবধান ৯৮ হাজার ১৬৩। ডেটলাইন ডেট্রয়েটের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ওই সময় পর্যন্ত প্রায় ৯ দশমিক ৪ শতাংশ ভোট গণনা সম্পন্ন হয়েছিল। গণনায় এল-সাইদ পেয়েছিলেন প্রায় ৫৫ শতাংশ এবং রজার্স পেয়েছিলেন ৪৪ শতাংশ ভোট। পরবর্তী সময়ে রাত ৯টা ৫৪ মিনিটের একটি হালনাগাদ প্রতিবেদনে এল-সাইদের সমর্থন ৫৪ দশমিক ৩ শতাংশ এবং রজার্সের ৪৪ শতাংশ দেখানো হয়। অর্থাৎ ভোট গণনার সঙ্গে সঙ্গে প্রার্থীদের ভোটের হারেও পরিবর্তন আসছে। মিশিগানের এই সিনেট আসনটি এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। দীর্ঘ ১২ বছর দায়িত্ব পালনের পর ডেমোক্র্যাট সিনেটর গ্যারি পিটার্স অবসরে যাওয়ায় আসনটি শূন্য হয়েছে। এই আসন ধরে রাখতে ডেমোক্র্যাটদের যেমন জোর প্রচেষ্টা রয়েছে, তেমনি রিপাবলিকানদের লক্ষ্য আসনটি নিজেদের দখলে নেওয়া। তবে প্রাথমিক ফলাফলে এল-সাইদ এগিয়ে থাকলেও এখনই তাঁকে বিজয়ী ঘোষণা করার সুযোগ নেই। ভোট গণনা চলমান রয়েছে এবং বাকি ভোট গণনার পর ব্যবধান পরিবর্তিত হতে পারে। চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।
ট্রাম্প-সমর্থিত প্রার্থীকে হারিয়ে উত্তর ক্যারোলাইনায় সিনেটর নির্বাচিত রয় কুপার
দাদির কবর দেখতে গিয়ে নেশাগ্রস্ত চালকের গাড়িচাপায় নিহত শিশু, হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন বাবা
ডিএনএ গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্রে সফল বাংলাদেশি তরুণী সামরিন মেহাক
ব্রুকলিনের গ্রিনপয়েন্ট এলাকায় নতুন আবাসন প্রকল্পে সাশ্রয়ী ভাড়ায় বাসা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এ জন্য চালু হয়েছে আবাসন লটারি। প্রকল্পটিতে মাসিক ভাড়া শুরু ৭৫১ ডলার থেকে। স্টুডিও, এক, দুই ও তিন শয়নকক্ষের বিভিন্ন আকারের বাসার জন্য আবেদন করতে পারবেন নির্ধারিত আয় ও পরিবারের সদস্যসংখ্যার শর্ত পূরণকারী ব্যক্তিরা। পিক্স১১-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাসাগুলো নিউ ইয়র্ক সিটির আবাসনবিষয়ক অনলাইন পোর্টাল ‘হাউজিং কানেক্ট’-এ তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। প্রকল্পটির নাম ‘কিংসল্যান্ড কমন্স বিল্ডিং ২’। এর ঠিকানা ব্রুকলিনের ৮৯ মাসপেথ অ্যাভিনিউ। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটিতে বিভিন্ন আয়ের স্তরের মানুষের জন্য মোট ২১৭টি সাশ্রয়ী বাসার ব্যবস্থা রয়েছে। আবেদন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২৫ নভেম্বর ২০২৬। প্রতিবেদনে প্রকাশিত ভাড়ার তালিকা অনুযায়ী, ৩০ শতাংশ এলাকার মধ্যম আয়ের স্তরের (এএমআই) আওতায় এক শয়নকক্ষের বাসার মাসিক ভাড়া ৭৫১ ডলার, দুই শয়নকক্ষের ৮৮৯ ডলার এবং তিন শয়নকক্ষের ১ হাজার ১৫ ডলার। ৪০ শতাংশ আয়ের স্তরে স্টুডিওর ভাড়া ৮৪৬ ডলার, এক শয়নকক্ষের ১ হাজার ৭০ ডলার, দুই শয়নকক্ষের ১ হাজার ২৭১ ডলার এবং তিন শয়নকক্ষের ১ হাজার ৪৫৬ ডলার। এ ছাড়া ৫০ শতাংশ আয়ের স্তরে স্টুডিওর ভাড়া ১ হাজার ১০১ ডলার, এক শয়নকক্ষের ১ হাজার ৩৮৮ ডলার এবং দুই শয়নকক্ষের ১ হাজার ৬৫৩ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। বাসার ভাড়া ও যোগ্যতা নির্ভর করবে আবেদনকারীর পরিবারের সদস্যসংখ্যা এবং বার্ষিক আয়ের ওপর। প্রকাশিত তালিকায় ৩০ শতাংশ আয়ের স্তরের বাসাগুলোর জন্য পরিবারের সদস্যসংখ্যা অনুযায়ী বার্ষিক আয়ের সীমা ২৯ হাজার ৪১৮ থেকে ৬৩ হাজার ১২০ ডলার। ৪০ শতাংশ আয়ের স্তরে এই সীমা ৩২ হাজার ২৬৩ থেকে ৮৪ হাজার ১৬০ ডলার। অন্যদিকে, ৫০ শতাংশ আয়ের স্তরে আয়ের সীমা ৪১ হাজার ৬ থেকে ৯১ হাজার ৬০০ ডলার পর্যন্ত। প্রতিটি বাসার জন্য সম্পদের সীমা ও পরিবারের সদস্যসংখ্যার শর্তও আলাদা। তাই আবেদনের আগে নির্দিষ্ট বাসার যোগ্যতার শর্ত যাচাই করা জরুরি। প্রকল্পটিতে বাসিন্দাদের জন্য জিম, বাসার ভেতরে ডিশওয়াশার, সাধারণ ব্যবহারের লন্ড্রি কক্ষ, বিনোদনকক্ষ, শিশুদের খেলার জায়গা এবং সাইকেল রাখার সুবিধা রয়েছে। পিক্স১১-এর তথ্য অনুযায়ী, ভাড়ার মধ্যে তাপ, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ও গরম পানির খরচ অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তবে বিদ্যুতের বিল দিতে হবে ভাড়াটিয়াকে। আগ্রহীরা নিউ ইয়র্ক সিটির ‘হাউজিং কানেক্ট’ ওয়েবসাইটে গিয়ে প্রকল্পটির বিস্তারিত তথ্য, আয়ের যোগ্যতা এবং আবেদনপ্রক্রিয়া দেখে আবেদন করতে পারবেন। আবেদন জমা দেওয়ার আগে পরিবারের সদস্যসংখ্যা, বার্ষিক আয় ও সম্পদের সীমা মিলিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের সরকারি আবাসন লটারিতে আবেদন করতে কোনো দালালি বা আবেদন ফি দেওয়ার প্রয়োজন নেই। সূত্র: পিক্স১১, নিউ ইয়র্ক সিটি হাউজিং কানেক্ট।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ফ্লোরিডায় ডেমোক্র্যাটদের সাফল্য, তিন আসনেই হারলেন রিপাবলিকান প্রার্থীরা
বেতন না কমিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে সপ্তাহে ৪০ ঘণ্টার বদলে ৩২ ঘণ্টা কাজের প্রস্তাব, কংগ্রেসে বিল উত্থাপন