বিশ্বকাপ ফুটবলের উন্মাদনায় নিউইয়র্ক শহর যখন এক বিশাল আন্তর্জাতিক উৎসবের রূপ নিয়েছে, তখন স্থানীয় রেস্তোরাঁকর্মী ও বারটেন্ডাররা পড়েছেন নতুন এক বিড়ম্বনায়। বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আসা ফুটবলপ্রেমীরা আমেরিকার বকশিশ বা 'টিপিং' সংস্কৃতির সঙ্গে খুব একটা পরিচিত নন।
নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফিফা বিশ্বকাপের ম্যাচ দেখতে অঞ্চলটিতে প্রায় ১২ লাখ দর্শকের সমাগম ঘটছে। সকালের কিকঅফ থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত বার ও রেস্তোরাঁগুলো কানায় কানায় পূর্ণ থাকছে। বিক্রি বাড়লেও, কর্মীদের প্রাপ্ত বকশিশের পরিমাণ হতাশাজনক। তবে এর সমাধানে আমেরিকার বেশ কয়েকটি শহরের রেস্তোরাঁ মালিকরা ইতোমধ্যে পাল্টা ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছেন।
রেস্তোরাঁ শিল্প সংশ্লিষ্ট গ্রুপগুলো জানিয়েছে, টুর্নামেন্ট চলাকালীন ক্যানসাস সিটি, আটলান্টা এবং ফিলাডেলফিয়ার মতো শহরের অনেক রেস্তোরাঁ গ্রাহকদের বিলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ২০ শতাংশ বকশিশ বা গ্র্যাচুইটি যোগ করতে শুরু করেছে। রেস্তোরাঁ মালিকদের মতে, এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হলো সেসব মার্কিন সার্ভারদের সুরক্ষা দেওয়া, যাদের আয়ের একটি বড় অংশ আসে এই বকশিশ থেকে। এর পাশাপাশি, আমেরিকার টিপিং নিয়মনীতি সম্পর্কে অপরিচিত বিদেশি পর্যটকদের বিভ্রান্তি এড়াতেও এটি সাহায্য করবে।
ওয়েস্ট ৪৬ নম্বর স্ট্রিটে অবস্থিত ম্যাকার্থি'স পাবের ওয়েট্রেস লুইস ড্যাগেট জানান, আন্তর্জাতিক দর্শকদের সেবা দেওয়াটা যেমন ক্লান্তিকর, তেমনি বেশ আনন্দদায়কও। তিনি বলেন, দর্শকরা অত্যন্ত উচ্ছ্বসিত ও অমায়িক হলেও বিল পরিশোধ এবং বকশিশ হিসাব করার মার্কিন রীতিতে তারা বেশ বিভ্রান্ত হচ্ছেন। অনেক গ্রাহক কয়েক ঘণ্টা ধরে পানীয় পান করে প্রায় ৭০০ ডলারের বিশাল বিল তুললেও কোনো বকশিশ রেখে যাচ্ছেন না।
ড্যাগেট অবশ্য এর জন্য পর্যটকদের অভদ্রতাকে দায়ী করছেন না, বরং তিনি মনে করেন, এখানকার রীতি সম্পর্কে তারা সত্যিই অজ্ঞ। পর্যটকরা যখন এই প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চান, তখন ড্যাগেট হাসিমুখে তাদের বুঝিয়ে বলেন যে, নিউইয়র্কে টিপিং একটি প্রচলিত ও প্রশংসনীয় সংস্কৃতি।
কয়েক ব্লক দূরে অবস্থিত হার্লে'স সেলুনের সহ-মালিক অ্যান ক্যালিম্যানো জানান, এই বিশ্বকাপ শহরের সাধারণত ধীরগতির ব্যবসায়ের মৌসুমকে একটি নিরবচ্ছিন্ন পার্টিতে পরিণত করেছে। ব্যবসা চমৎকার হলেও বকশিশের হার একেবারেই স্বাভাবিক নয়। এর কারণ হিসেবে তিনি সাংস্কৃতিক পার্থক্যকেই তুলে ধরেন। ইউরোপের অনেক দেশে রেস্তোরাঁর বিলেই সার্ভিস চার্জ অন্তর্ভুক্ত থাকে, তাই পর্যটকরা ধরে নেন এখানেও তার ব্যতিক্রম নয়।
পর্যটকদের এই সংস্কৃতির সঙ্গে কর্মীরাও এখন মানিয়ে নিচ্ছেন। অন্যদিকে, গার্ভে'স আইরিশ পাবের বারটেন্ডার ক্যাথাল রেনল্ডসও বর্তমান পরিস্থিতিতে বেশ সন্তুষ্ট। তিনি জানান, পর্যটকরা এমনিতেই অনেক অর্থ ব্যয় করে এখানে এসেছেন, তাই বকশিশের বিষয়ে তিনি খুব একটা মাথা ঘামাচ্ছেন না। তবে তিনি নতুন পর্যটকদের স্থানীয় মার্কিন সংস্কৃতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন, যাতে তাদের ভ্রমণের অভিজ্ঞতা আরও আনন্দদায়ক হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো। আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে। আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন। ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি। ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যে বিয়ের রাতেই নববিবাহিত স্ত্রীকে খুনের অভিযোগে অভিযুক্ত এক ব্যক্তিকে দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় পর মেক্সিকো থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। আর্নোল্ডো জিমেনেজ নামের এই মেক্সিকান নাগরিক যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এফবিআইয়ের 'মোস্ট ওয়ান্টেড' বা শীর্ষ পলাতক আসামিদের তালিকাভুক্ত ছিলেন। মেক্সিকোর মন্টেরে শহরে মার্কিন ও মেক্সিকান আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যৌথ অভিযানে গত বছরের ৩০ জানুয়ারি তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আটকের এক বছরেরও বেশি সময় পর বৃহস্পতিবার তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে এফবিআই। এই কুখ্যাত পলাতক আসামিকে দেশে ফিরিয়ে আনাকে এফবিআই শিকাগোর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এফবিআই জানায়, অপরাধী বিশ্বের যে প্রান্তেই লুকিয়ে থাকুক না কেন কিংবা যত সময়ই পার হোক না কেন, ন্যায়বিচার নিশ্চিতে এফবিআইয়ের অভিযান কখনোই থামবে না। উল্লেখ্য, গ্রেপ্তারের সময় আর্নোল্ডো জিমেনেজ যুক্তরাষ্ট্রের চতুর্থ শীর্ষ পলাতক আসামি হিসেবে তালিকাভুক্ত ছিলেন। তবে এক দশক আগে ঘটা এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের পেছনের মূল উদ্দেশ্য কী ছিল, সে সম্পর্কে কর্তৃপক্ষ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। পাশাপাশি, এই হাই-প্রোফাইল আসামিকে কবে নাগাদ প্রথমবার আদালতে হাজির করা হবে, সে বিষয়েও এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট তারিখ প্রকাশ করা হয়নি। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর এই আসামির প্রত্যাবর্তনের ফলে চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার বিচারপ্রক্রিয়া এখন আলোর মুখ দেখবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সির এক কাউন্সিলম্যানকে চাঁদাবাজি এবং অন্যান্য গুরুতর অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জন অ্যালাইট (৬৩) নামের এই ব্যক্তি একসময় কুখ্যাত মাফিয়া চক্রের হয়ে কাজ করতেন এবং নিজের মুখে একাধিক খুনের কথা স্বীকারও করেছিলেন। শুক্রবার নিউজার্সির অ্যাটর্নি জেনারেল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, ইংলিশটাউনের কাউন্সিলম্যান অ্যালাইটের বিরুদ্ধে একাধিক চাঁদাবাজি, কর্পোরেট অসদাচরণসহ আরও বেশ কিছু আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়েছে। কর্মকর্তাদের অভিযোগ, অ্যালাইট আইনি সর্বোচ্চ সীমার চেয়ে বেশি সুদে লোকজনকে ঋণ দিতেন। কেউ টাকা বা সম্পদ ফেরত দিতে ব্যর্থ হলে তাদের ওপর পাশবিক সহিংসতার হুমকি দেওয়া হতো। প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, এই অবৈধ চাঁদাবাজির স্কিম বা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে অ্যালাইট তাঁর 'স্ট্রেইটেন্ড-আউট এন্টারটেইনমেন্ট ইনকর্পোরেটেড' নামের একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকেও ব্যবহার করেছিলেন। নিউজার্সির অ্যাটর্নি জেনারেল জেনিফার ড্যাভেনপোর্ট এই গ্রেপ্তারের বিষয়ে বলেন, অপরাধ বিচার বিভাগ এবং নিউজার্সি স্টেট পুলিশের কঠোর তদন্ত ও আন্তরিক সহযোগিতার ফলেই এই গ্রেপ্তার সম্ভব হয়েছে। তিনি আরও যোগ করেন, যারা সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে এবং চুরি করে, তাদের অবশ্যই জবাবদিহির আওতায় আনা হবে। নিউইয়র্কের কুইন্স থেকে উঠে আসা আলবেনিয়ান-আমেরিকান বংশোদ্ভূত অ্যালাইট দীর্ঘদিন ধরেই সংঘবদ্ধ অপরাধ জগতের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। কুখ্যাত 'গোট্টি' এবং 'গাম্বিনো' ক্রাইম ফ্যামিলির শীর্ষ এনফোর্সার হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। ২০১৫ সালে সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মাফিয়া জীবন ছাড়ার বিষয়ে কথা বলেছিলেন অ্যালাইট। সেখানে তিনি ১৫টি খুন, ৩০-৪০ জনকে গুলি করা এবং শতাধিক মানুষকে পাইপ ও বেসবল ব্যাট দিয়ে পেটানোর রোমহর্ষক স্বীকারোক্তি দিয়েছিলেন। একটি সংঘবদ্ধ খুনের বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেছিলেন, কথাবার্তা চলার মাঝেই তিনি ওই ব্যক্তির মাথায় দুই-তিনটি গুলি করেন এবং তারপর তার ওপর থুথু ফেলেন। এটি তার কাছে বেসবল খেলা দেখতে যাওয়ার মতোই সাধারণ বিষয় ছিল এবং খুন করার পর তিনি বাইরে গিয়ে ডাবল চিজবার্গার, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই ও কোক খেয়েছিলেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিলের কারাগারে ১৪ বছরেরও বেশি সময় বন্দি থাকার পর মুক্তি পেয়ে অ্যালাইট মাফিয়া চক্রের সঙ্গে তাঁর অতীতের সব সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দেন। এরপর তিনি 'ক্যাচ মি অন দ্য রান' নামে একটি জনপ্রিয় পডকাস্টও চালু করেন, যেখানে তিনি মাফিয়া জীবনের নানান অজানা গল্প এবং পুলিশের হাত থেকে পালানোর রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা শেয়ার করতেন। এছাড়াও একাধিক বই ও তথ্যচিত্রে তাঁর জীবনের গল্প উঠে এসেছে। ২০২৫ সালের মে মাসে ইংলিশটাউনের মেয়র ড্যানিয়েল ফ্রান্সিসকো তাঁকে কাউন্সিলম্যান হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন। সে সময় অ্যালাইট গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, ফেন্টানাইলের ওভারডোজে মেয়ের মৃত্যুর পর তিনি সমাজের জন্য ভালো কিছু করতে চান। তিনি আরও বলেছিলেন, তিনি তো আর এখন অপরাধী নন, বরং সবকিছু সঠিক পথে পরিচালনার এক মিশনে নেমেছেন। তবে সাম্প্রতিক এই গ্রেপ্তারের ঘটনায় তাঁর সেই দাবির সত্যতা নিয়ে ফের বড় ধরনের প্রশ্ন উঠল।
যুক্তরাষ্ট্রে নতুন জীবন শুরু করা অনেক অভিবাসীর মতোই রেহমানের (ছদ্মনাম) যাত্রাও সহজ ছিল না। উন্নত ভবিষ্যতের স্বপ্ন নিয়ে ২০১২ সালে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন তিনি। দেশে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করলেও নতুন দেশে এসে নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ চাকরি পাওয়া তার জন্য সহজ ছিল না। প্রথম দিকে তিনি একটি স্বল্প বেতনের চাকরিতে যোগ দেন। বার্ষিক আয় ছিল ৪০ হাজার ডলারেরও কম। সেই আয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারের ব্যয় নির্বাহ করাই ছিল কঠিন। অন্যদিকে বাংলাদেশে থাকা স্বজনদের আর্থিক সহায়তা করার সুযোগও ছিল সীমিত। প্রতিদিনের জীবনযুদ্ধের মধ্যেই তিনি উপলব্ধি করেন, দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক স্থিতিশীলতা ও পেশাগত উন্নতির জন্য নতুন কোনো দক্ষতা অর্জন করা প্রয়োজন। এরপর তিনি নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে পরিকল্পনা শুরু করেন। বিভিন্ন সম্ভাবনাময় পেশা নিয়ে গবেষণা করে তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে নিজের ক্যারিয়ারের নতুন গন্তব্য হিসেবে বেছে নেন। সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর তিনি একটি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে কয়েক মাসের নিবিড় প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণের পাশাপাশি নিয়মিত পড়াশোনা ও অনুশীলনের মাধ্যমে নতুন দক্ষতা অর্জনে মনোযোগ দেন। পরিশ্রমের ফল আসতে খুব বেশি সময় লাগেনি। ২০১৬ সালে তিনি তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কোয়ালিটি অ্যাস্যুরেন্স (কিউএ) অ্যানালিস্ট-২ পদে চাকরির সুযোগ পান। এটিই ছিল তার পেশাজীবনের বড় মোড় পরিবর্তনের মুহূর্ত। নতুন খাতে প্রবেশের পর তিনি ধারাবাহিকভাবে নিজের দক্ষতা বাড়াতে থাকেন। প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নতুন নতুন বিষয় শিখেছেন, পেশাগত অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন এবং কর্মক্ষেত্রে নিজের সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছেন। সময়ের সঙ্গে তিনি একাধিক স্বনামধন্য ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে কাজ করার সুযোগ পান। কর্মজীবনে ধারাবাহিক উন্নতি এবং কৌশলগতভাবে নতুন সুযোগ গ্রহণের মাধ্যমে তিনি নেতৃত্ব পর্যায়ে পৌঁছে যান। বর্তমানে তিনি একটি প্রতিষ্ঠানে তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের ব্যবস্থাপনা পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। তার বার্ষিক আয় এখন প্রায় আড়াই লাখ ডলার, যা যুক্তরাষ্ট্রে তার কর্মজীবনের শুরুর সময়কার আয়ের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি। তবে রেহমানের সাফল্যের গল্প শুধু আর্থিক উন্নতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। পেশাগতভাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পাশাপাশি তিনি এখন কমিউনিটির বিভিন্ন সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডেও যুক্ত রয়েছেন। বিশেষ করে নতুন বাংলাদেশি অভিবাসীদের দক্ষতা উন্নয়ন, পেশাগত প্রস্তুতি এবং মূলধারার কর্মসংস্থানে প্রবেশের বিষয়ে পরামর্শ ও সহযোগিতা করে থাকেন। অভিবাসী জীবনের নানা চ্যালেঞ্জ পেরিয়ে তার এই পথচলা অনেকের জন্য অনুপ্রেরণার উদাহরণ হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষতাভিত্তিক পেশাগুলোর চাহিদা বাড়ছে। ফলে পরিকল্পিতভাবে প্রশিক্ষণ গ্রহণ, নতুন দক্ষতা অর্জন এবং ধারাবাহিক চেষ্টা অব্যাহত রাখলে অভিবাসীদের জন্য মূলধারার পেশায় সফলতা অর্জনের সুযোগ এখনও রয়েছে। রেহমানের গল্প সেই বাস্তবতাকেই সামনে নিয়ে আসে, যেখানে সীমিত আয়ের একটি চাকরি থেকে শুরু করে অধ্যবসায়, দক্ষতা এবং সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে একজন অভিবাসী নিজের জীবন ও পরিবারের ভবিষ্যৎ বদলে দিতে সক্ষম হয়েছেন। বি.দ্র.: প্রতিবেদনটি বাস্তব ঘটনা অবলম্বনে প্রস্তুত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অনুরোধে তার প্রকৃত পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। গোপনীয়তা রক্ষার্থে প্রতিবেদনে ‘রেহমান’ নামে একটি ছদ্মনাম ব্যবহার করা হয়েছে।