নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের আপস্টেট অঞ্চলে দীর্ঘদিনের অবহেলার শিকার হয়ে তিন বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় তার বাবা-মা আদালতে দোষ স্বীকার করেছেন। তদন্তে উঠে এসেছে, শিশুটি দীর্ঘ সময় ধরে চিকিৎসা ও পরিচর্যার অভাবে গুরুতর স্বাস্থ্য জটিলতায় ভুগছিল। আদালত এই ঘটনাকে 'অত্যন্ত মর্মান্তিক ও দীর্ঘদিনের অবহেলার ফল' হিসেবে উল্লেখ করেছে।
আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি অ্যালবানি শহর থেকে প্রায় এক ঘণ্টার দূরত্বে অবস্থিত করিন্থ এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্ট থেকে তিন বছরের জয়সলিন ডিলেউস্কিকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। সে সময় তার শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ময়নাতদন্তে চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা জানান, দীর্ঘদিনের অবহেলা ও পরিচর্যার অভাবের কারণে শিশুটির শরীরে গুরুতর রক্তস্বল্পতা (অ্যানিমিয়া) তৈরি হয়েছিল, যা শেষ পর্যন্ত হৃদ্যন্ত্রসহ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গের কার্যকারিতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। একই সঙ্গে তার শরীরে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত ক্লোনিডিন নামের একটি ওষুধের উপস্থিতিও পাওয়া যায়। তদন্তকারীরা বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখেন।
এই ঘটনায় শিশুটির বাবা ৩৬ বছর বয়সী ম্যাথিউ ডিলেউস্কি এবং মা ৩৩ বছর বয়সী সামান্থা ডিলেউস্কি 'অপরাধমূলক অবহেলার মাধ্যমে মৃত্যুর' অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। চলতি মাসে আদালত তাদের প্রত্যেককে সর্বোচ্চ চার বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড দেন।
প্রসিকিউটরদের ভাষ্য, তদন্তে উদ্ধার হওয়া বার্তালাপে দেখা যায়, শিশুটিকে ক্লোনিডিন ওষুধ দেওয়া নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে আলোচনা হয়েছিল। এছাড়া শিশুটির মৃত্যুর পর ওই ওষুধ শরীরে কতক্ষণ থাকে, সে সম্পর্কেও ইন্টারনেটে অনুসন্ধান করা হয়েছিল বলে আদালতে জানানো হয়।
অন্যদিকে সামান্থা প্রথমদিকে তদন্তকারীদের কাছে দাবি করেছিলেন, শিশুটির শারীরিক দুর্বলতার কারণ জন্মগত হৃদ্রোগ। তবে প্রসিকিউটররা আদালতে জানান, চিকিৎসা পরীক্ষায় শিশুটির হৃদ্যন্ত্রে এমন কোনো জন্মগত সমস্যা পাওয়া যায়নি।
তদন্তে অ্যাপার্টমেন্টটির অস্বাস্থ্যকর পরিবেশও উঠে আসে। আদালতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, বাড়ির বিভিন্ন স্থানে আবর্জনা, পচা খাবার, মাছি, ময়লা এবং অপরিচ্ছন্নতার চিত্র দেখা যায়। পরে পরিচ্ছন্নতার দায়িত্বে থাকা একটি প্রতিষ্ঠানের প্রকাশ করা ছবিতেও বাসার অত্যন্ত নোংরা পরিবেশের প্রমাণ মিলেছে।
সারাটোগা কাউন্টির বিচারক জেমস আর. ডেভিস রায় ঘোষণার সময় বলেন, তার বিচারিক জীবনে এত ভয়াবহ প্রাক-সাজা মূল্যায়ন প্রতিবেদন খুব কমই দেখেছেন। তিনি বলেন, শিশুটি দীর্ঘ সময় ধরে কষ্ট পেয়েছে এবং পরিবারের অন্য শিশুরাও সেই অবহেলার সাক্ষী ছিল।
আদালতের আদেশ অনুযায়ী, দম্পতির জীবিত থাকা অন্য চার সন্তানের সঙ্গে ২০৩৮ সাল পর্যন্ত তারা কোনো ধরনের যোগাযোগ বা সাক্ষাৎ করতে পারবেন না।
রায় ঘোষণার সময় সামান্থা আদালতে বলেন, সন্তানদের রক্ষা করা একজন মায়ের দায়িত্ব ছিল, কিন্তু তিনি সেই দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হয়েছেন। অন্যদিকে ম্যাথিউ বলেন, তিনি চান তার পরিবর্তে তার মেয়ে বেঁচে থাকুক।
এদিকে এই ঘটনার পর নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতারা 'জয়সলিনস ল' নামে একটি নতুন আইন প্রস্তাব করেছেন। প্রস্তাবটি পাস হলে অপরাধমূলক অবহেলার মাধ্যমে মৃত্যুর ঘটনায় সর্বোচ্চ সাজা ২০ বছর পর্যন্ত বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো। আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে। আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন। ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি। ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রে ভোটার নিবন্ধনের সময় নাগরিকত্বের প্রমাণ বাধ্যতামূলক করার জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জারি করা নির্বাহী আদেশে স্থগিতাদেশ দিয়েছেন একটি ফেডারেল আদালত। আদালতের এ রায়কে ভোটাধিকার ও গণতন্ত্রপন্থী সংগঠনগুলোর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। তাদের অভিযোগ ছিল, নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে নির্বাচনী ব্যবস্থার ওপর প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছিল। ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের ফেডারেল জেলা আদালতের বিচারক ডেনিস ক্যাসপার বুধবার রায়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান প্রেসিডেন্টকে নির্বাচন পরিচালনা বা নির্বাচনসংক্রান্ত নিয়ম নির্ধারণের কোনো নির্দিষ্ট ক্ষমতা দেয়নি। তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচন পরিচালনার মূল দায়িত্ব অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের এবং এ বিষয়ে আইন প্রণয়নের ক্ষমতা কংগ্রেসের। ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশে ভোটার নিবন্ধনের সময় পাসপোর্ট, জন্মসনদ বা অনুরূপ সরকারি নথির মাধ্যমে নাগরিকত্বের প্রমাণ দেখানোর বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছিল। নতুন ভোটার নিবন্ধনের পাশাপাশি নিবন্ধনের তথ্য পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও এই শর্ত প্রযোজ্য হওয়ার কথা ছিল। তবে আদালতের রায়ের কারণে আদেশটির কোনো বিধানই এখন পর্যন্ত কার্যকর হয়নি। এর আগে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির কয়েকটি অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল আদালতে এই নির্বাহী আদেশের বিরুদ্ধে মামলা করেন। সেই মামলার শুনানিতেই বিচারক ক্যাসপার আদেশটিকে সাময়িকভাবে স্থগিত করেছিলেন। সর্বশেষ রায়ে তিনি স্পষ্ট করেন, প্রেসিডেন্টের এমন পদক্ষেপ সংবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এদিকে কংগ্রেসেও সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট নামে একটি বিল নিয়ে আলোচনা চলছে। ওই বিলেও ভোটারদের নাগরিকত্বের প্রমাণ দেখানোর অনুরূপ বিধান রয়েছে। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সমর্থন থাকা সত্ত্বেও বিলটি এখনো কংগ্রেসের উভয় কক্ষে অনুমোদন পায়নি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প সম্প্রতি একটি দ্বিদলীয় আবাসনবিষয়ক বিলে স্বাক্ষরের পরিকল্পনাও স্থগিত করেন। তিনি জানান, কংগ্রেস আগে সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট পাস করুক, তারপর অন্য বিল বিবেচনা করবেন। নির্বাচন নিয়ে ট্রাম্পের অবস্থান তার দ্বিতীয় মেয়াদেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। ২০২০ সালের নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে তার আপত্তি এবং নির্বাচনী জালিয়াতির অভিযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক চলছে। যদিও এসব অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করা যায়নি। সাম্প্রতিক সময়েও ক্যালিফোর্নিয়ার নির্বাচনী ফল নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন। এ বছর ট্রাম্প ভোটব্যবস্থা নিয়ে আরও একটি নির্বাহী আদেশ জারি করেন। এতে প্রতিটি অঙ্গরাজ্যের নিশ্চিত নাগরিক ভোটারদের একটি কেন্দ্রীয় তালিকা তৈরির উদ্যোগ এবং ডাকযোগে ভোট দেওয়ার প্রক্রিয়ায় নতুন বিধিনিষেধের প্রস্তাব রাখা হয়। এই আদেশ নিয়েও একাধিক মামলা হয়েছে। যদিও একটি ফেডারেল আদালত বিষয়টিকে এখনই স্থগিত করার আবেদন খারিজ করে জানায়, বিষয়টি এখনো বিচারিক হস্তক্ষেপের উপযুক্ত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ডাক বিভাগও একটি নতুন নীতিমালার প্রস্তাব দিয়েছে। এতে অঙ্গরাজ্যগুলোকে ডাকযোগে ভোট দেওয়ার আবেদনকারীদের তালিকা ও সংশ্লিষ্ট তথ্য ডাক বিভাগের কাছে জমা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ডাক বিভাগের প্রধান ডেভিড স্টেইনার সতর্ক করে বলেছেন, যেসব অঙ্গরাজ্য এই তথ্য দেবে না, সেখানে ডাকযোগে পাঠানো ব্যালট বিতরণে বাধা দেওয়া হতে পারে। এ প্রস্তাবের তীব্র সমালোচনা করেছেন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ৪৭ জন সিনেটর। তারা ডাক বিভাগকে পাঠানো এক যৌথ চিঠিতে বলেন, এমন তালিকায় ভুল তথ্য থাকার ঝুঁকি রয়েছে, যা বৈধ ভোটারদের ভোটাধিকার প্রয়োগে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। তাদের ভাষায়, প্রস্তাবিত নীতিমালা লাখো ভোটারকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। নির্বাচন বিশ্লেষকদের মতে, আদালতের এই রায় যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচন পরিচালনার সাংবিধানিক ক্ষমতা নিয়ে চলমান বিতর্কে গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। তবে ভোটার নিবন্ধন, নাগরিকত্ব যাচাই এবং ডাকযোগে ভোট গ্রহণের নিয়ম নিয়ে আইনি ও রাজনৈতিক লড়াই আগামী মাসগুলোতেও অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কিনলেই সরকার সরাসরি নগদ অর্থ দেয়—এমন কোনো জাতীয় কর্মসূচি নেই। তবে জনসংখ্যা বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং নতুন বাসিন্দা আকৃষ্ট করতে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য, শহর ও স্থানীয় প্রশাসন বাড়ি ক্রেতাদের জন্য নানা ধরনের প্রণোদনা দিয়ে থাকে। এর মধ্যে রয়েছে ডাউন পেমেন্টে আর্থিক সহায়তা, স্বল্পসুদের ঋণ, কর-সুবিধা এবং কিছু ক্ষেত্রে নগদ প্রণোদনাও। যুক্তরাষ্ট্র সরকারের তথ্য অনুযায়ী, প্রথমবার বাড়ি কিনতে আগ্রহীদের জন্য প্রায় সব অঙ্গরাজ্যেই আলাদা সহায়তা কর্মসূচি রয়েছে। এসব কর্মসূচির আওতায় যোগ্য আবেদনকারীরা ডাউন পেমেন্ট ও ক্লোজিং কস্টের জন্য অনুদান বা স্বল্পসুদের ঋণ পেতে পারেন। তবে আয়ের সীমা, বাড়ির মূল্য এবং বাড়িটি নিজস্ব বাসস্থান হিসেবে ব্যবহারের মতো কিছু শর্ত পূরণ করতে হয়। নতুন বাসিন্দা আকর্ষণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে আলোচিত উদ্যোগগুলোর একটি হলো ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার ‘অ্যাসেন্ড ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া’ কর্মসূচি। এছাড়া ওকলাহোমার তুলসা শহরের ‘টালসা রিমোট’ এবং কানসাসের টোপেকা শহরের ‘চুজ টোপেকা’ কর্মসূচির মাধ্যমে যোগ্য ব্যক্তিদের আর্থিক সহায়তা ও স্থানান্তর প্রণোদনা দেওয়া হয়। এসব উদ্যোগের মূল লক্ষ্য নতুন কর্মজীবী ও পরিবারকে ওই এলাকায় বসবাসে উৎসাহিত করা। কর-সুবিধার দিক থেকেও কিছু অঙ্গরাজ্য এগিয়ে রয়েছে। ফ্লোরিডা, টেক্সাস, টেনেসি, নেভাডা ও ওয়াইওমিং-এ কোনো স্টেট ইনকাম ট্যাক্স নেই। ফলে এসব রাজ্যে বসবাস করলে অনেক পরিবারের বার্ষিক করের ব্যয় তুলনামূলক কম হতে পারে। তবে অন্যদিকে সম্পত্তি কর, বাড়ির বীমা এবং জীবনযাত্রার ব্যয় রাজ্যভেদে ভিন্ন হওয়ায় সব দিক বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দেন বাড়ি কেনা বেচায় কর্মরত যারা আছেন। তবে বাংলাদেশি অভিবাসীদের জন্য বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে শুধু আর্থিক প্রণোদনাই বিবেচ্য নয়। সংশ্লিষ্ট এলাকায় বাংলাদেশি বা দক্ষিণ এশীয় কমিউনিটির উপস্থিতি, মসজিদ, দেশীয় মুদি দোকান, বাংলাদেশি বা দক্ষিণ এশীয় রেস্তোরাঁ, ভালো স্কুল, স্বাস্থ্যসেবা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগও সমান গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় বেশি সুবিধার আশায় এমন এলাকায় বাড়ি কেনা হয়, যেখানে পরিচিত কমিউনিটি বা প্রয়োজনীয় সেবা-সুবিধা খুবই সীমিত থাকে। এতে নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়া কঠিন হতে পারে। তাই বাড়ি কেনার আগে আর্থিক সুবিধার পাশাপাশি পারিবারিক, সামাজিক এবং জীবনযাত্রার বাস্তব বিষয়গুলোও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করার পরামর্শ দিচ্ছেন বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতারা। রিয়েল এস্টেট এজেন্ট হিসাবে কাজ করে এমন অনেকের মতে, বাড়ি কেনার আগে সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের সরকারি আবাসন সংস্থা বা স্থানীয় হাউজিং এজেন্সির সর্বশেষ নীতিমালা যাচাই করা জরুরি। কারণ সময়ের সঙ্গে বিভিন্ন প্রণোদনা কর্মসূচির শর্ত, যোগ্যতা এবং সুবিধার পরিমাণ পরিবর্তিত হতে পারে।
নিউইয়র্ক সিটির পুলিশ বাহিনীতে একসঙ্গে এক হাজারের বেশি নতুন পুলিশ কর্মকর্তা যোগ দিয়েছেন। ছয় মাসের নিবিড় প্রশিক্ষণ সফলভাবে শেষ করার পর তারা এখন শহরের বিভিন্ন ইউনিট ও কমান্ডে দায়িত্ব পালনের জন্য প্রস্তুত। বুধবার (২৪ জুন) নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ বিভাগ (এনওয়াইপিডি) তাদের ভেরিফায়েড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এক পোস্টে জানায়, নতুন এই ব্যাচে এক হাজারেরও বেশি কর্মকর্তা বাহিনীতে যুক্ত হয়েছেন। প্রশিক্ষণকাল জুড়ে তারা আইন প্রয়োগ, জননিরাপত্তা, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা, কমিউনিটি পুলিশিং এবং পেশাগত আচরণসহ বিভিন্ন বিষয়ে বাস্তবভিত্তিক শিক্ষা ও অনুশীলনের মধ্য দিয়ে গেছেন। এনওয়াইপিডি তাদের বার্তায় নতুন কর্মকর্তাদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেছে, নিউইয়র্কবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং জনগণের সেবায় নিজেদের দায়িত্ব পালনের জন্য তারা এখন প্রস্তুত। একই সঙ্গে নতুন কর্মস্থলে যোগদানকারী এসব কর্মকর্তার সফলতা কামনা করেছে বিভাগটি। যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় নগর পুলিশ বাহিনী হিসেবে পরিচিত এনওয়াইপিডি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অবসর, পদত্যাগ এবং জনবল সংকটের কারণে নতুন সদস্য নিয়োগে জোর দিয়েছে। কর্মকর্তাদের সংখ্যা ধরে রাখা এবং শহরের বিভিন্ন এলাকায় পর্যাপ্ত পুলিশি উপস্থিতি নিশ্চিত করতে নিয়মিতভাবে নতুন ব্যাচ নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। নিউইয়র্ক সিটি প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মতে, নতুন সদস্যদের অন্তর্ভুক্তির ফলে টহল কার্যক্রম, জরুরি সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা এবং কমিউনিটি-ভিত্তিক পুলিশি সেবা আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এনওয়াইপিডির ভেরিফায়েড পোস্টে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এই নতুন কর্মকর্তারা ছয় মাসের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করে আনুষ্ঠানিকভাবে বাহিনীতে যোগ দিয়েছেন এবং ইতোমধ্যে নিজ নিজ দায়িত্বস্থলে কর্মভার গ্রহণের প্রস্তুতি নিয়েছেন।