সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

আমেরিকায় ৩০০ ডলারের মেডিসিন কিনুন ২০ ডলারে! বাংলাদেশিদের জন্য এই ৩ উপায়

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৯, ২০২৬ ৯:৪
মেডিসিনের দোকান।ছবি:সংগৃহীত
মেডিসিনের দোকান।ছবি:সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসক্রিপশন ওষুধের দাম নিয়ে অনেক রোগীকেই বড় অঙ্কের অর্থ গুনতে হয়। তবে একই ওষুধের জন্য একেক ফার্মেসিতে একেক রকম দাম দেখা যেতে পারে। ইন্স্যুরেন্স না থাকলেও বা ইন্স্যুরেন্সে কোনো ওষুধের কভারেজ না থাকলেও কিছু বৈধ ডিসকাউন্ট ও সহায়তা কর্মসূচির মাধ্যমে খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর সুযোগ রয়েছে।

 

ওষুধের খরচ কমানোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপায় হলো ওষুধ প্রস্তুতকারী কোম্পানির রোগী সহায়তা কর্মসূচি। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে নির্দিষ্ট যোগ্যতার রোগীরা কিছু ব্র্যান্ড-নেম ওষুধ বিনামূল্যে বা কম দামে পেতে পারেন। অলাভজনক প্রতিষ্ঠান নিডিমেডসের তথ্যভান্ডারে বিভিন্ন রোগ ও ওষুধের জন্য পেশেন্ট অ্যাসিস্ট্যান্স প্রোগ্রাম, কুপন এবং অন্যান্য সহায়তার তথ্য পাওয়া যায়। 

 

নিডিমেডসের বিনামূল্যের ড্রাগ ডিসকাউন্ট কার্ডও ব্যবহার করা যায়। প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, কার্ডটি ৬৫ হাজারের বেশি ফার্মেসিতে গ্রহণ করা হয় এবং নির্দিষ্ট প্রেসক্রিপশনে সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ পর্যন্ত সাশ্রয়ের সুযোগ থাকতে পারে। তবে এটি হেলথ ইন্স্যুরেন্স নয় এবং প্রতিটি ওষুধে একই হারে ছাড় পাওয়া যাবে না। 

 

দ্বিতীয় উপায় হলো বিভিন্ন প্রেসক্রিপশন ডিসকাউন্ট সেবা ব্যবহার করে ফার্মেসিভেদে দাম তুলনা করা। গুডআরএক্সের মতো প্ল্যাটফর্মে ওষুধের নাম ও অবস্থান দিয়ে দাম দেখা যায় এবং বিনামূল্যের ডিসকাউন্ট কার্ড বা কুপনের মাধ্যমে কম দামে ওষুধ কেনার সুযোগ থাকতে পারে। গুডআরএক্স জানিয়েছে, তাদের ডিসকাউন্ট সেবা ৭০ হাজারের বেশি ফার্মেসির নেটওয়ার্কে ব্যবহার করা যায় এবং কিছু ক্ষেত্রে নগদ দামে বড় ধরনের ছাড় পাওয়া যায়। 

 

তবে শুধু একটি ফার্মেসির দাম দেখে ওষুধ কেনা উচিত নয়। প্রেসক্রিপশন নেওয়ার আগে বা রিফিল করার সময় কাছাকাছি কয়েকটি ফার্মেসিতে নগদ দাম, ডিসকাউন্ট কার্ডের দাম এবং ইন্স্যুরেন্সের মাধ্যমে পরিশোধযোগ্য দাম তুলনা করলে অনেক ক্ষেত্রে পার্থক্য পাওয়া যেতে পারে।

 

তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ পথ হলো সরকারি ও কমিউনিটি সহায়তা। মেডিকেইডে যোগ্য ব্যক্তিদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সব অঙ্গরাজ্যেই আউটপেশেন্ট প্রেসক্রিপশন ওষুধের কভারেজ রয়েছে, যদিও কভারেজের নিয়ম, ওষুধের তালিকা ও রোগীর নিজস্ব খরচ অঙ্গরাজ্যভেদে আলাদা হতে পারে। 

 

এ ছাড়া ৩৪০বি কর্মসূচির আওতায় যোগ্য স্বাস্থ্যকেন্দ্র, হাসপাতাল ও অন্যান্য সেফটি-নেট প্রতিষ্ঠান নির্দিষ্ট প্রেসক্রিপশন ওষুধ কম দামে সংগ্রহ করতে পারে। তবে এর অর্থ এই নয় যে প্রতিটি রোগী বা প্রতিটি ফার্মেসিতে একই দামে ওষুধ পাওয়া যাবে। ৩৪০বি সুবিধা নির্দিষ্ট যোগ্য প্রতিষ্ঠান ও তাদের ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত। 

 

আরেকটি বিষয় হলো জেনেরিক ওষুধ। একই সক্রিয় উপাদানের জেনেরিক সংস্করণ পাওয়া যায় কি না, তা চিকিৎসকের কাছে জিজ্ঞেস করা যেতে পারে। একই সঙ্গে ৯০ দিনের সাপ্লাই নিলে খরচ কমে কি না, সেটিও জানতে পারেন। তবে নিজে থেকে কোনো প্রেসক্রিপশন ওষুধের ব্র্যান্ড বা ডোজ পরিবর্তন করা উচিত নয়।

 

ওষুধের দাম কমানোর ক্ষেত্রে আরও একটি বিকল্প হলো কম খরচের জেনেরিক ওষুধের অনলাইন ফার্মেসি। মার্ক কিউবানের কস্ট প্লাস ড্রাগসের মতো সেবাগুলো কিছু জেনেরিক ওষুধ তুলনামূলক কম দামে বিক্রি করে। তবে কোন ওষুধ কত দামে পাওয়া যাবে, তা ওষুধ, ডোজ, সরবরাহ ও সময় অনুযায়ী পরিবর্তিত হতে পারে।

 

শুরু করতে চাইলে প্রথমে নিজের প্রেসক্রিপশনের ওষুধের নাম লিখে নিডিমেডস বা গুডআরএক্সে দাম যাচাই করা যেতে পারে। এরপর কয়েকটি স্থানীয় ফার্মেসির দাম তুলনা করুন। চিকিৎসককে জিজ্ঞেস করতে পারেন, এই ওষুধের জেনেরিক সংস্করণ আছে কি না, ৯০ দিনের সাপ্লাই নেওয়া সম্ভব কি না এবং ওষুধ কোম্পানির পেশেন্ট অ্যাসিস্ট্যান্স প্রোগ্রামে আপনি যোগ্য কি না।

 

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কোনো ওষুধ শুধু দাম বেশি হওয়ার কারণে বন্ধ করা বা ডোজ পরিবর্তন করা উচিত নয়। ডিসকাউন্ট, পেশেন্ট অ্যাসিস্ট্যান্স প্রোগ্রাম বা সরকারি সহায়তার যোগ্যতা ব্যক্তির আয়, ইন্স্যুরেন্স, ওষুধ এবং অঙ্গরাজ্যের নিয়ম অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে। ওষুধ পরিবর্তনের আগে চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টের সঙ্গে কথা বলা জরুরি।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
ক্যালিফোর্নিয়ায় সাইবারট্রাক ব্যাক করতে গিয়ে নিজের ৬ বছরের ছেলেকে চাপা দিলেন বাবা, প্রাণ গেল শিশুর
ক্যালিফোর্নিয়ায় সাইবারট্রাক ব্যাক করতে গিয়ে নিজের ৬ বছরের ছেলেকে চাপা দিলেন বাবা, প্রাণ গেল শিশুর

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় বাড়ির সামনে নিজের টেসলা সাইবারট্রাক ব্যাক করার সময় দুর্ঘটনাবশত ৬ বছর বয়সী শিশুপুত্রকে চাপা দিয়েছেন মিস্টার অলিম্পিয়া বিচারক টেরেক এল গিন্ডি (৪৮)। গত শনিবার রাত ৯টার কিছু আগে ক্যালিফোর্নিয়ার টেমিকুলায় তাদের বাসভবনের সামনে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।   গুরুতর আহত অবস্থায় শিশু প্রেস্টনকে দ্রুত ইনল্যান্ড ভ্যালি মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে সেদিন রাতেই হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।   নিজ হাতে সন্তানের এমন আকস্মিক মৃত্যুর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে একটি হৃদয়বিদারক স্টোরি শেয়ার করেছেন শোকস্তব্ধ পিতা টেরেক।   ছেলে প্রেস্টনকে জড়িয়ে ধরে থাকা একটি ছবির ওপর তিনি লিখেছেন, “আমরা এক। আমরা চিরকাল একই থাকব। আমরা অনন্তকাল একসাথে থাকব। প্রেস্টন এবং টেরেক।”   ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে প্যাট্রোল (সিএইচপি) দুর্ঘটনার পরপরই তদন্ত শুরু করে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার বিষয়ে টেরেক এল গিন্ডিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও তাকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।   এছাড়া দুর্ঘটনার সময় তার টেসলা সাইবারট্রাকটি অটোপাইলট মোডে ছিল না বলেও কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ১৮:৪৪
নিউইয়র্কে গ্র্যাসি ম্যানশনে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজকে স্বাগত জানালেন মামদানী

নিউইয়র্কে গ্র্যাসি ম্যানশনে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজকে স্বাগত জানালেন মামদানী

যুক্তরাষ্ট্রে ভুলবশত ভোটার তালিকায় ৩০ হাজার অ-নাগরিক, দায়ী প্রযুক্তিগত ত্রুটি

যুক্তরাষ্ট্রে ভুলবশত ভোটার তালিকায় ৩০ হাজার অ-নাগরিক, দায়ী প্রযুক্তিগত ত্রুটি

নিউইয়র্কে এনওয়াইপিডির দায়িত্বে বগুড়ার রুশমী, সাবেক ছাত্রীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ

নিউইয়র্কের রাস্তায় দায়িত্ব পালনকালে প্রধানমন্ত্রীর দেখা পেলেন বগুড়ার রুশমী, উচ্ছ্বসিত তাঁর শিক্ষক

নিউইয়র্কে হার্ভে ওয়াইনস্টিনের ১৫ বছরের কারাদণ্ড, যৌ ন  নি পীড়নে দোষী সাব্যস্ত
নিউইয়র্কে হার্ভে ওয়াইনস্টিনের ১৫ বছরের কারাদণ্ড, যৌ ন নি পীড়নে দোষী সাব্যস্ত

বুধবার নিউইয়র্কের একটি আদালত হলিউডের সাবেক প্রভাবশালী প্রযোজক হার্ভে ওয়াইনস্টিনকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে। ২০০৬ সালে এক সাবেক প্রোডাকশন অ্যাসিস্ট্যান্টকে যৌন নিপীড়ন করার দায়ে গত বছর পুনরায় অনুষ্ঠিত বিচারে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর এই রায় ঘোষণা করা হলো।   ৭৪ বছর বয়সী ওয়াইনস্টিন ২০০৬ সালে ম্যানহাটনে নিজের অ্যাপার্টমেন্টে মিরিয়ম হেইলিকে নিপীড়নের অভিযোগে ২০২৫ সালের জুনে ফার্স্ট-ডিগ্রি ক্রিমিনাল সেক্সুয়াল অ্যাক্টের জন্য দোষী সাব্যস্ত হন। দীর্ঘ ছয় বছর ধরে চলা এই আইনি প্রক্রিয়ায় এর আগে ২০২০ সালে তাকে দেওয়া ২৩ বছরের কারাদণ্ডটি ২০২৪ সালে নিউইয়র্কের সর্বোচ্চ আদালত বাতিল করে দিয়েছিল।   ওয়াইনস্টিন অবশ্য সবসময়ই কারও সাথে জোরপূর্বক বা অসম্মতিতে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। ম্যানহাটনের ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি অ্যালভিন ব্র্যাগ এই বিচারের সময় সাহসিকতার সাথে সাক্ষ্য দেওয়ায় হেইলির ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। অন্যদিকে, ওয়াইনস্টিনের এক মুখপাত্র এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ওয়াইনস্টিন নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করছেন এবং বিচারক কার্টিস ফারবারের দেওয়া এই রায়ের তীব্র বিরোধিতা করছেন।   এর আগে ২০২০ সালে নিউইয়র্কে হেইলিকে নিপীড়ন এবং উঠতি অভিনেত্রী জেসিকা মানকে ধর্ষণের দায়ে ওয়াইনস্টিনকে ২৩ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি ন্যায্য বিচার পাননি—এমন যুক্তিতে নিউইয়র্কের সর্বোচ্চ আদালত ২০২৪ সালে ওই রায় বাতিল করে।   পরবর্তীতে ২০২৫ সালে পুনরায় অনুষ্ঠিত বিচারে জুরি বোর্ড তাকে হেইলির মামলায় দোষী সাব্যস্ত করে, তবে সাবেক মডেল কাজা সোকোলাকে নিপীড়নের অভিযোগ থেকে খালাস দেয় এবং জেসিকা মানের ধর্ষণের অভিযোগের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়। গত মে মাসে মানের অভিযোগের ওপর তৃতীয় বিচারটিও কোনো রায় ছাড়াই শেষ হয়। এরপর মান আর চতুর্থবার সাক্ষ্য দিতে না চাওয়ায় পরের মাসে প্রসিকিউটররা অভিযোগটি তুলে নেন।   মিরাম্যাক্স স্টুডিওর সহ-প্রতিষ্ঠাতা হার্ভে ওয়াইনস্টিনকে ২০২২ সালে ক্যালিফোর্নিয়ায় ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের আরেকটি আলাদা মামলায় ১৬ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। গত জুনে ক্যালিফোর্নিয়ার একটি আপিল আদালত সেই রায় বহাল রাখলেও তাকে নতুন করে সাজা ঘোষণার নির্দেশ দেয়, কারণ বিচারক তার বাতিল হয়ে যাওয়া নিউইয়র্কের রায়টিকে একটি প্রভাবক হিসেবে বিবেচনা করেছিলেন।   ওয়াইনস্টিনের বিরুদ্ধে প্রথম রায়টি ছিল '#মিটু' (MeToo) আন্দোলনের একটি বড় মাইলফলক, যা ক্ষমতাধর পুরুষদের দ্বারা যৌন নিপীড়নের শিকার নারীদের মুখ খুলতে উৎসাহিত করেছিল। এখন পর্যন্ত বিখ্যাত অনেক অভিনেত্রীসহ ১০০ জনেরও বেশি নারী ওয়াইনস্টিনের বিরুদ্ধে যৌন অসদাচরণের অভিযোগ এনেছেন, যদিও তিনি এসব অভিযোগ ক্রমাগত অস্বীকার করে আসছেন।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ১৬:৪১
যুক্তরাষ্ট্রে নিত্যপণ্যের দাম কমাল অ্যালডি, ক্রেতাদের ৮ কোটি ৬০ লাখ ডলার সাশ্রয়ের সুযোগ

যুক্তরাষ্ট্রে নিত্যপণ্যের দাম কমাল অ্যালডি, ক্রেতাদের ৮ কোটি ৬০ লাখ ডলার সাশ্রয়ের সুযোগ

যুক্তরাষ্ট্রে এফবিআইয়ের নিয়োগ পোর্টালে সাইবার হামলা, প্রায় সব এজেন্টের তথ্য ফাঁসের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রে এফবিআইয়ের নিয়োগ পোর্টালে সাইবার হামলা, প্রায় সব এজেন্টের তথ্য ফাঁসের দাবি

মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৯ বছর বয়সী উদীয়মান কলেজ রেসলার রায়ান জর্জ

ক্যালিফোর্নিয়ার ইয়োসেমিটিতে ৪০০ ফুট উঁচু জলপ্রপাত থেকে পড়ে প্রাণ গেল ১৯ বছর বয়সী রেসলারের

নিউইয়র্কে নেতানিয়াহুর হোটেলের পাশের ম্যানহোলে লুকিয়ে ছিলেন তিন ব্যক্তি, নিরাপত্তা হু মকির আশঙ্কা
নিউইয়র্কে নেতানিয়াহুর হোটেলের পাশের ম্যানহোলে লুকিয়ে ছিলেন তিন ব্যক্তি, নিরাপত্তা হু মকির আশঙ্কা

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে বর্তমানে নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তবে তার মতো একজন হাই-প্রোফাইল নেতার কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত হোটেলের অদূরেই এবার ঘটে গেছে এক রহস্যজনক ঘটনা।   পুলিশ ও নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাতে জানা গেছে, নেতানিয়াহুর সম্ভাব্য আবাসস্থল ম্যানহাটনের লোয়েস রিজেন্সি নিউইয়র্ক হোটেলের ঠিক কাছেই একটি ভূগর্ভস্থ ম্যানহোল থেকে তিন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে বের হয়ে আসতে দেখা গেছে। জাতিসংঘের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক আয়োজনের ডামাডোলের মাঝে এই অপ্রত্যাশিত ঘটনা ওই এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে বেশ উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।   নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্ট (এনওয়াইপিডি) জানিয়েছে, ভোর ৪টা ৩৫ মিনিটের দিকে আপার ইস্ট সাইডের ইস্ট ৬১ নম্বর স্ট্রিট সংলগ্ন পার্ক এভিনিউয়ের একটি খোলা ম্যানহোল থেকে ওই তিন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে রাস্তায় উঠে আসতে দেখা যায়। পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই তারা দ্রুত দুটি আলাদা গাড়িতে চড়ে পার্ক এভিনিউ ধরে উত্তরের দিকে পালিয়ে যায়।   তাৎক্ষণিকভাবে তাদের পরিচয় বা ম্যানহোলের নিচে লুকিয়ে থাকার কোনো সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য সম্পর্কে কর্তৃপক্ষ কিছু নিশ্চিত করতে পারেনি। যেহেতু নেতানিয়াহু এবং অন্যান্য শীর্ষ আন্তর্জাতিক কূটনীতিকদের ঠিক ওই ব্লকের লোয়েস রিজেন্সি হোটেলেই থাকার কথা, তাই পুলিশ এই ঘটনাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছে।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ১৩:৩৮
যুক্তরাষ্ট্রের সেরা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় শীর্ষে ক্যালিফোর্নিয়ার দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

যুক্তরাষ্ট্রের সেরা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় শীর্ষে ক্যালিফোর্নিয়ার দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

সান হোসেতে ১৪ বছর বয়সী কিশোরীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া উবারচালক অনুজ কুমার। ছবি: সংগৃহীত

ক্যালিফোর্নিয়ায় কিশোর যাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে ভারতীয় বংশোদ্ভূত উবারচালক গ্রেপ্তার

নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

মাদুরো আটকের পর ট্রাম্প-রদ্রিগেজের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক, নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত

0 Comments