স্কটল্যান্ডে তিন মাস বয়সী নিজের শিশুকন্যার মৃত্যুর ঘটনায় ২৮ বছর বয়সী এক মাকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন আদালত। অভিযোগ, তার অসতর্ক আচরণে হেয়ার ড্রায়ার থেকে বের হওয়া অতিরিক্ত গরম বাতাসে শিশুটি মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয় এবং পরে তার মৃত্যু হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত ঘটনাটিকে 'কালপেবল হোমিসাইড' বা অবহেলাজনিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে বিবেচনা করে রায় দিয়েছে। স্কটল্যান্ড পুলিশের এক বিবৃতি এবং বিবিসি নিউজ-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, দোষী সাব্যস্ত হওয়া ওই নারীর নাম কোর্টনি গার্টশোর। তার তিন মাস বয়সী মেয়ে ডালিয়া-রোজ ২০২৩ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর স্কটল্যান্ডের পিটারহেডে মারা যায়। সম্প্রতি অ্যাবারডিনের আদালতে মামলার বিচার শেষে জুরি গার্টশোরকে দোষী সাব্যস্ত করেন। বিচার চলাকালে আদালতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, শিশুটি মায়ের তত্ত্বাবধানে থাকা অবস্থায় গার্টশোর একটি হেয়ার ড্রায়ার চালু করেন। সেখান থেকে বের হওয়া অতিরিক্ত গরম বাতাসে শিশুটির শরীরের প্রায় ১৮ শতাংশ অংশ দগ্ধ হয়। গুরুতর দগ্ধ হওয়ার পর শিশুটির শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, পরে গার্টশোর জরুরি সেবায় ফোন করে জানান, তিনি তার ঘুমন্ত শিশুকে অস্বাভাবিক বেগুনি বর্ণের অবস্থায় দেখতে পেয়েছেন। জরুরি সেবা কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে ডালিয়া-রোজকে মৃত ঘোষণা করেন। শিশুটির মৃত্যুর পর পুলিশ বিস্তারিত তদন্ত শুরু করে। তদন্তে বিভিন্ন আলামত, চিকিৎসা প্রতিবেদন এবং সাক্ষ্যপ্রমাণ সংগ্রহের পর ২০২৩ সালের নভেম্বরে কোর্টনি গার্টশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে বিচার চলাকালে তিনি নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। বিবিসি নিউজের তথ্য অনুযায়ী, জুরি রায় ঘোষণার পর আদালতকক্ষে গার্টশোরকে কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায়। তবে জুরির সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে তাকে অবহেলাজনিত হত্যাকাণ্ডের জন্য দোষী সাব্যস্ত করা হয়। স্কটল্যান্ড পুলিশের গোয়েন্দা কর্মকর্তা জেমস ক্যালেন্ডার এক বিবৃতিতে বলেন, শিশুরা সম্পূর্ণ অসহায় এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বড়দের দায়িত্ব। কোনো শিশুর মৃত্যু সবসময়ই অত্যন্ত মর্মান্তিক, তবে একজন অভিভাবকের অবহেলায় শিশুর মৃত্যু আরও বেশি উদ্বেগজনক ও বেদনাদায়ক। আদালত জানিয়েছেন, আগামী ১৪ আগস্ট কোর্টনি গার্টশোরের সাজা ঘোষণা করা হবে। তখন আদালত মামলার সব দিক বিবেচনা করে তার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত শাস্তি নির্ধারণ করবেন। ঘটনাটি স্কটল্যান্ডে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। শিশুদের নিরাপত্তা, অভিভাবকের দায়িত্ব এবং ঘরে ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির নিরাপদ ব্যবহার নিয়ে নতুন করে সচেতনতার প্রয়োজনীয়তার কথাও সামনে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের সেরেনা এলাকায় বাড়ির পেছনের উঠোনে খেলতে গিয়ে বজ্রপাতে প্রাণ হারিয়েছে আট বছর বয়সী এক শিশু। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, ঝড় শুরু হওয়ার আগমুহূর্তে অন্য শিশুদের সঙ্গে খেলছিল কিন্সলি চিডা (Kinslee Tschida)। দোলনা থেকে নামার ঠিক সেই মুহূর্তেই বজ্রপাত হয়। পরিবারের সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে সিপিআর দিলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম People, WGN এবং ABC7 Chicago (WLS)-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনাটি ঘটে গত ৩ জুলাই (শুক্রবার) সন্ধ্যায় ইলিনয়ের লাসাল কাউন্টির সেরেনা এলাকায়। পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে জানা যায়, সেদিন সন্ধ্যায় কিন্সলি তার চাচাতো বোনদের সঙ্গে বাড়ির পেছনের উঠোনে খেলছিল। এ সময় আকাশে ঝড়ের পূর্বাভাস দেখা দিলে পরিবারের বড়রা শিশুদের ঘরের ভেতরে চলে আসতে বলেন। দূরে বজ্রধ্বনিও শোনা যাচ্ছিল। কিন্সলির দাদা ক্রিস শেইব স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেল WGN-কে বলেন, তার ছেলে কিন্সলি এবং নিজের মেয়েকে দোলনা থেকে নেমে আসতে বলেছিল। কিন্তু সেই সতর্কবার্তা কার্যকর হওয়ার আগেই ঘটে যায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। তার ভাষায়, "কিন্সলি দোলনা থেকে নামছিল। হঠাৎ এক মুহূর্তের মধ্যে সবকিছু ঘটে গেল। কোনো আগাম সংকেত ছিল না। চোখে পড়ার মতো বজ্রপাতও দেখা যায়নি। মুহূর্তেই বজ্রপাত এসে গাছের মাঝখানে আঘাত হানে।" ঘটনার সময় কিন্সলির পাশে থাকা আরেকটি শিশু অক্ষত থাকে। তবে বজ্রপাতে গুরুতর আহত হয় কিন্সলি। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তার কাছে ছুটে যান। কিন্সলির মা, যিনি পেশায় একজন নার্স, ঘটনাস্থলেই অন্য স্বজনদের সহায়তায় শিশুটিকে সিপিআর দিতে শুরু করেন। পরে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নাতনির মৃত্যুর খবর পেয়ে ভেঙে পড়েন দাদা ক্রিস শেইব। তিনি বলেন, "জীবনে কখনো এমন ঘটনার মুখোমুখি হইনি। এই ঘটনা আমাকে বদলে দিয়েছে। মনে হচ্ছে আমরা সবাই ভেঙে পড়েছি।" এদিকে, People জানিয়েছে, ঘটনার বিষয়ে লাসাল কাউন্টির করোনার কার্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে লাসাল কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ও এ ঘটনায় নতুন কোনো তথ্য দেয়নি। শিশুটির মৃত্যুর পর পরিবারকে সহায়তা করতে স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা একটি অনলাইন তহবিল সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করেছেন। এর মাধ্যমে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া এবং চিকিৎসা-সংক্রান্ত ব্যয় মেটানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তহবিল সংগ্রহের আয়োজক সামান্থা ওয়ালেস কিন্সলিকে প্রাণবন্ত, হাসিখুশি ও সবার প্রিয় একটি শিশু হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার ভাষায়, কিন্সলি গান গাইতে, নাচতে এবং অন্যদের হাসিখুশি রাখতে ভালোবাসত। তার প্রাণখোলা হাসি যে কোনো ঘরকে আনন্দে ভরিয়ে দিতে পারত। ছোট্ট শরীর হলেও তার হৃদয় ছিল অনেক বড়, আর তাকে যারা চিনতেন, তারা সবাই তার ভালোবাসা, উদারতা ও প্রাণচাঞ্চল্যে মুগ্ধ ছিলেন। বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরেই সতর্ক করে আসছেন, বজ্রধ্বনি শোনা মাত্রই খোলা জায়গা, মাঠ, গাছের নিচে কিংবা ধাতব খেলাধুলার সরঞ্জামের কাছ থেকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়া উচিত। কারণ বজ্রপাত অনেক সময় দৃশ্যমান বিদ্যুৎ চমক দেখা দেওয়ার আগেই আঘাত হানতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে ১৫ মাস বয়সী ছেলেকে প্রচণ্ড গরমের মধ্যে একটি পার্ক করা গাড়িতে রেখে কর্মস্থলে যাওয়ার ঘটনায় ভেনেসা এসকুইভেল (২৭) নামে এক নারীকে ২৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, শিশুটিকে দীর্ঘ সময় গাড়িতে একা ফেলে রাখার কারণেই তার মৃত্যু হয়। ফ্রিসকো পুলিশ বিভাগ, আদালতের নথি এবং স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৬ আগস্ট এই ঘটনা ঘটে। সেদিন বাইরের তাপমাত্রা ছিল প্রায় ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (এয়ার কন্ডিশনিং) বন্ধ থাকা অবস্থায় শিশুটিকে দুই ঘণ্টারও বেশি সময় গাড়ির পেছনের আসনে একা রেখে যান এসকুইভেল। তদন্তে জানা যায়, তিনি সেদিন Hand & Stone Massage and Facial Spa-তে দুপুর প্রায় ১টা ৪৫ মিনিট থেকে বিকেল ৪টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত কর্মরত ছিলেন। তদন্তকারীদের মতে, শিশু দেখাশোনার কাউকে না পাওয়ায় তিনি ছেলেকে গাড়িতেই রেখে কাজে যান। পরে শিশুটিকে Medical City Plano হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তদন্তে দেখা যায়, মৃত্যুর সময় শিশুটির শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা প্রায় ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছে গিয়েছিল, যা প্রাণঘাতী মাত্রা। মামলার তদন্তে প্রকাশিত একটি রেকর্ড করা ফোনালাপে এসকুইভেল এক সহকর্মীকে বলেন, শিশু দেখাশোনার কোনো ব্যবস্থা করতে না পেরে তিনি কঠিন পরিস্থিতিতে পড়েছিলেন। তিনি স্বীকার করেন, ঘটনাটি তার ভুল ছিল এবং এজন্য তাকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে বলে তিনি ধারণা করেছিলেন। প্রসিকিউটর অ্যাশলি উডল আদালতে বলেন, “এত ছোট একটি শিশুকে কখনোই গাড়িতে একা রেখে যাওয়া উচিত নয়। বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে এবং টেক্সাসের মতো উষ্ণ অঞ্চলে। প্রতি বছরই এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে, আর আমরা চাই না এটি আবার ঘটুক। এই রায় সমাজের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা।” ফ্রিসকো পুলিশ জানায়, তদন্তে প্রমাণ পাওয়া যায় যে শিশুটিকে গাড়িতে রেখে যাওয়ার মাধ্যমে তার জীবনকে গুরুতর ঝুঁকির মধ্যে ফেলা হয়েছিল। সেই অবহেলার ফলেই শিশুটির মৃত্যু হওয়ায় টেক্সাসের আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। টেক্সাসের আইন অনুসারে, হত্যা মামলায় দণ্ডিত ব্যক্তিকে প্যারোলের জন্য বিবেচিত হওয়ার আগে অন্তত অর্ধেক সাজা ভোগ করতে হয়। এদিকে একই ধরনের আরেকটি ঘটনায় সম্প্রতি ফ্লোরিডায় সমুদ্রসৈকতের একটি পার্কিং এলাকায় গরম গাড়ির ভেতরে রেখে যাওয়ার পর দুই বছর বয়সী আরেক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ওই ঘটনায়ও তদন্ত চলছে। এই ঘটনাগুলোর পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিভাবক ও শিশুদের দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের প্রতি সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের ভাষ্য, পার্ক করা গাড়ির ভেতরের তাপমাত্রা মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই প্রাণঘাতী পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। তাই গাড়ি থেকে নামার আগে পেছনের আসন অবশ্যই পরীক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ।
ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের হল্যান্ডেল বিচে বেবিসিটারের তত্ত্বাবধানে থাকা দুই বছর বয়সী এক শিশুর গরম গাড়ির ভেতরে থাকার পর মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, শিশুটিকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসকেরা পরে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। কীভাবে এবং কতক্ষণ শিশুটি গাড়ির ভেতরে ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। হল্যান্ডেল বিচ পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, রোববার দুপুর প্রায় ১টা ৩৫ মিনিটে একটি বাড়ি থেকে জরুরি ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিশুটিকে উদ্ধার করে। ঘটনাটি ঘটেছে মিয়ামি থেকে প্রায় ২০ মাইল উত্তরে অবস্থিত হল্যান্ডেল বিচ এলাকায়। স্থানীয় আবহাওয়ার তথ্য অনুযায়ী, সেদিন এলাকায় তাপমাত্রার অনুভূতি বা হিট ইনডেক্স ছিল প্রায় ১০১ ডিগ্রি ফারেনহাইট। এমন পরিস্থিতিতে বন্ধ গাড়ির ভেতরের তাপমাত্রা অল্প সময়ের মধ্যেই বিপজ্জনক মাত্রায় পৌঁছাতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। পুলিশ জানিয়েছে, শিশুটিকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তার মৃত্যু হয়। তবে শিশুটি ঠিক কতক্ষণ গাড়ির ভেতরে ছিল, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। এক বিবৃতিতে হল্যান্ডেল বিচ পুলিশ বিভাগ জানায়, "এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা নিহত শিশুর পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই। একই সঙ্গে অভিভাবক, আইনগত অভিভাবক এবং শিশুদের দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা সবাইকে আবারও অনুরোধ করছি, গাড়ি লক করে চলে যাওয়ার আগে অবশ্যই পেছনের আসন ভালোভাবে পরীক্ষা করুন।" শিশু নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা অলাভজনক সংস্থা KidsAndCars.org-এর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে যুক্তরাষ্ট্রে গরম গাড়ির ভেতরে থাকার কারণে এটি অন্তত দশম শিশুমৃত্যুর ঘটনা। সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশজুড়ে অন্তত ৩৭টি শিশু একই ধরনের ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছিল। শিশু নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, বাইরে তাপমাত্রা খুব বেশি না হলেও বন্ধ গাড়ির ভেতরে কয়েক মিনিটের মধ্যেই তাপমাত্রা দ্রুত বেড়ে প্রাণঘাতী পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। তাই গাড়িতে কখনোই শিশুদের একা রেখে না যাওয়ার পাশাপাশি গাড়ি থেকে নামার আগে পেছনের আসন পরীক্ষা করার পরামর্শ দিয়ে আসছেন তারা।
টেক্সাসের ফ্রিসকো শহরে গরমে একটি গাড়ির ভেতরে ১৫ মাস বয়সী শিশুপুত্রকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রেখে মৃত্যুর ঘটনায় তার মা ভ্যানেসা এসকিভেলকে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেছে আদালত। কলিন কাউন্টির একটি জুরি তাকে ২৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে। রায়টি সোমবার (৬ জুলাই) ঘোষণা করা হয়। আদালতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটে ২০২৫ সালের ১৬ আগস্ট। ওই দিন এসকিভেল ফ্রিসকোর একটি ম্যাসাজ ও ফেসিয়াল স্পায় কাজে যাওয়ার সময় তার ১৫ মাসের ছেলেকে এমন একটি গাড়িতে রেখে যান, যার শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (এসি) সচল ছিল না। বাইরে তখন তাপমাত্রা ছিল ৯৫ ডিগ্রি ফারেনহাইটের বেশি। তদন্তে জানা যায়, শিশুটি দুই ঘণ্টারও বেশি সময় গাড়ির ভেতরে ছিল। প্রসিকিউটরদের উপস্থাপিত প্রমাণ এবং গ্রেপ্তার-সংক্রান্ত নথিতে বলা হয়, কাজ শেষে গাড়িতে ফিরে এসেও এসকিভেল সরাসরি হাসপাতালে না গিয়ে পথে একটি ম্যাকডোনাল্ডস রেস্তোরাঁয় থেমেছিলেন। পরে তিনি শিশুটিকে প্লানোর মেডিকেল সিটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালের নথি অনুযায়ী, শিশুটির শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা তখন ১০৬ ডিগ্রি ফারেনহাইটেরও বেশি ছিল। তদন্তে আরও উঠে আসে, হাসপাতালে নেওয়ার পর এসকিভেল প্রথমে পুলিশ ও চিকিৎসকদের কাছে ভিন্ন তথ্য দিয়েছিলেন। তবে কর্মস্থলের সময়সূচি, নজরদারি ফুটেজ এবং অন্যান্য প্রমাণে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, শিশুটি দীর্ঘ সময় গাড়ির ভেতরেই ছিল। এরপর ফ্রিসকো পুলিশ তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করে। প্রায় এক বছর বিচারিক প্রক্রিয়া চলার পর কলিন কাউন্টির জুরি তাকে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে এবং আদালত ২৫ বছরের কারাদণ্ডের রায় দেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে স্বাধীনতা দিবসের উদযাপনের সময় অবৈধ আতশবাজির বিস্ফোরণে ৮ বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় প্রায় এক বছর পর অভিযুক্ত এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। অরেঞ্জ কাউন্টি প্রসিকিউটরস অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ৪৭ বছর বয়সী আর্ল ডিকাস্ত্রোর বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগ, ২০২৫ সালের ৪ জুলাই ক্যালিফোর্নিয়ার বুয়েনা পার্কে প্রতিবেশীদের নিয়ে আয়োজিত স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে তার ছোড়া অবৈধ আতশবাজির বিস্ফোরণেই মারা যায় ৮ বছর বয়সী জেসমিন এনগুয়েন। তদন্তে জানা গেছে, জেসমিন, তার মা হ্যালি এনগুয়েন এবং ৭ বছর বয়সী বোন ডিকাস্ত্রোর বাড়ির ড্রাইভওয়েতে দাঁড়িয়ে এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে আতশবাজির প্রদর্শনী দেখছিলেন। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে ডিকাস্ত্রো প্রায় ৪০০ ডলারের একটি অবৈধ ‘কেক’ ধরনের আতশবাজি জ্বালান। পেশাদার মানের বিস্ফোরকযুক্ত এই আতশবাজি ব্যবহারের জন্য বিশেষ অনুমতির প্রয়োজন হয়। তবে সেটি বিকল হয়ে মর্টার শেল সরাসরি ড্রাইভওয়ের দিকে ছুটে আসে। এতে উপস্থিত লোকজন প্রাণ বাঁচাতে বাড়ির ভেতরে ছুটে যান। জেসমিনের মা হ্যালি এনগুয়েন অরেঞ্জ কাউন্টি রেজিস্টারকে বলেন, “সবকিছু এত দ্রুত ঘটেছিল। বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দের দিন মুহূর্তেই দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়। অনেকের জুতার ভেতর দিয়েও রক্ত বের হচ্ছিল।” জেসমিন পরিবারের সঙ্গে এমন একটি টেবিলের পাশে বসেছিল, যেখানে আরও কিছু অব্যবহৃত আতশবাজি রাখা ছিল। বিস্ফোরণের ফলে সেগুলোতেও আগুন ধরে যায়। বাড়ির ভেতরে আশ্রয় নেওয়ার আগেই গুরুতর আহত হয় শিশুটি। পরে তাকে ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া আরভিন মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হলেও চিকিৎসকরা তাকে বাঁচাতে পারেননি। হ্যালি এনগুয়েন নিজেও ওই বিস্ফোরণে আহত হন। তিনি বলেন, “আমি ভাবতেই পারিনি ও আর থাকবে না। আমি কিছুই করতে পারিনি। মাসের পর মাস শুধু বসে থেকেছি। এখন আমি তাকে জড়িয়ে ধরতে পারি না, তার কণ্ঠও শুনতে পাই না। সবকিছু অনেক বেশি নীরব।” শোকের মধ্যেও হ্যালি এনগুয়েন আগে জানিয়েছিলেন, তিনি ডিকাস্ত্রোর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ চান না। তার ভাষায়, “আমি কোনো অভিযোগ আনার পক্ষে নই। এটা সত্যিই একটি দুর্ঘটনা ছিল।” তবে প্রসিকিউটররা ভিন্ন অবস্থান নেন। ডিকাস্ত্রোর বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ড, বেপরোয়াভাবে আগুন লাগিয়ে গুরুতর শারীরিক ক্ষতি এবং ১০০ পাউন্ডের বেশি অবৈধ আতশবাজি রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে। কেন ঘটনার প্রায় এক বছর পর অভিযোগ গঠন করা হলো, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি। দোষী সাব্যস্ত হলে ডিকাস্ত্রোর সর্বোচ্চ ছয় বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। অরেঞ্জ কাউন্টির জেলা অ্যাটর্নি টড স্পিটজার বলেন, “অবৈধ আতশবাজি কেনা ও ব্যবহার করার মধ্যে কোনো দুর্ঘটনা নেই। আট বছরের একটি শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং যার কারণে এই মৃত্যু ঘটেছে, তাকে আইনের মুখোমুখি হতে হবে। কয়েক সেকেন্ডের আনন্দ কোনো শিশুর জীবন বা আজীবনের শোকের বিনিময়ে হতে পারে না।”
দেশে হামের প্রাদুর্ভাব অব্যাহত রয়েছে। হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ ও নিশ্চিত সংক্রমণে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৭০২ জনে পৌঁছেছে। আজ শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল আটটা থেকে আজ শুক্রবার সকাল আটটা পর্যন্ত সময়ে চার শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৬০৯ শিশু। এ ছাড়া পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে মারা গেছে আরও ৯৩ শিশু। ফলে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭০২ জনে। প্রতিবেদনে বলা হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে আরও ৮৬৯ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ দেখা দেওয়া রোগীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৯৭ হাজার ৫২২। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামের রোগী শনাক্ত হয়েছে ১০৭ জন। ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে মোট ১১ হাজার ৫৪৯ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। এদিকে ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৮১ হাজার ২৮৩ জন। এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ৭৭ হাজার ৬১৩ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে মারা যাওয়া চার শিশু ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের বাসিন্দা।
নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের আপস্টেট অঞ্চলে দীর্ঘদিনের অবহেলার শিকার হয়ে তিন বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় তার বাবা-মা আদালতে দোষ স্বীকার করেছেন। তদন্তে উঠে এসেছে, শিশুটি দীর্ঘ সময় ধরে চিকিৎসা ও পরিচর্যার অভাবে গুরুতর স্বাস্থ্য জটিলতায় ভুগছিল। আদালত এই ঘটনাকে 'অত্যন্ত মর্মান্তিক ও দীর্ঘদিনের অবহেলার ফল' হিসেবে উল্লেখ করেছে। আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি অ্যালবানি শহর থেকে প্রায় এক ঘণ্টার দূরত্বে অবস্থিত করিন্থ এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্ট থেকে তিন বছরের জয়সলিন ডিলেউস্কিকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। সে সময় তার শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ময়নাতদন্তে চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা জানান, দীর্ঘদিনের অবহেলা ও পরিচর্যার অভাবের কারণে শিশুটির শরীরে গুরুতর রক্তস্বল্পতা (অ্যানিমিয়া) তৈরি হয়েছিল, যা শেষ পর্যন্ত হৃদ্যন্ত্রসহ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গের কার্যকারিতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। একই সঙ্গে তার শরীরে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত ক্লোনিডিন নামের একটি ওষুধের উপস্থিতিও পাওয়া যায়। তদন্তকারীরা বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখেন। এই ঘটনায় শিশুটির বাবা ৩৬ বছর বয়সী ম্যাথিউ ডিলেউস্কি এবং মা ৩৩ বছর বয়সী সামান্থা ডিলেউস্কি 'অপরাধমূলক অবহেলার মাধ্যমে মৃত্যুর' অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। চলতি মাসে আদালত তাদের প্রত্যেককে সর্বোচ্চ চার বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড দেন। প্রসিকিউটরদের ভাষ্য, তদন্তে উদ্ধার হওয়া বার্তালাপে দেখা যায়, শিশুটিকে ক্লোনিডিন ওষুধ দেওয়া নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে আলোচনা হয়েছিল। এছাড়া শিশুটির মৃত্যুর পর ওই ওষুধ শরীরে কতক্ষণ থাকে, সে সম্পর্কেও ইন্টারনেটে অনুসন্ধান করা হয়েছিল বলে আদালতে জানানো হয়। অন্যদিকে সামান্থা প্রথমদিকে তদন্তকারীদের কাছে দাবি করেছিলেন, শিশুটির শারীরিক দুর্বলতার কারণ জন্মগত হৃদ্রোগ। তবে প্রসিকিউটররা আদালতে জানান, চিকিৎসা পরীক্ষায় শিশুটির হৃদ্যন্ত্রে এমন কোনো জন্মগত সমস্যা পাওয়া যায়নি। তদন্তে অ্যাপার্টমেন্টটির অস্বাস্থ্যকর পরিবেশও উঠে আসে। আদালতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, বাড়ির বিভিন্ন স্থানে আবর্জনা, পচা খাবার, মাছি, ময়লা এবং অপরিচ্ছন্নতার চিত্র দেখা যায়। পরে পরিচ্ছন্নতার দায়িত্বে থাকা একটি প্রতিষ্ঠানের প্রকাশ করা ছবিতেও বাসার অত্যন্ত নোংরা পরিবেশের প্রমাণ মিলেছে। সারাটোগা কাউন্টির বিচারক জেমস আর. ডেভিস রায় ঘোষণার সময় বলেন, তার বিচারিক জীবনে এত ভয়াবহ প্রাক-সাজা মূল্যায়ন প্রতিবেদন খুব কমই দেখেছেন। তিনি বলেন, শিশুটি দীর্ঘ সময় ধরে কষ্ট পেয়েছে এবং পরিবারের অন্য শিশুরাও সেই অবহেলার সাক্ষী ছিল। আদালতের আদেশ অনুযায়ী, দম্পতির জীবিত থাকা অন্য চার সন্তানের সঙ্গে ২০৩৮ সাল পর্যন্ত তারা কোনো ধরনের যোগাযোগ বা সাক্ষাৎ করতে পারবেন না। রায় ঘোষণার সময় সামান্থা আদালতে বলেন, সন্তানদের রক্ষা করা একজন মায়ের দায়িত্ব ছিল, কিন্তু তিনি সেই দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হয়েছেন। অন্যদিকে ম্যাথিউ বলেন, তিনি চান তার পরিবর্তে তার মেয়ে বেঁচে থাকুক। এদিকে এই ঘটনার পর নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতারা 'জয়সলিনস ল' নামে একটি নতুন আইন প্রস্তাব করেছেন। প্রস্তাবটি পাস হলে অপরাধমূলক অবহেলার মাধ্যমে মৃত্যুর ঘটনায় সর্বোচ্চ সাজা ২০ বছর পর্যন্ত বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।
রাজধানীর মহাখালী এলাকায় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) ফুটওভার ব্রিজ পার হয়ে রাস্তায় হেঁটে যেতে দেখা যায় এক যুবককে, যার কোলে কাপড়ে মোড়ানো একটি শিশুর মরদেহ। স্থানীয় সূত্র ও ভাইরাল হওয়া ছবিতে দেখা যায়, শিশুটির বয়স আনুমানিক ৩ থেকে ৫ বছর। ধারণা করা হচ্ছে, শিশুটি হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে যে যুবককের কোলে শিশু টির মরাদেহ দেখা গিয়েছে তিনি শিশুটির বাবা এ বিষয়ে ছবি ও তথ্য অনুযায়ী জানা যায়, শিশুটির নাম সাদমান। তাকে চিকিৎসার জন্য কামরাঙ্গীরচর এলাকা থেকে ঢাকার ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন হাসপাতাল-এ নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ছবিতে হাসপাতালের সামনে কয়েকজন নারীকে কান্নায় ভেঙে পড়তেও দেখা গেছে। পরে শিশুটির মরদেহ নিয়ে স্বজনরা রাস্তায় ফিরে যান বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা শিশুটির পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি, এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
দেশে হামের প্রকোপ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে আরও সাত শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে দুই শিশুর মৃত্যু হামে হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, বাকি পাঁচজন মারা গেছে উপসর্গ নিয়ে। সোমবার (১৩ এপ্রিল ২০২৬) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম শনাক্ত হয়েছে ৮২ জনের এবং উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৭২৯ শিশু। মৃত সাত শিশুর মধ্যে ছয়জনই ঢাকা বিভাগের এবং একজন রাজশাহী বিভাগের। আক্রান্তের দিক থেকেও ঢাকা বিভাগ শীর্ষে রয়েছে, যেখানে গত এক দিনে ৭৬ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। সারাদেশে বর্তমানে ১ হাজার ৩৭১ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান বলছে, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামে মোট ৩০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে আরও ১৫৬ জন। এ পর্যন্ত মোট ২ হাজার ৭২১ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে ১০ হাজার ৯৫৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হলেও সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৮ হাজার ৩৬৯ জন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বিশেষ নজরদারি ও টিকাদান কর্মসূচির ওপর জোর দিচ্ছে।
দেশে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে হামের সংক্রমণ। গত ২৪ ঘণ্টায় (একদিনে) এই বায়ুবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়ে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে আরও ৬৮৫ জন শিশু। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সন্ধ্যায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই উদ্বেগজনক তথ্য জানানো হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, নতুন চারজনসহ চলতি বছর এখন পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে অন্তত ৪২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে কেবল মার্চ মাসেই মারা গেছে ৩২ জন। সংক্রমণ এখন আর কেবল নির্দিষ্ট এলাকায় সীমাবদ্ধ নেই; ঢাকা ছাড়াও রাজশাহী, ময়মনসিংহসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় এই রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। সংক্রমণের উচ্চমাত্রার কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হয়ে পড়ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, হামের সংক্রমণের ক্ষমতা (R0) অত্যন্ত বেশি হওয়ায় এটি খুব দ্রুত এক শিশু থেকে অন্য শিশুর শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। আক্রান্ত শিশুদের ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া এবং মস্তিষ্কের সংক্রমণের (এনসেফালাইটিস) মতো মারাত্মক জটিলতা দেখা দিতে পারে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির ওপর জোর দেওয়ার পাশাপাশি আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে বলা হয়েছে।
জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় ব্রহ্মপুত্র নদে ভাসমান সেতু ভেঙে নিখোঁজ হওয়া পাঁচ শিশুর জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে। রোববার (২২ মার্চ) সকালে উপজেলার ডাকাতিয়াপাড়া, ঝালুরচর ও বেলতলী এলাকায় পৃথক জানাজা শেষে তাদের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। নিহত শিশুরা হলো—মায়ামনি (১০), মোহাম্মদ মিহাদ (১২), আবদুল মোতালেব (৬), খাদিজা (১২) এবং আবির হোসেন (১৪)। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার বিকেলে ঈদের ছুটিতে বিপুল সংখ্যক মানুষ ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর নির্মিত এই ভাসমান সেতুটিতে ভিড় জমান। অতিরিক্ত মানুষের চাপে সেতুটি হঠাৎ ভেঙে পড়লে অনেকেই নদে ছিটকে পড়েন। অধিকাংশ মানুষ সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও এই পাঁচটি শিশু নিখোঁজ হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে পরশু রাতে একে একে পাঁচ শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেন। জামালপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইউসুপ আলী জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করা হবে। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং দুর্ঘটনার আনুষঙ্গিক সকল দিক পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।