ফ্লোরিডায় জীবনের অধিকাংশ সময় যুক্তরাষ্ট্রে কাটানো অন্তঃসত্ত্বা নারী নির্বাসনের আতঙ্কে
ফ্লোরিডায় ২৯ বছর বয়সী এক অন্তঃসত্ত্বা নারী এখন অনেকটা আত্মগোপনে দিন কাটাচ্ছেন। সাময়িক সুরক্ষা মর্যাদা বা টিপিএসের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পর যেকোনো সময় তাকে গ্রেপ্তার করে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা হতে পারে, এমন আশঙ্কায় প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে বের হচ্ছেন না তিনি।
সিবিএস নিউজকে ওই নারী জানান, মাত্র ৬ বছর বয়সে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন। জীবনের অধিকাংশ সময় এই দেশেই কাটিয়েছেন তিনি। হাইতিতে এখন তার কোনো পরিবারও নেই। ফলে তাকে সেখানে ফেরত পাঠানো হলে কোথায় থাকবেন, সেটিও জানেন না।
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত ৩ লাখের বেশি হাইতিয়ান নাগরিক টিপিএসের আওতায় ছিলেন। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর ট্রাম্প প্রশাসন এই সুরক্ষা কর্মসূচি শেষ করেছে। টিপিএসের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে হাইতিয়ান অভিবাসীদের গ্রেপ্তার ও বহিষ্কারের অভিযান জোরদার করার পরিকল্পনার কথাও উঠে এসেছে অভ্যন্তরীণ সরকারি নথি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাতে।
টিপিএস এমন একটি সুরক্ষা ব্যবস্থা, যার আওতায় নিজ দেশে যুদ্ধ, সহিংসতা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অন্য কোনো ভয়াবহ পরিস্থিতির কারণে নিরাপদে ফিরতে না পারা নির্দিষ্ট দেশের নাগরিকরা সাময়িকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার ও কাজ করার সুযোগ পান।
টিপিএসের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ওই নারী চাকরি হারিয়েছেন। তার হেলথ ইন্স্যুরেন্সও শিগগিরই শেষ হয়ে যাওয়ার কথা। অথচ তার গর্ভাবস্থা উচ্চঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় প্রতি সপ্তাহে চিকিৎসকের কাছে যেতে হচ্ছে। এখন চিকিৎসার খরচ কীভাবে বহন করবেন, তা নিয়ে গভীর দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তিনি।
তার সঙ্গী একজন মার্কিন নাগরিক। ফলে সন্তান যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নিলে শিশুটি মার্কিন নাগরিক হওয়ার যোগ্য হবে। কিন্তু সন্তানের জন্মের আগে তাকে বহিষ্কার করা হলে পরিবারটি কীভাবে একসঙ্গে থাকবে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
নিজের পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ওই নারী বলেন, জীবনের অধিকাংশ সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্রেই কাটিয়েছেন এবং এই দেশটিকেই নিজের ঘর হিসেবে মনে করেন।
টিপিএস শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফ্লোরিডার হাইতিয়ান অধ্যুষিত এলাকাগুলোতেও উদ্বেগ বেড়েছে। মিয়ামির লিটল হাইতিতে আগে যেখানে ব্যস্ততা দেখা যেত, এখন অনেক মানুষ প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হচ্ছেন না বলে সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
এদিকে হাইতির নিরাপত্তা পরিস্থিতিও এখনো অত্যন্ত নাজুক। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ১০ জুলাই দেশটির জন্য সর্বোচ্চ পর্যায়ের ‘লেভেল ৪: ডু নট ট্রাভেল’ সতর্কতা জারি করেছে। সেখানে অপরাধ, অপহরণ, সন্ত্রাস, অস্থিরতা এবং সীমিত স্বাস্থ্যসেবার ঝুঁকির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রে টিপিএস হারানোর পর দেশে ফেরার নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। আর সেই দ্বিমুখী অনিশ্চয়তার মধ্যেই ফ্লোরিডার এই অন্তঃসত্ত্বা নারী এখন প্রতিদিন কাটাচ্ছেন গ্রেপ্তার ও নির্বাসনের আতঙ্কে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreফ্লোরিডার পাম বিচ কাউন্টিতে এক কঠিন কর্মদিবসের মাঝখানে একটু শান্তিতে বসে দুপুরের খাবার খেতে চেয়েছিলেন দারা। তাই এমন এক বাড়ির দরজায় কড়া নাড়েন, যার মালিকের সঙ্গে তার আগে কখনো পরিচয় ছিল না। সেই ছোট্ট অনুরোধ আর অপরিচিত এক নারীর ‘হ্যাঁ’ থেকেই শুরু হয় এমন এক বন্ধুত্ব, যা পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাখো মানুষের নজর কাড়ে। দারা স্থানীয় একটি ওয়েন্ডিজে কাজ করেন। সেদিন কর্মস্থলে তার দিনটি ভালো যাচ্ছিল না। কিছু সময়ের জন্য কাজ থেকে দূরে গিয়ে একা বসে স্বস্তি নিতে চাচ্ছিলেন তিনি। বাড়ি পর্যন্ত হেঁটে যেতে ইচ্ছা না হওয়ায় একটি অপরিচিত বাড়ির সামনে গিয়ে দাঁড়ান। কিছুক্ষণ দ্বিধায় থাকার পর দরজায় বেল চাপেন দারা। রিং ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, তিনি পাশের ওয়েন্ডিজে কাজ করেন এবং বিরতিতে আছেন। বাড়ি পর্যন্ত হেঁটে যেতে না চাওয়ায় তিনি শুধু ওই বাড়ির সামনের বারান্দায় বসে নিজের দুপুরের খাবার খেতে পারবেন কি না, জানতে চান। বাড়িতে তখন কাজ করছিলেন অ্যাবিগেইল মওয়াঙ্গুলু। দরজা খুলে অপরিচিত এক নারীকে দেখে তার প্রথম ধারণা হয়েছিল, হয়তো ওয়েন্ডিজ থেকে খাবার পৌঁছে দিতে কেউ এসেছেন। বিষয়টি বুঝতে পারার পরও দারাকে ফিরিয়ে দেননি অ্যাবিগেইল। বরং নিজের জায়গায় দারাকে কল্পনা করে তিনি ভাবেন, তার নিজেরও যদি কোনো কঠিন দিন যায়, তাহলে তিনিও নিশ্চয়ই চাইবেন কেউ তার সঙ্গে একটু মানবিক আচরণ করুক। তাই তিনি দারাকে বারান্দায় বসার অনুমতি দেন। দারার কাছে অ্যাবিগেইলের সেই ছোট্ট ‘হ্যাঁ’ ছিল অনেক বড় বিষয়। তিনি জানান, খাবার খাওয়ার সময় আনন্দে তার কান্না চলে আসছিল। একজন সম্পূর্ণ অপরিচিত মানুষ তাকে একটু বসার জায়গা দিয়েছেন, বিষয়টি তাকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছিল। এরপর অ্যাবিগেইল ওই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকে প্রকাশ করেন। ভিডিওটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং একপর্যায়ে ১০ লাখের বেশি ভিউ পায়। মানুষের কৌতূহল তৈরি হয়, এরপর ওই দুই নারীর মধ্যে কী ঘটেছে তা জানার জন্য। অ্যাবিগেইলের নিজেরও একই কৌতূহল ছিল। তিনি দারার সঙ্গে সামনাসামনি দেখা করতে চেয়েছিলেন। পরদিন তিনি দারা যে ওয়েন্ডিজে কাজ করেন সেখানে চলে যান। তবে হঠাৎ করে অপরিচিত একজনের সঙ্গে দেখা করতে আসায় দারা কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে পড়েন। প্রথম কয়েক মিনিট অ্যাবিগেইলকে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করেন এবং নিজেকে ব্যস্ত রাখার কথা বলেন। শেষ পর্যন্ত দুজনের দেখা হয়। সেই সাক্ষাৎও বেশিক্ষণ অস্বস্তিকর থাকেনি। অচেনা দুই নারীর মধ্যে দ্রুতই তৈরি হয় স্বাভাবিক বোঝাপড়া। এরপর থেকে তাদের বন্ধুত্ব আরও গভীর হতে থাকে। তারা একসঙ্গে রাতের খাবার খেতে গেছেন, ওয়েস্ট পাম বিচে ঘুরেছেন, একসঙ্গে সময় কাটিয়েছেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জন্য ভিডিওও তৈরি শুরু করেছেন। দুজনেরই ভাষ্য, তাদের মধ্যে বন্ধুত্বটি খুব স্বাভাবিকভাবেই তৈরি হয়েছে। সামান্য বিষয়েও একসঙ্গে হাসাহাসি করা থেকে শুরু করে নিয়মিত দেখা করা, সবকিছুই যেন খুব দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে যায়। অ্যাবিগেইল বলেন, দারার একজন সম্পূর্ণ অপরিচিত মানুষের কাছে গিয়ে সাহায্য চাওয়ার সাহস তাকে নিজের সামাজিক ধারণাগুলো নিয়েও নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে। অনেক সময় মানুষ সামাজিক অস্বস্তি বা অপরিচিতদের সঙ্গে কথা বলার দ্বিধার কারণে একে অপরের কাছ থেকে দূরে থাকে। কিন্তু দারার সেই ছোট্ট পদক্ষেপ তাদের দুজনের জীবনেই একটি নতুন বন্ধুত্ব নিয়ে এসেছে। যে সম্পর্কের শুরু হয়েছিল একজন অপরিচিত মানুষের দরজায় কড়া নাড়া এবং বারান্দায় কয়েক মিনিট বসার অনুমতি চাওয়ার মধ্য দিয়ে, সেটিই এখন হয়ে উঠেছে দুই নারীর সুন্দর বন্ধুত্বের গল্প। আর সেই গল্পের প্রথম ভিডিওটি নেট দুনিয়ায় ১০ লাখের বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে যাওয়ায় তাদের অপ্রত্যাশিত পরিচয় এখন পরিণত হয়েছে ভাইরাল এক মানবিক ঘটনায়।
আমেরিকায় ৩০০ ডলারের মেডিসিন কিনুন ২০ ডলারে! বাংলাদেশিদের জন্য এই ৩ উপায়
ফ্লোরিডায় জীবনের অধিকাংশ সময় যুক্তরাষ্ট্রে কাটানো অন্তঃসত্ত্বা নারী নির্বাসনের আতঙ্কে
ভাসমান পেয়ারার হাটে মার্কিন রাষ্ট্রদূত, নৌকায় ঘুরে দেখলেন কৃষকদের ব্যস্ততা
যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) জানিয়েছে, আগস্টের শেষ নাগাদ মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারী তাদের সব অফিসার ও এজেন্টকে বডি ক্যামেরা দেওয়ার কাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। এতে অভিবাসন আইন প্রয়োগের অভিযানগুলো আগের চেয়ে বেশি ভিডিও নজরদারির আওতায় আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এসব ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিও সাধারণ মানুষ কতটা দেখতে পারবেন, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনের পর আইসিইর বডি ক্যামেরা নীতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, গুরুতর আহত হওয়া বা হেফাজতে মৃত্যুর মতো ঘটনায় ধারণ করা ফুটেজ প্রকাশের বিষয়ে আইসিইর নীতিতে সংস্থার নিজস্ব স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। ফলে গুরুত্বপূর্ণ কোনো ঘটনার ভিডিও সবসময় জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে কি না, তা নিয়ে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আইসিইর ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডেভিড জে. ভেনচুরেলা অবশ্য সংস্থাটির নীতির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, তদন্তে বাধা সৃষ্টি হতে পারে বা ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকলে ভিডিও প্রকাশে সীমাবদ্ধতা রাখা প্রয়োজন। তিনি বলেন, আইসিই স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ এবং আগস্টের শেষ নাগাদ সব ফিল্ড অফিসার ও এজেন্টকে বডি ক্যামেরার আওতায় আনার পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ এগোচ্ছে। আইসিইর ওপর নজরদারি আরও বেড়েছে সাম্প্রতিক কয়েকটি প্রাণঘাতী গুলির ঘটনার পর। জুলাইয়ে মেইনে ২৫ বছর বয়সী এক গাড়িচালক আইসিইর এক অফিসারের গুলিতে নিহত হন। এর কয়েক দিন আগে হিউস্টনে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে এক বাড়ি নির্মাণ ব্যবসায়ীও আইসিইর এক অফিসারের গুলিতে নিহত হন। দুই ঘটনাতেই অফিসারদের বডি ক্যামেরায় কোনো ভিডিও ধারণ করা হয়নি। আইসিইর নতুন বডি ক্যামেরা উদ্যোগের ফলে ভবিষ্যতে অভিবাসন অভিযান, গ্রেপ্তার এবং আইন প্রয়োগের বিভিন্ন পরিস্থিতির ভিডিও রেকর্ড তৈরি হবে। তবে গুরুতর ঘটনা ঘটলে সেই ভিডিও তদন্তের স্বার্থে কতদিন আটকে রাখা হবে এবং কোন পরিস্থিতিতে জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে, সেটিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠেছে। আইসিইর সহযোগী সংস্থা কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন বা সিবিপিও বডি ক্যামেরার ফুটেজ প্রকাশ নিয়ে একই ধরনের প্রশ্নের মুখে রয়েছে। জানুয়ারিতে মিনিয়াপোলিসে অ্যালেক্স প্রেট্টি নামে এক ব্যক্তির প্রাণঘাতী গুলির ঘটনার ভিডিও এখনো প্রকাশ করা হয়নি। সিবিপির কমিশনার রডনি স্কট আইনপ্রণেতাদের জানিয়েছিলেন, ঘটনাটি তদন্তাধীন এবং উপযুক্ত সময়ে ভিডিও প্রকাশ করা হবে।
কোনো লক্ষণই ছিল না, তবু স্বপ্নে দেখেছিলেন ব্রেন টিউমার! পরদিনই পরীক্ষায় ধরা পড়ল সত্যি টিউমার
দাবানলে আগুন নিয়ন্ত্রণে হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, নিহত দুই পাইলট
যুক্তরাষ্ট্রের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাবেনা যারা
যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি হারানো এইচ-১বি ভিসাধারীদের নতুন চাকরি খোঁজার জন্য বর্তমানে যে সর্বোচ্চ ৬০ দিনের সময়সীমা রয়েছে, তা বাতিলের প্রস্তাব বিবেচনা করছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। প্রস্তাবটি চূড়ান্ত হলে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের দক্ষ কর্মীদের চাকরি হারানোর পর যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করা এবং নতুন চাকরিতে যাওয়ার সুযোগ কঠিন হয়ে পড়তে পারে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ এই পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে। প্রস্তাবটি বর্তমানে হোয়াইট হাউসের অফিস অব ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড বাজেটের পর্যালোচনায় রয়েছে। তবে এটি এখনো চূড়ান্ত নিয়মে পরিণত হয়নি। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট শ্রেণির বিদেশি কর্মী চাকরি হারালে সর্বোচ্চ ৬০ দিন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে থেকে নতুন চাকরি খোঁজার সুযোগ পান। এই সময়ের মধ্যে তারা নতুন নিয়োগকর্তার মাধ্যমে ভিসার ব্যবস্থা করার পাশাপাশি প্রয়োজনে অন্য বৈধ ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাসে যাওয়ার উদ্যোগ নিতে পারেন। তবে অনুমোদিত ভিসার মেয়াদ ৬০ দিনের আগেই শেষ হলে, সেই সময়সীমাই প্রযোজ্য হয়। প্রস্তাবিত পরিবর্তন কার্যকর হলে চাকরি হারানোর পর এই গ্রেস পিরিয়ড আর নাও থাকতে পারে। সে ক্ষেত্রে নতুন চাকরি বা অন্য কোনো বৈধ ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাসের ব্যবস্থা না থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্মীকে দ্রুত যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার পরিস্থিতিতে পড়তে হতে পারে। এই পরিবর্তনের প্রভাব শুধু এইচ-১বি ভিসাধারীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে। বর্তমানে ই-১, ই-২, ই-৩, এইচ-১বি, এইচ-১বি১, এল-১, ও-১ এবং টি-এনসহ কয়েকটি কর্মভিত্তিক ভিসা শ্রেণির নির্দিষ্ট কর্মী ও তাদের নির্ভরশীলরা একই ধরনের গ্রেস পিরিয়ডের সুবিধা পান। চাকরি হারানোর পর বিদেশি দক্ষ কর্মীদের নতুন চাকরি খোঁজার সুযোগ দিতে ২০১৭ সালে ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড চালু করা হয়। এর ফলে কোনো কর্মী চাকরি হারালে সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে না হয়ে নতুন নিয়োগকর্তা খোঁজা বা ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস পরিবর্তনের জন্য কিছুটা সময় পান। যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত বাংলাদেশি এইচ-১বি ভিসাধারীদের জন্য প্রস্তাবিত পরিবর্তনটি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। বিশেষ করে চাকরি পরিবর্তন বা নতুন চাকরির ওপর নির্ভরশীল কর্মীদের ক্ষেত্রে এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে এখনই ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড বাতিল হয়ে গেছে এমনটি বলা যাবে না। প্রস্তাবটি এখনো পর্যালোচনাধীন এবং চূড়ান্ত নিয়মে পরিণত হতে আরও কয়েকটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। নতুন নিয়ম চূড়ান্তভাবে কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান নিয়মই বহাল থাকবে।
ঘুম থেকে উঠে দেখেন ছেলে পাশে নেই, পুকুরে ভেসে উঠলো ছেলের মরদেহ
যুক্তরাষ্ট্রে যে ১০ ভুলে জন্য বাংলাদেশীদের বড় অঙ্কের জরিমানা হতে পারে