হাসপাতালে কান্ট্রি সংগীত তারকা ক্লিন্ট ব্ল্যাক, অসুস্থতায় বাতিল নির্ধারিত কনসার্ট
যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় কান্ট্রি সংগীতশিল্পী ক্লিন্ট ব্ল্যাক আকস্মিক শারীরিক অসুস্থতার কারণে তাঁর নির্ধারিত কনসার্ট বাতিল করেছেন। শিল্পীর ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে, গলায় গুরুতর টনসিল সংক্রমণ ধরা পড়ার পর তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং দ্রুত শিরায় অ্যান্টিবায়োটিক চিকিৎসা শুরু করা হয়েছে।
আগামী ৩ জুলাই মিসিসিপির পার্ল রিভার রিসোর্ট ক্যাসিনোতে তাঁর পরিবেশনার কথা ছিল। তবে চিকিৎসকদের পরামর্শে অনুষ্ঠানটি বাতিল করা হয়েছে। আয়োজকরা জানিয়েছেন, যেসব দর্শক আগেই টিকিট কিনেছেন, তাঁদের সম্পূর্ণ অর্থ ফেরত দেওয়া হবে।
শিল্পীর প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তাঁর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে এবং চিকিৎসকেরা পূর্ণ সুস্থতার ব্যাপারে আশাবাদী। চলতি সপ্তাহের মধ্যেই তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
বর্তমানে ক্লিন্ট ব্ল্যাক তাঁর সংগীত সফরের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে কনসার্ট করছেন। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সুস্থ হলে আগামী ৯ জুলাই নেভাডা অঙ্গরাজ্যে তাঁর পরবর্তী পরিবেশনায় অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
কনসার্ট বাতিলের খবর প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভক্তদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অনেকেই তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনা করে শুভকামনা জানিয়েছেন। ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষও ভক্তদের ধৈর্য ও সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে এবং এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreটেক্সাসের সরকারি স্কুলে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে অভিবাসী হিসেবে নথিভুক্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় ১৪ হাজার ২৭৯ জন কমেছে। অঙ্গরাজ্যের শিক্ষা বিভাগের প্রকাশিত হিসাবে, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে এ সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৯৩ হাজার ৮৩১; পরের বছর তা নেমেছে ১ লাখ ৭৯ হাজার ৫৫২ জনে। ৩০ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত দ্য টেক্সাস ট্রিবিউনের প্রতিবেদনটি কেডব্লিউটিএক্সও প্রকাশ করেছে। অভিবাসন আইন প্রয়োগ জোরদারের সময়েই এই পতন ঘটেছে। অস্টিন ও হিউস্টনের স্কুল কর্মকর্তারা বলছেন, গ্রেপ্তার বা ফেরত পাঠানো নিয়ে পরিবারের উদ্বেগ শিক্ষার্থীদের স্কুলে যাওয়া ও ভর্তি থাকার ওপর প্রভাব ফেলছে। তবে রাজ্যের হিসাব থেকে শিক্ষার্থী কমার একটি নির্দিষ্ট কারণ প্রমাণ করা যায় না। হিসাবটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, এখানে ‘অভিবাসী’ শব্দটি আইনি মর্যাদা বোঝায় না। শিক্ষা বিভাগের সংজ্ঞায় ৩ থেকে ২১ বছর বয়সী, যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে জন্ম নেওয়া এবং দেশটির স্কুলে তিন পূর্ণ শিক্ষাবর্ষের বেশি পড়েনি - এমন শিক্ষার্থী এই শ্রেণিতে পড়ে। স্কুলগুলো শিক্ষার্থীর নাগরিকত্ব বা অভিবাসন মর্যাদা জানতে চায় না। ফলে দীর্ঘদিন ধরে টেক্সাসে স্কুলে পড়ছে এমন বিদেশে জন্ম নেওয়া শিশুও এই নির্দিষ্ট হিসাবের বাইরে থাকতে পারে। বড় শহরগুলোর কয়েকটি স্কুল জেলায় পতন বেশি। টেক্সাস ট্রিবিউনের হিসাবে, হিউস্টন স্কুল জেলায় এক বছরে অভিবাসী হিসেবে নথিভুক্ত শিক্ষার্থী কমেছে ২২ শতাংশ। কম ভর্তির কথা জানিয়ে নতুন আসা বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য পরিচালিত লাস আমেরিকাস স্কুল বন্ধের সিদ্ধান্তও নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে অঙ্গরাজ্যের সব জায়গায় একই চিত্র নয় - সান আন্তোনিওর নর্থসাইড স্কুল জেলায় এই শ্রেণির শিক্ষার্থী বেড়েছে ৯ শতাংশ। অভিবাসী পরিবারগুলোর সঙ্গে কাজ করা সংগঠন ইমস্কুলসের কর্মকর্তা এসমেরালদা আলদে ট্রিবিউনকে বলেছেন, কিছু পরিবার সন্তানকে স্কুলে পাঠাতে ভয় পাচ্ছে; কারও মা-বাবা আটক হওয়ায় বড় সন্তানকে কাজেও নামতে হচ্ছে। অন্যদিকে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের বক্তব্য, আইসিই স্কুলকে লক্ষ্য করে অভিযান চালায় না। পরিবারের অভিজ্ঞতা ও সরকারের বক্তব্য দুটিই প্রতিবেদনে এসেছে; রাজ্যজুড়ে শিক্ষার্থী কমার প্রত্যেকটি ঘটনার ব্যাখ্যা কোনো পক্ষই দেয় না। শিক্ষার্থী কমার প্রভাব শ্রেণিকক্ষের বাইরেও যায়। টেক্সাসে স্কুলের সরকারি অর্থায়নের বড় অংশ শিক্ষার্থীদের গড় উপস্থিতির সঙ্গে যুক্ত। ফলে উপস্থিতি ও ভর্তি কমলে স্কুল জেলার বরাদ্দে চাপ পড়তে পারে। রাজ্যের শিক্ষা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে সব শিক্ষার্থী মিলিয়ে টেক্সাসের সরকারি স্কুলে আগের বছরের চেয়ে ৭৬ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী কম ছিল। এই মোট সংখ্যা এবং অভিবাসী শিক্ষার্থীর সংখ্যা দুটি আলাদা হিসাব। যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা বিভাগের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, শিক্ষার্থী বা তার মা-বাবার অভিবাসন মর্যাদা যা-ই হোক, সেই কারণে কোনো শিশুকে সরকারি প্রাথমিক বা মাধ্যমিক স্কুলে ভর্তি থেকে বাদ দেওয়া যায় না।
যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষিকার বিরুদ্ধে টাকার বিনিময়ে বাড়তি নম্বরের অভিযোগ, এ যেন বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি
যুক্তরাষ্ট্রে ‘পাজিট’-এর পর ভারতীয় নারীদের নিশানা করে নতুন বর্ণবাদী গালি ‘ল্যাট্রিনাস’
টেনেসিতে দুই দফা প্রাণঘাতী ইনজেকশনেও মৃত্যু না হওয়ায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত
যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের বেঞ্জামিন ফ্র্যাঙ্কলিন হাইস্কুলে চারতলা ভবন থেকে পড়ে এক শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। গত বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে হাইল্যান্ড পার্ক এলাকায় অবস্থিত স্কুলটিতে এই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পরপরই পুরো স্কুল ক্যাম্পাস অবরুদ্ধ (লকডাউন) করে দেওয়া হয় এবং পুলিশ এর পেছনের কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে। লস অ্যাঞ্জেলেস সিটি ফায়ার ডিপার্টমেন্ট জানায়, স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ৫৯ মিনিটে ওপর থেকে এক ছাত্রের পড়ে যাওয়ার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। গুরুতর আহত অবস্থায় ওই কিশোরকে দ্রুত স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ ডিপার্টমেন্ট (এলএপিডি) সংবাদমাধ্যম ‘পিপল’-কে দেওয়া এক বিবৃতিতে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এবিসি৭-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, শিক্ষার্থীটি যেখানে পড়েছিল সেখানে একটি শামিয়ানা টাঙিয়ে দেওয়া হয়। আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর সবুজ সংকেত পাওয়ার আগে প্রায় তিন ঘণ্টা ক্যাম্পাস পুরোপুরি লকডাউন ছিল। নিহত শিক্ষার্থীর নাম, বয়স বা ঠিক কীভাবে সে নিচে পড়ে গেল—এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষ এখনও বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। এলএপিডি জানিয়েছে, ঘটনাটিকে আপাতত ‘মৃত্যুর ঘটনা’ হিসেবে রেকর্ড করে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তবে ফক্স ১১ লস অ্যাঞ্জেলেসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রত্যক্ষদর্শীরা দাবি করেছেন, অন্য এক ছাত্রের সঙ্গে হাতাহাতির পরই ওই কিশোর ওপর থেকে পড়ে যায়। ফক্স ১১-এর হাতে আসা একটি ভিডিওতেও দেখা গেছে, দুই ছাত্রের মধ্যে মারামারি হচ্ছে এবং এক পর্যায়ে একজনকে করিডর দিয়ে তাড়া করা হলে সে রেলিং টপকে নিচে পড়ে যায়। যদিও এনবিসি৪-এর খবরে বলা হয়েছে, পুলিশ এখন পর্যন্ত এই ঘটনায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কোনো অপরাধের প্রমাণ পায়নি। নিহত ওই কিশোর ক্লাসের সবচেয়ে শান্ত স্বভাবের ছিল এবং খুব একটা কথা বলত না বলে জানিয়েছে তার এক সহপাঠী। চোখের সামনে এমন মর্মান্তিক মৃত্যু দেখে স্কুলের অন্যান্য শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। বুধবার বিকেলে স্কুলগেটের বাইরে নিহত শিক্ষার্থীর স্মরণে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর একটি জায়গা তৈরি করা হয়। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) থেকে স্কুলটিতে স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু হবে এবং শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তার জন্য সেখানে শোক কাউন্সেলরদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেস সিটি ফায়ার ডিপার্টমেন্ট ও স্কুল পুলিশ ডিপার্টমেন্ট যৌথভাবে এই ঘটনার নিবিড় তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রে ৫ পরিবারের হাতে বিশ্বের পরিচিত সব ব্র্যান্ড, সম্পদের পরিমাণ শুনলে অবাক হবেন
ফ্রান্স থেকে ফ্লোরিডায় এসে ১০ বছরেও পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে পারছেন না নারী
টেক্সাসে কোমায় থাকা অবস্থায় সন্তানের জন্ম, ১৪ বছরের লড়াই শেষে মায়ের মৃত্যু
যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ব্যয়বহুল শহর হিসেবে পরিচিত সান ফ্রান্সিসকো। যেখানে সাধারণ একটি রেস্তোরাঁয় দুপুরের খাবার খেতেই মোটা অঙ্কের অর্থ গুনতে হয়, সেখানে ১০ ডলারের নিচে সুস্বাদু ও ভরপেট খাবার পাওয়া এক প্রকার অবিশ্বাস্য ব্যাপার। তবে সেই অসম্ভবকেই সম্ভব করে রীতিমতো তাক লাগিয়ে দিয়েছে শহরটির চায়নাটাউনে অবস্থিত ‘রাইস রোল এক্সপ্রেস’ নামের একটি সাধারণ খাবারের দোকান। মাত্র ৯ দশমিক ২১ ডলারে তাদের তৈরি বিশেষ ভাপা চালের নুডল রোল—যা ‘চেউং ফান’ নামে পরিচিত—খেতে শহরবাসীর আগ্রহের শেষ নেই। উদ্বোধনের দুই বছর পেরিয়ে গেলেও প্রতিদিন দুপুরের খাবারের সময় দোকানটির বাইরে ভোজনরসিকদের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। দোকানটির প্রধান আকর্ষণ তাদের সিগনেচার পদ ‘রাইস রোল এক্সপ্রেস স্পেশাল’। এতে পাতলা ভাপে সেদ্ধ চালের নুডলসের ভেতর স্তরে স্তরে সাজিয়ে দেওয়া হয় গরুর মাংস, শুকরের মাংস, বারবিকিউ পর্ক এবং ডিম; যার মূল্য মাত্র ৯ দশমিক ২১ ডলার। এছাড়া তাজা চিংড়ি, শুকনো চিংড়ি ও পেঁয়াজকলি দিয়ে তৈরি আরেকটি জনপ্রিয় পদ ‘শ্রিম্প ফিস্ট’-এর দাম রাখা হয়েছে ১০ দশমিক ৭৮ ডলার। স্থানীয় রেস্তোরাঁগুলোর বাজারদর বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান ‘মার্কেট পালস’-এর তথ্য অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বরে সান ফ্রান্সিসকোর রেস্তোরাঁগুলোতে একেকটি খাবারের গড় মূল্য ছিল ২৫ দশমিক ৫১ ডলার। সেই তুলনায় রাইস রোল এক্সপ্রেসের বিশেষ খাবারের দাম অর্ধেকেরও কম। ফলে সাশ্রয়ী মূল্যে দারুণ স্বাদের খাবার পেতে প্রায় ২৫ মিনিট লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও ভেতরে একটু বসার জায়গার জন্য অপেক্ষা করতে ক্রেতারা বিন্দুমাত্র দ্বিধা করছেন না। সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোড়ন তোলা এই খাবারের জনপ্রিয়তায় শামিল হয়েছেন স্বয়ং সান ফ্রান্সিসকোর মেয়র ড্যানিয়েল লুরিয়ে। সম্প্রতি ফেসবুকে এক পোস্টে তিনি জানান, রাইস রোল এক্সপ্রেসের খ্যাতি শুনে তিনি নিজে গিয়ে বারবিকিউ পর্ক রাইস রোল খেয়েছেন এবং এর সঙ্গে দেওয়া বিশেষ মরিচ তেল ও মিষ্টি সয়া সসের স্বাদের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। কোনো কৃত্রিম বিপণন নয়, বরং দোকানের মালিক টম ঝেনের নিখাদ পরিশ্রম ও ঐতিহ্যবাহী রন্ধনপ্রণালীই এই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। তথ্যপ্রযুক্তি খাতের নিশ্চিত ক্যারিয়ার ছেড়ে ২৯ বছর বয়সে পারিবারিক ঐতিহ্যে ফিরে এসে সান ফ্রান্সিসকোতে এই রেস্তোরাঁ খোলেন তিনি। প্রতিদিন রাতে ভিজিয়ে রাখা চাল সকালে পিষে ভাপ দিয়ে অত্যন্ত যত্নসহকারে এই নরম নুডলস তৈরি করা হয়। পরিবেশনের পর ক্রেতারা দোকানের নিজস্ব ‘ডিআইওয়াই’ সস কাউন্টার থেকে নিজেদের পছন্দমতো ঘরে তৈরি চিলি অয়েল, মিষ্টি সয়া সস, ভিনেগার কিংবা সিরাচা সস মিশিয়ে উপভোগ করেন। টিকটক ও ইনস্টাগ্রামে ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই ১১৩১ স্টকটন স্ট্রিটে অবস্থিত এই দোকানটিতে ভোজনরসিকদের ভিড় বেড়েই চলেছে। উল্লেখ্য, এই দোকানে কোনো ধরনের ব্যাংক কার্ড নেওয়া হয় না; তবে নগদ অর্থের পাশাপাশি ডিজিটাল মাধ্যমে অর্থ পরিশোধের সুযোগ রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের গ্রীনকার্ড পেতে ভুয়া ডাকাতির নাটক, ভারতীয় কর্মী ফেরত, জেলে যাওয়ার অপেক্ষায় দোকানমালিক
মানিব্যাগে ৩০০ ডলার পেয়েও ফেরত দিল কিশোর, উপহার পেল স্বপ্নের সাইকেল