সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

টেসলার গাড়ি বিক্রি লাফিয়ে বেড়েছে, তিন মাসে গ্রাহকের হাতে পৌঁছেছে প্রায় ৫ লাখ গাড়ি

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৪, ২০২৬ ৯:৫৫
২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি অর্জন করা বিশ্বের শীর্ষ বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলা | ছবি: সংগৃহীত
২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি অর্জন করা বিশ্বের শীর্ষ বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলা | ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বের অন্যতম বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা টেসলা ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) বিক্রিতে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। এই তিন মাসে কোম্পানিটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গ্রাহকদের কাছে প্রায় ৫ লাখ গাড়ি সরবরাহ করেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ বেশি। শক্তিশালী এই ফলাফলকে টেসলার সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় প্রত্যাবর্তন হিসেবে দেখছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

 

কোম্পানির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত টেসলা মোট ৪ লাখ ৮০ হাজার ১২৬টি গাড়ি গ্রাহকদের কাছে সরবরাহ করেছে। ২০২৫ সালের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ৮৪ হাজার ১২২টি। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে প্রায় ৯৬ হাজার বেশি গাড়ি সরবরাহ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

 

একই সময়ে টেসলা উৎপাদন করেছে ৪ লাখ ৫১ হাজার ৭৫৮টি গাড়ি। বৈদ্যুতিক গাড়ি শিল্পে ডেলিভারির সংখ্যাকেই বিক্রয়ের প্রধান সূচক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আর এ দিক থেকে দ্বিতীয় প্রান্তিকের ফলাফল বাজারের পূর্বাভাসকেও ছাড়িয়ে গেছে।

 

বিশ্লেষকদের মতে, টেসলার বিক্রি বাড়ার পেছনে একাধিক কারণ কাজ করেছে। ইউরোপে বৈদ্যুতিক গাড়ির চাহিদা পুনরুদ্ধার, চীনের বাজারে ধারাবাহিক বিক্রি বৃদ্ধি, নতুন সংস্করণের মডেল ওয়াইয়ের জনপ্রিয়তা এবং বিভিন্ন দেশে বৈদ্যুতিক গাড়ির জন্য সরকারি প্রণোদনা কোম্পানিটির বিক্রি বাড়াতে সহায়ক হয়েছে। একই সঙ্গে কিছু অঞ্চলে জ্বালানির উচ্চ মূল্যও অনেক ক্রেতাকে বৈদ্যুতিক গাড়ির দিকে ঝুঁকতে উৎসাহিত করেছে।

 

চীনের বাজারেও টেসলার ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। জুন মাসে সাংহাই কারখানায় তৈরি টেসলার গাড়ির বিক্রি ও রপ্তানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে, যা কোম্পানির বৈশ্বিক বিক্রিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে।

 

তবে শক্তিশালী ডেলিভারি প্রতিবেদন প্রকাশের পরও শেয়ারবাজারে টেসলার শেয়ারদরে কিছুটা চাপ দেখা গেছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ভালো ফলাফলের প্রত্যাশা আগেই শেয়ারের দামে প্রতিফলিত হয়েছিল। এখন বিনিয়োগকারীদের নজর কোম্পানির আসন্ন আর্থিক প্রতিবেদন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তি, স্বয়ংচালিত সফটওয়্যার এবং রোবোট্যাক্সি প্রকল্পের অগ্রগতির দিকে।

 

আগামী ২২ জুলাই টেসলা তাদের দ্বিতীয় প্রান্তিকের পূর্ণাঙ্গ আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করবে। তখন কোম্পানির আয়, মুনাফা এবং বছরের বাকি সময়ের ব্যবসায়িক পরিকল্পনা সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পের ডিপোর্টেশন নীতির জেরে বাবা-মা থেকে বিচ্ছিন্ন হাজারো শিশু, বড় হচ্ছে অন্যের হাতে
যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পের ডিপোর্টেশন নীতির জেরে বাবা-মা থেকে বিচ্ছিন্ন হাজারো শিশু, বড় হচ্ছে অন্যের হাতে

যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামা অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দা ৫০ বছর বয়সী এস্তেলা দিয়াজের সকাল শুরু হয় দুই বছর বয়সী শিশু ইবারের ডাকে। ইবার এস্তেলার নিজের সন্তান নয়। শিশুটির মা-বাবাকে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) ভেনেজুয়েলায় বিতাড়িত করার পর থেকে বাধ্য হয়ে তাকে নিজের কাছে রেখে লালনপালন করছেন এস্তেলা।   শিশুটির মা মার্লিনকে যখন আটক করা হয়, তখন তিনি তার সন্তানের সঙ্গে পুনরায় মিলিত হওয়ার আকুতি জানিয়েছিলেন, কিন্তু মার্কিন প্রশাসন সেই অনুরোধ রাখেনি। এটি কেবল একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তড়িঘড়ি করে অভিবাসী বিতাড়ন কর্মসূচি যুক্তরাষ্ট্রে এমন এক নতুন পারিবারিক বিচ্ছিন্নতা ও অমানবিক সংকটের জন্ম দিচ্ছে।   ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে মূলত সীমান্ত অতিক্রমের সময় শিশুদের বাবা-মায়ের কাছ থেকে আলাদা করা হতো। তবে বর্তমান প্রশাসনের অধীনে খোদ যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে বসবাসরত পরিবারগুলোকেও দেশ থেকে তাড়ানোর অংশ হিসেবে বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে।   ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের তথ্যমতে, সম্প্রতি প্রায় ২ লাখ ৫ হাজার শিশু এই ভয়াবহ পরিস্থিতির শিকার হয়েছে, যাদের ৭১ শতাংশই জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিক। এর মধ্যে ৩৫ হাজারের বেশি শিশুর অবস্থা ইবারের মতো, যাদের কাছে বর্তমানে বাবা বা মায়ের কেউই নেই।   কেবল সংখ্যা পূরণের নির্মম এক প্রতিযোগিতার কারণে এই শিশুদের তাদের অপরিচিত কিংবা অস্থায়ী অভিভাবকদের কাছে রেখে বাবা-মায়েদের জোরপূর্বক নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে।   ইবারের মা মার্লিনকে মুদি দোকানে যাওয়ার পথে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়াই আটক করেছিল পুলিশ এবং পরে আইসিই-এর হাতে তুলে দেওয়া হয়। অথচ তার কাছে কাজের অনুমতিপত্র ও আশ্রয়ের আবেদন ছিল। আটক অবস্থায় তিনি কর্মকর্তাদের কাছে বারবার আকুতি জানিয়েছিলেন যেন তাকে তার দুই সন্তানের সঙ্গে দেশে ফেরত পাঠানো হয়।   কিন্তু টানা তিন মাস বন্দি রাখার পর তাকে একাই ভেনেজুয়েলায় ফেরত পাঠানো হয়। এদিকে ইবার এবং তার সাত বছর বয়সী বড় ভাই আইজ্যাককে পরিচিতদের কাছে চরম দুর্দশার মধ্যে দিন কাটাতে হয়। শেষ পর্যন্ত কোনো উপায় না পেয়ে এস্তেলা নামের ওই মার্কিন নাগরিকের কাছে তাদের আশ্রয় মেলে।   অভিবাসন আইন ও পারিবারিক আইনের এই জটিল ফাঁদে পড়ে শত শত পরিবার আজ দিশেহারা। আইনি সহায়তার অভাবে বাবা-মায়েরা তাদের সন্তানদের ফিরে পাওয়ার লড়াইয়ে হেরে যাচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে শিশুরা অযোগ্য বা ঝুঁকিপূর্ণ অভিভাবকদের হাতে পড়ছে, যা তাদের দীর্ঘমেয়াদী মানসিক আঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।   ইবারের মতো মার্কিন নাগরিক শিশুদের ক্ষেত্রে ভিসা বা পাসপোর্ট করে অন্য দেশে বাবা-মায়ের কাছে পাঠানো আরও বেশি সময়সাপেক্ষ ও জটিল প্রক্রিয়া। ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে এক চরম অনিশ্চয়তা ও ভয়াবহ মানসিক ট্রমার মধ্যে দিয়ে বড় হতে বাধ্য হচ্ছে বাবা-মা হারানো এই হাজারো অবুঝ শিশু।

প্রকাশ: অক্টোবর ৪, ২০২৬ ১৯:০
ক্যারোলিনের পদত্যাগের পর হোয়াইট হাউসের উপ-প্রেসসচিব হলেন বেনি হারমনি

ক্যারোলিনের পদত্যাগের পর হোয়াইট হাউসের উপ-প্রেসসচিব হলেন বেনি হারমনি

নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে মেট্রো-নর্থ স্টেশনের পাশে ১ বিলিয়ন ডলারের আবাসন প্রকল্প, বিক্রির অপেক্ষায় জমি

নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে মেট্রো-নর্থ স্টেশনের পাশে ১ বিলিয়ন ডলারের আবাসন প্রকল্প, বিক্রির অপেক্ষায় জমি

বাংলাদেশি আইটি ইঞ্জিনিয়ার শাহ মো. আরদি

নিউইয়র্কে ম র্মান্তিক সড়ক দু র্ঘটনায় প্রাণ গেল ২৪ বছরের বাংলাদেশি আইটি ইঞ্জিনিয়ার শাহ মো. আরদির

নিউইয়র্কের ব্যয়বহুল জীবন ছেড়ে ইতালিতে ১৩ হাজার ডলারে বাড়ি, নতুন ঠিকানায় মার্কিন দম্পতি
নিউইয়র্কের ব্যয়বহুল জীবন ছেড়ে ইতালিতে ১৩ হাজার ডলারে বাড়ি, নতুন ঠিকানায় মার্কিন দম্পতি

সাফল্যের মাপকাঠি বলতে বড় বাড়ি, নতুন গাড়ি আর ব্যস্ত শিডিউল—যুক্তরাষ্ট্রে বড় হওয়া অনেকের মতোই এমন ধারণার মধ্যেই বেড়ে উঠেছিলেন মার্কিন দম্পতি অ্যালেক্স নিনম্যান ও তাঁর স্ত্রী। কিন্তু একটা সময় গিয়ে তাঁরা উপলব্ধি করেন, এসবের কোনোটিই আসলে তাঁদের সুখী করছে না।   তাই যান্ত্রিক জীবনের ক্লান্তি থেকে মুক্তি পেতে ২০১৯ সালে নিউইয়র্ক শহর ছেড়ে ইউরোপে পাড়ি জমান তাঁরা। এরপর ২০২০ সালে চেক প্রজাতন্ত্রে থাকার সময় কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। বর্তমানে তাঁরা ইতালির আব্রুজ্জো অঞ্চলের একটি ছোট গ্রামে বসবাস করছেন, যা রাজধানী রোম থেকে প্রায় তিন ঘণ্টার দূরত্বে অবস্থিত। নিউইয়র্কের মতো ব্যয়বহুল শহর ছেড়ে ইতালির এই অপরিচিত গ্রামে মাত্র ১৩ হাজার ১০০ ডলারে বাড়ি কিনে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক জীবনধারার সূচনা করেছেন এই দম্পতি।   ইতালির এই ছোট গ্রামে বসবাস করার সুবাদে যুক্তরাষ্ট্রের মতো গৃহঋণের বিশাল আর্থিক বোঝা কাঁধে নিতে হয়নি তাঁদের। নগদ মাত্র ১১ হাজার ৫০০ ইউরো বা প্রায় ১৩ হাজার ১০০ ডলারের বিনিময়ে ১০৭৬ বর্গফুটের দোতলা একটি বাড়ি কিনেছেন তাঁরা। বাড়িটির বেজমেন্ট ও চিলেকোঠায় রয়েছে আরও দুটি ঘর।   বাড়িটি সংস্কারের পেছনে পরবর্তীতে আরও প্রায় ১৭ হাজার ১০০ ডলার ব্যয় করেছেন এই দম্পতি। তাঁরা জানিয়েছেন, কেবল আর্থিক সুবিধার জন্যই নয়, বরং একটি নিবিড় সামাজিক বন্ধন ও সম্প্রদায়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ হওয়ার আকাঙ্ক্ষা থেকেই তাঁরা এখানে স্থায়ী হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।   ইতালিতে খাবার, শিশুদের লালনপালনসহ দৈনন্দিন অন্যান্য খরচ যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় অনেকটাই কম। জীবনযাত্রার এই স্বল্প ব্যয়ের কারণে বেশি আয়ের পেছনে ছোটার চাপ কমেছে তাঁদের। প্রথমদিকে দূরনিয়ন্ত্রিত পদ্ধতিতে নিউইয়র্কের টেক স্টার্টআপের চাকরিটি চালিয়ে গেলেও, গুছিয়ে ওঠার পর সেটি ছেড়ে দেন স্ত্রী।   বর্তমানে তিনি একটি ইতালিয়ান ট্রাভেল কোম্পানির মার্কেটিংয়ের কাজ ও কন্টেন্ট তৈরি করছেন। সেখানে আয় কিছুটা কম হলেও কাজের দারুণ স্বাধীনতা রয়েছে। ফলে পাঁচ বছর বয়সী মেয়ের সঙ্গে নিশ্চিন্তে সময় কাটানোর পাশাপাশি নতুন নতুন জায়গা ঘুরে দেখার সুযোগ পাচ্ছেন তাঁরা।   যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় ইতালির এই গ্রামের সামাজিক বন্ধনও বেশ দৃঢ়। এখানে প্রতিবেশীরা রাস্তায় দাঁড়িয়ে গল্প করেন, হঠাৎ করেই খোঁজখবর নিতে বাড়িতে চলে আসেন, যাকে কেউ অনুপ্রবেশ বা বিরক্তি হিসেবে দেখে না। গ্রীষ্মের ছুটিতে এখানকার সমাজজীবনের আসল রূপ ফুটে ওঠে।   রাতের খাবারের পর পরিবারের সবাই পিয়াজ্জায় (জনসমাগমের জায়গা) জড়ো হয়, আর বাচ্চারা নিরাপদে সারা গ্রামজুড়ে খেলাধুলা করে। রাত ১১টা-১২টা পর্যন্ত বাচ্চাদের বাইরে থাকাটা এখানে খুবই স্বাভাবিক। তাঁদের মেয়ে এরই মধ্যে ইংরেজি, চেক এবং ইতালীয় ভাষার পাশাপাশি স্থানীয় উপভাষাও শিখতে শুরু করেছে, যা তাকে স্থানীয় সংস্কৃতিরই একটি অংশে পরিণত করছে।   অবশ্য ইতালির এই জীবনও পুরোপুরি নিখুঁত নয়। যুক্তরাষ্ট্রে থাকা পরিবার ও বন্ধুদের শূন্যতা তাঁরা প্রতিনিয়ত অনুভব করেন। এছাড়া ইতালির মন্থর গতির আমলাতান্ত্রিক জটিলতাও কখনো কখনো হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়ায়; যেমন, বাড়িতে ইন্টারনেট সংযোগ নিতে গিয়েও স্বাস্থ্যবিমার কার্ডের কপি জমা দিতে হয়েছে তাঁদের!   তা সত্ত্বেও, এই দম্পতির মতে তাঁরা এমন কিছু অর্জন করেছেন যা হয়তো অর্থের অঙ্কে পরিমাপ করা কঠিন। এখন তাঁদের দৈনন্দিন জীবন বস্তুগত অর্জনের চেয়ে পারস্পরিক সম্পর্ক ও আনন্দের ওপর অনেক বেশি নির্ভরশীল। আব্রুজ্জোর এই ছোট গ্রামটিতে তাঁরা কেবল একটি বাড়িই কেনেননি, বরং নিজেদের এবং সন্তানের জন্য খুঁজে পেয়েছেন এক অমূল্য শান্তির নীড়।

প্রকাশ: অক্টোবর ৪, ২০২৬ ১৫:১১
যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিনে বৃহত্তম মসজিদের ফিলিস্তিনি-আমেরিকান ইমামকে দেশত্যাগের নির্দেশ

যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিনে বৃহত্তম মসজিদের ফিলিস্তিনি-আমেরিকান ইমামকে দেশত্যাগের নির্দেশ

যুক্তরাষ্ট্রে চার বছরের ডিগ্রি ছাড়াও ভালো আয় ও স্থায়ী পেশাজীবন গড়ার সুযোগ রয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

কলেজে না পড়েও যুক্তরাষ্ট্রে বছরে ২ লাখ ডলার আয়, খুলছে নতুন ক্যারিয়ার পথ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ে নতুন বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

এআই আধিপত্য ধরে রাখতে ট্রাম্পের বড় পদক্ষেপ, গঠিত হলো ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স ফোর্স’

ভার্জিনিয়ার আলেকজান্দ্রিয়ায় মঞ্চস্থ হতে যাচ্ছে মামুনুর রশীদের নাটক ‘অমানুষ’। ছবি: সংগৃহীত
ভার্জিনিয়ায় আজ মঞ্চস্থ হচ্ছে ‘অমানুষ’, জান্নাতুল টুম্পার নির্দেশনায় প্রথমবার তমালিকা ও সাঈদ বাবু

ভার্জিনিয়ার আলেকজান্দ্রিয়ায় আজ, রোববার ৪ অক্টোবর, মঞ্চস্থ হতে যাচ্ছে নাট্যকার মামুনুর রশীদের রচনা ‘অমানুষ’। সূচনা থিয়েটারের প্রযোজনায় নাটকটির নির্দেশনায় রয়েছেন জান্নাতুল টুম্পা। এই প্রদর্শনীতে প্রথমবারের মতো তাঁর নির্দেশনায় অভিনয় করছেন তমালিকা কর্মকার ও সাঈদ বাবু। আলেকজান্দ্রিয়ার লি সেন্টারে সন্ধ্যা সাড়ে ৫টায় নাটকটির প্রদর্শনী শুরু হবে।   ‘অমানুষ’ নাটকটির এটি চতুর্থ প্রদর্শনী। এর আগে নিউ জার্সিতে দুটি এবং নিউইয়র্কে একটি প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। আগের প্রদর্শনীগুলোতে সংশ্লিষ্ট চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন মিতালী দাস ও হীরা চৌধুরী। এবার সেই চরিত্রে অভিনয় করছেন তমালিকা কর্মকার ও সাঈদ বাবু।   নাটকের গল্পের কেন্দ্রে রয়েছেন একজন আদর্শবাদী শিক্ষক। শিক্ষিত ও মানবিক একটি সমাজ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে চলা এই মানুষটি দুর্নীতি, অনিয়ম এবং সামাজিক চাপের মুখে ধীরে ধীরে নিজের আদর্শ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। হতাশা ও বাস্তবতার সংঘাত তাঁকে গভীর সংকটের দিকে নিয়ে যায়। অন্যদিকে তাঁর স্ত্রী স্বপ্ন ছেড়ে দেওয়ার পরিবর্তে তা ধরে রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেন।   সমাজের অবক্ষয়, মানুষের মূল্যবোধ এবং প্রতিকূল বাস্তবতার সঙ্গে ব্যক্তির সংঘাতই নাটকটির মূল বিষয়। গল্পের মধ্য দিয়ে দর্শকের সামনে উঠে আসে মানুষের মানবিকতা নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। সামাজিক চাপ, অনিয়ম ও বাস্তবতার কাছে মানুষ কি একসময় নিজের মূল্যবোধ হারিয়ে ফেলে, সেটিই নাটকের অন্যতম কেন্দ্রীয় ভাবনা।   ‘অমানুষ’ দিয়েই প্রথমবার মঞ্চনাটক নির্দেশনায় আসেন জান্নাতুল টুম্পা। প্রায় দুই দশক ধরে নাট্যপ্রযোজনার সঙ্গে যুক্ত থাকলেও আগে মঞ্চ নির্দেশনার পরিকল্পনা ছিল না তাঁর। নাট্যকার মামুনুর রশীদের আগ্রহেই তিনি এই নাটকের নির্দেশনার দায়িত্ব নেন।   গত ১৪ জুন নিউ জার্সির নিউ ব্রান্সউইকে অনুষ্ঠিত ২১তম সাউথ এশিয়ান থিয়েটার ফেস্টিভ্যালে দুটি প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে ‘অমানুষ’-এর যাত্রা শুরু হয়। পরে নিউইয়র্কে তৃতীয় প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। এবার ভার্জিনিয়ার মঞ্চে নতুন অভিনয়শিল্পীদের নিয়ে নাটকটির চতুর্থ প্রদর্শনী হতে যাচ্ছে।   দীর্ঘ বিরতির পর ‘অমানুষ’ নাটকের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের মঞ্চে ফিরছেন তমালিকা কর্মকার। বাংলাদেশের মঞ্চ, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রে দীর্ঘ অভিনয়জীবনের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। যুক্তরাষ্ট্রে মঞ্চে ফেরার আগে এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, বহু বছর পর আবার মঞ্চে ওঠার কারণে তাঁর মধ্যে যেমন আনন্দ রয়েছে, তেমনি দর্শকের সামনে নতুন করে পরীক্ষায় অবতীর্ণ হওয়ার অনুভূতিও রয়েছে।   আজকের প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে আলেকজান্দ্রিয়ার ১১০৮ জেফারসন স্ট্রিটের লি সেন্টারে। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, দর্শকদের জন্য দরজা খোলা হবে বিকেল ৫টায় এবং নাটক শুরু হবে সন্ধ্যা সাড়ে ৫টায়। টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫ ও ৫০ ডলার।   ভার্জিনিয়া ও আশপাশের এলাকায় বসবাসরত বাংলাদেশি নাট্যপ্রেমীদের জন্য এটি হতে যাচ্ছে বিশেষ একটি সাংস্কৃতিক আয়োজন। মামুনুর রশীদের লেখা, জান্নাতুল টুম্পার নির্দেশনা এবং তমালিকা কর্মকার ও সাঈদ বাবুর অভিনয়ে ‘অমানুষ’ আজ আলেকজান্দ্রিয়ার মঞ্চে দর্শকদের সামনে তুলে ধরবে মানুষের পরিচয়, সামাজিক বাস্তবতা ও মানবিকতার নানা প্রশ্ন।

প্রকাশ: অক্টোবর ৪, ২০২৬ ১২:২৩
যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যে অতিরিক্ত আবাসন ব্যয় দারিদ্র্যের অন্যতম বড় কারণ। ছবি: সংগৃহীত

মেরিল্যান্ডে বাড়িভাড়ার চাপে বাড়ছে দারিদ্র্য, ২১ শতাংশ দারিদ্র্যের পেছনে আবাসন ব্যয়

জিম্মিদের ফিরিয়ে আনতে নতুন বিশেষ দূত নিয়োগের ঘোষণা দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

জিম্মি উদ্ধারে নতুন বিশেষ দূত নিয়োগ ট্রাম্পের, দায়িত্ব পেলেন বেলারুশে সফল আলোচক জন কোয়েল

যুক্তরাষ্ট্রে শোল মাছ স্নেকহেড নামে পরিচিত। ছবি: সংগৃহীত

‘স্নেকহেড’ কি সত্যিই খাওয়া যায় না? যুক্তরাষ্ট্রে থাকা বাংলাদেশিদের জন্য যা জানা জরুরি

0 Comments