যুক্তরাষ্ট্রে এক বছরে ৬,৩০০ এর বেশি নিখোঁজ শিশু উদ্ধার, শিশুনির্যাতনবিরোধী অভিযানে শত শত অপরাধী গ্রেপ্তার - এফবিআই
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)-এর পরিচালক কাশ প্যাটেল দাবি করেছেন, গত এক বছরে সংস্থাটি ৬ হাজার ৩০০-এর বেশি নিখোঁজ শিশুকে শনাক্ত ও উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। একই সঙ্গে দেশজুড়ে পরিচালিত একাধিক অভিযানে শত শত শিশুনির্যাতনকারী ও যৌন অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একাধিক পোস্টে দাবি করা হয়, কাশ প্যাটেলের নেতৃত্বে এফবিআই ৬ হাজার নিখোঁজ শিশুকে উদ্ধার করেছে এবং প্রায় ২ হাজার ‘শীর্ষ শিকারি’কে গ্রেপ্তার করেছে। তবে সরকারি তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, এই সংখ্যাগুলো একক কোনো অভিযানের নয়; বরং বিভিন্ন সময়ে পরিচালিত একাধিক জাতীয় অভিযানের সম্মিলিত ফলাফলকে একসঙ্গে উপস্থাপন করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে পরিচালিত ‘অপারেশন আয়রন পারস্যুট’-এ দেশব্যাপী ২০০-এর বেশি শিশু ভুক্তভোগীকে শনাক্ত করা হয় এবং ৩৫০-এর বেশি অভিযুক্ত শিশুনির্যাতনকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই অভিযানে এফবিআইয়ের সব ফিল্ড অফিস এবং বিভিন্ন ফেডারেল ও স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী অংশ নেয়।
অভিযান নিয়ে দেওয়া এক বিবৃতিতে কাশ প্যাটেল বলেন, “গত বছর আমাদের অংশীদার সংস্থাগুলোর সঙ্গে কাজ করে ৬ হাজার ৩০০-এর বেশি নিখোঁজ শিশুকে শনাক্ত ও উদ্ধার করা হয়েছে। অপারেশন আয়রন পারস্যুট সেই ধারাবাহিক প্রচেষ্টারই সর্বশেষ উদাহরণ।”
বিচার বিভাগ জানায়, অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে শিশু যৌন নির্যাতন, শিশু পাচার, অপহরণ, শিশু নির্যাতনের ভিডিও বা ছবি তৈরি, সংরক্ষণ ও বিতরণসহ বিভিন্ন গুরুতর অপরাধের অভিযোগ রয়েছে।
এফবিআই আরও জানায়, ২০২৫ সাল থেকে শিশু সুরক্ষায় ধারাবাহিকভাবে ‘অপারেশন রিস্টোর জাস্টিস’, ‘অপারেশন এনডিউরিং জাস্টিস’, ‘অপারেশন রিলেন্টলেস জাস্টিস’ এবং সর্বশেষ ‘অপারেশন আয়রন পারস্যুট’ পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে শত শত শিশু উদ্ধার এবং এক হাজারেরও বেশি সন্দেহভাজন শিশুনির্যাতনকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত “৬ হাজার শিশু উদ্ধার” সংক্রান্ত দাবির মূল ভিত্তি সরকারি তথ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হলেও “প্রায় ২ হাজার শিকারি গ্রেপ্তার” সংখ্যা একটি নির্দিষ্ট অভিযানের ফল নয়। এটি বিভিন্ন সময়ে পরিচালিত একাধিক আইন-শৃঙ্খলা অভিযানের সম্মিলিত পরিসংখ্যান। তাই ভাইরাল পোস্টের দাবিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট অনুপস্থিত রয়েছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ক্যারোলিনায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সংগঠন বাংলাদেশ স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ফ্রেশার্স রিসেপশন ও বার্ষিক সাধারণ সভা ২০২৬। কলাম্বিয়ার গিবসন পন্ড পার্কে আয়োজিত দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, পরিবার এবং স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যসহ প্রায় ১৫০ জন নিবন্ধিত অতিথি অংশ নেন। এবারের আয়োজনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল নতুন ভর্তি হওয়া ২৮ জন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানো। ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ক্যারোলিনার বাংলাদেশ স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্বকারী একটি অলাভজনক ও অরাজনৈতিক ছাত্র সংগঠন। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সংগঠনটির ৬০ জনের বেশি শিক্ষার্থী সদস্য রয়েছে এবং বাংলাদেশি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সাউথ ক্যারোলিনার বৃহত্তর কমিউনিটির কাছে তুলে ধরাও সংগঠনটির অন্যতম উদ্দেশ্য। গিবসন পন্ড পার্কে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উড়িয়ে শুরু হয় এবারের আয়োজন। অতিথিদের স্বাগত জানানো হয় গরম সবজি সিঙ্গারা দিয়ে। এরপর দীর্ঘদিনের বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করা, নতুনদের সঙ্গে পরিচিত হওয়া এবং পার্কের পুকুর, বোর্ডওয়াক, হাঁটার পথ ও সবুজ পরিবেশ ঘুরে দেখার মধ্য দিয়ে সময় কাটান অংশগ্রহণকারীরা। দুপুরে পরিবেশন করা হয় ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশি খাবার। পোলাও, চিকেন রোস্ট, মিশ্র সবজি, ডিম ও সালাদসহ নানা পদ নিয়ে আয়োজিত মধ্যাহ্নভোজে একসঙ্গে বসেন শিক্ষার্থী, শিক্ষক, পরিবার ও কমিউনিটির সদস্যরা। খাবারের পাশাপাশি বিভিন্ন খেলাধুলার আয়োজন থাকায় পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। আয়োজনে দম্পতিদের জন্য বেলুন রেস, পুরুষদের জন্য মার্বেল রেস, নারীদের জন্য পিলো পাসিং এবং শিশুদের জন্য বিস্কুট রেস অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতাগুলো ঘিরে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যায়। খেলায় অংশ নেওয়া ও অন্যদের উৎসাহ দেওয়ার মধ্য দিয়ে বিভিন্ন প্রজন্মের বাংলাদেশিদের মধ্যে তৈরি হয় প্রাণবন্ত যোগাযোগ। সাংস্কৃতিক পর্বেও ছিল বৈচিত্র্য। নতুন যোগ দেওয়া শিক্ষার্থী ঐশী জ্যোতির পরিবেশনার পর বাবা-ছেলের জুটি আনন্দ ও তাহমিদ ভাই সংগীত পরিবেশন করেন। গান ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশি ঐতিহ্য ও কমিউনিটির বন্ধনের আবহ আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। অনুষ্ঠানের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ অংশ ছিল ২০২৬ সালের নতুন ২৮ শিক্ষার্থীকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানো। বাংলাদেশ স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক অরুণাভ দাস নবাগতদের উদ্দেশে একটি বিশেষ কবিতা রচনা করেন এবং অনুষ্ঠানে তা আবৃত্তি করেন। নতুন শিক্ষার্থীদের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ক্যারোলিনা, কলাম্বিয়া এবং বাংলাদেশি শিক্ষার্থী কমিউনিটির নতুন পরিবারের অংশ হিসেবে স্বাগত জানানোর এই আয়োজন উপস্থিতদের কাছে বিশেষ গুরুত্ব পায়। এরপর বাংলাদেশ স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের ফ্যাকাল্টি অ্যাডভাইজার রফিকুল ইসলাম রানা নবাগত শিক্ষার্থীদের প্রত্যেককে উপহার দিয়ে স্বাগত জানান। নতুন শিক্ষার্থীরাও একে একে নিজেদের পরিচয় দেন এবং কলাম্বিয়ার বৃহত্তর বাংলাদেশি কমিউনিটির সঙ্গে পরিচিত হন। আয়োজকদের আশা, এই পরিচয়পর্বের মাধ্যমে নতুন শিক্ষার্থীদের মধ্যে বন্ধুত্ব, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং কমিউনিটির সঙ্গে সম্পৃক্ততার ভিত্তি আরও শক্ত হবে। বার্ষিক সাধারণ সভায় বাংলাদেশ স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি তাহরিমা মোহসিন মোহনা ২০২৬-২০২৭ মেয়াদের নতুন নির্বাহী কমিটির পরিচয় করিয়ে দেন। একই সঙ্গে তিনি সংগঠনের গত এক বছরের বিভিন্ন কার্যক্রমের কথা তুলে ধরেন এবং আগামী বছরেও কমিউনিটির সদস্যদের নিয়মিত ও সক্রিয়ভাবে সংগঠনের কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানের শেষদিকে ছিল র্যাফেল ড্র। এ বছর মোট ১৫টি র্যাফেল পুরস্কারের ব্যবস্থা করা হয়, যেখানে আগের বছরগুলোতে পুরস্কারের সংখ্যা ছিল ১০টি। পাশাপাশি এবার যুক্ত করা হয় দুটি বিশেষ পুরস্কার। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিবন্ধন সম্পন্ন করা অংশগ্রহণকারীদের মধ্য থেকে লটারির মাধ্যমে দেওয়া হয় একটি রেজিস্ট্রেশন ডোর প্রাইজ। এ ছাড়া নবাগত শিক্ষার্থীদের পরিচিতিমূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সবচেয়ে বেশি র্যাফেল টিকিট বিক্রি করা ফ্রেশারকেও দেওয়া হয় বিশেষ পুরস্কার। আয়োজকদের মতে, ফ্রেশার্স রিসেপশন ও বার্ষিক সাধারণ সভার মূল লক্ষ্য ছিল নতুন শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানানোর পাশাপাশি পুরোনো ও নতুন প্রজন্মের বাংলাদেশিদের মধ্যে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করা। বাংলাদেশি খাবার, সংগীত, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে দিনটি হয়ে ওঠে পারস্পরিক যোগাযোগ ও কমিউনিটি বন্ধনের একটি বিশেষ আয়োজন। ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ক্যারোলিনার বাংলাদেশ স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, অনুষ্ঠানের পেছনে যারা পরিকল্পনা, স্বেচ্ছাসেবা, রান্না, খাবার পরিবেশন, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, ছবি তোলা এবং অন্যান্য সাংগঠনিক কাজে সময় দিয়েছেন, তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই আয়োজনটি সফল হয়েছে। নতুন শিক্ষার্থীদের জন্য ক্যাম্পাস ও কলাম্বিয়ায় একটি পরিচিত ও আপন পরিবেশ তৈরির ক্ষেত্রেও এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন শিক্ষাবর্ষের শুরুতে আয়োজিত এই মিলনমেলা শুধু ফ্রেশার্স সংবর্ধনা বা বার্ষিক সভার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। পুরোনো বন্ধুদের পুনর্মিলন, নতুনদের সঙ্গে পরিচয়, বাংলাদেশি সংস্কৃতির উদযাপন এবং কমিউনিটির পারস্পরিক বন্ধন দৃঢ় করার মধ্য দিয়ে দিনটি হয়ে উঠেছে সাউথ ক্যারোলিনার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও কমিউনিটির জন্য একটি স্মরণীয় আয়োজন।
মেরিল্যান্ডে নিখোঁজ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী দিলান, সন্ধান চায় পুলিশ
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় ভুয়া পরিচয়ে ১২ হাজার ডলারের রোলেক্স কিনতে গিয়ে ফিঙ্গারপ্রিন্টে ধরা নারী
যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম শহর হিসেবে নিউইয়র্কে ‘ক্লিক-টু-ক্যানসেল’ নিয়ম, সাবস্ক্রিপশন বাতিল হবে এক ক্লিকেই
যুক্তরাষ্ট্রের ২ কোটির বেশি প্রবীণ নাগরিককে এককালীন ৯০ ডলার করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রবীণদের স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচি 'মেডিকেয়ার'-এর মাসিক প্রিমিয়ামের খরচ কিছুটা লাঘব করার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (২ অক্টোবর) গভীর রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, এই অর্থায়নের জন্য কংগ্রেস মেডিকেয়ার ইমপ্রুভমেন্ট ফান্ডে ২ বিলিয়ন বা ২০০ কোটি ডলার বরাদ্দ করেছে। আসন্ন নভেম্বরের গুরুত্বপূর্ণ মিডটার্ম নির্বাচনকে সামনে রেখে মার্কিন ভোটারদের আকৃষ্ট করতে রিপাবলিকান নেতার দেওয়া ধারাবাহিক অর্থনৈতিক প্রতিশ্রুতির সর্বশেষ সংযোজন হলো এই ৯০ ডলারের অনুদান। বর্তমানে মার্কিন সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকান দলের সামান্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও, যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি ভোটারদের অসন্তোষ রয়েছে। বিশেষ করে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের জেরে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়ায় ট্রাম্পের রেটিং বেশ নিম্নমুখী। হোয়াইট হাউসের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যমতে, যোগ্য প্রবীণরা অক্টোবরের শুরুতেই এই ৯০ ডলার সরাসরি তাঁদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে (ডাইরেক্ট ডিপোজিট) পেয়ে যাবেন। যাদের ডাইরেক্ট ডিপোজিট সুবিধা নেই, তাদের মেডিকেয়ারে নিবন্ধিত ঠিকানায় ডাকযোগে চেক পাঠিয়ে দেওয়া হবে। এর আগে গত মাসে ট্রাম্প প্রস্তাব করেছিলেন, রিপাবলিকান দল মিডটার্ম নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে তিনি সব প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে ৫ হাজার ডলার করে চেক পাঠাবেন। যদিও অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকদের পাশাপাশি স্বয়ং কিছু রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাও তাঁর ওই বিশাল প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছিলেন। এছাড়া ‘অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্ট’-এর অধীনে অতিরিক্ত ফি দেওয়া প্রায় ১০ লাখ মার্কিনিকে আলাদাভাবে ৫০০ ডলার করে ফেরত দিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন, যা আসন্ন নির্বাচনে ভোটারদের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
টেনেসিতে দুই ডোজ ইনজেকশনেও মৃত্যু হয়নি, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ব্যর্থতায় কারাপ্রধানের পদত্যাগ
যুক্তরাষ্ট্রে অসুস্থতার মাঝেও থামেনি ভালোবাসা, হাসপাতালের বেডেই বিয়ে ৭৯ বছরের যুগলের
যুক্তরাষ্ট্রে সিনেট দখলের লড়াইয়ে নতুন উত্তেজনা, দুই রিপাবলিকান ঘাঁটিতে এগিয়ে ডেমোক্র্যাটরা
১৯০৬ সালে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন সংবাদের জেরে যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় শুরু হওয়া ভয়াবহ বর্ণবাদী হত্যাযজ্ঞ বা ‘আটলান্টা রেস ম্যাসাকার’-এর ১২০ বছর পূর্ণ হলো। এই মর্মান্তিক ইতিহাস স্মরণ করার পাশাপাশি এর সাথে বর্তমান সময়ের মিথ্যা তথ্যের ভয়াবহতার যোগসূত্র নিয়ে পর্যালোচনা করছেন মরিস ব্রাউন কলেজের একদল শিক্ষার্থী। ১৯০৬ সালের ২২ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলা ওই তাণ্ডবে শ্বেতাঙ্গদের হামলায় বহু কৃষ্ণাঙ্গ নাগরিক নিহত ও নির্যাতিত হন এবং অনেকেই ব্যবসা ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন। সে সময় স্থানীয় পত্রিকাগুলোতে কৃষ্ণাঙ্গ পুরুষদের বিরুদ্ধে বানোয়াট অভিযোগ ছাপানোর পর এই সহিংসতা দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছিল। ব্রাউনসভিল, ফাইভ পয়েন্টস, সামারহিল ও অবার্ন অ্যাভিনিউয়ের মতো এলাকাগুলো এই হামলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বর্তমান প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা বলছেন, তখনকার পত্রিকা আর আজকের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গুজবের মধ্যে এক অদ্ভুত মিল রয়েছে। মরিস ব্রাউন কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ডেনিম চেম্বারস জানান, তিনি আগে এই গণহত্যার কথা জানতেন না। তবে এখন তিনি বুঝতে পারছেন, সে যুগে যেভাবে ভুয়া খবরের জেরে সহিংসতা ছড়িয়েছিল, বর্তমান যুগেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঠিক একইভাবে মিথ্যা তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। কোর্সটির অ্যাডজাংক্ট প্রফেসর সানি ব্রাউন জানান, অতীতের ইতিহাস শুধু পড়ার জন্য নয়, বরং বর্তমানের সঙ্গে এর যোগসূত্র খুঁজে বের করাই এই পাঠের মূল লক্ষ্য। শিক্ষার্থীরা যেন তথ্য গ্রহণের ক্ষেত্রে সমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করেন এবং গুজবের বাস্তব পরিণতি সম্পর্কে সচেতন হন, সেটি নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতিহাসবিদদের মতে, সেই হত্যাযজ্ঞে অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছিলেন। তবে আটলান্টার অ্যাপেক্স মিউজিয়ামের ইতিহাসবিদ কাইলার উইনস্টন-ক্যান্ড্রিকস জানান, এই ঘটনাকে নিছক দাঙ্গা নয়, বরং গণহত্যা বলা উচিত। কারণ এতে ৪০ থেকে ১০০ জন পর্যন্ত মানুষ হতাহত হয়েছিলেন। রাস্তা, ট্রলি এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে কৃষ্ণাঙ্গদের টেনেহিঁচড়ে বের করে হত্যা করা হয়েছিল। বিখ্যাত কৃষ্ণাঙ্গ বুদ্ধিজীবী ডব্লিউ.ই.বি. ডু বোইস সে সময় আটলান্টা ইউনিভার্সিটিতে আশ্রয় নিয়েছিলেন এবং মর্মান্তিক এই ঘটনা নিয়ে তাঁর বিখ্যাত কবিতা ‘এ লিটানি অব আটলান্টা’ রচনা করেন। অন্যদিকে, সাংবাদিক জে. ম্যাক্স বারবার প্রাণভয়ে শিকাগো পালিয়ে গিয়ে এই গণহত্যার প্রকৃত সত্য বিশ্বের সামনে তুলে ধরেন, যার ফলে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও ইতালির মতো দেশের গণমাধ্যমেও এই খবর গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ পেয়েছিল। ভয়াবহ সেই ঘটনার স্মৃতি ধরে রাখতে বর্তমানে অবার্ন অ্যাভিনিউ রিসার্চ লাইব্রেরি এবং অ্যাপেক্স মিউজিয়াম বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে। সেখানে নিহতদের স্মৃতিচিহ্ন, পুরনো সংবাদপত্র, মাটির নমুনা এবং বেঁচে যাওয়া মানুষদের দুর্লভ অডিও রেকর্ডিং সংরক্ষিত রয়েছে। প্রদর্শনীতে এমন অডিও রেকর্ডিংও রয়েছে, যেখানে জানা যায় কীভাবে কৃষ্ণাঙ্গরা নিজেদের রক্ষার জন্য সে সময় শহরে অস্ত্র নিয়ে এসেছিলেন। অবার্ন অ্যাভিনিউ লাইব্রেরির গ্রন্থাগারিক জন অস্টিন জানান, মানুষ যত বেশি অতীত ইতিহাস ও এ ধরনের গণহত্যার পেছনের মনস্তত্ত্ব সম্পর্কে জানবে, ভবিষ্যতে এ ধরনের কলঙ্কজনক ঘটনার পুনরাবৃত্তি হওয়ার আশঙ্কা ততটাই কমে আসবে।
যুক্তরাষ্ট্রে দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে বড় হওয়া দুই ভাই, আজ নিজ শহরের হাসপাতালের ইমার্জেন্সি বিভাগের প্রধান
ক্যালিফোর্নিয়ায় দাবানলের ধ্বংসস্তূপে গড়ে উঠল ১৪ মিলিয়ন ডলারের বিলাসবহুল বাড়ি