যুক্তরাষ্ট্রে আইসিই এজেন্টের গুলিতে প্রবাসী মেক্সিকান নিহত, ভিডিওতে বাবার মৃত্যু দেখলেন সন্তান
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের হিউস্টনে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস)-এর অভিযানের সময় গুলিতে নিহত হয়েছেন মেক্সিকান বংশোদ্ভূত অভিবাসী শ্রমিক লোরেঞ্জো সালগাদো আরাউহো। পরিবারের দাবি, তিনি প্রতিদিনের মতোই নির্মাণকাজে যাচ্ছিলেন। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও দেখে তার বড় ছেলে রোনালদো সালগাদো বুঝতে পারেন, নিহত ব্যক্তিই তার বাবা।
দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার সকালে রোনালদোর মা ফোন করে জানান, তার বাবা কাজে যাওয়ার পর থেকে কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না এবং কিছু একটা ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে বলে আশঙ্কা করছেন।
এরপর রোনালদো দ্রুত হিউস্টনের উত্তরাঞ্চলে নির্মাণস্থলের দিকে রওনা হন, যেখানে তার বাবা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করতেন। পরে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে তিনি দেখতে পান, আইসের অভিযানের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে পড়ে থাকা ব্যক্তিটি তার বাবা।
পরিবারের সদস্যরা জানান, লোরেঞ্জো সালগাদো আরাউহো প্রায় ৩০ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছিলেন। বৈধ কাগজপত্র না থাকলেও নির্মাণশ্রমিক হিসেবে কঠোর পরিশ্রম করে তিনি পরিবারের দায়িত্ব পালন করেছেন এবং তিন ছেলেকেই কলেজে পড়াশোনার সুযোগ করে দিয়েছেন।
রোনালদো বলেন, তার বাবা ছিলেন একজন পরিশ্রমী ও পরিবারকেন্দ্রিক মানুষ। তিনি বিশ্বাস করেন, বাবার পিছু নেওয়া চিহ্নবিহীন (Unmarked) সরকারি গাড়িগুলো দেখে তিনি ভয় পেয়ে থাকতে পারেন। তার ধারণা, যারা তাকে অনুসরণ করছিল তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, এটি হয়তো তার বাবা বুঝতে পারেননি।
পরিবারের দাবি, লোরেঞ্জোর জীবনের একমাত্র লক্ষ্য ছিল পরিবারের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা। তিনি আশা করেছিলেন, একদিন হয়তো বৈধ অভিবাসন মর্যাদা পাবেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের স্বপ্ন পূরণ হবে।
ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আইন প্রয়োগের ধরন এবং আইসের অভিযান নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে অভিযানে প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহারের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিবাসী অধিকারকর্মীরা।
এদিকে আইসের পক্ষ থেকে ঘটনাটির তদন্ত চলছে বলে জানানো হয়েছে। তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত গুলির ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না বা তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হয়নি।
লোরেঞ্জো সালগাদো আরাউহোর মৃত্যুর ঘটনায় তার পরিবার ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছে। তাদের ভাষ্য, একজন পরিশ্রমী শ্রমিক, যিনি তিন দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করে পরিবারের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন, তার মৃত্যুর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া উচিত।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে অতি সংক্রামক রোগ হামের নজিরবিহীন প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। চলতি বছর দেশটির ৪৭টি অঙ্গরাজ্য ও রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩ হাজার ৯০০ জন এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। গত সোমবার নতুন করে ১০৯ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হওয়ার পর নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের গভর্নর ক্যাথি হোকুল সেখানে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। অন্যদিকে, পেনসিলভেনিয়ায় গত তিন দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় হামের প্রাদুর্ভাব রেকর্ড করা হয়েছে। চলতি সপ্তাহে সেখানে আক্রান্তের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়ে গেছে। অঙ্গরাজ্য কর্তৃপক্ষ হামে পাঁচজনের মৃত্যুর খবর জানালেও, ফেডারেল স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা মাত্র দুজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এ নিয়ে গত আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যমন্ত্রী রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়র পেনসিলভেনিয়ার মৃত্যুর তথ্যকে ‘মনগড়া’ আখ্যা দিয়েছিলেন এবং সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনকে (সিডিসি) মৃত্যু গণনার পদ্ধতি পরিবর্তনের নির্দেশ দিয়েছিলেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মার্কিন স্বাস্থ্য ও মানবসেবা অধিদপ্তরের (এইচএইচএস) অধীনে সিডিসি দেশজুড়ে ব্যাপক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সংস্থাটির এক মুখপাত্র সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্টকে জানিয়েছেন, টেক্সাস, দক্ষিণ ক্যারোলিনা, ভার্জিনিয়া, ক্যানসাস, নিউ মেক্সিকো এবং উইসকনসিনে বিশেষ মহামারি তদন্তকারী দল মোতায়েন করা হয়েছে। প্রয়োজন সাপেক্ষে নিউইয়র্কেও মহামারি ও অন্যান্য বিশেষজ্ঞদের পাঠাতে প্রস্তুত রয়েছে তারা। উল্লেখ্য, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা আক্রান্ত ব্যক্তির কাশি বা হাঁচির মাধ্যমে দ্রুত বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। এর জীবাণু বাতাসে বা কোনো পৃষ্ঠে প্রায় দুই ঘণ্টা পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে। তীব্র জ্বর, শরীরে ফুসকুড়ি, কাশি ও চোখ লাল হয়ে যাওয়ার মতো প্রাথমিক উপসর্গ থাকা এই রোগটি গুরুতর আকার ধারণ করলে নিউমোনিয়া, মস্তিষ্কে প্রদাহ এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। তবে এমএমআর টিকার দুটি ডোজ গ্রহণের মাধ্যমে এই মারাত্মক রোগ থেকে দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর সুরক্ষা পাওয়া সম্ভব।
জেডি ভ্যান্সের শৈশবের শহরে উজবেক ট্রাকিং কোম্পানির বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ
নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডে নকল চেইন পরিয়ে বৃদ্ধার আসল সোনার চেইন চুরি, গ্রেপ্তার রোমানিয়ান দম্পতি
যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসা জালিয়াতিতে আড়াই লাখ ডলার জরিমানা, ১০ বছরের নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অভিবাসীদের স্থায়ী বসবাসের সুবিধা বা গ্রিন কার্ড পাওয়ার নিয়মে অযৌক্তিক কড়াকড়ি আরোপ করায় ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে বিভিন্ন শ্রমিক ইউনিয়ন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি ও অভিবাসী অধিকার বিষয়ক সংগঠনগুলো। গত ৫ অক্টোবর ম্যাসাচুসেটসের ফেডারেল ডিস্ট্রিক্ট আদালতে ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস)-এর জারিকৃত দুটি বিতর্কিত নীতিকে চ্যালেঞ্জ করে এই মামলাটি করা হয়। বাদীদের দাবি, মে ও আগস্ট মাসে ঘোষিত এই নীতিগুলোর কারণে বহু যোগ্য অভিবাসী দেশ না ছেড়ে বৈধ উপায়ে স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ইউএসসিআইএস-এর নতুন নিয়মে ‘অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস’ বা দেশে অবস্থান করে গ্রিন কার্ড পাওয়ার দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত প্রক্রিয়াকে ইচ্ছাকৃতভাবে সীমিত করা হয়েছে। মে মাসের নির্দেশনায় অভিবাসন কর্মকর্তাদের বলা হয়েছে, কোনো আবেদনকারী নিজ দেশে অবস্থিত মার্কিন কনস্যুলেটে না গিয়ে কেন যুক্তরাষ্ট্র থেকে আবেদন করেছেন, সেটিকে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতে বিবেচনা করতে। অন্যদিকে, আগস্ট মাসের নীতিমালায় কর্মকর্তাদের এমন এখতিয়ার দেওয়া হয়েছে যাতে তারা কোনো অতিরিক্ত তথ্য-প্রমাণ চাওয়ার সুযোগ না দিয়েই সরাসরি আবেদন খারিজ করে দিতে পারেন। এমনকি অতীতে যারা আবেদন জমা দিয়ে ফলাফলের অপেক্ষায় আছেন, তাদের ক্ষেত্রেও এই কঠোর শর্তগুলো ভূতাপেক্ষভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে। মামলা দায়েরকারী আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন অব ইউনিভার্সিটি প্রফেসরস (এএইউপি), হার্ভার্ড ও বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন শাখা এবং সার্ভিস এমপ্লয়িজ ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন (এসইআইইউ)-এর মতো সংগঠনগুলো আদালতকে জানিয়েছে, নতুন এই নিয়মের ফলে পরিবার বিচ্ছিন্নতা, কর্মসংস্থানে বাধা এবং আন্তর্জাতিক মেধার অপচয়ের মতো মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ অর্থবছরে গ্রিন কার্ড পাওয়া মোট ১৩ লাখ ৬০ হাজার মানুষের মধ্যে প্রায় ৫৭ শতাংশই এই অ্যাডজাস্টমেন্ট প্রক্রিয়ায় আবেদন করেছিলেন। ডেমোক্রেসি ফরোয়ার্ডের প্রধান নির্বাহী স্কাই পেরিমান জানান, আইনসম্মতভাবে বছরের পর বছর যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস ও কাজ করা মানুষদের জন্য এটি চরম অবিচার। অন্যদিকে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে মামলাটিকে ভিত্তিহীন হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। ইউএসসিআইএস-এর মুখপাত্র জ্যাক কেলার এক বিবৃতিতে বলেন, কংগ্রেসের মূল উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে এবং দেশের অভিবাসন আইন যথাযথভাবে প্রয়োগ করতে প্রশাসন বদ্ধপরিকর। বাদীরা আদালতকে এই নতুন বিধিনিষেধগুলো অবিলম্বে সাময়িকভাবে স্থগিত এবং পরবর্তীতে স্থায়ীভাবে বাতিল করার আবেদন জানিয়েছেন। আদালত অবশ্য এখনো এই মামলার বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো রুল জারি করেনি।
রিয়েল এস্টেটে বিনিয়োগের আগে যে ৮ বিষয় অবশ্যই বিবেচনায় রাখবেন - মঞ্জুর আহমেদ
দু’বার প্রাণঘা তী ইনজেকশনেও বেঁচে যাওয়া ক্রিস্টা পাইককে কি আবার মৃ ত্যুদণ্ড দেওয়া হবে?
যুক্তরাষ্ট্রে ধনকুবেরদের সম্পদে ৫% কর বসিয়ে ৪.৪ ট্রিলিয়ন ডলার আদায়ের পরিকল্পনা
সাম্প্রতিক এক সভার কার্যবিবরণী বা মিনিটস থেকে জানা গেছে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের অধিকাংশ কর্মকর্তাই চলতি বছর সুদের হার আরেক দফা বাড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছেন। গত বুধবার প্রকাশিত ওই কার্যবিবরণীতে বলা হয়েছে, ফেডারেল রিজার্ভের নির্ধারিত ২ শতাংশ মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তেমন কোনো অগ্রগতি হয়নি। এই পরিস্থিতিতে দ্রব্যমূল্যের লাগাম টানতে গত ১৫-১৬ সেপ্টেম্বরের সভায় তারা তিন বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো সুদের হার শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ বাড়িয়ে প্রায় ৩.৯ শতাংশে উন্নীত করেছিল। সুদের হার বাড়ানোর এই সিদ্ধান্তটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্রমাগত কমানোর আহ্বানের ঠিক উল্টো ছিল। এর ফলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ফেডারেল রিজার্ভের সুদ-নির্ধারণী কমিটির তীব্র সমালোচনা করেন এবং তাদের ‘অত্যন্ত রাজনীতিকরণ’ করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন। তবে চলতি বছরের শুরুতে তার নিজেরই নিয়োগ দেওয়া বর্তমান ফেড চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শের প্রতি তিনি এখনও সমর্থন ব্যক্ত করেছেন। আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক সাত সপ্তাহ আগে এই সুদের হার বৃদ্ধির ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন সাধারণ মার্কিন নাগরিকরা মুদিপণ্য, জ্বালানি এবং বাসস্থানের উচ্চ ব্যয়ের কারণে ইতিমধ্যেই দিশেহারা। এছাড়া সরকারি ঋণ বৃদ্ধি, ডেটা সেন্টার নির্মাণে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিপুল ঋণ গ্রহণ, ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং সেমিকন্ডাক্টর ও কম্পিউটার সরঞ্জামের মূল্যবৃদ্ধির কারণে দীর্ঘমেয়াদি ঋণের সুদহারও গত কয়েক মাসে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ওয়াল স্ট্রিটের বিনিয়োগকারীদের ধারণা, ২৮-২৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিতব্য পরবর্তী সভায় ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার অপরিবর্তিত রাখলেও ডিসেম্বরের সভায় তা আবারও বাড়ানো হতে পারে। ফেড চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শ গত মাসে এক সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট জানিয়েছিলেন যে, মূল্যস্ফীতির হার দীর্ঘদিন ধরেই অত্যন্ত বেশি রয়েছে এবং তা দ্রুত নামিয়ে আনতে কমিটি কাজ করছে। যেহেতু মূল্যস্ফীতি লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এখনও আড়াই থেকে তিন শতাংশ বেশি রয়েছে, তাই অর্থনীতিকে কিছুটা শীতল করার জন্য একাধিকবার সুদের হার বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে বলে ফেডের অনেক নীতিনির্ধারক ইঙ্গিত দিয়েছেন।
নিউইয়র্কে সম্পর্ক জোড়া লাগাতে এসে প্রেমিকা ও ৫ মাসের শিশুকে ১৫ তলা থেকে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ
যুক্তরাষ্ট্রের ইউটায় চিকিৎসকের বদলে এআই দেবে প্রেসক্রিপশন, শুরু হচ্ছে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম