- প্রচ্ছদ
- Topic
#USA
যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি অঙ্গরাজ্যে একটি গাছের সঙ্গে ডাক্ট টেপ দিয়ে বেঁধে ফেলে রাখা অবস্থায় একটি জীবিত ইগুয়ানা উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয় প্রাণী উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাটিকে ‘চরম প্রাণী নির্যাতন’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং কে বা কারা এভাবে প্রাণীটিকে ফেলে গেছে, তা খুঁজে বের করতে তদন্ত চলছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, পথচারীরা গাছে অস্বাভাবিকভাবে বাঁধা অবস্থায় সরীসৃপটিকে দেখতে পেয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে খবর দেন। পরে প্রাণী উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে সতর্কতার সঙ্গে ডাক্ট টেপ কেটে ইগুয়ানাটিকে মুক্ত করেন। উদ্ধারের পর প্রাণীটির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। প্রাথমিকভাবে দেখা গেছে, দীর্ঘ সময় গাছে বাঁধা থাকায় এটি প্রচণ্ড মানসিক চাপের পাশাপাশি পানিশূন্যতায় ভুগছিল। তবে সময়মতো উদ্ধার হওয়ায় প্রাণে বেঁচে গেছে বলে জানিয়েছেন উদ্ধারকর্মীরা। বর্তমানে ইগুয়ানাটিকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং সুস্থ হয়ে উঠলে উপযুক্ত আশ্রয়ে পাঠানো হবে। প্রাণী কল্যাণ সংস্থাগুলো জানিয়েছে, এ ধরনের ঘটনা শুধু নিষ্ঠুরতাই নয়, অনেক অঙ্গরাজ্যে এটি ফৌজদারি অপরাধ হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে। ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো প্রাণীকে কষ্ট দেওয়া বা পরিত্যাগ করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। কর্তৃপক্ষ প্রত্যক্ষদর্শী বা এ ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো তথ্য জানেন, এমন ব্যক্তিদের এগিয়ে এসে তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। তদন্তকারীরা আশপাশের এলাকার নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজও খতিয়ে দেখছেন, যাতে দায়ী ব্যক্তিকে শনাক্ত করা যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইগুয়ানা অনেক সময় পোষা প্রাণী হিসেবে পালন করা হলেও যথাযথ যত্ন, খাবার ও পরিবেশের প্রয়োজন হয়। সেই দায়িত্ব পালন করতে না পারলে প্রাণীটিকে এভাবে পরিত্যাগ বা নির্যাতন না করে সংশ্লিষ্ট প্রাণী উদ্ধার সংস্থা বা আশ্রয়কেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ করাই নিরাপদ ও মানবিক উপায়।
যুক্তরাষ্ট্রের বড় শহরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে নিরাপদ শহর হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের প্ল্যানো। জাতীয় জননিরাপত্তা সূচকে টানা দ্বিতীয় বছরের মতো শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে শহরটি। কম অপরাধপ্রবণতা, কার্যকর পুলিশি ব্যবস্থা এবং জননিরাপত্তায় ধারাবাহিক বিনিয়োগের কারণে এই অবস্থান অর্জন করেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি প্রকাশিত ন্যাশনাল পাবলিক সেফটি ইনডেক্স -এ ১ লাখের বেশি জনসংখ্যার মার্কিন শহরগুলোর অপরাধের হার, সহিংস অপরাধ, সম্পত্তি-সংক্রান্ত অপরাধ, জরুরি সেবার কার্যকারিতা এবং জননিরাপত্তার বিভিন্ন সূচক বিশ্লেষণ করে এই র্যাঙ্কিং তৈরি করা হয়েছে। সেখানে প্ল্যানো সবচেয়ে নিরাপদ বড় শহর হিসেবে স্থান পেয়েছে। প্ল্যানো পুলিশ বিভাগের প্রধান এড ড্রেইনস বলেন, এই অর্জন শহরের বাসিন্দা, পুলিশ, অগ্নিনির্বাপণ বিভাগ এবং স্থানীয় প্রশাসনের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। তার ভাষায়, শুধু অপরাধ দমন নয়, অপরাধ প্রতিরোধে কমিউনিটির অংশগ্রহণও শহরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্ল্যানোতে সহিংস অপরাধ ও সম্পত্তি-সংক্রান্ত অপরাধ, উভয় ক্ষেত্রেই জাতীয় গড়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। পাশাপাশি জরুরি সেবায় দ্রুত সাড়া দেওয়া, প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিং এবং কমিউনিটি-ভিত্তিক নিরাপত্তা কর্মসূচিও শহরটির ইতিবাচক অবস্থান ধরে রাখতে সহায়তা করেছে। টেক্সাসের ডালাস-ফোর্ট ওর্থ মহানগর এলাকার অংশ হলেও প্ল্যানো দীর্ঘদিন ধরেই উচ্চ জীবনমান, উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থা, পরিকল্পিত নগরায়ণ এবং নিরাপদ আবাসিক পরিবেশের জন্য পরিচিত। এ কারণে পরিবার নিয়ে বসবাসের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম আকর্ষণীয় শহর হিসেবেও নিয়মিত বিভিন্ন জাতীয় তালিকায় স্থান পেয়ে আসছে। শহর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবিষ্যতেও জননিরাপত্তা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে, যাতে প্ল্যানো যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম নিরাপদ শহর হিসেবে তার অবস্থান ধরে রাখতে পারে।
অনিয়মিত অভিবাসনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে আরও ২৩ জন বাংলাদেশিকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) সকাল ১১টায় বিশেষ ফ্লাইট OAE2323-এ তারা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। এ নিয়ে ২০২৫ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরত পাঠানো বাংলাদেশির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৬৯ জন। বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক, এভিয়েশন সিকিউরিটি এবং ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের সহযোগিতায় তাদের তাৎক্ষণিক সহায়তা, প্রয়োজনীয় পরামর্শ এবং নিজ নিজ গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য পরিবহন সুবিধা দেওয়া হয়। ব্র্যাকের তথ্য অনুযায়ী, ফেরত আসা ২৩ জনের মধ্যে ১৩ জনই নোয়াখালীর বাসিন্দা। এছাড়া সিলেট, কক্সবাজার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, মুন্সীগঞ্জ, কুমিল্লা, লক্ষ্মীপুর, ঢাকা এবং আরও কয়েকটি জেলার বাসিন্দাও রয়েছেন। ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান জানান, প্রাথমিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, তাদের অধিকাংশই দক্ষিণ ও মধ্য আমেরিকার দীর্ঘ, ব্যয়বহুল এবং অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ রুট ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন। জনপ্রতি প্রায় ৫০ থেকে ৬৫ লাখ টাকা ব্যয় করেও শেষ পর্যন্ত অভিবাসন-সংক্রান্ত আইনি জটিলতায় পড়ে তাদের দেশে ফিরতে হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ফেরত আসা ব্যক্তিদের বেশিরভাগই বৈধভাবে ব্রাজিলে গেলেও পরে দালালচক্রের সহায়তায় অনিয়মিত পথে বলিভিয়া, পেরু, ইকুয়েডর, কলম্বিয়া, পানামা, কোস্টারিকা, নিকারাগুয়া, হন্ডুরাস ও গুয়াতেমালা হয়ে মেক্সিকো সীমান্ত অতিক্রম করে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন। এই যাত্রায় তাদের ১৩ থেকে ১৫টি দেশ বাসে ও পায়ে হেঁটে অতিক্রম করতে হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছে অনেকেই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ শুরু করলেও প্রয়োজনীয় বৈধ কাগজপত্র না থাকায় তারা মার্কিন অভিবাসন কর্তৃপক্ষের নজরে পড়েন। পরে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে তাদের আটক করে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়। ব্র্যাক জানিয়েছে, অনিয়মিত অভিবাসনের পথে বিপুল অর্থ ব্যয় করেও অনেক বাংলাদেশিকে শেষ পর্যন্ত দেশে ফিরতে হচ্ছে। সংস্থাটি সম্ভাব্য অভিবাসীদের দালালচক্রের প্রলোভনে না পড়ে বৈধ, নিরাপদ ও নিয়মতান্ত্রিক অভিবাসনের পথ বেছে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক সময়ে অনিয়মিত অভিবাসনের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার হওয়ায় বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের পাশাপাশি বাংলাদেশিদেরও ফেরত পাঠানোর ঘটনা বেড়েছে। অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈধ নথিপত্র ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান বা প্রবেশের চেষ্টা করলে গ্রেপ্তার, আটক এবং নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।
উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের অন্যতম পছন্দের গন্তব্য। বিশেষ করে সোশ্যাল সায়েন্সে পিএইচডি করতে আগ্রহীদের কাছে দেশটি আকর্ষণীয়, কারণ অধিকাংশ প্রোগ্রামেই পূর্ণ অর্থায়ন, গবেষণাকেন্দ্রিক প্রশিক্ষণ, শিক্ষাদানের অভিজ্ঞতা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ের একাডেমিক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে। তবে বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভাগভেদে ভিন্ন হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন। যুক্তরাষ্ট্রের বেশিরভাগ সোশ্যাল সায়েন্স পিএইচডি প্রোগ্রামে আবেদনের সময় পূর্ণাঙ্গ গবেষণা প্রস্তাব (রিসার্চ প্রপোজাল) জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। সাধারণত আবেদনকারীদের স্টেটমেন্ট অব পারপাসে গবেষণার আগ্রহ, সম্ভাব্য গবেষণার ক্ষেত্র এবং যেসব অধ্যাপকের সঙ্গে কাজ করতে চান, সেসব বিষয় তুলে ধরতে হয়। এর ফলে একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করা তুলনামূলক সহজ হয়। পূর্ণ অর্থায়নও যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বড় আকর্ষণ। বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে শিক্ষার্থীরা টিউশন ফি মওকুফ, মাসিক স্টাইপেন্ড, স্বাস্থ্যবীমা এবং গবেষণা বা আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণের জন্য অতিরিক্ত অর্থসহায়তা পেয়ে থাকেন। যদিও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কিছু সেলফ-ফান্ডেড প্রোগ্রাম চালু হয়েছে, তবুও শীর্ষস্থানীয় গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অধিকাংশ সোশ্যাল সায়েন্স পিএইচডি এখনো সম্পূর্ণ অর্থায়নের আওতায় পরিচালিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের পিএইচডি প্রোগ্রামের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো বিস্তৃত কোর্সওয়ার্ক। গবেষণার পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা কোয়ান্টিটেটিভ ও কোয়ালিটেটিভ গবেষণা পদ্ধতি, রিসার্চ ডিজাইন, তাত্ত্বিক কাঠামো এবং বিষয়ভিত্তিক উন্নত কোর্স সম্পন্ন করেন। ফলে গবেষণা পরিকল্পনা, তথ্য বিশ্লেষণ এবং একাডেমিক লেখালেখিতে দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি হয়। সোশ্যাল সায়েন্সের অনেক বিভাগে প্রচলিত ডিসার্টেশন কাঠামোও অন্যান্য দেশের তুলনায় আলাদা। অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি দীর্ঘ মনোগ্রাফের পরিবর্তে তিন বা চারটি গবেষণাপত্রের সমন্বয়ে ডিসার্টেশন সম্পন্ন করার সুযোগ থাকে। এসব গবেষণাপত্র সাধারণত আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশযোগ্য মানের হওয়ায় শিক্ষার্থীরা চাকরির বাজারে প্রবেশের আগেই গবেষণা প্রকাশনার অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারেন। বিশ্বব্যাপী একাডেমিক অঙ্গনে যুক্তরাষ্ট্রের পিএইচডির গ্রহণযোগ্যতা দীর্ঘদিনের। পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, সমাজবিজ্ঞান, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, পাবলিক পলিসি, ননপ্রফিট স্টাডিজসহ বিভিন্ন বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণা পরিকাঠামো এবং আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন অধ্যাপকদের তত্ত্বাবধান শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক গবেষণা পরিবেশে কাজ করার সুযোগ বাড়ায়। গবেষণার পাশাপাশি পেশাগত নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্র এগিয়ে। দেশটিতে নিয়মিত আয়োজিত হয় সমাজবিজ্ঞান, জনপ্রশাসন, পাবলিক পলিসি, ব্যবস্থাপনা ও অন্যান্য বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলন। এসব সম্মেলনে গবেষণাপত্র উপস্থাপনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক ও সম্ভাব্য নিয়োগদাতাদের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পান। বেশিরভাগ পিএইচডি শিক্ষার্থী পড়াশোনার সময় টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্ট বা রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। অনেক ক্ষেত্রে তারা পরবর্তী সময়ে নিজস্ব কোর্সও পরিচালনা করার সুযোগ পান। এতে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষাদানের বাস্তব অভিজ্ঞতা তৈরি হয়, যা ভবিষ্যতে শিক্ষকতা বা গবেষণাভিত্তিক চাকরির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পিএইচডি সম্পন্ন করার পর যুক্তরাষ্ট্রে পোস্টডক্টরাল ফেলোশিপ, ভিজিটিং স্কলার, ভিজিটিং অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর, লেকচারার এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসরসহ বিভিন্ন ধরনের একাডেমিক ও গবেষণামূলক পদে আবেদন করার সুযোগ থাকে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ডিগ্রি নিয়ে ইউরোপ, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের বিশ্ববিদ্যালয় এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানে কাজের সুযোগও তুলনামূলকভাবে বিস্তৃত। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, সব বিশ্ববিদ্যালয় বা বিভাগে সুযোগ-সুবিধা এক রকম নয়। অর্থায়ন, কোর্সের কাঠামো, গবেষণার পরিবেশ এবং কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা বিশ্ববিদ্যালয় ও বিষয়ভেদে ভিন্ন হতে পারে। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ভর্তি নীতি
যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা শেষে চাকরি করতে আগ্রহী বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ১ লাখ মার্কিন ডলারের নতুন ফি আরোপের প্রস্তাব বিবেচনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। প্রস্তাবটি কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার পর কাজ করার অন্যতম প্রধান সুযোগ ‘অপশনাল প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং কর্মসূচিতে অংশ নিতে এই অর্থ দিতে হতে পারে। তবে পরিকল্পনাটি এখনও আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে, চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়নি। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, এই ফি আরোপের বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) পর্যালোচনা করছে। প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলে এটি ট্রাম্প প্রশাসনের বৈধ অভিবাসন আরও সীমিত করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে বিবেচিত হবে। ওপিটি কর্মসূচির আওতায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক বা স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করার পর নিজ নিজ বিষয়ে এক থেকে তিন বছর পর্যন্ত কাজের সুযোগ পান। বিশেষ করে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত (স্টেম) বিষয়ে স্নাতকদের জন্য এই কর্মসূচি দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের কাছে যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার বড় আকর্ষণ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। ২০২৪ সালে প্রায় ৪ লাখ ১৯ হাজার বিদেশি শিক্ষার্থী ওপিটির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত ছিলেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন ফি শিক্ষার্থী, বিশ্ববিদ্যালয় নাকি নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান- কে বহন করবে, সে বিষয়েও এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। একই সঙ্গে ডিএইচএস ওপিটি কর্মসূচির নিয়মকানুন পুনর্গঠনের জন্য একটি বিস্তৃত নীতিমালাও প্রস্তুত করছে, যা চলতি বছরের শেষ দিকে প্রকাশ করা হতে পারে। ডিএইচএসের এক মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেছেন, আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত কোনো নীতিকেই চূড়ান্ত হিসেবে দেখা উচিত নয়। সংস্থাটি বৈধ অভিবাসন ব্যবস্থার সুষ্ঠু পরিচালনা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন নীতি নিয়ে নিয়মিত আলোচনা করছে। প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা নেওয়ার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে। এর প্রভাব বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তি, গবেষণা কার্যক্রম এবং প্রযুক্তি ও আর্থিক খাতের দক্ষ জনবল নিয়োগেও পড়তে পারে। অন্যদিকে, অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের পক্ষে থাকা গোষ্ঠীগুলোর দাবি, বর্তমান ওপিটি কর্মসূচি কিছু ক্ষেত্রে বিদেশি কর্মীদের কম খরচে নিয়োগের সুযোগ তৈরি করে। এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন এইচ-১বি ভিসার ক্ষেত্রেও ১ লাখ ডলারের ফি আরোপের উদ্যোগ নিয়েছিল। তবে সেই উদ্যোগ আদালতে স্থগিত হয়ে যায়। নতুন প্রস্তাবটি সেই নীতির বিকল্প হিসেবে সামনে আনা হচ্ছে কি না, তা নিয়েও ওয়াশিংটনজুড়ে আলোচনা চলছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস ও তাঁর স্বামী ডগ এমহফ ক্যালিফোর্নিয়ার মালিবুর অভিজাত পয়েন্ট ডিউম এলাকায় প্রায় ৮.১৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে একটি বাড়ি কিনেছেন। তবে এই বাড়ি কেনার পর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে এলাকার জনসংখ্যাগত বৈশিষ্ট্য। কয়েকটি মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এলাকাটিতে কৃষ্ণাঙ্গ বাসিন্দার সংখ্যা অত্যন্ত কম, যা নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। নিউইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, পয়েন্ট ডিউম এলাকার বাসিন্দাদের বড় অংশই শ্বেতাঙ্গ এবং কৃষ্ণাঙ্গ বাসিন্দার হার খুবই কম। প্রতিবেদনে এই বিষয়টিকে কমলা হ্যারিসের দীর্ঘদিনের বর্ণবৈষম্যবিরোধী রাজনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে তুলনা করে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তবে এসব মূল্যায়ন প্রতিবেদনের নিজস্ব বিশ্লেষণ; এ বিষয়ে কমলা হ্যারিস বা তাঁর প্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ৪ হাজার বর্গফুটের এই বাড়িতে চারটি শয়নকক্ষ ও ছয়টি বাথরুম রয়েছে। পাহাড়চূড়ায় অবস্থিত বাড়িটি থেকে প্রশান্ত মহাসাগরের দৃশ্য দেখা যায়। সম্পত্তিটির সঙ্গে সীমিত প্রবেশাধিকারযুক্ত লিটল ডিউম সৈকতে যাওয়ার বিশেষ সুবিধাও রয়েছে, যা দীর্ঘদিন ধরেই মালিবুর অন্যতম অভিজাত আবাসিক এলাকা হিসেবে পরিচিত। কমলা হ্যারিস ও ডগ এমহফ এর আগে লস অ্যাঞ্জেলেসের ব্রেন্টউড এলাকায় বসবাস করতেন। চলতি বছরের শুরুতে তাঁদের মালিবুতে নতুন বাড়ি কেনার খবর প্রথম প্রকাশ্যে আসে। যুক্তরাষ্ট্রে কোনো জনপ্রতিনিধি বা সাবেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার ব্যক্তিগত আবাসন নির্বাচন প্রায়ই জনআলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। তবে কোনো এলাকার জনসংখ্যাগত গঠনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বা ব্যক্তিগত অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো স্বাধীন প্রমাণ বর্তমানে প্রকাশ্যে নেই। ফলে বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ সামনে আসছে।
বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি অনুসারী, স্টেডিয়ামভর্তি ভক্ত আর জনপ্রিয়তার শীর্ষে ওঠার বহু আগে আইশোস্পিডের সবচেয়ে বড় ভরসা ছিলেন তাঁর মা। ছোট্ট একটি ঘর থেকে অল্প কয়েকজন দর্শক নিয়ে ভিডিও বানানোর সময়ও ছেলের স্বপ্নকে ছাড়তে দেননি তিনি। আর সেই বিশ্বাসের প্রতিদান দিচ্ছেন বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় এই স্ট্রিমার। ড্যারেন জেসন ওয়াটকিনস জুনিয়র, যিনি ‘আইশোস্পিড’ নামে পরিচিত, বিভিন্ন সাক্ষাৎকার ও লাইভস্ট্রিমে জানিয়েছেন, শৈশবে তাদের পরিবারের আর্থিক অবস্থা খুব একটা ভালো ছিল না। মা একাই পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়ে সন্তানদের বড় করেছেন। সে সময় ইউটিউবে ভিডিও বানিয়েও তেমন কোনো আয় হতো না, তবু ছেলের স্বপ্নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াননি তিনি। মাত্র ২১ বছর বয়সেই আইশোস্পিড বিশ্বের সবচেয়ে পরিচিত অনলাইন কনটেন্ট নির্মাতাদের একজন। ইউটিউব লাইভস্ট্রিম, বিনোদনমূলক ভিডিও এবং বিভিন্ন ভাইরাল মুহূর্তের মাধ্যমে তিনি কোটি কোটি দর্শকের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন। বর্তমানে তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুসারীর সংখ্যা কয়েক কোটিতে পৌঁছেছে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে, আইশোস্পিড তাঁর আয় থেকে মাকে প্রতি মাসে ১ লাখ মার্কিন ডলার করে দেন। তবে এ তথ্যের পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক নথি বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ প্রকাশিত হয়নি। বিভিন্ন অনলাইন পোস্ট ও প্রতিবেদনেই এ দাবি উঠে এসেছে, কিন্তু অর্থের পরিমাণ নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্যও প্রচারিত হয়েছে। তবে একটি বিষয় নিয়ে তেমন দ্বিমত নেই, আইশোস্পিড একাধিকবার প্রকাশ্যে বলেছেন, জীবনের কঠিন সময়ে পাশে থাকা মায়ের অবদান তিনি কখনো ভুলবেন না। তাঁর সাফল্যের পেছনে মায়ের উৎসাহ ও সমর্থনের কথা তিনি বিভিন্ন সময়ে তুলে ধরেছেন। অনেকের কাছে এই গল্প শুধু একজন জনপ্রিয় ইউটিউবারের সাফল্যের নয়, বরং কঠিন সময়ে সন্তানের পাশে থাকা একজন মায়ের বিশ্বাস এবং সেই বিশ্বাসের প্রতিদানের গল্প।
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তাপপ্রবাহের ঝুঁকি বাড়তে থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটি নগরজুড়ে বৃক্ষের আচ্ছাদন বাড়ানোর নতুন পরিকল্পনা নিয়েছে। গত আট বছরে ১০ লাখ গাছ রোপণের উদ্যোগের সুফল দৃশ্যমান হওয়ার পর এবার ২০৪০ সালের মধ্যে শহরের মোট ভূমির ৩০ শতাংশ এলাকাকে বৃক্ষাচ্ছাদনের আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে নগর কর্তৃপক্ষ। নিউইয়র্ক সিটির কর্মকর্তাদের মতে, শহরের বিভিন্ন এলাকায় পরিণত বয়সে পৌঁছানো গাছগুলো এখন গ্রীষ্মের তীব্র গরম কমাতে ছায়া দিচ্ছে, বায়ুর মান উন্নত করছে এবং বাসিন্দাদের জন্য বসবাসের পরিবেশ আরও আরামদায়ক করে তুলছে। একই সঙ্গে বৃক্ষ শহরের বৃষ্টির পানি শোষণে সহায়তা করে জলাবদ্ধতার ঝুঁকি কমায় এবং নগর পরিবেশকে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় আরও সহনশীল করে তোলে। নগর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে নিউইয়র্কের প্রায় ২৩ শতাংশ এলাকা বৃক্ষাচ্ছাদনের আওতায় রয়েছে। নতুন ‘আরবান ফরেস্ট’ পরিকল্পনার লক্ষ্য হলো এই হার বাড়িয়ে ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশে উন্নীত করা। এজন্য নতুন গাছ লাগানোর পাশাপাশি বিদ্যমান বড় গাছ সংরক্ষণ, নিয়মিত পরিচর্যা এবং ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতেও বৃক্ষ রোপণে উৎসাহ দেওয়া হবে। পরিকল্পনায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে সেই সব এলাকাকে, যেখানে গাছের সংখ্যা কম এবং তাপপ্রবাহের প্রভাব তুলনামূলক বেশি। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিম্নআয়ের অনেক পাড়ায় পর্যাপ্ত বৃক্ষ না থাকায় সেসব এলাকায় গরমের তীব্রতা বেশি অনুভূত হয়। তাই নতুন কর্মসূচিতে তাপঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। নিউইয়র্ক সিটি পার্কস বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সংস্থাটি বর্তমানে শহরের পার্কে থাকা প্রায় ২০ লাখ গাছ এবং সড়কের পাশে থাকা আরও প্রায় ৬ লাখ ৬০ হাজার গাছের পরিচর্যা করে। ২০২৪ অর্থবছরে শহরে ১৮ হাজারের বেশি নতুন গাছ লাগানো হয়েছে, যা গত আট বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। একই সঙ্গে অতিরিক্ত বিনিয়োগের মাধ্যমে ২০২৭ সালের মধ্যে সবচেয়ে তাপঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোর উপযুক্ত সব স্থানে নতুন গাছ লাগানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। নগর এলাকায় বৃক্ষের পরিমাণ বাড়ানো শুধু সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে না, এটি তাপমাত্রা কমাতে, বায়ুদূষণ হ্রাসে, কার্বন শোষণে, জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এবং জনস্বাস্থ্য উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিশ্বের বিভিন্ন শহরে তাপপ্রবাহ বাড়তে থাকায় নিউইয়র্কের এই উদ্যোগকে ভবিষ্যৎ নগর পরিকল্পনার একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক শীর্ষ সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ এবং ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যালার্জি অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস এর সাবেক পরিচালক ড. অ্যান্থনি ফাউসিকে ঘিরে বুধবার উত্তপ্ত হয়ে ওঠে সিনেটের একটি তদন্তমূলক শুনানি। রিপাবলিকান নেতৃত্বাধীন কমিটির সদস্যরা কোভিড-১৯ মহামারি মোকাবিলা, উহানের গবেষণাগারে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়ন, সরকারি নীতিনির্ধারণ এবং কংগ্রেসে দেওয়া পূর্ববর্তী সাক্ষ্য নিয়ে একের পর এক কঠিন প্রশ্ন করেন। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ফাউসি যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ‘ফিফথ অ্যামেন্ডমেন্ট’ বা আত্মঅভিযোগ এড়ানোর সাংবিধানিক অধিকার ব্যবহার করে সরাসরি উত্তর দিতে অস্বীকৃতি জানান। শুনানির শুরু থেকেই সবচেয়ে আক্রমণাত্মক অবস্থানে ছিলেন কমিটির চেয়ারম্যান রিপাবলিকান সিনেটর র্যান্ড পল। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি ফাউসির বিরুদ্ধে কোভিড-১৯-এর উৎস, উহান ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজির গবেষণা এবং যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলে আসছেন। এদিনও তিনি জানতে চান, উহানের গবেষণায় মার্কিন অর্থায়নের বিষয়ে ফাউসি কি কংগ্রেসকে বিভ্রান্ত করেছিলেন, কোভিড-১৯-এর উৎস সম্পর্কে জনগণকে ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছিল কি না এবং তিনি পূর্ববর্তী সাক্ষ্যে সত্য গোপন করেছিলেন কি না। প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের জবাবে ফাউসি একই অবস্থান নেন। তিনি বলেন, আইনজীবীর পরামর্শে তিনি ‘ফিফথ অ্যামেন্ডমেন্ট’-এর অধিকার ব্যবহার করছেন। ফলে এসব প্রশ্নের বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করবেন না। এরপর রিপাবলিকান সদস্যরা মহামারির সময় নেওয়া বিভিন্ন সরকারি সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাদের প্রশ্নের কেন্দ্রবিন্দু ছিল লকডাউন, স্কুল বন্ধ, মাস্ক ব্যবহারের নির্দেশনা, টিকা নীতি এবং জনস্বাস্থ্যবিষয়ক সরকারি বার্তা। তারা জানতে চান, এসব সিদ্ধান্তের ফলে যে সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে ফাউসি কোনো ভুল স্বীকার করেন কি না। কিন্তু এসব প্রশ্নেরও সরাসরি উত্তর দেননি ফাউসি। তিনি বারবার একই সাংবিধানিক অধিকার ব্যবহার করে নীরব থাকেন। শুনানিতে রিপাবলিকান সিনেটর জশ হাওলি ফাউসির নীরবতার সীমা যাচাই করতে কয়েকটি অত্যন্ত সাধারণ প্রশ্নও করেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি দিনের নাম, ফাউসির পরা টাইয়ের রং এবং শুনানিকক্ষের কার্পেটের রং সম্পর্কেও প্রশ্ন করেন। কিন্তু এসব প্রশ্নের ক্ষেত্রেও ফাউসি উত্তর না দিয়ে ‘ফিফথ অ্যামেন্ডমেন্ট’ ব্যবহার করেন। অন্য রিপাবলিকান সদস্য বার্নি মোরেনো মহামারির সময় ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ মানুষের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি জানতে চান, চাকরি হারানো মানুষ, ক্ষতিগ্রস্ত ছোট ব্যবসার মালিক কিংবা দীর্ঘ সময় স্কুল বন্ধ থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের কাছে ফাউসি ক্ষমা চাইবেন কি না। এসব প্রশ্নেরও কোনো সরাসরি জবাব দেননি সাবেক এই স্বাস্থ্য কর্মকর্তা। তবে শুনানির শুরুতে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে ফাউসি বলেন, বহু বছর ধরে তাকে আইনি ও রাজনৈতিকভাবে লক্ষ্যবস্তু বানানোর চেষ্টা চলছে। তার ভাষ্য, চলমান পরিস্থিতিতে যেকোনো বক্তব্য ভবিষ্যতে আইনি জটিলতার কারণ হতে পারে। সে কারণেই তিনি আইনজীবীর পরামর্শে সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগ করছেন। অন্যদিকে র্যান্ড পল দাবি করেন, ফাউসির নীরবতা জনস্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোর জবাব এড়িয়ে যাওয়ার শামিল। তার অভিযোগ, সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের দেওয়া প্রি-এম্পটিভ ক্ষমার পরও ফাউসির ‘ফিফথ অ্যামেন্ডমেন্ট’ ব্যবহার করার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তিনি জানান, কমিটি ফাউসির বিরুদ্ধে কংগ্রেস অবমাননার অভিযোগ আনার বিষয়টি বিবেচনা করবে। শুনানিতে রিপাবলিকান সদস্যদের মূল প্রশ্নগুলো ছিল উহান গবেষণাগারে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়ন, ‘গেইন অব ফাংশন’ গবেষণা, কোভিড-১৯-এর সম্ভাব্য উৎস, মহামারির সময় সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া এবং কংগ্রেসে দেওয়া পূর্ববর্তী সাক্ষ্যের সত্যতা নিয়ে। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ‘ফিফথ অ্যামেন্ডমেন্ট’ অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি এমন বক্তব্য দিতে বাধ্য নন যা ভবিষ্যতে তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলায় প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার হতে পারে। মার্কিন বিচারব্যবস্থায় এটি একটি প্রতিষ্ঠিত সাংবিধানিক অধিকার। তবে এই অধিকার ব্যবহার করা অপরাধ স্বীকার করার সমতুল্য নয়; বরং সম্ভাব্য আইনি ঝুঁকি এড়ানোর একটি সাংবিধানিক সুযোগ। দিনব্যাপী শুনানির সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ছিল, গুরুত্বপূর্ণ প্রায় সব প্রশ্নেই ফাউসির একই অবস্থান। এতে শুনানি রাজনৈতিক ও আইনি দুই দিক থেকেই নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। রিপাবলিকানরা এটিকে জবাবদিহি এড়ানোর চেষ্টা হিসেবে দেখছেন, আর ফাউসির পক্ষের যুক্তি হলো, তিনি কেবল যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান প্রদত্ত একটি অধিকার প্রয়োগ করেছেন।
মিশিগানের মেট্রো ডেট্রয়েটের বাসিন্দা ট্রেসি ব্রুমফিল্ডের জীবন বদলে দেয় এক সড়ক দুর্ঘটনা। ৩৪ বছর বয়সে মন্টানায় পার্টনার সাথে রোড ট্রিপে গিয়েছিলেন তিনি। ইয়েলোস্টোন ন্যাশনাল পার্ক ঘুরে পশ্চিম উপকূলের দিকে যাওয়ার সময় বৃষ্টিতে রাস্তায় পানি জমে গাড়ি স্কিড করে পাহাড়ের সাথে ধাক্কা খায়। দুর্ঘটনার পর দুজনকেই আপাতদৃষ্টিতে ঠিক মনে হলেও বুকে ব্যথা অনুভব করায় হাসপাতালে যান ট্রেসি। সিটি স্ক্যানে দেখা গেল, দুর্ঘটনায় কোনো আঘাত না থাকলেও অগ্ন্যাশয়ে (প্যানক্রিয়াস) একটি ভর (মাস) রয়েছে। এটি ছিল 'সলিড সিউডোপ্যাপিলারি টিউমার', অগ্ন্যাশয়ের অত্যন্ত বিরল এক ধরনের টিউমার। মেডিক্যাল জার্নাল রেডিওপিডিয়ার তথ্যমতে, এক্সোক্রাইন প্যানক্রিয়াটিক টিউমারের মাত্র ১ থেকে ২ শতাংশ হয় এই টিউমার। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই টিউমার সৌম্য (বেনাইন) হলেও প্রায় ১৫ শতাংশ ক্ষেত্রে তা মারাত্মক (ম্যালিগন্যান্ট) হতে পারে। ট্রেসির সার্জন জানান, সময়মতো অপসারণ না করলে টিউমারটি ক্যান্সারে রূপ নিতে পারত। ভাগ্যক্রমে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পুরো টিউমারটি অপসারণ করা সম্ভব হয়। তবে অগ্ন্যাশয়ের অর্ধেক অংশ কেটে ফেলায় পরবর্তীতে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হন তিনি। অস্ত্রোপচারের পর তিন মাসের মধ্যেই সেরে ওঠেন ট্রেসি। কিন্তু এই সময়টি ছিল তার জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়—দুর্ঘটনা, টিউমার আবিষ্কার, অস্ত্রোপচার এবং একই সময়ে বাবার মৃত্যু। নিউজউইককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রেসি বলেন, 'আমি পুরোপুরি ভাগ্যবান বোধ করছি যে গাড়ি দুর্ঘটনাটি ঘটেছিল এবং টিউমারটি আবিষ্কৃত হয়েছিল।' সম্প্রতি থ্রেডস অ্যাকাউন্টে পেটের দাগের ছবি শেয়ার করে তিনি লেখেন, 'অন্তত একটি মজার গল্প তো আছে!' চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা বলছেন, প্যানক্রিয়াসের টিউমার প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো উপসর্গ দেয় না বলে তা শনাক্ত করা কঠিন। ট্রেসির মতো আকস্মিক আবিষ্কারই অনেক ক্ষেত্রে রোগীকে বাঁচিয়ে দেয়। এই ঘটনা নিয়মিত চিকিৎসা পরীক্ষার গুরুত্ব ও সচেতনতার বার্তা দেয় বলেও মনে করছেন তারা।
যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গোর আজ বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ঢাকা সফরে আসছেন। এটি বাংলাদেশের ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দেশটিতে কোনো মার্কিন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার প্রথম সফর । তিন দিনের এই সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সাথে বৈঠক করবেন তিনি । গোর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এবং বর্তমানে তিনি ভারতেও যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন । তার এই সফরকে বিশ্লেষকরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলছেন, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্প্রতি চীন সফরের পরিপ্রেক্ষিতে । জুন মাসে চীন সফরে প্রতিরক্ষা, শিল্প ক্লাস্টার স্থাপন এবং তিস্তা নদীর উন্নয়ন ও পুনর্বাসন প্রকল্পে সম্মত হয়েছে বাংলাদেশ । ওয়াশিংটনের উদ্বেগের মূল কারণ চীনের এই ক্রমবর্ধমান প্রভাব এবং সম্প্রতি চীনের আগ্রহ মিয়ানমারের সাথে একটি অর্থনৈতিক করিডোর স্থাপনে । যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান প্রতিপক্ষ চীন বাংলাদেশের সামুদ্রিক অঞ্চলে নৌ ও সামুদ্রিক সুবিধা স্থাপনে আগ্রহী, যা ওয়াশিংটনের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক । বিশেষ দূত গোর এই ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থান স্পষ্ট করতে চাইবেন । পাশাপাশি, ডিজিটাল খাতে চীনের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা রোধ করাও ওয়াশিংটনের অন্যতম লক্ষ্য । এর অংশ হিসেবে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত ‘অ্যাগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোক্যাল ট্রেড’ (এআরটি)-এর ডিজিটাল খাত সংশ্লিষ্ট ধারা বাস্তবায়নে চাপ দিতে পারেন তিনি । এই চুক্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের ডিজিটাল পণ্যের প্রতি বৈষম্যমূলক কোনো পদক্ষেপ নিতে পারবে না । ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক দেলওয়ার হোসেন মনে করেন, এই সফরে গোর মূল্যায়ন করবেন কীভাবে বাংলাদেশ ট্রাম্প প্রশাসনের ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈদেশিক নীতির অগ্রাধিকারের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ । অন্যদিকে, অর্থনীতিবিদ ড. মাহফুজ কবির বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সম্প্রতি আরোপিত ১০ শতাংশ মার্কিন শুল্ক প্রত্যাহার এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য নীতি সংস্কারের দাবি জানানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন । সফরের শেষ দিন বিশেষ দূত সার্জিও গোর কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শনে যাবেন । পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান সম্প্রতি ফিলিপাইনের ম্যানিলায় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সাথে বৈঠকে রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেছেন । রাজনৈতিক দলের নেতা, পেশাজীবী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সাথেও মতবিনিময় করবেন গোর । পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় এই সফর নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করছে ‘আমেরিকা বাংলা’।
যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক তৎপরতা বাড়িয়েছে। ইরানের ভূখণ্ডে নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। মঙ্গলবার ইরানের পক্ষ থেকে চালানো এক সিরিজ আকস্মিক হামলার জবাব হিসেবে এই সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে বলে পেন্টাগন সূত্রে জানা গেছে। খবরটি নিশ্চিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে। গত মঙ্গলবারের ঘটনার পর থেকে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন নৌবাহিনীর অবস্থানও জোরদার করা হয়েছে। যদিও এখন পর্যন্ত হামলায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কিনা, তা স্পষ্ট নয়। যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক পদক্ষেপের মধ্যেই তেলের দাম আবারও বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্যও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি, তবে তেহরানের কূটনৈতিক সূত্রগুলো এই হামলাকে 'আগ্রাসন' হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। এই প্রতিবেদন পরিস্থিতি অত্যন্ত পরিবর্তনশীল। সিরিজ হামলার পর পুরো অঞ্চলজুড়ে বাড়তি নিরাপত্তা জারি করা হয়েছে। পরিস্থিতির আরও অবনতি এড়াতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ জরুরি বৈঠক ডেকেছে বলে জানা গেছে।
আমেরিকার জনপ্রিয় পাইকারি খুচরা বিক্রেতা কোস্টকো হোলসেল কর্পোরেশন ১৪ মিলিয়ন ডলার পরিশোধে সম্মত হয়েছে একটি মামলার নিষ্পত্তিতে। অভিযোগ ছিল, প্রমোশনাল ইমেইলের সাবজেক্ট লাইনে মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে গ্রাহকদের জরুরি কেনাকাটার চাপ তৈরি করেছিল প্রতিষ্ঠানটি। প্রতিষ্ঠানটি যদিও কোনো দোষ স্বীকার করেনি, তবে এড়িয়ে যাওয়ার ঝামেলা এড়াতেই তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। 'মাইকেল আলান্ড বনাম কোসকো হোলসেল কর্পোরেশন' শীর্ষক এই মামলার প্রাথমিক শুনানি হয়েছে ওয়াশিংটনের কিং কাউন্টি সুপিরিয়র কোর্টে। মামলার অভিযোগ, ২০২১ সালের ২ জুন থেকে ২০২৬ সালের ৭ জুলাইয়ের মধ্যে কোস্টকো যে সমস্ত প্রমোশনাল ইমেইল পাঠিয়েছে, তার সাবজেক্ট লাইনে লেখা ছিল "আজ সদস্য-এক্সক্লুসিভ সঞ্চয়ের শেষ দিন" অথবা "হট বাই শুধুমাত্র ৫ দিনের জন্য উপলব্ধ" — যা আসলে শেষ সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। প্রতিষ্ঠানটি অভিযোগ জানায়, বিক্রয় শেষ হওয়ার সময় পেরিয়ে গেলেও প্রমোশনগুলো বাড়ানো হত। ওয়াশিংটনের কমার্শিয়াল ইলেকট্রনিক মেইল অ্যাক্ট ও কনজিউমার প্রোটেকশন অ্যাক্ট লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয় এই মামলায়। ওই আইন অনুযায়ী, বিভ্রান্তিকর বাণিজ্যিক ইমেইল পাওয়া প্রতি ইমেইলের জন্য সর্বোচ্চ ৫০০ ডলার পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ পাওয়ার বিধান রয়েছে। তবে এই নিষ্পত্তি থেকে প্রতিজন কত টাকা পাবেন, তা নির্ভর করবে কতজন বৈধ দাবি জানান তার ওপর। যেহেতু মোট তহবিল নির্দিষ্ট, তাই বেশি লোক দাবি জানালে প্রত্যেকের ভাগ কমবে। ওয়াশিংটন রাজ্যের বাসিন্দা যাঁরা নিম্নলিখিত শর্ত পূরণ করেন, তাঁরাই এই নিষ্পত্তির আওতায় পড়তে পারেন: ২০২১ সালের ২ জুন থেকে ২০২৬ সালের ৭ জুলাইয়ের মধ্যে কোস্টকো বা তাদের পক্ষ থেকে কোনো বাণিজ্যিক ইমেইল পেয়েছেন,ইমেইল পাওয়ার সময় ওয়াশিংটন রাজ্যের বাসিন্দা ছিলেন,ইমেইল ঠিকানাটি কোস্টকোর রেকর্ডে সংরক্ষিত ছিল। যোগ্য ব্যক্তিদের ২০২৬ সালের ২৪ আগস্টের মধ্যে একটি দাবিপত্র (ক্লেইম ফর্ম) জমা দিতে হবে। এজন্য কোনো কেনাকাটার রসিদ বা অতিরিক্ত প্রমাণের প্রয়োজন নেই। দাবি জানানোর সবচেয়ে দ্রুত উপায় হলো অনলাইনে ওয়াশিংটনকমার্শিয়ালইমেইলসেটেলমেন্ট ডটকম-এ গিয়ে ফর্ম পূরণ করা। যাঁরা ইতিমধ্যে ইমেইলে নোটিফিকেশন পেয়েছেন, তাঁরা সেখানে উল্লেখিত ক্লেইম আইডি ব্যবহার করতে পারবেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি না জানালে কোনো অর্থই পাওয়া যাবে না। এই নিষ্পত্তি এখনও চূড়ান্ত নয়। আদালতের অনুমোদন পেতে হবে, যার শুনানি ২০২৬ সালের ২ অক্টোবর সিয়াটলে অনুষ্ঠিত হবে। তবেই অর্থ বিতরণ করা সম্ভব। যাঁরা এই নিষ্পত্তির আওতায় পড়েন কিন্তু দাবি জানান না, তাঁরা ভবিষ্যতে কোস্টকোর বিরুদ্ধে এই একই বিষয়ে আলাদা মামলা করতে পারবেন না। অন্যদিকে, যাঁরা আলাদাভাবে মামলা করার অধিকার সংরক্ষণ করতে চান, তাঁদের ২৪ আগস্টের মধ্যে এই নিষ্পত্তি থেকে বেরিয়ে যেতে হবে (অপ্ট-আউট)। মামলার নথি অনুযায়ী, এই মামলার সম্ভাব্য ক্লাস সদস্যের সংখ্যা প্রায় ৩৩ লাখ ৪০ হাজার। তবে সবাই দাবি জানাবেন না, তাই প্রকৃত অর্থপ্রাপ্তির পরিমাণ এখনও অনিশ্চিত। এই নিবন্ধের তথ্য ফক্স বিজনেস ও আদালতের নথির ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরগুলোতে অভিবাসন কর্মকর্তাদের অভিযান এখন নতুন মাত্রা পেয়েছে। শুধু অবৈধ অভিবাসীরাই নন, বৈধ ভিসা ও গ্রিনকার্ডধারীদেরও তল্লাশির মুখে পড়তে হচ্ছে। অন্তত ১৫টি বিমানবন্দরে বাড়তি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। যাত্রীদের বাড়তি সতর্কতা দিচ্ছেন অভিবাসন আইনজীবীরা। তাঁদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে উঠলেও ঝুঁকি এড়াতে পারেন না কেউ। সম্প্রতি ক্যালিফোর্নিয়ার সান ফ্রান্সিসকো বিমানবন্দরে এক মা ও তাঁর মেয়েকে আটকের ঘটনা ভাইরাল হয়েছে। অন্যদিকে টেক্সাসে কানাডার এক নাগরিক ও তাঁর প্রতিবন্ধী মেয়েকে আটক করা হয়েছে বলে জানা গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভিসা নবায়ন বা গ্রিনকার্ডের আবেদন প্রক্রিয়াধীন থাকলেও বিমানে চড়া এড়িয়ে চলা উচিত। কারণ সম্প্রতি আইসিই কর্মকর্তারা চেক-ইন কাউন্টার ও বোর্ডিং গেটে প্লেইনক্লথে অবস্থান নিয়ে অভিযান চালাচ্ছেন। যদিও সরকারি ভাষ্য অনুযায়ী তাঁরা টিএসএ’র সহায়তায় যাত্রী প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন, তবে তাঁদের অভিবাসন আইন প্রয়োগের ক্ষমতা অক্ষুণ্ণ রয়েছে। আমেরিকার বিমানবন্দরগুলোর এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে গত ফেব্রুয়ারি থেকে। তখন টিএসএ’র প্রায় ৫০ হাজার কর্মী বিনাবেতনে কাজ করছিলেন, যার কারণে নিরাপত্তা জট লেগেছিল। সেই পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আইসিই কর্মীদের বিমানবন্দরে মোতায়েনের নির্দেশ দেন। যদিও অভিযান বাড়ায় যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে, তবে আইনজীবীরা বলছেন, শান্ত থাকা ও নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হওয়া জরুরি। সবশেষে, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের সাবধান থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন প্রবাসী নেতারা। বৈধ কাগজপত্র সব সময় সঙ্গে রাখা, অপ্রয়োজনে ভ্রমণ এড়ানো এবং কোনো আইসিই কর্মকর্তার মুখোমুখি হলে নীরব থাকার অধিকার ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
পরিবেশ রক্ষায় এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়ে নিউ জার্সি রাজ্য। আগামী ১ আগস্ট থেকে রাজ্যজুড়ে সব রেস্তোরাঁ, ফুড ট্রাক এবং খাদ্য পরিবেশক প্রতিষ্ঠানকে প্লাস্টিকের কাটলারি, কন্ডিমেন্ট প্যাকেট এবং ন্যাপকিন স্বয়ংক্রিয়ভাবে সরবরাহ করা বন্ধ করতে হবে । "স্কিপ দ্য স্টাফ" (Skip the Stuff) নামে পরিচিত এই নতুন আইনটি গ্রাহকদের সুনির্দিষ্ট অনুরোধ ছাড়া এই ধরনের একক-ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক পণ্য সরবরাহের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে । ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে সিনেট বিল এস৩১৯৫ (S3195) হিসেবে পাস হওয়া এই আইনটি নিউ জার্সির পরিবেশ সচেতনতার ধারাবাহিকতায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক । ইতিপূর্বে ২০২২ সালে রাজ্যটি প্লাস্টিকের শপিং ব্যাগ এবং পলিস্টাইরিনের খাবারের পাত্র নিষিদ্ধ করেছিল । নতুন আইনে খাবারের অর্ডারের সময় নিম্নলিখিত নিয়মগুলি কার্যকর হবে: টেকআউট বা ডেলিভারির ব্যাগে আর স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্লাস্টিকের কাটলারি বা কন্ডিমেন্ট প্যাকেট রাখা যাবে না। গ্রাহককে সেটি সুনির্দিষ্টভাবে চাইতে হবে । অনলাইন অর্ডারে পরিবর্তন: অনলাইনে অর্ডারের ক্ষেত্রে সেটিংস 'কাটলারি বা কন্ডিমেন্ট ছাড়া' রাখা হবে। পেতে হলে গ্রাহককে সক্রিয়ভাবে অপ্ট-ইন করতে হবে । ডাইন-ইনে বাধ্যবাধকতা: যেসব রেস্তোরাঁয় ১০ বা তার বেশি আসন রয়েছে, সেখানে বসে খাওয়ার জন্য পুনঃব্যবহারযোগ্য ধাতব কাটলারি সরবরাহ করতে হবে । স্ব-সেবা ব্যবস্থা: আলাদা প্যাকেটে না বেঁধে, খোলা ডিসপেনসার থেকে গ্রাহকরা প্রয়োজন অনুযায়ী কাটলারি নিতে পারবেন । এই আইনের কিছু ব্যতিক্রমও রয়েছে। প্রাক-প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় (কে-১২), স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান, কাউন্টি ও রাজ্যের কারাগার, এবং প্রাক-প্যাকেটজাত খাবারের সাথে প্রস্তুতকালীন সংযুক্ত কাটলারি এই নিয়মের আওতার বাইরে থাকবে । এছাড়া, ফুড কোর্টের দোকানগুলোকে ২০২৮ সালের ১ আগস্ট পর্যন্ত এই আইন মেনে চলার জন্য সময় দেওয়া হয়েছে । আইন অমান্য করলে জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। প্রথমবার অমান্য করলে সতর্কতা, দ্বিতীয়বার অমান্য করলে ১০০ ডলার এবং তৃতীয় ও পরবর্তী প্রতিটি অমান্য করলে ২৫০ ডলার জরিমানা দিতে হবে । এই জরিমানার অর্থ 'ক্লিন কমিউনিটিজ প্রোগ্রাম ফান্ডে' জমা হবে, যা আবর্জনা পরিষ্কার ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে ব্যবহৃত হবে । রাজ্য কর্তৃপক্ষ এই নতুন আইন সম্পর্কে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে 'কাট দ্য কাটলারি' শীর্ষক একটি প্রচারাভিযান শুরু করেছে । নিউ জার্সি ডিপার্টমেন্ট অফ এনভায়রনমেন্টাল প্রোটেকশনের মতে, এই আইনের লক্ষ্য অপচয় হ্রাস করা এবং রাস্তাঘাট ও জলাশয় থেকে অব্যবহৃত প্লাস্টিক দূর করা । নিউ জার্সি কনজারভেশন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক অ্যালিসন মিচেল বলেছেন, "একটি সরল ও বুদ্ধিমান পদক্ষেপের মাধ্যমে আমরা অযথা প্লাস্টিক দূষণ কমাতে পারি এবং ব্যবসায়ীদেরও খরচ বাঁচাতে সাহায্য করতে পারি" । শেষ পর্যন্ত, নিউ জার্সির বাসিন্দাদের এখন খাবার অর্ডার করার সময় প্লাস্টিকের কাটলারি ও কন্ডিমেন্টের প্রয়োজন আছে কিনা তা নিয়ে সচেতন হতে হবে এবং সেটি আলাদাভাবে অনুরোধ করতে হবে। নতুন নিয়ম মেনে চলতে এবং অভ্যস্ত হতে বিশেষজ্ঞরা কয়েকদিন আগে থেকেই প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন ।
যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যে একটি ডে-কেয়ার কর্মীর বিরুদ্ধে পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুকে বারবার একটি আলমারির ভেতরে আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ জানিয়েছে, শিশুটিকে আটকে রাখার সময় ওই কর্মী ডে-কেয়ার ছেড়ে মদ কিনতে বাইরে গিয়েছিলেন বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত কর্মীর নাম ২৯ বছর বয়সী তাশশাভিয়ন স্টিনসন। পুলিশের অভিযোগ, তিনি শুধু শিশুটিকে আটকে রাখেননি, বরং তাকে ঝাড়ু দিয়ে আঘাত করেছিলেন, দিনের বেলায় খাবার দেননি এবং দুপুরের ঘুমের সময় কম্বলও দিতে অস্বীকৃতি জানান। তদন্তকারীদের দাবি, ডে-কেয়ারের নজরদারি ক্যামেরার ভিডিওতে দেখা গেছে, ঝাড়ু দিয়ে আঘাত করার পর শিশুটিকে একটি আলমারির ভেতরে রাখা হয়। ঘটনাগুলো চলতি বছরের মে মাসে ঘটে বলে জানিয়েছে পুলিশ। স্টিনসন ওই ডে-কেয়ারে প্রায় ১০ বছর ধরে কাজ করছিলেন। তদন্তে পুলিশ আরও জানিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি অতীতে মদ্যপানের সমস্যার কথা স্বীকার করেন এবং কাজের আগে কয়েকবার মদ পান করেছিলেন বলেও জানিয়েছেন। ঘটনার পর স্টিনসনের বিরুদ্ধে শিশুর অবহেলার অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। তবে অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাকে আইনগতভাবে দোষী বলা যাবে না। শিশুটির পরিবারের জন্য ঘটনাটি আরও বেদনাদায়ক হয়ে উঠেছে। যেই জায়গাটিকে তারা সন্তানের নিরাপত্তার জন্য বিশ্বাস করেছিলেন, সেই ডে-কেয়ারই এখন শিশুটির কাছে ভয়ের জায়গা হয়ে উঠেছে বলে জানিয়েছে পরিবার।
ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা ক্রুজ সমুদ্রসৈকতে ভয়ংকর ঢেউয়ের মধ্যে ঝাঁপিয়ে পড়ে এক শিশুর জীবন বাঁচানো ১৬ বছর বয়সী এক লাইফগার্ড এখন জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। তার সাহসিকতায় মুগ্ধ হয়ে তাকে হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ জানিয়ে সম্মান জানানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ঘটনাটি ঘটে সান্তা ক্রুজের সিব্রাইট স্টেট বিচে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, শক্তিশালী ঢেউয়ের আঘাতে একটি শিশু সাগরে ভেসে গেলে ওই কিশোর লাইফগার্ড ঝুঁকি নিয়ে পানিতে নেমে তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। উত্তাল ঢেউয়ের মধ্যেও তিনি শিশুটিকে শক্ত করে ধরে রাখেন এবং পরে আরেকজন লাইফগার্ডের সহায়তায় তাকে নিরাপদে তীরে ফিরিয়ে আনা হয়। উদ্ধার করা শিশুটির বয়স আনুমানিক ১০ বছর বলে জানা গেছে। তাকে চিকিৎসকদের পরীক্ষা করানোর পর পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। গুরুতর কোনো আঘাতের খবর পাওয়া যায়নি। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ওই কিশোরের সাহসিকতার প্রশংসা শুরু হয়। পরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, তিনি ওই লাইফগার্ড ও তার পরিবারকে হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ জানাতে চান এবং তাকে একটি বিশেষ বেসামরিক সম্মান দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন। ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট পার্কস জানিয়েছে, বিপজ্জনক সমুদ্র পরিস্থিতির মধ্যেও লাইফগার্ডরা নিয়মিত মানুষের জীবন রক্ষায় কাজ করে থাকেন। ওই সপ্তাহান্তে সান্তা ক্রুজ এলাকায় বড় ঢেউয়ের কারণে একাধিক উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের উদ্ধার অভিযান অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। প্রশিক্ষণ ছাড়া সাধারণ মানুষ এমন পরিস্থিতিতে পানিতে নামলে নিজেরাও বিপদে পড়তে পারেন। পেশাদার লাইফগার্ডদের প্রশিক্ষণ ও দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাই অনেক সময় জীবন বাঁচাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই ঘটনা আবারও সমুদ্র নিরাপত্তা ও লাইফগার্ডদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
বনাঞ্চলের দাবানল থেকে ছড়িয়ে পড়া ধোঁয়া মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, এই ধোঁয়ার দূষিত কণাগুলো নারী ও পুরুষ উভয়ের প্রজনন স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। গবেষকদের মতে, দাবানলের ধোঁয়ায় থাকা ক্ষুদ্র দূষণ কণা শরীরে প্রবেশ করে প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে এবং হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে। এর ফলে পুরুষদের শুক্রাণুর গুণগত মান ও সংখ্যা কমে যেতে পারে এবং নারীদের ক্ষেত্রে ডিম্বাণুর স্বাস্থ্য ও গর্ভধারণের সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে দাবানলের ঘটনা বাড়ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহ ও শুষ্ক আবহাওয়া তৈরি হওয়ায় বড় আকারের দাবানলের ঝুঁকিও বাড়ছে। গবেষণায় দেখা গেছে, দাবানলের ধোঁয়ায় থাকা সূক্ষ্ম কণা বা পিএম ২.৫ শরীরের গভীরে প্রবেশ করতে পারে। এসব কণা রক্তপ্রবাহের মাধ্যমে বিভিন্ন অঙ্গে পৌঁছে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস ও প্রদাহ বাড়াতে পারে, যা প্রজনন ব্যবস্থার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, বিশেষ করে গর্ভধারণের পরিকল্পনা করছেন এমন নারী এবং সন্তান নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন এমন পুরুষদের দীর্ঘ সময় দাবানলের ধোঁয়ার সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা গুরুত্বপূর্ণ। তবে গবেষকরা আরও জানিয়েছেন, প্রজনন ক্ষমতার ওপর দাবানলের ধোঁয়ার সঠিক প্রভাব বুঝতে আরও বিস্তৃত গবেষণা প্রয়োজন। ব্যক্তির বয়স, জীবনযাপন, পূর্ববর্তী স্বাস্থ্য পরিস্থিতি এবং দূষণের মাত্রার ওপরও এর প্রভাব নির্ভর করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, দাবানলের সময় বাইরে বের হলে সতর্ক থাকা, বায়ুর মান পর্যবেক্ষণ করা এবং প্রয়োজন হলে সুরক্ষামূলক মাস্ক ব্যবহার করা উচিত।
যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলিনাভিত্তিক বিখ্যাত নৌকা নির্মাতা প্রতিষ্ঠান গ্র্যাডি-হোয়াইট বোটসের মালিক এডি স্মিথ জুনিয়র নিজের কোম্পানি বিক্রি করে প্রায় ৪০ কোটি ডলার পাওয়ার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও সেটি দান করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ভবিষ্যতে কোম্পানির মুনাফা বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় হবে, এমন একটি কাঠামো তৈরি করে তিনি প্রতিষ্ঠানের মালিকানা একটি ‘পারপাস ট্রাস্ট’-এর কাছে হস্তান্তর করেছেন। ৮৩ বছর বয়সী এডি স্মিথ ১৯৬৮ সালে আর্থিক সংকটে থাকা গ্র্যাডি-হোয়াইট বোটস কিনেছিলেন। দীর্ঘ কয়েক দশকে তিনি প্রতিষ্ঠানটিকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম স্বনামধন্য উচ্চমানের মাছ ধরার নৌকা প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কোম্পানিটি বিক্রির জন্য শত শত মিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব এলেও তিনি তা গ্রহণ করেননি। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এডি স্মিথের একমাত্র ছেলে ক্রিস স্মিথ কয়েক বছর আগে মারা যাওয়ার পর কোম্পানির ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি নতুন করে ভাবতে শুরু করেন। পরে আউটডোর পোশাক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান প্যাটাগোনিয়ার প্রতিষ্ঠাতা ইভন শুইনার্ডের দাতব্য মালিকানা কাঠামো থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে একই ধরনের উদ্যোগ নেন। নতুন ব্যবস্থায় কোম্পানিটি ব্যক্তিগত মালিকানায়ই পরিচালিত হবে। ব্যবসার প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ বাদ দিয়ে যে মুনাফা থাকবে, তা একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণ, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও অন্যান্য জনকল্যাণমূলক খাতে ব্যয় করা হবে। একই সঙ্গে কোম্পানির কর্মীদের বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা, লাভের অংশীদারিত্ব এবং প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘদিনের সংস্কৃতি অক্ষুণ্ন থাকবে। এডি স্মিথ বলেন, জীবনে তিনি যে সফলতা অর্জন করেছেন, তা সমাজের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়াই তার বিশ্বাস। তিনি বিলাসবহুল জীবনযাপনের পরিবর্তে নিজের সম্পদের বড় অংশ জনকল্যাণে কাজে লাগাতে চান। বিশ্লেষকদের মতে, বড় কোনো প্রতিষ্ঠানের মালিকের এভাবে বিক্রির বিপুল অর্থ ছেড়ে দিয়ে কোম্পানিকে স্থায়ীভাবে জনকল্যাণের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করার ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে এখনও খুবই বিরল। প্যাটাগোনিয়ার পর গ্র্যাডি-হোয়াইট বোটস এ ধরনের মালিকানা কাঠামো গ্রহণ করা অন্যতম বড় বেসরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রে স্বাস্থ্যসেবার মান, ব্যয় ও চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ বিবেচনায় ২০২৬ সালের সেরা ও সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা অঙ্গরাজ্যের তালিকা প্রকাশ করেছে ব্যক্তিগত অর্থবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ওয়ালেটহাব। এবারের মূল্যায়নে মিনেসোটা দেশের সেরা স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার অধিকারী অঙ্গরাজ্য হিসেবে শীর্ষে রয়েছে, আর সর্বশেষ অবস্থানে রয়েছে মিসিসিপি। ওয়ালেটহাব ৫০টি অঙ্গরাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসিকে মোট ৪৪টি সূচকের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করেছে। এসব সূচকের মধ্যে স্বাস্থ্যসেবার ব্যয়, চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ এবং চিকিৎসার ফলাফলকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিনেসোটার পাশাপাশি আইওয়া, রোড আইল্যান্ড, উটাহ ও নিউ হ্যাম্পশায়ারও শীর্ষ পাঁচে স্থান পেয়েছে। অন্যদিকে মিসিসিপির পাশাপাশি ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া, আলাস্কা, আরকানসাস ও ওকলাহোমা তালিকার নিচের দিকে রয়েছে। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যেসব অঙ্গরাজ্যে চিকিৎসকের প্রাপ্যতা বেশি, স্বাস্থ্যবিমা সহজলভ্য এবং চিকিৎসার মান উন্নত, সেসব রাজ্য সামগ্রিকভাবে ভালো অবস্থানে রয়েছে। বিপরীতে স্বাস্থ্যসেবা ব্যয় বেশি, চিকিৎসক সংকট এবং দুর্বল স্বাস্থ্যসূচক থাকা রাজ্যগুলো পিছিয়ে পড়েছে। ওয়ালেটহাবের বিশ্লেষক চিপ লুপো বলেন, ভালো স্বাস্থ্যসেবা বলতে শুধু উন্নত চিকিৎসার মান বোঝায় না; সেটি মানুষের জন্য সাশ্রয়ী হওয়াও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তার মতে, ব্যয়বহুল কিন্তু সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে থাকা স্বাস্থ্যব্যবস্থা যেমন কার্যকর নয়, তেমনি কম খরচের হলেও নিম্নমানের চিকিৎসাসেবাও গ্রহণযোগ্য নয়। প্রতিবছর প্রকাশিত এই র্যাঙ্কিং যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের স্বাস্থ্যব্যবস্থার তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন মূল্যায়ন নীতিনির্ধারকদের স্বাস্থ্যসেবার দুর্বল দিকগুলো চিহ্নিত করে উন্নয়নের পদক্ষেপ নিতে সহায়তা করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের নতুন হামলার হুমকির প্রেক্ষাপটে তেহরানকে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে ইরানের বিরুদ্ধে আবারও শক্তিশালী সামরিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। মার্কিন প্রশাসনের বক্তব্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে লোহিত সাগর ও সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হুথিদের হামলার আশঙ্কা বেড়েছে। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, এসব কর্মকাণ্ডে ইরানের সমর্থন রয়েছে। যদিও তেহরান বরাবরই হুথিদের ওপর সরাসরি নিয়ন্ত্রণ বা হামলার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এখনো কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা রাখতে চায়। তবে আলোচনা ফলপ্রসূ না হলে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়লে সামরিক পদক্ষেপ থেকে ওয়াশিংটন পিছিয়ে থাকবে না। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক চাপের কারণেই ইরান আলোচনায় আগ্রহ দেখাচ্ছে। অন্যদিকে ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো সরাসরি আলোচনা চলছে না; প্রয়োজনে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান হচ্ছে। এদিকে হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের তেল-সম্পর্কিত স্থাপনা ও জাহাজ চলাচলের ওপর নতুন হামলার দাবি করেছে। এসব হামলা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ও সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ওমান, কাতার, চীন ও পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশ কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্ট করেছে, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে সামরিক বিকল্পও বিবেচনায় থাকবে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান, হুথি বিদ্রোহী এবং যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে চলমান উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন অস্থিতিশীলতার ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।