যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশিদের কাছে বোয়াল, আইড়, পাবদা, টেংরা, শিং ও মাগুর মাছের চাহিদা বরাবরই বেশি। তবে কয়েক বছর ধরে এসব দেশীয় মাছ যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশি গ্রোসারি স্টোরগুলোতে প্রায় দেখা যায় না। ফলে অনেক প্রবাসী কানাডা, বিশেষ করে টরন্টো থেকে এসব মাছ সংগ্রহ করছেন। এতে অনেকের মনে প্রশ্ন উঠেছে—বাংলাদেশ থেকে এসব মাছ কেন আর যুক্তরাষ্ট্রে আসছে না? আবার কি আমদানি শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে?
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিষয়টি কোনো একক নিষেধাজ্ঞার কারণে নয়। বরং যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য নিরাপত্তা আইন, আমদানি নীতিমালা এবং নির্দিষ্ট কিছু মাছের ক্ষেত্রে কঠোর পরিদর্শন ব্যবস্থার সঙ্গে এটি সম্পর্কিত।
২০১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রে Siluriformes বা ক্যাটফিশ-জাতীয় মাছের আমদানার দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের অধীন Food Safety and Inspection Service (FSIS)-এর কাছে হস্তান্তর করা হয়। এই শ্রেণির মধ্যে বোয়াল, আইড়, মাগুর, শিংসহ বাংলাদেশে জনপ্রিয় বেশ কয়েকটি মাছ অন্তর্ভুক্ত। এসব মাছ যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করতে হলে সংশ্লিষ্ট দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও পরিদর্শন ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রের মানের সমতুল্য (Equivalent) হিসেবে স্বীকৃত হতে হয়।
বর্তমানে বাংলাদেশ এখনো সেই সমতুল্য স্বীকৃতি পায়নি। ফলে বাংলাদেশ থেকে এসব ক্যাটফিশ-জাতীয় মাছ যুক্তরাষ্ট্রে বাণিজ্যিকভাবে রপ্তানির অনুমতি নেই। এ কারণেই দেশীয় বাজারে জনপ্রিয় হলেও বোয়াল, আইড়, শিং বা মাগুর মাছ যুক্তরাষ্ট্রের দোকানগুলোতে পাওয়া যায় না।
অন্যদিকে পাবদা ও টেংরা মাছের ক্ষেত্রেও খাদ্য নিরাপত্তা, প্রক্রিয়াজাতকরণ, লেবেলিং এবং আমদানি-সংক্রান্ত বিভিন্ন শর্ত পূরণ করতে হয়। অতীতে বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি হওয়া কিছু মাছে খাদ্য নিরাপত্তা-সংক্রান্ত অনিয়ম ধরা পড়ায় যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো নজরদারি আরও কঠোর করে।
২০১৯ সালে নিউইয়র্কে বাংলাদেশ থেকে নিষিদ্ধভাবে ক্যাটফিশ-জাতীয় মাছ আমদানির অভিযোগে কয়েকজন ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে মামলাও হয়। ওই ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়া এসব মাছ আমদানি করা আইনবিরোধী।
বাংলাদেশি প্রবাসীদের একটি অংশ জানান, যুক্তরাষ্ট্রে এসব মাছ না পাওয়ায় অনেকে কানাডার টরন্টো থেকে ব্যক্তিগতভাবে সংগ্রহ করেন। তবে ব্যক্তিগতভাবে সীমান্ত পার হয়ে খাদ্যপণ্য আনার ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্রের কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশনের (CBP) নিয়ম প্রযোজ্য। তাই অনুমতি ছাড়া বা ঘোষণা না দিয়ে এসব খাদ্যপণ্য বহন করলে তা জব্দ হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
তাহলে কি ভবিষ্যতে আবার বাংলাদেশ থেকে এসব মাছ যুক্তরাষ্ট্রে আসতে পারে?
খাদ্য নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তবে তার জন্য বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্রের FSIS-এর নির্ধারিত খাদ্য নিরাপত্তা, পরিদর্শন, উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ-সংক্রান্ত সব শর্ত পূরণ করে সমতুল্য স্বীকৃতি অর্জন করতে হবে। এরপরই বাণিজ্যিকভাবে এসব মাছ রপ্তানির পথ খুলতে পারে।
এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র বা বাংলাদেশ—কোনো দেশের কর্তৃপক্ষই বাংলাদেশ থেকে বোয়াল, আইড়, পাবদা, টেংরা, শিং বা মাগুর মাছের বাণিজ্যিক আমদানি পুনরায় চালুর বিষয়ে নতুন কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি। ফলে আপাতত এসব দেশীয় মাছ আবার যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ফিরবে কি না, তা নির্ভর করছে ভবিষ্যতে দুই দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও আমদানি-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণের ওপর।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ক্যারোলাইনা অঙ্গরাজ্যে ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত অসুস্থ স্বামীকে রক্তাক্ত ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে একা ফেলে বন্ধুদের সঙ্গে ডিনারে যাওয়ার অভিযোগে ৬৬ বছর বয়সী এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে একজন অসহায় প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিকে অবহেলা ও নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে। নর্থ চার্লস্টন পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, রোববার এক বৃদ্ধকে বাড়ির বারান্দায় একা বসে থাকতে দেখে একজন উদ্বিগ্ন ব্যক্তি কর্তৃপক্ষকে খবর দেন। ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই পুলিশ সদস্যরা বাড়ি থেকে তীব্র দুর্গন্ধ টের পান। পুলিশ জানায়, বারান্দায় থাকা বৃদ্ধ ব্যক্তি বিভ্রান্ত অবস্থায় ছিলেন এবং স্পষ্টভাবে কথা বলতে পারছিলেন না। তার শরীরে দৃশ্যমান আঘাত ও রক্তের চিহ্ন ছিল। পরিস্থিতি দেখে সঙ্গে সঙ্গে জরুরি চিকিৎসাসেবা (ইএমএস) ডাকা হয়। গ্রেপ্তার হওয়া নারী তেরেসা মেরি মিলস পুলিশকে জানান, তার স্বামী ডিমেনশিয়ায় ভুগছেন। তিনি স্বীকার করেন, শনিবার তার স্বামী পড়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি বা ৯১১ নম্বরে ফোনও করেননি। বরং সেদিন রাতে বন্ধুদের সঙ্গে ডিনারে বেরিয়ে যান এবং স্বামীকে বাড়িতে একা রেখে যান। পুলিশ বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে দেখতে পায়, পুরো বাড়ির পরিবেশ ছিল অত্যন্ত নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর। বিভিন্ন স্থানে মল ও প্রস্রাবের দাগ ছড়িয়ে ছিল এবং ইঁদুরের উপস্থিতিরও প্রমাণ পাওয়া যায়। তদন্ত কর্মকর্তারা ওই পরিবেশকে “অত্যন্ত মানবেতর” বলে উল্লেখ করেছেন। পরে ওই বৃদ্ধকে জরুরি সুরক্ষামূলক হেফাজতে নিয়ে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, যেখানে তার চিকিৎসা চলছে। পুলিশ তেরেসা মেরি মিলসকে গ্রেপ্তার করে আল ক্যানন ডিটেনশন সেন্টারে পাঠিয়েছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বয়স্ক বা শারীরিক ও মানসিকভাবে অক্ষম ব্যক্তিকে অবহেলা বা নির্যাতন গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়। এমন অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ফৌজদারি শাস্তির বিধান রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ম্যারিল্যান্ডের গ্লেন বার্নিতে অবস্থিত ১০ তলাবিশিষ্ট 'এম্পায়ার টাওয়ার্স' অফিস ভবনটির কাঠামোগত ক্ষতির কারণে হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়া ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য আর্থিক সহায়তা ঘোষণা করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সাহায্য করতে হাজার হাজার ডলারের আর্থিক সহায়তা বা অনুদান দেওয়ার এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত ৯ জুলাই ভবনটির পার্কিং গ্যারেজে অনুমতিবিহীন নির্মাণকাজের সময় কাঠামোটি ক্ষতিগ্রস্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। ভবনটি এখনও নিরাপদ না থাকায় অ্যান আরুন্ডেল কাউন্টি প্রশাসনের পক্ষ থেকে এটির চারপাশে জারি করা ১৫০ ফুটের নিরাপত্তা বেষ্টনী ও বিধিনিষেধ বজায় রাখা হয়েছে। কাউন্টি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবনের মালিক পক্ষ কাঠামোটি স্থিতিশীল ও সুরক্ষিত করতে একটি লাইসেন্সপ্রাপ্ত স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠানের সাথে কাজ করছে। চলতি সপ্তাহেই সংস্কার কাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে এবং এটি সম্পন্ন হতে প্রায় ১০ দিন সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই আকস্মিক উচ্ছেদ ও নিরাপত্তা নিষেধাজ্ঞার কারণে আশেপাশের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো চরম অচলাবস্থার মধ্যে পড়েছে। অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এখনও বন্ধ রয়েছে এবং ভবনের পার্কিং গ্যারেজে বেশ কিছু যানবাহন আটকা পড়ে আছে। এছাড়া রাস্তা বন্ধ থাকার কারণে ক্রেতাদের যাতায়াত সচল রাখতে নিরাপত্তা অঞ্চলের বাইরে বিকল্প পথ তৈরির কাজও করছে প্রশাসন। নিরাপত্তা বলয়ের ভেতরে জোরপূর্বক বন্ধ হওয়া ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সহায়তা দিতে অ্যান আরুন্ডেল ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন 'এম্পায়ার টাওয়ার্স ডিজাস্টার রিকভারি গ্রান্ট' কর্মসূচি চালু করেছে। যোগ্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো ন্যূনতম ২,৫০০ ডলারের অনুদানের জন্য আবেদন করতে পারবে। কাউন্টি কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের দ্রুত নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটে আবেদন করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।
বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্র্যান্ট (অভিবাসী) ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে স্থগিত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়ে এখনো অনেক আবেদনকারী ও তাদের পরিবারের মধ্যে অনিশ্চয়তা রয়েছে। কেউ জানতে চাইছেন, তাদের আবেদন বাতিল হবে কি না, আবার কেউ ভাবছেন পর্যটক বা শিক্ষার্থী ভিসার ওপরও এর প্রভাব পড়বে কি না। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ও ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এ বিষয়ে সাতটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জানা জরুরি। ১. এই সিদ্ধান্ত কার জন্য প্রযোজ্য? সাময়িক স্থগিতাদেশ শুধুমাত্র ইমিগ্র্যান্ট (Immigrant) ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। অর্থাৎ যেসব ভিসার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাস বা গ্রিন কার্ড নিয়ে প্রবেশের সুযোগ তৈরি হয়, সেগুলোর নতুন ভিসা ইস্যু আপাতত স্থগিত রয়েছে। ২. ট্যুরিস্ট, স্টুডেন্ট বা অন্যান্য ভিসায় কি কোনো প্রভাব পড়বে? না। পর্যটক (বি-১/বি-২), শিক্ষার্থী (এফ-১), এক্সচেঞ্জ ভিজিটর (জে-১), অস্থায়ী কর্মসংস্থানসহ অন্যান্য নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এই সিদ্ধান্তের আওতায় নয়। এসব ভিসার আবেদন ও সাক্ষাৎকার স্বাভাবিক নিয়মেই চলছে। ৩. চলমান আবেদন কি বাতিল হয়ে যাবে? না। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, স্থগিতাদেশ মানেই আবেদন বাতিল নয়। এটি মূলত নতুন ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত। ইতোমধ্যে জমা দেওয়া আবেদন বা চলমান কেস স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল করা হচ্ছে না। ৪. যাদের সাক্ষাৎকার বা কেস প্রক্রিয়াধীন, তাদের কী হবে? যেসব আবেদন ন্যাশনাল ভিসা সেন্টার (NVC) বা দূতাবাসে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, সেগুলোর প্রশাসনিক কার্যক্রম চলতে পারে। তবে স্থগিতাদেশ কার্যকর থাকা অবস্থায় নতুন ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু করা হবে না। পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী আবেদনকারীদের জানানো হবে। ৫. কেন এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে? ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, নতুন অভিবাসীরা যাতে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি কল্যাণমূলক সুবিধার ওপর অযৌক্তিকভাবে নির্ভরশীল হয়ে না পড়েন এবং যুক্তরাষ্ট্রের করদাতাদের স্বার্থ সুরক্ষিত থাকে, সে লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যমান ভিসা যাচাই-বাছাই নীতিমালা ও প্রক্রিয়া পর্যালোচনার সুযোগও তৈরি হবে বলে জানানো হয়েছে। ৬. এই সিদ্ধান্ত কি শুধু বাংলাদেশের জন্য? না। বাংলাদেশ একমাত্র দেশ নয়। মার্কিন প্রশাসনের ঘোষণায় বাংলাদেশসহ একাধিক দেশের নতুন ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে স্থগিত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট দেশের ক্ষেত্রে একই নীতিমালার ভিত্তিতেই এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। ৭. কবে আবার ইমিগ্র্যান্ট ভিসা চালু হবে? এ বিষয়ে এখনো কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা করা হয়নি। মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে, ভিসা যাচাই-বাছাই নীতিমালা পর্যালোচনা শেষ হওয়ার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানানো হবে। তাই আবেদনকারীদের গুজব বা অনির্ভরযোগ্য তথ্যের পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এবং ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার ওপর নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, যাদের ইমিগ্র্যান্ট ভিসার আবেদন বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, তাদের আতঙ্কিত না হয়ে নিজেদের কেসের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা এবং দূতাবাস বা ন্যাশনাল ভিসা সেন্টারের পরবর্তী নির্দেশনার অপেক্ষা করাই সবচেয়ে যুক্তিসঙ্গত পদক্ষেপ।