স্ত্রীর কথা বলা থামাতে ২৪ বার ছুরিকাঘাতের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রে গ্রেপ্তার স্বামী
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের মেসা শহরে স্ত্রীকে ২৪ বার ছুরিকাঘাত করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ৩২ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তদন্তকারীদের কাছে অভিযুক্ত স্বীকার করেছেন, তিনি স্ত্রীকে আঘাত করেছিলেন কারণ তিনি চেয়েছিলেন তার স্ত্রী “কথা বলা বন্ধ করুক”। ঘটনাটি পারিবারিক সহিংসতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
মেসা পুলিশ জানায়, শনিবার একটি অ্যাপার্টমেন্ট থেকে জরুরি কল পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে তারা এক নারীকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা জানান, তিনি বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত ও স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছেন।
আটক ব্যক্তির নাম নাথানিয়েল গথাম। রোববার তিনি প্রথমবারের মতো আদালতে হাজির হন। তার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে।
ম্যারিকোপা কাউন্টির প্রসিকিউটররা আদালতে জানান, ভুক্তভোগীর শরীরে অন্তত ২৪টি ছুরিকাঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এর বেশির ভাগই ছিল পিঠে। এছাড়া মাথা, ঘাড় ও মুখে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। আত্মরক্ষার চেষ্টা করার সময় তার দুই হাতেও গুরুতর জখম হয়েছে।
আদালতে প্রসিকিউটররা আরও জানান, নাথানিয়েল গথাম আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের কাছে স্ত্রীকে ছুরিকাঘাত করার কথা স্বীকার করেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্ত্রীকে আঘাত করতে চেয়েছিলেন এবং তার কথা বলা বন্ধ করতে চেয়েছিলেন।
আদালত অভিযুক্তের জামিন ৫ লাখ ডলার নির্ধারণ করেছেন। আগামী শুক্রবার তাকে আবারও আদালতে হাজির করা হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। আদালতে অভিযোগ গঠন হলেও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় ৮.১ মিলিয়ন বা ৮১ লাখ ডলারের এক বিশাল চেক জালিয়াতির অভিযোগে অ্যাডা উইলিয়াম ওবায়ুয়ানা নামের এক উদীয়মান র্যাপারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। "কোল্ডহার্টেডএসি" (ColdheartedAC) এবং "এসি" (AC) নামে পরিচিত এই র্যাপারসহ তিনজনের বিরুদ্ধে ২৫টি ভিন্ন ভিন্ন অভিযোগে ফেডারেল গ্র্যান্ড জুরিতে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। মার্কিন বিচার বিভাগ (ডিওজে) শুক্রবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে যে, এই চক্রটি আট মিলিয়নেরও বেশি মূল্যের অন্তত ৫০টি চুরি যাওয়া ইউএস ট্রেজারি চেক নিজেদের দখলে রেখেছিল এবং ক্যালিফোর্নিয়ার বিভিন্ন ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সেগুলো ভাঙানোর চেষ্টা করেছিল। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ওবায়ুয়ানা এবং তার দুই সহযোগী—ওয়েস্টমিনস্টারের অ্যালবার্ট টাই ভু (২৮) এবং সান দিয়েগোর ক্যাসান্দ্রা মারি মুরিলো (৩১)—চুরি করা চেকগুলো সংগ্রহ করে সেগুলোতে নকল স্বাক্ষর, নাম এবং ঠিকানা বসিয়ে জালিয়াতি করত। এই চক্রটি অর্থ আত্মসাতের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খুলেছিল এবং ভুক্তভোগীদের নাম ও তথ্যের আদলে নকল ব্যবসায়িক নথিপত্র তৈরি করত। পরবর্তীতে চুরি করা সেই অর্থ লস অ্যাঞ্জেলেস, অরেঞ্জ এবং সান দিয়েগো কাউন্টির বিভিন্ন ব্যাংক ও ক্রেডিট ইউনিয়নে জমা করা হতো। প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, ২০২২ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ওবায়ুয়ানা ৩ লাখ ৮২ হাজার ১০৯ ডলার মূল্যের অন্তত তিনটি ট্রেজারি ট্যাক্স রিফান্ডের চেক ভাঙানোর চেষ্টা করেন। এর মধ্যে তিনি একটি চেক সফলভাবে ভাঙিয়ে ২ লাখ ২৯ হাজার ১০৯ ডলার তুলেও নেন। বিচার বিভাগ আরও জানায়, ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে ওশানসাইডে ওবায়ুয়ানার গাড়ি থেকে ৬.১ মিলিয়ন ডলার মূল্যের ১০০টিরও বেশি চুরি করা ও জাল চেক উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে ট্যাক্স রিফান্ড, প্রবীণ ভাতা এবং সামাজিক সুরক্ষার সুবিধা সংক্রান্ত ২.৫ মিলিয়ন ডলার মূল্যের ৪৮টি চুরি করা ইউএস ট্রেজারি চেক ছিল। তার দখলে থাকা এই চেকগুলোর মধ্যে ৮টি সফলভাবে ভাঙিয়ে মোট ১.৭ মিলিয়ন ডলার আত্মসাৎ করা হয়েছিল। গত বুধবার লস অ্যাঞ্জেলেসের ফেডারেল আদালতে ওবায়ুয়ানাকে প্রথমবারের মতো হাজির করা হয়। বর্তমানে তিনি ফেডারেল কাস্টডিতে রয়েছেন এবং শুক্রবার তার রিমান্ড শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। ৩১ বছর বয়সী এই র্যাপারের বিরুদ্ধে নয়টি ব্যাংক জালিয়াতি, তিনটি চুরি করা ট্রেজারি চেক সরবরাহ এবং একটি গুরুতর পরিচয় চুরির অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়া তার সহযোগী ভু-এর বিরুদ্ধে চুরি করা ট্রেজারি চেক সরবরাহ, অর্থ পাচার এবং পরিচয় চুরির মোট ১১টি এবং মুরিলোর বিরুদ্ধে একটি চেক চুরির অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে নির্মাণসামগ্রীর দাম ৬.৭% বৃদ্ধি, চাপে আবাসন খাত ও নতুন বাড়ির বাজার
৯/১১ হা মলার ২৫তম বার্ষিকীতে নিউইয়র্কের বদলে পেন্টাগনে নি হতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন ট্রাম্প
ক্যালিফোর্নিয়ায় রোলারকোস্টারে চড়ে কোমায় তরুণী, সিক্স ফ্ল্যাগসের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ পরিবার
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় গাড়ি দুর্ঘটনায় আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গ্রেপ্তার হওয়া এক ইকুয়েডরীয় মা ও মেয়ে শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে নিজ দেশে ফিরে গেছেন। ৩৯ বছর বয়সী গ্রেস ক্যালোরো এবং তার ১৯ বছর বয়সী মেয়ে জিউলিয়ানা ক্যারিয়েল গত শুক্রবার ইকুয়েডরের রাজধানী কিটোর মারিসকাল সুক্রে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। নিজ দেশে প্রাণনাশের হুমকি ও সহিংসতা থেকে বাঁচতে তারা যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছিলেন, কিন্তু গত ২০ আগস্ট ফ্লোরিডার ওসেওলা কাউন্টির এইচসিএ ফ্লোরিডা পয়েনসিয়ানা হাসপাতালে আইসিই (ICE) এজেন্টদের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর তারা ‘স্বেচ্ছায় নির্বাসন’ বা সেলফ-ডিপোর্টের পথ বেছে নেন। ঘটনার দিন মেয়েকে নিয়ে কাজে যাওয়ার পথে তাদের গাড়িটি অন্য একটি গাড়ির ধাক্কায় বেশ কয়েকবার উল্টে যায়। এরপর তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, হাতে স্যালাইনের সুচ লাগানো অবস্থাতেই মা ও মেয়ে একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছেন এবং আইসিই এজেন্ট ও পোল্ক কাউন্টির শেরিফরা তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছেন। হাসপাতাল থেকে সরাসরি তাদের পোল্ক কাউন্টি জেলে নিয়ে যাওয়া হয়। তাদের আইনি অবস্থান নিয়ে অবশ্য দুই ধরনের বক্তব্য পাওয়া গেছে। পরিবারের দাবি, গ্রেসের একটি রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন ও বৈধ ওয়ার্ক পারমিট রয়েছে এবং তার মেয়ের ভিসার মেয়াদ ২০৩০ সাল পর্যন্ত বৈধ। অন্যদিকে, পোল্ক কাউন্টি শেরিফ অফিস ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট (DHS) জানিয়েছে, তারা দুজনেই ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও বেআইনিভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছিলেন। এই অমানবিক গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে শুক্রবার এইচসিএ পয়েনসিয়ানা হাসপাতালের বাইরে ‘হোপ কমিউনিটি সেন্টার’ এবং অন্যান্য শ্রমিক সংগঠনের কর্মীরা বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। বিক্ষোভকারীরা অভিবাসীদের চিকিৎসাসেবা নেওয়ার ক্ষেত্রে এমন ভীতি সৃষ্টির তীব্র নিন্দা জানান। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ভেরিফায়েড সদস্যদের সাথে আইনি বাধ্যবাধকতা মেনেই তারা কাজ করেছে এবং রোগীদের চিকিৎসাসেবা প্রদানে তাদের কোনো গাফিলতি ছিল না।
‘ট্রাম্প প্রশাসন আমাকে মেরে ফেলতে চায়’, বিস্ফোরক দাবি সাবেক সীমান্ত কমান্ডারের
মার্কিন অভিবাসী ভিসার অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্থগিত, কখন কাটবে অচলাবস্থা? জানুন ৩টি দৃশ্যপট
মার্কিন শেয়ারবাজারে আসছে গাঁজা কোম্পানি, তালিকাভুক্তি নিয়ে দুই স্টক এক্সচেঞ্জের লড়াই
নিউইয়র্কের ব্যস্ত মহাসড়কে নিরীহ চালকদের টার্গেট করে একের পর এক সাজানো গাড়ি দুর্ঘটনা ঘটাত একটি চক্র। তাদের মূল লক্ষ্য ছিল বীমা কোম্পানির কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ক্ষতিপূরণ আদায় করা। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। টিকটকে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওর সূত্র ধরে এই প্রতারণা চক্রের মূল হোতাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বীমা জালিয়াতির অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় হাইমে হুইরাকোচা (৫৩) এবং ভিক্টর মুরিলো (৩৪) নামের দুই প্রতারককে যথাক্রমে এক থেকে তিন বছর এবং দুই বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার কুইন্স ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি মেলিন্ডা কাটজ এই শাস্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি কাটজ জানান, এই চক্রটিকে ধরার ক্ষেত্রে তার ১৫ বছর বয়সী ছেলের দেখানো একটি টিকটক ভিডিও সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করেছে। ভিডিওটিতে দেখা যায়, বেল্ট পার্কওয়েতে একটি হোন্ডা সিভিক গাড়ি ইচ্ছাকৃতভাবে পেছনের দিকে এসে আরেকটি গাড়িকে ধাক্কা দিচ্ছে। কাটজ সাংবাদিকদের বলেন, ভিডিওটি ছিল মূলত তাদের ঘটানো তৃতীয় দুর্ঘটনার দৃশ্য। এই ভিডিওর ওপর ভিত্তি করেই তদন্ত শুরু হয় এবং হুইরাকোচা ও মুরিলোর সাজানো তিনটি দুর্ঘটনার আসল সত্য বেরিয়ে আসে। ব্রুকলিনের বাসিন্দা এই দুই প্রতারকের কৌশল ছিল অভিনব। মুরিলো গাড়ি চালিয়ে হঠাৎ ব্রেক কষতেন, যাতে পেছনের গাড়ি এসে তার গাড়িতে ধাক্কা দেয়। এরপর পেছনের সিটে বসা সহযোগীরা প্লাস্টিকের ব্যাগ দিয়ে জানালার কাঁচ ঢেকে ফেলতেন, যাতে মুরিলো সবার অগোচরে সিট পরিবর্তন করে পালিয়ে যেতে পারেন। প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের ২৪ আগস্ট বেল্ট পার্কওয়েতে ৪৭ বছর বয়সী এক নারীর গাড়ির সামনে হঠাৎ ব্রেক কষে প্রথম দুর্ঘটনাটি ঘটিয়েছিল মুরিলো। সেই ঘটনায় চক্রটি বীমা কোম্পানির কাছ থেকে ব্যক্তিগত আঘাতের ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৭৯ হাজার ডলার হাতিয়ে নেয়। এরপর ৩ অক্টোবর আরেকটি ঘটনায় মুরিলো একটি ট্রাকের সামনে ইচ্ছাকৃতভাবে দুর্ঘটনা ঘটায়। তবে ট্রাকচালক প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে তাদের চ্যালেঞ্জ করেন। এই ঘটনায় তারা ৫ হাজার ডলার আদায় করেছিল। সর্বশেষ ঘটনাটি ঘটে ১৬ অক্টোবর, যেখানে এক নারী চালকের গাড়ির সামনে হঠাৎ ব্রেক কষে দুর্ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা করে মুরিলো। নারীটি ব্রেক করে সংঘর্ষ এড়ালেও মুরিলো তার গাড়িটি রিভার্স করে সজোরে ধাক্কা দেয়। এই ঘটনার ড্যাশক্যাম ফুটেজই অনলাইনে ভাইরাল হয়ে তাদের ধরিয়ে দেয়। প্রতারণার এই মহোৎসব বন্ধ করতে নিউইয়র্ক স্টেট কঠোর অবস্থান নিয়েছে। ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি কাটজের সাথে এক সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর ক্যাথি হোকুল জানান, গত পাঁচ বছরে নিউইয়র্কে সাজানো দুর্ঘটনার পরিমাণ তিনগুণ বেড়েছে। ২০২৩ সালে প্রায় ১,৭০০টি এমন সাজানো দুর্ঘটনা ঘটেছিল, যা দেশের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এই ধরনের প্রতারক চক্র দীর্ঘদিন ধরে ত্রুটিপূর্ণ ব্যবস্থার সুযোগ নিচ্ছিল, যার ফলে সাধারণ নিউইয়র্কবাসীকে বছরে প্রায় ৪ হাজার ডলার গাড়ি বীমা ফি গুনতে হচ্ছে, যা জাতীয় গড়ের চেয়ে দেড় হাজার ডলার বেশি। গভর্নর হোকুল আশা প্রকাশ করেন, এই ধরনের প্রতারকদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের ফলে দ্রুতই সাধারণ মানুষের বীমা খরচ কমে আসবে।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে শিক্ষার্থীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে গ্রেপ্তার সাবেক শিক্ষিকা
মার্কিন নাগরিক পরিচয় দিয়ে ভোটার নিবন্ধনের অভিযোগ, ক্যালিফোর্নিয়ায় গ্রেপ্তার আইসিই-বিরোধী আন্দোলনকারী