যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলার (ওয়েস্টার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব ওয়াশিংটন) মার্কিন অ্যাটর্নি হিসেবে ফেডারেল বিচারকদের সর্বসম্মত ভোটে নিয়োগ পাওয়ার এক ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে অভিজ্ঞ প্রসিকিউটর রজার রোগফকে বরখাস্ত করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের বিচারব্যবস্থা ও নির্বাহী বিভাগের মধ্যে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
বুধবার সকালে সিয়াটলের ফেডারেল বিচারকরা রজার রোগফকে অন্তর্বর্তীকালীন মার্কিন অ্যাটর্নি হিসেবে নিয়োগ দেন। দীর্ঘদিন ধরে পদটি শূন্য থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রচলিত আইনি বিধান অনুযায়ী বিচারকরা এই নিয়োগ দেন। শপথ গ্রহণের কিছুক্ষণের মধ্যেই রোগফ হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে একটি ই-মেইল পান, যেখানে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার কথা জানানো হয়।
রোগফ দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে ফেডারেল প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি কিং কাউন্টি সুপিরিয়র কোর্টের বিচারক ছিলেন এবং পরে ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের স্বাধীন তদন্ত সংস্থার পরিচালক হিসেবেও কাজ করেছেন। আইন প্রয়োগ ও বিচারিক অভিজ্ঞতার কারণে তিনি সিয়াটলের আইন অঙ্গনে সুপরিচিত একটি নাম।
বরখাস্তের পর রোগফ বলেন, ফেডারেল বিচারকদের আস্থা অর্জন করা তার জন্য বড় সম্মানের বিষয়। একই সঙ্গে তিনি জানান, প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি তিনি বিবেচনা করছেন।
হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সাংবিধানিক ক্ষমতাবলে রোগফকে অপসারণ করেছেন। প্রশাসনের দাবি, বিচারকদের এই নিয়োগ নির্বাহী বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় ছাড়াই করা হয়েছে এবং প্রেসিডেন্টের মনোনয়ন প্রক্রিয়াকে উপেক্ষা করা হয়েছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আইনে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে দীর্ঘ সময় কোনো পদ শূন্য থাকলে সংশ্লিষ্ট জেলার ফেডারেল বিচারকদের অন্তর্বর্তীকালীন মার্কিন অ্যাটর্নি নিয়োগের সুযোগ রয়েছে। ওয়েস্টার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব ওয়াশিংটনে দীর্ঘদিন স্থায়ীভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত কোনো মার্কিন অ্যাটর্নি না থাকায় বিচারকরা সেই বিধান অনুসরণ করে রোগফকে নিয়োগ দিয়েছিলেন।
ঘটনার পর ডেমোক্র্যাট সিনেটর প্যাটি মারে প্রশাসনের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, রজার রোগফ একজন অভিজ্ঞ ও সম্মানিত আইনজীবী এবং বিচারকদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তকে অল্প সময়ের মধ্যে বাতিল করা উদ্বেগজনক।
রোগফ ইতোমধ্যে জানিয়েছেন, তিনি বরখাস্তের বৈধতা নিয়ে আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছেন। ফলে বিষয়টি এখন আদালতে গড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই মামলার মাধ্যমে ফেডারেল বিচারকদের নিয়োগক্ষমতা এবং প্রেসিডেন্টের অপসারণ-ক্ষমতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন আইনি বিতর্কের সূচনা হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলার (ওয়েস্টার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব ওয়াশিংটন) মার্কিন অ্যাটর্নি হিসেবে ফেডারেল বিচারকদের সর্বসম্মত ভোটে নিয়োগ পাওয়ার এক ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে অভিজ্ঞ প্রসিকিউটর রজার রোগফকে বরখাস্ত করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের বিচারব্যবস্থা ও নির্বাহী বিভাগের মধ্যে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বুধবার সকালে সিয়াটলের ফেডারেল বিচারকরা রজার রোগফকে অন্তর্বর্তীকালীন মার্কিন অ্যাটর্নি হিসেবে নিয়োগ দেন। দীর্ঘদিন ধরে পদটি শূন্য থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রচলিত আইনি বিধান অনুযায়ী বিচারকরা এই নিয়োগ দেন। শপথ গ্রহণের কিছুক্ষণের মধ্যেই রোগফ হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে একটি ই-মেইল পান, যেখানে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার কথা জানানো হয়। রোগফ দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে ফেডারেল প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি কিং কাউন্টি সুপিরিয়র কোর্টের বিচারক ছিলেন এবং পরে ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের স্বাধীন তদন্ত সংস্থার পরিচালক হিসেবেও কাজ করেছেন। আইন প্রয়োগ ও বিচারিক অভিজ্ঞতার কারণে তিনি সিয়াটলের আইন অঙ্গনে সুপরিচিত একটি নাম। বরখাস্তের পর রোগফ বলেন, ফেডারেল বিচারকদের আস্থা অর্জন করা তার জন্য বড় সম্মানের বিষয়। একই সঙ্গে তিনি জানান, প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি তিনি বিবেচনা করছেন। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সাংবিধানিক ক্ষমতাবলে রোগফকে অপসারণ করেছেন। প্রশাসনের দাবি, বিচারকদের এই নিয়োগ নির্বাহী বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় ছাড়াই করা হয়েছে এবং প্রেসিডেন্টের মনোনয়ন প্রক্রিয়াকে উপেক্ষা করা হয়েছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আইনে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে দীর্ঘ সময় কোনো পদ শূন্য থাকলে সংশ্লিষ্ট জেলার ফেডারেল বিচারকদের অন্তর্বর্তীকালীন মার্কিন অ্যাটর্নি নিয়োগের সুযোগ রয়েছে। ওয়েস্টার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব ওয়াশিংটনে দীর্ঘদিন স্থায়ীভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত কোনো মার্কিন অ্যাটর্নি না থাকায় বিচারকরা সেই বিধান অনুসরণ করে রোগফকে নিয়োগ দিয়েছিলেন। ঘটনার পর ডেমোক্র্যাট সিনেটর প্যাটি মারে প্রশাসনের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, রজার রোগফ একজন অভিজ্ঞ ও সম্মানিত আইনজীবী এবং বিচারকদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তকে অল্প সময়ের মধ্যে বাতিল করা উদ্বেগজনক। রোগফ ইতোমধ্যে জানিয়েছেন, তিনি বরখাস্তের বৈধতা নিয়ে আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছেন। ফলে বিষয়টি এখন আদালতে গড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই মামলার মাধ্যমে ফেডারেল বিচারকদের নিয়োগক্ষমতা এবং প্রেসিডেন্টের অপসারণ-ক্ষমতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন আইনি বিতর্কের সূচনা হতে পারে।
ইসরায়েলকে যুক্তরাষ্ট্রের বার্ষিক ৩৩০ কোটি ডলারের সামরিক সহায়তা বন্ধের প্রস্তাব প্রতিনিধি পরিষদে প্রত্যাখ্যাত হলেও ভোটের ফলাফল নতুন রাজনৈতিক বার্তা দিয়েছে। রিপাবলিকান প্রতিনিধি থমাস ম্যাসির আনা সংশোধনীতে ১০৩ জন ডেমোক্র্যাট সমর্থন জানালেও ৯৮ জন বিপক্ষে ভোট দেন এবং ১০ জন ‘উপস্থিত’ ভোট দেন। শেষ পর্যন্ত ১০৪-৩১৪ ভোটে প্রস্তাবটি বাতিল হয়। বুধবারের এই ভোটে দীর্ঘদিনের মিত্র ইসরায়েলের প্রতি ওয়াশিংটনের সামরিক সহায়তা নিয়ে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির অভ্যন্তরীণ বিভাজন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। দলটির নেতাদের মধ্যেও এ বিষয়ে মতভেদ দেখা গেছে। প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট নেতা হাকিম জেফরিস সংশোধনীর বিরোধিতা করলেও ডেমোক্র্যাটিক হুইপ ক্যাথরিন ক্লার্ক এর পক্ষে ভোট দেন। কেন্টাকির রিপাবলিকান প্রতিনিধি থমাস ম্যাসির প্রস্তাবটি ২০২৭ অর্থবছরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাজেট বিলের সঙ্গে যুক্ত ছিল। এতে ইসরায়েলের জন্য নির্ধারিত ৩৩০ কোটি ডলারের সামরিক সহায়তা বন্ধ করার পাশাপাশি ওই অর্থ বিদেশি সামরিক অর্থায়ন খাত থেকে বাদ দেওয়ার কথা বলা হয়। প্রস্তাবটি পাস হলে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল নিরাপত্তা সহায়তা কাঠামোর আওতায় দেওয়া নিয়মিত বার্ষিক সামরিক সহায়তায় বড় পরিবর্তন আসত। ভোটের ফলাফল বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে কারণ সংখ্যাগরিষ্ঠ ডেমোক্র্যাটই এবার ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা বন্ধের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। যদিও প্রস্তাবটি পাস হয়নি, দলটির ভেতরে ইসরায়েল ইস্যুতে দীর্ঘদিনের ঐকমত্য যে আর আগের মতো নেই, তা এই ভোটে স্পষ্ট হয়েছে। গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান নিয়ে ডেমোক্র্যাট ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ার বিষয়টিও সাম্প্রতিক জনমত জরিপে উঠে এসেছে। মে মাসে নিউইয়র্ক টাইমস ও সিয়েনা কলেজের এক জরিপে ৭৪ শতাংশ ডেমোক্র্যাট ভোটার ইসরায়েলকে আরও সামরিক ও অর্থনৈতিক সহায়তা দেওয়ার বিরোধিতা করেন। মাত্র ৮ শতাংশ ডেমোক্র্যাট অতিরিক্ত সহায়তার প্রতি দৃঢ় সমর্থন জানান। একই জরিপে প্রায় অর্ধেক সম্ভাব্য ডেমোক্র্যাট ভোটার মনে করেন, দলটি ইসরায়েলের প্রতি অতিরিক্ত সমর্থন দেখাচ্ছে। ম্যাসির সংশোধনীকে ঘিরে ডেমোক্র্যাটদের অবস্থানও ছিল ব্যাপকভাবে বিভক্ত। পিট আগুইলার, জেমস ক্লাইবার্ন, হাকিম জেফরিস, গ্রেগরি মিক্স, রিচি টরেস, ডেবি ওয়াসারম্যান শুল্টজসহ বেশ কয়েকজন ডেমোক্র্যাট এর বিপক্ষে ভোট দেন। অন্যদিকে ক্যাথরিন ক্লার্ক ও সাবেক স্পিকার ন্যান্সি পেলোসিসহ শতাধিক ডেমোক্র্যাট ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা বন্ধের পক্ষে অবস্থান নেন। আরও ১০ জন ডেমোক্র্যাট ভোট দেন ‘উপস্থিত’ হিসেবে। তবে এই ভোটের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ইসরায়েল নীতিতে তাৎক্ষণিক কোনো পরিবর্তন আসেনি। সংশোধনীটি প্রতিনিধি পরিষদে পাস না হওয়ায় ইসরায়েলের জন্য নির্ধারিত বার্ষিক সামরিক সহায়তা বহাল রয়েছে। কিন্তু রাজনৈতিকভাবে এই ভোটকে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির অভ্যন্তরে ইসরায়েল নীতি নিয়ে চলমান পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। গাজা যুদ্ধ যত দীর্ঘ হচ্ছে, ততই যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা নিয়ে দেশটির রাজনীতিতে বিতর্ক তীব্র হচ্ছে। বুধবারের ভোট সেই বিতর্ককে কংগ্রেসের মেঝেতে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে—যেখানে একসময় ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তার প্রশ্নে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে প্রায় অভিন্ন অবস্থান দেখা গেলেও এখন দলটি প্রকাশ্যেই দুই ভিন্ন শিবিরে বিভক্ত।
যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি বা গ্রিন কার্ড পেতে আবেদনকারীদের কাছ থেকে ১ লাখ মার্কিন ডলারের জামানত নেওয়ার পরিকল্পনা বিবেচনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। মূলত আর্থিকভাবে দুর্বল বিদেশিদের অভিবাসন সীমিত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর বিদেশে জমা দেওয়া স্থায়ী অভিবাসী ভিসার আবেদনগুলোর ক্ষেত্রে উচ্চমূল্যের জামানত বা বন্ড চালুর প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে। কয়েকজন কর্মকর্তা এই জামানতের পরিমাণ ১ লাখ ডলার নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছেন। প্রাথমিকভাবে অল্প কয়েকটি দেশে পরীক্ষামূলকভাবে এই নীতি চালুর বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আবেদনকারীকে আগে এই অর্থ জমা রাখতে হবে। পরে তিনি যদি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জন করেন, তাহলে সেই অর্থ ফেরত দেওয়া হবে। তবে নাগরিকত্ব পেতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে। প্রশাসনের যুক্তি, এই জামানত সরকারের জন্য একটি আর্থিক নিরাপত্তা হিসেবে কাজ করবে। যদি কোনো গ্রিন কার্ডধারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে নিজের খরচ বহন করতে ব্যর্থ হন এবং সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন, তাহলে সেই ঝুঁকি মোকাবিলায় এই অর্থ ব্যবহার করা যেতে পারে। পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন, যারা যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন করতে চান, তাদের অবশ্যই আর্থিকভাবে স্বনির্ভর হতে হবে।” তিনি আরও জানান, "কিছু ভিসা আবেদনকারীর কাছ থেকে জামানত নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে, যাতে তারা যুক্তরাষ্ট্রে নিজেদের ভরণপোষণের সক্ষমতা প্রমাণ করতে পারেন"। এত বড় অঙ্কের জামানত আরোপ করা হলে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোর অনেক আবেদনকারীর পক্ষেই গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করা কঠিন হয়ে পড়বে। ফলে অভিবাসনের প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে। এ ধরনের অভিবাসী ভিসা সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের নিকটাত্মীয়—যেমন স্বামী বা স্ত্রী, বাবা-মা এবং ভাই-বোনদের জন্য ব্যবহৃত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত বছর এ ধরনের প্রায় ৫ লাখ ভিসা ইস্যু করা হয়েছিল। এর আগেও অভিবাসন কঠোর করতে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়াকরণ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়। যদিও সেই সিদ্ধান্ত এখন বিভিন্ন আদালতে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। এছাড়া জুন মাসে বিদেশি দক্ষ কর্মীদের জন্য এইচ-ওয়ান-বি ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে নিয়োগদাতাদের ওপর ১ লাখ ডলারের ফি আরোপের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছিল। তবে একজন ফেডারেল বিচারক রায় দেন, এমন ফি কার্যত করের সমতুল্য এবং কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া প্রশাসন তা আরোপ করতে পারে না। এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন ‘ট্রাম্প গোল্ড কার্ড’ নামে দ্রুত স্থায়ী বসবাসের একটি কর্মসূচি চালু করেছিল। সেই কর্মসূচিতে অংশ নিতে ১০ লাখ ডলার এবং অতিরিক্ত ১৫ হাজার ডলার আবেদন ফি নির্ধারণ করা হয়। তবে সরকারি তথ্য অনুযায়ী, মে মাস পর্যন্ত মাত্র ৩৩৮ জন আবেদন করেছিলেন এবং অনুমোদন পেয়েছিল মাত্র একটি আবেদন।