যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম নগর পুলিশ বাহিনী নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ বিভাগে (এনওয়াইপিডি) বাংলাদেশি-আমেরিকানদের উপস্থিতি গত কয়েক দশকে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একসময় হাতে গোনা কয়েকজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কর্মকর্তা এই বাহিনীতে দায়িত্ব পালন করলেও বর্তমানে বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতাদের দাবি, এনওয়াইপিডিতে এক হাজারেরও বেশি ইউনিফর্মধারী কর্মকর্তা এবং প্রায় দেড় হাজার বেসামরিক কর্মী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত। তবে এ বিষয়ে এনওয়াইপিডি পৃথক কোনো সরকারি পরিসংখ্যান প্রকাশ করে না।
বিশেষ করে ২০২৫ সালে দায়িত্ব পালনকালে নিহত বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ কর্মকর্তা দিদারুল ইসলামকে ঘিরে দেশটির মূলধারার গণমাধ্যম এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে বাংলাদেশি পুলিশ সদস্যদের অবদান নতুন করে আলোচনায় আসে।
ম্যানহাটনের একটি ভবনে বন্দুকধারীর হামলায় নিহত দিদারুল ইসলাম কর্তব্যরত অবস্থায় প্রাণ হারানো প্রথম বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিতি পান। তাঁর জানাজা ও শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে শত শত পুলিশ কর্মকর্তা, কমিউনিটি নেতা এবং সাধারণ মানুষের উপস্থিতি নিউইয়র্কে বাংলাদেশি পুলিশ সদস্যদের ক্রমবর্ধমান ভূমিকার প্রতীক হয়ে ওঠে।
বাংলাদেশি আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের (বাপা) তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সদস্যরা শুধু টহল পুলিশ হিসেবেই নয়, গোয়েন্দা শাখা, সার্জেন্ট, লেফটেন্যান্ট, পরিদর্শকসহ বিভিন্ন নেতৃত্বের পদেও দায়িত্ব পালন করছেন। নিউইয়র্কে বাংলাদেশি কমিউনিটির বিস্তারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতেও তাদের অংশগ্রহণ ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
এই অগ্রযাত্রার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বাংলাদেশি আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশি তরুণ-তরুণীদের নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থায় যোগদানে উৎসাহিত করতে পেশা-সচেতনতামূলক সেমিনার, নিয়োগবিষয়ক তথ্যসভা এবং পরামর্শমূলক কর্মসূচির আয়োজন করে আসছে। পাশাপাশি নিয়মিত রক্তদান কর্মসূচি, কমিউনিটি সেবা, শিক্ষামূলক কার্যক্রম এবং সামাজিক উদ্যোগের মাধ্যমে পুলিশ ও বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে পারস্পরিক আস্থা আরও জোরদারের কাজ করছে।
সংগঠনের কর্মকর্তারা বিভিন্ন মসজিদ, কমিউনিটি কেন্দ্র, কলেজ এবং সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে পুলিশে যোগদানের যোগ্যতা, আবেদন প্রক্রিয়া, শারীরিক প্রস্তুতি এবং পেশাগত সম্ভাবনা সম্পর্কে তরুণদের সরাসরি দিকনির্দেশনা দেন। কমিউনিটি নেতাদের মতে, এসব উদ্যোগের ফলে নিউইয়র্কে বেড়ে ওঠা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নতুন প্রজন্মের মধ্যে পুলিশ পেশার প্রতি আগ্রহ আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা জানান, বাংলাদেশি তরুণদের অনেকেই প্রথমে ট্রাফিক আইন প্রয়োগ কর্মকর্তা, বিদ্যালয় নিরাপত্তা কর্মকর্তা কিংবা অন্যান্য বেসামরিক পদে যোগ দেন। পরে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জনের পর পুলিশ প্রশিক্ষণ একাডেমিতে ভর্তি হয়ে ইউনিফর্মধারী পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে এনওয়াইপিডিতে যোগ দেন। এই পথ অনুসরণ করেই বর্তমান বাংলাদেশি পুলিশ সদস্যদের একটি বড় অংশ বাহিনীতে যুক্ত হয়েছেন।
বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ নগর পুলিশ বাহিনী এনওয়াইপিডিতে প্রায় ৩৩ হাজার ইউনিফর্মধারী পুলিশ কর্মকর্তা কর্মরত রয়েছেন। সেই বিশাল বাহিনীতে বাংলাদেশি-আমেরিকানদের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি শুধু একটি পেশাগত সাফল্যের গল্প নয়; এটি যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার সরকারি সেবায় বাংলাদেশি অভিবাসীদের অংশগ্রহণ, নেতৃত্ব, দক্ষতা এবং গ্রহণযোগ্যতারও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিফলন।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স দাবি করেছেন, দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা মহল এবং ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থার শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তিদের যোগাযোগ ছিল। তবে এপস্টিন কোনো গোয়েন্দা সংস্থার হয়ে কাজ করতেন—এমন দাবির পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো প্রকাশ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। জো রোগানের পডকাস্টে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স এপস্টিনের দীর্ঘদিনের প্রভাবশালী যোগাযোগ নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, এপস্টিনের যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতাধর মহলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল এবং ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থার উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিদের সঙ্গেও তার যোগাযোগ থাকার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। ভ্যান্স বলেন, এপস্টিনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনের বিভিন্ন ব্যক্তির সম্পর্ক ছিল। তার পরিচিতদের তালিকায় রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় দলের ব্যক্তিরাই ছিলেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। এপস্টিন ২০১৯ সালে ফেডারেল যৌন পাচারের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়ার পর কারাগারে মারা যান। এর আগে তার বিরুদ্ধে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের যৌন শোষণ ও পাচারের অভিযোগ ছিল। তার সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তি, ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদের যোগাযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে। মোসাদের সঙ্গে এপস্টিনের সম্পর্ক ছিল কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ভ্যান্স বলেন, বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন তত্ত্ব রয়েছে। তিনি বলেন, এপস্টিন হয়তো মোসাদ, সিআইএ বা অন্য কোনো “ডিপ স্টেট” কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে তিনি কোনো নির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করেননি। এদিকে এপস্টিনের গোপন নথি প্রকাশ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও ভ্যান্স মন্তব্য করেছেন। তিনি স্বীকার করেন, প্রশাসন বিষয়টি জনগণের কাছে উপস্থাপনের ক্ষেত্রে বড় ধরনের যোগাযোগগত ভুল করেছে। ভ্যান্স বলেন, শুরুতেই সব তথ্য পরিষ্কারভাবে প্রকাশ করা হলে বিভ্রান্তি কমত। তবে তিনি দাবি করেন, তথ্য গোপন করার কোনো উদ্দেশ্য প্রশাসনের ছিল না। এপস্টিন নথি প্রকাশের বিষয়টি নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন নিজ সমর্থকদের একটি অংশের সমালোচনার মুখে পড়ে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছিলেন, কেন দীর্ঘদিন ধরে থাকা নথিগুলো পুরোপুরি প্রকাশ করা হচ্ছে না। ভ্যান্স বলেন, সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল প্যাম বন্ডির একটি মন্তব্যের পর বিভ্রান্তি তৈরি হয়। বন্ডি এর আগে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, এপস্টিনের কথিত “ক্লায়েন্ট তালিকা” তার কাছে রয়েছে। পরে প্রকাশিত কিছু নথি নিয়ে আলোচনা শুরু হলে বিষয়টি আরও আলোচিত হয়। ভ্যান্স আরও বলেন, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে কিছু রাজনৈতিক সোশ্যাল মিডিয়া ব্যক্তিত্বের কাছে যে নথি দেওয়া হয়েছিল, তার বড় অংশই আগে থেকেই প্রকাশিত তথ্য ছিল। তার মতে, এর ফলে পুরো প্রক্রিয়ার ওপর মানুষের আস্থা কমে যায়। এপস্টিনের নথি ও তার সম্পর্কের বিষয়টি এখনো যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্কের একটি বড় বিষয়। তবে এপস্টিন কোনো বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার এজেন্ট ছিলেন—এমন কোনো সরকারি তদন্তের নিশ্চিত তথ্য এখনো প্রকাশিত হয়নি। এপস্টিনের সঙ্গে সম্পর্ক থাকা মানেই কোনো অপরাধে জড়িত থাকা নয়। তার পরিচিত ব্যক্তি ও যোগাযোগের বিষয়গুলো নিয়ে বিভিন্ন তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ায় তথ্য যাচাই করা হয়েছে, তবে প্রত্যেক ব্যক্তির ভূমিকা আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলাইনা অঙ্গরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব নর্থ ক্যারোলাইনা উইলমিংটন থেকে ১০ লাখ ডলারের একটি বৃত্তি তহবিল সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে একটি বিশিষ্ট কৃষ্ণাঙ্গ পরিবার। বিশ্ববিদ্যালয়টি তাদের বৃত্তির মূল ভাষা পরিবর্তন করতে না পারায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পরিবারটি। বৃত্তিটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল দীর্ঘদিনের চিকিৎসক ও শিক্ষাবিদ ড. লেরয় আপারম্যানের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল এমন শিক্ষার্থীদের সহায়তা করা, যারা আফ্রিকান আমেরিকান কমিউনিটির উন্নয়ন ও সেবায় কাজ করার প্রতিশ্রুতি রাখে। পরিবারটির অভিযোগ, ইউনিভার্সিটি অব নর্থ ক্যারোলাইনা সিস্টেমের নতুন “ইকুয়ালিটি পলিসি” বা সমতা নীতির কারণে বিশ্ববিদ্যালয়টি বৃত্তির এই নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যমূলক ভাষা আর বহাল রাখতে পারছে না। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নর্থ ক্যারোলাইনা বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবস্থা সাম্প্রতিক সময়ে বৈচিত্র্য, সমতা ও অন্তর্ভুক্তি বা DEI-সংক্রান্ত নীতিতে পরিবর্তন এনেছে। নতুন নীতির আওতায় বৃত্তি বা কর্মসূচিতে নির্দিষ্ট জাতিগত গোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়গুলো পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে। ড. আপারম্যানের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, তারা বৃত্তির উদ্দেশ্য পরিবর্তন করতে চান না। তাদের মতে, এই তহবিল শুধু আর্থিক সহায়তার জন্য নয়, বরং ড. আপারম্যানের শিক্ষা, চিকিৎসা ও কমিউনিটি সেবার আদর্শকে ধরে রাখার একটি মাধ্যম। পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১০ লাখ ডলারের এই এন্ডাওমেন্ট এখন হাওয়ার্ড ইউনিভার্সিটিতে স্থানান্তর করা হবে। ওয়াশিংটন ডিসির ঐতিহাসিক এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই ড. আপারম্যান মেডিকেল ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন। তবে বর্তমান বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তন আসছে না। তারা তাদের পড়াশোনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত আগের নিয়মেই বৃত্তির সুবিধা পেতে থাকবে বলে জানানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে DEI নীতি নিয়ে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্যাপক বিতর্ক চলছে। কিছু অঙ্গরাজ্যে কর্তৃপক্ষ বলছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সুযোগ ও সুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রে জাতিগত পরিচয়ের পরিবর্তে ব্যক্তিগত যোগ্যতা ও সমতার নীতি অনুসরণ করা উচিত। অন্যদিকে সমালোচকদের একটি অংশের দাবি, এসব পরিবর্তনের ফলে ঐতিহাসিকভাবে পিছিয়ে থাকা কমিউনিটির জন্য তৈরি বিশেষ সহায়তা কর্মসূচি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ড. লেরয় আপারম্যানের পরিবার জানিয়েছে, তাদের সিদ্ধান্ত কোনো সংঘাত তৈরির উদ্দেশ্যে নয়; বরং তারা এমন একটি প্রতিষ্ঠানে তহবিল রাখতে চান যেখানে বৃত্তিটির মূল লক্ষ্য ও মূল্যবোধ অক্ষুণ্ন থাকবে। এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বৃত্তি, বৈচিত্র্য নীতি এবং ঐতিহাসিকভাবে পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর জন্য তৈরি বিশেষ সহায়তা কর্মসূচি নিয়ে চলমান জাতীয় বিতর্ককে আবার সামনে নিয়ে এসেছে।
হলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা স্যার স্যাম নিলের মৃত্যুর কারণ প্রকাশ করা হয়েছে। “জুরাসিক পার্ক” ও “পিকি ব্লাইন্ডার্স”-এর মতো জনপ্রিয় সিনেমা ও সিরিজে অভিনয়ের জন্য পরিচিত এই অভিনেতা নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন বলে জানিয়েছেন তাঁর প্রতিনিধি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর। স্যাম নিলের মৃত্যু হয় সোমবার। তাঁর মৃত্যুকে হঠাৎ এবং অপ্রত্যাশিত বলে জানিয়েছে পরিবার। এর আগে তিনি দীর্ঘদিন একটি বিরল ধরনের রক্তের ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করেছিলেন। তবে মৃত্যুর আগে তিনি জানিয়েছিলেন, চিকিৎসার পর তাঁর ক্যানসার নিয়ন্ত্রণে এসেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ক্যানসারের চিকিৎসার কারণে তাঁর শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়েছিল। পরবর্তীতে নিউমোনিয়ার সংক্রমণ তাঁর জন্য গুরুতর হয়ে ওঠে। ১৯৯৩ সালে মুক্তি পাওয়া “জুরাসিক পার্ক” সিনেমায় ড. অ্যালান গ্রান্ট চরিত্রে অভিনয় করে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পান স্যাম নিল। এছাড়া “দ্য পিয়ানো”, “দ্য হান্ট ফর রেড অক্টোবর” এবং “পিকি ব্লাইন্ডার্স” সিরিজেও তাঁর অভিনয় দর্শকদের প্রশংসা পেয়েছে। অভিনয় জীবনে পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে কাজ করেছেন এই নিউজিল্যান্ডের অভিনেতা। হলিউডের পাশাপাশি নিজ দেশের চলচ্চিত্র শিল্পেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল। মৃত্যুর আগের সময়েও স্যাম নিল অভিনয় ও অন্যান্য কাজে সক্রিয় ছিলেন। তিনি কয়েকটি নতুন প্রজেক্টের কাজ শেষ করেছিলেন এবং নিউজিল্যান্ডের নিজের খামার ও ওয়াইন ব্যবসার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। স্যাম নিলের পরিবার জানিয়েছে, তাঁর স্মরণে নিউজিল্যান্ডে ব্যক্তিগতভাবে একটি স্মরণ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে। বিশ্বজুড়ে তাঁর ভক্ত ও সহকর্মীরা এই অভিনেতার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন এবং চলচ্চিত্র জগতে তাঁর দীর্ঘ ক্যারিয়ারের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।