আমেরিকা

নিউইয়র্কের রাস্তায় স্কেটবোর্ডার ও মার্সিডিজচালকের তর্ক থেকে হাতাহাতি, ভিডিও ভাইরাল

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: জুলাই ১৭, ২০২৬ ০:২৪
নিউইয়র্কের ইস্ট ভিলেজে গাড়িচালক ও স্কেটবোর্ডারের মধ্যে প্রকাশ্য রাস্তায় তুমুল মারামারি। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কের ইস্ট ভিলেজে গাড়িচালক ও স্কেটবোর্ডারের মধ্যে প্রকাশ্য রাস্তায় তুমুল মারামারি। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির ইস্ট ভিলেজে এক স্কেটবোর্ডার ও একটি মার্সিডিজ এসইউভির চালকের মধ্যে প্রকাশ্য রাস্তায় সংঘর্ষের ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ঘটনার ভিডিও ইতোমধ্যে লাখো মানুষ দেখেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, সংঘর্ষে গাড়িচালক আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন, তবে এখন তার অবস্থা স্থিতিশীল।

 

নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের তথ্যমতে, মঙ্গলবার সেন্ট মার্কস প্লেস ও সেকেন্ড অ্যাভিনিউয়ের কাছে এ ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে একটি মার্সিডিজ এসইউভি প্রায় স্কেটবোর্ডার ও তার সঙ্গে থাকা আরেক ব্যক্তিকে ধাক্কা দিতে যাচ্ছিল বলে অভিযোগ ওঠে। এরপর দুপক্ষের মধ্যে তর্ক শুরু হয় এবং তা দ্রুত হাতাহাতিতে রূপ নেয়।

 

ঘটনার ভিডিওতে দেখা যায়, একপর্যায়ে স্কেটবোর্ডার নিজের স্কেটবোর্ড দিয়ে এসইউভির সামনের উইন্ডশিল্ড ভেঙে ফেলেন। এরপর গাড়িচালক সেই স্কেটবোর্ড তুলে নিয়ে পাল্টা আঘাত করেন। পরে দুজনের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হলে স্কেটবোর্ডটি কয়েকবার উভয়ের হাত বদল হয়। শেষ পর্যন্ত স্কেটবোর্ডার চালককে হেডলকে আটকে রাখেন। 

 

পুলিশ জানায়, কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই স্কেটবোর্ডার সেখান থেকে চলে যান। এদিকে হেডলকের কারণে গাড়িচালক কিছু সময়ের জন্য অচেতন হয়ে পড়েন। পরে তাকে বেলভিউ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তার অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানান। 

 

এনওয়াইপিডি জানিয়েছে, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। ঘটনার ভিডিও, প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য এবং অন্যান্য আলামত সংগ্রহ করে তদন্ত চলছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Advertisement

আমেরিকা

View more
ফ্লোরিডা থিম পার্কের দ্বিতীয় প্রান্তিকের দুর্ঘটনা প্রতিবেদনে প্রকাশ্যে এলো তিন মাস আগের দর্শনার্থীর মৃত্যুর ঘটনা। ছবি: সংগৃহীত
ডিজনির জনপ্রিয় রাইডে কী ঘটেছিল দর্শনার্থীর!  তিন মাস পর প্রকাশ্যে এলো তার মৃত্যুর তথ্য

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় অবস্থিত ওয়াল্ট ডিজনি ওয়ার্ল্ডের জনপ্রিয় ‘ইটস আ স্মল ওয়ার্ল্ড’ রাইডে চড়ার সময় অসুস্থ হয়ে পড়া এক দর্শনার্থীর মৃত্যুর ঘটনা তিন মাস পর প্রকাশ্যে এসেছে। ফ্লোরিডা ডিপার্টমেন্ট অব এগ্রিকালচার অ্যান্ড কনজিউমার সার্ভিসেসের দ্বিতীয় প্রান্তিকের থিম পার্ক দুর্ঘটনা প্রতিবেদনে বিষয়টি প্রকাশ করা হয়েছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২ এপ্রিল ম্যাজিক কিংডম পার্কে ‘ইটস আ স্মল ওয়ার্ল্ড’ বোট রাইডে ওঠার সময় ৫৪ বছর বয়সী এক ব্যক্তি হঠাৎ হৃদ্‌যন্ত্রের জরুরি সমস্যায় আক্রান্ত হন। তার আগে থেকেই হৃদ্‌রোগজনিত শারীরিক জটিলতা ছিল। ঘটনাস্থল থেকে তাকে দ্রুত একটি স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলেও পরে তার মৃত্যু হয়।   ঘটনার সময় এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি। বুধবার প্রকাশিত রাজ্য সরকারের দ্বিতীয় প্রান্তিকের প্রতিবেদনের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো বিষয়টি জনসমক্ষে আসে।    ওয়াল্ট ডিজনি ওয়ার্ল্ডের ফ্যান্টাসিল্যান্ডে অবস্থিত ‘ইটস আ স্মল ওয়ার্ল্ড’ পার্কটির উদ্বোধনের পর থেকেই অন্যতম জনপ্রিয় আকর্ষণ হিসেবে পরিচিত। ধীরগতির প্রায় ১০ মিনিটের এই বোট রাইডটি সাধারণত পরিবার ও শিশুদের জন্য উপযোগী বলে বিবেচিত হয়।   প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালেও আগে থেকে শারীরিক জটিলতায় ভোগা ২২ বছর বয়সী এক নারী একই রাইডে ওঠার পর অসুস্থ হয়ে মারা যান। ফলে এই আকর্ষণটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এটি দ্বিতীয় নথিভুক্ত মৃত্যুর ঘটনা।   বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭১ সালে ওয়াল্ট ডিজনি ওয়ার্ল্ড চালুর পর থেকে পার্কটিতে প্রায় ৭০টি মৃত্যুর ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এর বেশিরভাগই দর্শনার্থীদের আগে থেকে থাকা শারীরিক অসুস্থতা বা স্বাভাবিক স্বাস্থ্যগত কারণে ঘটেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।   ঘটনার বিষয়ে ওয়াল্ট ডিজনি ওয়ার্ল্ডের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য দেওয়া হয়নি।

ফ্লোরিডা প্রতিনিধি প্রকাশ: জুলাই ১৭, ২০২৬ ১:৩২
১১.৯৯ জিপিএ নিয়ে ফ্লোরিডার ইতিহাসে সর্বোচ্চ নম্বরের অনন্য রেকর্ড গড়লেন শিক্ষার্থী বৈভব ভাস্কর। ছবি: সংগৃহীত

১১.৯৯ জিপিএ! ফ্লোরিডার এক শিক্ষার্থীর রেকর্ডে নতুন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হলো স্কুল কর্তৃপক্ষ

যুক্তরাষ্ট্রে সাইক্লোস্পোরা সংক্রমণের সম্ভাব্য উৎস হিসেবে টাকো বেলের কুচি করা লেটুসকে চিহ্নিত করেছেন তদন্তকারীরা। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের হাজারো মানুষ অসুস্থ, তদন্তে উঠে এলো জনপ্রিয় ফাস্টফুড চেইনের টাকো বেলের নাম

৫ বছরের মেয়েকে তুরস্কে থাকা মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার আইনি নির্দেশের মুখে পাদ্রি সাঈদ আবেদিনি। ছবি: সংগৃহীত

তুরস্কে থাকা মায়ের কাছেই ফিরবে ৫ বছরের শিশু, আদালতে হেরে গেলেন সাঈদ আবেদিনি

বন্ধকী ঋণ পরিশোধে ব্যর্থতায় যুক্তরাষ্ট্রে ফোরক্লোজারের হারে শীর্ষে রয়েছে ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্য। ছবি: সংগৃহীত
ফ্লোরিডায় পরিশোধে ব্যর্থ হয়ে বন্ধকী জব্দের হার ইতিহাসে সর্বোচ্চ, যুক্তরাষ্ট্রে ছয় মাসে ২১%

যুক্তরাষ্ট্রে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে বন্ধকী ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হয়ে ফোরক্লোজারের মুখে পড়া বাড়ির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। রিয়েল এস্টেট তথ্যপ্রদানকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাটমের সর্বশেষ মধ্যবর্ষের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত দেশে ২ লাখ ২৭ হাজার ৫৪৮টি সম্পত্তির বিরুদ্ধে ফোরক্লোজার কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২১ শতাংশ বেশি। এই সময়ে ফোরক্লোজারের হারে দেশের শীর্ষে রয়েছে ফ্লোরিডা।    রিয়েলটর ডটকমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফ্লোরিডায় প্রতি ১০ হাজার আবাসিক ইউনিটের মধ্যে প্রায় ২৭টি ফোরক্লোজারের আওতায় এসেছে। এই হার যুক্তরাষ্ট্রের সব অঙ্গরাজ্যের মধ্যে সর্বোচ্চ। তালিকায় এরপর রয়েছে সাউথ ক্যারোলাইনা, ইন্ডিয়ানা, ডেলাওয়্যার ও ইলিনয়।    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফোরক্লোজার কার্যক্রম শুধু সংখ্যায় বাড়েনি, আগের তুলনায় দ্রুতও শেষ হচ্ছে। চলতি বছরের প্রথমার্ধে একটি সম্পত্তির ফোরক্লোজার প্রক্রিয়া শেষ হতে গড়ে ৫৬৩ দিন লেগেছে, যা এক বছর আগের তুলনায় ১৩ শতাংশ কম এবং ২০১৩ সালের পর সবচেয়ে কম সময়।    অ্যাটমের তথ্য বলছে, কোভিড-১৯ মহামারির সময় সরকারি সহায়তা কর্মসূচির কারণে ফোরক্লোজারের হার অস্বাভাবিকভাবে কমে গিয়েছিল। তবে সেই কর্মসূচিগুলো শেষ হওয়ার পর থেকে বাজার ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরছে এবং ফোরক্লোজারের সংখ্যাও বাড়ছে। যদিও বর্তমান পরিস্থিতি ২০০৮ সালের আর্থিক সংকট-পরবর্তী সময়ের তুলনায় অনেক নিচে রয়েছে। সে সময়ের তুলনায় এখনো ফোরক্লোজারের হার কয়েক গুণ কম।    অঙ্গরাজ্যভিত্তিক তুলনায় সবচেয়ে বেশি বার্ষিক বৃদ্ধি দেখা গেছে আইডাহোতে, যেখানে ফোরক্লোজার ৫৯ শতাংশ বেড়েছে। এরপর রয়েছে কলোরাডো, জর্জিয়া, নর্থ ক্যারোলাইনা ও মিসিসিপি।    মহানগর এলাকার মধ্যে ফ্লোরিডার পুন্তা গোরদায় ফোরক্লোজারের হার সবচেয়ে বেশি। এরপর রয়েছে ফ্লোরিডার লেকল্যান্ড। এছাড়া জ্যাকসনভিল, কেপ কোরাল ও ওকালাও সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে থাকা শহরগুলোর তালিকায় রয়েছে।    এদিকে রিয়েলটর ডটকমের পৃথক এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ফোরক্লোজার শেষে ব্যাংকের মালিকানায় চলে যাওয়া এবং পরে বিক্রির জন্য বাজারে আসা বাড়িগুলো সাধারণ বাড়ির তুলনায় অনেক কম দামে বিক্রি হচ্ছে। চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত এসব বাড়ির মধ্যম বিক্রয়মূল্য সম্ভাব্য বাজারমূল্যের তুলনায় প্রায় ২৭ দশমিক ২ শতাংশ কম ছিল। একই সঙ্গে এসব সম্পত্তির প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহও তুলনামূলক বেশি।

ফ্লোরিডা প্রতিনিধি প্রকাশ: জুলাই ১৭, ২০২৬ ০:৩৪
নিউইয়র্কের ইস্ট ভিলেজে গাড়িচালক ও স্কেটবোর্ডারের মধ্যে প্রকাশ্য রাস্তায় তুমুল মারামারি। ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কের রাস্তায় স্কেটবোর্ডার ও মার্সিডিজচালকের তর্ক থেকে হাতাহাতি, ভিডিও ভাইরাল

তদন্তের পর পদত্যাগ করেছেন ন্যাশভিল পুলিশ বিভাগের সাবেক কর্মকর্তা লিসা ভিদ্রিওস। ছবি: সংগৃহীত

স্কুলের ভেতরেই সহকর্মীর সাথে অনৈতিক সম্পর্ক, তদন্তের মুখে মার্কিন নারী পুলিশের পদত্যাগ

হাডসন ইয়ার্ডসের পাশের অ্যাবিংটন হাউসে সাশ্রয়ী ভাড়ার হাউজিং লটারির আবেদন শুরু হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কে কম ভাড়ায় থাকার সুযোগ, হাডসন ইয়ার্ডসের পাশে খুলল হাউজিং লটারি

মার্কিন ভোটারদের তথ্য নিয়ে নতুন অভিযোগ তুলেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
চীন ২২ কোটি মার্কিন ভোটারের তথ্য হাতিয়ে নিয়েছে: ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন, চীন যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২২ কোটি ভোটারের তথ্য বেআইনিভাবে সংগ্রহ করেছে। তার দাবি, এতে নাগরিকদের নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বর, রাজনৈতিক দলের পরিচয় এবং ভোটার নিবন্ধনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংবেদনশীল তথ্য রয়েছে। এই অভিযোগকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী নিরাপত্তার জন্য একটি বড় হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।   বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) হোয়াইট হাউস থেকে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প বলেন, চীন ২০২০ সালের নির্বাচনী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভোটারদের বিপুল পরিমাণ তথ্য সংগ্রহ করেছে। তার ভাষায়, এই তথ্য ব্যবহার করে ভোটার নিবন্ধন জালিয়াতি বা অন্যান্য ক্ষতিকর কর্মকাণ্ড চালানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। তিনি দাবি করেন, এটি যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী তথ্যের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ধরনের আপস বা নিরাপত্তা লঙ্ঘনের ঘটনা।   ট্রাম্পের অভিযোগ অনুযায়ী, হাতিয়ে নেওয়া তথ্যের মধ্যে ভোটারদের নাম, বাসার ঠিকানা, টেলিফোন নম্বর, রাজনৈতিক দলের পরিচয় এবং ভোটার নিবন্ধনের জন্য ব্যবহৃত অন্যান্য তথ্য অন্তর্ভুক্ত ছিল। তিনি বলেন, এসব তথ্য অপব্যবহার করা হলে তা নির্বাচনী নিরাপত্তার জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তবে এই অভিযোগের পরই বিষয়টি নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিভিন্ন নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ও সংবাদমাধ্যম উল্লেখ করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ অঙ্গরাজ্যে ভোটার তালিকার মৌলিক তথ্য—যেমন নাম, ঠিকানা ও রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন নির্দিষ্ট নিয়মের আওতায় জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রেকর্ড হিসেবে পাওয়া যায়। ফলে এই ধরনের তথ্য সংগ্রহ করা আর ভোটের ফলাফল পরিবর্তন করা দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়।   চীনের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের অভিযোগের জবাবে ওয়াশিংটনে চীনা দূতাবাস অভিযোগ অস্বীকার করেছে। দূতাবাসের এক মুখপাত্র বলেন, চীন কখনোই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন বা অন্য কোনো নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করেনি এবং ভবিষ্যতেও করবে না।   এদিকে ২০২১ সালে প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর একটি অবমুক্ত মূল্যায়ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ২০২০ সালের নির্বাচনে কোনো বিদেশি রাষ্ট্র ভোটার নিবন্ধন, ব্যালট, ভোট গণনা বা নির্বাচনের ফলাফলের মতো প্রযুক্তিগত দিক পরিবর্তন করেছে এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সেই মূল্যায়নের সঙ্গে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যের পার্থক্য নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, ভোটারদের ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। তবে ভোটার তালিকার তথ্য সংগ্রহের অভিযোগ এবং নির্বাচনের ফলাফল প্রভাবিত করার অভিযোগ এক নয়। এ ধরনের অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে স্বাধীন তদন্ত ও প্রমাণ উপস্থাপনই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন তারা।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১৬, ২০২৬ ২৩:৩
টানা বৃষ্টিতে টেক্সাস হিল কান্ট্রির বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

টেক্সাসে আবারও ভয়াবহ বন্যা, জরুরি উদ্ধার অভিযানের মধ্যেই প্রাণহানি

নিউইয়র্কে বাসা ভাড়ার নিয়মে পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছে মেয়র জোহরান মামদানির প্রশাসন। ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্ক ও ভাড়াটিয়ার ক্রেডিট যাচাইয়ের খরচ বাড়ির মালিককে বহনের প্রস্তাব মামদানি প্রশাসনের

উইল ছাড়া সম্পত্তির উত্তরাধিকার নিয়ে সচেতনতামূলক তথ্য তুলে ধরেছেন আইনজীবী মোহাম্মদ মুজুমদার। ছবি: সংগৃহীত

উইল ছাড়াই সম্পত্তির উত্তরাধিকার: নিউইয়র্কের আইন নিয়ে সচেতনতামূলক বার্তা দিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ মুজুমদার

0 Comments