বিশ্বকাপের মঞ্চে আবারও নিজের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিয়েছেন আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসি। আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে আর্জেন্টিনাকে দাপুটে জয় এনে দেওয়ার পাশাপাশি বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় মিরোস্লাভ ক্লোসার রেকর্ড স্পর্শ করেছেন তিনি। তার এই পারফরম্যান্সে মুগ্ধ হয়েছেন চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা। সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মেসির বর্তমান ফর্ম নিয়ে প্রশ্ন করা হলে হাস্যরসের ভঙ্গিতে লুলা বলেন, তিনি মেসিকে ব্রাজিলের হয়ে খেলানোর জন্য সই করানোর কথা ভাবছেন। ফুটবল বিশ্বে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের ঐতিহাসিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রেক্ষাপটে ব্রাজিল প্রেসিডেন্টের এমন মন্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। যদিও এটি রসিকতা হিসেবে বলা, তবুও মেসির পারফরম্যান্স যে প্রতিপক্ষ দেশের নেতাদেরও মুগ্ধ করছে, তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে লুলার বক্তব্যে। এদিকে নিজেদের বিশ্বকাপ মিশন শুরু করেছে ব্রাজিল ড্র দিয়ে। মরক্কোর বিপক্ষে ১-১ গোলে সমতা নিয়ে মাঠ ছাড়ে সেলেসাওরা। এই প্রসঙ্গেও মন্তব্য করেন লুলা। তিনি বলেন, স্পেন কেপ ভার্দের সঙ্গে ড্র করেছে, সেটি আরও খারাপ ফলাফল। এবারের বিশ্বকাপ মেসির জন্যও বিশেষ হয়ে উঠেছে। এটি তার ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ, যা তাকে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো এবং মেক্সিকোর কিংবদন্তি গোলরক্ষক গিয়ের্মো ওচোয়ার পাশে বসিয়েছে সর্বাধিক বিশ্বকাপ খেলার রেকর্ডে। আলজেরিয়ার বিপক্ষে জয় তুলে নেওয়ার পর গ্রুপ ‘জে’-তে আর্জেন্টিনার পরবর্তী ম্যাচ অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে। ২২ জুনের ওই ম্যাচে জয় পেলে নকআউট পর্বের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে মেসির দল।
প্রায় দুই দশক ধরে আর্জেন্টিনার স্বপ্ন, আশা আর প্রত্যাশার পুরো ভার ছিল একজন মানুষের কাঁধে। তিনি লিওনেল মেসি। কিন্তু ২০২৬ বিশ্বকাপে এসে দৃশ্যপট বদলে গেছে। এবার মনে হচ্ছে, আর্জেন্টিনা আর শুধু মেসির ওপর নির্ভর করছে না। বরং বিশ্বচ্যাম্পিয়ন নতুন প্রজন্ম প্রস্তুত হয়েছে নিজেদের অধিনায়ককে এগিয়ে নিতে, তাঁর জন্য লড়তে। লিওনেল মেসি এখনও আর্জেন্টিনার অধিনায়ক। তাঁর হাতেই থাকবে আর্মব্যান্ড। দলীয় তালিকায় তাঁর নামই থাকবে সবার আগে। মঙ্গলবার কানসাস সিটিতে ম্যাচের আগে ক্যামেরার ফোকাসও থাকবে তাঁর ওপর। কিন্তু এই আর্জেন্টিনা দলে মেসির ভূমিকা এখন কেবল একজন অধিনায়কের সংজ্ঞার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তিনি হয়ে উঠেছেন এক অনুপ্রেরণার প্রতীক। এমন একজন, যিনি দেখিয়েছেন ব্যর্থতা, হতাশা আর দীর্ঘ অপেক্ষার পরও কীভাবে শেষ পর্যন্ত সাফল্য অর্জন করা যায়। ফুটবলের আবেগ নিয়ে অনেক সময় অতিরঞ্জনের অভিযোগ ওঠে। কিন্তু আর্জেন্টিনার বাস্তবতা ভিন্ন। দেশটিতে ফুটবল শুধু খেলা নয়, এক ধরনের বিশ্বাস। জাতীয় দলের জার্সি গায়ে তোলা অনেকের কাছে ধর্মীয় অনুভূতির মতো। প্রতিটি প্রজন্ম বড় হয় নায়ক, বেদনা আর পুনর্জাগরণের গল্প শুনে। সেই গল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে ধীরে ধীরে জায়গা করে নিয়েছেন মেসি। তিনি আর শুধু একটি চরিত্র নন, তিনি নিজেই হয়ে উঠেছেন পুরো গল্পের প্রতীক। কানসাস সিটিতে জড়ো হওয়া বর্তমান আর্জেন্টিনা দলের অনেক ফুটবলার ছোটবেলায় মেসির সংগ্রাম দেখেই বড় হয়েছেন। তাঁরা দেখেছেন কোপা আমেরিকার ফাইনালে একের পর এক হার। দেখেছেন সমালোচকদের প্রশ্ন, মেসি সত্যিই কি নিজের দেশকে ভালোবাসেন? দেখেছেন ২৯ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে তাঁর অবসর ঘোষণা। আবার তাঁরাই দেখেছেন সেই অবসর ভেঙে ফিরে আসা। দেখেছেন ২০২১ সালে কোপা আমেরিকার ট্রফি হাতে তোলা। এরপর কাতার বিশ্বকাপে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বিশ্বকাপ জয়। মেসির বর্তমান প্রভাবের উৎস তাঁর গোল, অ্যাসিস্ট বা অসাধারণ প্রতিভা নয়। বরং তাঁর জীবনের এই দীর্ঘ যাত্রা। আজকের আর্জেন্টিনাকে দেখলে মনে হয় না ফুটবলাররা শুধু একজন অধিনায়কের নির্দেশ অনুসরণ করছেন। বরং তাঁরা যেন একটি উত্তরাধিকার রক্ষা করছেন। হুলিয়ান আলভারেজের নিরলস চাপ, রদ্রিগো ডি পলের প্রতিটি মিডফিল্ড লড়াই কিংবা এমিলিয়ানো মার্তিনেজের অদম্য মানসিকতা কেবল কৌশলগত ফুটবলের ফল নয়। এগুলো সেই মানসিকতার প্রতিফলন, যা তারা মেসির পাশে দাঁড়িয়ে শিখেছে। অনেক সময় মনে হয়, তারা শুধু আর্জেন্টিনার জন্য খেলছে না। দলের ভেতরে হয়তো এক নীরব অনুভূতিও কাজ করছে। তারা খেলছে সেই মানুষের জন্য, যিনি প্রায় দুই দশক ধরে একাই পুরো জাতির প্রত্যাশা বহন করেছেন। এই কারণেই ২০২৬ বিশ্বকাপ মেসির আগের সব বিশ্বকাপ থেকে আলাদা। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের বেশিরভাগ সময় আর্জেন্টিনার সবকিছু ঘুরেছে তাঁকে কেন্দ্র করে। প্রত্যাশা, চাপ, সমালোচনা, আশা, হতাশা সবই এসে পড়ত তাঁর কাঁধে। এখন এই বিশ্বকাপ চলাকালীন তাঁর বয়স হবে ৩৯। শরীর আগের মতো নেই। ফিটনেস নিয়ে প্রশ্নও রয়েছে। কিন্তু আর্জেন্টিনা এবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে মাঠে নামছে এমন এক দল নিয়ে, যারা আর মেসির কাছ থেকে সবকিছু চায় না। তারা চায় মেসির উপস্থিতি। চায় তিনি মাঠে থাকুন। হয়তো কোনো অনুপ্রেরণামূলক মুহূর্তের জন্য। হয়তো মাঠের একপাশ থেকে দেওয়া একটি দৃষ্টির জন্য, যা সবাইকে মনে করিয়ে দেবে কীসের জন্য তারা লড়ছে। কিংবা শুধু এই কারণেই যে তিনি লিওনেল মেসি, এখনও মাঠে আছেন, এখনও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, এখনও হাল ছাড়েননি। সম্ভবত ২০২৬ বিশ্বকাপে মেসির সবচেয়ে বড় অবদান কোনো গোল হবে না। কোনো অ্যাসিস্টও নয়। হয়তো তাঁর সবচেয়ে বড় অবদান হবে ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বকাপের মঞ্চে আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে মাঠে নামার সেই দৃশ্য। যে জার্সি একসময় তাঁর কাছে বোঝা মনে হয়েছিল, সেটিই এখন তাঁর সবচেয়ে স্বস্তির ঠিকানা। কারণ কঠিন মুহূর্তে, যখন পা ভারী হয়ে আসে, আত্মবিশ্বাস কমে যায়, গ্যালারি নীরব হয়ে পড়ে, তখন পাশে মেসিকে দেখা দলের জন্য বাড়তি শক্তি হয়ে ওঠে। তিনি শুধু অধিনায়ক নন। তিনি এমন একজন, যাঁকে দেখে এই প্রজন্মের ফুটবলাররা বড় হয়েছে। যাঁর মতো হওয়ার স্বপ্ন তারা দেখেছে। বহু বছর আর্জেন্টিনা মেসির ওপর নির্ভর করেছে। কিন্তু ক্যারিয়ারের সবচেয়ে সুন্দর মোড়ে এসে এখন মনে হচ্ছে, মেসিও আর্জেন্টিনার ওপর নির্ভর করতে পারেন। সম্ভবত এটাই তাঁর গল্পের সবচেয়ে সুন্দর অধ্যায়। এক জীবন অপেক্ষার পর অবশেষে তিনি এমন এক জায়গায় পৌঁছেছেন, যেখানে তাঁকে আর একা দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে না।
বিশ্বমঞ্চে নিজেদের খেতাব ধরে রাখার লড়াইয়ে মাঠে নামার আগে আজ সোমবার বিকেলে এক গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ সম্মেলনে হাজির হচ্ছেন বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি। আগামীকাল মঙ্গলবার আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে মাঠে নামছে আলবিসেলেস্তেরা। সেই মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের রণকৌশল এবং দলের সার্বিক পরিস্থিতি জানাতেই আজ সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হচ্ছেন আর্জেন্টাইন এই মাস্টারমাইন্ড। আজকের এই সংবাদ সম্মেলনে কোচ স্কালোনির সাথে আর্জেন্টিনার একজন খেলোয়াড়ও উপস্থিত থাকবেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে সেই খেলোয়াড়ের নাম এখনো কৌশলগত কারণে গোপন রেখেছে আর্জেন্টিনা টিম ম্যানেজমেন্ট। ফুটবল মহলে জোর গুঞ্জন চলছে যে, আজ কোচের পাশে আসন গ্রহণ করতে পারেন স্বয়ং আলবিসেলেস্তে অধিনায়ক লিওনেল মেসি। উল্লেখ্য, ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে সৌদি আরবের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের আগের দিনও স্কালোনির সাথে সংবাদ সম্মেলনে এসেছিলেন লিওনেল মেসি। যদিও সেই উদ্বোধনী ম্যাচে আর্জেন্টিনা হেরেছিল, তবে শেষ পর্যন্ত ট্রফি জিতেছিল তারাই। চার বছর পর বিশ্বমঞ্চের প্রথম ম্যাচের আগে সেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে স্কালোনি কোনো লাকি টোটকা বা কুসংস্কারের পথ অবলম্বন করতে চান কি না, তা নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে তুমুল আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এদিকে আলজেরিয়া ম্যাচের আগে আর্জেন্টিনা শিবিরে একমাত্র নিশ্চিত দুঃসংবাদ হলো অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার নিকোলাস তাগলিয়াফিকোর ইনজুরি। বাঁ পায়ের কাফ ইনজুরির কারণে আলজেরিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে তিনি নিশ্চিতভাবেই মাঠের বাইরে থাকছেন। তবে দলের কোচিং স্টাফ আশা করছে, গ্রুপ ‘জে’-এর দ্বিতীয় ম্যাচে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে তাকে দলে পাওয়া যেতে পারে। যদিও বিষয়টি সম্পূর্ণ নির্ভর করছে তার শারীরিক রিকভারির ওপর। তাগলিয়াফিকোর এই আকস্মিক অনুপস্থিতিতে লেফট-ব্যাক পজিশনে স্কালোনি কাকে খেলাবেন, তা নিয়ে আর্জেন্টিনা দলে বেশ কিছুদিন ধরে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। গত কয়েক সপ্তাহের চোটের ধাক্কা সামলে আর্জেন্টিনা দল এখন মানসিকভাবে দারুণ চাঙ্গা অবস্থানে রয়েছে। পোলিশ রেফারি সাইমন মার্চিনিয়াকের পরিচালনায় আগামীকাল আলজেরিয়ার মুখোমুখি হবে স্কালোনির দল। তার আগে আজকের এই সংবাদ সম্মেলনে কোচ নিজেই দল নিয়ে সব ধরনের ধোঁয়াশা দূর করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
গত ১১ জুন পর্দা উঠেছে ফিফা বিশ্বকাপের ২৩তম আসরের। বিশ্বমঞ্চের এই মহাযজ্ঞ শুরু হলেও বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এখনও মাঠে নামার অপেক্ষায় রয়েছে। আগামী বুধবার সকালে ‘জে’ গ্রুপের প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়ার মুখোমুখি হবে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা। গ্রুপ পর্বে তাদের বাকি দুই প্রতিপক্ষ অস্ট্রিয়া ও জর্ডান। আলজেরিয়ার বিপক্ষে এই ম্যাচটিতে মাঠে নামার সঙ্গেই সঙ্গেই ফুটবল ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে রেকর্ড সর্বোচ্চ ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলার অনন্য কীর্তি গড়বেন লিওনেল মেসি। মাঠে নামার আগে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে ২০০৬ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত ছয়টি আসরের ছবি ভক্তদের সঙ্গে শেয়ার করে মেসি ক্যাপশনে লিখেছেন—‘২০০৬⚽২০২৬’। ২০ বছর আগের জার্মানি বিশ্বকাপ দিয়ে শুরু হওয়া এই যাত্রার শেষটা যেন একই ফ্রেমে বেঁধেছেন তিনি। মেসির পাশাপাশি চলতি আসরে পর্তুগালের ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো এবং মেক্সিকোর গুইলার্মো ওচোয়ার সামনেও ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ রয়েছে। ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ষষ্ঠ বিশ্বকাপ ছোঁয়ার পাশাপাশি এবার মেসির সামনে রয়েছে বেশ কিছু মহাকাব্যিক মাইলফলক ভাঙার সুযোগ। এর মধ্যে অন্যতম হলো বিশ্বকাপের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়া। বর্তমানে ১৬ গোল নিয়ে এই রেকর্ডের শীর্ষে আছেন জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসা। এরপর আছেন ব্রাজিলের রোনালদো নাজারিও (১৫ গোল) এবং জার্মানির গার্ড মুলার (১৪ গোল)। লিওনেল মেসি বর্তমানে ১৩টি গোল নিয়ে ফ্রান্সের জাস্ট ফন্টেইনের সঙ্গে যৌথভাবে চতুর্থ স্থানে আছেন। তবে এই রেকর্ড ভাঙার দৌড়ে মেসির একমাত্র প্রতিপক্ষ ফ্রান্সের অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপে, যিনি মাত্র ২৭ বছর বয়সে নিজের তৃতীয় বিশ্বকাপে নেমেই মেসির সমান ১৩টি গোল নিয়ে অপেক্ষায় আছেন। গোলের পাশাপাশি বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ অ্যাসিস্ট বা গোল করানোর রেকর্ডও নিজের করে নিতে পারেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত তিনি ৮টি গোলে সরাসরি সহায়তা করেছেন। ১০টি অ্যাসিস্ট নিয়ে এই তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছেন ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি পেলে। পেলেকে ছুঁতে মেসির প্রয়োজন আর মাত্র ২টি এবং এককভাবে শীর্ষে উঠতে প্রয়োজন ৩টি অ্যাসিস্ট। শুধু তাই নয়, আর্জেন্টিনা যদি এবারও ফাইনালে উঠতে পারে, তবে পেলে, কাফু, রোনালদো নাজারিও এবং জার্মানির লোথার ম্যাথাউস ও পিয়েরে লিটবারস্কির পর ইতিহাসের ষষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলার রেকর্ড স্পর্শ করবেন মেসি। ইতিমধ্যেই বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ২৬টি ম্যাচ খেলার এবং রেকর্ড ২৩০০ মিনিট মাঠে থাকার কীর্তি মেসির দখলে রয়েছে। ২০২৬ সালের এই নতুন ফরম্যাটে একটি দলের সর্বোচ্চ ৮টি ম্যাচ খেলার সুযোগ থাকায়, মেসি যদি তার ম্যাচ এবং মিনিটের এই সংখ্যাকে আরও অনেক উঁচুতে নিয়ে যান, তবে তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এক অলক্ষ্য মাইলফলক হয়ে থাকবে।
কাতারের লুসাইল স্টেডিয়ামের আলো ঝলমলে মঞ্চে গোল্ডেন বল হাতে নিয়ে যখন লিওনেল মেসি দাঁড়ালেন, তখন ফুটবল বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের চোখ ছিল তাঁর দিকে। সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার হিসেবে এই গোল্ডেন বল তিনি ২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপেও পেয়েছিলেন, কিন্তু সেই নেওয়ার সাথে ২০২২ সালের এই প্রাপ্তির আকাশ-পাতাল পার্থক্য ছিল। পুরস্কারটি হাতে নিয়ে ঘোরার সময়ই তাঁর চোখ পড়ে সামনে রাখা ঝকঝকে সোনার বিশ্বকাপ ট্রফিটির দিকে, যা এই মুহূর্তে পৃথিবীর সবচেয়ে দামি বস্তু। আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রফিটি হাতে তুলে দেওয়ার জন্য মাত্র কয়েক মিনিটের অপেক্ষা থাকলেও সেই সংযম আর সইল না; মেসি ঝুঁকে পড়ে পরম মমতায় আলতো করে ট্রফিটিতে একটি এবং পরপর দুটি চুমু খেলেন। মেসির এই দুটি চুমুর গভীরতা ও তীব্রতা বুঝতে হলে ফুটবলপ্রেমীদের ঠিক আট বছর পেছনে অর্থাৎ ২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপের ফাইনালের সেই কালরাত্রিতে ফিরে যেতে হবে। সেবার জার্মানির কাছে ফাইনালে হেরে যাওয়ার পর শূন্য চোখে, ভাঙা হৃদয়ে পুরস্কার মঞ্চে দাঁড়িয়ে গোল্ডেন বল নিতে হয়েছিল মেসিকে, যার ঠিক সামনেই রাখা ছিল অধরা সেই বিশ্বকাপ ট্রফি। নিয়ম অনুযায়ী বিজয়ী দল ছাড়া কেউ ট্রফি স্পর্শ করতে পারে না বলে মেসি সেবার শুধু অপলক চোখে তাকিয়েই ছিলেন, হাত বাড়ানোর অধিকার তাঁর ছিল না। সেই রাতের শূন্য চোখের মেসির ছবি আজও অনেকের মনে দাগ কেটে আছে, যেখানে গোল্ডেন বলটি তাঁর কাছে কেবলই একটি মূল্যহীন ধাতব বস্তু মনে হয়েছিল। আট বছর পর লুসাইলের মঞ্চে দাঁড়িয়ে ট্রফিটির দিকে তাকানোর পর মেসির হয়তো সেই যন্ত্রণাদায়ক রাতের কথাই মনে পড়েছিল, যা তাঁর সংযমের বাঁধ ভেঙে দেয়। তাঁর আগে আর্জেন্টিনার সেরা তরুণ খেলোয়াড়ের পুরস্কার নিতে আসা একুশ বছর বয়সী এঞ্জো ফার্নান্দেজ কিংবা সেরা গোলরক্ষকের পুরস্কার পাওয়া এমিলিয়ানো মার্তিনেজ কেউই ট্রফিটি ছোঁয়ার সাহস করেননি। পুরো টুর্নামেন্টে পোস্টের নিচে দেয়াল হয়ে দাঁড়ানো মার্তিনেজ কিংবা তরুণ এঞ্জো হয়তো মনে মনে জানতেন, এই ট্রফির ওপর প্রথম স্পর্শের অধিকার কেবল তাঁরই, যার এক জীবনের সাধনা জড়িয়ে আছে এর সাথে। এরপর মেসি যখন এলেন, তখন আর কোনো নিয়ম বা সংযম কাজ করেনি, তিনি ট্রফিটি নিজের করে নিলেন। আসলে এই দুটি চুমু শুধু একটা আবেগের মুহূর্ত নয়, এর পেছনে জড়িয়ে আছে রোজারিওর মাটি, বার্সেলোনার করিডোর, চারটি বিশ্বকাপের ভাঙা স্বপ্ন, আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর এবং পুনরায় ফিরে আসার এক মহাকাব্যিক গল্প। ১৯৮৭ সালে রোজারিওর পারানা নদীর পাড়ে জন্ম নেওয়া এই ফুটবল জাদুকরের ১১ বছর বয়সে গ্রোথ হরমোন ডেফিশিয়েন্সি ধরা পড়েছিল, যার চিকিৎসার খরচ জোগাতে আর্জেন্টিনার কোনো ক্লাব রাজি হয়নি। পরবর্তীতে স্পেনের ক্লাব বার্সেলোনা একটি ন্যাপকিন পেপারে চুক্তির মাধ্যমে তাঁর চিকিৎসার দায়িত্ব নেয় এবং সেখানে বড় হতে হতে মেসি ফুটবল মাঠে যা ছুঁয়েছেন, তাই সোনায় পরিণত করেছেন। লা লিগা, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ আর একের পর এক ব্যালন ডি'অর জিতলেও দেশের জার্সিতে বারবার ট্র্যাজেডির শিকার হতে হয়েছে তাঁকে। ২০০৬ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত টানা চারটি বিশ্বকাপে নীল-সাদা জার্সি গায়ে দিলেই এক অদৃশ্য চাপ এসে ভর করত মেসির কাঁধে, শুনতে হতো দেশের হয়ে বড় মঞ্চে ব্যর্থতার অপবাদ। তবে ২০২২ সালের ১৮ই ডিসেম্বর ফ্রান্সের বিপক্ষে ফাইনালে নাটক, ভয়, বিস্ময় আর স্নায়ুযুদ্ধের পেনাল্টি শুটআউট শেষে যখন শেষ বাঁশি বাজল, তখন ৩৬ বছরের আক্ষেপ ঘুচিয়ে ইতিহাস এক দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলল। মেসি হাঁটু গেড়ে বসে পড়লেন, চোখ ভিজে উঠল এবং দুই হাতে তুলে ধরলেন তাঁর সারাজীবনের আরাধ্য সেই সোনালি ট্রফি। বুয়েনোস আইরেস থেকে শুরু করে ঢাকার রাস্তা—যেখানেই নীল-সাদা পতাকা উড়েছে, সেখানেই রাতটি উৎসবে পরিণত হয়েছিল, কারণ এই বিজয় ছিল প্রতিটি মানুষের স্বপ্ন ও দীর্ঘ অপেক্ষার এক পরম পূর্ণতা।
কাতারে ৩৬ বছরের শিরোপা খরা কাটানোর পর এবার লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার সামনে রয়েছে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুবর্ণ সুযোগ। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠেয় ৪৮ দলের এই মেগা বিশ্বকাপে কোচ লিওনেল স্কালোনির মূল ভরসা আবারও মেসি। এবারের আর্জেন্টিনা দলে ২০২২ বিশ্বকাপের ১৭ জন অভিজ্ঞ ফুটবলারের পাশাপাশি ৯ জন নতুন তারকার দারুণ এক ভারসাম্য রয়েছে, যা শিরোপা ধরে রাখার জন্য যথেষ্ট। ফুটবল বিশেষজ্ঞদের মতে, ১৯৬২ সালের পর এবারই প্রথম কোনো দলের সামনে টানা দুটি বিশ্বকাপ জয়ের সবচেয়ে জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিশ্বকাপের দীর্ঘ ইতিহাসে মাত্র দুটি দেশ এই কীর্তি গড়তে পেরেছে। প্রথম দল হিসেবে ১৯৩৪ ও ১৯৩৮ সালে ইতালি এবং পরবর্তীতে ১৯৫৮ ও ১৯৬২ বিশ্বকাপে পেলের ব্রাজিল এই রেকর্ড গড়েছিল। গত ৬৪ বছরে আর কোনো দেশ এই অর্জনে নাম লেখাতে পারেনি। ১৯৯০ সালে ম্যারাডোনার আর্জেন্টিনা, ১৯৯৮ সালে ব্রাজিল এবং ২০২২ সালে ফ্রান্স ফাইনাল পর্যন্ত গেলেও স্বপ্নভঙ্গের বেদনায় পুড়তে হয়েছিল। তবে কিছু বিশেষ লক্ষণ এবার আর্জেন্টিনাকে বাকিদের চেয়ে অনেকটাই এগিয়ে রাখছে। বড় টুর্নামেন্টে সাফল্যের জন্য সবচেয়ে জরুরি হলো দলীয় স্থিতিশীলতা এবং ড্রেসিং রুমের চমৎকার পরিবেশ, যা স্কালোনির দলে স্পষ্টভাবে বিদ্যমান। সাম্প্রতিক সময়ের আধুনিক ক্রীড়াঙ্গনের ফলাফলও এই ধারাবাহিকতার পক্ষেই কথা বলছে। উদাহরণস্বরূপ, বড় বড় তারকাদের নিয়ে ব্যর্থ হওয়ার পর কেবল একাত্মতা ও টিম স্পিরিটের জোরে কোচ লুইস এনরিকের অধীনে থাকা পিএসজি গত ৩০ মে আর্সেনালকে টাইব্রেকারে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা জিতেছে। ক্রিকেটেও রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (আরসিবি) তারকা নির্ভরতা কমিয়ে দলগত সংহতির জোরে টানা দুই আসরে শিরোপার স্বাদ পেয়েছে। এছাড়া ফুটবল ক্লাব বার্সেলোনা কোচ হান্সি ফ্লিকের অধীনে টানা দু’বার লা লিগা এবং বায়ার্ন মিউনিখ বুন্দেসলিগায় চ্যাম্পিয়ন হয়ে প্রমাণ করেছে যে, স্থিতিশীলতাই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। আর্জেন্টাইন শিবিরে এখন এই রহস্যমন্ত্রের সব উপাদানই রয়েছে। মেসির নেতৃত্বে দলটির ভেতরের এই অভূতপূর্ব ঐক্য যদি টুর্নামেন্টজুড়ে বজায় থাকে, তবে আগামী ১৯ জুলাই ফাইনালে আবারও বিশ্বজয়ের উল্লাসে মাতবে আলবিসেলেস্তেরা—এমনটাই ভাবছেন ফুটবল বোদ্ধারা।
ফুটবল ইতিহাসের দুই মহাতারকা লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর তুলনা নিয়ে আলোচনা দীর্ঘদিন ধরেই চলছে। গোল, রেকর্ড ও ব্যক্তিগত সাফল্যের পাশাপাশি দলীয় শিরোপার হিসাবেও তাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা রয়েছে, যেখানে আপাতত এগিয়ে আছেন মেসি। মেসি এখন পর্যন্ত ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে সর্বোচ্চ ৪৮টি ট্রফি জিতেছেন, যা ফুটবল ইতিহাসে সর্বাধিক। বার্সেলোনা, পিএসজি, ইন্টার মিয়ামি এবং আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে তিনি এই অসাধারণ কীর্তি গড়েছেন। অন্যদিকে রোনালদো সৌদি প্রো লিগ শিরোপা জয়ের মাধ্যমে তার ক্যারিয়ারের ৩৬তম ট্রফি অর্জন করেছেন। আল নাসরের হয়ে এটি তার প্রথম বড় সাফল্য। এই সংখ্যার ভিত্তিতে সর্বাধিক ট্রফি জয়ীদের তালিকায় রোনালদো এখন যৌথভাবে ১১তম স্থানে আছেন। যেখানে তার সঙ্গে সমান সংখ্যক ট্রফি রয়েছে সার্জিও বুসকেটস, আনহেল ডি মারিয়া ও রায়ান গিগসের মতো ফুটবলারদেরও। শীর্ষ ট্রফি জয়ীদের তালিকায় মেসির পরেই অবস্থান করছেন দানি আলভেস (৪৩), মারকিনিওস (৪২) এবং আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা (৪০)। ৪১ বছর বয়সী রোনালদোর সামনে এখন বড় লক্ষ্য হলো ক্যারিয়ারে ১০০০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করা। যেটি অর্জন করতে পারলে তার নাম ফুটবলের ইতিহাসে আরও উজ্জ্বল অক্ষরে লেখা থাকবে।
ফুটবল মাঠের পর এবার ক্লাব মালিকানায় নতুন চমক দিলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি। স্পেনের পঞ্চম বিভাগের কাতালান ক্লাব 'কোর্নেয়া' (UE Cornellà) কিনে নিয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল ২০২৬) ক্লাব কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। বার্সেলোনাভিত্তিক এই ক্লাবটি মূলত বিশ্বমানের ফুটবলার তৈরির জন্য পরিচিত। বর্তমান তারকা জর্দি আলবা, জেরার্ড মার্তিন ও আর্সেনাল গোলরক্ষক ডেভিড রায়ার মতো খেলোয়াড়রা এই ক্লাবের একাডেমি থেকেই উঠে এসেছেন। বিশেষ করে জর্দি আলবা ২০১২ সালে বার্সেলোনায় যোগ দেওয়ার আগে এই কোর্নেয়াতেই টানা ছয় বছর কাটিয়েছিলেন। মেসির মালিকানা গ্রহণের বিষয়ে ক্লাব কর্তৃপক্ষ জানায়, লিওনেল মেসির এই আগমন ক্লাবের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। এর মাধ্যমে ক্লাবের পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং প্রতিভাবান ফুটবলার তৈরিতে বিনিয়োগ আরও জোরদার করা হবে। দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ও স্থানীয় শেকড়ের সাথে সংযোগ বজায় রেখেই প্রকল্পটি পরিচালিত হবে। ইউরোপীয় কোনো ক্লাবের পূর্ণ মালিকানায় এটি মেসির প্রথম পদক্ষেপ হলেও, ক্লাব ব্যবসায় তিনি নতুন নন। এর আগে উরুগুয়ের ক্লাব দেপোর্তিভো এলএসএম-এর অংশীদার হয়েছেন তিনি, যেখানে তাঁর সাথে রয়েছেন সাবেক সতীর্থ লুইস সুয়ারেজও।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্যবাহী স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে গুগলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সুন্দর পিচাইয়ের বক্তব্য চলাকালীন ফিলিস্তিনপন্থী শিক্ষার্থীদের তীব্র বিক্ষোভ ও অনুষ্ঠান বর্জনের (ওয়াকআউট) ঘটনা ঘটেছে। রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩৫তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সুন্দর পিচাই প্রধান বক্তা হিসেবে মঞ্চে ওঠার পরপরই এই ঘটনা ঘটে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যায়, সুন্দর পিচাই বক্তব্য শুরু করার মুহূর্তেই সমাবর্তনস্থলে উপস্থিত ১০০ জনেরও বেশি গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থী তাদের আসন ছেড়ে উঠে দাঁড়ান। এ সময় তারা "ফ্রি, ফ্রি প্যালেস্টাইন" (ফিলিস্তিনের মুক্তি চাই) বলে উচ্চকণ্ঠে স্লোগান দিতে দিতে স্টেডিয়াম ত্যাগ করেন। কট্টর বামপন্থী ছাত্র সংগঠন 'স্টুডেন্টস ফর জাস্টিস ইন প্যালেস্টাইন' এবং 'নো টেক ফর অ্যাপার্থাইড'-এর যৌথ আহ্বানে এই প্রতিবাদের আয়োজন করা হয়। বিক্ষোভের মূল কারণ হিসেবে ইসরায়েল সরকারের সাথে গুগলের ১.২ বিলিয়ন ডলারের ক্লাউড কম্পিউটিং চুক্তি 'প্রজেক্ট নিম্বাস'-কে দায়ী করা হচ্ছে। আমাজনের সাথে যৌথভাবে পরিচালিত এই প্রকল্পের মাধ্যমে গুগল ইসরায়েল সরকারকে ক্লাউড ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি সরবরাহ করে আসছে। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও মানবাধিকার কর্মীদের অভিযোগ, গুগলের এই প্রযুক্তি ফিলিস্তিনিদের ওপর নজরদারি এবং ইসরায়েলের সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর বিভিন্ন ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপে ব্যবহৃত হতে পারে। যদিও গুগল বরাবরই এই দাবি অস্বীকার করে বলেছে, এটি কেবল সরকারি বেসামরিক কাজের জন্য একটি ক্লাউড সেবা। উল্লেখ্য, সুন্দর পিচাই নিজে ১৯৯৫ সালে এই স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই মেটেরিয়ালস সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন। নিজের সাবেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে এসে তাকে এমন নজিরবিহীন প্রতিবাদের মুখে পড়তে হলো। এর আগে ২০২৪ সালেও এই প্রজেক্ট নিম্বাসের বিরুদ্ধে গুগলের ক্যালিফোর্নিয়া ও নিউইয়র্ক অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অবস্থান ধর্মঘট করলে গুগল কয়েক ডজন কর্মীকে চাকরিচ্যুত করেছিল। চলতি বছর আমেরিকার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের লক্ষ্য করে শিক্ষার্থীদের এমন ক্ষোভ প্রকাশের ঘটনা নিয়মিত চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিছুদিন আগেই অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে গুগলের সাবেক সিইও এরিক শ্মিড বক্তব্য দিতে গেলে এআই প্রযুক্তির ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে শিক্ষার্থীরা তাকে ধুয়ে দেয়। তবে স্ট্যানফোর্ডের অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের এই তুমুল হট্টগোল ও কক্ষ ত্যাগের মাঝেও সুন্দর পিচাই তাঁর বক্তব্য চালিয়ে যান, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ভূ-রাজনীতির চেয়ে দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে শিক্ষার্থীদের আশাবাদী থাকার পরামর্শই বেশি প্রাধান্য পায়।