অভিবাসীর কন্যাকে বিয়ে করে অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কথা?’ জেডি ভ্যান্সকে ওবামার প্রশ্ন
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের অভিবাসনবিষয়ক বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন। লেখক ও সাংবাদিক ম্যালকম গ্ল্যাডওয়েলের সঙ্গে এক আলোচনায় তিনি বলেন, একজন মানুষের আমেরিকান পরিচয়কে তার বাবা-মায়ের জন্মস্থান বা পারিবারিক শিকড় দিয়ে বিচার করার বক্তব্যের সঙ্গে ভ্যান্সের ব্যক্তিগত জীবনের একটি স্পষ্ট সাংঘর্ষিক দিক রয়েছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে এই মন্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ওবামা বলেন, বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট এমন একটি ধারণা তুলে ধরছেন, যা মূলত ‘We the People’-এর একটি ‘blood-and-soil’ বা বংশপরিচয়ভিত্তিক সংস্করণ। তার ভাষায়, সেখানে একজন মানুষের বাবা-মা কে এবং তারা কতদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে আছেন—এসব বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অথচ ভ্যান্স নিজেই একজন অভিবাসী পরিবারের কন্যাকে বিয়ে করেছেন।
ওবামার এই মন্তব্যের ইঙ্গিত ছিল যুক্তরাষ্ট্রের সেকেন্ড লেডি উষা ভ্যান্সকে ঘিরে। উষা ভ্যান্স যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করলেও তার বাবা-মা ভারত থেকে অভিবাসন করেছিলেন। জেডি ও উষা ভ্যান্সের তিন সন্তান রয়েছে এবং তারা তাদের চতুর্থ সন্তানের অপেক্ষায় রয়েছেন।
আলোচনায় ম্যালকম গ্ল্যাডওয়েল বলেন, এক শতাব্দী আগে অভিবাসীবিরোধী অবস্থান নেওয়া কোনো শীর্ষ রাজনীতিকের পক্ষে অভিবাসী পরিবারের সদস্যকে বিয়ে করা প্রায় অকল্পনীয় ছিল। এর জবাবে ওবামা বলেন, “Hypocrisy is progress” বা “ভণ্ডামিও এক ধরনের অগ্রগতি।” তার ব্যাখ্যায়, অন্তত তখন মানুষ বুঝতে পারে যে তার অবস্থানের সঙ্গে বাস্তবতার একটি অসঙ্গতি রয়েছে এবং সেটিই পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি করে।
সাম্প্রতিক সময়ে জেডি ভ্যান্স জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব (Birthright Citizenship) নিয়ে কড়া অবস্থান নিয়েছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রকে কেবল একটি ধারণা নয়, বরং নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর একটি জাতি হিসেবে তুলে ধরার পক্ষে বক্তব্য দিয়েছেন। এসব অবস্থানকে ঘিরেই ওবামা তার সমালোচনা করেন।
ওবামা আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের শক্তি তার বহুত্ববাদে। বিভিন্ন দেশ, সংস্কৃতি ও অভিবাসী পটভূমি থেকে আসা মানুষ একসঙ্গে আমেরিকান পরিচয় গড়ে তুলেছেন। তার মতে, নাগরিকত্ব বা জাতীয় পরিচয়কে বংশপরিচয়ের ভিত্তিতে সীমাবদ্ধ করার চেষ্টা যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের অন্তর্ভুক্তিমূলক আদর্শের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে এক বছরে ১৩ লাখের বেশি মানুষ গ্রিন কার্ড পেয়েছেন, যা গত এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যা। ২০২৪ অর্থবছরে মোট ১৩ লাখ ৬৪ হাজার ৯০ জন বৈধ স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা পেয়েছেন। আগের বছর এই সংখ্যা ছিল ১১ লাখ ৭২ হাজার ৯১০। রাজ্যভিত্তিক হিসাবে ক্যালিফোর্নিয়াকে ছাড়িয়ে শীর্ষে উঠে এসেছে ফ্লোরিডা। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসনসংক্রান্ত পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০২৪ অর্থবছরে গ্রিন কার্ড পাওয়া মানুষের সংখ্যা ২০২৩ সালের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০১৫ থেকে ২০২৪ অর্থবছরের মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ সংখ্যা। গ্রিন কার্ডের মাধ্যমে বিদেশি নাগরিকেরা যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে স্থায়ীভাবে বসবাস ও কাজ করার সুযোগ পান। রাজ্যভিত্তিক হিসাবে ২ লাখ ১৯ হাজার ৪৭০ জন গ্রিন কার্ডধারী নিয়ে তালিকার প্রথম স্থানে রয়েছে ফ্লোরিডা। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ক্যালিফোর্নিয়ায় এই সংখ্যা ২ লাখ ১৭ হাজার ৪২০। অর্থাৎ দুই রাজ্যের মধ্যে ব্যবধান খুব বেশি নয়। তবে আগের বছরের তুলনায় ফ্লোরিডায় গ্রিন কার্ড পাওয়া মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছে টেক্সাস। রাজ্যটিতে ২০২৪ অর্থবছরে ১ লাখ ৬০ হাজার ৪০০ জন বৈধ স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা পেয়েছেন। এরপর রয়েছে নিউইয়র্ক, যেখানে এই সংখ্যা ১ লাখ ৩৬ হাজার ৭৫০। এসব রাজ্যে অভিবাসী জনগোষ্ঠীর বড় উপস্থিতি এবং কর্মসংস্থান ও বসবাসের সুযোগ গ্রিন কার্ডধারীদের সংখ্যায় প্রভাব ফেলতে পারে। ফ্লোরিডায় ২০২৩ অর্থবছরের তুলনায় গ্রিন কার্ড পাওয়া মানুষের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৬৩ হাজার ৯৭০। শতকরা হিসাবে এই বৃদ্ধি প্রায় ৪১ শতাংশ। টেক্সাসেও উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গেছে। রাজ্যটিতে গ্রিন কার্ডধারীর সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় ৩৩ হাজার ৪৭০ জন বেড়েছে, যা প্রায় ২৬ শতাংশ বৃদ্ধি। কেন্টাকিতেও গ্রিন কার্ড পাওয়ার সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে। ২০২৩ অর্থবছরে রাজ্যটিতে ৭ হাজার ৮৩০ জন স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা পেয়েছিলেন। ২০২৪ অর্থবছরে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১২ হাজার ১২০। অর্থাৎ এক বছরে প্রায় ৫৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ছাড়া নিউ জার্সিতে ৫৮ হাজার ১৮০ জন, ইলিনয়ে ৪৪ হাজার ৬৫০ জন, ভার্জিনিয়ায় ৩৭ হাজার ৮৫০ জন, ম্যাসাচুসেটসে ৩৬ হাজার ১৮০ জন, জর্জিয়ায় ৩৫ হাজার ১০০ জন এবং পেনসিলভানিয়ায় ৩৪ হাজার ৮৫০ জন গ্রিন কার্ড পেয়েছেন। অন্যদিকে, কয়েকটি রাজ্যে গ্রিন কার্ড পাওয়া মানুষের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। ওয়াইয়োমিংয়ে ৫১০ জন, ভারমন্টে ৬৩০ জন এবং মন্টানায় ৬৫০ জন স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা পেয়েছেন। আলাস্কায় এই সংখ্যা ছিল ১ হাজার ১০০ এবং সাউথ ডাকোটায় ১ হাজার ৭০। তবে এসব পরিসংখ্যানের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক রয়েছে। রাজ্যভিত্তিক তথ্য দিয়ে বোঝা যায়, গ্রিন কার্ড পাওয়ার পর কতজন কোন রাজ্যে বসবাস করছেন। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে, প্রত্যেক ব্যক্তি ওই রাজ্য দিয়েই প্রথমবার যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছেন। যারা আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছিলেন এবং পরে দেশটির ভেতর থেকেই স্থায়ী বসবাসের মর্যাদা পেয়েছেন, তারাও এই হিসাবের অন্তর্ভুক্ত। অন্যদিকে, ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন প্রক্রিয়া আরও কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের মুখে পড়েছে। ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে জুন প্রান্তিকে গ্রিন কার্ড আবেদনের অনুমোদনের হার আগের প্রান্তিকের তুলনায় ২ দশমিক ৬ শতাংশ পয়েন্ট কমেছে। পারিবারিক সম্পর্কের ভিত্তিতে করা আবেদনের অনুমোদনের হার ৮৬ শতাংশ থেকে কমে ৮১ দশমিক ৭ শতাংশে নেমেছে। কর্মসংস্থানভিত্তিক আবেদনের ক্ষেত্রেও অনুমোদনের হার ৯৩ দশমিক ৯ শতাংশ থেকে কমে ৯৩ শতাংশ হয়েছে। কিউবার নাগরিকদের আবেদনের ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তন দেখা গেছে। ওই প্রান্তিকে ৫৮৬টি আবেদনের মধ্যে ১৩৯টি অনুমোদিত এবং ৪৪৭টি প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। এতে অনুমোদনের হার দাঁড়িয়েছে ২৩ দশমিক ৭ শতাংশ, যেখানে আগের প্রান্তিকে হার ছিল ৫২ দশমিক ৬ শতাংশ। এ ছাড়া ২০২৬ সালের মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন কর্তৃপক্ষ জানায়, দেশটির ভেতরে অবস্থান করে গ্রিন কার্ড পাওয়ার আবেদন একটি বিবেচনাধীন প্রক্রিয়া। ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি না থাকলে সাময়িকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা আবেদনকারীদের সাধারণত বিদেশে কনস্যুলার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে স্থায়ী বসবাসের আবেদন সম্পন্ন করার কথা বলা হয়েছে। অক্টোবরের শুরুতে শ্রম বিভাগ মাইক্রোসফট ও অ্যাডোবিকে পার্মানেন্ট লেবার সার্টিফিকেশন বা পার্ম কর্মসূচি থেকে সাময়িকভাবে স্থগিত করে। এর ফলে প্রতিষ্ঠান দুটির নতুন ও চলমান কিছু আবেদনপ্রক্রিয়া থেমে যায়। তবে মাইক্রোসফট কর্তৃপক্ষ কর্মী ছাঁটাই এবং বিদেশি কর্মীদের নিয়োগসংক্রান্ত অভিযোগের বিরোধিতা করেছে। অন্যদিকে, ১৪ অক্টোবর একটি ফেডারেল আদালত ২০২৭ সালের ডাইভারসিটি ভিসা লটারির নিবন্ধন চালু করার নির্দেশ দেয়। এই কর্মসূচির আওতায় প্রতিবছর ঐতিহাসিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে কম অভিবাসন হওয়া দেশগুলোর নাগরিকদের জন্য সর্বোচ্চ ৫৫ হাজার অভিবাসী ভিসা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে লটারিতে নির্বাচিত হলেও ভিসা পাওয়ার জন্য আবেদনকারীদের অন্যান্য যোগ্যতা পূরণ করতে হবে। সব মিলিয়ে, ২০২৪ অর্থবছরের পরিসংখ্যান যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড পাওয়া মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধির চিত্র তুলে ধরছে। একই সঙ্গে ২০২৬ সালের সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলো দেখাচ্ছে, স্থায়ী বসবাসের সুযোগ থাকলেও আবেদনকারীদের জন্য অভিবাসনপ্রক্রিয়ার নিয়ম, যাচাই-বাছাই ও যোগ্যতার শর্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
ফসল কাটার মৌসুমে কৃষকদের জন্য বড় ঘোষণা ট্রাম্পের, বরাদ্দ ৮ বিলিয়ন ডলার
গির্জা থেকে মসজিদ, ইতিহাস বাঁচিয়ে সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত গড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ইউটিকা শহর
যুক্তরাষ্ট্রে শিশুদের জন্য ইলন মাস্কের স্পেসএক্সের শেয়ার দেওয়ার ঘোষণা, কারা পাচ্ছেন এই শেয়ার?
ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান ও পরবর্তী কার্যক্রমে দেশটির ২১ জন সেনাসদস্যের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ৮৬৫ জন। পেন্টাগনের প্রতিরক্ষা হতাহত বিশ্লেষণ ব্যবস্থার (ডিসিএএস) ১৫ অক্টোবর প্রকাশিত সর্বশেষ হিসাব থেকে এ তথ্য জানা গেছে। গত সপ্তাহে হালনাগাদ করা এই তালিকায় আগে অন্তর্ভুক্ত না থাকা দুটি মৃত্যুর তথ্য যোগ করা হয়েছে। এর ফলে ইরান-সংশ্লিষ্ট অভিযানে মার্কিন সেনাদের প্রাণহানির সরকারি সংখ্যা আগের তুলনায় বেড়েছে। পেন্টাগনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’তে এখন পর্যন্ত ১৫ জন সেনাসদস্য নিহত এবং ৪১৭ জন আহত হয়েছেন। এদিকে ৭ জুলাই থেকে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান পরবর্তী সামরিক কার্যক্রমের জন্য আলাদা ‘ওভারসিজ অপারেশনস’ শ্রেণি চালু করা হয়েছে। এই শ্রেণিতে ছয়জন নিহত এবং ৪৪৮ জন আহত হওয়ার তথ্য রয়েছে। দুই শ্রেণির হিসাব মিলিয়ে মোট নিহতের সংখ্যা ২১ এবং আহতের সংখ্যা ৮৬৫। হালনাগাদ হিসাবের সঙ্গে যুক্ত হওয়া মৃত্যুর মধ্যে রয়েছেন সেনা ন্যাশনাল গার্ডের মেজর সরফ্লি ডেভিয়াস। ৪৬ বছর বয়সী এই কর্মকর্তা ৬ মার্চ কুয়েতে মারা যান। যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী তাঁর মৃত্যুর কারণ নির্ধারণ করতে পারেনি এবং ঘটনাটি যুদ্ধসংক্রান্ত ছিল না বলে জানিয়েছে। এ ছাড়া সেপ্টেম্বরে মারা যাওয়া নৌবাহিনীর এক সদস্যের মৃত্যুও নতুন হিসাবের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ওই সদস্যের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই দুটি মৃত্যুর তথ্য যোগ করেই পেন্টাগনের সরকারি সংখ্যা ২১-এ পৌঁছেছে। এর আগে ওয়াশিংটন পোস্ট কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে জানিয়েছিল, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-সংশ্লিষ্ট অভিযানে নিহত সেনার সংখ্যা পেন্টাগনের প্রকাশিত হিসাবের চেয়ে বেশি হতে পারে। সে সময় প্রতিরক্ষা বিভাগের সরকারি তথ্যভান্ডারে সব মৃত্যুর তথ্য অন্তর্ভুক্ত না থাকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। পরে পেন্টাগন তালিকা হালনাগাদ করে। ফলে হতাহতের সংখ্যা নিয়ে সরকারি তথ্য এবং কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যের মধ্যে যে ব্যবধান তৈরি হয়েছিল, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে ইরান-সংশ্লিষ্ট অভিযানের সময় মধ্যপ্রাচ্যে মারা যাওয়া সব সেনাসদস্যকে একই হিসাবে রাখা হয়নি। মে মাসে ইরাকে প্রশিক্ষণ দুর্ঘটনায় মারা যাওয়া ২৬ বছর বয়সী সার্জেন্ট ডেভিন এ সাইবেলের মৃত্যু পেন্টাগনের তথ্যভান্ডারে ‘অপারেশন ইনহেরেন্ট রিজলভ’ শ্রেণিতে নথিভুক্ত করা হয়েছে। ওই অভিযান ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে পরিচালিত মার্কিন সামরিক কার্যক্রমের অংশ। তাঁর মৃত্যু ইরান-সংশ্লিষ্ট অভিযানের ২১ জনের সরকারি হিসাবের অন্তর্ভুক্ত নয়। ফলে কোন সামরিক কার্যক্রমের সঙ্গে কোন মৃত্যু যুক্ত করা হচ্ছে, তা বুঝতে পেন্টাগনের পৃথক শ্রেণিবিন্যাস গুরুত্বপূর্ণ। ইরানকে ঘিরে সামরিক অভিযান এবং পরবর্তী কার্যক্রমের হতাহতের হিসাব আলাদা করে দেখানোর পেছনে রয়েছে অভিযানগুলোর কাঠামোগত পরিবর্তন। হোয়াইট হাউস মে মাসে অপারেশন এপিক ফিউরি সমাপ্তির ঘোষণা দেওয়ার পর আঞ্চলিক যুদ্ধবিরতি ও সামরিক কার্যক্রমের পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে পেন্টাগন জুলাইয়ে নতুন শ্রেণি চালু করে। এরপর থেকে ৭ জুলাইয়ের পরের হতাহতের তথ্য ওই বিভাগে নথিভুক্ত করা হচ্ছে। এতে সরকারি হিসাবে মোট সংখ্যা বোঝা গেলেও বিভিন্ন সময়ের অভিযান ও মৃত্যুর ধরন আলাদা করে বিবেচনা করতে হচ্ছে। পেন্টাগনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আহত ৮৬৫ জনের মধ্যে যুদ্ধের সময় আহত সেনাসদস্যদের পাশাপাশি বিভিন্ন অভিযানের আওতায় নথিভুক্ত হতাহতও রয়েছেন। নিহতের সংখ্যায় যুদ্ধের সরাসরি আঘাতে মৃত্যুর পাশাপাশি অযুদ্ধজনিত মৃত্যুও অন্তর্ভুক্ত। তাই এই পরিসংখ্যানকে শুধু সরাসরি যুদ্ধে নিহত সেনার সংখ্যা হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কার্যক্রমের মানবিক ক্ষয়ক্ষতি বুঝতে সরকারি তথ্যভান্ডারের শ্রেণিবিন্যাস ও হালনাগাদের তারিখ বিবেচনা করা জরুরি। সূত্র: পেন্টাগনের প্রতিরক্ষা হতাহত বিশ্লেষণ ব্যবস্থা, ওয়াশিংটন পোস্ট।
ব্যাংক থেকে ফোন এলেই সাবধান! এআই দিয়ে কণ্ঠস্বর নকল করে হাতিয়ে নিচ্ছে হাজার হাজার ডলার
টেক্সাসের অভিবাসন কেন্দ্রে ডালাসের বাসিন্দার মৃত্যু, চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ পরিবারের
ইলহান ওমরের বিরুদ্ধে তদন্তে ডিএনএ প্রমাণের দাবি, অভিবাসন জালিয়াতির অভিযোগ
সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অভিবাসী অধিকারবিষয়ক সংগঠন ইমিগ্র্যান্টস ইন্টারন্যাশনাল ইনক। ১৯ অক্টোবর নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটি জানায়, গত ১৪ অক্টোবর দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশনকে আগাম জানানো হয়নি বলে প্রকাশিত সংবাদে তারা উদ্বিগ্ন। বিজ্ঞপ্তিতে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পুরো প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখতে নিরপেক্ষ ও তথ্যভিত্তিক তদন্তের আহ্বান জানানো হয়। সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক মঈন চৌধুরীর সই করা বিবৃতিতে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে সংশ্লিষ্ট বিচারিক নথি সরবরাহ এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের সরকারকে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রেখে প্রকৃত তথ্য উদ্ঘাটন এবং দুই নাগরিকের কনস্যুলার অধিকার যথাযথভাবে রক্ষা করা হয়েছিল কি না, তা যাচাইয়ের আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও বিষয়টি নিয়ে সৌদি আরবের কাছে বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম ১৯ অক্টোবর সাংবাদিকদের জানান, দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়া সৌদি আদালতের রায়ের অনুলিপি চাওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় নথি হাতে পাওয়ার পর সরকার বিষয়টি আরও স্পষ্টভাবে মূল্যায়ন করে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করবে। এর আগে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে এ বিষয়ে অবহিত ছিল না বলে সরকারি পর্যায়ে জানানো হয়েছিল। সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, নাজরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সিতি আখতার নামে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড ১৪ অক্টোবর মক্কা অঞ্চলে কার্যকর করা হয়। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্তের পর তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়, আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ও রাজকীয় আদেশের পর তা কার্যকর করা হয়। তবে প্রকাশিত সরকারি বিবৃতিতে ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ, গ্রেপ্তারের সময় কিংবা মামলার পূর্ণাঙ্গ তথ্য উল্লেখ করা হয়নি। বাংলাদেশ সরকারও সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এসব বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। ইমিগ্র্যান্টস ইন্টারন্যাশনাল তাদের বিজ্ঞপ্তিতে ১৯৬৩ সালের কনস্যুলার সম্পর্কবিষয়ক ভিয়েনা কনভেনশনের কথা উল্লেখ করেছে। সংগঠনটির বক্তব্য অনুযায়ী, কনভেনশনের ৩৬ অনুচ্ছেদে বিদেশে আটক নাগরিকদের কনস্যুলার যোগাযোগ ও সাক্ষাতের অধিকার এবং ৩৭(ক) অনুচ্ছেদে বিদেশি নাগরিকের মৃত্যুর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কনস্যুলার দপ্তরকে অবহিত করার বিধান রয়েছে। তবে প্রতিটি মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে দূতাবাসকে আগাম জানানোর বিষয়ে কনভেনশনে নিঃশর্ত বাধ্যবাধকতা স্পষ্টভাবে নির্ধারিত নেই বলেও বিজ্ঞপ্তিতে স্বীকার করা হয়েছে। সংগঠনটি সৌদি আরব ও বাংলাদেশের সরকারকে মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধে অভিযুক্ত বিদেশি নাগরিকদের জন্য কার্যকর কনস্যুলার যোগাযোগ, উপযুক্ত আইনি সহায়তা এবং কূটনৈতিক মিশনের সঙ্গে সমন্বয় নিশ্চিত করার ব্যবস্থা জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি, প্রাসঙ্গিক তথ্য ও নথির ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর বিষয়টি পর্যালোচনার কথাও বলা হয়েছে। সংগঠনটির ভাষ্য, জাতীয়তা নির্বিশেষে প্রত্যেক মানুষের মর্যাদা, ন্যায়বিচার ও বিদেশে ন্যায্য আচরণ নিশ্চিত করা জরুরি।
নারীদের স্বাস্থ্য নিয়ে গবেষণায় জোর দিতে ট্রাম্পের নির্দেশ, গঠন হচ্ছে বিশেষ বিভাগ
যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে নিরাপদ ২০ শহরের তালিকা প্রকাশ, শীর্ষে আলাস্কার জুনো