চাঁদকে ঘিরে জ্যোতির্বিজ্ঞানীর বক্তব্যে বিশ্বজুড়ে আলোচনা
অস্ট্রেলিয়ার একজন জ্যোতির্বিজ্ঞানীর বক্তব্যকে কেন্দ্র করে দেশটির গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। তিনি বলেছেন, “চাঁদ শুধু এমন একটি স্থান নয়, যেখানে আমরা গিয়ে অনুসন্ধান করব। এটি আদিবাসীদের ‘আকাশের দেশ’ এবং তাদের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও লোককাহিনির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।”
অস্ট্রেলিয়ার সুইনবার্ন প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মহাকাশ প্রযুক্তি ও শিল্প গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সহপরিচালক ড. রেবেকা অ্যালেন এক সাক্ষাৎকারে এ মন্তব্য করেন। সাক্ষাৎকারে তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, একটি মহাকাশযানের অবশিষ্টাংশ চাঁদে আঘাত হানতে পারে—এ নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ আছে কি না।
জবাবে তিনি বলেন, চাঁদ কেবল বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানের বিষয় নয়; এটি অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসীদের বিশ্বাস, ইতিহাস, সংস্কৃতি ও প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা লোককাহিনির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। তাই মহাকাশ অনুসন্ধান বা অন্য যেকোনো কার্যক্রম পরিচালনার সময় সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ ও ঐতিহ্যের প্রতিও সম্মান দেখানো উচিত।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে মহাকাশ ব্যবহারের নীতি ও নিয়ম নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনা চলছে। ভবিষ্যতে চাঁদ বা অন্য মহাজাগতিক স্থানে পরিচালিত কার্যক্রমে শুধু বৈজ্ঞানিক বা বাণিজ্যিক দিক নয়, সাংস্কৃতিক ও নৈতিক বিষয়ও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
ড. অ্যালেনের এই বক্তব্য প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। সমালোচকদের একাংশের দাবি, বৈজ্ঞানিক আলোচনায় সাংস্কৃতিক বিষয় যুক্ত করা অপ্রয়োজনীয়। অন্যদিকে অনেকের মতে, আদিবাসীদের ঐতিহ্য ও বিশ্বাসের প্রতি সম্মান দেখিয়ে মহাকাশ অনুসন্ধান পরিচালনা করা সময়ের দাবি।
এদিকে অস্ট্রেলিয়ার একটি বিশ্ববিদ্যালয় সম্প্রতি এমন একটি গবেষণার কাজ শুরু করেছে, যেখানে আদিবাসীদের আকাশবিষয়ক জ্ঞান ও ঐতিহ্যকে ভবিষ্যতের মহাকাশনীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রে কীভাবে কাজে লাগানো যায়, তা নিয়ে গবেষণা করা হবে।
ঘটনাটি মহাকাশ অনুসন্ধান, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং বৈজ্ঞানিক অগ্রগতির মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার প্রশ্নকে নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এসেছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের জোন্সভিলে গাড়ির ধাক্কায় দুই বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনার ঘটনায় স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তদন্ত শুরু করেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইনডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে শিশুটির মৃত্যুর খবর উঠে এসেছে। ঘটনাটি ফ্লোরিডার আলাচুয়া কাউন্টির জোন্সভিল এলাকায় ঘটেছে বলে প্রতিবেদনের শিরোনাম থেকে জানা যায়। তবে দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট সময়, গাড়ির চালকের পরিচয় এবং কী পরিস্থিতিতে শিশুটি গাড়ির ধাক্কায় পড়ে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করা প্রয়োজন। ফ্লোরিডা হাইওয়ে প্যাট্রোলের তথ্য অনুযায়ী, নিহত শিশুটির বয়স এক বছর। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেলে শিশুটির বাবা-মা বাড়ির আঙিনায় কাজ করছিলেন। এ সময় তাঁদের অগোচরে শিশুটি বাড়ি থেকে বেরিয়ে কাছের সড়কে চলে যায়। পরিবারের সদস্যরা শিশুটিকে পরিচিত জায়গাগুলোতে খুঁজতে থাকলেও এর আগেই দুর্ঘটনাটি ঘটে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গাড়ির চালক সংঘর্ষের আগে শিশুটিকে দেখতে পাননি। গাড়ির ধাক্কায় গুরুতর আহত শিশুটিকে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন। দুর্ঘটনার পর ফ্লোরিডা হাইওয়ে প্যাট্রোল ঘটনাটির তদন্ত শুরু করে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউসিজেবির বরাত দিয়ে দ্য ইনডিপেনডেন্ট জানিয়েছে, তদন্তকারীরা গাড়ির চালক কিংবা শিশুটির বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনার পরিকল্পনা করছেন না। শিশুটির মৃত্যুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করেছেন অনেকে। কেউ কেউ পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। আবার বাড়ির বাইরে কাজ করার সময় ছোট শিশুদের নিরাপত্তা ও নজরদারির বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ ঘটনায় শিশুটির পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। দুর্ঘটনার সময় গাড়িটির গতি কত ছিল কিংবা সড়কের কোন অংশে সংঘর্ষ ঘটে, সে সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। সূত্র: ফ্লোরিডা হাইওয়ে প্যাট্রোল, দ্য ইনডিপেনডেন্ট, ৩ নভেম্বর ২০২৬।
নিউইয়র্কে অজান্তেই ১০ বছর ধরে প্রতিবেশীর বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করেন নারী, ক্ষতিপূরনের দাবি
ক্যালিফোর্নিয়ায় গ্রেপ্তার অভিযানের সময় প্রতিবেশীর দিকে আইসিই এজেন্টের অস্ত্র তাক, ভিডিও ভাইরাল
ক্যালিফোর্নিয়ায় নির্বাচনের আগে ভোটারদের ১ হাজারের বেশি প্রচারপত্র পৌঁছে দেননি ডাককর্মী, ফেডারেল মামলা
যুক্তরাষ্ট্রে সামরিক বাহিনী থেকে অবসর নেওয়া সাবেক সেনাসদস্যদের বসবাসের জন্য সবচেয়ে উপযোগী শহর হিসেবে উঠে এসেছে টেক্সাসের অস্টিনের নাম। চাকরির সুযোগ, আয়, বাড়ির খরচ, স্বাস্থ্যসেবা ও জীবনযাত্রার মান বিবেচনায় দেশটির ১০০টি বড় শহরের মধ্যে অস্টিন প্রথম স্থান অর্জন করেছে। ব্যক্তিগত অর্থবিষয়ক প্রতিষ্ঠান ওয়ালেটহাবের নতুন গবেষণার ভিত্তিতে সোমবার (২ নভেম্বর) এ তথ্য জানিয়েছে ফক্স নিউজ। গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে জনবহুল ১০০টি শহরকে ১৯টি সূচকের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হয়েছে। কর্মসংস্থান, অর্থনৈতিক অবস্থা, জীবনযাত্রার মান এবং স্বাস্থ্যসেবা, এই চারটি প্রধান বিভাগে শহরগুলোর অবস্থান নির্ধারণ করা হয়। সামরিক বাহিনী থেকে বেসামরিক জীবনে ফিরে আসা ব্যক্তিদের জন্য কোন শহরে তুলনামূলক ভালো সুযোগ রয়েছে, সেটিই ছিল গবেষণার মূল বিষয়। তালিকায় প্রথম স্থানে থাকা অস্টিনে সাবেক সেনাসদস্যদের জন্য উচ্চশিক্ষা ও চাকরির সুযোগ বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে। সাবেক সেনাসদস্যদের সহায়তাকারী কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে শহরটি প্রথম এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সপ্তম অবস্থানে রয়েছে। সেখানে সাবেক সেনাসদস্যদের বার্ষিক মধ্যম আয় ৬৬ হাজার ডলারের বেশি, যা গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত শহরগুলোর মধ্যে নবম সর্বোচ্চ। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যের ম্যাডিসন। শহরটিতে সাবেক সেনাসদস্যদের বার্ষিক মধ্যম আয়ের প্রবৃদ্ধি প্রায় ৮ শতাংশ, যা দেশটির শহরগুলোর মধ্যে ষষ্ঠ সর্বোচ্চ। পাশাপাশি গৃহহীন সাবেক সেনাসদস্যের হারও তুলনামূলক কম। প্রতি এক হাজার সাবেক সেনাসদস্যের মধ্যে মাত্র দুজন গৃহহীন অবস্থায় রয়েছেন বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। তৃতীয় স্থানে রয়েছে অ্যারিজোনার স্কটসডেল। সেখানে সাবেক সেনাসদস্যদের বার্ষিক মধ্যম আয় প্রায় ৬৮ হাজার ডলার, যা তালিকাভুক্ত শহরগুলোর মধ্যে ষষ্ঠ সর্বোচ্চ। সাবেক সেনাসদস্যদের কম বেকারত্বের হারের ক্ষেত্রে শহরটির অবস্থান সপ্তম। গৃহহীন সাবেক সেনাসদস্যের সংখ্যা কম থাকার ক্ষেত্রেও শহরটি তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। তালিকার চতুর্থ স্থানে রয়েছে টেক্সাসের প্লানো এবং পঞ্চম স্থানে একই অঙ্গরাজ্যের ফোর্ট ওয়ার্থ। ফলে শীর্ষ পাঁচ শহরের মধ্যে তিনটিই টেক্সাসে অবস্থিত। গবেষণায় দেখা যায়, সামরিক বাহিনী থেকে অবসরের পর নতুন চাকরি, শিক্ষা এবং স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ খুঁজছেন এমন ব্যক্তিদের জন্য এসব শহর তুলনামূলক সুবিধাজনক। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সব সাবেক সেনাসদস্যের জন্য পরিস্থিতি সমান সুবিধাজনক নয়। ওয়ালেটহাবের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে প্রায় ১ কোটি ৭২ লাখ সাবেক সেনাসদস্য বসবাস করছেন। তাঁদের বেকারত্বের হার ৩ দশমিক ৬ শতাংশ, যেখানে সামগ্রিক জনসংখ্যার বেকারত্বের হার ৪ দশমিক ২ শতাংশ। তা সত্ত্বেও ৩২ হাজারের বেশি সাবেক সেনাসদস্য গৃহহীন অবস্থায় রয়েছেন। গবেষণায় বড় শহরগুলোর মধ্যেও উল্লেখযোগ্য পার্থক্য দেখা গেছে। নিউইয়র্ক সিটির অবস্থান ৮০তম, লস অ্যাঞ্জেলেস ৮২তম এবং শিকাগো ৯১তম। অন্যদিকে ফ্লোরিডার টাম্পা ১১তম, মায়ামি ১২তম এবং অরল্যান্ডো ১৪তম স্থানে রয়েছে। তালিকার একেবারে নিচে রয়েছে মিশিগানের ডেট্রয়েট, যার অবস্থান ১০০তম। ওয়ালেটহাবের বিশ্লেষক চিপ লুপো জানিয়েছেন, সামরিক বাহিনী থেকে ফিরে আসা ব্যক্তিদের জন্য ভালো শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি সাবেক সেনাসদস্যদের শক্তিশালী কমিউনিটি এবং তাঁদের জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিশেষ ছাড়ও বসবাসের উপযোগিতা নির্ধারণে ভূমিকা রাখে। গবেষণার তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে ২০২৬ সালের ৫ অক্টোবর পর্যন্ত। এতে যুক্তরাষ্ট্রের সেনসাস ব্যুরো, ডিপার্টমেন্ট অব ভেটেরান্স অ্যাফেয়ার্স, হাউজিং অ্যান্ড আরবান ডেভেলপমেন্ট বিভাগসহ বিভিন্ন সরকারি ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। তবে এটি সরকারি কোনো শহর নির্বাচন বা বসবাসের সুপারিশ নয়, বরং নির্দিষ্ট সূচকের ভিত্তিতে তৈরি একটি তুলনামূলক র্যাঙ্কিং। সূত্র: ওয়ালেটহাবের ২০২৬ সালের গবেষণা, ফক্স নিউজ, ২ নভেম্বর ২০২৬।
যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় মা-বাবার মৃত্যু, অলৌকিকভাবে বেঁচে গেল ২ বছরের শিশু
২০ বছর চোখের মেকআপ না তুলেই ঘুমাতেন, এখন দীর্ঘস্থায়ী চোখের রোগে ভুগছেন নারী
গর্ভবতী কর্মীদের কর্মক্ষেত্রে সুরক্ষা কমানোর পরিকল্পনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন
যুক্তরাষ্ট্রে কলেজ ডিগ্রি ছাড়াই ভালো বেতনের চাকরি খুঁজছেন, এমন ব্যক্তিদের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে দেশটির অন্যতম বৃহৎ খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ওয়ালমার্ট। প্রতিষ্ঠানটির কিছু বিশেষায়িত কারিগরি পদে ঘণ্টায় ৭০ ডলার বা তার বেশি আয়ের সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে এয়ার কন্ডিশনিং, রেফ্রিজারেশন, ইলেকট্রিক্যাল সিস্টেম এবং বিভিন্ন যন্ত্রপাতি রক্ষণাবেক্ষণের কাজে দক্ষ কর্মীরা এই বেতন পেতে পারেন। তবে ওয়ালমার্টের সব চাকরিতে এত বেতন দেওয়া হয় না। নির্দিষ্ট পদের দায়িত্ব, অভিজ্ঞতা, দক্ষতা এবং কর্মস্থলের ওপর বেতনের পরিমাণ নির্ভর করে। ওয়ালমার্টের ২০২৬ সালের জবস স্পটলাইট রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির জেনারেল মেইনটেন্যান্স এবং এইচভিএসি ও রেফ্রিজারেশন টেকনিশিয়ানদের ঘণ্টাপ্রতি বেতন ২৬ থেকে ৭৬ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। অর্থাৎ কিছু কারিগরি পদে ঘণ্টায় ৭০ ডলারের বেশি আয়ের সুযোগও রয়েছে। তবে এটি বেতনের সর্বোচ্চ সীমার কাছাকাছি একটি হার। নতুন নিয়োগ পাওয়া প্রত্যেক কর্মী এই বেতন পাবেন, এমন নিশ্চয়তা নেই। অভিজ্ঞতা ও প্রয়োজনীয় কারিগরি দক্ষতা থাকলে উচ্চ বেতনের পদে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। ঘণ্টায় ৭০ ডলার হিসাবে একজন কর্মী সপ্তাহে ৪০ ঘণ্টা কাজ করলে তাঁর সাপ্তাহিক আয় দাঁড়াবে ২ হাজার ৮০০ ডলার। একই হারে বছরে ৫২ সপ্তাহ কাজ করলে মোট আয় হতে পারে প্রায় ১ লাখ ৪৫ হাজার ৬০০ ডলার। তবে এটি ট্যাক্স কাটার আগের হিসাব। কর্মঘণ্টা, ওভারটাইম, ছুটি এবং অন্যান্য শর্তের কারণে প্রকৃত বার্ষিক আয় কমবেশি হতে পারে। এ ছাড়া ওয়ালমার্টের প্রকাশিত বেতনের পরিসর কোনো নির্দিষ্ট কর্মীর নিশ্চিত আয়ের পরিমাণ নির্দেশ করে না। ওয়ালমার্টের উচ্চ বেতনের এসব চাকরি মূলত প্রতিষ্ঠানটির স্টোর, স্থাপনা ও বিভিন্ন যন্ত্রপাতি সচল রাখার সঙ্গে সম্পর্কিত। এইচভিএসি টেকনিশিয়ানদের কাজের মধ্যে রয়েছে হিটিং, ভেন্টিলেশন ও এয়ার কন্ডিশনিং সিস্টেম পরীক্ষা এবং মেরামত। রেফ্রিজারেশন টেকনিশিয়ানরা খাবার ও অন্যান্য পণ্য সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত শীতলীকরণ ব্যবস্থা সচল রাখার দায়িত্ব পালন করেন। অন্যদিকে মেইনটেন্যান্স টেকনিশিয়ানরা বৈদ্যুতিক ও যান্ত্রিক সরঞ্জামের ত্রুটি শনাক্ত, মেরামত এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করেন। এসব চাকরির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, চার বছরের কলেজ ডিগ্রি না থাকলেও সংশ্লিষ্ট কারিগরি দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে কাজের সুযোগ পাওয়া যেতে পারে। তবে ডিগ্রি বাধ্যতামূলক না হওয়ার অর্থ এই নয় যে কোনো প্রশিক্ষণ ছাড়াই এসব পদে নিয়োগ পাওয়া সম্ভব। চাকরির ধরন অনুযায়ী পূর্ব অভিজ্ঞতা, কারিগরি প্রশিক্ষণ, নির্দিষ্ট সার্টিফিকেশন বা লাইসেন্স প্রয়োজন হতে পারে। আবেদনকারীদের সংশ্লিষ্ট পদের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা যোগ্যতা পূরণ করতে হবে। কর্মীদের দক্ষতা বাড়াতে ওয়ালমার্টের নিজস্ব প্রশিক্ষণ কর্মসূচিও রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির অ্যাসোসিয়েট টু টেকনিশিয়ান কর্মসূচির মাধ্যমে বিদ্যমান কর্মীরা কারিগরি পেশায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে পারেন। এতে ইলেকট্রিক্যাল সিস্টেম, রেফ্রিজারেশন এবং এইচভিএসির মতো বিষয়ে প্রশিক্ষণের সুযোগ রয়েছে। ওয়ালমার্টের ২০২৫ সালে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এই কর্মসূচির মাধ্যমে টেকনিশিয়ান পদে যাওয়া কর্মীদের গড় ঘণ্টাপ্রতি বেতন ছিল প্রায় ৩২ ডলার। ফলে প্রশিক্ষণ শেষে সরাসরি ঘণ্টায় ৭০ ডলার বেতন পাওয়া যাবে, এমন ধারণা সঠিক নয়। ওয়ালমার্টের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ৯০ শতাংশ পদের জন্য কলেজ ডিগ্রি বাধ্যতামূলক নয়। তবে সব পদের বেতন এক নয়। প্রতিষ্ঠানটির ২০২৬ সালের প্রকাশিত বেতনের পরিসরে সাধারণ স্টোর কর্মীদের ঘণ্টায় ১৪ থেকে ৩৭ ডলার এবং টিম লিডদের ১৯ থেকে ৪০ ডলার পর্যন্ত বেতনের তথ্য রয়েছে। অন্যদিকে বিশেষায়িত কারিগরি পদে বেতনের সর্বোচ্চ সীমা আরও বেশি। ফলে সাধারণ স্টোর কর্মীর চাকরি এবং অভিজ্ঞ টেকনিশিয়ানের চাকরির মধ্যে পার্থক্য বোঝা গুরুত্বপূর্ণ। ওয়ালমার্টে এসব চাকরির সুযোগ খুঁজতে আগ্রহীরা প্রতিষ্ঠানটির অফিসিয়াল ক্যারিয়ার পোর্টালে মেইনটেন্যান্স টেকনিশিয়ান, এইচভিএসি টেকনিশিয়ান কিংবা রেফ্রিজারেশন টেকনিশিয়ান পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেখতে পারেন। প্রতিটি বিজ্ঞপ্তিতে কর্মস্থল, কাজের দায়িত্ব, প্রয়োজনীয় যোগ্যতা এবং প্রযোজ্য বেতনের তথ্য যাচাই করা উচিত। কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় বর্তমানে ঘণ্টায় ৭০ ডলার বেতনের পদ খালি রয়েছে কি না, তা চলমান নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির ওপর নির্ভর করবে। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশিসহ চাকরিপ্রত্যাশীদের জন্য ওয়ালমার্টের এই বেতন কাঠামো কারিগরি দক্ষতাভিত্তিক পেশায় আয়ের সম্ভাবনা তুলে ধরছে। বিশেষ করে যাঁদের চার বছরের কলেজ ডিগ্রি নেই, কিন্তু হাতে-কলমে কাজ শেখার আগ্রহ বা সংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞতা রয়েছে, তাঁরা এসব পেশার যোগ্যতা সম্পর্কে খোঁজ নিতে পারেন। তবে উচ্চ বেতনের সুযোগকে নিশ্চিত চাকরির অফার হিসেবে বিবেচনা না করে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, অভিজ্ঞতা এবং নিয়োগের শর্ত যাচাই করেই আবেদন করা উচিত।
নিউ ইয়র্কে ২০২৭ সালের আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলার তারিখ ঘোষণা, শুরু ২৮ মে
জর্জিয়ার বাড়ির মালিকদের জন্য সুখবর, সম্পত্তির করযোগ্য মূল্য থেকে কমবে ১৮ হাজার ডলার