আমেরিকা

কিম কার্দাশিয়ানের বাড়িতে ঢুকে বিলাসবহুল গাড়ি চুরি, তা নিয়েই এলাকাজুড়ে ঘুরে বেড়াল চোর

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১০, ২০২৬ ০:৮
কিম কারদাশিয়ানের হিডেন হিলসের বাড়িতে অনুপ্রবেশের ঘটনায় তদন্ত চলছে। ছবি: সংগৃহীত
কিম কারদাশিয়ানের হিডেন হিলসের বাড়িতে অনুপ্রবেশের ঘটনায় তদন্ত চলছে। ছবি: সংগৃহীত

হলিউড তারকা কিম কার্দাশিয়ানের যুক্তরাষ্ট্রের হিডেন হিলসের বিলাসবহুল প্রাসাদে এক দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটেছে। দিনের আলোতে এক ব্যক্তি ওই প্রাসাদে প্রবেশ করে কিমের একটি দামি গাড়ি চুরি করে। শুধু তাই নয়, চুরি করা সেই বিলাসবহুল গাড়িটি নিয়ে আশপাশের এলাকায় বেশ কিছুক্ষণ ঘুরেও বেড়ায় ওই চোর। পরবর্তীতে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে গ্রেপ্তার করে।

 

মার্কিন সংবাদমাধ্যম 'দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট'-এর এক প্রতিবেদনে আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর বরাত দিয়ে জানানো হয়, গত রোববার বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটের দিকে এই ঘটনা ঘটে। মালিবু/লস্ট হিলস শেরিফ স্টেশনের কর্মকর্তারা একটি জরুরি কল পান। সেখানে জানানো হয়, একজন সন্দেহভাজন ব্যক্তি কিম কার্দাশিয়ানের বাড়িতে প্রবেশ করেছে এবং ভেতর থেকে জিনিসপত্র চুরি করছে।

 

খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশের একটি দল। তারা ৬০ মিলিয়ন (৬ কোটি) ডলারেরও বেশি মূল্যের ওই সুবিশাল বাসভবনের ভেতর থেকে এক যুবককে আটক করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রমাণের ভিত্তিতে তাকে অনুপ্রবেশ, চুরি এবং গাড়ি চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

 

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ওই সন্দেহভাজন ব্যক্তি শুধু বাড়িতেই অনুপ্রবেশ করেনি, বরং কিম কার্দাশিয়ানের একটি বিলাসবহুল গাড়ি বের করে নিয়ে হিডেন হিলস এলাকায় ঘুরে বেড়িয়েছে। পরবর্তীতে ওই যুবককে কারাগারে পাঠানো হয় এবং চুরির সন্দেহে তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়।

 

লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি শেরিফ বিভাগের (এলএএসডি) সার্জেন্ট ক্রিস সন্ডারলান্ড ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, "পুরো বিষয়টি এখনও তদন্তাধীন রয়েছে। আমরা বর্তমানে তদন্তের একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছি। বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো সম্ভব হবে।"

 

জানা গেছে, ঘটনার সময় কিম কার্দাশিয়ান বা তাঁর সন্তানদের কেউই ওই প্রাসাদে উপস্থিত ছিলেন না। বর্তমানে বাড়িটির বড় ধরনের সংস্কারকাজ চলছে। তাই গত কয়েক মাস ধরে কিম তাঁর চার সন্তানকে নিয়ে কাছাকাছি অন্য একটি ভাড়া বাড়িতে বসবাস করছেন।

 

হিডেন হিলসের এই বিশাল সম্পত্তির পেছনের ইতিহাস বেশ পুরোনো। ২০১৪ সালে কিম কার্দাশিয়ান এবং তাঁর প্রাক্তন স্বামী বিখ্যাত র‍্যাপার ক্যানিয়ে ওয়েস্ট মিলে প্রায় ২০ মিলিয়ন (২ কোটি) ডলারে এই এস্টেটটি কিনেছিলেন। এরপর বাড়িটিকে নিজেদের মনের মতো করে সাজাতে দীর্ঘ সময় নিয়ে সংস্কারকাজ চালান তারা। তিন বছর পর, ২০১৭ সালে তারা এই প্রাসাদে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন।

 

পরবর্তীতে ২০২২ সালে কিম ও ক্যানিয়ে ওয়েস্টের বিবাহবিচ্ছেদ চূড়ান্ত হয়। বিচ্ছেদের পর আইনি সমঝোতার মাধ্যমে এই বাড়ির মালিকানা পান কিম কার্দাশিয়ান। এরপর থেকে তিনি তাঁর চার সন্তানকে নিয়ে এখানেই বসবাস করে আসছিলেন। তবে সম্প্রতি নতুন করে সংস্কারকাজ শুরু হওয়ায় বাড়িটি আপাতত ফাঁকা ছিল, আর সেই সুযোগটিই কাজে লাগানোর চেষ্টা করে ওই চোর।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
তুষারে বন্ধ পথ, ডায়ালাইসিসে যেতে হবে বৃদ্ধার
তুষারে বন্ধ পথ, ডায়ালাইসিসে যেতে হবে বৃদ্ধার, তাই ভোর সাড়ে ৪টায় শাবল হাতে ৫ কিশোর

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির পার্সিপ্যানিতে তুষারঝড়ের পর ভোর সাড়ে ৪টায় ঘুম থেকে উঠে প্রতিবেশী নাটালি ব্লেয়ারের বাড়ির বরফ পরিষ্কার করে দিয়েছেন পাঁচ হাইস্কুল শিক্ষার্থী। ৬০ থেকে ৮০ ইঞ্চি নয়, প্রায় ৮ ইঞ্চি তুষারে বাড়ির প্রবেশপথ ঢেকে যাওয়ায় নাটালির সকাল ৬টার ডায়ালাইসিস অ্যাপয়েন্টমেন্টে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছিল। শেষ পর্যন্ত কিশোরদের দ্রুত উদ্যোগেই তিনি নিরাপদে চিকিৎসা নিতে যেতে পারেন।    ঘটনাটি ঘটে ২০১৯ সালের ৪ মার্চ। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে পার্সিপ্যানি এলাকায় কয়েক ইঞ্চি তুষারপাতের আশঙ্কা ছিল। নাটালির নিয়মিত ডায়ালাইসিস চিকিৎসা প্রয়োজন ছিল এবং ওই সকালে তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে চিকিৎসা কেন্দ্রে নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তুষারে বাড়ির দীর্ঘ ড্রাইভওয়ে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তৈরি হয় বড় সমস্যা।    নাটালির প্রতিবেশী ব্রায়ান ল্যানিগান স্থানীয় জরুরি চিকিৎসা সেবার কর্মী হিসেবে আগে তার ড্রাইভওয়ের বরফ পরিষ্কার করে দিতেন। কিন্তু ওই ঝড়ের সময় তাকে কাজে থাকতে হওয়ায় তিনি আর সেই দায়িত্ব পালন করতে পারছিলেন না। তখন নিজের ছোট ভাই পার্সিপ্যানি হাইস্কুলের শিক্ষার্থী প্যাট্রিক ল্যানিগানের সাহায্য চান।    প্যাট্রিক এক মুহূর্তও দেরি না করে বন্ধু জাস্টিন স্ট্যানটন, ক্রিস লাইবফ্রেড, টাইলার গ্রিকো ও আমন শারাফিকে বিষয়টি জানান। পাঁচ বন্ধু রাতে একসঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত নেন, যাতে ভোরে সময়মতো উঠে কাজটি শেষ করতে পারেন।    ভোর সাড়ে ৪টার দিকে প্রচণ্ড ঠান্ডা ও বরফের মধ্যে হাতে হোল নিয়ে তারা নাটালির বাড়ির সামনে পৌঁছে যান। প্রায় ৮ ইঞ্চি তুষার সরিয়ে মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যেই পুরো ড্রাইভওয়ে পরিষ্কার করে ফেলেন তারা।    সকাল ৬টার দিকে নাটালি যখন বাড়ি থেকে বের হন, তখন তার যাওয়ার পুরো পথ পরিষ্কার। ফলে তিনি নিরাপদে অ্যাম্বুলেন্সে উঠতে এবং নির্ধারিত সময়ে ডায়ালাইসিসে পৌঁছাতে সক্ষম হন।    পরে ঘটনাটি জানাজানি হলে পাঁচ কিশোরকে স্থানীয়ভাবে ‘স্নো অ্যাঞ্জেল’ বা ‘তুষারের ফেরেশতা’ বলে প্রশংসা করা হয়। তাদের এই উদ্যোগ স্থানীয় গণ্ডি পেরিয়ে রাজ্য ও জাতীয় পর্যায়েও আলোচনায় আসে।    প্যাট্রিকের বাবা পিটার ল্যানিগান সামাজিক মাধ্যমে ছেলেদের ছবি প্রকাশ করে তাদের এই কাজের কথা জানান। এরপর ঘটনাটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। পার্সিপ্যানি হাইস্কুলের তৎকালীন অধ্যক্ষও পাঁচ শিক্ষার্থীর এমন দায়িত্বশীলতার প্রশংসা করেন।    পরে নিউ জার্সির আইনপ্রণেতারাও পাঁচ শিক্ষার্থীর এই উদ্যোগের স্বীকৃতি দেন। তাদের সম্মানে আনুষ্ঠানিক প্রশংসাপত্রও দেওয়া হয়। আইনপ্রণেতাদের পক্ষ থেকে বলা হয়, নিজেদের ঘুম ও আরাম বিসর্জন দিয়ে তারা একজন প্রতিবেশীর প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দিয়েছিল।    তুষারের ভেতর ভোররাতে পাঁচ কিশোরের এই ছোট্ট উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত হয়ে ওঠে মানবিকতার বড় উদাহরণ। কোনো পুরস্কার বা পারিশ্রমিকের প্রত্যাশা ছাড়াই তারা শুধু একজন প্রতিবেশীকে সময়মতো চিকিৎসা নিতে সাহায্য করেছিল।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১০, ২০২৬ ০:৫২
কিম কারদাশিয়ানের হিডেন হিলসের বাড়িতে অনুপ্রবেশের ঘটনায় তদন্ত চলছে। ছবি: সংগৃহীত

কিম কার্দাশিয়ানের বাড়িতে ঢুকে বিলাসবহুল গাড়ি চুরি, তা নিয়েই এলাকাজুড়ে ঘুরে বেড়াল চোর

ক্যালিফোর্নিয়া থেকে অ্যারিজোনায় মানুষের স্থানান্তর সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ছবি: সংগৃহীত

ক্যালিফোর্নিয়া ছাড়ার হিড়িক, কেন অ্যারিজোনার দিকে ছুটছেন হাজারো পরিবার?

যুক্তরাষ্ট্রে পাওয়ারবল লটারির জ্যাকপট বেড়ে ৯০৫ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে ৯০৫ মিলিয়ন ডলারের পাওয়ারবল জ্যাকপট, ভাগ্য বদলের স্বপ্নে কোটি মানুষের নজর

নিউ জার্সি সফরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা যায় সহকারী ন্যাটালি হার্পকে। ছবি: সংগৃহীত
স্ত্রী মেলানিয়ার অনুপস্থিতিতে ট্রাম্পের সঙ্গে পুরো ছুটি কাটালেন তাঁর 'সবচেয়ে সুন্দরী' সহকারী

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রশাসনে সবচেয়ে পরিচিত মুখগুলোর একজন হয়ে উঠেছেন তার সহকারী নাতালি হার্প। ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের দীর্ঘ অনুপস্থিতির মাঝেই গত সপ্তাহান্তটি ট্রাম্পের সঙ্গেই কাটিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি নিউজার্সি থেকে ছেড়ে আসা এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠার সময় ৩৫ বছর বয়সী এই নারী কর্মকর্তার হাতে একটি বিশাল আকারের রহস্যময় লাল ব্যাগ দেখা যায়, যা নিয়ে মার্কিন রাজনৈতিক মহলে বেশ চর্চা শুরু হয়েছে।   গত সপ্তাহান্তে নিউজার্সির বেডমিনস্টারে ট্রাম্পের ন্যাশনাল গলফ ক্লাবে সার্বক্ষণিক তার পাশে ছিলেন নাতালি। ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প যখন স্বামীর পাশ থেকে অনেকটাই দূরে এবং তাদের দাম্পত্য জীবনের টানাপোড়েন নিয়ে নানা গুঞ্জন চলছে, ঠিক তখনই ট্রাম্পের ছায়াসঙ্গী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন এই নারী। মরিসটাউন মিউনিসিপ্যাল বিমানবন্দর থেকে ওয়াশিংটন ডিসির উদ্দেশে এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠার সময় সাংবাদিকদের ক্যামেরায় ধরা পড়েন অত্যন্ত নিবেদিতপ্রাণ এই সহকারী।   প্রকাশিত একটি ছবিতে দেখা যায়, গলফ কোর্সে ট্রাম্পের ঠিক পেছনেই একটি গলফ কার্ট চালাচ্ছেন নাতালি। তার মাথায় ছিল ‘ট্রাম্প’ লেখা বেসবল ক্যাপ। মুখে হাসির পাশাপাশি তার হাতের সেই বিশাল লাল ব্যাগটি সবার নজর কাড়ে, যার ভেতরে কী ছিল তা এখনো অজানা। এদিকে, বিশ্বজুড়ে বিশেষ করে ইরানের যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে যখন চরম উত্তেজনা চলছে, তখন ট্রাম্পের এমন নির্ভার গলফ খেলা এবং সহকারীর এই উপস্থিতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। একজন ব্যবহারকারী ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, দেশে জিনিসপত্রের দাম এখনও চড়া, আশা করি গলফ খেলে তার মাথা খুলবে এবং সমস্যা সমাধানের কোনো পথ তিনি বের করবেন। আরেকজন নাতালির সার্বক্ষণিক উপস্থিতিকে 'ভীতিকর' বলে মন্তব্য করেছেন।   নাতালি হার্পের কাজের পরিধি ঠিক কী, তা আনুষ্ঠানিকভাবে নির্দিষ্ট করা নেই। তবে প্রশাসনে তিনি ট্রাম্পের অত্যন্ত বিশ্বস্ত হিসেবে পরিচিত। গত সপ্তাহে আরেকটি সফরে এয়ার ফোর্স ওয়ান থেকে নামার সময় তার হাতে অন্তত চারটি মোবাইল ফোন এবং দুটি ল্যাপটপ দেখা যায়। হোয়াইট হাউসের বিভিন্ন অনুষ্ঠানেও তাকে ট্রাম্পের কাছাকাছি দেখা যায়। রক্ষণশীল ওয়েবসাইট থেকে খবর প্রিন্ট করা, গুগলে তথ্য খোঁজা এবং ট্রাম্পের ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ অ্যাকাউন্টের জন্য পোস্টের পরামর্শ দেওয়াই মূলত তার কাজ। এ কারণে অনেকেই তাকে ট্রাম্পের ‘হিউম্যান প্রিন্টার’ বা মানব প্রিন্টার বলে ডাকেন।   তবে ট্রাম্পের সঙ্গে তার এই ঘনিষ্ঠতার পেছনে একটি আবেগঘন কারণ রয়েছে বলে মনে করেন মনোবিজ্ঞানীরা। এর আগে নাতালির অস্থিমজ্জার ক্যানসার চিকিৎসায় একটি পরীক্ষামূলক ওষুধের অনুমোদন দিয়েছিলেন ট্রাম্প, যা তার জীবন বাঁচাতে সাহায্য করেছিল। ‘সার্চলাইট থেরাপি’-এর প্রতিষ্ঠাতা বেন মাশলিন জানান, যখন কোনো ব্যক্তি অন্য কারও জীবন বাঁচাতে বড় ভূমিকা রাখেন, তখন তাদের মধ্যকার সম্পর্ক ভিন্ন মাত্রা পায়। নাতালি হয়তো ট্রাম্পকে তার ‘রক্ষাকর্তা’ হিসেবে দেখেন।   তবে এই অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠতা নিয়ে হোয়াইট হাউসের অভ্যন্তরে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ট্রাম্পের চিফ অব স্টাফ সুসি ওয়াইলস এবং সিক্রেট সার্ভিসের কর্মকর্তারা নাতালিকে একটি সম্ভাব্য ‘নিরাপত্তা ঝুঁকি’ হিসেবে দেখছেন। নিউইয়র্ক টাইমসের সাংবাদিক ম্যাগি হ্যাবারম্যান ও জোনাথন সোয়ানের লেখা একটি বই অনুযায়ী, নাতালি প্রায়ই ট্রাম্পের ব্যক্তিগত জায়গাগুলোতে ছোট ছোট চিরকুট রেখে আসতেন। একটি চিরকুটে তিনি লিখেছিলেন, "আপনিই আমার কাছে সবকিছু।" এমন আচরণই নিরাপত্তারক্ষীদের চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।   নাতালির ভাই প্রেস্টন হার্পও এই সম্পর্ক নিয়ে মুখ খুলেছেন। দ্য ডেইলি বিস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, তাদের প্রয়াত বাবার সঙ্গে নাতালির সম্পর্ক খুব একটা ভালো ছিল না। তিনি হয়তো ট্রাম্পের মাঝে সেই পিতৃস্নেহ খুঁজে পেয়েছেন। নিকারাগুয়ায় বসবাসরত ৩৮ বছর বয়সী প্রেস্টন আরও বলেন, ট্রাম্পের 'আমেরিকান এক্সেপশনালিজম' বা আমেরিকার শ্রেষ্ঠত্বের আদর্শ নাতালিকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে এবং তিনি সম্ভবত ট্রাম্পকে একজন আদর্শ পিতার আসনেই বসিয়েছেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৯, ২০২৬ ২৩:১২
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসিতে একটি বাড়ি থেকে উদ্ধার করা বিপুল সংখ্যক গাঁজার গাছ। ছবি: সংগৃহীত

বসতবাড়িকে বানিয়েছিলেন গাঁজার চাষকেন্দ্র, ২৪৬টি গাছসহ গ্রেপ্তার টেনেসির বাসিন্দা

ক্যালিফোর্নিয়ার পিটসবার্গ শহরের ড্রিম কোর্টস প্রকল্পের অর্থ সাইবার প্রতারণার মাধ্যমে অন্য হিসাবে পাঠানো হয়। ছবি: সংগৃহীত

হ্যাকারদের অভিনব ফাঁদ, ক্যালিফোর্নিয়ার শহর কর্তৃপক্ষের ৯ লাখ ডলার গায়েব

কোবরা, অ্যানাকোন্ডা ও বিভিন্ন প্রজাতির র‍্যাটলস্নেক উদ্ধার করে তদন্ত শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। ছবি: সংগৃহীত

অনুমতি ছাড়াই গুদামে রাখা হয়েছিল ৪৬টি বিষধর সাপ, যুক্তরাষ্ট্রে গ্রেপ্তার ২

নতুন শিক্ষাবর্ষের আগে ক্যালিফোর্নিয়ায় শিক্ষা উপকরণের দাম বেড়ে অভিভাবকদের ব্যয় বাড়ছে। ছবি: সংগৃহীত
নতুন শিক্ষাবর্ষের আগে ক্যালিফোর্নিয়ার অভিভাবকদের বাড়তি চাপ, স্কুলসামগ্রীর দাম বেড়েছে ৭.৭ শতাংশ

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হওয়ার আগেই শিক্ষা উপকরণ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধিতে চরম বিপাকে পড়েছেন অভিভাবকরা। খাতা-কলম থেকে শুরু করে নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ পরিবারগুলোর মাসিক বাজেটে বড় ধরনের প্রভাব পড়ছে। এ বছর শিশুদের স্কুলে পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় সাধারণ উপকরণের একটি প্যাকেজ কিনতেই অভিভাবকদের খরচ করতে হচ্ছে প্রায় ১৭৫ মার্কিন ডলার।   গ্রাউন্ডওয়ার্ক কোলাবোরেটিভ এবং দ্য সেঞ্চুরি ফাউন্ডেশনের একটি বিশ্লেষণের বরাত দিয়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব স্যান ডিয়েগো জানিয়েছে, ২১টি অত্যাবশ্যকীয় শিক্ষা উপকরণের একটি গড় প্যাকেজের বর্তমান বাজারমূল্য ১৭৩ দশমিক ৪৫ ডলার। গত বছরের তুলনায় এই দাম প্রায় ৭ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিছু নির্দিষ্ট পণ্যের দাম গত বছরের তুলনায় ২০ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে। খাতার দাম বেড়েছে ২৩ শতাংশ, নোটবুক পেপারের দাম ২০ শতাংশ এবং ইনডেক্স কার্ডের দাম ২২ দশমিক ২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া শিশুদের লাঞ্চ বক্সের দাম প্রায় ২৭ শতাংশ এবং হোয়াইটবোর্ডের মার্কার ও গ্লু-স্টিকের দাম প্রায় ৮ শতাংশ বেড়েছে। পাশাপাশি সাধারণ পেন্সিল, রঙিন পেন্সিল, ক্রেয়ন ও বাইন্ডার কিনতে অভিভাবকদের এখন ৫ থেকে ৭ শতাংশ বেশি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।   বাড়ি ভাড়া, বিদ্যুৎ-গ্যাসের বিল এবং দৈনন্দিন খরচের ঊর্ধ্বগতির পাশাপাশি শিক্ষা উপকরণের এই বাড়তি দাম সাধারণ পরিবারগুলোর জন্য, বিশেষ করে যাদের একাধিক সন্তান রয়েছে, তাদের জন্য এক বড় ধরনের সংকট তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, সার্বিক মূল্যস্ফীতি এবং আমদানি করা পণ্যের ওপর বাড়তি খরচের কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।   স্যান ডিয়েগোর বাসিন্দা এবং পাঁচ সন্তানের জনক মার্ক ডেভিস সংবাদমাধ্যম এনবিসি ৭-কে তাঁর হতাশার কথা জানিয়ে বলেন, "বেতন ছাড়া আর সবকিছুরই দাম বাড়ছে। আমাকে পরিবারের সবার জন্য গ্যাস, বাসা ভাড়া, বিভিন্ন বিল এবং খাবারের খরচ জোগাতে হয়। প্রতিদিনের জীবনযাপনই এখন একটি বড় সংগ্রাম হয়ে দাঁড়িয়েছে, কিন্তু তবু আমাদের টিকে থাকতে হবে।"   গত সোমবার থেকে স্যান ডিয়েগো ইউনিফায়েড স্কুল ডিস্ট্রিক্টের ক্লাস শুরু হওয়ার কথা ছিল। এর আগে গত শনিবার এনক্যান্টো এলাকায় একটি 'ব্যাক-টু-স্কুল' সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়, যেখানে মার্ক ডেভিসের মতো অনেক অভিভাবকই ভিড় করেছিলেন। ক্যালিফোর্নিয়ার স্টেট সিনেটর আকিলাহ ওয়েবার পিয়ারসনের উদ্যোগে এই ইভেন্টটি আয়োজিত হয়। তিনি জানান, বাজেট কমানোর কারণে আগামীতে অনেক সুবিধাই বন্ধ হয়ে যেতে পারে, তাই সাধারণ মানুষের জানা উচিত যে বিকল্প সহায়তার জন্য তারা কোথায় যোগাযোগ করতে পারেন।   স্যান ডিয়েগো কাউন্টিতে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর জন্য খাদ্যের খরচ জোগাড় করাও আরেকটি বড় চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারি কর্মকর্তাদের ধারণা অনুযায়ী, এ বছর প্রায় ৯৩ হাজার মানুষ তাদের 'ক্যালফ্রেশ' খাদ্য সহায়তা সুবিধা হারাতে পারেন। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাউন্টি কর্তৃপক্ষ 'সেফটি নেট ব্রিজ' নামের একটি প্রকল্পে অর্থায়ন করেছে। এর আওতায় শনিবার চুলা ভিস্তা এলাকায় পরিবারগুলোর মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়।   চার সন্তানের বাবা হোসে মিরান্ডা জানান, তাদের পরিবারকে বেশ কয়েকটি সহায়তা কর্মসূচির ওপর নির্ভর করে চলতে হয়। সংসারের খরচ মেটাতে তিনি এবং তার স্ত্রী দুজনকেই কাজ করতে হয়। তিনি বলেন, "আমরা দুজনই ন্যূনতম মজুরিতে কাজ করি। বিভিন্ন সহায়তা পাওয়ার জন্য আমরা ২-১-১ নম্বরে কল করে খোঁজ নিই এবং মাঝেমধ্যেই এ ধরনের সাহায্য প্রদানকারী ইভেন্টগুলোতে আসি।"   কাউন্টি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী শরৎকাল পর্যন্ত বাসিন্দাদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এবং খাদ্য সহায়তা দিতে তারা আরও বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। উল্লেখ্য, সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া এবং লস অ্যাঞ্জেলেস ইউনিফায়েড স্কুল ডিস্ট্রিক্ট (এলএইউএসডি) ও এবিসি ইউনিফায়েডসহ প্রধান শহুরে এলাকাগুলোতে গত ১২ আগস্ট, সোমবার থেকে নতুন শিক্ষাবর্ষের ক্লাস শুরু হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৯, ২০২৬ ২১:৫৯
মেইনের বাথ শহরের শতবর্ষী ‘ডিয়ারিং হাউস’ মাত্র ১ ডলারে বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে মাত্র ১ ডলারে বিক্রি হচ্ছে শতবর্ষী ঐতিহাসিক বাড়ি, তবে রয়েছে একটি শর্ত

ক্যালিফোর্নিয়ার লা জোলা উপকূলে অবস্থিত বিলাসবহুল ‘দ্য স্যান্ড ক্যাসেল’ প্রাসাদ। ছবি: সংগৃহীত

ক্যালিফোর্নিয়ার চোখধাঁধানো বিলাসবহুল বাড়ি ‘দ্য স্যান্ড ক্যাসল’ বিক্রি হচ্ছে ৮ কোটি ৭৫ লাখ ডলারে

লিবার্টি আইল্যান্ডের কাছে স্পিডবোট উল্টে যাওয়ার ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের কোস্ট গার্ড। ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্ক হারবারে স্পিডবোট উল্টে মা ও পাঁচ মাসের শিশুর মৃত্যু, ১২ জনকে জীবিত উদ্ধার

0 Comments