আমেরিকা

যুদ্ধ থেকে স্বামীর ফেরার আশায় ৫৪ বছর অপেক্ষা! শেষে জানলেন তিনি নতুন সংসার গড়েছেন

নীলুফা নিশাত প্রকাশ: আগস্ট ১০, ২০২৬ ৮:০
যুদ্ধকালীন সময়ে ৫৪ বছর বিচ্ছিন্ন থাকা এক দম্পতির আবেগঘন পুনর্মিলন। ছবি:সংগৃহীত
যুদ্ধকালীন সময়ে ৫৪ বছর বিচ্ছিন্ন থাকা এক দম্পতির আবেগঘন পুনর্মিলন। ছবি:সংগৃহীত

চীনে কৈশোরের প্রেমিকের ফিরে আসার আশায় ৫৪ বছর অপেক্ষা করেছেন এক নারী। এত দীর্ঘ সময়েও তিনি আর বিয়ে করেননি। শেষ পর্যন্ত একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানের সহায়তায় সেই প্রিয় মানুষটির সন্ধান মিললেও পুনর্মিলনের মুহূর্তে সামনে আসে এক কঠিন বাস্তবতা, সময়ের ব্যবধানে দুজনের জীবনই বদলে গেছে।

 

কৈশোরে নিজের গ্রামের এক তরুণের প্রেমে পড়েছিলেন ওই নারী। কিন্তু সে সময়ের রাজনৈতিক অস্থিরতায় দুজন বিচ্ছিন্ন হয়ে যান। এরপর প্রেমিকের কোনো খোঁজ না পেয়ে তিনি জানতেও পারেননি, তিনি বেঁচে আছেন কি না।

 

তবু তাকে ভুলে যাননি ওই নারী। তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, আর কখনো বিয়ে করবেন না। সেই সিদ্ধান্তেই অটল থেকে বছরের পর বছর নিজের গ্রামেই থেকে যান। একই সঙ্গে তিনি তার প্রিয় মানুষটির বৃদ্ধ বাবা-মায়ের দেখাশোনা করতে থাকেন এবং মনে আশা রাখেন, একদিন হয়তো তিনি ফিরে আসবেন।

 

সময়ের সঙ্গে তার চুল কালো থেকে সাদা হয়ে যায়। বয়স বাড়তে থাকে, বদলে যায় চারপাশের মানুষ ও পরিবেশ। কিন্তু অপেক্ষা থামেনি।

 

অন্যদিকে, নিজের পুরোনো পরিবার ও গ্রামের সঙ্গে আর কখনো যোগাযোগ হবে না বলে ধরে নিয়েছিলেন সেই তরুণ। একসময় তিনি নতুন করে সংসার শুরু করেন। বিয়ে করেন, সন্তানদের বড় করেন এবং একপর্যায়ে নাতি-নাতনির দাদাও হন।

 

দীর্ঘ ৫৪ বছর পর ওই নারী চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমের ‘ওয়েটিং ফর মি’ নামের একটি অনুষ্ঠানের সহায়তা নিয়ে তার পুরোনো প্রেমিককে খুঁজতে উদ্যোগী হন। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর অবশেষে তার সন্ধান পাওয়া যায়।

 

পুনর্মিলনের সেই মুহূর্তটি ছিল আবেগঘন। বহু বছর পর দুজন যখন মুখোমুখি হন, নারীটি কান্নায় ভেঙে পড়েন। পরে তাকে সেই মানুষের আলিঙ্গনে তুলে দেওয়া হয়, যাকে তিনি জীবনের অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় ধরে ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন।

 

তবে এই দেখা শুধু আনন্দের ছিল না। পাঁচ দশকের বেশি সময় পর তারা একে অপরকে ফিরে পেলেও মাঝের দীর্ঘ সময়ে দুজনের জীবন সম্পূর্ণ ভিন্ন পথে এগিয়ে গেছে। একজন অপেক্ষা করে কাটিয়েছেন জীবন, অন্যজন গড়ে তুলেছেন নতুন পরিবার।

 

এই পুনর্মিলনের গল্প তাই শুধু দীর্ঘদিনের ভালোবাসার নয়, সময়ের নির্মম বাস্তবতারও। ভালোবাসা হয়তো দীর্ঘ বিচ্ছেদ পেরিয়েও টিকে থাকতে পারে, কিন্তু হারিয়ে যাওয়া সময় সবসময় ফিরে পাওয়া যায় না।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
নিউইয়র্ক সিটিতে গৃহহীন মানুষের মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে মাদক ও অ্যালকোহলজনিত সমস্যা সামনে এসেছে। ছবি: এপি নিউজ
নিউইয়র্কে গৃহহীনদের করুণ পরিণতি, প্রায় অর্ধেক মৃত্যুর পেছনে মাদক ও অ্যালকোহল

নিউইয়র্ক সিটিতে গৃহহীন মানুষের মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে মাদক ও অ্যালকোহলজনিত সমস্যা সামনে এসেছে। শহরের স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবা বিভাগের ২০২৬ সালের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত গৃহহীন অবস্থায় মারা যাওয়া ৬৩৪ জনের মধ্যে ২৮৫ জনের মৃত্যুর সঙ্গে মাদক বা অ্যালকোহল ব্যবহারের সম্পর্ক ছিল।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সময়ে মাদকজনিত কারণে ২৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা মোট মৃত্যুর ৪০ শতাংশ। অ্যালকোহলের অপব্যবহার বা নির্ভরতার সঙ্গে সম্পর্কিত আরও ৩৪টি মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে এই দুই কারণে মৃত্যু হয়েছে ২৮৫ জনের, যা মোট মৃত্যুর প্রায় ৪৫ শতাংশ।    তবে আগের বছরের তুলনায় সামগ্রিকভাবে গৃহহীন মানুষের মৃত্যুর সংখ্যা কমেছে। ২০২৪ অর্থবছরে ৭৭০ জনের মৃত্যুর বিপরীতে ২০২৫ অর্থবছরে মৃত্যু হয়েছে ৬৩৪ জনের, অর্থাৎ প্রায় ১৮ শতাংশ কম। একই সময়ে মাদকজনিত মৃত্যুও ৩৪৮ থেকে কমে ২৫১ হয়েছে। মাদক ও অ্যালকোহলের পর মৃত্যুর প্রধান কারণগুলোর মধ্যে ছিল হৃদরোগ, দুর্ঘটনা এবং ক্যানসার। হৃদরোগে ৭৮ জন, মাদকজনিত ওভারডোজ বাদে বিভিন্ন দুর্ঘটনায় ৬০ জন, অ্যালকোহলজনিত সমস্যায় ৩৪ জন এবং ক্যানসারে ২৩ জন মারা গেছেন। এছাড়া আত্মহত্যায় ১৮ জন, ঠান্ডাজনিত হাইপোথার্মিয়ায় ১৫ জন, সাবওয়ে দুর্ঘটনায় ১৫ জন এবং হত্যাকাণ্ডে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে।    মৃতদের ৫২ শতাংশ ছিলেন আশ্রয়কেন্দ্রের বাইরে থাকা গৃহহীন মানুষ। তাদের মধ্যে ২২ শতাংশের মৃত্যু হয়েছে বাইরে। অন্যদিকে মোট মৃত্যুর ৫৮ শতাংশ ঘটেছে হাসপাতালে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আশ্রয়কেন্দ্রের বাইরে থাকা মানুষের মধ্যে মাদকজনিত মৃত্যুর হারও বেশি ছিল।    তবে প্রতিবেদনের তথ্য পুরো চিত্র তুলে নাও ধরতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। বিশেষ করে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা অভিবাসীদের মৃত্যুর সব তথ্য সংশ্লিষ্ট ডেটাবেসের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা সম্ভব হয়নি। ফলে প্রকৃত সংখ্যা প্রতিবেদনে উল্লেখিত সংখ্যার চেয়ে বেশি হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।    নিউইয়র্ক সিটি কর্তৃপক্ষের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গৃহহীন মানুষেরা স্বাস্থ্যঝুঁকির দিক থেকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ একটি জনগোষ্ঠী। দারিদ্র্য, আবাসন অনিশ্চয়তা এবং স্বাস্থ্যসেবায় সীমিত প্রবেশাধিকারের মতো সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।   মাদকজনিত মৃত্যু কমাতে শহরটি ওভারডোজ প্রতিরোধ কর্মসূচি, নালোক্সোন ব্যবহারের প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন উদ্যোগ পরিচালনা করছে। শহরের স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট গবেষণাতেও গৃহহীন মানুষের মধ্যে ওভারডোজকে মৃত্যুর প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।    প্রতিবেদনটি নিউইয়র্ক সিটিতে গৃহহীন মানুষের মৃত্যুর কারণ নিয়ে প্রকাশিত ধারাবাহিক বার্ষিক প্রতিবেদনের ২০তম সংস্করণ। কর্তৃপক্ষের মতে, এসব তথ্য গৃহহীন মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি চিহ্নিত করা এবং ভবিষ্যতে তাদের জন্য কার্যকর সেবা ও নীতিমালা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: আগস্ট ১০, ২০২৬ ৯:১২
জাকারবার্গের বিলাসবহুল ইয়ট।ছবি:সংগৃহীত

আলাস্কায় বিপদে পড়া নৌকাকে সাহায্য করেনি জাকারবার্গের ৩০ কোটি ডলারের বিলাসবহুল ইয়ট

ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মেলানিয়া ট্রাম্প আব্দুল এল-সায়েদ এবং তার স্ত্রী সারা জুকাকুক। ছবি:সংগৃহীত

ট্রাম্প-মেলানিয়ার ছবির সাথে নিজেদের ছবি তুলনা করে এল সায়েদ বলেন, আমরা একে অপরকে সত্যি ভালোবাসি"

যুদ্ধকালীন সময়ে ৫৪ বছর বিচ্ছিন্ন থাকা এক দম্পতির আবেগঘন পুনর্মিলন। ছবি:সংগৃহীত

যুদ্ধ থেকে স্বামীর ফেরার আশায় ৫৪ বছর অপেক্ষা! শেষে জানলেন তিনি নতুন সংসার গড়েছেন

নিউইর্য়ক পুলিশ। ছবি:সংগৃহীত
নিউইয়র্ক পুলিশে বাড়ছে বাংলাদেশি পুলিশ! বেতন ৯০হাজার ডলার, আবেদন করুন আজই

যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম পুলিশ বাহিনী নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগে বাংলাদেশি-আমেরিকানদের উপস্থিতি গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বাংলাদেশি আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের আগস্টে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের ইউনিফর্মধারী সদস্যদের মধ্যে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কর্মকর্তার সংখ্যা ১ হাজারের বেশি ছিল। তাদের মধ্যে ১০ জন গোয়েন্দা, ৮২ জন সার্জেন্ট, ২০ জন লেফটেন্যান্ট এবং ৪ জন পরিদর্শক রয়েছেন।   অ্যাসোসিয়েশনের এই তথ্যের সঙ্গে আগে প্রকাশিত ৪০০ জনের বেশি বাংলাদেশি পুলিশ কর্মকর্তা থাকার দাবির পার্থক্য রয়েছে। ২০২৫ সালের আগস্টে অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য উদ্ধৃত করে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানায়, নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের প্রায় ৩৩ হাজার ইউনিফর্মধারী সদস্যের মধ্যে ১ হাজারের বেশি বাংলাদেশি-আমেরিকান ছিলেন। একই সময়ে বিভাগটির প্রায় ১৯ হাজার বেসামরিক কর্মীর মধ্যে আরও প্রায় ১ হাজার ৫০০ জন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ছিলেন।   নিউইয়র্কে বাংলাদেশি কমিউনিটির বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ বিভাগেও বাংলাদেশিদের প্রতিনিধিত্ব বাড়ছে। বাংলাদেশি কর্মকর্তাদের অনেকে পুলিশ বিভাগে বেসামরিক পদে কাজ শুরু করে পরে নাগরিকত্ব পাওয়ার পর পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে ক্যারিয়ার গড়েছেন। এই পথটি বাংলাদেশি-আমেরিকানদের মধ্যে পুলিশ বিভাগে যোগ দেওয়ার একটি পরিচিত মাধ্যম হিসেবে গড়ে উঠেছে।   এদিকে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগে পুলিশ কর্মকর্তা পদে যোগ দেওয়ার শিক্ষাগত যোগ্যতাও আগের তুলনায় সহজ করা হয়েছে। ২০২৫ সালে বিভাগটি পুলিশ একাডেমিতে প্রবেশের জন্য কলেজের সনদের শর্ত ৬০ থেকে কমিয়ে ২৪ করেছে। বর্তমানে আবেদনকারীদের স্বীকৃত কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কমপক্ষে ২৪টি কলেজ সনদ এবং ন্যূনতম ২ দশমিক ০ গড় নম্বর থাকতে হয়। বিকল্প হিসেবে দুই বছর পূর্ণকালীন মার্কিন সামরিক বাহিনীতে সম্মানজনক চাকরির অভিজ্ঞতাও গ্রহণযোগ্য।   প্রবেশ পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য ন্যূনতম বয়স ১৭ বছর ৬ মাস। তবে পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পেতে প্রার্থীর বয়স কমপক্ষে ২১ বছর হতে হয়। পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য ৩৫তম জন্মদিনের আগে নিবন্ধন করতে হয়। এছাড়া প্রার্থীদের মার্কিন নাগরিকত্ব, বৈধ নিউইয়র্ক ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং নির্ধারিত এলাকায় বসবাসের শর্ত পূরণ করতে হয়।   বেতনও নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগে চাকরির অন্যতম আকর্ষণ। সাম্প্রতিক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, পুলিশ কর্মকর্তাদের বর্তমান প্রারম্ভিক বার্ষিক বেতন ৫৫ হাজার ৯৪২ ডলার। পাঁচ বছর ছয় মাস চাকরি শেষে মূল বেতন ১ লাখ ৯ হাজার ৩৫২ ডলারে পৌঁছাতে পারে। এর বাইরে পোশাক ভাতা, ছুটির দিনের পারিশ্রমিক, স্বাস্থ্যবিমা, বিভিন্ন তহবিলে নগর সরকারের অবদান এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে অতিরিক্ত বেতন পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে বেতন কাঠামো সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে।   বাংলাদেশি-আমেরিকানদের নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগে এই ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি কমিউনিটির নাগরিক ও পেশাগত অংশগ্রহণের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০২৫ সালে বাংলাদেশি-আমেরিকান নিউইয়র্ক পুলিশ কর্মকর্তা দিদারুল ইসলাম কর্মরত অবস্থায় নিহত হওয়ার পর তাঁর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়াতেও বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ কর্মকর্তার উপস্থিতি এই কমিউনিটির শক্তিশালী প্রতিনিধিত্বকে সামনে নিয়ে আসে।   নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের সামগ্রিক জনবলও সম্প্রতি বেড়েছে। ২০২৫ সালে বিভাগটি রেকর্ড ৪ হাজার ৫৬ জন নতুন পুলিশ কর্মকর্তা নিয়োগ করে। ওই বছরের ডিসেম্বরের নিয়োগের পর বিভাগের মোট জনবল ৩৪ হাজার ৭০০-এর বেশি হয়।   বাংলাদেশি-আমেরিকানদের জন্য নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগে চাকরির সুযোগ নিয়ে আগ্রহ বাড়লেও আবেদনকারীদের অবশ্যই সর্বশেষ যোগ্যতা, বেতন ও নিয়োগসংক্রান্ত শর্ত বিভাগটির বর্তমান নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী যাচাই করা উচিত।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: আগস্ট ১০, ২০২৬ ৭:৫৩
উদ্ধারকৃত ডলার। ছবি:সংগৃহীত

বিমানবন্দরে লাগেজ থেকে ৬ লাখ ১৮ হাজার ডলার উদ্ধার, যুবকের কারাদণ্ড

নৌকায় অভিবাসীদের বহনকরার সময়। ছবি:সংগৃহীত

এক নৌকায় রেকর্ড ২৩০ অভিবাসী নিয়ে ইংলিশ চ্যানেল পেরিয়ে যুক্তরাজ্যে, জাতীয় নিরাপত্তা জরুরি অবস্থা’র সতর্কতা

ঘটনা স্থলে পুলিশ। ছবি:সংগৃহীত

টেম্পল ইউনিভার্সিটির বাইরে প্রকাশ্যে গুলিতে আহত ২, হামলার কারণ রহস্যজনক

ভয়াবহ দাবানল।ছবি:সংগৃহীত
ওয়াশিংটনে ভয়াবহ দাবানলে পুড়েছে ৩ লাখের বেশি একর জমি

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যে চলতি বছর ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে দাবানল। ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত অঙ্গরাজ্যজুড়ে ৩ লাখের বেশি একর জমি আগুনে পুড়ে গেছে বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন স্টেট ডিপার্টমেন্ট অব ন্যাচারাল রিসোর্সেস।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কিআইআরও ৭-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুড়ে যাওয়া এই বিপুল এলাকা মূলত অঙ্গরাজ্যের সুরক্ষিত জমির অন্তর্ভুক্ত। দাবানলের বিস্তার নিয়ে নতুন তথ্য প্রকাশের পর অঙ্গরাজ্যজুড়ে চলমান আগুনের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।   ওয়াশিংটনের বিভিন্ন এলাকায় গরম ও শুষ্ক আবহাওয়া, শুষ্ক উদ্ভিদ এবং আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার মতো পরিস্থিতি দাবানলের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে। বিশেষ করে অঙ্গরাজ্যের পূর্বাঞ্চলে বড় পরিসরে আগুন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বেশি থাকে।   ওয়াশিংটন ডিপার্টমেন্ট অব ন্যাচারাল রিসোর্সেসের তথ্য অনুযায়ী, দাবানল মোকাবিলায় দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা, বনাঞ্চলের ঝুঁকি কমানো এবং আগুনের বিস্তার ঠেকাতে বিভিন্ন ধরনের ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম চালানো হয়।   অঙ্গরাজ্যটির জন্য দাবানল নতুন কোনো ঘটনা নয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ওয়াশিংটনে বড় আকারের একাধিক দাবানল হয়েছে। ২০২৪ সালেও অঙ্গরাজ্যজুড়ে প্রায় ৩ লাখ ৭ হাজার ৭০০ একর এলাকায় দাবানলের প্রভাব পড়েছিল। এর মধ্যে প্রায় ১ লাখ ২৩ হাজার ২০০ একর ছিল বনাঞ্চল।   তবে ২০২৬ সালের মাত্র আগস্টেই ৩ লাখ একরের বেশি জমি পুড়ে যাওয়ার তথ্য চলতি দাবানল মৌসুমের তীব্রতা তুলে ধরছে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে আগুনের ধোঁয়া, বাতাসের মান এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তার ওপরও প্রভাব পড়তে পারে।   দাবানলের ঝুঁকি মোকাবিলায় ওয়াশিংটন কর্তৃপক্ষ দীর্ঘদিন ধরে বন ব্যবস্থাপনা, আগুনের ঝুঁকি কমানো এবং দ্রুত জরুরি সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছে। অঙ্গরাজ্যের বন ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় এসব উদ্যোগের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদেরও আগুনের সতর্কতা মেনে চলার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: আগস্ট ১০, ২০২৬ ৫:৪১
তীব্র গরমের মধ্যে নিউইয়র্ক সিটির আকাশে ঘন কালো মেঘ বজ্রঝড় ও ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা। ছবি:সংগৃহীত

নিউইয়র্কে তীব্র গরম, বিকেল-সন্ধ্যায় বজ্রঝড়ের আশঙ্কা

U.S. Senator Chris Murphy

ইরান যুদ্ধে ট্রাম্প ‘হেরে গেছেন’: মার্কিন সিনেটর ক্রিস মারফি

কুমিরের কামড়ে পানির নিচে আটকা নারী

কুমিরের কামড়ে পানির নিচে আটকা নারী, শেষ পর্যন্ত কেটে ফেলতে হলো ডান হাত

0 Comments