যে ভুল পানীয় পান করেই দীর্ঘদিনের শারীরিক সমস্যার কারণ খুঁজে পেলেন তরুণী
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় বসবাসকারী ২৮ বছর বয়সী হান্নাহ সিদ্দিকি ভুল করে অ্যালকোহলযুক্ত একটি পানীয় পান করার পর নিজের দীর্ঘদিনের শারীরিক সমস্যাগুলোর সম্ভাব্য কারণ খুঁজে পান। শৈশব থেকেই নানা ধরনের শারীরিক সমস্যায় ভুগলেও সেগুলোকে আলাদা আলাদা সমস্যা হিসেবে দেখেছিলেন তিনি। পরে ভুল পানীয় পান করার পর দেখা দেওয়া উপসর্গের সঙ্গে পুরোনো সমস্যাগুলোর সম্ভাব্য যোগসূত্র সামনে আসে।
ঘটনাটি ঘটে সান ফ্রান্সিসকোর একটি রেস্তোরাঁয়। ওই সময় সিদ্দিকি ১৯৭ দিন ধরে মদ্যপান থেকে বিরত ছিলেন। তিনি এক বন্ধুর সঙ্গে রেস্তোরাঁয় গিয়ে একটি মকটেল পান করেন। পরে আরও একটি মকটেল অর্ডার করেন। বারটেন্ডার একটি বোতলে রাখা আগে থেকে তৈরি মিশ্রণ দিয়ে পানীয়টি তৈরি করে দেন। স্বাদে সেটি ফলের রসের মতো মনে হওয়ায় তিনি বুঝতে পারেননি যে পানীয়টিতে অ্যালকোহল রয়েছে।
গ্লাসের শেষের দিকে পৌঁছানোর পর সিদ্দিকির মাথা হালকা লাগতে শুরু করে এবং তিনি কিছুটা মাতাল অনুভব করেন। তখন তিনি বুঝতে পারেন, পানীয়টি আসলে তার চাওয়া মকটেল ছিল না। পরদিন সকালে তার মাইগ্রেন, পেটের সমস্যা, ঠান্ডা লাগা ও ক্লান্তি দেখা দেয়। প্রথমে তিনি এসব উপসর্গকে অ্যালকোহল পান করার স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া বলে মনে করেছিলেন।
কিন্তু তার শারীরিক অবস্থা দ্রুত ভালো হয়নি। সিদ্দিকি জানান, প্রায় তিন দিন তিনি এতটাই অসুস্থ ছিলেন যে সোফা থেকে উঠতেও পারছিলেন না। তার ত্বক গরম ও চুলকানিযুক্ত হয়ে ওঠে। খাবার খেলে বমিভাব তৈরি হতো। পরে সামান্য জ্বরও দেখা দেয়। একই সঙ্গে তিনি এমন এক ধরনের উদ্বেগ অনুভব করেন, যা তার মতে শুধু ওই ঘটনায় অ্যালকোহল পান করার কারণে তৈরি হয়নি।
ঘটনার দুই দিন পর নিজের শারীরিক সমস্যার বিষয়ে তিনি ক্লড নামের একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবটের সঙ্গে কথা বলেন। সেখানে তার আগের বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার তথ্যও ছিল। চ্যাটবটটি নতুন উপসর্গের সঙ্গে শৈশব থেকে থাকা কিছু সমস্যার সম্ভাব্য যোগসূত্র তুলে ধরে।
সিদ্দিকি জানান, ছোটবেলা থেকেই তার অতিরিক্ত ক্লান্ত হলে নাক বন্ধ হয়ে যেত। চুল অপসারণের পর মুখে চাকা ওঠার মতো প্রতিক্রিয়াও হতো। এ ছাড়া বিভিন্ন খাবার খেলে তার শারীরিক প্রতিক্রিয়া দেখা দিলেও অ্যালার্জির পরীক্ষায় তা ধরা পড়েনি। এসব বিষয় তিনি এতদিন আলাদা আলাদা শারীরিক সমস্যা হিসেবেই দেখেছিলেন।
চ্যাটবটটি এসব উপসর্গের মধ্যে সম্ভাব্য সম্পর্ক খুঁজে মাস্ট সেল অ্যাক্টিভেশন সিনড্রোম বা এমসিএএসের কথা তুলে ধরে। এই অবস্থায় শরীরের মাস্ট সেল অতিরিক্ত সক্রিয় হয়ে বিভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। চুলকানি, চাকা ওঠা, শরীর ফুলে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট ও পরিপাকতন্ত্রের সমস্যাসহ বিভিন্ন উপসর্গ এর সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
সিদ্দিকি পরে বিষয়টি তার চিকিৎসকের কাছে তুলে ধরেন। চিকিৎসকও এটিকে সম্ভাব্য ব্যাখ্যা হিসেবে বিবেচনা করেন এবং অ্যান্টিহিস্টামিন ব্যবহারের পরামর্শ দেন। সিদ্দিকি জানান, ওষুধ শুরু করার তৃতীয় দিন থেকেই তিনি ভালো অনুভব করতে শুরু করেন।
তবে নিউজউইকের সঙ্গে কথা বলা রোগ প্রতিরোধ বিশেষজ্ঞ মেহাক জহুর খান সতর্ক করে বলেছেন, অ্যান্টিহিস্টামিন ব্যবহারের পর উপসর্গ কমে যাওয়া একাই এমসিএএসের নিশ্চিত প্রমাণ নয়। সাধারণ পরিবেশগত বা খাবারের অ্যালার্জির ক্ষেত্রেও অ্যান্টিহিস্টামিন উপকার করতে পারে। তাই শুধু ওষুধে উপকার পাওয়ার ভিত্তিতে এই রোগ নিশ্চিত করা যায় না।
বিশেষজ্ঞের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সরঞ্জাম চিকিৎসাবিষয়ক শব্দ ও সম্ভাব্য সম্পর্ক বুঝতে মানুষকে সহায়তা করতে পারে। তবে এসব সরঞ্জাম দিয়ে এমসিএএস বা অন্য কোনো রোগ নিশ্চিতভাবে নির্ণয় করা নিরাপদ নয়। সঠিক রোগ নির্ণয়ের জন্য চিকিৎসকের যথাযথ মূল্যায়ন প্রয়োজন।
সিদ্দিকি এখন নিজের চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাদ্যাভ্যাস, পরিপূরক গ্রহণ ও পরিবেশগত পরিবর্তনের মাধ্যমে শরীরে হিস্টামিনের প্রভাব কমানোর চেষ্টা করছেন। একই সঙ্গে নিজের স্বাস্থ্যসংক্রান্ত অভিজ্ঞতাকে তিনি অনলাইন কনটেন্ট ও আধ্যাত্মিক কাজের সঙ্গেও যুক্ত করেছেন।
সিদ্দিকির এই অভিজ্ঞতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। তার প্রকাশ করা ভিডিওটি ৩১ লাখের বেশি বার দেখা হয়েছে। দীর্ঘদিনের বিভিন্ন শারীরিক সমস্যাকে আলাদা ঘটনা হিসেবে দেখার পর ভুল করে অ্যালকোহলযুক্ত পানীয় পান করার ঘটনায় নতুন উপসর্গ দেখা দেয়। সেই ঘটনাই তাকে পুরোনো সমস্যাগুলোর মধ্যে সম্ভাব্য যোগসূত্র খুঁজে দেখার দিকে নিয়ে যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreপেনসিলভানিয়ার বাফেলো টাউনশিপে স্ত্রী বিচ্ছেদের আবেদন করার পর নিজের বাড়ি খননযন্ত্র দিয়ে ভেঙে ফেলার অভিযোগ উঠেছে ৪৮ বছর বয়সী এরিক পিয়ার্সজার বিরুদ্ধে। সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো, বাড়ি ভাঙার সময় তাঁর স্ত্রী ও দুই মেয়ে ভেতরেই ছিলেন। তবে ঘটনায় কেউ আহত হননি। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনার রাতে পিয়ার্সজা মদ্যপান করেছিলেন। স্ত্রীর সঙ্গে তর্কের একপর্যায়ে তিনি বিচ্ছেদের প্রসঙ্গ তুলে বাড়ি ভেঙে ফেলার হুমকি দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর তিনি একটি নির্মাণকাজের খননযন্ত্রে উঠে বাড়িটির পেছনের অংশে আঘাত করতে শুরু করেন। বাড়ি ভাঙার সময় ভেতরে থাকা পরিবারের সদস্যরা জরুরি নম্বরে ফোন করে পুলিশকে খবর দেন। তাঁদের ফোনে কথা বলার সময় বাড়ি ভাঙার শব্দও শোনা যায় বলে স্থানীয় প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বাড়ির পেছনের অংশ ভেঙে ফেলার পর পিয়ার্সজা আবার ঘরে ঢোকেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর তিনি একটি ব্যাগ নিয়ে শহরের দিকে চলে যান। পরে পুলিশ তাঁকে আটক করে। পিয়ার্সজার বিরুদ্ধে একাধিক ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিপর্যয় সৃষ্টি, অন্য ব্যক্তির জীবন ঝুঁকির মুখে ফেলার তিনটি অভিযোগ এবং বিশৃঙ্খল আচরণের অভিযোগ। তাঁকে ১০ হাজার ডলার বন্ডে বাটলার কাউন্টি কারাগারে রাখা হয়েছে। তদন্তকারীদের বরাতে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বাইরে থেকে বাড়িটির ক্ষতি তুলনামূলকভাবে সীমিত মনে হলেও ভবনটির কাঠামোগত নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে পুরো বাড়িটি ভেঙে ফেলতে হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার পর পিয়ার্সজার বিরুদ্ধে আইনি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর পরবর্তী কার্যক্রম চলবে।
চার বছর ধরে নিখোঁজ আফগান-আমেরিকান শাহ হাবিবি, সন্ধান দিলে ৫০ লাখ ডলার পুরস্কার
ইনস্টাগ্রাম লাইভে হরমোনের ইনজেকশন নিলেন মার্কিন নারী, জানালেন ডিম্বাণু সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত
যে ভুল পানীয় পান করেই দীর্ঘদিনের শারীরিক সমস্যার কারণ খুঁজে পেলেন তরুণী
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে ৮৮ বছর বয়সেও সপ্তাহে পাঁচ দিন, প্রতিদিন আট ঘণ্টা করে কাজ করছিলেন সেনাবাহিনীর সাবেক সদস্য এড বামবাস। অবসর নেওয়ার সামর্থ্য না থাকায় তাকে কাজ চালিয়ে যেতে হচ্ছিল। পরে তার জীবনের গল্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মানুষের সহায়তায় তার জন্য ১৭ লাখ ডলারের বেশি অর্থ সংগ্রহ করা হয়। সেই অর্থের মাধ্যমে অবশেষে অবসরের সুযোগ পান তিনি। বামবাস দীর্ঘ সময় জেনারেল মোটরসে কাজ করেছেন এবং ১৯৯৯ সালে অবসর নেন। পরে তার আর্থিক পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। স্ত্রীর অসুস্থতার চিকিৎসা ও অন্যান্য ব্যয় মেটাতে তাকে নিজের বাড়ি ও সম্পত্তি বিক্রি করতে হয়। স্ত্রীর মৃত্যুর পরও আর্থিক চাপ থেকে যায়। একপর্যায়ে জীবিকা চালাতে তাকে আবার কাজে ফিরতে হয়। ৮৮ বছর বয়সে বামবাস মিশিগানের একটি মুদিপণ্যের দোকানে কাজ করছিলেন। সেখানে তার সঙ্গে দেখা হয় অস্ট্রেলিয়ার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নির্মাতা স্যামুয়েল ওয়াইডেনহোফারের। কথোপকথনের সময় বামবাস তার জীবনের আর্থিক সংকট এবং কেন এত বয়সেও তাকে কাজ করতে হচ্ছে, সে সম্পর্কে জানান। ওয়াইডেনহোফার বামবাসের গল্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করার পর সেটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এরপর বামবাসকে সহায়তা করতে একটি তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এতে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ অর্থ সহায়তা করতে শুরু করেন। কয়েক দিনের মধ্যেই তহবিলে ১০ লাখ ডলারের বেশি জমা পড়ে এবং পরে সংগ্রহের পরিমাণ ১৭ লাখ ডলার ছাড়িয়ে যায়। ৫ ডিসেম্বর ২০২৫ বামবাসকে ১৭ লাখ ডলারের বেশি অর্থের একটি চেক দেওয়া হয়। অর্থের পরিমাণ দেখে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। এই অর্থ তার দীর্ঘদিনের আর্থিক চাপ কমিয়ে অবসর নেওয়ার সুযোগ তৈরি করে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, তিনি অবশেষে কাজ থেকে অবসর নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তহবিল সংগ্রহের আয়োজক ওয়াইডেনহোফার জানান, বামবাসের গল্প তাকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল। তার লক্ষ্য ছিল এমন একজন প্রবীণ সেনাসদস্যকে সহায়তা করা, যিনি জীবনের শেষভাগেও আর্থিক কারণে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছিলেন। মানুষের ব্যাপক সাড়া সেই উদ্যোগকে বড় আকারের সহায়তায় পরিণত করে। বামবাসের ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। একসময় যে মানুষটি অবসর নেওয়ার সামর্থ্য না থাকায় নিয়মিত কাজে যাচ্ছিলেন, মানুষের সম্মিলিত সহায়তায় তার পরিস্থিতি বদলে যায়। দীর্ঘ কর্মজীবনের পর অবশেষে অবসরের সুযোগ পাওয়ায় এই ঘটনা মানুষের সহায়তার একটি আলোচিত উদাহরণ হয়ে ওঠে।
গাড়ি থামাতে গিয়ে নিজের গাড়ির চাপায় প্রাণ গেল পাঁচ সন্তানের মায়ের
যুক্তরাষ্ট্রে প্রেমিকাকে হত্যা করে পালানোর পথে জার্মানিতে গ্রেপ্তার ভারতীয় শিক্ষার্থী, ফেরানোর প্রক্রিয়া চলছে
বন্দুক দেখিয়ে ডাকাতির চেষ্টা, নিজের অস্ত্রেই হামলাকারীকে হত্যা করল ফুড ডেলিভারিম্যান
অভিনয়ের পরিচিত মুখ এবার গানের মঞ্চে। জীবনের প্রথম একক সংগীত সন্ধ্যায় দুই ঘণ্টার বেশি সময় গান, গল্প ও দর্শকের সঙ্গে সরাসরি আলাপচারিতায় নিউইয়র্কের দর্শকদের মুগ্ধ করেছেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় অভিনেতা জিয়াউল ফারুক অপূর্ব। দর্শকদের উচ্ছ্বাসে আপ্লুত এই অভিনেতা জানিয়েছেন, আগ্রহ থাকলে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের আরও শহরে গান নিয়ে হাজির হতে চান। ৮ আগস্ট নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত ‘অপূর্ব লাইভ মিউজিক্যাল নাইট’-এ মাইক্রোফোন হাতে মঞ্চে ওঠেন অপূর্ব। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে নায়ক হিসেবে দর্শকের কাছে পরিচিত এই তারকা এবার গায়ক হিসেবে হাজির হয়ে প্রবাসী দর্শকদের চমকে দেন। দুই ঘণ্টার বেশি সময় ধরে গান পরিবেশনের পাশাপাশি নিজের জীবন, অভিনয়জীবনের নানা অভিজ্ঞতা ও ব্যক্তিগত স্মৃতি দর্শকদের সঙ্গে ভাগ করে নেন তিনি। উপস্থাপক শামীম সাহেদের সঞ্চালনায় গান ও কথোপকথনের সমন্বয়ে সাজানো হয় পুরো আয়োজন। অনুষ্ঠান শেষে দর্শকদের প্রতিক্রিয়ায় উঠে আসে অপূর্বর গায়কির প্রশংসা। এক দর্শক বলেন, অপূর্বর গান শুনতে এসে তিনি অভিভূত হয়েছেন। তার কণ্ঠ ও পরিবেশনা প্রত্যাশার চেয়েও ভালো লেগেছে বলে জানান তিনি। আরেক দর্শকের ভাষায়, “অপূর্বর গান অপূর্ব হয়েছে। আজকের অনুষ্ঠান আসলেই অপূর্ব।” নবীন থেকে প্রবীণ, বিভিন্ন বয়সী দর্শকের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটির অন্যতম আকর্ষণ ছিল অপূর্বর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ। গানের ফাঁকে স্বাভাবিক ভঙ্গিতে দর্শকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। নিজের বাবাকে নিয়ে স্মৃতিচারণের সময় আবেগঘন হয়ে ওঠে পরিবেশনা। উপস্থিত দর্শকদের অনেকেই সেই মুহূর্তে আবেগাপ্লুত হন। এক দর্শক বলেন, পুরো অনুষ্ঠানটি ছিল অন্যরকম। বিশেষ করে বাবাকে নিয়ে অপূর্বর কথাগুলো তার হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। অভিনয়ের পাশাপাশি অপূর্বর সংগীত প্রতিভার কথা তার দীর্ঘদিনের সহকর্মীরাও জানেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত অভিনেতা আবদুন নূর সজল জানান, দীর্ঘদিন ধরে অপূর্বর সঙ্গে তার বন্ধুত্ব ও পেশাগত সম্পর্ক রয়েছে। একসময় একসঙ্গে বহু নাটকে কাজ করার সময়ও অপূর্বর গান শোনার অভিজ্ঞতা হয়েছে তার। সজল বলেন, “অপূর্ব আমার বন্ধু, আমার কলিগ। আমরা একসঙ্গে অনেক কাজ করেছি। অপূর্ব আমাদের স্টেজে অনেক সুন্দর সুন্দর গান গাইত। কিন্তু আজকে লাইভ গান শুনেছি। একজন সহশিল্পী হিসেবে বলব, অপূর্বর গানও অপূর্বর মতোই।” অপূর্বর আরেক সহকর্মীও জানান, শুটিংয়ের সময় থেকেই তার গান শোনার অভিজ্ঞতা রয়েছে। দীর্ঘ সময় শুটিংয়ের ফাঁকে অপূর্বর গান শুনেছেন তারা। নিউইয়র্কের এই আয়োজনের মাধ্যমে এবার সেই প্রতিভা আরও বড় পরিসরে দর্শকের সামনে এসেছে। প্রথম একক সংগীত সন্ধ্যায় দর্শকদের এমন সাড়া অবশ্য অপূর্বর নিজের প্রত্যাশাকেও ছাড়িয়ে গেছে। অনুষ্ঠান শেষে তিনি জানান, মঞ্চে ওঠার আগে দর্শকের মন জয় করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে তার মধ্যে সংশয় ছিল। কিন্তু অনুষ্ঠান চলার সঙ্গে সঙ্গে দর্শকদের উচ্ছ্বাস সেই দ্বিধা দূর করে দেয়। অপূর্ব বলেন, “ভীষণ ভালো লাগছে। আমার নিজের প্রত্যাশা খুব কম ছিল। মনে হচ্ছিল, আসলে মানুষের মন জয় করতে পারব কি না। এত ভালোবাসা পাব, এটা আমার কল্পনারও বাইরে ছিল।” দর্শকের ভালোবাসাকেই একজন শিল্পীর সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হিসেবে দেখছেন তিনি। অপূর্ব বলেন, দর্শকদের উচ্ছ্বাস তাকে নতুন করে সাহস ও অনুপ্রেরণা দিয়েছে। নিউইয়র্কের পর যুক্তরাষ্ট্রের অন্য শহরেও গান নিয়ে হাজির হওয়ার সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছেন অপূর্ব। তবে বিষয়টি পুরোপুরি দর্শকের আগ্রহের ওপর নির্ভর করবে বলে জানান তিনি। তার ভাষায়, “এটা আসলে দর্শকদের আগ্রহের ওপর নির্ভর করবে। তারা আমাকে দেখতে চান কি না। যদি আমার মনে হয় তারা আমাকে চান, তাহলে অবশ্যই হয়তো আবার তাদের সামনে হাজির হব।” অভিনেতা হিসেবে দীর্ঘদিনের পরিচিত অপূর্বর জন্য নিউইয়র্কের এই আয়োজন তাই শুধু একটি সংগীতানুষ্ঠান নয়। প্রথম একক সংগীত সন্ধ্যায় দর্শক ও সহকর্মীদের প্রশংসা এবং প্রত্যাশার চেয়েও বেশি সাড়া তার সামনে সংগীতের নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, অভিনয়ের পাশাপাশি গানকে তিনি কতটা নিয়মিতভাবে নিজের ক্যারিয়ারের অংশ করে নেন।
জন্মের পর মা ফেলে গিয়েছিলেন, সেই শিশুই একদিন গড়ে তুললেন কোটি ডলারের ব্যবসা
নিউইয়র্কে গৃহহীনদের করুণ পরিণতি, প্রায় অর্ধেক মৃত্যুর পেছনে মাদক ও অ্যালকোহল