যে ভুল পানীয় পান করেই দীর্ঘদিনের শারীরিক সমস্যার কারণ খুঁজে পেলেন তরুণী
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় বসবাসকারী ২৮ বছর বয়সী হান্নাহ সিদ্দিকি ভুল করে অ্যালকোহলযুক্ত একটি পানীয় পান করার পর নিজের দীর্ঘদিনের শারীরিক সমস্যাগুলোর সম্ভাব্য কারণ খুঁজে পান। শৈশব থেকেই নানা ধরনের শারীরিক সমস্যায় ভুগলেও সেগুলোকে আলাদা আলাদা সমস্যা হিসেবে দেখেছিলেন তিনি। পরে ভুল পানীয় পান করার পর দেখা দেওয়া উপসর্গের সঙ্গে পুরোনো সমস্যাগুলোর সম্ভাব্য যোগসূত্র সামনে আসে।
ঘটনাটি ঘটে সান ফ্রান্সিসকোর একটি রেস্তোরাঁয়। ওই সময় সিদ্দিকি ১৯৭ দিন ধরে মদ্যপান থেকে বিরত ছিলেন। তিনি এক বন্ধুর সঙ্গে রেস্তোরাঁয় গিয়ে একটি মকটেল পান করেন। পরে আরও একটি মকটেল অর্ডার করেন। বারটেন্ডার একটি বোতলে রাখা আগে থেকে তৈরি মিশ্রণ দিয়ে পানীয়টি তৈরি করে দেন। স্বাদে সেটি ফলের রসের মতো মনে হওয়ায় তিনি বুঝতে পারেননি যে পানীয়টিতে অ্যালকোহল রয়েছে।
গ্লাসের শেষের দিকে পৌঁছানোর পর সিদ্দিকির মাথা হালকা লাগতে শুরু করে এবং তিনি কিছুটা মাতাল অনুভব করেন। তখন তিনি বুঝতে পারেন, পানীয়টি আসলে তার চাওয়া মকটেল ছিল না। পরদিন সকালে তার মাইগ্রেন, পেটের সমস্যা, ঠান্ডা লাগা ও ক্লান্তি দেখা দেয়। প্রথমে তিনি এসব উপসর্গকে অ্যালকোহল পান করার স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া বলে মনে করেছিলেন।
কিন্তু তার শারীরিক অবস্থা দ্রুত ভালো হয়নি। সিদ্দিকি জানান, প্রায় তিন দিন তিনি এতটাই অসুস্থ ছিলেন যে সোফা থেকে উঠতেও পারছিলেন না। তার ত্বক গরম ও চুলকানিযুক্ত হয়ে ওঠে। খাবার খেলে বমিভাব তৈরি হতো। পরে সামান্য জ্বরও দেখা দেয়। একই সঙ্গে তিনি এমন এক ধরনের উদ্বেগ অনুভব করেন, যা তার মতে শুধু ওই ঘটনায় অ্যালকোহল পান করার কারণে তৈরি হয়নি।
ঘটনার দুই দিন পর নিজের শারীরিক সমস্যার বিষয়ে তিনি ক্লড নামের একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবটের সঙ্গে কথা বলেন। সেখানে তার আগের বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার তথ্যও ছিল। চ্যাটবটটি নতুন উপসর্গের সঙ্গে শৈশব থেকে থাকা কিছু সমস্যার সম্ভাব্য যোগসূত্র তুলে ধরে।
সিদ্দিকি জানান, ছোটবেলা থেকেই তার অতিরিক্ত ক্লান্ত হলে নাক বন্ধ হয়ে যেত। চুল অপসারণের পর মুখে চাকা ওঠার মতো প্রতিক্রিয়াও হতো। এ ছাড়া বিভিন্ন খাবার খেলে তার শারীরিক প্রতিক্রিয়া দেখা দিলেও অ্যালার্জির পরীক্ষায় তা ধরা পড়েনি। এসব বিষয় তিনি এতদিন আলাদা আলাদা শারীরিক সমস্যা হিসেবেই দেখেছিলেন।
চ্যাটবটটি এসব উপসর্গের মধ্যে সম্ভাব্য সম্পর্ক খুঁজে মাস্ট সেল অ্যাক্টিভেশন সিনড্রোম বা এমসিএএসের কথা তুলে ধরে। এই অবস্থায় শরীরের মাস্ট সেল অতিরিক্ত সক্রিয় হয়ে বিভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। চুলকানি, চাকা ওঠা, শরীর ফুলে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট ও পরিপাকতন্ত্রের সমস্যাসহ বিভিন্ন উপসর্গ এর সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
সিদ্দিকি পরে বিষয়টি তার চিকিৎসকের কাছে তুলে ধরেন। চিকিৎসকও এটিকে সম্ভাব্য ব্যাখ্যা হিসেবে বিবেচনা করেন এবং অ্যান্টিহিস্টামিন ব্যবহারের পরামর্শ দেন। সিদ্দিকি জানান, ওষুধ শুরু করার তৃতীয় দিন থেকেই তিনি ভালো অনুভব করতে শুরু করেন।
তবে নিউজউইকের সঙ্গে কথা বলা রোগ প্রতিরোধ বিশেষজ্ঞ মেহাক জহুর খান সতর্ক করে বলেছেন, অ্যান্টিহিস্টামিন ব্যবহারের পর উপসর্গ কমে যাওয়া একাই এমসিএএসের নিশ্চিত প্রমাণ নয়। সাধারণ পরিবেশগত বা খাবারের অ্যালার্জির ক্ষেত্রেও অ্যান্টিহিস্টামিন উপকার করতে পারে। তাই শুধু ওষুধে উপকার পাওয়ার ভিত্তিতে এই রোগ নিশ্চিত করা যায় না।
বিশেষজ্ঞের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সরঞ্জাম চিকিৎসাবিষয়ক শব্দ ও সম্ভাব্য সম্পর্ক বুঝতে মানুষকে সহায়তা করতে পারে। তবে এসব সরঞ্জাম দিয়ে এমসিএএস বা অন্য কোনো রোগ নিশ্চিতভাবে নির্ণয় করা নিরাপদ নয়। সঠিক রোগ নির্ণয়ের জন্য চিকিৎসকের যথাযথ মূল্যায়ন প্রয়োজন।
সিদ্দিকি এখন নিজের চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাদ্যাভ্যাস, পরিপূরক গ্রহণ ও পরিবেশগত পরিবর্তনের মাধ্যমে শরীরে হিস্টামিনের প্রভাব কমানোর চেষ্টা করছেন। একই সঙ্গে নিজের স্বাস্থ্যসংক্রান্ত অভিজ্ঞতাকে তিনি অনলাইন কনটেন্ট ও আধ্যাত্মিক কাজের সঙ্গেও যুক্ত করেছেন।
সিদ্দিকির এই অভিজ্ঞতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। তার প্রকাশ করা ভিডিওটি ৩১ লাখের বেশি বার দেখা হয়েছে। দীর্ঘদিনের বিভিন্ন শারীরিক সমস্যাকে আলাদা ঘটনা হিসেবে দেখার পর ভুল করে অ্যালকোহলযুক্ত পানীয় পান করার ঘটনায় নতুন উপসর্গ দেখা দেয়। সেই ঘটনাই তাকে পুরোনো সমস্যাগুলোর মধ্যে সম্ভাব্য যোগসূত্র খুঁজে দেখার দিকে নিয়ে যায়।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি পাওয়ার উদ্দেশ্যে এক মার্কিন নাগরিকের সঙ্গে ভুয়া বিয়েতে জড়ানোর কথা আদালতে স্বীকার করেছেন রোমানিয়ার এক নারী। নিউ জার্সির আটলান্টিক সিটির বাসিন্দা ৩৩ বছর বয়সী আন্তোনিয়া-বিয়াত্রিস মিরচেয়া বিবাহ জালিয়াতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেছেন। মার্কিন অ্যাটর্নির কার্যালয়, নিউ জার্সি জেলার তথ্য অনুযায়ী, ২৩ সেপ্টেম্বর ক্যামডেনের ফেডারেল আদালতে বিচারক ক্রিস্টিন পি. ও'হার্নের সামনে মিরচেয়া দোষ স্বীকার করেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, তিনি মার্কিন নাগরিক ভিক্টর পুরিলার সঙ্গে এমন একটি বিয়েতে জড়িয়েছিলেন, যার উদ্দেশ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি পাওয়ার পথ তৈরি করা। মিরচেয়া ও পুরিলা ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে নিউ জার্সির আটলান্টিক সিটিতে বিয়ে করেন। পরের বছর ২০২৫ সালের জুনে তারা আটলান্টিক সিটির বোর্ডওয়াক এলাকায় একটি অ্যাপার্টমেন্টের জন্য যৌথভাবে ভাড়ার চুক্তিও করেন। বাইরে থেকে দেখলে এতে তাদের একসঙ্গে বসবাসের প্রমাণ তৈরি হচ্ছিল। কিন্তু আদালতের নথি অনুযায়ী, বাস্তবে পুরিলা ওই অ্যাপার্টমেন্টে মিরচেয়ার সঙ্গে বসবাস করতেন না। তিনি কাছের শহর অ্যাবসিকনে নিজের পরিবারের বাড়িতে থাকতেন। পরে অভিবাসন কর্মকর্তাদের কাছে জমা দেওয়া নথিতে অবশ্য দুজনই দাবি করেন, তারা আটলান্টিক সিটির ওই অ্যাপার্টমেন্টে একসঙ্গে থাকেন। ২০২৫ সালের আগস্টের দিকে পুরিলা মিরচেয়ার জন্য অভিবাসন প্রক্রিয়া শুরু করতে মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা বিভাগের কাছে ফরম আই-১৩০ জমা দেন। ওই ফরমে তিনি মিরচেয়ার সঙ্গে আটলান্টিক সিটিতে একই বাসায় বসবাস করার কথা উল্লেখ করেন। মিরচেয়াও পরে ফরম আই-৪৮৫-এ একই ধরনের তথ্য দেন বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তে অবশ্য তাদের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির অসঙ্গতি পাওয়া যায়। আদালতের নথি অনুযায়ী, পুরিলার মোবাইল ফোন ও গাড়ির অবস্থান পর্যালোচনা করে তদন্তকারীরা দেখতে পান, বেশিরভাগ রাতেই সেগুলো অ্যাবসিকনে ছিল। এর ভিত্তিতে প্রসিকিউটররা দাবি করেন, তিনি আটলান্টিক সিটির ওই অ্যাপার্টমেন্টে নিয়মিত বসবাস করতেন না। এরপর ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা বিভাগের এক কর্মকর্তা মিরচেয়া ও পুরিলাকে আলাদাভাবে সাক্ষাৎকার নেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, কীভাবে তাদের পরিচয় হয়েছিল, তারা কীভাবে একসঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, পুরিলা কত ঘন ঘন তাঁর বাবা-মায়ের বাড়িতে যেতেন এবং তারা কীভাবে ব্যাংক হিসাব পরিচালনা করতেন, এসব বিষয়ে দুজনের বক্তব্যে অসঙ্গতি পাওয়া যায়। ফেডারেল প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, এসব তথ্য ও কর্মকাণ্ড তাদের বিয়েটি প্রকৃত দাম্পত্য সম্পর্কের জন্য ছিল না, বরং অভিবাসন সুবিধা পাওয়ার উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে আসে। শেষ পর্যন্ত মিরচেয়া বিবাহ জালিয়াতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। এই মামলায় পুরিলার বিরুদ্ধেও অভিযোগ রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র, মিথ্যা তথ্য দেওয়া এবং বিবাহ জালিয়াতির অভিযোগের বিচার এখনো চলমান। ফলে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। আদালতের নথিতে আরও বলা হয়েছে, পুরিলা এর আগে ২০১৪ সালে এক বুলগেরিয়ান নাগরিককে বিয়ে করেছিলেন। ওই নারী পরবর্তীতে সেই বিয়ের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পেয়েছিলেন। ২০১৯ সালে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। মিরচেয়ার বিরুদ্ধে বিবাহ জালিয়াতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড, সর্বোচ্চ ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার জরিমানা এবং তিন বছর পর্যন্ত তত্ত্বাবধানে মুক্তির বিধান রয়েছে। তবে এগুলো সর্বোচ্চ শাস্তি, চূড়ান্ত সাজা নয়। তাঁর সাজা ঘোষণার দিন নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৭ সালের ২৫ জানুয়ারি। মামলাটির তদন্ত করেছে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস এবং ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন বা এফবিআইয়ের নিউয়ার্ক কার্যালয়। নিউ জার্সি জেলার মার্কিন অ্যাটর্নি রবার্ট ফ্রেজার তদন্তকারী কর্মকর্তাদের কাজের জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ অভিবাসন সুবিধা পাওয়ার জন্য প্রকৃত সম্পর্কের পরিবর্তে কাগুজে বা সাজানো বিয়ের ব্যবহার ফেডারেল আইনে অপরাধ। এই মামলাতেও প্রসিকিউটরদের মূল অভিযোগ ছিল, বিয়েটিকে অভিবাসন সুবিধা পাওয়ার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল। তবে মিরচেয়া দোষ স্বীকার করলেও মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনো হয়নি। আগামী বছরের জানুয়ারিতে তাঁর সাজা ঘোষণার পরই আদালত তাঁর ক্ষেত্রে কী শাস্তি প্রযোজ্য হবে, তা নির্ধারণ করবে। সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ, নিউ জার্সি জেলার মার্কিন অ্যাটর্নির কার্যালয়; ফেডারেল আদালতের নথি
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ছে পারিবারিক আর্থিক চাপ, সময়মতো সব বিল দিতে পারছে না ৩২ শতাংশ পরিবার
নিউইয়র্কবাসীদের জন্য সুখবর, বিনামূল্যে ৭০ হাজার অপেরা টিকিট দিচ্ছেন মেয়র মামদানি
ম্যানহাটনে মাত্র ৮৬৩ ডলারে ২ বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্ট, লটারিতে আবেদনের সুযোগ
নিউইয়র্কের কুইন্সে বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে প্রতিশোধমূলক অপহরণের একটি চক্র পরিচালনার দায়ে আবু চৌধুরী নামে ৩৬ বছর বয়সী এক সুপারমার্কেট মালিককে দোষী সাব্যস্ত করেছেন ব্রুকলিনের ফেডারেল আদালতের জুরি। দুই সপ্তাহের বিচার শেষে বৃহস্পতিবার মাত্র দুই ঘণ্টা deliberation করে জুরি তাকে তিনটি অপহরণ এবং তিনটি অপহরণের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করেন। মার্কিন অ্যাটর্নির কার্যালয় জানিয়েছে, ২০২৩ সালের ২৭ মার্চ থেকে মে মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত প্রায় ছয় সপ্তাহের ব্যবধানে তিনজনকে অপহরণের ঘটনায় চৌধুরীর সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হয়েছে। মামলায় ভুক্তভোগীদের আদালতে জন ডো-১, জন ডো-২ ও জন ডো-৩ নামে উল্লেখ করা হয়েছে। চৌধুরী কুইন্সের জ্যামাইকা এলাকায় বিডি ফ্রেশ সুপারমার্কেটের সহ-মালিক। প্রসিকিউটরদের ভাষ্য অনুযায়ী, নিজের প্রভাব ও সুনাম বাড়ানোর পাশাপাশি তৎকালীন প্রেমিকা এবং বর্তমানে স্ত্রী ইফফাত লুবনার সম্মান রক্ষার দাবিতে তিনি অপহরণের পরিকল্পনাগুলোতে জড়িয়েছিলেন। আদালতে সরকারি কৌঁসুলি জোশুয়া ট্যানেন বলেন, চৌধুরী নিজেকে ‘কিং অব নিউইয়র্ক’ হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইতেন। মামলার প্রথম ঘটনাটি ঘটে ২০২৩ সালের ২৭ মার্চ। প্রসিকিউশন অনুযায়ী, কুইন্সের জ্যামাইকার ১৮১তম স্ট্রিট ও হিলসাইড অ্যাভিনিউয়ের কাছে হাঁটছিলেন জন ডো-১। সেখান থেকে তাকে জোর করে একটি হোন্ডা এসইউভিতে তোলা হয়। এরপর প্রায় ১৩ ঘণ্টা ধরে তাকে কুইন্সের বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং মারধর করা হয়। আদালতে উপস্থাপিত প্রমাণ অনুযায়ী, ওই ঘটনায় চৌধুরী ভুক্তভোগীকে গাড়ি থেকে নামিয়ে একটি আবাসিক এলাকায় নগ্ন অবস্থায় দাঁড় করিয়ে ভিডিও ধারণ করেন। পরে অপহরণকারীরা তাকে পানি দেয়, যাতে ঘুমের ওষুধ মেশানো ছিল। ওই পানি পান করার পর তিনি জ্ঞান হারান এবং পরদিন এক স্থানীয় হাসপাতালে জ্ঞান ফিরে পান। দ্বিতীয় ও তৃতীয় অপহরণের ঘটনা ঘটে ২০২৩ সালের মে মাসে। মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চৌধুরী ও লুবনা জন ডো-৩কে প্রলুব্ধ করে নিজেদের গাড়িতে তোলেন। বাংলাদেশে কলেজে পড়ার সময় তাদের পরিচয় ছিল এবং পরে দুজনই যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পর আবার যোগাযোগ হয়। লুবনার সম্পর্কে ওই ব্যক্তির করা মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয় বলে প্রসিকিউটররা আদালতে জানান। ১০ মে থেকে শুরু হওয়া ওই ঘটনায় ভুক্তভোগীকে কুইন্সের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয় এবং মারধর করা হয়। পরে তাকে অন্য একটি ভুক্তভোগীর সঙ্গে একটি হোটেল কক্ষে নেওয়া হয়। মামলার প্রমাণ অনুযায়ী, সেখানে তাকে ভয় দেখিয়ে অপর ভুক্তভোগীকে মারধর করতে বাধ্য করার চেষ্টা করা হয়। এর পরদিন, ১১ মে, আরেক ব্যক্তিকে কুইন্সের জ্যাকসন হাইটস এলাকায় অপহরণ করা হয়। ওই ব্যক্তি লুবনার সঙ্গে দেখা করার জন্য একটি রেস্তোরাঁর কাছে অপেক্ষা করছিলেন। প্রসিকিউটরদের ভাষ্য অনুযায়ী, চৌধুরী তাকে জোর করে একটি মিনিভ্যানে তুলে নেন এবং মারধর করেন। পরে তাকে একটি হোটেলে নেওয়া হয়। সেখানে চৌধুরীর বিরুদ্ধে তাকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগও প্রমাণিত হয়েছে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবার কাছে ২০ হাজার ডলার মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছিল বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ রয়েছে। অপহরণের তৃতীয় দিনে ভুক্তভোগীকে হাত-পা বেঁধে ও চোখ ঢেকে একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে রেখে যাওয়া হয়। পরে তিনি নিজের বাঁধন খুলে একটি জানালা ভেঙে বের হয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সাহায্য চান। গুরুতর আঘাতের কারণে তাকে এক সপ্তাহ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়। মামলাটিতে চৌধুরীর স্ত্রী ইফফাত লুবনাও আগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। চলতি বছরের ৯ এপ্রিল জুরি তাকে জন ডো-২ ও জন ডো-৩কে অপহরণ এবং অপহরণের ষড়যন্ত্রের ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত করে। এছাড়া সাইয়েদ রুবেল আহমেদ ও সুলতানা রাজিয়াও জন ডো-১কে অপহরণের ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে, চৌধুরী, লুবনা, আহমেদ ও রাজিয়া দোষী সাব্যস্ত হওয়া অপরাধগুলোর জন্য সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের মুখোমুখি হতে পারেন। তাদের সাজা পরে আদালত নির্ধারণ করবে। ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব নিউইয়র্কের মার্কিন অ্যাটর্নি জোসেফ নোসেলা বলেন, আসামি ও তার সহযোগীদের কর্মকাণ্ড ছিল নিষ্ঠুর ও অর্থহীন এবং এ ধরনের অপরাধ কোনোভাবেই সহ্য করা যায় না। এফবিআই ও নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের যৌথ সহিংস অপরাধবিরোধী টাস্কফোর্স তদন্তে সহায়তা করেছে। আদালতের তথ্য অনুযায়ী, রায়ের পরও চৌধুরী তাৎক্ষণিকভাবে কারাগারে যাননি। বিচারক নিনা মরিসন তাকে ২ লাখ ৫০ হাজার ডলারের বন্ডে, গৃহবন্দি অবস্থায় থাকার সুযোগ দিয়েছিলেন। প্রসিকিউটররা ওই জামিন বাতিলের আবেদন করেছেন। রায়ের পর শুক্রবার এ বিষয়ে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। কুইন্সের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে আলোচিত এই মামলার সূত্রপাত ২০২৩ সালের অপহরণগুলোর তদন্ত থেকে। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে মার্কিন বিচার বিভাগ প্রথমবার চৌধুরীসহ সাতজনের বিরুদ্ধে সহিংস অপহরণের অভিযোগের কথা জানায়। তখন কর্তৃপক্ষ বলেছিল, অভিযুক্ত ব্যক্তি ও ভুক্তভোগীরা একই জাতিগত কমিউনিটির সদস্য ছিলেন। চলতি বছরের এপ্রিল, জুন ও সেপ্টেম্বরের পৃথক বিচার ও রায়ের মধ্য দিয়ে মামলাটির বিভিন্ন আসামির বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া এগিয়েছে। সর্বশেষ চৌধুরীর বিরুদ্ধে তিনটি অপহরণ ও তিনটি অপহরণের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ শেষ হলো। সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ, ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব নিউইয়র্ক; নিউইয়র্ক ডেইলি নিউজ
যুক্তরাষ্ট্রে শ্রমিক সংকট, স্থানীয় কর্মী না পেয়ে বৈশ্বিক জনশক্তির দিকে নজর
ক্যালিফোর্নিয়ায় জোড়া খু নের অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার, সিরিয়াল কিলার আতঙ্কে তদন্তকারীরা
যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসায় ১ লাখ ডলার ফি, অনিশ্চয়তায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ
২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের বাটলার শহরে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী সমাবেশে এক ব্যর্থ হত্যাচেষ্টার ঘটনায় গুলিবিদ্ধ জেমস কোপেনহেভার মারা গেছেন। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই হামলায় মারাত্মকভাবে আহত হওয়ার পর দীর্ঘ দুই বছর ধরে তিনি শারীরিক নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। ৭৬ বছর বয়সী এই বৃদ্ধের শরীরে গুলির কিছু অংশ মৃত্যুর আগ পর্যন্ত রয়ে গিয়েছিল এবং তিনি স্থায়ী স্নায়বিক ক্ষতির শিকার হয়েছিলেন। হাউস রিপাবলিকান কনফারেন্স সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে জেমস কোপেনহেভারের মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছে। বিবৃতিতে আইনপ্রণেতারা তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে জানান, তিনি অসীম শক্তি ও অধ্যবসায়ের সঙ্গে এই অবর্ণনীয় কষ্ট সহ্য করেছেন। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে আয়োজিত ওই সমাবেশে থমাস ম্যাথিউ ক্রুকস নামের এক বন্দুকধারী পাশের একটি গ্লাস ম্যানুফ্যাকচারিং ভবনের ছাদ থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। ওই ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা কোরি কম্পারেটোর নিহত হন এবং জেমস কোপেনহেভার ও ডেভিড ডাচ নামের দুই দর্শনার্থী গুরুতর আহত হয়েছিলেন। ২০২৫ সালে এক সাক্ষাৎকারে জেমস কোপেনহেভার ওই দিনের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, ট্রাম্পের ভাষণের সময় তিনি পেছনে থাকা জাম্বোট্রন স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে ছিলেন। হঠাৎ তিনি ডান হাতে টান অনুভব করেন এবং বুঝতে পারার আগেই দ্বিতীয় একটি গুলি তার শরীরে আঘাত হানে। ওই হামলায় তাঁর ট্রাইসেপ ও তলপেটে গুলি লেগেছিল। এই ঘটনার পর তাকে একাধিক অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। মার্কিন সিক্রেট সার্ভিসের গাফিলতির কারণে এমন ভয়াবহ ক্ষতির শিকার হয়েছেন দাবি করে চলতি বছরের শুরুতে তিনি ও ডেভিড ডাচ যুক্তরাষ্ট্র সরকারের বিরুদ্ধে একটি মামলাও দায়ের করেছিলেন। এই হামলার পর মার্কিন সিক্রেট সার্ভিসের নিরাপত্তা ও পরিকল্পনাগত চরম গাফিলতির বিষয়টি সামনে আসে। ব্যাপক সমালোচনার মুখে ঘটনার দুই সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে সংস্থাটির তৎকালীন পরিচালক কিম্বারলি চিটল পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। পরবর্তীতে মার্কিন কংগ্রেসের দ্বিদলীয় টাস্কফোর্সের তদন্তেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা, পরিকল্পনা ও নেতৃত্বে ভয়াবহ ব্যর্থতার প্রমাণ মেলে। এসব ব্যর্থতার জেরে পরে বেশ কয়েকজন সিক্রেট সার্ভিস এজেন্টকে বেতন ছাড়াই সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। অন্যদিকে, হামলার পরপরই রক্তমাখা মুখে ট্রাম্পের মুষ্টিবদ্ধ হাত তুলে ‘ফাইট’ বলার দৃশ্যটি তার নির্বাচনী প্রচারণার অন্যতম আলোচিত প্রতীকে পরিণত হয়, যার ওপর ভর করে তিনি গ্রোভার ক্লিভল্যান্ডের পর প্রথম প্রেসিডেন্ট হিসেবে টানা নয় এমন দুই মেয়াদে নির্বাচিত হওয়ার ইতিহাস গড়েন।
জাতিসংঘে নেতানিয়াহুর ভাষণ শুরু হতেই বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের ওয়াকআউট
মিশিগানে হাসপাতালের ভেতর চার মাসের অপরিণত শিশুকে নি র্যাতন, পা ভাঙার অভিযোগ নার্সের বিরুদ্ধে