আমেরিকা

ক্যালিফোর্নিয়ার যে ৫টি পর্যটনস্থলে সবচেয়ে বেশি প্রাণ হারান দর্শনার্থীরা, সেখানে ভুল করলেই বিপদ

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১১, ২০২৬ ২৩:৪১
ক্যালিফোর্নিয়ার জনপ্রিয় কয়েকটি পর্যটনস্থলে প্রতিবছরই ঘটে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা। ছবি: সংগৃহীত
ক্যালিফোর্নিয়ার জনপ্রিয় কয়েকটি পর্যটনস্থলে প্রতিবছরই ঘটে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য। মরুভূমি, পাহাড়, সমুদ্রসৈকত ও জাতীয় উদ্যানের বৈচিত্র্যে প্রতিবছর লাখো মানুষ সেখানে ভ্রমণ করেন। তবে মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্যের আড়ালেই লুকিয়ে আছে কিছু মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ স্থান, যেখানে অসতর্কতা বা প্রতিকূল পরিবেশের কারণে বহু পর্যটক প্রাণ হারিয়েছেন।

 

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে ক্যালিফোর্নিয়ার অরেঞ্জ কাউন্টির রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী লিন্ডসি মারিনো অঙ্গরাজ্যের এমন পাঁচটি পর্যটনস্থানের কথা তুলে ধরেন, যেগুলো প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি দুর্ঘটনা ও মৃত্যুর ঘটনাতেও পরিচিত। তালিকায় রয়েছে ইয়োসেমিটি ন্যাশনাল পার্কের দুটি বিখ্যাত স্থানও।

মার্কিন ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিসের তথ্য, গবেষণা প্রতিবেদন এবং বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের সঙ্গে মারিনোর উল্লেখ করা ঘটনাগুলোর মিল পাওয়া যায়।

 

প্রথমেই রয়েছে ডেথ ভ্যালি ন্যাশনাল পার্ক। প্রায় ৩৪ লাখ একরজুড়ে বিস্তৃত এই মরুভূমি পৃথিবীর অন্যতম উষ্ণ স্থান হিসেবে পরিচিত। মারিনোর ভাষায়, এখানে সবচেয়ে বড় বিপদ শুধু প্রচণ্ড গরম নয়, বরং অল্প সময়ের মধ্যেই একটি ছোট সমস্যা জীবন-মরণ পরিস্থিতিতে পরিণত হতে পারে। গাড়ির টায়ার পাংচার হওয়া বা ব্যাটারি নষ্ট হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনাও তীব্র গরমে মারাত্মক বিপদ ডেকে আনতে পারে। এতে পানিশূন্যতা, অতিরিক্ত ক্লান্তি এবং হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি দ্রুত বেড়ে যায়।

 

২০২৪ সালে ডেথ ভ্যালি দিয়ে যাওয়ার সময় তীব্র গরমে এক মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু হয়। একটি গবেষণা অনুযায়ী, ২০০৭ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে এই পার্কে অন্তত ৬৮ জনের মৃত্যু হয়েছে, অর্থাৎ গড়ে বছরে প্রায় চারজন। ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিসের তথ্যে দেখা যায়, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এখানে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু ঘটেছে সড়ক দুর্ঘটনায়। এছাড়া অতিরিক্ত গরমজনিত অসুস্থতাও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মৃত্যুর কারণ।

 

তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ইয়োসেমিটি ন্যাশনাল পার্কের বিখ্যাত হাফ ডোম। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৮ হাজার ৮০০ ফুট উঁচু এই গ্রানাইট শৃঙ্গ ট্রেকারদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয়। শীর্ষে পৌঁছাতে প্রায় ১৪ থেকে ১৬ মাইল পথ হাঁটতে হয় এবং শেষ অংশে ইস্পাতের তার ধরে খাড়া ঢাল বেয়ে উঠতে হয়।

 

চমৎকার দৃশ্যের জন্য পরিচিত হলেও এই পথ অত্যন্ত বিপজ্জনক। বিভিন্ন তথ্য অনুযায়ী, ১৯৪৮ সালের পর থেকে হাফ ডোমের কেবল অংশ ও শীর্ষ এলাকায় অন্তত ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। পার্ক কর্তৃপক্ষের পরামর্শ, বৃষ্টি, ভেজা পাথর বা বজ্রঝড়ের সময় কখনোই কেবল বেয়ে ওঠা উচিত নয়। কারণ ভেজা পাথর ও বজ্রপাত মুহূর্তেই প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।

 

ইয়োসেমিটির আরেকটি ঝুঁকিপূর্ণ স্থান নেভাডা ফলস। প্রায় ৫৯৪ ফুট উঁচু এই জলপ্রপাত গত দুই দশকে একাধিক প্রাণহানির সাক্ষী হয়েছে।

চলতি বছরের জুনে ২২ বছর বয়সী এক পর্যটক জলপ্রপাতের কাছে পড়ে গিয়ে মারা যান। এর আগে ২০১৮ সালে এক ইসরায়েলি পর্যটক ছবি তুলতে গিয়ে খাদের কিনারা থেকে পড়ে প্রাণ হারান। ২০১৩ সালে স্যাক্রামেন্টোর ১৯ বছর বয়সী এক তরুণ জলপ্রপাতের ওপরে স্রোতে ভেসে নিচে পড়ে মারা যান।

 

এ কারণে সেখানে বড় সতর্কবার্তাও টানানো রয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, জলপ্রপাতের ওপরে পানিতে নামা বা পিচ্ছিল পাথরের ধারে যাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। কারণ প্রবল স্রোত মুহূর্তের মধ্যে কাউকে জলপ্রপাতের কিনারায় নিয়ে যেতে পারে এবং নিচে পড়ে গেলে বেঁচে থাকার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম।

 

ইয়োসেমিটিতে শুধু জলপ্রপাতই নয়, গাছও কখনো কখনো প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। গত মাসে পার্কের টুয়োলামনি গ্রোভ এলাকায় হাঁটার সময় একটি বিশাল সিকোইয়া গাছের ডাল ভেঙে পড়ে এক গুগল প্রকৌশলীর মৃত্যু হয়।

 

তালিকার চতুর্থ স্থানে রয়েছে সান ফ্রান্সিসকোর ওশান বিচ। বাহ্যিকভাবে এটি শান্ত ও সুন্দর সৈকত মনে হলেও স্থানীয়দের কাছে এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। শক্তিশালী রিপ কারেন্ট, বরফশীতল পানি এবং হঠাৎ সৃষ্টি হওয়া বিশাল ঢেউয়ের কারণে বহু মানুষ এখানে প্রাণ হারিয়েছেন।

 

শুধু ১৯৯৮ সালেই এই সৈকতে সাতজনের মৃত্যু হয়। এছাড়া ২০১৪ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে আরও অন্তত আটজনের মৃত্যুর তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। চলতি বছরের জুনেও অস্বাভাবিক বড় ঢেউয়ের আঘাতে এক সার্ফারের মৃত্যু হয়।

 

সবশেষে রয়েছে মাউন্ট হুইটনি। ১৪ হাজার ৫০৫ ফুট উচ্চতার এই পর্বত যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ। প্রতিবছর হাজারো পর্বতারোহী এখানে ওঠেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শীর্ষে পৌঁছানোর চেয়ে নিচে নেমে আসার পথই বেশি বিপজ্জনক।

 

উচ্চতাজনিত অসুস্থতা, বিকেলের আকস্মিক ঝড়, হিমশীতল আবহাওয়া এবং অতিরিক্ত ক্লান্তি অনেক সময় দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। গড়ে প্রতি বছর এক থেকে দুইজন এখানে প্রাণ হারান। ২০২২ সালে চারজন পর্বতারোহীর মৃত্যু হয়েছিল। আর চলতি বছরের জানুয়ারিতে এক পর্বতারোহী সঙ্গী ফিরে গেলেও একাই আরোহণ চালিয়ে যান এবং পরে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্যালিফোর্নিয়ার এসব স্থান প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত হলেও নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলা, আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেখা এবং ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ এড়িয়ে চলাই নিরাপদ ভ্রমণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
ওয়ারেন্ট ছাড়াই তুলে নেওয়ার ক্ষমতা বাড়ল আইসিইর
বৈধ কাগজপত্র পেন্ডিং থাকলেও গ্রেফতার, ওয়ারেন্ট ছাড়াই তুলে নেওয়ার ক্ষমতা বাড়ল আইসিইর

যুক্তরাষ্ট্রে ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট ঘিরে নতুন করে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। একদিকে আইসিইর মাঠপর্যায়ের অফিসারদের ওয়ারেন্ট ছাড়া গ্রেফতারের সুযোগ বাড়িয়েছে সংস্থাটির নতুন ব্যাখ্যা, অন্যদিকে বডি ক্যামেরা ব্যবহারের পরিধি বাড়ানো হচ্ছে। একই সময়ে ম্যাসাচুসেটস আইসিইর সিভিল ইমিগ্রেশন কার্যক্রমে রাজ্য ও স্থানীয় সংস্থার সহযোগিতা সীমিত করে নতুন আইন কার্যকর করেছে।   ১২ আগস্ট পর্যন্ত পাওয়া তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, এই তিনটি পরিবর্তনের মধ্যে আইসিইর ওয়ারেন্টবিহীন গ্রেফতারের নীতিটি একেবারে নতুন নয়। ভারপ্রাপ্ত আইসিই পরিচালক টড লায়ন্স গত ২৮ জানুয়ারি একটি অভ্যন্তরীণ মেমোর মাধ্যমে এ বিষয়ে নতুন নির্দেশনা দেন। পরে আদালতে জমা দেওয়া নথির মাধ্যমে ওই নির্দেশনার বিস্তারিত প্রকাশ্যে আসে।   যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ইমিগ্রেশন আইনে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে আইসিই অফিসারদের ওয়ারেন্ট ছাড়াই কাউকে গ্রেফতারের ক্ষমতা আগে থেকেই রয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে অফিসারের কাছে ওই ব্যক্তি ইমিগ্রেশন আইন লঙ্ঘন করে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন বলে বিশ্বাস করার যথেষ্ট কারণ থাকতে হবে এবং ওয়ারেন্ট সংগ্রহের আগেই তিনি সরে যেতে পারেন বা তাকে আর খুঁজে পাওয়া নাও যেতে পারে, এমন সম্ভাবনাও থাকতে হবে।   নতুন নির্দেশনায় মূল পরিবর্তন এসেছে আইনের “likely to escape” বা ওয়ারেন্ট পাওয়ার আগেই সরে যাওয়ার সম্ভাবনা সংক্রান্ত অংশের ব্যাখ্যায়। আগে আইসিই এই বিষয়টিকে অনেকটা ভবিষ্যতে কোর্ট হিয়ারিং বা ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়ায় হাজির না হওয়ার ঝুঁকি বা “ফ্লাইট রিস্কের” সঙ্গে মিলিয়ে দেখত। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, দুটি বিষয় এক নয়।   এখন অফিসারকে ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, প্রশাসনিক অ্যারেস্ট ওয়ারেন্ট সংগ্রহ করতে যে সময় লাগবে, সেই সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে একই জায়গা বা অন্য কোনো স্পষ্টভাবে শনাক্তযোগ্য স্থানে পাওয়া যাবে কি না। অর্থাৎ ভবিষ্যতে তিনি কোর্টে হাজির হবেন কি না, তার বদলে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল থেকে সরে যাওয়ার সম্ভাবনার ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।   তবে এর অর্থ এই নয় যে আইসিই যেকোনো ব্যক্তিকে কোনো কারণ ছাড়াই ওয়ারেন্ট ছাড়া গ্রেফতার করতে পারবে। নির্দেশনা অনুযায়ী, ওয়ারেন্টবিহীন সিভিল ইমিগ্রেশন গ্রেফতারের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্র থেকে অপসারণযোগ্য এবং ওয়ারেন্ট পাওয়ার আগেই সরে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, এই দুই বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ভিত্তি থাকতে হবে। গ্রেফতারের পর সেই সিদ্ধান্তের পক্ষে বিবেচিত কারণ নথিভুক্ত করার নির্দেশনাও রয়েছে।   টার্গেটেড অপারেশনে আইসিই অফিসারদের সম্ভব হলে আগেই প্রশাসনিক অ্যারেস্ট ওয়ারেন্ট সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে। তবে অভিযান চলাকালে মূল টার্গেটের বাইরে অন্য কোনো সম্ভাব্য অপসারণযোগ্য অভিবাসীর মুখোমুখি হলে এবং সময়মতো ওয়ারেন্ট পাওয়া সম্ভব না হলে নতুন ব্যাখ্যার অধীনে ওয়ারেন্টবিহীন গ্রেফতারের সুযোগ তৈরি হতে পারে। এ ধরনের গ্রেফতারকে সাধারণভাবে “কোল্যাটারাল অ্যারেস্ট” বলা হয়।   এই নীতির বৈধতা নিয়েও আদালতে বিরোধ চলছে। কলোরাডোতে একটি ফেডারেল আদালত এর আগে আইসিইকে স্পষ্ট করে জানিয়েছে, শুধু যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থানের সন্দেহই ওয়ারেন্টবিহীন গ্রেফতারের জন্য যথেষ্ট নয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ওয়ারেন্ট পাওয়ার আগেই সরে যেতে পারেন, এমন সিদ্ধান্তেরও ব্যক্তি ও পরিস্থিতিভিত্তিক আইনি ভিত্তি থাকতে হবে।     এদিকে আইসিইর বডি ক্যামেরা কর্মসূচিতে আগস্টে বড় পরিবর্তন এসেছে। জুলাইয়ে টেক্সাস ও মেইনে আইসিই কর্মকর্তাদের সঙ্গে পৃথক ঘটনায় দুই অভিবাসী নিহত হওয়ার পর বডি ক্যামেরা নিয়ে কংগ্রেস ও জনপরিসরে চাপ বাড়ে। ওই দুটি ঘটনায় সংশ্লিষ্ট এনফোর্সমেন্ট কার্যক্রমের পূর্ণাঙ্গ বডি ক্যামেরা রেকর্ডিং না থাকায় স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।   প্রাথমিকভাবে সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ দেশজুড়ে বডি ক্যামেরা চালুর কথা সামনে এলেও ৮ আগস্ট আইসিইর ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডেভিড ভেনচুরেলা জানান, আগস্টের শেষ নাগাদ সব অফিসার ও এজেন্টের কাছে বডি ক্যামেরা পৌঁছে দেওয়ার কাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। ফলে আগের সেপ্টেম্বরের সময়সীমার তুলনায় সর্বশেষ ঘোষণায় কর্মসূচি দ্রুত সম্পন্ন করার কথা বলা হয়েছে।   জুলাইয়ে বডি ক্যামেরা কেনার জন্য প্রায় ৩০ দশমিক ৯ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ের তথ্যও সামনে এসেছে। গাড়ি থামিয়ে পরিচালিত এনফোর্সমেন্ট কার্যক্রমে অন্তত একটি বডি ক্যামেরায় ঘটনা রেকর্ড করার নির্দেশনার কথাও প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।   তবে ক্যামেরা ব্যবহারের পাশাপাশি ভিডিও প্রকাশের নীতি নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। আইসিইর নীতিমালায় মৃত্যু বা গুরুতর আহত হওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার ফুটেজ প্রকাশের ক্ষেত্রে সংস্থাটির উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা এবং পরিচালকের সিদ্ধান্তের সুযোগ রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় ভিডিও প্রকাশ বিলম্বিত বা আটকে রাখা যেতে পারে। প্রকাশিত ফুটেজে অফিসারদের পরিচয় এবং সংবেদনশীল তথ্যও ঝাপসা বা গোপন করা হতে পারে।   অন্যদিকে ফেডারেল পর্যায়ে আইসিইর তৎপরতা বাড়ার মধ্যেই ম্যাসাচুসেটস ভিন্ন পথে এগিয়েছে। গভর্নর মরা হিলি ৫ আগস্ট একটি বিস্তৃত ইমিগ্রেশন সুরক্ষা আইনে স্বাক্ষর করেন। প্রোটেক্ট অ্যাক্ট নামে পরিচিত আইনটি স্কুল, চাইল্ড কেয়ার সেন্টার, কোর্টহাউস এবং হেলথ কেয়ার প্রতিষ্ঠানের মতো সংবেদনশীল স্থানে সিভিল ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্টের ওপর নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।   আইনটির গুরুত্বপূর্ণ অংশের মধ্যে রয়েছে রাজ্য ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা সংস্থার নতুন ২৮৭(জি) চুক্তিতে অংশ নেওয়ার সুযোগ সীমিত করা। এ ধরনের চুক্তির মাধ্যমে নির্দিষ্ট স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা কর্মকর্তারা ফেডারেল ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্টের কিছু দায়িত্ব পালনের ক্ষমতা পান। নতুন আইনে রাজ্য ও স্থানীয় সম্পদ সিভিল ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্টে ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সীমাবদ্ধতা আনা হয়েছে।   তবে ম্যাসাচুসেটসের আইনকে সরাসরি “আইসিই নিষিদ্ধ” করার আইন হিসেবে বর্ণনা করা সঠিক হবে না। ফেডারেল সংস্থা হিসেবে আইসিই ম্যাসাচুসেটসেও ফেডারেল ইমিগ্রেশন আইন প্রয়োগ করতে পারে। নতুন আইনটির মূল লক্ষ্য হলো নির্দিষ্ট সংবেদনশীল স্থানে সিভিল ইমিগ্রেশন গ্রেফতার সীমিত করা এবং ফেডারেল ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্টে রাজ্য ও স্থানীয় সংস্থার অংশগ্রহণ ও সম্পদ ব্যবহারে বাধা তৈরি করা।   ফলে যুক্তরাষ্ট্রে ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট নিয়ে এখন দুই বিপরীতমুখী প্রবণতা স্পষ্ট। ফেডারেল পর্যায়ে আইসিই মাঠপর্যায়ে ওয়ারেন্টবিহীন গ্রেফতারের বিদ্যমান ক্ষমতাকে আরও বিস্তৃতভাবে ব্যাখ্যা করছে এবং দেশজুড়ে বডি ক্যামেরা চালু করছে। অন্যদিকে ম্যাসাচুসেটসের মতো রাজ্যগুলো নিজেদের আইন ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ফেডারেল সিভিল ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্টে সহযোগিতার সীমা আরও সংকুচিত করছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১২, ২০২৬ ০:৩২
ক্যালিফোর্নিয়ার জনপ্রিয় কয়েকটি পর্যটনস্থলে প্রতিবছরই ঘটে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা। ছবি: সংগৃহীত

ক্যালিফোর্নিয়ার যে ৫টি পর্যটনস্থলে সবচেয়ে বেশি প্রাণ হারান দর্শনার্থীরা, সেখানে ভুল করলেই বিপদ

ফল সেমিস্টারে ইউনিভার্সিটি অব মিয়ামিতে পড়াশোনা শুরু করতে যাচ্ছেন কাই ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

বাড়ি ছেড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে, বিদায়ের মুহূর্তে কান্নায় ভেঙে পড়লেন ট্রাম্পের নাতনি ও তার মা

বড় শহরের কোলাহল ছেড়ে তুলনামূলক সাশ্রয়ী ও শান্ত শহরগুলোতে বসবাসের আগ্রহ বাড়ছে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের জন্য এখন সবচেয়ে জনপ্রিয় এলাকা কোনগুলো? জানাল নতুন সমীক্ষা

বীর মুক্তিযোদ্ধা ও যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী বাংলাদেশি ওয়াহেদ আলী মন্ডল
বাসায় যাওয়ার পথে নিউইয়র্কে বীর মুক্তিযোদ্ধার ওপর হামলা

নিউইয়র্কের কুইন্সের বাংলাদেশি অধ্যুষিত জ্যাকসন হাইটসে হামলার শিকার হয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী বাংলাদেশি ওয়াহেদ আলী মন্ডল। মঙ্গলবার দুপুরে বাসায় ফেরার পথে এক ব্যক্তি তার ওপর আকস্মিক হামলা চালায় বলে পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। আহত অবস্থায় তাকে এলমহার্স্ট হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জ্যাকসন হাইটস থেকে নর্দার্ন বুলেভার্ডের বাসায় ফিরছিলেন ওয়াহেদ আলী মন্ডল। ৭১তম স্ট্রিট ও ৩৫তম অ্যাভিনিউয়ের কাছে পৌঁছালে একটি রিহ্যাব সেন্টারের কর্নারে হঠাৎ এক ব্যক্তি তার ওপর হামলা চালায়।   প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, হামলাকারী ওয়াহেদ আলী মন্ডলের ঘাড়, বুক, গলা ও মুখে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মারতে থাকে। একপর্যায়ে ওই ব্যক্তি ঘটনাস্থল থেকে পালানোর চেষ্টা করলে আশপাশে থাকা লোকজন তাকে ধাওয়া করে আটক করেন। পরে তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। হামলায় আহত ওয়াহেদ আলী মন্ডলকে চিকিৎসার জন্য কুইন্সের এলমহার্স্ট হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে তার আঘাতের বিস্তারিত অবস্থা সম্পর্কে হাসপাতাল বা চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া যায়নি। ওয়াহেদ আলী মন্ডলের বড় ছেলে মোক্তার হোসেন তার বাবার ওপর হামলার তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বাবার দ্রুত সুস্থতার জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন। হামলাকারী হিসেবে আটক ব্যক্তির পরিচয় এবং তার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ আনা হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশের আনুষ্ঠানিক তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। একইভাবে কী কারণে ওয়াহেদ আলী মন্ডলের ওপর হামলা চালানো হয়েছে, সেটিও এখনো স্পষ্ট নয়।     ঘটনার পেছনে জাতিগত, ধর্মীয় বা অন্য কোনো বিদ্বেষমূলক উদ্দেশ্য ছিল কি না, সে বিষয়েও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে ঘটনাটিকে এখনই হেইট ক্রাইম হিসেবে উল্লেখ করার সুযোগ নেই। নিউইয়র্ক পুলিশ ঘটনাটি হেইট ক্রাইম হিসেবে তদন্ত করছে কি না, সেটিও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। জ্যাকসন হাইটস ও এর আশপাশের এলাকা নিউইয়র্কের অন্যতম বৃহৎ বাংলাদেশি কমিউনিটির আবাসস্থল। এলাকাটিতে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও কমিউনিটি সংগঠন রয়েছে। প্রকাশ্য রাস্তায় একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও প্রবীণ বাংলাদেশির ওপর হামলার খবরে স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ পরিস্থিতি জানতে পুলিশের তদন্ত এবং আনুষ্ঠানিক তথ্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে হামলার কারণ, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ এবং ঘটনাটি কোনো ধরনের বিদ্বেষমূলক অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কি না, তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।

সামিয়া ইসলাম প্রকাশ: আগস্ট ১১, ২০২৬ ২২:২০
স্ত্রীকে আইসের হেফাজত থেকে মুক্ত করতে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন মার্কিন সেনাসদস্য অ্যালেক্সিস হারামিলো। ছবি: সংগৃহীত

মায়ের অপেক্ষায় ৫ বছরের ছেলে, স্ত্রীকে আইসের হেফাজত থেকে ফেরাতে আইনি লড়াইয়ে মার্কিন সেনাসদস্য

আলাস্কার অ্যাঙ্কোরেজে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২৩ বছর বয়সী কাইলি হুগেনডর্ন ও তার পরিবারের ঘটনাটি তদন্ত করছে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত

সড়ক দুর্ঘটনায় মায়ের মৃত্যুর দুই দিন পর প্রাণ হারাল ৪ বছরের মেয়ে, বেঁচে আছে শুধু এক বছরের মা-হারা ছেলে

মার্কিন ইমিগ্রেশন পুলিশ আইসিই কর্মকর্তাদের জন্য কেনা হচ্ছে বিশেষ 'ইলেকট্রিক শক গ্লাভস'। ছবি: সংগৃহীত

অভিবাসীদের আটক অভিযানে বিদ্যুৎ শক দেওয়া বিশেষ গ্লাভস কিনতে ২ কোটি ডলার ব্যয় করবে আইস

আর্কানসাসের মমেল হাই স্কুলে এক ফুটবল খেলোয়াড়ের হেলমেটের ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয় বিষধর কটনমাউথ সাপ। ছবি: সংগৃহীত
অনুশীলনের সময় খেলোয়াড়ের হেলমেটে বিষধর সাপ, একটুর জন্য রক্ষা পেলেন স্কুলছাত্র

যুক্তরাষ্ট্রের আরকানসাস অঙ্গরাজ্যের একটি হাইস্কুলে ফুটবল অনুশীলন চলছিল। হঠাৎ এক খেলোয়াড়ের হেলমেটের ভেতর থেকে উঁকি দিল একটি বিষধর সাপ। এমন অভাবনীয় ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে অনুশীলন বন্ধ হয়ে যায়। প্রাণী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ওই শিক্ষার্থী যে সাপের কামড় থেকে রক্ষা পেয়েছেন, তা নিতান্তই তার সৌভাগ্য।   গত সপ্তাহে আরকানসাসের মাউমেল হাইস্কুলে এ ঘটনা ঘটে। হেলমেটের ভেতর সাপটি দেখার পর স্কুল কর্তৃপক্ষ দ্রুত স্থানীয় প্রাণী নিয়ন্ত্রণ সংস্থায় খবর দেয়। শুরুতে সাপটিকে 'কপারহেড' প্রজাতির মনে করা হলেও পরে বিশেষজ্ঞরা এসে নিশ্চিত করেন, এটি আসলে একটি বিষধর 'কটনমাউথ' সাপ।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কেএটিভি-কে (KATV) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মাউমেল অ্যানিমেল সার্ভিসের পরিচালক ক্রিস ডেভিস বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, "আমি এর আগে গাড়ির ভেন্ট, ইঞ্জিন, নারীদের পার্স কিংবা ব্যাকপ্যাক থেকে সাপ উদ্ধার করেছি। কিন্তু হেলমেটের ভেতর? এমনটা আগে কখনো দেখিনি। এটা সত্যিই অবিশ্বাস্য একটা ব্যাপার।"   সাপটি হেলমেটের ভেতরের ফোমের প্যাডিংয়ের মধ্যে এমনভাবে কুঁচকে লুকিয়ে ছিল যে তাকে বের করা বেশ কঠিন হয়ে পড়েছিল। শেষ পর্যন্ত প্রাণী নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তারা হেলমেটের ভেতর পানি ঢেলে সাপটিকে বের করে আনতে বাধ্য হন। পরে এটিকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।   কটনমাউথ সাপ সাধারণত অন্ধকার ও নিরাপদ স্থানে লুকিয়ে থাকতে পছন্দ করে। এটি আরকানসাসের অন্যতম বিষধর সাপ হিসেবে পরিচিত। এ বিষয়ে ক্রিস ডেভিস আরও বলেন, "আমার মতে, আরকানসাসে র‍্যাটলস্নেকের পরই কটনমাউথ দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বিষধর সাপ। এটি যদি ওই কিশোরকে কামড়াত, তবে পরিণতি হতে পারত অত্যন্ত ভয়াবহ এবং প্রাণঘাতী।"   ডেভিসের ভাষায় পুরো ঘটনাটি ছিল 'অবাস্তব'। তিনি বলেন, "পরিস্থিতি এতটাই অদ্ভুত ছিল যে, নিজের চোখে দেখে ছবি না তুললে বিশ্বাস করা কঠিন হতো।"   উল্লেখ্য, আরকানসাস অঙ্গরাজ্যে যে ছয় প্রজাতির বিষধর সাপ পাওয়া যায়, তার মধ্যে কটনমাউথ অন্যতম। ভারী শরীরের এই সাপগুলো সাধারণত গাঢ় জলপাই-বাদামি বা কালো রঙের হয়ে থাকে। শরীর ভিজে না থাকলে এদের গায়ের ডোরাকাটা দাগগুলো খুব একটা স্পষ্ট বোঝা যায় না। এদের ওপরের ঠোঁট সাদাটে হয় এবং নাক থেকে গলা পর্যন্ত একটি কালো রেখা টানা থাকে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১১, ২০২৬ ২০:৪৮
বিলাসবহুল দ্বিতীয় বাড়ির ওপর কর নিয়ে নিউইয়র্কের মেয়র ও গভর্নরের মধ্যে রাজনৈতিক টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

হোকুলের সঙ্গে দূরত্ব বাড়াচ্ছেন মামদানি? আদালতে স্থগিত নিউইয়র্কের বিতর্কিত ‘পিয়ে-আ-তের’ কর

ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্পের পোস্ট আগে দেখতে লাখ লাখ ডলারের চুক্তি করছে বিভিন্ন ট্রেডিং ফার্ম

ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্পের পোস্ট আগে দেখতে লাখ লাখ ডলারের চুক্তি করছে বিভিন্ন ট্রেডিং ফার্ম

চার বছর রাশিয়ার কারাগারে বন্দী মার্কিন নৌসেনা, মুক্ত হয়ে ট্রাম্পের কাছে চাইলেন চিজবার্গার

চার বছর রাশিয়ার কারাগারে বন্দী মার্কিন নৌসেনা, মুক্ত হয়ে ট্রাম্পের কাছে চাইলেন চিজবার্গার

0 Comments