ইরাকে বিদেশি সেনা প্রত্যাহারে ১ অক্টোবরকে নতুন অধ্যায়ের সূচনা বললেন প্রধানমন্ত্রী
৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের সামরিক মিশন শেষ ও ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অস্ত্র সমর্পণের সময়সীমা; নিজস্ব নিরাপত্তা সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর বাগদাদের
ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি বলেছেন, আগামী ১ অক্টোবর দেশটির জন্য নতুন একটি অধ্যায়ের সূচনা হবে। ওই সময়ের মধ্যে ইরাক থেকে সব বিদেশি সামরিক বাহিনী প্রত্যাহার সম্পন্ন হলে দেশটি তার ভূখণ্ডের ওপর পূর্ণ জাতীয় সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা করতে পারবে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
আল-জাইদি বলেন, বিদেশি সেনা প্রত্যাহারের পর ইরাক নিজের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় আরও বেশি দায়িত্ব নেবে। এ লক্ষ্যেই দেশটির সামরিক ও নিরাপত্তা সক্ষমতা বাড়ানোর কাজ অব্যাহত রয়েছে।
ইরাক ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হওয়া সমঝোতা অনুযায়ী, ৩০ সেপ্টেম্বর ইরাকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক জোটের সামরিক মিশন শেষ করার সময়সীমা নির্ধারিত হয়েছে। এরপর দুই দেশের মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতার ধরনও পরিবর্তিত হওয়ার কথা রয়েছে।
তবে বিদেশি সেনা প্রত্যাহারের পাশাপাশি ইরাকের জন্য আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে দেশটির ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে নিরস্ত্র করা। একই সময়সীমার মধ্যে এসব গোষ্ঠীকে অস্ত্র রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে দেওয়ার বিষয়টিও সামনে রয়েছে।
ইরাকের প্রধানমন্ত্রী এর আগে সেপ্টেম্বরের শেষ তারিখকে ‘চূড়ান্ত ও অপরিবর্তনীয়’ সময়সীমা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অর্থাৎ, নির্ধারিত সময়ের পর দেশের ভেতরে রাষ্ট্রের বাইরে কোনো পক্ষের অস্ত্রধারণের সুযোগ না রাখার লক্ষ্য নিয়েছে বাগদাদ।
এদিকে মার্কিন বাহিনী ইতোমধ্যে ইরাক থেকে তাদের অবশিষ্ট সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। বিশেষ করে ইরাকি কুর্দিস্তান অঞ্চলে মার্কিন বাহিনীর অবস্থান কমিয়ে আনার কার্যক্রমও এগিয়ে চলছে।
তবে এই প্রত্যাহারকে পুরোপুরি যুক্তরাষ্ট্র-ইরাক সম্পর্কের সমাপ্তি হিসেবে দেখছে না ওয়াশিংটন। সামরিক মিশনের পরিবর্তে দুই দেশের মধ্যে অর্থনীতি, উন্নয়ন ও নিরাপত্তা সহযোগিতার নতুন কাঠামো গড়ে তোলার আলোচনা চলছে।
ইরাকের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখন হলো বিদেশি সামরিক উপস্থিতি কমে যাওয়ার পর দেশটির নিজস্ব বাহিনী কতটা কার্যকরভাবে নিরাপত্তার দায়িত্ব নিতে পারে এবং একই সঙ্গে শক্তিশালী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয় কি না। সেপ্টেম্বরের শেষ সময়সীমাকে ঘিরে তাই ইরাকের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর বিশেষ নজর রয়েছে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্কুল ছুটি শেষে পুনরায় খুলতে শুরু করেছে, যেখানে শিক্ষার্থীদের স্মার্টফোনবিহীন শ্রেণিকক্ষের এক নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। অন্তত ৩৯টি অঙ্গরাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসিতে স্কুলে ফোন ব্যবহারের ওপর নতুন নীতিমালা কার্যকর হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক ও অভিভাবকরা প্রযুক্তির ক্ষতিকর প্রভাবের বিরুদ্ধে লড়াই করে আসলেও, এই নীতি নির্ধারণী আলোচনাগুলোতে তরুণদের মতামত অনেকটাই উপেক্ষিত ছিল। তবে অনেক শিক্ষার্থীই স্কুলে স্ক্রিন-টাইম কমানোর এই উদ্যোগকে সমর্থন করছেন। তাদের মতে, এসব নীতিমালা প্রায়শই অপরিকল্পিতভাবে প্রয়োগ করা হয় এবং এটি স্ক্রিন আসক্তির মূল কারণগুলোকে সমাধান করতে পারে না। এর ফলে, শিক্ষার্থীরা এখন নিজেদের 'ডিজিটাল সুস্থতা' নিশ্চিত করতে এবং প্রযুক্তিমুক্ত শিক্ষার পরিবেশে খাপ খাইয়ে নিতে অফলাইন সহায়তা ও বিকল্প কর্মসূচির দাবি তুলছে। ক্যালিফোর্নিয়ায় ১ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়া নতুন আইনে স্কুলগুলোকে ক্যাম্পাসে ফোন ব্যবহার সীমিত করার নীতিমালা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অরেঞ্জ কাউন্টি স্কুল অব দ্য আর্টসের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী এলিস চোই মনে করেন, কেবল ডিভাইস আটকে রাখা খুব একটা কার্যকর হবে না, কারণ শিক্ষার্থীরা নিয়ম ভাঙার উপায় ঠিকই খুঁজে বের করবে। তার মতে, শিক্ষার্থীরা ডিভাইসে কতটা সময় কাটাচ্ছে তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো সেই সময়টা তাদের ওপর কী প্রভাব ফেলছে। চোই এবং তার মতো অনেক শিক্ষার্থী এখন স্কুলগুলোতে 'ডিজিটাল ওয়েলনেস এডুকেশন' বা ডিজিটাল সুস্থতা বিষয়ক শিক্ষার দাবি জানাচ্ছেন, যাতে শিক্ষার্থীরা বুঝতে পারে কীভাবে সোশ্যাল মিডিয়া ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তাদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলে। তারা বলছেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় অতিরিক্ত সময় কাটানোর কারণে তরুণদের মধ্যে অনিদ্রা ও মনোযোগহীনতা বাড়ছে, যা শ্রেণিকক্ষের বাইরেও ব্যাপক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে। এদিকে, অনেক শিক্ষার্থী নিজেদের স্কুলেই স্মার্টফোন নিষেধাজ্ঞার নীতিমালা তৈরিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। ক্যালিফোর্নিয়ার টাস্টিনের লিগ্যাসি ম্যাগনেট একাডেমির শিক্ষার্থী লিভ কংয়ের নেতৃত্বে একটি দল শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মতামতের ভিত্তিতে নতুন নীতিমালা তৈরি করেছে। এক বছর আগে স্কুল কর্তৃপক্ষ একতরফাভাবে ফোন নিষিদ্ধ করলে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে। পরে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে কেবল ক্লাস চলাকালীন ফোন নিষিদ্ধ এবং বিরতির সময় ব্যবহারের অনুমতি দিয়ে নতুন নিয়ম চালু করা হয়। একইভাবে সান ডিয়েগোতে ফোন নিষেধাজ্ঞার পর শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ প্রশমনে কাজ করছেন ১৭ বছর বয়সী ভিহান ভরদ্বাজ। তিনি শিক্ষা কর্মকর্তাদের সাথে মিলে এমনভাবে নীতিমালাগুলো প্রচারের চেষ্টা করছেন, যাতে শিক্ষার্থীরা বুঝতে পারে যে এসব নিয়ম তাদের স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ নয়, বরং তাদের সহায়তার জন্যই করা হয়েছে। স্মার্টফোনের বিকল্প হিসেবে অফলাইন সংযোগ ও বিনোদনের ব্যবস্থা করতেও এগিয়ে আসছে শিক্ষার্থীরা। নিউইয়র্কে গত বছর ক্লাস চলাকালীন ফোন নিষিদ্ধ করার পর 'হ্যাশট্যাগ হাফ দ্য স্টোরি' নামের একটি অলাভজনক সংস্থার সহায়তায় শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন প্রযুক্তিমুক্ত উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এই প্রকল্পের আওতায় একটি গ্রামীণ স্কুলে আর্ট প্রোগ্রাম চালুর জন্য 'ক্রাফটস কার্ট' স্থাপন করা হয়েছে। ব্রঙ্কসের ডেমোক্রেসি প্রেপ এন্ডুরেন্স হাইস্কুলের সাম্প্রতিক স্নাতক কেইডেন বোয়াহেন একটি অনুদানের সাহায্যে 'ওয়েলনেস ডে' আয়োজন করেন, যেখানে প্রায় ১০০ শিক্ষার্থী ফোন ছাড়াই খেলাধুলা ও আড্ডার মাধ্যমে একে অপরের সাথে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পায়। পাশাপাশি, লাজুক স্বভাবের বা ইন্ট্রোভার্ট শিক্ষার্থীদের সামাজিকীকরণে সহায়তার জন্য লং আইল্যান্ডের ভ্যালি স্ট্রিম নর্থ হাইস্কুলে এই শরৎকাল থেকে একটি 'ডিটক্স রুম' চালু হতে যাচ্ছে। বই ও স্ট্রেস রিলিজের খেলনা দিয়ে সাজানো এই রুমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের আবেগ নিয়ন্ত্রণ ও মানসিক প্রশান্তি খোঁজার সুযোগ পাবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, স্মার্টফোন নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি তরুণদের মানসিক বিকাশে এমন অফলাইন উদ্যোগগুলোই হয়ে উঠতে পারে আগামী দিনের শিক্ষার অন্যতম অনুষঙ্গ।
জুলাইয়ে আইসিইর রেকর্ড অভিযান, গ্রেফতার ৫১ হাজার অভিবাসী
ফিলিস্তিনিদের অধিকার রক্ষা সমগ্র মানবজাতির যৌথ দায়িত্ব: প্রেসিডেন্ট এরদোগান
সাগরে দীর্ঘ ২৫০ দিনের বন্দিদশা: তীব্র মানসিক অবসাদে রণতরীতে একের পর এক মার্কিন সেনার আত্মহত্যার চেষ্টা
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর দেশটির মাটিতে কোনো বিদেশি নাগরিক গ্রেপ্তার বা আটক হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কী ধরনের পদক্ষেপ নিতে হবে, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা প্রকাশ করেছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, এসব নিয়ম সব বিদেশি নাগরিকের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য—তিনি বৈধ ভিসাধারী, স্থায়ী বাসিন্দা কিংবা অনিবন্ধিত অভিবাসী যাই হোন না কেন। প্রথমেই জাতীয়তা যাচাই কোনো বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার বা আটক করার পর আইনশৃঙ্খলা কর্মকর্তাদের প্রথমে তার জাতীয়তা নির্ধারণ করতে হবে। এরপর ওই ব্যক্তির দেশের নাম যুক্তরাষ্ট্রের ‘বাধ্যতামূলক কনস্যুলার বিজ্ঞপ্তি’ তালিকায় রয়েছে কি না, তা যাচাই করতে হবে। যদি সংশ্লিষ্ট দেশ ওই তালিকায় না থাকে, তাহলে আটক ব্যক্তিকে জানাতে হবে যে তিনি চাইলে নিজের দেশের দূতাবাস বা কনস্যুলেটকে বিষয়টি জানানোর অনুরোধ করতে পারেন। তবে তিনি অনুরোধ না করলে সাধারণত সংশ্লিষ্ট কনস্যুলার কর্তৃপক্ষকে জানানো বাধ্যতামূলক নয়। অন্যদিকে, কোনো ব্যক্তির দেশ যদি বাধ্যতামূলক বিজ্ঞপ্তির তালিকায় থাকে, তাহলে তার অনুমতি নেওয়ার অপেক্ষা না করেই নিকটস্থ দূতাবাস বা কনস্যুলেটকে দ্রুত অবহিত করতে হবে। একই সঙ্গে ওই বিদেশি নাগরিককেও জানাতে হবে যে তার দেশের কনস্যুলার কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। প্রতিটি পদক্ষেপের রেকর্ড রাখতে হবে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের নির্দেশনায় আইনশৃঙ্খলা কর্মকর্তাদের পুরো প্রক্রিয়ার লিখিত রেকর্ড সংরক্ষণের কথাও বলা হয়েছে। এর মধ্যে আটক ব্যক্তিকে কী তথ্য জানানো হয়েছে, তিনি কনস্যুলেটের সঙ্গে যোগাযোগের অনুরোধ করেছেন কি না, দূতাবাস বা কনস্যুলেটকে কখন এবং কীভাবে জানানো হয়েছে—এসব তথ্য নথিভুক্ত করতে হবে। কনস্যুলার কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে তারা আটক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ বা সাক্ষাৎ করতে পারেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তার কল্যাণ, চিকিৎসা কিংবা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়ে সহায়তা করতে পারেন। তবে কনস্যুলার কর্মকর্তারা আটক ব্যক্তির হয়ে আদালতে আইনজীবী হিসেবে প্রতিনিধিত্ব করেন না। অভিবাসনগত অবস্থায় ছাড় নেই পররাষ্ট্র দপ্তরের নির্দেশনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এসব নিয়ম প্রয়োগের ক্ষেত্রে ব্যক্তির অভিবাসনগত অবস্থাকে আলাদা কোনো মানদণ্ড হিসেবে ধরা হয় না। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রে কোনো বিদেশি নাগরিক বৈধভাবে অবস্থান করছেন নাকি তার অভিবাসন-সংক্রান্ত অবস্থান অনিয়মিত—এটি কনস্যুলার বিজ্ঞপ্তির মৌলিক নিয়ম পরিবর্তন করে না। এই ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য হলো যুক্তরাষ্ট্রে আটক বিদেশি নাগরিকদের নিজ দেশের কনস্যুলার প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ নিশ্চিত করা। একই ধরনের কনস্যুলার অধিকার বিদেশে আটক মার্কিন নাগরিকদের ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্র ব্যবহার করে।
ফ্লোরিডাসহ ৫ অঙ্গরাজ্যে কবরস্থান থেকে স্বজনদের গয়না-স্মারক চুরি, চক্রের ৩ সদস্যকে খুঁজছে পুলিশ
ইরাকে বিদেশি সেনা প্রত্যাহারে ১ অক্টোবরকে নতুন অধ্যায়ের সূচনা বললেন প্রধানমন্ত্রী
ফ্লোরিডায় সম্পত্তি কর কমানোর প্রস্তাব পাস হলে ক্লিয়ারওয়াটারে বিলুপ্ত হতে পারে প্রায় ১৪০ চাকরি
যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগ বাড়াতে বিভিন্ন অনুষ্ঠান, সাংস্কৃতিক কর্মসূচি ও জনসম্পৃক্ত কার্যক্রম আয়োজন করা হচ্ছে। ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা বার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশে আয়োজিত ‘আমেরিকা সপ্তাহ’ ছিল এমন একটি উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ। ঢাকাসহ চট্টগ্রাম, সিলেট ও রাজশাহীতে আয়োজিত কর্মসূচিতে আমেরিকার ইতিহাস, সংস্কৃতি, সংগীত ও মূল্যবোধ তুলে ধরা হয়। ঢাকায় আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বলেন, দুই দেশের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া আরও গভীর করতে যুক্তরাষ্ট্র তার ইতিহাস ও মূল্যবোধ বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে ভাগ করে নিতে চায়। এই ধরনের সাংস্কৃতিক বিনিময় শুধু বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্ককে শক্তিশালী করছে না, বরং প্রবাসী বাংলাদেশিদেরও দুই সংস্কৃতির মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু হিসেবে ভূমিকা রাখার সুযোগ তৈরি করছে। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি-আমেরিকানরা বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, মেলা, সংগীত, সাহিত্য, খাবার ও কমিউনিটি কর্মসূচির মাধ্যমে নিজেদের ঐতিহ্য তুলে ধরছেন। একই সঙ্গে এসব আয়োজনের মাধ্যমে স্থানীয় আমেরিকান জনগোষ্ঠীর সঙ্গে বাংলাদেশি সংস্কৃতির পরিচিতিও বাড়ছে। শিক্ষা, সংস্কৃতি, শিল্প, ব্যবসা ও কমিউনিটি পর্যায়ে নিয়মিত মানুষের সঙ্গে মানুষের যোগাযোগ দুই দেশের সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত ও স্থায়ী করতে পারে। চলতি বছরের মার্কিন উদ্যোগগুলোর মধ্যেও বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের সাংস্কৃতিক ও জনগণভিত্তিক যোগাযোগকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
রাশিয়া-জাপান বিরোধের কেন্দ্র কুরিল দ্বীপপুঞ্জে প্রথমবার পুতিন, তীব্র প্রতিবাদ টোকিওর
লস অ্যাঞ্জেলেসে স্কুলের প্রথম দিনেই শিক্ষার্থীর কাছে বন্দুক, ক্যাম্পাস লকডাউন