সাগরে দীর্ঘ ২৫০ দিনের বন্দিদশা: তীব্র মানসিক অবসাদে রণতরীতে একের পর এক মার্কিন সেনার আত্মহত্যার চেষ্টা
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী 'ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন'-এর ৫ হাজার নাবিক ও মেরিন সেনা এক নজিরবিহীন মানসিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। ইরানের সাথে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে টানা নয় মাস ধরে সাগরে অবস্থান করছে এই রণতরী। আধুনিক সামরিক ইতিহাসে কোনো রণতরীর টানা ২৫০ দিন ডাঙা স্পর্শ না করার এটি একটি নতুন রেকর্ড। এই দীর্ঘ সমুদ্রবাস ও জাহাজের ভেতরের চরম প্রতিকূল পরিবেশের কারণে নাবিকদের মানসিক চাপ চরমে পৌঁছেছে। সামরিক বিষয়ক শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম 'নেভি টাইমস' এবং 'স্টারস অ্যান্ড স্ট্রাইপস'-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরিস্থিতি সইতে না পেরে একাধিক নাবিক সাগরে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন।
সম্প্রতি ক্যালিফোর্নিয়ার সান দিয়েগোতে নৌবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে আয়োজিত এক আবেগঘন টাউন হল মিটিংয়ে নাবিকদের পরিবারের সদস্যরা নিজেদের চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন। ভারপ্রাপ্ত নৌবাহিনী মন্ত্রী হাং কাও এবং অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে প্রায় ২০০ পরিবারের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত ওই সভায় এক নারী জানান, তার স্বামী তাকে মেসেজ করে বলেছেন যে তিনি "আগামীকাল আর ঘুম থেকে উঠতে চান না।" সভায় উপস্থিত আরেকজন অভিযোগ করেন, নৌবাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্ব তাদের সাথে বিশ্বাসভঙ্গ করেছে। নেভি টাইমসের প্রতিবেদনেও রণতরী থেকে লাফ দেওয়ার একাধিক চেষ্টার কথা উঠে এসেছে। অ্যানাবেল লোমা নামের এক নারী জানান, সাগরে অবস্থানের মেয়াদ বারবার বাড়ানোয় ক্যারিয়ার ধ্বংসের আশঙ্কায় তার স্বামী জাহাজ থেকে ঝাঁপ দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। অন্য একটি ঘটনায় এক নাবিককে সাগরে ঝাঁপ দেওয়ার আগমুহূর্তে তার সহকর্মী টেনে এনে রক্ষা করেন বলেও জানা গেছে।
জাহাজের ভেতরের মানবেতর পরিবেশ নিয়ে কড়া সমালোচনা করেছেন মার্কিন কংগ্রেস সদস্যরা। ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাট সদস্য মাইক লেভিন উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, নাবিকদের শৌচাগার ও গোসলখানাগুলো ভাঙা ও স্যাঁতস্যাঁতে, কয়েক সপ্তাহ ধরে লন্ড্রি বন্ধ, গরম পানি নেই এবং খাবার হিসেবে সামান্য ভাত ও দুটি রুটি (টরটিলা) দেওয়া হচ্ছে। এমনকি সাবান, ডিওডোরেন্ট বা টুথপেস্টের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীও তাদের কাছে নেই। কলোরাডোর আরেক কংগ্রেস সদস্য ও সাবেক আর্মি রেঞ্জার জেসন ক্রো সতর্ক করে বলেছেন, নাবিক ও তাদের পরিবারের ওপর মানসিক এই চাপ প্রতি সপ্তাহে বেড়েই চলেছে।
মূলত গত ২১ নভেম্বর সান দিয়েগো থেকে প্রশান্ত মহাসাগরের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছিল এই রণতরীটি। তবে পরবর্তীতে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এটিকে সেখানে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। মে মাসে এই মিশন শেষ হওয়ার কথা থাকলেও যুদ্ধের কারণে এর মেয়াদ কয়েক দফায় বাড়ানো হয়েছে। এই সুদীর্ঘ সময়ে মাত্র দুইবার—ডিসেম্বরে গুয়াম এবং জুলাইয়ে ওমানে নাবিকরা ডাঙায় নামার সুযোগ পেয়েছিলেন। গত এপ্রিলে জাহাজের নিম্নমানের খাবার ও মানবেতর পরিবেশের ছবি প্রকাশ্যে এলে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এসব অভিযোগকে 'ভুয়া খবর' বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন, যার কড়া সমালোচনা করেছেন কংগ্রেস সদস্য লেভিন।
টানা এই মানসিক চাপের বিষয়টি স্বীকার করলেও নৌবাহিনীর একজন দাপ্তরিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তাদের কাছে আত্মহত্যার প্রবণতা বৃদ্ধির কোনো তথ্য নেই। তিনি দাবি করেন, নাবিকদের পরিস্থিতি সামাল দিতে জাহাজে মনোবিজ্ঞানী ও ধর্মযাজকদের মাধ্যমে সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে এবং পর্যাপ্ত পরিষ্কার পানি ও স্বাস্থ্যকর খাবারের ব্যবস্থা রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক একটি গবেষণায় দেখা গেছে, নৌবাহিনীর প্রায় অর্ধেক নাবিকই সাগরে অবস্থানকালে মানসিক চাপ মোকাবেলায় পর্যাপ্ত সহায়তা পান না। এই পরিস্থিতিতে সামরিক বাহিনীর সদস্যদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreনিউইয়র্ক সিটির বাইরে গেলেই এখনো তুলনামূলক কম দামে নিজের বাড়ি কেনার সুযোগ রয়েছে। ২০২৬ সালের সাম্প্রতিক হাউজিং মার্কেটের তথ্য অনুযায়ী, বিংহ্যামটন, রচেস্টার, সিরাকিউজ, ইউটিকা ও বাফালোতে বাড়ির দাম নিউইয়র্ক সিটির তুলনায় অনেক কম। দীর্ঘদিন ভাড়া দেওয়ার পর এসব শহরে বাড়ি কিনেছেন এমন কয়েকজন প্রবাসীর অভিজ্ঞতাও দেখাচ্ছে, সামর্থ্য ও জীবনযাপনের সঙ্গে মিল থাকলে নিউইয়র্ক স্টেটের অন্য শহরেও বাড়ি কেনার সুযোগ খোঁজা যেতে পারে। এর একটি উদাহরণ জি নাহার। দীর্ঘদিন নিউইয়র্কে ভাড়া থাকার পর সম্প্রতি তিনি বিংহ্যামটনে নিজের সামর্থ্যের মধ্যে একটি ছোট বাড়ি কিনেছেন। এখন নিজের পছন্দ অনুযায়ী নতুন বাড়িটি সাজিয়ে নিচ্ছেন। আমেরিকা বাংলাকে নিজের অভিজ্ঞতা জানিয়ে জি নাহার বলেন, নিউইয়র্কে এত বছর ভাড়া দিতে যে অর্থ খরচ করেছেন, তার কিছুটা যদি আগে বাড়ি কেনার দিকে দিতে পারতেন, তাহলে হয়তো আরও আগেই নিজের একটি বাড়ি হয়ে যেত। দেরিতে হলেও এখন নিজের একটি স্থায়ী ঠিকানা হয়েছে—এটাই তার কাছে বড় বিষয়। নিজের বাড়ি হওয়ায় সেটিকে নিজের মতো করে সাজানোর সুযোগও পাচ্ছেন তিনি। তার অভিজ্ঞতা বিশেষ করে তাদের জন্য প্রাসঙ্গিক হতে পারে, যারা নিউইয়র্কে বহু বছর ধরে ভাড়া দিচ্ছেন, কিন্তু নিউইয়র্ক সিটির বাড়ির দাম দেখে কেনার কথা ভাবছেন না। বিংহ্যামটন নিউইয়র্ক সিটি থেকে কয়েক ঘণ্টার দূরে হলেও এটি নিউইয়র্ক স্টেটেরই একটি শহর। ফলে শহর বদলালে জীবনযাপনের ধরন, যাতায়াত, চাকরি ও কমিউনিটির সুযোগে পরিবর্তন আসতে পারে। তবে যোগ্য ক্রেতারা স্টেটভিত্তিক কিছু বাড়ি কেনার কর্মসূচি ও কর সুবিধার জন্য আবেদন করতে পারেন। বিংহ্যামটনের বাড়ির বাজার এখনো তুলনামূলক কম দামের। ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত তিন মাসে সেখানে বাড়ির মধ্যম বিক্রয়মূল্য ছিল ১ লাখ ৬৬ হাজার ৩৯০ ডলার। তবে এক বছরের তুলনায় দাম বেড়েছে ৮ দশমিক ৮ শতাংশ। অর্থাৎ বাজারটি তুলনামূলক সাশ্রয়ী হলেও দাম বাড়ছে। বিংহ্যামটনে মুসলিম কমিউনিটিরও উপস্থিতি রয়েছে। ইসলামিক অর্গানাইজেশন অব দ্য সাদার্ন টিয়ারসহ বিভিন্ন ইসলামিক প্রতিষ্ঠান সেখানে নামাজ, ধর্মীয় শিক্ষা ও কমিউনিটি কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ফলে নিউইয়র্ক সিটি থেকে দূরে গিয়েও মুসলিম পরিবারগুলো ধর্মীয় ও সামাজিক যোগাযোগের সুযোগ পেতে পারে। শুধু বিংহ্যামটন নয়, বাফালোর অভিজ্ঞতাও একই ধরনের চিত্র তুলে ধরে। দীর্ঘদিন নিউইয়র্কে ভাড়া থাকার পর সম্প্রতি বাফালোতে নিজের বাড়ি কিনেছেন প্রবাসী মামুন চৌধুরী। মামুন চৌধুরীর অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, তিনি যদি আরও আগে বাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত নিতে পারতেন, তাহলে কয়েক বছর আগে তুলনামূলক কম দামে বাড়ি কেনার সুযোগ পেতেন। এখন তাকে আগের তুলনায় কিছুটা বেশি দামে বাড়ি কিনতে হয়েছে। তার মতে, দুই বছর আগে বা তারও কিছু আগে একই ধরনের বাড়ি আরও কম দামে কেনার সুযোগ ছিল। তবে বর্তমান বাজার নিয়েও তার অভিজ্ঞতা হলো, বাফালোতে এখনো তুলনামূলক যুক্তিসংগত দামে বাড়ি খুঁজে পাওয়া সম্ভব। অর্থাৎ যারা এখনো বাড়ি কেনেননি, তাদের জন্য বাজার পুরোপুরি নাগালের বাইরে চলে যায়নি। ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত তিন মাসে বাফালোর বাড়ির মধ্যম বিক্রয়মূল্য ছিল ২ লাখ ২৯ হাজার ৮৪৮ ডলার। এক বছরে দাম বেড়েছে ২ দশমিক ৮ শতাংশ। সেখানে একটি বাড়ি বিক্রি হতে গড়ে প্রায় ১৫ দিন লাগছে। বাফালোতে বাংলাদেশি কমিউনিটিরও উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে। বিভিন্ন বাংলাদেশি সংগঠন, মসজিদ ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে সেখানে কার্যক্রম চালাচ্ছে। ফলে বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে দাম ছাড়াও কমিউনিটি, ধর্মীয় পরিবেশ ও সামাজিক যোগাযোগ অনেক পরিবারের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তালিকার আরেকটি শহর রচেস্টার। ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত তিন মাসে রচেস্টারে বাড়ির মধ্যম বিক্রয়মূল্য ছিল ১ লাখ ৯৯ হাজার ৮৬৮ ডলার। এক বছরের তুলনায় দাম বেড়েছে ৮ শতাংশ। বাড়িগুলো গড়ে মাত্র ১০ দিনে বিক্রি হচ্ছে, যা বাজারে ক্রেতাদের চাহিদার ইঙ্গিত দেয়। সিরাকিউজে একই সময়ে বাড়ির মধ্যম বিক্রয়মূল্য ছিল ২ লাখ ১১ হাজার ১১০ ডলার। এক বছরে দাম বেড়েছে ১৪ দশমিক ১ শতাংশ। সেখানে বাড়ি বাজারে থাকার গড় সময় ২৬ দিন। অন্যদিকে ইউটিকায় বাড়ির মধ্যম বিক্রয়মূল্য ছিল ২ লাখ ৯ হাজার ৮৬১ ডলার, যা এক বছরে ৯ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে। সেখানে বাড়ি বিক্রি হতে গড়ে ৩৫ দিন সময় লাগছে। পাঁচ শহরের বাজারে পার্থক্য থাকলেও একটি বিষয় স্পষ্ট—নিউইয়র্ক সিটির বাইরে গেলে তুলনামূলক কম দামে বাড়ি পাওয়ার সুযোগ এখনো রয়েছে। তবে শুধু বাড়ির দাম দেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না। মর্টগেজের সুদ, ডাউন পেমেন্ট, প্রপার্টি ট্যাক্স, বাড়ির মালিকের ইন্স্যুরেন্স, বাড়ির অবস্থা, স্কুল ডিস্ট্রিক্ট এবং চাকরির সুযোগও হিসাব করতে হবে। বিশেষ করে বর্তমান মর্টগেজের সুদের হার বাড়ি কেনার মোট খরচে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। ফ্রেডি ম্যাকের হিসাবে ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ যুক্তরাষ্ট্রে ৩০ বছরের নির্দিষ্ট হারের মর্টগেজের গড় হার ছিল ৭ দশমিক ০৩ শতাংশ। এক সপ্তাহ আগে এটি ছিল ৬ দশমিক ৯৫ শতাংশ। নিউইয়র্ক স্টেটের কিছু বাড়ির মালিকানা কর্মসূচিও যোগ্য ক্রেতাদের জন্য কাজে আসতে পারে। যেমন, সনিমা ডিপিএএল প্লাস ২০২৬ কর্মসূচিতে যোগ্য স্বল্প আয়ের ক্রেতাদের ডাউন পেমেন্ট, ক্লোজিং খরচ এবং নির্দিষ্ট মর্টগেজ ইন্স্যুরেন্সের খরচে সর্বোচ্চ ৩০ হাজার ডলার পর্যন্ত সহায়তার সুযোগ রয়েছে। এই কর্মসূচির জন্য পরিবারের আয় নির্ধারিত এলাকার মধ্যম আয়ের ৬০ শতাংশের মধ্যে হতে হবে এবং তহবিল শেষ হয়ে গেলে কর্মসূচি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এছাড়া নিউইয়র্ক স্টেটের স্টার কর্মসূচির আওতায় যোগ্য মালিকের বসবাস করা প্রাথমিক বাড়ির জন্য প্রপার্টি ট্যাক্স সুবিধা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। ২০২৬ সালের নিয়ম অনুযায়ী বেসিক স্টার ক্রেডিটের আয়ের সীমা ৫ লাখ ডলার পর্যন্ত। তবে এটি মূলত স্কুল ডিস্ট্রিক্ট ট্যাক্সের সঙ্গে সম্পর্কিত এবং যোগ্যতার নির্দিষ্ট শর্ত রয়েছে। তাই বিংহ্যামটন, রচেস্টার, সিরাকিউজ, ইউটিকা কিংবা বাফালোতে বাড়ি কিনলেই নিউইয়র্ক সিটির সব সুবিধা পাওয়া যাবে—এমন নয়। বরং এসব শহরে বসবাসের খরচ, চাকরি, যাতায়াত, কমিউনিটি ও স্থানীয় সুযোগ-সুবিধা আলাদা করে বিবেচনা করতে হবে। একই সঙ্গে যোগ্য হলে নিউইয়র্ক স্টেটের প্রযোজ্য বাড়ি কেনার কর্মসূচি ও কর সুবিধা নেওয়ার সুযোগ থাকতে পারে। জি নাহার ও মামুন চৌধুরীর অভিজ্ঞতা এই আলোচনায় আরেকটি দিক তুলে ধরে। একজন দীর্ঘদিন ভাড়া দেওয়ার পর বিংহ্যামটনে নিজের সামর্থ্যের মধ্যে বাড়ি কিনেছেন। অন্যজন বাফালোতে বাড়ি কিনে মনে করছেন, আরও আগে সিদ্ধান্ত নিলে হয়তো কম দামে কেনার সুযোগ পেতেন। তাদের অভিজ্ঞতা থেকে অন্তত এটুকু বোঝা যায়, নিউইয়র্ক সিটির বাইরে তুলনামূলক কম দামের কিছু বাজার এখনো রয়েছে। শেষ পর্যন্ত বাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে প্রত্যেক পরিবারের আয়, সঞ্চয়, ঋণের সক্ষমতা, চাকরি ও জীবনযাপনের পছন্দের ওপর। তবে নিউইয়র্কে যারা দীর্ঘদিন ধরে রেন্ট দিচ্ছেন এবং নিউইয়র্ক সিটির বাইরে বসবাসের সুযোগ বিবেচনা করতে পারেন, তাদের জন্য বিংহ্যামটন, রচেস্টার, সিরাকিউজ, ইউটিকা ও বাফালো হাউজিং মার্কেটের গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি শহর হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলে নরইস্টারের তাণ্ডব, ১ জনের মৃত্যু ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
সরকারি ওয়েবসাইটে এআই এজেন্টের অস্বাভাবিক আচরণ, কাজ থামাল ওপেনএআই
ভিসা-মাস্টারকার্ডের ১৬ কোটি ৭৫ লাখ ডলারের সমঝোতা, জানুন টাকা আবেদনের শর্ত ও যোগ্যতা
টেক্সাসের অস্টিনে আইসিইবিরোধী বি ক্ষো ভে অংশ নেওয়ার পর সিটি কাউন্সিল নির্বাচনের প্রার্থী মিসায়েল রামোসকে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে গ্রে প্তা র করেছে রাজ্যের জননিরাপত্তা বিভাগ। তাঁর বিরুদ্ধে দা ঙ্গায় অংশ নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। পরে এক হাজার ডলারের জা মি নে তিনি ছাড়া পান। রামোস অস্টিন সিটি কাউন্সিলের ডিস্ট্রিক্ট ১ আসনের প্রার্থী। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কেইউটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২০ সেপ্টেম্বর অস্টিনে আইসিইর এক কর্মকর্তার গু লিতে উইলবার গারসেস পেরেজ নামের এক ব্যক্তি আ হ ত হওয়ার পর ঘটনাস্থলে বি ক্ষো ভে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। রামোসের প্রচার ব্যবস্থাপকের ভাষ্য, শনিবার সকালে কুকুর নিয়ে হাঁটার সময় তাঁকে গ্রে প্তা র করা হয়। সেদিনই তাঁকে ট্রাভিস কাউন্টি কারাগারে নেওয়া হয় এবং বিকেলে জা মি নে মুক্তি দেওয়া হয়। রামোসের বিরুদ্ধে আনা অ ভি যোগটি টেক্সাসে অপেক্ষাকৃত কম গুরুতর অ প রা ধের শ্রেণিতে পড়ে। বি ক্ষো ভে তাঁর ঠিক কোন আচরণের ভিত্তিতে অ ভি যোগ আনা হয়েছে, তা প্রকাশিত তথ্যে স্পষ্ট নয়। তাঁর বিরুদ্ধে অ ভি যোগ আদালতে প্রমাণিত হয়নি। রামোসের প্রচার শিবির বলছে, তিনি আইসিই কর্মকর্তার গু লির ঘটনার প্র তি বা দ জানাতে অন্যদের সঙ্গে বি ক্ষো ভে যোগ দিয়েছিলেন। গ্রে প্তা রের বিষয়ে টেক্সাসের জননিরাপত্তা বিভাগের বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি বলে কেইউটি জানিয়েছে।
অ্যারিজোনার গ্রোসারি শপে চাকরির সংকট, এক বছরে কমেছে দুই শতাংশের বেশি পদ
ক্যালিফোর্নিয়ায় ডিজেল ৮ ডলার ছাড়িয়েছে, কিছু পাম্পে ছুঁয়েছিল প্রায় ১০ ডলার
বেতন বাড়লেও সংসারে টানাটানি, স্ন্যাপ সহায়তা কমায় বিপাকে পরিবারগুলো
যুক্তরাষ্ট্রে স্বাধীনভাবে পরিচালিত এটিএম থেকে টাকা তোলার সময় অতিরিক্ত ফি দেওয়া কিছু গ্রাহক ভিসা ও মাস্টারকার্ডের ১৬৭.৫ মিলিয়ন ডলারের প্রস্তাবিত ক্লাস অ্যাকশন সেটেলমেন্ট থেকে অর্থ পেতে পারেন। তবে সেটেলমেন্টটি এখনো আদালতের চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছিল, ভিসা ও মাস্টারকার্ডের নেটওয়ার্কের নিয়মের কারণে স্বাধীন এটিএম পরিচালনাকারীরা প্রতিযোগী নেটওয়ার্কের মাধ্যমে কম খরচে লেনদেন সম্ভব হলেও গ্রাহকদের জন্য কম এটিএম সারচার্জ নির্ধারণ করতে পারতেন না। এর ফলে গ্রাহকদের কাছ থেকে বেশি অ্যাক্সেস ফি নেওয়া হয়েছে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়। ভিসা ও মাস্টারকার্ড অবশ্য কোনো অনিয়মের অভিযোগ স্বীকার করেনি। প্রস্তাবিত সমঝোতা অনুযায়ী, ভিসা দেবে ৮৮.৭৭৫ মিলিয়ন ডলার এবং মাস্টারকার্ড দেবে ৭৮.৭২৫ মিলিয়ন ডলার। সব মিলিয়ে সেটেলমেন্ট ফান্ডের পরিমাণ ১৬৭.৫ মিলিয়ন ডলার। তবে আইনজীবীদের ফি, মামলা পরিচালনার খরচ, প্রশাসনিক ব্যয়সহ অন্যান্য অনুমোদিত খরচ বাদ দেওয়ার পর অবশিষ্ট অর্থ যোগ্য দাবিদারদের মধ্যে বিতরণ করা হবে। কারা টাকা পাওয়ার যোগ্য হতে পারেন? সেটেলমেন্টের নিয়ম অনুযায়ী, ২০০৭ সালের ২৪ অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের ১৪ আগস্টের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র বা এর কোনো অঞ্চলে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন নয়—এমন স্বাধীন এটিএম থেকে নগদ টাকা তুলতে গিয়ে সারচার্জ বা অ্যাক্সেস ফি দিয়ে থাকলে আপনি সাধারণ শ্রেণির সদস্য হতে পারেন। সেই ফি আপনার ব্যাংক পুরোপুরি ফেরত দিয়ে থাকলে আপনি যোগ্য নাও হতে পারেন। এ ক্ষেত্রে লেনদেনটি ডিপোজিট অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত এটিএম বা পিন-ডেবিট কার্ড ব্যবহার করে নগদ তোলার হতে হবে। ক্রেডিট কার্ড, ক্যাশ অ্যাডভান্স বা প্রিপেইড কার্ডের লেনদেন এই শ্রেণির মধ্যে পড়ে না। ক্যালিফোর্নিয়া, ইলিনয়, ম্যাসাচুসেটস ও মিশিগানের কিছু বাসিন্দা আলাদা স্টেটওয়াইড ক্লাসের আওতায়ও পড়তে পারেন। কত টাকা পাওয়া যাবে? প্রত্যেক যোগ্য গ্রাহক ঠিক কত টাকা পাবেন, তা এখনই নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি। কারণ ১৬৭.৫ মিলিয়ন ডলারের তহবিল থেকে আইনজীবীদের ফি, মামলা ও প্রশাসনিক খরচসহ অন্যান্য অনুমোদিত ব্যয় বাদ দেওয়ার পর অবশিষ্ট অর্থ যোগ্য দাবিদারদের মধ্যে বিতরণ করা হবে। তাই ব্যক্তিপ্রতি অর্থের পরিমাণ দাবির সংখ্যা ও অন্যান্য বিষয় অনুযায়ী নির্ধারিত হবে। সেটেলমেন্ট আদালতের অনুমোদন পাওয়ার পর এবং কোনো আপিল না থাকলে অর্থ বিতরণ শুরু হতে পারে। অর্থ ইমেইলের মাধ্যমে ডিজিটাল পেমেন্ট হিসেবে পাঠানো হবে। পেপ্যাল বা ভার্চুয়াল ডেবিট কার্ডের মতো পদ্ধতি বেছে নেওয়ার সুযোগ থাকবে এবং কাগজের চেকও চাওয়া যাবে। কীভাবে আবেদন করবেন? টাকা পেতে হলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ক্লেইম ফর্ম জমা দিতে হবে। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ১০ ফেব্রুয়ারির মধ্যে অনলাইনে অথবা ডাকযোগে ক্লেইম জমা দিতে হবে। এই মুহূর্তে ক্লেইমের সঙ্গে কোনো নথি জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। তবে পরে দাবির সত্যতা যাচাইয়ের জন্য প্রশাসক ব্যাংক স্টেটমেন্ট বা অন্য কোনো প্রমাণ চাইতে পারেন। তাই পুরোনো এটিএম লেনদেনের তথ্য বা ব্যাংক রেকর্ড থাকলে তা সংরক্ষণ করা ভালো। ক্লেইম জমা দেওয়ার জন্য সেটেলমেন্টের সরকারি ওয়েবসাইটে ফর্ম পূরণ করা যায়। ডাকযোগে পাঠাতে হলে ঠিকানা হলো: নন-ব্যাংক এটিএম সারচার্জ ফি সেটেলমেন্ট, সি/ও এ.বি. ডেটা লিমিটেড, পি.ও. বক্স ১৭৩০৫৩, মিলওয়াকি, উইসকনসিন ৫৩২১৭।
গ্রিসের ঐতিহাসিক এলাকায় বি স্ফো রণ, ধ্বং স স্তূপ থেকে ৪ মার্কিন নাগরিকসহ ৬ জনের মৃ ত দে হ উদ্ধার
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় ফ্লাইট কমাচ্ছে বড় এয়ারলাইনগুলো, বাড়তে পারে ভাড়া