নিউইয়র্কে ৯৯২ ডলারেই অ্যাপার্টমেন্ট! ব্রুকলিনে শুরু ৬৩ ইউনিটের হাউজিং লটারি
নিউইয়র্ক সিটির ব্রুকলিনে তুলনামূলক কম ভাড়ায় বাসা পাওয়ার নতুন সুযোগ এসেছে। জনপ্রিয় পার্ক স্লোপ এলাকার ৭৪ সেন্ট মার্কস প্লেসে নির্মিত ‘সোলেস’ নামের নতুন আবাসিক ভবনের ৬৩টি অ্যাপার্টমেন্টের জন্য আবাসন লটারি চালু হয়েছে। এক কক্ষের ছোট বাসা, এক শোবার ঘর ও দুই শোবার ঘরের অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে এই প্রকল্পে। মাসিক ভাড়া শুরু ৯৯২ ডলার থেকে। আবেদনের শেষ দিন ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬।
নিউইয়র্ক সিটির আবাসন লটারির নিয়ম অনুযায়ী, শুধু কম আয়ের পরিবার নয়, মধ্যম এবং তুলনামূলক বেশি আয়ের পরিবারও এই প্রকল্পের বিভিন্ন শ্রেণিতে আবেদন করতে পারবেন। পরিবারের সদস্যসংখ্যা এবং মোট বার্ষিক আয়ের ওপর নির্ভর করবে কে কোন বাসার জন্য যোগ্য হবেন। এই প্রকল্পে বছরে ৩৮ হাজার ৯৪৯ ডলার থেকে সর্বোচ্চ ২ লাখ ৩৮ হাজার ১৬০ ডলার পর্যন্ত আয়কারীদের জন্য বিভিন্ন বাসা রাখা হয়েছে।
১২ তলা সোলেস ভবনটির নকশা করেছে আইএনসি আর্কিটেকচার অ্যান্ড ডিজাইন এবং এটি নির্মাণ করেছে অ্যাভডু অ্যান্ড পার্টনার্স। নিউইয়র্ক সিটির আবাসন সংযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে লটারিতে বাসাগুলো বরাদ্দ দেওয়া হবে। আবেদনকারীদের আয় সংশ্লিষ্ট এলাকার মধ্যম আয়ের ৪০ শতাংশ থেকে ১৩০ শতাংশের মধ্যে হতে হবে।
৪০ শতাংশ মধ্যম আয়ের শ্রেণিতে সবচেয়ে কম ভাড়ার বাসাগুলো রাখা হয়েছে। এখানে সাতটি ছোট এক কক্ষের অ্যাপার্টমেন্টের মাসিক ভাড়া ৯৯২ ডলার। এসব বাসার জন্য আবেদনকারীদের বার্ষিক আয় ৩৮ হাজার ৯৪৯ ডলার থেকে ৫৪ হাজার ২৮০ ডলারের মধ্যে হতে হবে।
একই শ্রেণিতে রয়েছে ১৮টি দুই শোবার ঘরের অ্যাপার্টমেন্ট। এসব বাসার মাসিক ভাড়া ১ হাজার ২৩৮ ডলার। আবেদনকারীদের বার্ষিক আয় ৪৯ হাজার ৯৮৯ ডলার থেকে ৭৩ হাজার ২৮০ ডলারের মধ্যে থাকতে হবে।
৬০ শতাংশ মধ্যম আয়ের শ্রেণিতে তিনটি ছোট এক কক্ষের অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে। এগুলোর মাসিক ভাড়া ১ হাজার ৫৫৯ ডলার। যোগ্য আবেদনকারীদের বার্ষিক আয় হতে হবে ৫৮ হাজার ৩৮৯ ডলার থেকে ৮১ হাজার ৪২০ ডলারের মধ্যে।
এই শ্রেণিতে সবচেয়ে বেশি বাসা রাখা হয়েছে দুই শোবার ঘরের। মোট ২২টি দুই শোবার ঘরের অ্যাপার্টমেন্টের মাসিক ভাড়া ১ হাজার ৯৬৭ ডলার। এসব বাসার জন্য বার্ষিক আয় ৭৪ হাজার ৯৮৩ ডলার থেকে ১ লাখ ৯ হাজার ৯২০ ডলারের মধ্যে হতে হবে।
তুলনামূলক বেশি আয়ের পরিবারগুলোর জন্যও লটারিতে বাসা রাখা হয়েছে। এলাকার মধ্যম আয়ের ১৩০ শতাংশ শ্রেণিতে পাঁচটি ছোট এক কক্ষের অ্যাপার্টমেন্টের মাসিক ভাড়া ৩ হাজার ৫৪৩ ডলার। আবেদনকারীদের বার্ষিক আয় ১ লাখ ২৬ হাজার ৪১২ ডলার থেকে ১ লাখ ৭৬ হাজার ৪১০ ডলারের মধ্যে হতে হবে।
একই শ্রেণিতে দুটি এক শোবার ঘরের অ্যাপার্টমেন্টের মাসিক ভাড়া ৩ হাজার ৭৮৪ ডলার। এসব বাসার জন্য বার্ষিক আয় হতে হবে ১ লাখ ৩৫ হাজার ৩৬০ ডলার থেকে ১ লাখ ৯৮ হাজার ৫১০ ডলারের মধ্যে।
এ ছাড়া ছয়টি দুই শোবার ঘরের অ্যাপার্টমেন্টের মাসিক ভাড়া ৪ হাজার ৫১৮ ডলার। এসব বাসার জন্য আবেদনকারীদের বার্ষিক আয় ১ লাখ ৬২ হাজার ৪৪৬ ডলার থেকে সর্বোচ্চ ২ লাখ ৩৮ হাজার ১৬০ ডলারের মধ্যে হতে হবে।
তবে নির্ধারিত আয়সীমার মধ্যে থাকলেই বাসা পাওয়া নিশ্চিত নয়। পরিবারের সদস্যসংখ্যা, কোন ধরনের বাসার জন্য আবেদন করা হচ্ছে এবং সেই বাসার নির্ধারিত আয়ের সীমাসহ নিউইয়র্ক সিটির অন্যান্য যোগ্যতার শর্তও পূরণ করতে হবে। আবেদন গ্রহণের পর লটারির মাধ্যমে সম্ভাব্য আবেদনকারী নির্বাচন করা হয় এবং পরবর্তী ধাপে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও আয়ের তথ্য যাচাই করা হয়।
ব্রুকলিনের এই আবাসন প্রকল্পে আবেদন করতে আগ্রহীদের সময়সীমার বিষয়টি বিশেষভাবে মনে রাখতে হবে। সোলেস ভবনের ৬৩টি অ্যাপার্টমেন্টের আবাসন লটারিতে আবেদন জমা দেওয়ার শেষ দিন ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreচীনে ৩০ কোটি ডলারের বেশি মূল্যের রপ্তানি নিয়ন্ত্রিত কম্পিউটার সার্ভার পাচারের অভিযোগে ক্যালিফোর্নিয়ার প্রযুক্তি ব্যবসায়ী গ্রেগ লুইকে গ্রেপ্তার করেছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। ১ অক্টোবর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর হয়ে সার্ভারগুলো চীনে পাঠিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ এড়ানোর চেষ্টা করেছিলেন তিনি। ৩৮ বছর বয়সী গ্রেগ লুই ‘ইয়িউ কং লুই’ নামেও পরিচিত। তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার সান গ্যাব্রিয়েলের বাসিন্দা এবং সিটি অব ইন্ডাস্ট্রিভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আর্থমেড কম্পিউটার ইনকরপোরেটেডের মালিক। তাঁর বিরুদ্ধে রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আইন লঙ্ঘনের ষড়যন্ত্র, বিদেশে পণ্য পাচার এবং অর্থ পাচারের ষড়যন্ত্রের তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে। মার্কিন বিচার বিভাগের বিবৃতি অনুযায়ী, সার্ভারগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন গ্রাফিকস প্রসেসিং ইউনিট বা জিপিইউ ছিল। এসব যন্ত্রাংশ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কাজে ব্যবহৃত হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রয়োজনীয় রপ্তানি লাইসেন্স ছাড়াই চীনের ক্রেতাদের কাছে সরঞ্জাম পৌঁছাতে নিজের প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করেন লুই ও তাঁর সহযোগীরা। প্রসিকিউটরদের দাবি, মার্কিন নির্মাতাদের কাছে জমা দেওয়া নথিতে প্রকৃত ক্রেতা ও চূড়ান্ত গন্তব্য সম্পর্কে ভুল তথ্য দেওয়া হয়। প্রথমে পণ্য মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরে পাঠিয়ে পরে সেখান থেকে চীনে নেওয়া হয়। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে অক্টোবরের মধ্যে মালয়েশিয়ার দুটি পরিবহন প্রতিষ্ঠান থেকে আর্থমেড ১৭ কোটি ৬০ লাখ ডলারের বেশি পেয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, উন্নত মার্কিন কম্পিউটিং প্রযুক্তি চীনে অবৈধভাবে পাঠানোর অভিযোগে চলমান একাধিক ফেডারেল মামলার মধ্যে এটি সর্বশেষ ঘটনাগুলোর একটি। মার্কিন কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, এ ধরনের প্রযুক্তি সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে ব্যবহৃত হতে পারে। প্রতিবেদনের জন্য লুইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি এবং তাঁর প্রতিষ্ঠানও মন্তব্যের অনুরোধে তাৎক্ষণিক সাড়া দেয়নি। মামলাটি তদন্ত করছে এফবিআই, মার্কিন বাণিজ্য বিভাগের রপ্তানি আইন প্রয়োগকারী দপ্তর এবং ডিফেন্স ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেটিভ সার্ভিস। বিচার বিভাগ জানিয়েছে, অভিযোগ প্রমাণিত হলে রপ্তানি আইন লঙ্ঘনের ষড়যন্ত্র ও অর্থ পাচারের ষড়যন্ত্রের প্রতিটি অভিযোগে সর্বোচ্চ ২০ বছর এবং পাচারের অভিযোগে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। তবে অভিযোগপত্র দোষী সাব্যস্ত হওয়ার রায় নয়; আদালতে অপরাধ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত লুই নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।
জাতিসংঘের অধিবেশনে অংশ নিতে দুই ইরানি কূটনীতিককে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার নির্দেশ
স্কুলে এনার্জি ড্রিংক খেয়ে ছেলের মৃ ত্যু, অন্য বাবা-মাকে সতর্ক করতে কাজ করছেন পরিবার
আমেরিকানদের সঙ্গে জা লি য়া তি ঠেকাতে কঠোর ট্রাম্প, ফাঁ কি দিলেই দীর্ঘ জে ল
মাটি খুঁড়তে খুঁড়তে কেটে গেছে ১২ বছরেরও বেশি সময়। লক্ষ্য ছিল একটাই—একদিন খুঁজে পাবেন বড় একটি হীরা। সেই স্বপ্ন পূরণ হলো অবশেষে। যুক্তরাষ্ট্রের আরকানসাসের বিখ্যাত ক্রেটার অব ডায়মন্ডস স্টেট পার্কে খুঁজতে গিয়ে জ্যাক পিয়ারাডিন পেয়েছেন ৬.০৩ ক্যারেটের একটি বিশাল হলুদ হীরা। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত পার্কটিতে পাওয়া এটিই সবচেয়ে বড় হীরা। হীরাটি পাওয়ার মুহূর্তটি আরও বিশেষ হয়ে উঠেছে, কারণ তখন টিকটকে লাইভ করছিলেন পিয়ারাডিন। মাটি খুঁড়ে পাথরটি হাতে উঠতেই বিস্ময়ে তিনি বলে ওঠেন, ‘ওহ মাই গড! ওহ মাই গড!’ এরপর আনন্দে বলেন, ‘বড় একটা পেয়ে গেছি!’ পিয়ারাডিন এই হীরাটির নাম দিয়েছেন ‘আমেরিকান ড্রিম’। তার ভাষায়, এটি একটি বিশাল ও দৃষ্টিনন্দন হলুদ হীরা। মিসৌরির বাসিন্দা এবং মার্কিন নৌবাহিনীর রিজার্ভ সদস্য পিয়ারাডিন ২০১৩ সালে ক্রেটার অব ডায়মন্ডস স্টেট পার্কে হীরা খোঁজা শুরু করেন। এরপর থেকে তিনি এখানে ৩০০টিরও বেশি রত্ন খুঁজে পেয়েছেন। হীরা খোঁজার নেশা এতটাই গভীর হয় যে পার্কের কাছাকাছি থাকার জন্য তিনি মারফ্রিসবরো শহরেও চলে যান। সর্বশেষ হীরাটি খুঁজে পাওয়ার সময় তার সঙ্গে ছিলেন উইসকনসিনের আরেক রত্ন-সন্ধানী মাইকেল শুমাখার। যে নুড়ি ও মাটির স্তূপ থেকে হীরাটি পাওয়া যায়, সেটি খুঁড়তে শুমাখারও সাহায্য করেছিলেন। পিয়ারাডিন জানিয়েছেন, হীরাটি বিক্রি হলে পাওয়া অর্থের একটি অংশ তিনি শুমাখারের সঙ্গে ভাগ করবেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে নিজের একটি ক্রিস্টাল খনি খোলার পরিকল্পনাও করছেন। ক্রেটার অব ডায়মন্ডস স্টেট পার্কের গল্পও বেশ চমকপ্রদ। এটি একসময় উন্মুক্ত হীরা খনি ছিল। ১৯৭২ সালে জায়গাটি স্টেট পার্কে পরিণত হয়। বর্তমানে মাত্র ১৫ ডলার প্রবেশমূল্য দিয়ে দর্শনার্থীরা এখানে পাঁচ গ্যালনের একটি বালতি ভর্তি পাথর নিয়ে হীরা খুঁজতে পারেন। সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হলো, কেউ হীরা বা অন্য কোনো মূল্যবান রত্ন খুঁজে পেলে সেটি নিজের কাছে রাখতে পারেন। পার্কটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত হওয়ার পর থেকে এখানে ৩৭ হাজারেরও বেশি হীরা পাওয়া গেছে। প্রতি বছর গড়ে ৪০০ থেকে ৮০০টি হীরা খুঁজে পান দর্শনার্থীরা। তবে সেগুলোর বেশিরভাগের ওজন প্রায় এক-চতুর্থাংশ ক্যারেট। এর আগে ২০২০ সালে এই পার্কে আরকানসাসের এক ব্যাংক ব্যবস্থাপক ৯ ক্যারেটের একটি হীরা খুঁজে পেয়েছিলেন। ২০২৪ সালে এক ফরাসি নাগরিকও এখানে ৭ ক্যারেটের একটি হীরা খুঁজে পান। আর এই পার্কেই ১৯২৪ সালে পাওয়া যায় যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় হীরা—৪০.২৩ ক্যারেটের ‘আঙ্কল স্যাম’। পরে সেটি কেটে ও পালিশ করে ১২.৪২ ক্যারেটের একটি হীরায় পরিণত করা হয়। বর্তমানে এটি স্মিথসোনিয়ান ন্যাশনাল মিউজিয়াম অব ন্যাচারাল হিস্ট্রির ‘গ্রেট আমেরিকান ডায়মন্ডস’ প্রদর্শনীতে রাখা আছে। রত্ন মূল্যায়নকারী লরা স্ট্যানলির মতে, পার্কে পাওয়া গড়ে ০.১৭ ক্যারেটের একটি হীরার দাম প্রায় ৭০০ ডলার হতে পারে। তবে পিয়ারাডিনের পাওয়া ৬ ক্যারেটের উন্নত মানের হলুদ হীরাটির মূল্য প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার হতে পারে। পিয়ারাডিন অবশ্য জানিয়েছেন, কয়েকজন সংগ্রাহক তাকে বলেছেন, হীরাটির দাম ১০ লাখ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে। জেমোলজিক্যাল ইনস্টিটিউট অব আমেরিকার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাথান রেনফ্রোর মতে, যুক্তরাষ্ট্রে হীরার দুটি পরিচিত খনি রয়েছে—আরকানসাসের ক্রেটার অব ডায়মন্ডস এবং কলোরাডোর কেলসি লেক। তবে কেলসি লেক ব্যক্তিমালিকানাধীন। বিশ্বের খুব কম জায়গাতেই সাধারণ মানুষকে নিজে হীরা খোঁজার এবং পাওয়া হীরা নিজের কাছে রাখার সুযোগ দেওয়া হয়। সেই বিরল জায়গাগুলোর একটি ক্রেটার অব ডায়মন্ডস স্টেট পার্ক। আর সেই পার্কেই ১২ বছরের অপেক্ষার পর পিয়ারাডিনের হাতে উঠে এলো তার ‘আমেরিকান ড্রিম’।
আমেরিকায় কয়েক মাসের প্রশিক্ষণে নতুন ক্যারিয়ারে আয় ৪০০০ ডলার! বাংলাদেশীদের জন্য ৫ কোর্স
যুক্তরাষ্ট্রের কলেজে এক বছরে আট হাজারের বেশি ধর্ষণ! তালিকার শীর্ষে ইউটাহ
নিউ ইয়র্কে বুকে ব্যথায় ইমার্জেন্সি চিকিৎসা, জেনে নিন যে চারটি ভুলে কয়েক হাজার ডলার!
যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ায় এক নারী রোগীকে ধর্ষণের অভিযোগে বাংলাদেশি চিকিৎসক জাহিদুল ইসলামকে খুঁজছে ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন, এফবিআই। ১৯৯৬ সালের ৩ অক্টোবরের ওই ঘটনার ৩০ বছর পরও সংস্থার ওয়ান্টেড তালিকায় তাঁর নাম রয়েছে। এফবিআইয়ের ফিলাডেলফিয়া কার্যালয় তাঁকে সহিংস অপরাধসংক্রান্ত তালিকায় রেখেছে। এফবিআইয়ের বিবরণ অনুযায়ী, ঘটনাটি পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের ফিলাডেলফিয়ার একটি বড় হাসপাতালে ঘটে। অভিযোগ, সেখানে চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত জাহিদুল অস্ত্রোপচারের পর সুস্থ হয়ে উঠতে থাকা এক নারী রোগীকে ওষুধ দিয়ে ঝিমিয়ে ফেলেন এবং হাসপাতালের কক্ষে তাঁকে ধর্ষণ করেন। তাঁর বিরুদ্ধে অঙ্গরাজ্য পর্যায়ে অভিযোগ আনার পর ১৯৯৭ সালের জুলাইয়ে পেনসিলভানিয়ার ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্টে ফেডারেল গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। বিচার এড়াতে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগও এফবিআইয়ের নোটিশে উল্লেখ রয়েছে। জাহিদুলের নাম এফবিআইয়ের ওয়ান্টেড তালিকায় থাকলেও তাঁকে সংস্থার বিশেষ ‘টেন মোস্ট ওয়ান্টেড ফিউজিটিভস’ তালিকার সদস্য হিসেবে দেখানো হয়নি। ফিলাডেলফিয়া কার্যালয়ের তালিকায় তাঁর নাম রয়েছে ‘অ্যাডিশনাল ভায়োলেন্ট ক্রাইমস’ বিভাগে। এফবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্য ও কানাডার মন্ট্রিয়লে তাঁর যোগাযোগ রয়েছে। তিনি চিকিৎসক স্ত্রীর সঙ্গে চলাফেরা করতে পারেন বলে সংস্থাটি জানিয়েছে। তবে তাঁর বর্তমান অবস্থান নোটিশে উল্লেখ করা হয়নি। সংস্থাটি জাহিদুলকে সশস্ত্র ও বিপজ্জনক হিসেবে বিবেচনার সতর্কতা দিয়েছে। তাঁর সম্পর্কে তথ্য থাকলে স্থানীয় এফবিআই কার্যালয় অথবা নিকটস্থ মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের খামারভিত্তিক স্কুলে গরু পালন ও ফসল ফলিয়ে পড়াশোনার খরচ প্রায় ৪০ হাজার ডলার
চীনে ৩০ কোটি ডলারের সার্ভার পাচারের অভিযোগে ক্যালিফোর্নিয়ার ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার